১৬ বছর বয়সে খিঁচুনি, এরপরই জেগে উঠল এক বিরল অসাধারণ ক্ষমতা
যুক্তরাষ্ট্রের এক তরুণীর জীবনে ১৬ বছর বয়সে হওয়া একটি খিঁচুনি অপ্রত্যাশিত মোড় এনে দেয়। খিঁচুনির পর তিনি এমন এক বিরল স্নায়বিক ক্ষমতার অভিজ্ঞতা পেতে শুরু করেন, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানেও অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে বিবেচিত। ঘটনাটি সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং স্নায়ুবিজ্ঞানীদেরও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খিঁচুনির আগে তার মধ্যে এ ধরনের কোনো বিশেষ দক্ষতার লক্ষণ ছিল না। তবে ঘটনার পর ধীরে ধীরে তিনি এমন সংবেদনগত অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, যা তাকে অন্যদের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে তথ্য উপলব্ধি করতে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে বিরল স্নায়বিক পরিবর্তনের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, খিঁচুনির পর মস্তিষ্কে কিছু ক্ষেত্রে স্নায়বিক সংযোগের পরিবর্তন ঘটতে পারে। খুব বিরল পরিস্থিতিতে এমন পরিবর্তনের ফলে নতুন ধরনের দক্ষতা বা অস্বাভাবিক সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে। তবে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং অধিকাংশ খিঁচুনির রোগীর ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে না।
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, এই ঘটনাকে সাধারণ নিয়ম হিসেবে দেখা উচিত নয়। খিঁচুনি বা স্নায়বিক রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, খিঁচুনির পেছনে টিউমার, এপিলেপসি বা অন্য কোনো স্নায়বিক সমস্যাও থাকতে পারে এবং সময়মতো চিকিৎসা জীবনরক্ষাকারী হতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreনভেম্বরের নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও বর্তমান কংগ্রেস সদস্য আয়েশা ওয়াহাব। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী একই দলের প্রার্থী মেলিসা হার্নান্দেজকে হারিয়ে আসনটি ধরে রেখেছেন তিনি। নির্বাচনের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ওয়াহাব পেয়েছেন ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে হার্নান্দেজ পেয়েছেন ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। আলামেডা কাউন্টির নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত ফলাফলে ওয়াহাবের পক্ষে ৬৮ হাজার ৬১২টি এবং হার্নান্দেজের পক্ষে ৫২ হাজার ৭৫৫টি ভোট দেখানো হয়েছে। এই আসনটি ক্যালিফোর্নিয়ার ডাবলিন, ফ্রিমন্ট, হেওয়ার্ড ও লিভারমোরসহ সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকার কয়েকটি শহরকে প্রতিনিধিত্ব করে। সাবেক কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েল পদত্যাগ করার পর আসনটি শূন্য হয়। তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকজন নারী যৌন নিপীড়ন ও অসদাচরণের অভিযোগ তোলার পর গত এপ্রিলে তিনি কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন। সোয়ালওয়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পরে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসনটির বাকি মেয়াদ পূরণের দায়িত্ব পান ওয়াহাব। এবার পূর্ণ দুই বছরের মেয়াদের জন্য নির্বাচনে অংশ নিয়ে আবারও জয় পেলেন তিনি। আফগান বংশোদ্ভূত আয়েশা ওয়াহাব যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম আফগান-আমেরিকান প্রতিনিধি। এর আগে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালে হেওয়ার্ড সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। নির্বাচনী প্রচারে তিনি আবাসন ব্যয় কমানো, ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন। এসব বিষয়কে সামনে রেখেই তিনি তুলনামূলক প্রগতিশীল অবস্থান নিয়ে প্রচার চালান। অন্যদিকে মেলিসা হার্নান্দেজ ছিলেন বে এরিয়া র্যাপিড ট্রানজিট (বার্ট) বোর্ডের প্রেসিডেন্ট এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ডাবলিন শহরের সাবেক মেয়র। প্রচারে তিনিও আবাসন ও সামাজিক নানা সমস্যা সমাধানের কথা বলেন, তবে ব্যবসাবান্ধব নীতির ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। নির্বাচনী বিতর্কে হার্নান্দেজ ওয়াহাবের তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার বিষয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। এ বক্তব্যে হতাশা প্রকাশ করে ওয়াহাব বলেছিলেন, এ ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেখে তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষ বিরক্ত। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ক্যালিফোর্নিয়ার এই আসনে ওয়াহাবের অবস্থান আরও শক্ত হলো। তবে তাঁর বিজয়ের মধ্য দিয়ে একই দলের দুই প্রার্থীর মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা প্রতিদ্বন্দ্বিতারও অবসান ঘটল। কেটিভিইউ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন এবং আলামেডা কাউন্টির নির্বাচনী ফলাফলের তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণের ৫০০ দিন পর ভিডিও গেমের সাহায্যে উদ্ধার পেলেন কিশোরী
নিউ ইয়র্কে তুষার সরানোর কাজে ঘণ্টায় ৪৫ ডলার আয়ের সুযোগ, নিয়োগ চলছে
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় নির্বাচনে হেরে নিজ দলের নেত্রীর বিরুদ্ধে কোটি ডলারের মানহানির মামলা করছেন নর্টন
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রেমিকের সঙ্গে ছুটি কাটাতে যাওয়ার পথে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটক হয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের ২৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। পলা ভ্যালেন্তিনা আলবোরনোজ হার্নান্দেজ নামের ওই তরুণী কলম্বিয়ার নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। তাঁর আবেদন এখনো বিচারাধীন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) ক্যালিফোর্নিয়া সিটি আটককেন্দ্রে রয়েছেন। তাঁর মুক্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার প্রেমিক অ্যান্থনির সঙ্গে ওরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ডে বেড়াতে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে পৌঁছান পলা। উড়োজাহাজে ওঠার অপেক্ষায় থাকার সময় সাদাপোশাকে এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে নাম জানতে চান। ওই ব্যক্তি নিজেকে আইসিই কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেননি বলে দাবি করেছেন তাঁর প্রেমিক। কয়েকবার নাম অনুমানের পর সঠিক নামটি নিশ্চিত হলে দুজনকে আলাদা করে ফেলেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। পরে পলাকে জানানো হয়, তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং তাঁকে আটক করা হচ্ছে। পলার আইনজীবী নিকোলাস ডি ব্রেমেকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে কলম্বিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন তিনি। নিজ দেশে গুরুতর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেন। তাঁর আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি এবং এ সময়ের মধ্যে তিনি বৈধভাবে কাজ করার অনুমতিও পেয়েছিলেন। প্রথমে সান হোসে সিটি কলেজে পড়াশোনা করেন পলা। পরে বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে ভর্তি হন। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণার কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। পলার আইনজীবীদের দাবি, আশ্রয়ের আবেদন প্রক্রিয়ায় তিনি নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে আঙুলের ছাপ ও পরিচয়সংক্রান্ত যাচাইয়েও অংশ নিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড কিংবা আগের গ্রেপ্তারের তথ্য নেই বলেও জানিয়েছেন আইনজীবী। তাঁদের মতে, বৈধ কর্মানুমতি থাকা এবং আশ্রয়ের আবেদন বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তাঁকে আটক করার আইনগত ভিত্তি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বৈধ অনুমতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন পলা। তাঁর সেখানে থাকার অনুমতির মেয়াদ শেষ হয় ২০২৩ সালের ৬ মার্চ। এরপরও তিনি দেশ ছাড়েননি বলে দাবি করেছে বিভাগটি। এক বিবৃতিতে ডিএইচএস জানায়, তাঁকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ দেওয়া হবে এবং বহিষ্কারসংক্রান্ত কার্যক্রম চলাকালে তিনি আইসিইর হেফাজতে থাকবেন। বিভাগটির বক্তব্য, কাজের অনুমতি কিংবা আশ্রয়ের আবেদন বিচারাধীন থাকা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা নিশ্চিত করে না। এদিকে পলার আটকাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছেন আইনজীবীরা। সোমবার দাখিল করা হেবিয়াস কর্পাস আবেদনে তাঁদের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় কর্মকর্তারা কোনো পরোয়ানা দেখাননি এবং তাঁকে আটক করার আগে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কিংবা জননিরাপত্তার ঝুঁকি আছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়নি। আইনজীবীরা আদালতের কাছে তাঁর মুক্তির নির্দেশ চেয়েছেন। পাশাপাশি আদালতের অনুমতি ছাড়া ভবিষ্যতে তাঁকে আবার আটক না করার আবেদনও জানিয়েছেন তাঁরা। পলার পাশে দাঁড়িয়েছে বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও। বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রিচ লায়ন্স ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তাঁকে মেধাবী ও বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বার্কলের মতো প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষ করতে অসাধারণ নিষ্ঠা ও অধ্যবসায় প্রয়োজন। পলার বর্তমান পরিস্থিতি তাঁর অর্জিত শিক্ষার সুযোগ ব্যাহত করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। দ্রুত তাঁকে পড়াশোনায় ফেরার সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বানও জানান চ্যান্সেলর। পলার প্রেমিক অ্যান্থনি জানিয়েছেন, পড়াশোনার চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে তিনি এই ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন। দুজনেরই প্রকৃতির প্রতি আগ্রহ থাকায় পোর্টল্যান্ডে ঘুরে বেড়ানো ও ঝরনা দেখার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু বিমানবন্দরে পলাকে আটক করার পর সবকিছু বদলে যায়। তাঁর সহপাঠীরা শিক্ষকদের কাছে পলার অনুপস্থিতির বিষয়টি জানিয়েছেন, যাতে আটক অবস্থায় তাঁর পড়াশোনার ক্ষতি কম হয়। অ্যান্থনির ভাষ্য, বার্কলেতে পড়াশোনা করা পলার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, তাই তাঁকে দ্রুত মুক্ত করে শিক্ষাজীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন তাঁরা। আইনজীবী ডি ব্রেমেকারের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৭ নভেম্বর অভিবাসন আদালতে পলার শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে। তবে তাঁর আটকাদেশের বৈধতা নিয়ে ফেডারেল আদালতে চলা মামলাটি অভিবাসন মামলার বাইরে পৃথকভাবে পরিচালিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন কর্মকর্তাদের তৎপরতা ও ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করা ব্যক্তিদের আটকের ঘটনা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), কিউকিউইডি ও সিবিএস নিউজ।
নির্বাচনে জয়ের এক দিন পরই গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা অ্যান্থনি ইলি
নিউ ইয়র্ক টাইমসে ১৬ পদে বেতনসহ ফেলোশিপ, আবেদন ২০ নভেম্বর পর্যন্ত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ডেটে গিয়ে খু নের শিকার তরুণী, দুই বছর পরও উদ্ধার হচ্ছে দেহাংশ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্ক শহরে এক নারী সিটি কাউন্সিলরের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৫ অক্টোবর নিউয়ার্ক কমিউনিটি সেন্টার পার্কে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার সময় অতর্কিত এই হামলার শিকার হন কাউন্সিলর ইভ ম্যারি লিটল। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রোজারিও লোপেজ (৩১) নামের এক নারীকে প্রতিবেশী ফ্রেমন্ট শহর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে হামলার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন কাউন্সিলর লিটল। তিনি জানান, পার্কে স্থানীয়দের সঙ্গে এলাকার সম্ভাব্য উন্নয়ন নিয়ে আলোচনার সময় সম্পূর্ণ অপরিচিত এক ব্যক্তি পেছন থেকে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে মুখের ওপর একের পর এক ঘুষি মারতে থাকে হামলাকারী নারী। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজেও এই বিনা প্ররোচনার হামলার প্রমাণ মিলেছে। ঘটনার সময় পার্কিং লটে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী হামলাকারীকে সাদা রঙের একটি সেডান গাড়িতে করে পালিয়ে যেতে দেখেন। তিনি প্রায় ৮০ মাইল বেগে গাড়িটির পিছু নিয়ে সেটির লাইসেন্স প্লেটের নম্বর সংগ্রহ করে পুলিশকে সহায়তা করেন। এই বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত লিটলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তাকে জরুরি বিভাগ ও কনকাশন ক্লিনিকেও চিকিৎসা নিতে হয়েছে। চরম শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার কথা জানিয়ে তিনি ফেসবুকে লেখেন, "আমি মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি। এটি মোটেও ন্যায্য নয়, কারণ এমন পরিণতি ভোগ করার মতো কোনো অন্যায় আমি করিনি।" একইসঙ্গে তিনি রাজনীতি ও নির্বাচনী প্রচারণার অন্ধকার দিকের কথাও তুলে ধরেন, যেখানে জনপ্রতিনিধিদের প্রায়ই মানুষের মতাদর্শগত ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে হয়। হামলার চার দিন পর, ২৯ অক্টোবর পুলিশ অভিযুক্ত রোজারিও লোপেজকে গ্রেপ্তার করে। আলামেডা কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস তার বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক আঘাতের (ফেলোনি ব্যাটারি) অভিযোগ এনেছে। তবে হামলার সুস্পষ্ট কোনো উদ্দেশ্য এখনো জানাতে পারেনি পুলিশ। আগামী ১৯ নভেম্বর অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত কাউন্সিলর লিটল এবারের নির্বাচনেও নিজের আসন ধরে রাখার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। টেক্সাসে জন্ম নেওয়া এই জনপ্রতিনিধি রাজনীতিতে আসার আগে নাসা জনসন স্পেস সেন্টারের ইভেন্ট ডিরেক্টরসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
মাত্র তিন বছরেই বিদায় সাইবারট্রাক, উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা ইলন মাস্কের
ইরানি মিসাইল হামলায় নি হত সেনা অ্যাঞ্জেলের নামে নিউইয়র্কে রাস্তা