বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল নিউইয়র্কের পাঁচতলা ভবন! আগুনে আহত ১১, ধসে পড়ল ভবনের অংশ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনে শক্তিশালী বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাতজন সাধারণ বাসিন্দা এবং চারজন দমকলকর্মী রয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় জানালার ফ্রেম ছিটকে রাস্তার ওপারে গিয়ে পড়ে এবং ভবনের ভেতরের একাধিক দরজা কবজা থেকে খুলে যায় বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু আগে ব্রঙ্কসের ইস্ট ২০৯তম স্ট্রিটের ৩৭৪ নম্বর ভবনে বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার খবর পেয়ে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছালেও ততক্ষণে ভবনের একাধিক জানালা দিয়ে আগুনের লেলিহান শিখা বের হতে দেখা যায়। ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রবেশ করে দমকলকর্মীরা অত্যন্ত তীব্র অগ্নিকাণ্ডের মুখোমুখি হন।
এফডিএনওয়াইয়ের চিফ অব ডিপার্টমেন্ট জন এসপোসিতো বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কোনো ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছিল। বিস্ফোরণের শক্তিতে জানালার ফ্রেম ছিটকে রাস্তার অপর পাশে চলে যায় এবং দ্বিতীয় তলায় পৌঁছে দমকলকর্মীরা দেখতে পান, কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্টের দরজা পর্যন্ত কবজা থেকে খুলে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ভেতরে আটকে পড়া মানুষকে খুঁজে বের করা অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল।
পরে আগুন ভবনের তিনটি তলায় ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তৃতীয় তলার একটি অংশ ধসে পড়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে দমকলকর্মীদের সাময়িকভাবে ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এই অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ৩০০-এর বেশি দমকল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা কর্মী অংশ নেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ঘটনাটিকে পঞ্চম স্তরের অগ্নিকাণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যা নিউইয়র্কে সর্বোচ্চ মাত্রার জরুরি অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম।
এফডিএনওয়াই কমিশনার লিলিয়ান বন্সিনিওরে বলেন, ভবনের ভেতর থেকে একাধিক বাসিন্দাকে উদ্ধার করতে হয়েছে। দমকলকর্মী ও জরুরি চিকিৎসাসেবা কর্মীরা অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। দমকলকর্মীরা যখন আগুনের মধ্যে আটকে পড়াদের উদ্ধার করছিলেন, তখন জরুরি চিকিৎসাসেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলেই জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা দিয়ে একাধিক মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন।
দমকল বিভাগ জানিয়েছে, বুধবার রাত পর্যন্ত ঘটনাস্থলে নজরদারি অব্যাহত থাকবে যাতে আগুন আবার ছড়িয়ে না পড়ে। বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। এফডিএনওয়াইয়ের অগ্নি তদন্তকারী দল ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধান করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে করা এক হাজার কোটি ডলারের মানহানি মামলায় নতুন আইনি লড়াই শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মামলার অংশ হিসেবে নিজের ব্যবসা ও সম্পদের আর্থিক নথি বিবিসির হাতে তুলে দেওয়ার আদালতের নির্দেশ স্থগিত করতে তিনি জরুরি আবেদন করেছেন। মার্কিন আদালতের নথি অনুযায়ী, ট্রাম্পের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, বিবিসি মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে এবং প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি আর্থিক তথ্য চাচ্ছে। তাদের ভাষ্য, এসব নথি প্রকাশ পেলে ট্রাম্প ও তার পারিবারিক ব্যবসার অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। বিতর্কের সূত্রপাত ২০২৪ সালে প্রচারিত বিবিসির একটি তথ্যচিত্রকে ঘিরে। ট্রাম্পের অভিযোগ, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির বক্তব্য সম্পাদনার মাধ্যমে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যাতে মনে হয় তিনি ক্যাপিটল ভবনে হামলাকে উসকে দিয়েছেন। এ কারণে তার ব্যক্তিগত সুনাম ও ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে দাবি করে তিনি এক হাজার কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেন। বিবিসি সম্পাদনায় ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও মানহানির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত জুলাইয়ে ফ্লোরিডার এক বিচারক রায় দেন, ট্রাম্প যেহেতু ব্যবসায়িক ক্ষতির দাবি তুলেছেন, তাই সেই দাবির সত্যতা যাচাই করতে তার আর্থিক নথি বিবিসির দেখার অধিকার রয়েছে। ওই আদেশ অনুযায়ী ট্রাম্পের পারিবারিক ট্রাস্টের অধীন শত শত প্রতিষ্ঠানের আয়, সম্পদ ও আর্থিক তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে নতুন আবেদনে ট্রাম্পের আইনজীবীরা মামলার কৌশল পরিবর্তনেরও অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা আদালতকে বলেছেন, মামলাটি মূলত আর্থিক ক্ষতির নয়, বরং ব্যক্তিগত সুনামের ক্ষতির ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে নেওয়া হবে। তাদের যুক্তি, এতে এত বিস্তৃত আর্থিক নথি চাওয়ার প্রয়োজন থাকবে না। অন্যদিকে বিবিসির আইনজীবীরা আদালতে বলেছেন, ট্রাম্প নিজেই যখন বিপুল আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন, তখন সেই দাবির ভিত্তি যাচাই করতে আর্থিক নথি অপরিহার্য। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন রেখে এত বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এখন আদালত ট্রাম্পের জরুরি আবেদন গ্রহণ করবেন কি না, সেটিই এই মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আদালত আবেদন খারিজ করলে ট্রাম্পকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তার আর্থিক নথি জমা দিতে হতে পারে, যা মামলার গতিপথে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল নিউইয়র্কের পাঁচতলা ভবন! আগুনে আহত ১১, ধসে পড়ল ভবনের অংশ
গৃহহীন ছাত্রকে বাঁচাতে চাকরি হারিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই ছেলেকেই নিজের সন্তান বানালেন প্রধান শিক্ষক
ইলিনয়ের মহাসড়কে আগুনে পুড়ে ছাই গাড়ি, নিভে গেল এক দম্পতির জীবন
হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে কয়েক সপ্তাহ ধরে নির্মাণাধীন নতুন হেলিপ্যাডের একটি বড় অংশ খুলে আবার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও হেলিপ্যাডের ঢালু অবস্থান নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করার পর ঠিকাদারদের নকশায় পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। হেলিপ্যাডের কেন্দ্রে বসানো প্রায় ১০০ ফুট চওড়া গ্রানাইটের প্রেসিডেন্সিয়াল সিল ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নির্মাণকর্মীদের ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে সম্পন্ন কাজের কিছু অংশ ভাঙতে দেখা গেছে। হোয়াইট হাউস বলেছে, প্রেসিডেন্টের প্রয়োজন এবং সাউথ লনের সামগ্রিক সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা আরও ভালোভাবে নিশ্চিত করতে প্রকল্পে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন আনা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাউথ লনের ভূমি স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা ঢালু। কিন্তু ট্রাম্প চান হেলিপ্যাডটি যেন দিগন্তের সঙ্গে সমতল দেখায়। সেই লক্ষ্য পূরণে হেলিপ্যাডের নকশা পরিবর্তনের পাশাপাশি আশপাশের জমির উচ্চতাও বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে নির্মাতারা বিবেচনা করছেন। নতুন হেলিপ্যাড নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য হলো মেরিন ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত নতুন ভিএইচ-৯২এ প্যাট্রিয়ট হেলিকপ্টারের কারণে হোয়াইট হাউসের লনের ক্ষতি ঠেকানো। আগের মডেলের তুলনায় নতুন হেলিকপ্টারটি বড় ও বেশি শক্তিশালী। এর ইঞ্জিন থেকে নিচের দিকে বের হওয়া প্রচণ্ড বাতাস ও তাপে ঘাস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৫০ লাখ থেকে ৬০ লাখ ডলার। তবে এই অর্থ সরাসরি করদাতাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে। হেলিকপ্টার নির্মাতা লকহিড মার্টিনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিকোরস্কি হেলিপ্যাডটির ব্যয় বহন করছে এবং কাজ শেষ হলে এটি ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের কাছে হস্তান্তর করার কথা। নির্মাণকাজ চলায় মেরিন ওয়ান সাময়িকভাবে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনের পরিবর্তে কাছাকাছি এলিপস এলাকা ব্যবহার করছে। সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় সফরের আগে সংশোধিত কাজ শেষ করতে প্রশাসন আগ্রহী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হেলিপ্যাডের কাজ নতুন করে শুরু হওয়ায় প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কেন সম্পন্ন হওয়া অংশ ভেঙে ফেলা হলো এবং পুনর্নির্মাণে অতিরিক্ত কত অর্থ লাগবে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। নতুন হেলিপ্যাডটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে নেওয়া একাধিক পরিবর্তনের অংশ। সাউথ লনের এই প্রকল্প ছাড়াও ভবনের বিভিন্ন অংশ ও আঙিনায় বড় ধরনের সংস্কার এবং নতুন নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এসব পরিবর্তনের ব্যয়, ঐতিহাসিক স্থাপনার ওপর প্রভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক ও স্থাপত্য মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ওয়ালমার্টে অসাবধানতাবশত গুলির ঘটনা, গ্রেপ্তার দুজন
আজই বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে স্পেসএক্সের ৯০০ মিলিয়নের বেশি শেয়ার, মার্কেটে কী প্রভাব পড়তে পারে?
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার ৭ ধাপ, ২০২৬ সালে আবেদন করার আগে যা জানা জরুরি
মেক্সিকো থেকে আমদানি করা তাজা হ্যালোপিনো মরিচের সঙ্গে যুক্ত সালমোনেলা প্রাদুর্ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ অঙ্গরাজ্যে অন্তত ৩৪৫ জন অসুস্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন যৌথভাবে ঘটনাটি তদন্ত করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্ত হ্যালোপিনো মরিচগুলো মেক্সিকোর সিনালোয়া অঞ্চল থেকে উৎপাদিত এবং কোস্ট সিট্রাস ডিস্ট্রিবিউটরসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, পাইকারি বিক্রেতা ও ফুড সার্ভিস প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি এখন সংশ্লিষ্ট পণ্য রিকল করছে এবং যেসব গ্রাহকের কাছে মরিচ পৌঁছেছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের অসুস্থতা শুরু হয়েছে ১৯ জুন থেকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে। তদন্তকারীরা ১৯১ জন রোগীর সঙ্গে কথা বলেন। তাদের মধ্যে ১৭৭ জন, অর্থাৎ ৯৩ শতাংশ, অসুস্থ হওয়ার আগে কোনো না কোনো মেক্সিকান-স্টাইল রেস্টুরেন্টে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এসব রেস্টুরেন্টের মধ্যে চিপোটলে মেক্সিকান গ্রিল ও কিউডোবার নামও এসেছে। তবে এফডিএ ও সিডিসি জানিয়েছে, চিপোটলে ও কিউডোবা বর্তমানে গ্রাহকদের জন্য চলমান ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। চিপোটলে ২০ জুলাই থেকে দেশব্যাপী তাদের হ্যালোপিনো সরবরাহকারী পরিবর্তন করেছে। কিউডোবা ২৮ জুলাই থেকে হ্যালোপিনো পরিবেশন বন্ধ করেছে এবং তাদের সব রেস্টুরেন্টে বর্তমানে এই মরিচ সরবরাহ স্থগিত রয়েছে। তদন্তে চিপোটলে ও কিউডোবার বিভিন্ন লোকেশনে ২৭টি অসুস্থতার ক্লাস্টার শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তরা হ্যালোপিনোর পাশাপাশি লাল পেঁয়াজ, ধনেপাতা ও অ্যাভোকাডো খাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। তবে ট্রেসব্যাক তদন্তে সিনালোয়ার একটি সাধারণ উৎপাদন উৎস থেকে আসা **হ্যালোপিনো**কেই সম্ভাব্য মূল উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এফডিএ রেস্টুরেন্ট, ডিস্ট্রিবিউটর ও ফুড সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলোকে রিকল করা হ্যালোপিনো বিক্রি বা পরিবেশন না করার নির্দেশ দিয়েছে। যেসব পাত্র, কাউন্টার বা রান্নাঘরের সরঞ্জাম এসব মরিচের সংস্পর্শে এসেছে, সেগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মরিচের উৎস নিশ্চিত না হলে সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এখনো যাচাই করছে, আক্রান্ত হ্যালোপিনো মরিচ কোনো গ্রোসারি স্টোরে সরাসরি বিক্রি হয়েছিল কি না। প্রাথমিকভাবে এগুলো মূলত রেস্টুরেন্ট ও পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হয়েছিল। বাড়িতে থাকা হ্যালোপিনোর উৎস নিয়ে সন্দেহ থাকলে তা না খেয়ে ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিডিসি। সালমোনেলায় আক্রান্ত হলে সাধারণত ডায়রিয়া, জ্বর ও পেটব্যথা দেখা দেয়। জীবাণু শরীরে প্রবেশের ছয় ঘণ্টা থেকে ছয় দিনের মধ্যে উপসর্গ শুরু হতে পারে এবং বেশির ভাগ মানুষ চার থেকে সাত দিনের মধ্যে চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতার মানুষের ক্ষেত্রে অসুস্থতা গুরুতর হতে পারে। তিন দিনের বেশি ডায়রিয়া, রক্তমিশ্রিত পায়খানা, ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি জ্বর, অতিরিক্ত বমি বা শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তার বা হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে সিডিসি। তদন্ত চলমান থাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ও রিকলের পরিধি আরও বাড়তে পারে।
ওয়ার্কিং ক্লাসের মানুষ এল-সায়েদের পাশে নেই', দাবি ভ্যান্সের
কস্টকোর এই ৫টি ট্রিক জানলে বাংলাদেশি পরিবার বছরে বাঁচাতে পারে ৮০০–১,২০০ ডলার