২০২৩ সালের পর থেকে আর ঘুমাননি! চিকিৎসার খোঁজে ঘুরছেন দেশে দেশে
ইংল্যান্ডের উইল্টশায়ারের সাবেক ট্রেনচালক অলিভার অ্যালভিসের দাবি, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের এক রাতের পর থেকে তিনি আর স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে পারছেন না। প্রথমে বিষয়টিকে সাময়িক মানসিক চাপের ফল মনে হলেও দিন, সপ্তাহ ও মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও তার ঘুম ফেরেনি বলে জানিয়েছেন তিনি। চিকিৎসকেরাও এখন পর্যন্ত তার সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করতে পারেননি।
মেইল অনলাইনকে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অলিভার বলেন, এটি শুধু ঘুমের অভাব নয়, তার কাছে মনে হয় ঘুম যেন পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে গেছে। তার ভাষায়, তিনি ঘুমঘুম অনুভব করেন না এবং ঘুমিয়েও পড়েন না। সব সময় যেন সতর্ক অবস্থায় থাকেন।
ঘুমহীনতার এই সমস্যা শুরু হওয়ার পর একপর্যায়ে নিজের পেশা নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অলিভার। এক সপ্তাহের বেশি সময় ঘুমাতে না পারার পর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ট্রেনচালকের চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
চাকরি ছাড়ার পর নিজের বাড়ি বিক্রি করে মায়ের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন অলিভার। এরপর চিকিৎসার সন্ধানে নিজের জমানো অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন দেশে ঘুরেছেন তিনি। তুরস্ক, কলম্বিয়া, ভারতসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও গেছেন সমাধানের আশায়। কিন্তু এখনো তার সমস্যার কোনো নিশ্চিত ব্যাখ্যা মেলেনি।
চিকিৎসকদের আলোচনায় বিরল একটি ঘুমের সমস্যা, প্যারাডক্সিক্যাল ইনসমনিয়া বা স্লিপ স্টেট মিসপারসেপশনের সম্ভাবনার কথা এসেছে। এই অবস্থায় একজন ব্যক্তি মনে করতে পারেন যে তিনি খুব কম বা একেবারেই ঘুমাননি, যদিও বাস্তবে তার কিছুটা ঘুম হতে পারে। তবে অলিভারের নিজের অভিজ্ঞতা এই ব্যাখ্যার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না বলে তিনি মনে করেন।
দীর্ঘদিনের এই সমস্যায় তার স্বাভাবিক জীবন পুরোপুরি বদলে গেছে। চাকরি ছেড়ে দেওয়া থেকে শুরু করে বাড়ি বিক্রি এবং চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়ানো, সবকিছুর কেন্দ্রেই রয়েছে ঘুম ফিরে পাওয়ার চেষ্টা।
অলিভার এখনো নিজের সমস্যার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, আবার স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে পারার জন্য নিজের সবকিছু দিয়ে দিতেও তিনি প্রস্তুত।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির এক অন্তঃসত্ত্বা নারী আল্ট্রাসাউন্ডের একটি ছবিতে তার অনাগত সন্তানের মাথার ওপর হাতের মতো একটি আকৃতি দেখতে পেয়েছেন। তার ছোট মেয়ে বেইলি প্রথম বিষয়টি লক্ষ্য করে ছবিতে থাকা আকৃতিটি কার হাত, তা জানতে চায়। এরপর ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে একে ‘ঈশ্বরের হাত’ নামে অভিহিত করেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে ছবিটির ওই আকৃতিকে সত্যিকারের হাত বা অতিপ্রাকৃত কোনো ঘটনার প্রমাণ হিসেবে নিশ্চিত করার মতো স্বাধীন কোনো তথ্য নেই। আমান্ডা ফস্টার নামের ওই নারী নিজেও ছবিটিকে তার বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে দেখেছেন। তার কাছে এটি হয়ে উঠেছে কঠিন সময়ের মধ্যে আশা, প্রার্থনা ও সুরক্ষার প্রতীক। ২০২৫ সালের মে মাসে ফস্টার প্রথম ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। সে সময় তিনি প্রায় ৩২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং তার অনাগত ছেলে কাইলারের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। এর আগে গর্ভাবস্থার পরীক্ষায় শিশুটির হৃদযন্ত্রের একটি অস্বাভাবিকতার কথা জানানো হয়েছিল। ফলে প্রতিটি আল্ট্রাসাউন্ডের আগে তিনি সন্তানের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করতেন বলে জানান। ফস্টারের সঙ্গে আল্ট্রাসাউন্ডের সময় তার ছোট মেয়ে বেইলিও ছিল। ছবির দিকে তাকিয়ে বেইলি প্রথম হাতের মতো আকৃতিটি দেখতে পায় এবং জানতে চায়, সেটি কার হাত। ফস্টার পরে জানান, ছবির একটি অংশে তার মনে হয়েছে যেন একটি হাত তার অনাগত সন্তানের মাথা ধরে বা ঢেকে রেখেছে। ফস্টারের জন্য ঘটনাটির গুরুত্ব শুধু ছবিটির অস্বাভাবিক চেহারায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তার আগের জীবনে সন্তান হারানোর বেদনাও রয়েছে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি তার প্রথম ছেলেকে হারান। ওই শিশুর ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় পটার সিনড্রোম বা পটার সিকোয়েন্স শনাক্ত হয়েছিল। এটি একটি গুরুতর জন্মগত অবস্থা, যেখানে শিশুর কিডনির স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয় এবং এর সঙ্গে ফুসফুসের বিকাশেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেই অভিজ্ঞতার পরও ফস্টার পরবর্তী সময়ে দুই কন্যাসন্তানের মা হন। পরে আরেকটি ছেলে সন্তানের গর্ভধারণের সময় আগের সন্তান হারানোর স্মৃতি ও নতুন করে পাওয়া স্বাস্থ্যসংক্রান্ত উদ্বেগ তাকে মানসিকভাবে নাড়া দেয়। তিনি জানান, এই সময় তিনি আরও বেশি করে প্রার্থনার ওপর নির্ভর করেন। আল্ট্রাসাউন্ডে হাতের মতো আকৃতি দেখতে পাওয়ার পর ফস্টার ও তার স্বামী এটিকে তাদের প্রার্থনার সঙ্গে যুক্ত করেন। ফস্টারের ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিটি দেখার পর তিনি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হন এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব করেন। পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে অনুসরণমূলক পরীক্ষা করানো হলে আগের হৃদযন্ত্রের অস্বাভাবিকতা আর দেখা যায়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে ওই পরিবর্তনকে সরাসরি অলৌকিক ঘটনার ফল হিসেবে চিকিৎসাবিজ্ঞান নিশ্চিত করেছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। আল্ট্রাসাউন্ডের ছবিতে শরীরের বিভিন্ন অংশের অবস্থান, ছায়া, প্রতিফলন এবং ছবির কোণের কারণে কখনো কখনো পরিচিত কোনো আকৃতির মতো কিছু দেখা যেতে পারে। এই ধরনের ছবিকে কেন্দ্র করে কোনো নির্দিষ্ট আকৃতি দেখা গেলেই সেটিকে বাস্তব কোনো বস্তু বা অতিপ্রাকৃত ঘটনার প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। ফস্টারের ছবির ক্ষেত্রেও ‘হাত’ হিসেবে দেখা আকৃতিটির সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি। তবে ছবিটি অনলাইনে ব্যাপক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ২০২৫ সালে প্রথম ছড়িয়ে পড়ার পর ২০২৬ সালের আগস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও ছবিটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে থাকে। নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এটিকে বিশ্বাস ও আশার প্রতীক হিসেবে দেখেছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ ছবিটিকে আল্ট্রাসাউন্ডের স্বাভাবিক ভিজ্যুয়াল বিভ্রম বা ছবির কোনো আকৃতিগত প্রভাব হিসেবে দেখেছেন। ফস্টারের কাছে অবশ্য ছবিটির অর্থ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার চেয়েও ব্যক্তিগত। সন্তান হারানোর পুরোনো কষ্ট, নতুন গর্ভাবস্থার উদ্বেগ এবং সন্তানের জন্য তার নিয়মিত প্রার্থনার মধ্যে আল্ট্রাসাউন্ডের ওই মুহূর্তটি তাকে মানসিক স্বস্তি দিয়েছে। তাই অনলাইনে ছবিটি ‘ঈশ্বরের হাত’ নামে পরিচিত হলেও, এটি মূলত একজন মায়ের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আশার গল্প হিসেবেই দেখছেন তিনি। সূত্র: KWTX, The Dallas Express
টেক্সাসে ডোরড্যাশ ডেলিভারি দিতে গিয়ে আইসিই এজেন্টের গুলিতে আহত অভিবাসী, চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: বাবার গাড়ির নিচে চাপা পড়ে ছয় বছরের শিশুর মৃত্যু
ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে তিন সপ্তাহে চার ধর্ষণ, আতঙ্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির কানসাস সিটিতে এক মাস বয়সী মেয়েশিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছেন ২৮ বছর বয়সী মারাইয়া থমাস। আদালতে করা সমঝোতার অংশ হিসেবে প্রথম-ডিগ্রির হত্যা মামলা বাদ দেওয়া হয়েছে। শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় শিশু কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগে তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কারাগারে কাটানো সময় এই সাজা থেকে বাদ যাবে। ফলে তার আরও প্রায় ১১ বছর কারাভোগ করার কথা রয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কানসাস সিটির একটি বাড়িতে। সেদিন স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয়, একটি শিশু শ্বাস নিচ্ছে না। পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এক মাস বয়সী শিশুটিকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। শিশুটির নাম ছিল জা'রিয়াহ মে। আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুটিকে ঘুম পাড়ানোর সময় ভুল করে খাটের বদলে ওভেনে রেখে দিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের জানান থমাস। তার এই বক্তব্যই পরে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। তবে কীভাবে এমন ভুল হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রকাশ্য আদালতের নথিতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময় শিশুটির শরীরে গুরুতর পোড়ার চিহ্ন ছিল। তদন্তকারীদের নথিতে তার পোশাক ও ডায়াপার শরীরের সঙ্গে লেগে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর এক স্বজনকে দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসতে বলা হয়েছিল, কারণ শিশুটির সঙ্গে কিছু একটা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছিল। বাড়িতে পৌঁছে তিনি ধোঁয়ার গন্ধ পান এবং শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ঘটনার পর থমাসের বিরুদ্ধে প্রথমে শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করে মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়। পরে মামলায় আরও গুরুতর অভিযোগ যুক্ত হয়। ২০২৪ সালের শেষ দিকে তার বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছিল এবং বিচার শুরুর প্রস্তুতি চলছিল। তবে মঙ্গলবার আদালতে করা সমঝোতার মাধ্যমে মামলার মোড় ঘুরে যায়। থমাস প্রথম-ডিগ্রির শিশু কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এর বিনিময়ে প্রথম-ডিগ্রির হত্যা অভিযোগ বাদ দেওয়া হয়। আদালত তাকে মিসৌরি সংশোধনাগার বিভাগে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন এবং প্রবেশন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কানসাস সিটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএসএইচবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থমাস ইতোমধ্যে যে সময় কারাগারে কাটিয়েছেন, তা তার সাজা থেকে সমন্বয় করা হবে। এ কারণে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কার্যত প্রায় ১১ বছর কারাভোগের কথা বলা হয়েছে। ঘটনার পর জ্যাকসন কাউন্টির প্রসিকিউটর জ্যঁ পিটার্স বেকার শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই ঘটনায় একটি মূল্যবান প্রাণ হারানোর বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বিচারব্যবস্থা যথাযথভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। ২০২৪ সালে মামলাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে এখন দোষ স্বীকারের মাধ্যমে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। হত্যা মামলার পরিবর্তে শিশু কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন থমাস এবং তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সূত্র: কেএসএইচবি, জ্যাকসন কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস
সন্তান দেখাশোনায় বছরে ৯ হাজার ডলার সহায়তা, ট্রাম্পের পরিকল্পনায় লাভবান হবেন যারা
যুক্তরাষ্ট্রে ৭ লাখ ৬০ হাজার ওবামাকেয়ার গ্রাহকের সুবিধা বাতিল করছে ট্রাম্প প্রশাসন
কম খরচে নিউইয়র্কে বাড়ি কেনার সুযোগ, মিলতে পারে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় গৃহহীনদের আবাসনের জন্য নেওয়া একটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প বছরের পর বছর ধরে শেষ না হওয়ায় তা এক বিশাল অর্থের গর্তে পরিণত হয়েছে। গভর্নর গ্যাভিন নিওসমের ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের 'হোমকি' (Homekey) কর্মসূচির আওতায় ২০২০ সালে এল মন্টে শহরের অপরাধপ্রবণ এলাকা 'এম মোটেল'-এর সম্পত্তিটি অধিগ্রহণ করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল এটিকে গৃহহীনদের জন্য আবাসনে রূপান্তর করা। এই ৯৩-কক্ষের মোটেল অধিগ্রহণ ও সংস্কারের জন্য শুরুতে ১০.৩৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরও কয়েক মিলিয়ন ডলারের রাজ্য ও ফেডারেল তহবিল যুক্ত হয়েও প্রায় ৬ বছর পর প্রকল্পটির কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির প্রভাবশালী সুপারভাইজার হিলডা সোলিসের নামে প্রকল্পটির নতুন নাম দেওয়া হয় ‘হিলডা সোলিস রোজ কোর্ট’। তবে নামের চমকের চেয়ে এই দীর্ঘস্থায়ী নির্মাণকাজ প্রতিবেশীদের জন্য এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিবেশী বাল্ডউইন ভ্যালি অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর ধরে প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ধুলাবালির কারণে তাদের সবসময় জানালা বন্ধ রাখতে হয়। এর চেয়েও বড় শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বারবার হওয়া গ্যাস লিকেজ। চলতি বছরে অন্তত দুবার গ্যাস লাইনে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়, যার কারণে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। এক গর্ভবতী নারী জানান, গ্যাস লিকেজের কারণে তিনি ও তার অনাগত সন্তানের স্বাস্থ্য নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সিটি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, মোটেলটি কেনার পর এর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সংস্কারকাজে প্রাথমিক অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন হয়েছে, যা বাজেটের সীমা ছাড়িয়ে যায়। প্যাসিফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ওয়েন ওয়াইনগার্টেন এই প্রকল্পটিকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অর্থের অপচয়ের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ বলে সমালোচনা করেছেন। এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার হাউজিং অ্যান্ড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (HCD) বিভাগ জানিয়েছে, পরিবেশগত অনুমোদন ও অ্যাসবেস্টস অপসারণে জটিলতার কারণে এই বিলম্ব ঘটেছে এবং রোজ কোর্টের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এল মন্টে শহরকে আর কোনো তহবিল দেওয়া হবে না। কবে নাগাদ এই অন্তহীন ভোগান্তির অবসান হবে, তা নিয়ে এখনো অন্ধকারে স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ল্যাম্বরগিনির ধাক্কায় ৬৮ বছরের বৃদ্ধ নি হত, পলাতক চালক
ট্রাম্পের কাছে পরাজয়ের পর নির্বাচনী প্রচারণায় কমলা হ্যারিসকে চান না একাধিক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী