এইচএসসিতে ৩.৪১ জিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও চাকরিতে সাফল্য! পেলে গ্রীন কার্ড
বাংলাদেশে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ছিল মাত্র ৩.৪১। এসএসসিতেও পাননি জিপিএ ৫। কিন্তু সেই ফলাফল তাঁর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থামাতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সুযোগ পেয়ে পরবর্তী সময়ে ব্যাচেলর ডিগ্রিতে ৪-এর মধ্যে ৩.৯১ জিপিএ অর্জন করেন বাংলাদেশি তরুণ সৈয়দ তালিমুল হায়াত জয়। উচ্চশিক্ষা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের হেনেপিন কাউন্টিতে চাকরির সুযোগও পেয়েছেন তিনি। তাঁর এই সাফল্যের গল্প নতুন করে আলোচনায় এসেছে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আন্ডারগ্র্যাড স্টোরিজের একটি প্রকাশনার মাধ্যমে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জয়ের এসএসসি পরীক্ষার জিপিএ ছিল ৪.৪১ এবং এইচএসসিতে ৩.৪১। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতিতেও তাঁকে বাধার মুখে পড়তে হয়। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা যাচাইয়ের আইইএলটিএস পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত স্কোর পেতে দুইবার অংশ নিতে হয়েছিল তাঁকে। তবে এসব প্রতিবন্ধকতা তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার পরিকল্পনা থামাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটি, সেন্ট পলে ক্রিমিনাল জাস্টিস বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ পান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর পড়াশোনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেন জয়। আন্ডারগ্র্যাড স্টোরিজের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, ক্রিমিনাল জাস্টিসে ব্যাচেলর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন ৪-এর মধ্যে ৩.৯১ জিপিএ নিয়ে। বাংলাদেশের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তাঁর এই অর্জন ছিল বড় ধরনের অগ্রগতি। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, নির্ধারিত একাডেমিক শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভর্তি নীতিমালাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটি, সেন্ট পলের তথ্য অনুযায়ী, ক্রিমিনাল জাস্টিস বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অপরাধ বিচারব্যবস্থা, আইন প্রয়োগ, পুলিশিং, আদালত, অপরাধবিজ্ঞান এবং জননিরাপত্তার বিভিন্ন বিষয়ে পড়ানো হয়। এই ডিগ্রি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নিরাপত্তা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার প্রস্তুতিতে সহায়তা করে। জয়ের পেশাগত লক্ষ্যও ছিল এই ক্ষেত্রকে ঘিরে। পড়াশোনা শেষে তিনি হেনেপিন কাউন্টিতে সিকিউরিটি অফিসার হিসেবে চাকরির অফার পান। তাঁর প্রকাশিত পেশাগত তথ্যেও হেনেপিন কাউন্টিতে সিকিউরিটি অফিসার হিসেবে কাজ করার উল্লেখ পাওয়া যায়।
কর্মক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য একটি অর্জনের কথা জানিয়েছেন জয়। নিজের লিংকডইন পোস্টে তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১ জুলাই দায়িত্ব পালনকালে একজনের জীবন বাঁচাতে ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে হেনেপিন কাউন্টির সিকিউরিটি ডিভিশন থেকে লাইফ সেভিং অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তিনি। এই স্বীকৃতি তাঁর পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্জন বলে উল্লেখ করেন জয়। ভবিষ্যতে হেনেপিন কাউন্টি শেরিফস অফিসে কাজ করার ইচ্ছার কথাও প্রকাশিত হয়েছে তাঁর সাফল্যের গল্পে।
আন্ডারগ্র্যাড স্টোরিজের প্রকাশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জয় যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। তবে তাঁর গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া বা কোন ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে তিনি স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা অর্জন করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ বা ডিগ্রি অর্জন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। এ জন্য নির্ধারিত ইমিগ্রেশন যোগ্যতা ও পৃথক আবেদনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
জয়ের গল্প বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেই শিক্ষার্থীদের জন্য, যাঁরা এসএসসি বা এইচএসসিতে প্রত্যাশিত ফলাফল না পেয়ে উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা দেখায়, একটি পরীক্ষার ফলাফল পরবর্তী শিক্ষাজীবনের সব সম্ভাবনা নির্ধারণ করে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ভর্তির সুযোগ নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্যতার শর্ত, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, একাডেমিক প্রস্তুতি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ের ওপর।
দেশে এইচএসসিতে ৩.৪১ জিপিএ পাওয়া জয় পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩.৯১ জিপিএ অর্জন এবং কর্মজীবনে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে নিজের শিক্ষাজীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছেন। তাঁর এই পথচলা মনে করিয়ে দেয়, প্রত্যাশিত ফলাফল না পেলেও পরবর্তী পর্যায়ে ভালো করার সুযোগ থাকে। প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিক চেষ্টা এবং নিজের যোগ্যতা উন্নয়নে মনোযোগ।
সংবাদসূত্র: আন্ডারগ্র্যাড স্টোরিজ, কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটি সেন্ট পল, লিংকডইন, সিগন্যালহায়ার।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreবাংলাদেশে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ছিল মাত্র ৩.৪১। এসএসসিতেও পাননি জিপিএ ৫। কিন্তু সেই ফলাফল তাঁর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থামাতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সুযোগ পেয়ে পরবর্তী সময়ে ব্যাচেলর ডিগ্রিতে ৪-এর মধ্যে ৩.৯১ জিপিএ অর্জন করেন বাংলাদেশি তরুণ সৈয়দ তালিমুল হায়াত জয়। উচ্চশিক্ষা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের হেনেপিন কাউন্টিতে চাকরির সুযোগও পেয়েছেন তিনি। তাঁর এই সাফল্যের গল্প নতুন করে আলোচনায় এসেছে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আন্ডারগ্র্যাড স্টোরিজের একটি প্রকাশনার মাধ্যমে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জয়ের এসএসসি পরীক্ষার জিপিএ ছিল ৪.৪১ এবং এইচএসসিতে ৩.৪১। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতিতেও তাঁকে বাধার মুখে পড়তে হয়। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা যাচাইয়ের আইইএলটিএস পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত স্কোর পেতে দুইবার অংশ নিতে হয়েছিল তাঁকে। তবে এসব প্রতিবন্ধকতা তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার পরিকল্পনা থামাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটি, সেন্ট পলে ক্রিমিনাল জাস্টিস বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ পান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর পড়াশোনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেন জয়। আন্ডারগ্র্যাড স্টোরিজের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, ক্রিমিনাল জাস্টিসে ব্যাচেলর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন ৪-এর মধ্যে ৩.৯১ জিপিএ নিয়ে। বাংলাদেশের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তাঁর এই অর্জন ছিল বড় ধরনের অগ্রগতি। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, নির্ধারিত একাডেমিক শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভর্তি নীতিমালাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটি, সেন্ট পলের তথ্য অনুযায়ী, ক্রিমিনাল জাস্টিস বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অপরাধ বিচারব্যবস্থা, আইন প্রয়োগ, পুলিশিং, আদালত, অপরাধবিজ্ঞান এবং জননিরাপত্তার বিভিন্ন বিষয়ে পড়ানো হয়। এই ডিগ্রি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নিরাপত্তা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার প্রস্তুতিতে সহায়তা করে। জয়ের পেশাগত লক্ষ্যও ছিল এই ক্ষেত্রকে ঘিরে। পড়াশোনা শেষে তিনি হেনেপিন কাউন্টিতে সিকিউরিটি অফিসার হিসেবে চাকরির অফার পান। তাঁর প্রকাশিত পেশাগত তথ্যেও হেনেপিন কাউন্টিতে সিকিউরিটি অফিসার হিসেবে কাজ করার উল্লেখ পাওয়া যায়। কর্মক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য একটি অর্জনের কথা জানিয়েছেন জয়। নিজের লিংকডইন পোস্টে তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১ জুলাই দায়িত্ব পালনকালে একজনের জীবন বাঁচাতে ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে হেনেপিন কাউন্টির সিকিউরিটি ডিভিশন থেকে লাইফ সেভিং অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তিনি। এই স্বীকৃতি তাঁর পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্জন বলে উল্লেখ করেন জয়। ভবিষ্যতে হেনেপিন কাউন্টি শেরিফস অফিসে কাজ করার ইচ্ছার কথাও প্রকাশিত হয়েছে তাঁর সাফল্যের গল্পে। আন্ডারগ্র্যাড স্টোরিজের প্রকাশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জয় যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। তবে তাঁর গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া বা কোন ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে তিনি স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা অর্জন করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ বা ডিগ্রি অর্জন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। এ জন্য নির্ধারিত ইমিগ্রেশন যোগ্যতা ও পৃথক আবেদনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। জয়ের গল্প বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেই শিক্ষার্থীদের জন্য, যাঁরা এসএসসি বা এইচএসসিতে প্রত্যাশিত ফলাফল না পেয়ে উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা দেখায়, একটি পরীক্ষার ফলাফল পরবর্তী শিক্ষাজীবনের সব সম্ভাবনা নির্ধারণ করে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ভর্তির সুযোগ নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্যতার শর্ত, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, একাডেমিক প্রস্তুতি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ের ওপর। দেশে এইচএসসিতে ৩.৪১ জিপিএ পাওয়া জয় পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩.৯১ জিপিএ অর্জন এবং কর্মজীবনে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে নিজের শিক্ষাজীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছেন। তাঁর এই পথচলা মনে করিয়ে দেয়, প্রত্যাশিত ফলাফল না পেলেও পরবর্তী পর্যায়ে ভালো করার সুযোগ থাকে। প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিক চেষ্টা এবং নিজের যোগ্যতা উন্নয়নে মনোযোগ। সংবাদসূত্র: আন্ডারগ্র্যাড স্টোরিজ, কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটি সেন্ট পল, লিংকডইন, সিগন্যালহায়ার।
আগুনে দগ্ধ ৩ ইরাকি শিশুকে চিকিৎসা দিতে রাজি না হওয়ায়, কান্নায় ভেঙে পরেন মার্কিন সেনা
আমেরিকায় নতুন! জেনে নিন ক্রেডিট স্কোর গড়ার সাতটি কার্যকর উপায়
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে নিউইয়র্কে, গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত বাংলাদেশি মেহেদী শামীম
স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের আলোচনা থেকে স্বামীকে বিষ প্রয়োগের পরিকল্পনা তৈরিতে চ্যাটজিপিটি সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার বাসিন্দা জেমস গেটস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই চ্যাটবটের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রী শেরিল গেটস প্রথমে সংসারের সমস্যা ও ব্যক্তিগত হতাশা নিয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলতেন। একপর্যায়ে সেই কথোপকথন স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা পর্যন্ত গড়ায়। ২০২৫ সালে কথিত বিষ প্রয়োগের ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ হলেও প্রাণে বেঁচে যান জেমস। সম্প্রতি স্ত্রীর সঙ্গে চ্যাটবটের কথোপকথনের তথ্য সামনে আসার পর তিনি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেন। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেমস গেটসের আইনজীবীরা গত ৫ নভেম্বর সান ফ্রান্সিসকো কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে ওপেনএআই ও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শুরুতে জেমসের পরামর্শেই তাঁর স্ত্রী শেরিল কাজের সুবিধার জন্য চ্যাটজিপিটি ব্যবহার শুরু করেন। পেশাগত কাজে প্রতিবেদন তৈরি, ওষুধসংক্রান্ত প্রশ্ন এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নেওয়ার জন্য তিনি নিয়মিত চ্যাটবটটি ব্যবহার করতেন। পরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আর্থিক বিষয় নিয়ে বিরোধ ও বিচ্ছেদের আলোচনা শুরু হলে শেরিল দাম্পত্য সমস্যা নিয়েও চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ধীরে ধীরে শেরিলের কথোপকথনের ধরন বদলে যায়। তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে নজরদারি করা, তাঁকে ছেড়ে চলে যাওয়া এবং সন্তানদের নিয়ে আর্থিকভাবে অসহায় অবস্থায় ফেলে দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করতেন। জেমসের আইনজীবীদের দাবি, চ্যাটজিপিটি এসব সন্দেহ যাচাই না করে সেগুলোকে আরও জোরালো করেছে। তাঁদের অভিযোগ, চ্যাটবটটি শেরিলের অবিশ্বাস ও ভয়কে প্রশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি স্বামীকে বিষ প্রয়োগের পরিকল্পনা এবং তা গোপন রাখার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। জেমসের দাবি, ২০২৫ সালের গ্রীষ্মের শুরুতে বাড়িতে রাখা কোমল পানীয় ও এনার্জি ড্রিংকের স্বাদ অস্বাভাবিক তেতো মনে হতে শুরু করে তাঁর। একই বছরের ১০ জুলাই তিনি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। মামলার নথি অনুযায়ী, প্রায় ৭২ ঘণ্টা ধরে তাঁর হৃদ্যন্ত্রসংক্রান্ত সমস্যা, পেটব্যথা, প্রচণ্ড দুর্বলতা, অস্থিরতা ও বিভ্রান্তির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এরপরও দীর্ঘদিন তিনি বুঝতে পারেননি তাঁর অসুস্থতার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে। প্রায় দুই মাস পর স্ত্রীর হাতে লেখা একটি নোট পাওয়ার পর তাঁর সন্দেহ আরও বাড়ে। ওই নোটে ওলিয়েন্ডার নামের বিষাক্ত উদ্ভিদ এবং কয়েকটি প্রেসক্রিপশন ওষুধের উল্লেখ ছিল বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। একই নোটে চ্যাটজিপিটির কথোপকথন মুছে ফেলা এবং অ্যাকাউন্ট থেকে লগআউট করার নির্দেশনাও লেখা ছিল। জেমসের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, শেরিল চ্যাটজিপিটির কাছে ওলিয়েন্ডারের বিষাক্ততা, খাবার বা পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা এবং ময়নাতদন্তে তা শনাক্ত করা যাবে কি না, এমন প্রশ্ন করেছিলেন। মামলায় সংযুক্ত কথোপকথনের কিছু স্ক্রিনশটকে নিজেদের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন তাঁরা। এই ঘটনার পর জেমস পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২০২৫ সালে শেরিলকে স্বামীকে হত্যাচেষ্টা এবং খাবার বা পানীয় দূষিত করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। তবে ২০২৬ সালের এপ্রিলে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে প্রসিকিউটররা তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাটি প্রত্যাহার করেন। ফলে শেরিলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। এখন জেমসের নতুন দেওয়ানি মামলার মূল বিষয় হলো, চ্যাটজিপিটির নকশা ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল কি না এবং কথোপকথনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি শনাক্ত করে তা বন্ধ করার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না। মামলায় ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মোট নয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পণ্য নকশায় অবহেলা, প্রয়োজনীয় সতর্কতা দিতে ব্যর্থতা এবং মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ। জেমসের দাবি, চ্যাটবটটি তাঁর স্ত্রীর সন্দেহ ও ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং কথিত হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেছিল। তিনি আদালতের কাছে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন। একই সঙ্গে চ্যাটবটের নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করার বিষয়টিও মামলায় গুরুত্ব পেয়েছে। অন্যদিকে ওপেনএআই তাদের বক্তব্যে জানিয়েছে, ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে জেমসের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। এ মামলার মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটের নিরাপত্তা, ব্যবহারকারীর আচরণ পর্যবেক্ষণ এবং অন্য ব্যক্তির ক্ষতির ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের দায় কতটা, তা নিয়ে নতুন আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংবাদসূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, সিবিএস নিউজ।
বিশ্বকে বোকা বানানো সেই জলপরীর আসল পরিচয় উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা
দাম আরও বাড়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের যে ৯ শহরে বাড়ি কেনার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ি কিনতে নগদ অর্থের ব্যবহার বাড়ছে, বড় ভরসা পারিবারিক সম্পদ
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যের ফার্গো শহরে প্রায় দুই বছর ধরে একটি অ্যাপার্টমেন্টে বিছানার সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা এক নারীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভবনের এক মেরামতকর্মী ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চাপা কান্না ও সাহায্যের আবেদন শুনে কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে পুলিশ গিয়ে ওই নারীকে বিছানার সঙ্গে শিকল ও তালা দিয়ে আটকে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করে। তাঁর সাবেক স্বামী ও আরেক নারীর বিরুদ্ধে অপহরণ, শারীরিক নির্যাতনসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই নারীকে আটকে রাখার পেছনে অভিবাসনসংক্রান্ত সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ভ্যালি নিউজ লাইভের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩ নভেম্বর ফার্গোর দক্ষিণাঞ্চলের ৪৯১১, ৪৪তম অ্যাভিনিউ সাউথের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে এ ঘটনা সামনে আসে। ভবনের নিয়মিত মেরামতের কাজে যাওয়া এক কর্মী একটি ইউনিট থেকে অস্পষ্ট কান্নার শব্দ শুনতে পান। পরে তিনি বিষয়টি ভবন কর্তৃপক্ষকে জানান এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ একটি শোবার ঘরে ওই নারীকে দেখতে পায়। তাঁর ডান পায়ের গোড়ালিতে ভারী শিকল ও তালা লাগানো ছিল, যার অন্য প্রান্ত বিছানার কাঠামোর সঙ্গে আটকানো ছিল। ঘরে একটি নিরাপত্তা ক্যামেরাও পাওয়া যায় এবং জানালাগুলো অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নারী ইংরেজিতে কথা বলতে পারতেন না। তাই ভাষান্তর সহায়তা নিয়ে পুলিশ তাঁর বক্তব্য গ্রহণ করে। তিনি জানান, ২০২৪ সালে তাঁর সাবেক স্বামী ৪০ বছর বয়সী আর্তুরো কালসাদা বেসেরিল তাঁকে মেক্সিকো থেকে ফার্গোতে নিয়ে আসেন। এরপর প্রায় দুই বছর ধরে তাঁকে ওই অ্যাপার্টমেন্টে আটকে রাখা হয় এবং বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দিনে মাত্র দুবার খাবার দেওয়া হতো। শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় বিছানার পাশের একটি বালতিতে তাঁকে প্রয়োজন সারতে হতো। পুলিশ শিকল খুলে তাঁকে উদ্ধার করার পর হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসার সময় তাঁর মুখ, হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান তদন্তকারীরা। আদালতের নথিতে ওই নারীর অভিযোগ, সাবেক স্বামী আর্তুরো এবং তাঁর বর্তমান সঙ্গী ৪১ বছর বয়সী এরেন্দিরা আমোলেস তাঁকে মারধর ও যৌন নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে তাঁকে বিছানায় চেপে ধরে নির্যাতন করার অভিযোগও করেছেন তিনি। কপালে থাকা একটি দাগের কারণ হিসেবে মারধরের কথা জানিয়েছেন ওই নারী। তদন্তকারীদের কাছে আর্তুরো দাবি করেন, ওই নারী যাতে পালিয়ে যেতে না পারেন এবং আবার মাদক গ্রহণ শুরু না করেন, সে কারণে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে আমোলেস পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি প্রায়ই ওই নারীকে বিছানার সঙ্গে আটকে রাখতেন। ঘটনার দিন নিজের আট বছর বয়সী মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে যাওয়ার কারণেও তাঁকে শিকলবন্দি করেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। মামলার শুনানিতে প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ভুক্তভোগী নারী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে আটকে রেখে অভিবাসনসংক্রান্ত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন অভিযুক্তরা। অর্থাৎ ওই নারীর নাগরিকত্বকে ব্যবহার করে নিজেদের অভিবাসন অবস্থান সংক্রান্ত সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল বলে অভিযোগপক্ষ দাবি করেছে। তবে এই অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ঘটনার পরপরই আমোলেস তাঁর আট বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে আসেন। পুলিশ জানায়, আর্তুরো, আমোলেস ও ভুক্তভোগী নারী একই মেক্সিকান শহরের বাসিন্দা ছিলেন বলে আর্তুরো তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। এ ঘটনায় আর্তুরো কালসাদা বেসেরিল ও এরেন্দিরা আমোলেসকে গ্রেপ্তার করে ক্যাস কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ৬ নভেম্বর শুক্রবার তাঁদের আদালতে প্রথম হাজির করা হয়। ভ্যালি নিউজ লাইভের তথ্য অনুযায়ী, বিচারক দুজনের প্রত্যেকের জামিনের অর্থ ৫ লাখ ডলার নির্ধারণ করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অপহরণ ছাড়াও পারিবারিক সহিংসতা ও শারীরিক আঘাতসংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মামলায় আরও অভিযোগ যুক্ত হতে পারে। ফার্গো পুলিশ ক্যাস কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত চালাচ্ছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রতিবেশী এরিন শাওয়ার জানান, ভবনে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত নিরাপত্তাকর্মীরা টহল দেন। তাঁরা ভবনের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং আশপাশেও নজরদারি করেন। এমন পরিস্থিতিতে একই ভবনের একটি কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে একজন নারীকে আটকে রাখা হয়েছিল, তা জানতে না পারায় তিনি বিস্মিত। আরেক বাসিন্দা রিড বার্টশও বলেন, এত দিন ধরে এমন ঘটনা চললেও কেউ বিষয়টি বুঝতে পারেননি, যা তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। সংবাদসূত্র: ভ্যালি নিউজ লাইভ, কেএফওয়াইআর টিভি।
ভেটেরানস ডে উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির ২৬ স্থানে বিনামূল্যে কার ওয়াশ
টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর অভিবাসন নিয়ে নতুন পদক্ষেপ নিলেন হিউস্টনের মেয়র