নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত তিন বাংলাদেশি পেলেন ৩৩ কোটি টাকা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তিন বাংলাদেশি আদালতের রায়ে মোট ২৬ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৩ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ট্যুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অবস্থায় দুর্ঘটনার শিকার হওয়া এই তিন বাংলাদেশির পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন নিউইয়র্কভিত্তিক অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী।
জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ওই তিন বাংলাদেশি ট্যুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যান। বিশ্বখ্যাত নায়াগ্রা ফলস দেখতে যাওয়ার পথে নায়াগ্রা এলাকার কাছে তাদের বহনকারী একটি প্রাইভেট কারকে দ্রুতগতির একটি ট্রাক সজোরে ধাক্কা দিলে তারা গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণের দাবিতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন।
অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী জানান, গত দুই দশকে সড়ক দুর্ঘটনা, ভুল চিকিৎসা এবং অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত হওয়ার মতো বিভিন্ন ঘটনার শিকার প্রবাসীদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করে তিনি প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ আদায়ে সহায়তা করেছেন। তবে এই মামলাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দুর্ঘটনার সময় ভুক্তভোগীরা ট্যুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন।
তিনি আরও বলেন, মক্কেলদের অনুরোধে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ট্যুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে দুর্ঘটনার শিকার হওয়া আরও কয়েকজন বাংলাদেশির পক্ষেও তার ল ফার্ম সফলভাবে ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে। আদালতের রায়ে পাওয়া ক্ষতিপূরণের অর্থ তিনি নিজে বাংলাদেশে গিয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগীর হাতে পৌঁছে দিয়েছেন বলেও জানান।
যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা অনেক ক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করে চিকিৎসা ব্যয়, আয়ের ক্ষতি, ভবিষ্যৎ চিকিৎসা এবং শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন। ভিসার ধরন ক্ষতিপূরণ দাবির অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করে না; তবে প্রতিটি মামলার ফলাফল নির্ভর করে ঘটনার প্রমাণ, দায় নির্ধারণ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর।
এই মামলার মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্ঘটনার শিকার বিদেশি নাগরিকরাও ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ রাখতে পারেন, যদি তাদের দাবি যথাযথভাবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreঅভিযোগের বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি কিম্বার্লি ইয়ে। ফক্স ১০ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি। নর্টন দাবি করেছেন, কয়েকজন প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের একজন সাবেক রাষ্ট্রদূত তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে পারেন। তবে তাঁদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি। মামলার আনুষ্ঠানিক নথি জমা দেওয়ার আগে এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণও জনসমক্ষে আসেনি। এটি নর্টনের প্রথম মানহানির মামলা নয়। ২০২২ সালে অ্যারিজোনার প্রথম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রাইমারিতে কংগ্রেসম্যান ডেভিড শোয়েইকার্টের কাছে পরাজিত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধেও মানহানির মামলা করেছিলেন নর্টন। সে সময় তাঁর অভিযোগ ছিল, শোয়েইকার্টের সহযোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেনামি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তাঁকে নিয়ে আপত্তিকর ইঙ্গিতপূর্ণ প্রচারণা চালিয়েছিলেন। ওই মামলার শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয় এবং নর্টনের দাবি অনুযায়ী, শোয়েইকার্ট তাঁকে অর্থ পরিশোধ করেছিলেন। এবারের মামলায় কোনো সমঝোতায় যেতে চান না বলে জানিয়েছেন নর্টন। তাঁর ভাষায়, রাজনীতিবিদদের ব্যক্তিগত জীবন নয়, বরং নীতি, কর্মপরিকল্পনা ও কাজের রেকর্ড নিয়ে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, এবার মামলাটি বিচার পর্যন্ত নিয়ে যেতে চান। নির্বাচনী রাজনীতি থেকে আপাতত সরে গিয়ে নিজের ব্যবসায় মনোযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্র্যাট নিক ম্যানসুরের প্রতি সৌজন্য দেখিয়েছেন নর্টন। পরাজয় স্বীকার করার পর তাঁকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং একসঙ্গে পানীয় পান করার আমন্ত্রণও দিয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে কিম্বার্লি ইয়ে ভবিষ্যতে আবার কোনো নির্বাচনে অংশ নিলে তাঁর বিরোধিতা করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নর্টন। ফক্স ১০ ফিনিক্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে অ্যারিজোনার মারিকোপা কাউন্টিতে মামলাটি দায়ের করার কথা রয়েছে। তবে মামলা দায়েরের আগে পর্যন্ত নর্টনের অভিযোগগুলো তাঁর নিজস্ব বক্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হবে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কিম্বার্লি ইয়ের বিরুদ্ধে আনা দাবিগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সূত্র: ফক্স ১০ ফিনিক্স, অ্যারিজোনার নির্বাচনী ফলাফল।
যুক্তরাষ্ট্রে ছুটি কাটাতে যাওয়ার পথে আইসিইর হাতে গ্রেপ্তার ইউসি বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
নির্বাচনে জয়ের এক দিন পরই গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা অ্যান্থনি ইলি
নিউ ইয়র্ক টাইমসে ১৬ পদে বেতনসহ ফেলোশিপ, আবেদন ২০ নভেম্বর পর্যন্ত
যুক্তরাষ্ট্রের মিলওয়াকিতে প্রথম ডেটে গিয়ে নৃশংস খুনের শিকার হওয়া ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীর শরীরের আরও কিছু খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি উইসকনসিনের কুডাহির ওয়ার্নিমন্ট পার্কে সাদে রবিনসন নামের ওই তরুণীর চোয়ালের হাড় ও দাঁত উদ্ধার হয়। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিহত তরুণীর মা শিনা স্কারব্রো জানান, পার্কে হাঁটতে বের হওয়া এক পথচারী একটি পাথরের ওপর চোয়ালটি পড়ে থাকতে দেখেন। পরে মিলওয়াকি কাউন্টি শেরিফ অফিস থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত করা হয় যে উদ্ধার হওয়া দেহাংশটি রবিনসনেরই। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল। এদিন ম্যাক্সওয়েল অ্যান্ডারসন নামের এক যুবকের সঙ্গে জীবনের প্রথম ডেটে গিয়েছিলেন সাদে রবিনসন। এরপর আর কখনোই তার খোঁজ মেলেনি। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে, ডেটে যাওয়ার পর অ্যান্ডারসন ওই তরুণীকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং তার মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে মিলওয়াকি কাউন্টির বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেয়। এমনকি অপরাধের সব আলামত চিরতরে মুছে ফেলতে ঘাতক অ্যান্ডারসন রবিনসনের ব্যবহৃত গাড়িটিও পুড়িয়ে দিয়েছিল। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ৬ জুন জুরি বোর্ড অ্যান্ডারসনকে রবিনসন হত্যায় দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত তাকে প্যারোলের সুযোগবিহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন, যার ফলে তার আর কখনোই মুক্তির সুযোগ নেই। তবে দীর্ঘ সময় পর মেয়ের নতুন দেহাংশ উদ্ধারের ঘটনায় রবিনসনের পরিবার আবারও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে। মিলওয়াকি কাউন্টি শেরিফ অফিস এক বিবৃতিতে ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেছে, "এই দুঃসংবাদটি গ্রহণ করার কঠিন সময়ে আমরা রবিনসনের পরিবারের পাশে আছি এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।"
ক্যালিফোর্নিয়ায় পার্কে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার সময় নারী কাউন্সিলরকে পিটিয়ে জখম
মাত্র তিন বছরেই বিদায় সাইবারট্রাক, উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা ইলন মাস্কের
ইরানি মিসাইল হামলায় নি হত সেনা অ্যাঞ্জেলের নামে নিউইয়র্কে রাস্তা
যুক্তরাষ্ট্রে আদালতের নির্দেশে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও পুনরায় গ্রেপ্তারের শিকার হচ্ছেন অভিবাসীরা। বিচারকের আদেশে মুক্ত হওয়ার পরপরই অনেককে ফের আটক করছে সংস্থাটি। অভিবাসন অধিকারকর্মীরা আইসিই-এর এমন বিতর্কিত পদক্ষেপকে সরাসরি নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করেছেন। 'দ্য গার্ডিয়ান'-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি পাওয়ার পর অন্তত ২০ জন অভিবাসীকে আবারও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের বেশিরভাগই 'হেবিয়াস কর্পাস' পিটিশনের মাধ্যমে মুক্তি পেয়েছিলেন, যা বন্দীদের বিনা বিচারে আটকে রাখার সরকারি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার আইনি সুযোগ দেয়। ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন প্রজেক্টের অ্যাটর্নি ব্রিজেট প্রানজাটেলি দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, হেবিয়াস পিটিশনে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের খুব দ্রুতই পুনরায় আটক করার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই ফেডারেল আদালতের সরাসরি আদেশের লঙ্ঘন। এ ধরনের অমানবিক আচরণের শিকার হয়েছেন ৭৭ বছর বয়সী আকরাম মাহমুদ ওমর। লুইসিয়ানার একটি আইসিই বন্দিশিবিরে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর একটি হেবিয়াস কর্পাস পিটিশনের প্রেক্ষিতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু 'দ্য ইন্টারসেপ্ট'-এর তথ্যমতে, মুক্তির মাত্র ১০ দিনের মাথায় শারীরিক অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার আগেই এই বৃদ্ধকে আবারও আটক করে আইসিই এবং তাকে তড়িঘড়ি করে একটি ডিপোর্টেশন বা নির্বাসন ফ্লাইটে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে আদালতের আরেকটি আদেশের পর তাকে ফের মুক্তি দেওয়া হয়। বারবার এমন গ্রেপ্তারের ফলে ভুক্তভোগী অভিবাসীরা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ট্রমার শিকার হচ্ছেন। মিনেসোটার সেন্ট ক্লাউডের বাসিন্দা ইয়াদার কোর্তেজ মার্কিন স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (রেসিডেন্সি) পাওয়ার ঠিক দ্বারপ্রান্তে ছিলেন। এমপিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারকের আদেশে মুক্তি পাওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মাথায় তাকে আবারও আটক করা হয়। কোর্তেজ জানান, গ্রেপ্তারকারী কর্মকর্তাকে তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, 'বিচারক তো আমাকে মুক্তি দিয়েছেন, তাহলে কেন ধরছেন?' উত্তরে ওই কর্মকর্তা দম্ভের সঙ্গে বলেন, 'বিচারক কী করছেন তা তিনি নিজেই জানেন না, আপনার ক্ষেত্রে তিনি ভুল করেছেন।' এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় কোর্তেজ হতবাক হয়ে যান। তিনি বলেন, 'মুক্ত হওয়ার পরক্ষণেই ফের বন্দী হওয়ার মতো এমন পরিস্থিতি আমি আগে কখনোই দেখিনি। বিষয়টি আমাকে চরম স্তব্ধ করে দিয়েছিল।' শুধু পুনরায় গ্রেপ্তারই নয়, আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আইসিই অনেক ক্ষেত্রে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি এমনকি সরকারি পরিচয়পত্রও আটকে রাখছে। ওয়াশিংটন ডিসি-র আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) জানিয়েছে, আইডি কার্ড আটকে রাখার কারণে অনেক অভিবাসীকে চাকরি হারাতে হচ্ছে। পরিচয়পত্র ছাড়া ঘর থেকে বের হলে আবারও গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে তাদের, যার ফলে এক চরম দুর্দশা ও ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন এই অভিবাসীরা।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিনব কার্গো হাইস্ট, ট্রাকসহ উধাও এনভিডিয়ার ১১.৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য
নিশ্চিত মৃ ত্যুর মুখেও কাঁপেনি কণ্ঠ, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়েছিলেন ২০ বছরের নাথালিয়া