সিনেট শুনানিতে কাশ প্যাটেলকে তীব্র জেরা, এফবিআই প্রধানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলকে মঙ্গলবার সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির শুনানিতে তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এফবিআইয়ের কার্যক্রম ও নেতৃত্ব নিয়ে নজরদারি শুনানিতে ডেমোক্র্যাট সিনেটররা তার নেতৃত্বের ধরন, এজেন্টদের বিদায়, সরকারি সম্পদের ব্যবহার, ২০২০ সালের নির্বাচনসংক্রান্ত তদন্ত এবং জেফ্রি এপস্টেইন তদন্তসহ একাধিক বিতর্কিত বিষয় সামনে আনেন। রিপাবলিকানরা অন্যদিকে এফবিআইয়ের অপরাধ দমন কার্যক্রম এবং ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে তদন্তের বিষয়গুলোতে জোর দেন।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই শুনানিটি প্যাটেলের জন্য কংগ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ জবাবদিহির আরেকটি পর্ব। সিনেটের সরকারি সূচি অনুযায়ী, এফবিআইয়ের ওপর নজরদারি নিয়ে শুনানিতে প্যাটেলই ছিলেন প্রধান সাক্ষী। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি একই কমিটির সামনে হাজির হয়েছিলেন।
শুনানির শুরুতেই সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য ডিক ডারবিন প্যাটেলের নেতৃত্ব নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। নিউইয়র্ক পোস্টের লাইভ আপডেট অনুযায়ী, ডারবিন প্যাটেলের অভিজ্ঞতা, বিচারবোধ ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে প্যাটেলের নেতৃত্বে এফবিআইয়ের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও গুরুত্ব পায়।
প্যাটেলের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কের একটি বড় বিষয় হলো এফবিআইয়ের ভেতরে কর্মী পরিবর্তন। তার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্থাটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তা ও এজেন্টের পদত্যাগ, বরখাস্ত বা দায়িত্ব পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডেমোক্র্যাটরা জানতে চান, এসব পরিবর্তনের পেছনে পেশাগত প্রয়োজন ছিল, নাকি রাজনৈতিক আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এফবিআইয়ের নিয়োগ নীতিও শুনানির আগে নতুন করে আলোচনায় আসে। সিনেটের ডেমোক্র্যাটরা প্যাটেলের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন, কেন সংস্থাটি কিছু আচরণকে চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় অযোগ্যতার কারণ হিসেবে রাখা থেকে সরে এসেছে। এর মধ্যে চাকরির জায়গা থেকে চুরি, যৌনসেবা ক্রয় এবং পশুর সঙ্গে যৌন আচরণের মতো বিষয়ও রয়েছে বলে সিনেটরদের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি অর্থ ও এফবিআইয়ের বিমান ব্যবহারের বিষয়টিও শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্যাটেলের ব্যক্তিগত বা ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভ্রমণে সরকারি সম্পদ ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা আগে থেকেই তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন সরকারি বিমান ব্যবহারের বিষয়ে হুইসেলব্লোয়ারদের তথ্য তুলে ধরে সরকারি সম্পদের ব্যবহারের ওপর নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে এফবিআইয়ের তদন্তও শুনানির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রয়টার্স জানিয়েছে, রিপাবলিকান সিনেটররা ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টা নিয়ে তদন্তের বিষয়টি সামনে আনতে পারেন। একই সময়ে ডেমোক্র্যাটরা প্যাটেলের করা গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য এবং সেই তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
জেফ্রি এপস্টেইনসংক্রান্ত তদন্ত ও নথি নিয়েও প্যাটেলকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এফবিআইয়ের আগের এক শুনানিতে প্যাটেল বলেছিলেন, এপস্টেইন মামলার প্রাথমিক তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য যথেষ্টভাবে সংগ্রহ করা হয়নি। তিনি আরও বলেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আইনগতভাবে প্রকাশযোগ্য তথ্য কংগ্রেসের কাছে তুলে দেওয়ার বিষয়ে কাজ করছে।
অন্যদিকে, প্যাটেল নিজের নেতৃত্বের পক্ষে এফবিআইয়ের অপরাধ দমন কার্যক্রমের সাফল্য তুলে ধরেছেন। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, তার দায়িত্বকালে সহিংস অপরাধ, মানবপাচার, শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং মাদক ও গ্যাংবিরোধী অভিযানে সংস্থাটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। এফবিআইয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, প্যাটেল এসব কার্যক্রমকে তার নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন।
শুনানিতে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্যাটেলের কথোপকথনও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সিনেটর কোরি বুকার প্যাটেলের নেতৃত্ব ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তার আনুগত্য নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তোলেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুকার প্যাটেলকে সতর্ক করে বলেন, প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক সমর্থন সবসময় স্থায়ী নাও হতে পারে।
এদিকে রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন কমিটির সদস্যরা এফবিআইয়ের অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সংস্থাটির ভূমিকার ওপর জোর দেন। ফলে শুনানিটি শুরু থেকেই এফবিআইয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রশ্নে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্যের মঞ্চে পরিণত হয়।
কাশ প্যাটেলের এই শুনানি এমন সময়ে হলো, যখন এফবিআইয়ের নেতৃত্ব, কর্মী ব্যবস্থাপনা, সরকারি সম্পদের ব্যবহার এবং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর তদন্ত নিয়ে ওয়াশিংটনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। শুনানিতে ওঠা প্রশ্নগুলোর জবাব এবং কংগ্রেসের পরবর্তী নজরদারি কার্যক্রম প্যাটেলের নেতৃত্বে এফবিআইয়ের ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে বিতর্ককে আরও প্রভাবিত করতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরে একটি মসজিদে আগুন দেওয়ার আগে ক্ষুদেবার্তায় হুমকি দেওয়ার অভিযোগে শন ফেনার (৫২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার অগ্নিসংযোগ, বিদ্বেষপূর্ণ অগ্নিকাণ্ড এবং হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে। গত মঙ্গলবার আদালত অভিযুক্তের জামিন নামঞ্জুর করেন। গত ২৫ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে হারফোর্ড রোডের ২৬০০ ব্লকের ওই মসজিদে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে মসজিদটির ব্যাপক ক্ষতি হয়। সৌভাগ্যবশত সে সময় মসজিদটি ফাঁকা থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে আগুনে প্রায় ৮৫ হাজার ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আদালতের নথির তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের আগে ফেনার মসজিদের এক সদস্যকে একটি লাল রঙের গ্যাস ক্যানের ছবি পাঠিয়েছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ছবিতে দৃশ্যমান জুতার সাথে আটকের সময় ফেনারের পরা জুতার হুবহু মিল পাওয়া গেছে। এছাড়া পুলিশের বিশেষ অনুসন্ধানী কুকুর তার জুতায় দাহ্য পদার্থের উপস্থিতির সংকেত দিয়েছে। জানা যায়, ফেনার এর আগে কিছুদিন ওই মসজিদে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তাকে সেখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এরপর তিনি একটি চাবি ফেরত চেয়ে হুমকি দিয়ে ক্ষুদেবার্তা পাঠান যে, চাবি না দিলে তিনি মসজিদটি পুড়িয়ে দেবেন। মসজিদের সহকারী ইমাম আব্দুল মুহাইমিন আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, ফেনার সম্ভবত মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং মানবিক কারণে তাকে সেখানে কয়েকদিন থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স (কেয়ার)-এর মেরিল্যান্ড শাখা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তের গ্রেপ্তারে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের প্রতি বৃহত্তর সমাজকে সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় মুসলিম ও সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যেই মসজিদের সাহায্যে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এসেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ময়লার ব্যাগে মিলল অজ্ঞাত ব্যক্তির ম রদেহ, তদন্তে পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রে ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে বিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ ‘সত্য’, দাবি ডেমোক্র্যাট নেতার
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে লড়ছেন ৫১ মুসলিম আমেরিকান, কংগ্রেসে প্রার্থী ১১ জন
গত ২৯ অক্টোবর ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক (ক্লিনিক)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত অভিবাসী নীতি বিষয়ক এক আন্তঃধর্মীয় শীর্ষ সম্মেলনে বিশেষ সমর্থনমূলক বার্তা পাঠিয়েছেন পোপ লিও। ২৯ ও ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই ভার্চুয়াল সম্মেলনে ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট এবং ইহুদি ধর্মের নেতা, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও গবেষকরা অংশ নেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল অভিবাসী সম্প্রদায়ের কল্যাণে নিজ নিজ কাজের মধ্যে একটি সাধারণ ঐক্যের জায়গা খুঁজে বের করা। পোপ লিও তার বার্তায় অভিবাসী ও শরণার্থীদের মর্যাদা রক্ষায় কাজ করা ক্লিনিকসহ বিভিন্ন নাগরিক ও গির্জা সংগঠনগুলোকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সমাজের সবচেয়ে দুর্বল এই মানুষগুলোকে প্রায়ই মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়, যা চরম অবিচার। অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অভিবাসীদের নিছক কোনো পরিসংখ্যান হিসেবে না দেখে তাদের প্রতি সমাজের যে উদাসীনতা রয়েছে, তা দূর করতে মানুষের বিবেককে জাগ্রত করতে হবে। পবিত্র ধর্মগ্রন্থের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এই অভিবাসীরা আসলে ছদ্মবেশে আসা স্বয়ং ঈশ্বর। শীর্ষ সম্মেলনে ক্লিনিকের নির্বাহী পরিচালক আন্না গ্যালাঘের বলেন, আন্তঃধর্মীয় এই সমাবেশের শুরুতে পোপের বার্তাটি সবার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত দুই ডজনেরও বেশি ধর্মীয় সংগঠনের করা একটি মামলা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। মামলাটি ট্রাম্প প্রশাসনের এমন একটি নীতির বিরুদ্ধে করা হয়েছে, যেখানে স্কুল ও হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থানে গ্রেপ্তারের ওপর দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া সম্প্রতি সেন্ট লুইসের আর্চডায়োসিসও ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে, কারণ আটক থাকা ক্যাথলিকদের ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের যৌথ প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের বাস্তবায়িত নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এক কোটিরও বেশি খ্রিষ্টান নির্বাসনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন, যার ৬১ শতাংশই ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী। নীতিমালায় পরিবর্তন না এলে প্রতি ছয়জন ক্যাথলিকের মধ্যে অন্তত একজন নিজে অথবা তার পরিবারের কোনো সদস্য নির্বাসনের ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম কমিউনিটির জন্য নতুন উদ্যোগ, দুই সন্তানের মা গড়ে তুললেন হালাল সারকিউটারি ব্যবসা
পঞ্চাশের কোঠায় এসে যুক্তরাষ্ট্রের গোছানো জীবন ছেড়ে নেদারল্যান্ডসে নতুন ঠিকানা মার্কিন দম্পতির
ঝড়ের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত মানুষের পাশে ১২ শিক্ষার্থী, তিন দিন ধরে চালালেন উদ্ধার-পরবর্তী পরিচ্ছন্নতা অভিযান
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের লুইসভিল শহরে ৯২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে নিজের স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মরিস নামের ওই বৃদ্ধ একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে তার স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা করেন। নির্মম এই ঘটনায় ওই বৃদ্ধের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও শ্বাসরোধের অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ওভারলুক ড্রাইভ এলাকার একটি বাড়িতে পারিবারিক সহিংসতার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। সেখানে পৌঁছে তারা এক ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পায়। পুলিশ জানায়, মরিস তার স্ত্রীর নাক চেপে ধরে রেখেছিলেন এবং ভুক্তভোগী নারীর মুখমণ্ডল একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে মোড়ানো ছিল। গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাগটি ওই নারীর মুখে এমনভাবে আটকে ছিল যে তার শ্বাস-প্রশ্বাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তদন্তকারীদের কাছে এই মর্মান্তিক ঘটনার কারণ হিসেবে মরিস অত্যন্ত নির্লিপ্তভাবে জানান, তার স্ত্রীর "মরে যাওয়া প্রয়োজন" ছিল। ভুক্তভোগী ওই নারীকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি এখনো অজ্ঞান অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হলে মরিস নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। আদালত তার জামিনের পরিমাণ আড়াই লাখ ডলার থেকে কমিয়ে দেড় লাখ ডলার নির্ধারণ করেছেন। আগামী ৬ নভেম্বর তাকে আবারও আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কে স্কুলে বুলিংয়ের অভিযোগ করায় ১৫ বছরের কিশোরকে গু লি করে হ ত্যা, দাবি বাবার
শুধু খাবার নয়, অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে প্রতি সপ্তাহে রান্না করেন স্বেচ্ছাসেবীরা