সিনেট শুনানিতে কাশ প্যাটেলকে তীব্র জেরা, এফবিআই প্রধানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলকে মঙ্গলবার সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির শুনানিতে তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এফবিআইয়ের কার্যক্রম ও নেতৃত্ব নিয়ে নজরদারি শুনানিতে ডেমোক্র্যাট সিনেটররা তার নেতৃত্বের ধরন, এজেন্টদের বিদায়, সরকারি সম্পদের ব্যবহার, ২০২০ সালের নির্বাচনসংক্রান্ত তদন্ত এবং জেফ্রি এপস্টেইন তদন্তসহ একাধিক বিতর্কিত বিষয় সামনে আনেন। রিপাবলিকানরা অন্যদিকে এফবিআইয়ের অপরাধ দমন কার্যক্রম এবং ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে তদন্তের বিষয়গুলোতে জোর দেন।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই শুনানিটি প্যাটেলের জন্য কংগ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ জবাবদিহির আরেকটি পর্ব। সিনেটের সরকারি সূচি অনুযায়ী, এফবিআইয়ের ওপর নজরদারি নিয়ে শুনানিতে প্যাটেলই ছিলেন প্রধান সাক্ষী। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি একই কমিটির সামনে হাজির হয়েছিলেন।
শুনানির শুরুতেই সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য ডিক ডারবিন প্যাটেলের নেতৃত্ব নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। নিউইয়র্ক পোস্টের লাইভ আপডেট অনুযায়ী, ডারবিন প্যাটেলের অভিজ্ঞতা, বিচারবোধ ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে প্যাটেলের নেতৃত্বে এফবিআইয়ের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও গুরুত্ব পায়।
প্যাটেলের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কের একটি বড় বিষয় হলো এফবিআইয়ের ভেতরে কর্মী পরিবর্তন। তার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্থাটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তা ও এজেন্টের পদত্যাগ, বরখাস্ত বা দায়িত্ব পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডেমোক্র্যাটরা জানতে চান, এসব পরিবর্তনের পেছনে পেশাগত প্রয়োজন ছিল, নাকি রাজনৈতিক আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এফবিআইয়ের নিয়োগ নীতিও শুনানির আগে নতুন করে আলোচনায় আসে। সিনেটের ডেমোক্র্যাটরা প্যাটেলের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন, কেন সংস্থাটি কিছু আচরণকে চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় অযোগ্যতার কারণ হিসেবে রাখা থেকে সরে এসেছে। এর মধ্যে চাকরির জায়গা থেকে চুরি, যৌনসেবা ক্রয় এবং পশুর সঙ্গে যৌন আচরণের মতো বিষয়ও রয়েছে বলে সিনেটরদের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি অর্থ ও এফবিআইয়ের বিমান ব্যবহারের বিষয়টিও শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্যাটেলের ব্যক্তিগত বা ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভ্রমণে সরকারি সম্পদ ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা আগে থেকেই তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন সরকারি বিমান ব্যবহারের বিষয়ে হুইসেলব্লোয়ারদের তথ্য তুলে ধরে সরকারি সম্পদের ব্যবহারের ওপর নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে এফবিআইয়ের তদন্তও শুনানির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রয়টার্স জানিয়েছে, রিপাবলিকান সিনেটররা ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টা নিয়ে তদন্তের বিষয়টি সামনে আনতে পারেন। একই সময়ে ডেমোক্র্যাটরা প্যাটেলের করা গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য এবং সেই তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
জেফ্রি এপস্টেইনসংক্রান্ত তদন্ত ও নথি নিয়েও প্যাটেলকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এফবিআইয়ের আগের এক শুনানিতে প্যাটেল বলেছিলেন, এপস্টেইন মামলার প্রাথমিক তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য যথেষ্টভাবে সংগ্রহ করা হয়নি। তিনি আরও বলেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আইনগতভাবে প্রকাশযোগ্য তথ্য কংগ্রেসের কাছে তুলে দেওয়ার বিষয়ে কাজ করছে।
অন্যদিকে, প্যাটেল নিজের নেতৃত্বের পক্ষে এফবিআইয়ের অপরাধ দমন কার্যক্রমের সাফল্য তুলে ধরেছেন। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, তার দায়িত্বকালে সহিংস অপরাধ, মানবপাচার, শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং মাদক ও গ্যাংবিরোধী অভিযানে সংস্থাটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। এফবিআইয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, প্যাটেল এসব কার্যক্রমকে তার নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন।
শুনানিতে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্যাটেলের কথোপকথনও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সিনেটর কোরি বুকার প্যাটেলের নেতৃত্ব ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তার আনুগত্য নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তোলেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুকার প্যাটেলকে সতর্ক করে বলেন, প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক সমর্থন সবসময় স্থায়ী নাও হতে পারে।
এদিকে রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন কমিটির সদস্যরা এফবিআইয়ের অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সংস্থাটির ভূমিকার ওপর জোর দেন। ফলে শুনানিটি শুরু থেকেই এফবিআইয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রশ্নে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্যের মঞ্চে পরিণত হয়।
কাশ প্যাটেলের এই শুনানি এমন সময়ে হলো, যখন এফবিআইয়ের নেতৃত্ব, কর্মী ব্যবস্থাপনা, সরকারি সম্পদের ব্যবহার এবং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর তদন্ত নিয়ে ওয়াশিংটনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। শুনানিতে ওঠা প্রশ্নগুলোর জবাব এবং কংগ্রেসের পরবর্তী নজরদারি কার্যক্রম প্যাটেলের নেতৃত্বে এফবিআইয়ের ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে বিতর্ককে আরও প্রভাবিত করতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী মাহমুদ খলিল কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ফেডারেল দেওয়ানি অধিকার মামলা করেছেন। সোমবার নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় তিনি অভিযোগ করেছেন, ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী ও অধিকারকর্মীদের দীর্ঘদিনের হয়রানি, হুমকি ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। খলিলের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নিষ্ক্রিয়তা তাকে ও অন্য শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর পরিবেশ তৈরি করেছে। মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে করা হয়েছে। খলিলের সঙ্গে আরও কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী ও ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি মামলায় অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলার কারণে তারা নিয়মিত হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়লেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের অভিযোগ যথাযথভাবে আমলে নেয়নি। মামলায় কলাম্বিয়ার বিরুদ্ধে বৈষম্য, হয়রানির বিষয়ে উদাসীনতা এবং অভিযোগ করার পর প্রতিশোধমূলক আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে। খলিল সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বৈষম্যমূলক ও উদাসীন আচরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তার অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা একাধিকবার প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও হয়রানির বিষয়ে সহায়তা চাইলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি। মামলায় বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি প্রকাশ করে তাদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর ঘটনা ঘটে। খলিলের মামলায় ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া বিভিন্ন ঘটনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কলাম্বিয়ার ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করে একটি ট্রাক ঘোরানো হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহারের পাশাপাশি তাদের অনলাইনেও লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। এই ধরনের ঘটনাকে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানো ও তাদের রাজনৈতিক মত প্রকাশ নিরুৎসাহিত করার অংশ হিসেবে দেখছেন বাদীরা। এরপর গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ও ক্যাম্প গড়ে ওঠে। খলিল তখন বিক্ষোভকারীদের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন এবং শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগের দায়িত্বেও যুক্ত ছিলেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের অনেক কর্মকাণ্ডকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৮ মার্চ খলিলকে তার কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবনের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা আটক করেন। সে সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছিলেন। খলিল যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ ছিল না। আটকের পর তাকে ইমিগ্রেশন হেফাজতে রাখা হয়। খলিল প্রায় ১০৪ দিন ইমিগ্রেশন হেফাজতে ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে তার প্রথম সন্তানের জন্ম হয় এবং তিনি সন্তানের জন্মের সময় উপস্থিত থাকতে পারেননি। পরে ২০২৫ সালের জুনে তিনি হেফাজত থেকে মুক্তি পান। তবে মুক্তির পরও তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের আইনি প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলস খলিলের বহিষ্কার-সংক্রান্ত আপিল খারিজ করে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ দেয়। এরপর তার আইনজীবীরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে আবেদন করেন। একই সঙ্গে তার পৃথক ফেডারেল মামলার আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। মে মাসে তার আইনজীবীরা জানান, তৃতীয় সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের পর্যালোচনা চাইবেন। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় নতুন মামলার নির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে প্রত্যেক শিক্ষার্থী ও সদস্য যেন নিরাপদ, স্বাগত ও সহায়তা পাওয়ার মতো পরিবেশে থাকতে পারেন, সেটি তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বৈষম্য ও হয়রানি থেকে ক্যাম্পাস কমিউনিটিকে সুরক্ষা দেওয়া এবং অভিযোগ এলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। খলিলের নতুন মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ক্যাম্পাস নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। মামলাটিতে আদালতের কাছে ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন প্রতিকার চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী সংগঠনের ওপর নেওয়া কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনার দাবিও রয়েছে। এখন আদালতে অভিযোগগুলোর আইনগত ভিত্তি ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দায় কতটা রয়েছে, সেটিই পরবর্তী ধাপে নির্ধারিত হবে।
সিনেট শুনানিতে কাশ প্যাটেলকে তীব্র জেরা, এফবিআই প্রধানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন
শিশুদের খাবারের অর্থ আত্মসাত, ফাহাদ নুরকে ধরতে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার
ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টাকারীর শেষকৃত্যের খরচ দিলেন অজ্ঞাত দাতা, চুপ পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির নিউয়ার্ক থেকে মিশিগানের গ্র্যান্ড র্যাপিডসগামী একটি ফ্লাইটে ক্লান্ত এক মায়ের শিশুকে কোলে তুলে নিয়ে তাকে বিশ্রামের সুযোগ করে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট মনিক হ্যারিস। ঘটনাটি ঘটে ২ সেপ্টেম্বরের একটি ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে, যা পরিচালনা করছিল রিপাবলিক এয়ারওয়েজ। ফ্লাইট চলাকালে হ্যারিস লক্ষ্য করেন, এক মা শিশুকে কোলে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ছেন। একপর্যায়ে শিশুটি মায়ের কোলে থেকে পিছলে পড়তে শুরু করলে হ্যারিস দ্রুত এগিয়ে গিয়ে শিশুটিকে ধরে ফেলেন। পরে তিনি শিশুটিকে নিজের কোলে রেখে মাকে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেন। ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করছিলেন যাত্রী জন ফ্রেসে। তিনি মুহূর্তটির একটি ছবি তোলেন এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেটি প্রকাশ করেন। ছবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পোস্টটিতে ২ লাখের বেশি লাইক পড়ে এবং হাজারো মানুষ মন্তব্য ও শেয়ার করেন। ফ্রেসের বর্ণনা অনুযায়ী, মা ছিলেন নতুন মা এবং ভীষণ ক্লান্ত। শিশুটি নড়াচড়া শুরু করলে হ্যারিস দ্রুত তাকে ধরে ফেলেন এবং মাকে আশ্বস্ত করে বিশ্রাম নিতে বলেন। হ্যারিসের এই আচরণকে যাত্রীরা তার দায়িত্বের বাইরে গিয়ে মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রশংসা করেন। হ্যারিস পরে জানান, তিনি কোনো স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য কাজটি করেননি। তার ভাষায়, মানুষের জন্য এমন ছোট ছোট কিছু কাজ করা যায়, যা হয়তো কেউ কখনো দেখবে না; কিন্তু তা কারও জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এই ঘটনাটি এবার একজন যাত্রী দেখেছেন এবং সেই মুহূর্তই তাকে হাজারো মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলেছে। রিপাবলিক এয়ারওয়েজও হ্যারিসের প্রশংসা করেছে এবং তাকে নিজেদের দলের একজন অসাধারণ সহকর্মী ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। হ্যারিসের এই মানবিক আচরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে ক্লান্ত নতুন মায়ের পাশে একজন অপরিচিত মানুষের এমন তাৎক্ষণিক সহায়তা অনেকের কাছে সহমর্মিতা ও মানবিকতার একটি সুন্দর উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্পের সীমান্ত দেয়াল ঠেকাতে মামলায় টেক্সাসের জমির মালিকরা
মহাকাশে অস্ত্রের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, বদলে যেতে পারে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের ধরন
সেনারা দেশ রক্ষায়, অথচ পরিবারের সদস্যদেরই আটক করছে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত শিক্ষকনির্ভর শ্রেণিকক্ষের বদলে এআই ও অ্যাডাপটিভ লার্নিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে পড়াশোনার নতুন মডেলের বিস্তার ঘটছে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলফা স্কুল নামের একটি বেসরকারি স্কুল নেটওয়ার্ক ইতোমধ্যে বা শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি অঙ্গরাজ্যে ক্যাম্পাস পরিচালনা বা চালুর পরিকল্পনা করছে। এই মডেলে প্রচলিত অর্থে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে পাঠদান করেন না। শিক্ষার্থীরা এআইভিত্তিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিজেদের গতিতে গণিত, ইংরেজিসহ মূল একাডেমিক বিষয় শেখে। স্কুলটির মডেল অনুযায়ী, দিনের একটি বড় অংশ একাডেমিক শিক্ষার বদলে যোগাযোগ দক্ষতা, আর্থিক জ্ঞান, প্রকল্পভিত্তিক কাজসহ বিভিন্ন জীবনমুখী দক্ষতা তৈরিতে ব্যয় করা হয়। আলফা স্কুলের মডেলের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো ‘টু-আওয়ার কোর’ পদ্ধতি। এতে শিক্ষার্থীরা সকালে প্রায় দুই ঘণ্টা এআইভিত্তিক ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষার মাধ্যমে মূল একাডেমিক বিষয়গুলো শেখে। এরপর দিনের বাকি সময়ে তারা বিভিন্ন জীবনদক্ষতা ও প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রমে অংশ নেয়। তবে ‘শিক্ষক ছাড়াই স্কুল’ কথাটি পুরোপুরি আক্ষরিক নয়। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দেখভাল ও সহায়তার জন্য কর্মীরা থাকেন, যাদের অনেক ক্ষেত্রে ‘গাইড’ বলা হয়। তারা শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং স্কুলের পরিবেশ পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন। আলফা স্কুল এরই মধ্যে অস্টিন, নিউইয়র্ক ও মিয়ামিতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং ২০২৬ সালে শিকাগো, আটলান্টা, শার্লট, র্যালি ও ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি এলাকায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে। এআইনির্ভর এই মডেল নিয়ে অবশ্য শিক্ষক সংগঠন ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে একই সময়ে আরও বিভিন্ন বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থার প্রসার ঘটছে। সান অ্যান্টোনিওর মতো শহরে মাইক্রোস্কুল, চার্টার স্কুল ও ভার্চুয়াল স্কুল জনপ্রিয় হচ্ছে। কিছু মাইক্রোস্কুলে মাত্র ২০ থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থী থাকে এবং একই শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে শেখে। এই পরিবর্তনের পেছনে অভিভাবকদের স্কুল বেছে নেওয়ার স্বাধীনতার চাহিদাও বড় ভূমিকা রাখছে। ২০২৬ সালের ন্যাশনাল স্কুল চয়েস উইক-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪৬ মিলিয়ন অভিভাবক অন্তত একটি সন্তানের জন্য নতুন বা ভিন্ন ধরনের স্কুল বিবেচনা, খোঁজ বা নির্বাচন করেছেন। তবে এআইনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফল, সামাজিক ও মানসিক বিকাশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় সব পরিবারের সমান সুযোগ—এসব বিষয় নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলের এই নতুন মডেল শুধু প্রযুক্তির পরিবর্তন নয়, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ভবিষ্যতের শিক্ষা কেমন হবে—সেই বড় প্রশ্নও সামনে আনছে।
আমেরিকায় গাড়ি মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে জানুন এই ৭ বিষয়, বাঁচবে বাড়তি খরচ
চীন-রাশিয়াকে চাপে রাখতে প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র রাখার কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র