আমেরিকা

স্বপ্নের নারীকে আগেই ছবিতে এঁকেছিলেন শিল্পী, এক বছর পর হুবহু সেই চেহারার নারীর সঙ্গেই সাক্ষাৎ, প্রেম, অতঃপর বিয়ে!

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ৬:৪০
এই দম্পতি হলেন ইরানি শিল্পী আহাদ সাদিএবং তাঁর স্ত্রী পারিসা কারামনেজাদ। ছবি:সংগৃহীত
এই দম্পতি হলেন ইরানি শিল্পী আহাদ সাদিএবং তাঁর স্ত্রী পারিসা কারামনেজাদ। ছবি:সংগৃহীত

২০০৮ সালে ইরানি শিল্পী আহাদ সাদি মায়ের বিয়ের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে কল্পনায় এঁকেছিলেন তার ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গিনীর একটি প্রতিকৃতি। প্রায় এক বছর পর তাবরিজের একটি প্রদর্শনীতে সেই ছবিটি দেখতে গিয়ে শিল্পী পারিসা কারামনেজাদ অবাক হয়ে আবিষ্কার করেন, আঁকা নারীর সঙ্গে তার নিজের চেহারার আশ্চর্য মিল রয়েছে। পরে সেই পরিচয়ই গড়ায় প্রেম ও বিয়েতে।

 

আহাদ সাদি নিজের বিশেষ আগুননির্ভর শিল্পকৌশল ‘আজারনেগারি’ ব্যবহার করে প্রতিকৃতিটি তৈরি করেছিলেন। মায়ের প্রশ্নের জবাব হিসেবে কল্পনা থেকে আঁকা সেই ছবির সঙ্গে বাস্তব জীবনের কোনো মানুষের মিল পাওয়া যাবে, এমনটা তখন তার ধারণাতেও ছিল না।

 

প্রায় এক বছর পর তাবরিজে একটি প্রদর্শনীতে বন্ধুদের সঙ্গে গিয়েছিলেন পারিসা। সেখানে আহাদের আঁকা প্রতিকৃতিটি দেখে তিনি নিজের চেহারার সঙ্গে ছবির নারীর মিল লক্ষ্য করেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি শিল্পীর সঙ্গে কথা বললে দুজনেই এই অদ্ভুত মিল দেখে বিস্মিত হন।

 

এরপর তাদের পরিচয় তৈরি হলেও সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের পরিণতি ঘটেনি। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে আবার যোগাযোগ হয় দুজনের। পরে ইস্তাম্বুলে আহাদের একটি প্রদর্শনীতে তাদের দেখা হয়। সেখানে একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর আহাদ পারিসাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।

 

অবাক করার মতো বিষয় হলো, প্রস্তাব পাওয়ার পর খুব বেশি সময় নেননি পারিসা। পরদিনই তিনি আহাদের প্রস্তাবে সম্মতি জানান।

 

ইরানি সংবাদমাধ্যমের পুরোনো প্রতিবেদনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বলা হয়েছিল, আহাদ যেন নিজের ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গিনীর মুখটি বাস্তবে তার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগেই ক্যানভাসে এঁকে ফেলেছিলেন। এক বছর আগে কল্পনায় আঁকা একটি প্রতিকৃতি পরে বাস্তব জীবনের মানুষের সঙ্গে মিলে যাওয়ার ঘটনাটি তাই তাদের সম্পর্কের সবচেয়ে আলোচিত দিক হয়ে ওঠে।

 

শিল্পীর মায়ের করা সাধারণ একটি প্রশ্ন থেকেই শুরু হয়েছিল গল্পটির প্রথম অধ্যায়। আর সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে আঁকা একটি ছবি শেষ পর্যন্ত আহাদের জীবনের বাস্তব প্রেমকাহিনির অংশ হয়ে যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের আটকের দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসে রেকর্ড ৫১ হাজার অভিবাসী আটক, বাড়ছে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযান

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) জুলাই মাসে প্রায় ৫১ হাজার অভিবাসীকে আটক করেছে বলে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই সংখ্যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদারের মধ্যে এক মাসে আটকের নতুন সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসেবে সামনে এসেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে আইসিইর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জুনে প্রায় ৪৩ হাজার ১৩৮ জনকে আটক করা হয়েছিল, যা তখন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এক মাসে সর্বোচ্চ ছিল। ফলে এক মাসের ব্যবধানে আটকের সংখ্যা আরও বেড়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী অভিবাসীদের শনাক্ত, আটক ও বহিষ্কারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আইসিই দেশজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বড় শহরকেন্দ্রিক অভিযানের পাশাপাশি বিমানবন্দর, কর্মস্থল, ইমিগ্রেশন কোর্ট ও অন্যান্য স্থানেও অভিযান বাড়ানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে।   তবে জুলাইয়ের আটকের সংখ্যা নিয়ে সরকারি তথ্যের বিভিন্ন হিসাবের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। আইসিইর আটক ও ডিটেনশন ডেটা এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের আলাদা হিসাব একই প্রক্রিয়ার ভিন্ন পর্যায়কে নির্দেশ করতে পারে। তাই বিভিন্ন প্রতিবেদনে সংখ্যার কিছু তারতম্য দেখা যাচ্ছে।   জুনে আইসিইর ডিটেনশন সেন্টারে ৪৩ হাজারের বেশি মানুষ বুক করা হয়েছিল বলে সংস্থার প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এর আগে ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইয়ের প্রথম ১২ দিনেই প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আইসিই আটক করছিল।   অভিবাসনবিষয়ক এই অভিযান নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ফেডারেল অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য। প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে।   তবে অভিযান নিয়ে সমালোচনাও বাড়ছে। সাম্প্রতিক তথ্য ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আইসিইর হেফাজতে থাকা অনেকের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জুনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ডিটেনশনে থাকা ব্যক্তিদের বড় একটি অংশের কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড ছিল না।   এ কারণে অভিবাসী অধিকারকর্মীরা বলছেন, বর্তমান অভিযান শুধু গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থকেরা বলছেন, অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা এবং অবৈধভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।   আইসিইর অভিযান জোরদারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে। বিশেষ করে যাদের ইমিগ্রেশন আবেদন চলমান, বৈধ স্ট্যাটাস পাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন বা আদালতে মামলা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও আটকের ঘটনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্ন উঠেছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ফলে সামনে আরও বড় পরিসরে এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালানো হবে কি না, সেটিই এখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী কমিউনিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। জুলাইয়ের রেকর্ড আটকের পর আইসিইর কার্যক্রমের পরবর্তী গতি এবং আটক ব্যক্তিদের বহিষ্কারের সংখ্যা বিশেষভাবে নজরে থাকবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ৮:১২
অলিভার অ্যালভিস। ছবি:সংগৃহীত

২০২৩ সালের পর থেকে আর ঘুমাননি! চিকিৎসার খোঁজে ঘুরছেন দেশে দেশে

হার্ট প্রতিস্থাপনের জন্য একজন নারী হাসপাতালে। ছবি:সংগৃহীত

হার্ট প্রতিস্থাপনের এক বছর পর দাতাকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানলেন নারী

এই দম্পতি হলেন ইরানি শিল্পী আহাদ সাদিএবং তাঁর স্ত্রী পারিসা কারামনেজাদ। ছবি:সংগৃহীত

স্বপ্নের নারীকে আগেই ছবিতে এঁকেছিলেন শিল্পী, এক বছর পর হুবহু সেই চেহারার নারীর সঙ্গেই সাক্ষাৎ, প্রেম, অতঃপর বিয়ে!

চাঁদে প্রথম পা রাখা নীল আর্মস্ট্রং ও তার বাড়ি। ছবি:সংগৃহীত
চাঁদে প্রথম পা রাখা নীল আর্মস্ট্রংয়ের শৈশবের বাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৪ লাখ ৩০ হাজার ডলারে

চাঁদের মাটিতে প্রথম মানুষের পদচিহ্ন রেখে ইতিহাস গড়া নীল আর্মস্ট্রংয়ের শৈশবের বাড়ি এবার বিক্রির জন্য বাজারে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ওয়াপাকোনেটা শহরের ৬০১ ওয়েস্ট বেন্টন স্ট্রিটে অবস্থিত বাড়িটির দাম চাওয়া হয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার ডলার। প্রায় চার দশকের মধ্যে এই প্রথম ঐতিহাসিক বাড়িটি নতুন মালিকের অপেক্ষায়।    আর্মস্ট্রং পরিবারের সঙ্গে বাড়িটির সম্পর্ক শুরু ১৯৪৪ সালে। নীল আর্মস্ট্রংয়ের বাবা-মা স্টিফেন ও ভায়োলা আর্মস্ট্রং ওই বছর পরিবার নিয়ে ওয়াপাকোনেটায় ফিরে এসে বাড়িটি কিনেছিলেন। তখন নীলের বয়স ছিল ১৩ বছর এবং তিনি হাইস্কুলে পড়ছিলেন।    এই বাড়িতেই কিশোর আর্মস্ট্রংয়ের আকাশ ও বিমান নিয়ে আগ্রহ আরও গভীর হয়ে ওঠে। তিনি কাঠ ও আঠা দিয়ে মডেল বিমান তৈরি করতেন। নিজের দোতলার শোবার ঘরের জানালা দিয়ে সেগুলো উড়িয়ে কত দূর যেতে পারে, তা পরীক্ষা করতেন। এমনকি বাড়ির বেসমেন্টে মডেল বিমানের জন্য ছোট একটি উইন্ড টানেলও তৈরি করেছিলেন।    বাড়ি থেকে সাইকেল চালিয়ে কাছের এয়ারফিল্ডে উড়োজাহাজ চালানোর প্রশিক্ষণ নিতে যেতেন আর্মস্ট্রং। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তিনি প্রথম একক ফ্লাইট সম্পন্ন করেন এবং ড্রাইভার লাইসেন্স পাওয়ার আগেই পাইলট লাইসেন্স অর্জন করেন। সেই কিশোরই পরে ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই অ্যাপোলো ১১ মিশনে চাঁদের মাটিতে প্রথম পা রেখে বিশ্ব ইতিহাসের অংশ হয়ে যান।    বর্তমান মালিক কারেন মাইকেসেল ১৯৮৮ সালে বাড়িটি কিনেছিলেন। বাড়ি কেনার সময় তিনি জানতেন না যে এটি নীল আর্মস্ট্রংয়ের শৈশবের বাড়ি। পরে অন্য এক শিক্ষক বিষয়টি তাকে জানান। ইতিহাসের শিক্ষক এবং পরে স্কুলের প্রিন্সিপাল হিসেবে কাজ করা মাইকেসেল তখন থেকেই বাড়িটির ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য যতটা সম্ভব ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন।    বর্তমানে ৮২ বছর বয়সী মাইকেসেল প্রায় ৩৮ বছর ধরে বাড়িটিতে বসবাস করছেন। এই সময়ে আর্মস্ট্রংয়ের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে বাড়ির ভেতরে চাঁদে অবতরণ, অ্যাপোলো মিশন এবং মহাকাশচারীদের বিভিন্ন ছবি ও স্মারক রেখেছেন তিনি।   বাড়িটিতে একাধিক মহাকাশচারীরও আগমন ঘটেছে। মাইকেসেলের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তত নয়জন মহাকাশচারী এখানে এসেছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন অ্যাপোলো ১১ মিশনে আর্মস্ট্রংয়ের সহযাত্রী বাজ অলড্রিনও। আর্মস্ট্রংয়ের মৃত্যুর কয়েক বছর পর অলড্রিন তার পুরোনো শোবার ঘরে প্রবেশ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন মাইকেসেল।    ১৯০৮ সালে নির্মিত দুইতলা বাড়িটিতে তিনটি বেডরুম, দেড়টি বাথরুম এবং প্রায় ১ হাজার ৫৩৯ বর্গফুট থাকার জায়গা রয়েছে। বাড়ির সামনে বড় বারান্দা, পেছনে বাগান এবং আলাদা দুই গাড়ির গ্যারেজ রয়েছে। আর্মস্ট্রং ও তার বাবা পুরোনো কাঠ ব্যবহার করে যে গ্যারেজ তৈরি করেছিলেন, সেটিও এখনো বাড়ির পেছনে রয়েছে।    আর্মস্ট্রং পরিবার ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি বাড়িটি বিক্রি করে দেয়। এরপর কয়েকজন মালিকের হাত ঘুরে ১৯৮৮ সালে মাইকেসেল এটি কিনেছিলেন। ২০১৮ সালে বাড়িটির সামনে নীল আর্মস্ট্রংয়ের শৈশবের বাড়ি হিসেবে একটি ঐতিহাসিক ফলকও স্থাপন করা হয়।    ওয়াপাকোনেটার আর্মস্ট্রং এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামে যাওয়া অনেক দর্শক বাড়িটিও বাইরে থেকে দেখতে আসেন। তবে এটি এখনো ব্যক্তিগত বাসভবন এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য বাড়ির ভেতরে প্রবেশের সুযোগ নেই। মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষও দর্শনার্থীদের শুধু ফুটপাত থেকে বাড়িটি দেখার অনুরোধ করে।    মাইকেসেল আশা করছেন, নতুন মালিকও বাড়িটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুঝে সেটি সংরক্ষণ করবেন। তার ইচ্ছা, কোনো ব্যক্তি বাড়িটি কিনে একদিন আর্মস্ট্রং এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামকে দান করলে ঐতিহাসিক স্থানটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। তবে মিউজিয়ামের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব অর্থে বাড়িটি কেনার সামর্থ্য নেই।    নীল আর্মস্ট্রংয়ের জীবনের সবচেয়ে বিখ্যাত পদক্ষেপ ছিল চাঁদের মাটিতে। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক যাত্রার স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল অনেক আগেই, ওহাইওর এই সাধারণ বাড়ির একটি ছোট ঘরে, যেখানে এক কিশোর জানালা দিয়ে নিজের বানানো মডেল বিমান উড়িয়ে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ৬:২০
ডাক্তার রোগীকে চোখের চিকিৎসা দিচ্ছে। ছবি:সংগৃহীত

আমেরিকায় ফ্রিতে চোখের চিকিৎসা , কিন্তু কোথায় যাবেন জানেন কি?

ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে এখন অনুতপ্ত টেক্সাসের ব্যবসায়ী

আইসিইর হাতে আটক হবু স্ত্রী, ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে এখন অনুতপ্ত টেক্সাসের ব্যবসায়ী

স্ত্রীকেই হত্যার অভিযোগ ৯১ বছর বয়সী বৃদ্ধের

স্ত্রীর প্রতিশ্রুতি রাখতে, স্ত্রীকেই হত্যার অভিযোগ ৯১ বছর বয়সী বৃদ্ধের

তীব্র পানি সংকটে হাজারো আমেরিকান
তীব্র পানি সংকটে হাজারো আমেরিকান, এখনো নীরব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড পুয়ের্তো রিকোতে তীব্র খরা ও দীর্ঘদিনের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যার মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে পালাক্রমে ৪৮ ঘণ্টা করে পানি ছাড়া থাকতে হচ্ছে। রাজধানী সান হুয়ানসহ সাতটি মিউনিসিপ্যালিটির বাসিন্দাদের ওপর এই পানি রেশনিং কার্যকর হয়েছে। সংকট আরও কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   পুয়ের্তো রিকোর অ্যাকুয়েডাক্ট অ্যান্ড স্যুয়ার অথরিটি জানিয়েছে, কারাইজো জলাধারের পানির স্তর সংকটজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। নতুন রেশনিং ব্যবস্থায় একদল গ্রাহকের পানি সরবরাহ ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে, এরপর তাদের সংযোগ চালু করে অন্য এলাকার পানি বন্ধ করা হবে। অন্তত আগস্টের শেষ পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চলার কথা রয়েছে।   তবে বর্তমান সংকটের পেছনে শুধু খরা নয়, দ্বীপটির পুরোনো ও দুর্বল পানি অবকাঠামোর সমস্যাও রয়েছে। চলতি বছরের জুনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি সরবরাহ পাইপলাইনের একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ার পর সান হুয়ান ও আশপাশের এলাকায় হাজার হাজার মানুষ পানি সংকটে পড়েন।   কিছু এলাকার বাসিন্দারা চলতি বছর ১০০ দিনের বেশি সময় ধরে অনিয়মিত পানি সরবরাহের মুখোমুখি হয়েছেন বলে নিউজউইকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বর্তমান খরা আগে থেকেই চাপে থাকা পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।   জুনে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে পুয়ের্তো রিকোর গভর্নর জেনিফার গনজালেজ ন্যাশনাল গার্ডকে পানি বিতরণে সহায়তার জন্য মোতায়েন করেছিলেন। সে সময় পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে কয়েক হাজার গ্রাহকের পানি সরবরাহ ব্যাহত হয়।   পানি সংকটের প্রভাব এখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ছাড়িয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাতেও পড়ছে। দীর্ঘ সময় পানি না থাকায় পরিবারগুলোকে পানীয় জল সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত অর্থ এবং সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।   পুয়ের্তো রিকোর বর্তমান সংকট নিয়ে শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিউজউইক বলেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে তখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে প্রেসিডেন্টের মন্তব্য না করার বিষয়টিকে সংকট মোকাবিলায় ফেডারেল সরকারের কোনো পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। পুয়ের্তো রিকোর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালনার মূল দায়িত্ব স্থানীয় কর্তৃপক্ষের।   পুয়ের্তো রিকোর বাসিন্দারা মার্কিন নাগরিক। ক্যারিবিয়ানে অবস্থিত দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি আনইনকরপোরেটেড টেরিটরি। সেখানে প্রায় ৩২ লাখ মানুষের বসবাস।   দ্বীপটির পানি অবকাঠামোর সমস্যা নতুন নয়। পুরোনো পাইপলাইন, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি, হারিকেন ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা দীর্ঘদিন ধরে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।   এর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে খরা। রয়টার্সের ৭ আগস্টের প্রতিবেদনেও নিশ্চিত করা হয়েছে, পুয়ের্তো রিকোতে পালাক্রমে পানি রেশনিং শুরু হচ্ছে এবং এতে কয়েক দশ হাজার মানুষকে একটানা ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত পানি ছাড়া থাকতে হবে। অন্তত আগস্টের শেষ পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চলবে বলে জানানো হয়েছে।   কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জলাধারের পানির স্তর ও বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে রেশনিংয়ের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় পানি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ১:৪১
ফ্রিতে এই ৫টি জায়গায় পেতে পারেন খাবার

আমেরিকায় খাবারের খরচ সামলাতে হিমশিম? ফ্রিতে এই ৫টি জায়গায় পেতে পারেন খাবার

এইচ ওয়ান বি ও জে ওয়ান ভিসার জন্য বড় ধাক্কা!

এইচ ওয়ান বি ও জে ওয়ান ভিসার জন্য বড় ধাক্কা! অনুদান বন্ধের পরিকল্পনা এনআইএইচের

রিপাবলিকান প্রাইমারিতে পরাজিত কংগ্রেস সদস্য অ্যান্ডি ওগলস। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েও প্রাইমারিতে হারলেন মুসলিমবিরোধী মন্তব্য করা অ্যান্ডি ওগলস

0 Comments