উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে নিউইয়র্কে, গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত বাংলাদেশি মেহেদী শামীম
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান শামীম নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছেন। সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দেয় বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর চালক ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় শামীমকে উদ্ধার করে ব্রুকলিনের কিংস কাউন্টি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মাথায় গুরুতর আঘাত ও শরীরের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণের কারণে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে শনিবার, ৭ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বাংলা আওয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেহেদী হাসান শামীম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাবেক শিক্ষার্থী। উচ্চশিক্ষার জন্য পূর্ণ স্কলারশিপ পেয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পড়াশোনা শেষ করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু নিউইয়র্কে আকস্মিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ায় তাঁর চিকিৎসা ও সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় শামীম সাইকেল চালিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর গাড়ির চালক আহত শিক্ষার্থীকে সহায়তা না করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় শামীমের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। শরীরের অভ্যন্তরেও রক্তক্ষরণ হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাঁর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার পর শামীমের পরিবারের সদস্যরাও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তাঁর পরিবার বাংলাদেশে থাকায় এই সংকটময় সময়ে স্বজনেরা সরাসরি পাশে থাকতে পারছেন না। দূর থেকে তাঁরা চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা একজন শিক্ষার্থীর এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ব্যক্তিগত সহায়তা এবং আইনি সহযোগিতার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে, ঘটনার পর শামীম তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাটর্নি ফারহান আরিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জানিয়েছে বাংলা আওয়ার। খবর পেয়ে ফারহান আরিয়ান হাসপাতালে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এটি সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে বর্ণবিদ্বেষমূলক কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তবে এ ধরনের উদ্দেশ্যের পক্ষে পুলিশের কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
দুর্ঘটনাটি ব্রুকলিনের ঠিক কোন এলাকায় এবং কখন ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। গাড়ির চালককে শনাক্ত করা হয়েছে কি না কিংবা পুলিশ কোনো আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত নয়। শামীমের চিকিৎসার অগ্রগতি এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁর পরিবার ও স্বজনেরা। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা এই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসাই এখন তাঁদের প্রধান প্রত্যাশা।
সূত্র: সিএসবি নিউজ
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা অনেক বাংলাদেশির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরি করা। নিয়মিত আয় ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকলেও ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকায় বাসা ভাড়া, গাড়ির লোন কিংবা ক্রেডিট কার্ড পেতে সমস্যায় পড়তে পারেন অনেকে। এমনকি কিছু মোবাইল ফোন প্ল্যানের ক্ষেত্রেও ক্রেডিট যাচাই করা হয়। তবে ভালো ক্রেডিট স্কোর গড়তে বড় অঙ্কের আয় বা ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সঠিক আর্থিক অভ্যাস এবং সময়মতো বিল পরিশোধের মাধ্যমে নতুনরাও ধীরে ধীরে শক্তিশালী ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরি করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ক্রেডিট স্কোর মূলত একজন ব্যক্তির ঋণ পরিশোধের ইতিহাস ও আর্থিক দায়িত্ব পালনের তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। বহুল ব্যবহৃত ফিকো ক্রেডিট স্কোর সাধারণত ৩০০ থেকে ৮৫০-এর মধ্যে থাকে। এর মধ্যে ৬৭০ থেকে ৭৩৯ ভালো, ৭৪০ থেকে ৭৯৯ খুব ভালো এবং ৮০০ বা তার বেশি স্কোরকে অসাধারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ইকুইফ্যাক্স, এক্সপেরিয়ান এবং ট্রান্সইউনিয়ন নামের তিনটি প্রধান ক্রেডিট ব্যুরো গ্রাহকদের ক্রেডিট রিপোর্ট সংরক্ষণ করে। তবে বিভিন্ন স্কোরিং মডেলের কারণে একই ব্যক্তির একাধিক ক্রেডিট স্কোর থাকতে পারে। myFICO +1 নতুনদের জন্য ক্রেডিট তৈরির অন্যতম কার্যকর উপায় সিকিউর্ড ক্রেডিট কার্ড। সাধারণত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ডিপোজিট রেখে এ ধরনের কার্ড নেওয়া যায়। যেমন, কোনো ব্যাংকে ৩০০ ডলার ডিপোজিট করলে শর্ত অনুযায়ী সমপরিমাণ ক্রেডিট লিমিট পাওয়া যেতে পারে। কার্ড দিয়ে গ্রোসারি, গ্যাস কিংবা দৈনন্দিন ছোটখাটো কেনাকাটা করে প্রতি মাসে পুরো বিল পরিশোধ করলে ইতিবাচক পেমেন্ট হিস্ট্রি তৈরি হয়। তবে আবেদন করার আগে কার্ডের তথ্য তিনটি প্রধান ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট করা হয় কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। নিয়মিত ভালোভাবে ব্যবহারের পর কিছু ব্যাংক সিকিউর্ড কার্ডকে আনসিকিউর্ড কার্ডে রূপান্তরের সুযোগ দেয়। নতুন ক্রেডিট হিস্ট্রি থেকে প্রথম ফিকো স্কোর তৈরি হতে সাধারণত অন্তত ছয় মাসের রিপোর্ট হওয়া অ্যাকাউন্টের ইতিহাস প্রয়োজন। Consumer Financial Protection Bureau +1 ক্রেডিট স্কোর ভালো রাখার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্রেডিট ইউটিলাইজেশন। অর্থাৎ মোট ক্রেডিট লিমিটের কত শতাংশ ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সাধারণত ক্রেডিট লিমিটের ৩০ শতাংশের নিচে ব্যালেন্স রাখার পরামর্শ দেন। কারও ক্রেডিট লিমিট ১ হাজার ডলার হলে রিপোর্ট হওয়া ব্যালেন্স ৩০০ ডলারের কম রাখা ভালো। তবে মাসে মোট কত ডলার খরচ হয়েছে, শুধু সেটি নয়, ব্যাংক ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট করার সময় কত টাকা বকেয়া রয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে ভালো স্কোরের জন্য অনেক ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের নিচে ইউটিলাইজেশন সহায়ক হতে পারে। Consumer Financial Protection Bureau +1 সময়মতো পেমেন্ট করা ক্রেডিট স্কোরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। ফিকোর হিসাবে পেমেন্ট হিস্ট্রি স্কোরের প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং ঋণের পরিমাণসংক্রান্ত তথ্য প্রায় ৩০ শতাংশ প্রভাবিত করে। তাই একটি বিলও নির্ধারিত সময়ের বাইরে চলে না যায়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। ব্যাংকের অটোপে সুবিধা চালু রাখলে পেমেন্ট মিস হওয়ার ঝুঁকি কমে। তবে শুধু মিনিমাম পেমেন্ট করে বাকি টাকা রেখে দিলে সাধারণত সুদ দিতে হয়। কার্ডে গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা থাকলে নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পুরো স্টেটমেন্ট ব্যালেন্স পরিশোধ করে কেনাকাটার সুদ এড়ানো সম্ভব। অনেকেই নতুন ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার পর পুরোনো কার্ড বন্ধ করে দেন। এতে ক্রেডিট স্কোরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ পুরোনো অ্যাকাউন্ট ক্রেডিট হিস্ট্রির দৈর্ঘ্য বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি কার্ড বন্ধ করলে মোট ক্রেডিট লিমিট কমে গিয়ে ইউটিলাইজেশন বেড়ে যেতে পারে। তাই বার্ষিক ফি নেই এমন পুরোনো কার্ড প্রয়োজন অনুযায়ী চালু রাখা উপকারী হতে পারে। তবে কোনো কার্ডে বেশি ফি বা অন্য অসুবিধা থাকলে সেটি চালু রাখার খরচও বিবেচনা করতে হবে। একই সময়ে একাধিক ক্রেডিট কার্ড বা লোনের আবেদন করাও নতুনদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ অধিকাংশ নতুন ক্রেডিট আবেদনের সময় ব্যাংক হার্ড ইনকোয়ারি করে, যা সাময়িকভাবে স্কোর কমাতে পারে। অল্প সময়ে অনেক আবেদন করলে ঋণদাতাদের কাছে আর্থিক চাপের ইঙ্গিত যেতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আবেদন করা এবং আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা যাচাই করা ভালো। শুধু ক্রেডিট কার্ড নয়, বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমেও ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরির সুযোগ রয়েছে। কিছু ব্যাংক ও ক্রেডিট ইউনিয়ন ক্রেডিট বিল্ডার লোন দিয়ে থাকে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট রেন্ট রিপোর্টিং সার্ভিসের মাধ্যমে বাসা ভাড়ার পেমেন্ট হিস্ট্রি ক্রেডিট ব্যুরোতে যুক্ত করা সম্ভব। এক্সপেরিয়ান বুস্ট নামের একটি সুবিধার মাধ্যমে যোগ্য ফোন বিল, ইউটিলিটি বিল, ইন্টারনেট এবং বাসা ভাড়ার নিয়মিত পেমেন্ট কিছু ক্রেডিট স্কোরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব বিল সাধারণত স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনটি প্রধান ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট হয় না। এক্সপেরিয়ান বুস্টের সুবিধাও সব ব্যাংক বা ঋণদাতার ব্যবহৃত স্কোরে প্রতিফলিত হয় না। Experian +2 ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরির আরেকটি উপায় হলো পরিবারের কোনো দায়িত্বশীল সদস্যের ক্রেডিট কার্ডে অথরাইজড ইউজার হওয়া। মূল কার্ডধারীর ভালো পেমেন্ট হিস্ট্রি এবং কম ব্যালেন্স নতুন ব্যবহারকারীর জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে মূল কার্ডে বেশি ঋণ জমলে বা পেমেন্টে সমস্যা হলে উল্টো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শুধু ক্রেডিট স্কোর বাড়ানোর উদ্দেশ্যে অপরিচিত ব্যক্তি বা অনির্ভরযোগ্য কারও অ্যাকাউন্টে যুক্ত হওয়া উচিত নয়। ক্রেডিট রিপোর্ট নিয়মিত পরীক্ষা করাও জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি প্রধান ক্রেডিট ব্যুরোর প্রত্যেকটি থেকে সপ্তাহে একবার বিনামূল্যে ক্রেডিট রিপোর্ট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অ্যানুয়াল ক্রেডিট রিপোর্ট নামের অনুমোদিত সেবার মাধ্যমে এসব রিপোর্ট সংগ্রহ করা যায়। তবে বিনামূল্যের ক্রেডিট রিপোর্টে সব সময় ক্রেডিট স্কোর অন্তর্ভুক্ত থাকে না। রিপোর্টে ভুল ঠিকানা, অপরিচিত ঋণ, ভুল পেমেন্ট তথ্য কিংবা নিজের নামে খোলা অজানা অ্যাকাউন্ট দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট ক্রেডিট ব্যুরো ও তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ডিসপিউট করা যায়। নিজের রিপোর্ট নিজে পরীক্ষা করলে ক্রেডিট স্কোর কমে না। Consumer Advice +1 ক্রেডিট স্কোর দ্রুত বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারেও সতর্ক করেছে ফেডারেল ট্রেড কমিশন। সংস্থাটির মতে, ক্রেডিট রিপোর্টে সঠিক ও হালনাগাদ নেতিবাচক তথ্য কোনো ক্রেডিট রিপেয়ার কোম্পানি আইনসম্মতভাবে মুছে দিতে পারে না। ভুল তথ্য সংশোধনের আবেদন গ্রাহক নিজেই বিনামূল্যে করতে পারেন। ফলে অল্প সময়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক পয়েন্ট বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে অর্থ খরচ না করে নিয়মিত পেমেন্ট ও দায়িত্বশীল ক্রেডিট ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়াই নিরাপদ। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ভালো ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এটি এক বা দুই মাসের মধ্যে বড় অঙ্কের লোন নেওয়ার বিষয় নয়। বরং সামর্থ্যের মধ্যে খরচ, সময়মতো বিল পরিশোধ, কম ক্রেডিট ইউটিলাইজেশন এবং নিয়মিত ক্রেডিট রিপোর্ট পরীক্ষা করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক অবস্থান শক্তিশালী করা সম্ভব। বাসা ভাড়া বা লোনের পাশাপাশি কিছু চাকরির ব্যাকগ্রাউন্ড চেকেও ক্রেডিট রিপোর্টের তথ্য ব্যবহৃত হতে পারে। তবে চাকরিদাতার ক্রেডিট রিপোর্ট যাচাই এবং সরাসরি ক্রেডিট স্কোর দেখা এক বিষয় নয়। এ ধরনের রিপোর্ট সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাধারণত আবেদনকারীর লিখিত অনুমতি প্রয়োজন হয় এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের আইনও প্রযোজ্য হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শুরু থেকেই ভালো আর্থিক অভ্যাস তৈরি করা। কার্ডের অনুমোদন, ক্রেডিট লিমিট এবং অন্যান্য ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়ার শর্ত আবেদনকারীর আয়, পরিচয় যাচাই ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার ওপর নির্ভর করে। তাই যেকোনো আর্থিক সিদ্ধান্তের আগে ব্যাংকের অফিশিয়াল শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। ফেসবুক হুক: আমেরিকায় নতুন বাংলাদেশিদের ক্রেডিট স্কোর গড়ার সাতটি কার্যকর উপায় যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা অনেক বাংলাদেশির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরি করা। নিয়মিত আয় ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকলেও ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকায় বাসা ভাড়া, গাড়ির লোন কিংবা ক্রেডিট কার্ড পেতে সমস্যায় পড়তে পারেন অনেকে। এমনকি কিছু মোবাইল ফোন প্ল্যানের ক্ষেত্রেও ক্রেডিট যাচাই করা হয়। তবে ভালো ক্রেডিট স্কোর গড়তে বড় অঙ্কের আয় বা ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সঠিক আর্থিক অভ্যাস এবং সময়মতো বিল পরিশোধের মাধ্যমে নতুনরাও ধীরে ধীরে শক্তিশালী ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরি করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ক্রেডিট স্কোর মূলত একজন ব্যক্তির ঋণ পরিশোধের ইতিহাস ও আর্থিক দায়িত্ব পালনের তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। বহুল ব্যবহৃত ফিকো ক্রেডিট স্কোর সাধারণত ৩০০ থেকে ৮৫০-এর মধ্যে থাকে। এর মধ্যে ৬৭০ থেকে ৭৩৯ ভালো, ৭৪০ থেকে ৭৯৯ খুব ভালো এবং ৮০০ বা তার বেশি স্কোরকে অসাধারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ইকুইফ্যাক্স, এক্সপেরিয়ান এবং ট্রান্সইউনিয়ন নামের তিনটি প্রধান ক্রেডিট ব্যুরো গ্রাহকদের ক্রেডিট রিপোর্ট সংরক্ষণ করে। তবে বিভিন্ন স্কোরিং মডেলের কারণে একই ব্যক্তির একাধিক ক্রেডিট স্কোর থাকতে পারে। myFICO +1 নতুনদের জন্য ক্রেডিট তৈরির অন্যতম কার্যকর উপায় সিকিউর্ড ক্রেডিট কার্ড। সাধারণত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ডিপোজিট রেখে এ ধরনের কার্ড নেওয়া যায়। যেমন, কোনো ব্যাংকে ৩০০ ডলার ডিপোজিট করলে শর্ত অনুযায়ী সমপরিমাণ ক্রেডিট লিমিট পাওয়া যেতে পারে। কার্ড দিয়ে গ্রোসারি, গ্যাস কিংবা দৈনন্দিন ছোটখাটো কেনাকাটা করে প্রতি মাসে পুরো বিল পরিশোধ করলে ইতিবাচক পেমেন্ট হিস্ট্রি তৈরি হয়। তবে আবেদন করার আগে কার্ডের তথ্য তিনটি প্রধান ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট করা হয় কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। নিয়মিত ভালোভাবে ব্যবহারের পর কিছু ব্যাংক সিকিউর্ড কার্ডকে আনসিকিউর্ড কার্ডে রূপান্তরের সুযোগ দেয়। নতুন ক্রেডিট হিস্ট্রি থেকে প্রথম ফিকো স্কোর তৈরি হতে সাধারণত অন্তত ছয় মাসের রিপোর্ট হওয়া অ্যাকাউন্টের ইতিহাস প্রয়োজন। Consumer Financial Protection Bureau +1 ক্রেডিট স্কোর ভালো রাখার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্রেডিট ইউটিলাইজেশন। অর্থাৎ মোট ক্রেডিট লিমিটের কত শতাংশ ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সাধারণত ক্রেডিট লিমিটের ৩০ শতাংশের নিচে ব্যালেন্স রাখার পরামর্শ দেন। কারও ক্রেডিট লিমিট ১ হাজার ডলার হলে রিপোর্ট হওয়া ব্যালেন্স ৩০০ ডলারের কম রাখা ভালো। তবে মাসে মোট কত ডলার খরচ হয়েছে, শুধু সেটি নয়, ব্যাংক ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট করার সময় কত টাকা বকেয়া রয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে ভালো স্কোরের জন্য অনেক ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের নিচে ইউটিলাইজেশন সহায়ক হতে পারে। Consumer Financial Protection Bureau +1 সময়মতো পেমেন্ট করা ক্রেডিট স্কোরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। ফিকোর হিসাবে পেমেন্ট হিস্ট্রি স্কোরের প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং ঋণের পরিমাণসংক্রান্ত তথ্য প্রায় ৩০ শতাংশ প্রভাবিত করে। তাই একটি বিলও নির্ধারিত সময়ের বাইরে চলে না যায়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। ব্যাংকের অটোপে সুবিধা চালু রাখলে পেমেন্ট মিস হওয়ার ঝুঁকি কমে। তবে শুধু মিনিমাম পেমেন্ট করে বাকি টাকা রেখে দিলে সাধারণত সুদ দিতে হয়। কার্ডে গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা থাকলে নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পুরো স্টেটমেন্ট ব্যালেন্স পরিশোধ করে কেনাকাটার সুদ এড়ানো সম্ভব। অনেকেই নতুন ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার পর পুরোনো কার্ড বন্ধ করে দেন। এতে ক্রেডিট স্কোরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ পুরোনো অ্যাকাউন্ট ক্রেডিট হিস্ট্রির দৈর্ঘ্য বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি কার্ড বন্ধ করলে মোট ক্রেডিট লিমিট কমে গিয়ে ইউটিলাইজেশন বেড়ে যেতে পারে। তাই বার্ষিক ফি নেই এমন পুরোনো কার্ড প্রয়োজন অনুযায়ী চালু রাখা উপকারী হতে পারে। তবে কোনো কার্ডে বেশি ফি বা অন্য অসুবিধা থাকলে সেটি চালু রাখার খরচও বিবেচনা করতে হবে। একই সময়ে একাধিক ক্রেডিট কার্ড বা লোনের আবেদন করাও নতুনদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ অধিকাংশ নতুন ক্রেডিট আবেদনের সময় ব্যাংক হার্ড ইনকোয়ারি করে, যা সাময়িকভাবে স্কোর কমাতে পারে। অল্প সময়ে অনেক আবেদন করলে ঋণদাতাদের কাছে আর্থিক চাপের ইঙ্গিত যেতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আবেদন করা এবং আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা যাচাই করা ভালো। শুধু ক্রেডিট কার্ড নয়, বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমেও ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরির সুযোগ রয়েছে। কিছু ব্যাংক ও ক্রেডিট ইউনিয়ন ক্রেডিট বিল্ডার লোন দিয়ে থাকে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট রেন্ট রিপোর্টিং সার্ভিসের মাধ্যমে বাসা ভাড়ার পেমেন্ট হিস্ট্রি ক্রেডিট ব্যুরোতে যুক্ত করা সম্ভব। এক্সপেরিয়ান বুস্ট নামের একটি সুবিধার মাধ্যমে যোগ্য ফোন বিল, ইউটিলিটি বিল, ইন্টারনেট এবং বাসা ভাড়ার নিয়মিত পেমেন্ট কিছু ক্রেডিট স্কোরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব বিল সাধারণত স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনটি প্রধান ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট হয় না। এক্সপেরিয়ান বুস্টের সুবিধাও সব ব্যাংক বা ঋণদাতার ব্যবহৃত স্কোরে প্রতিফলিত হয় না। Experian +2 ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরির আরেকটি উপায় হলো পরিবারের কোনো দায়িত্বশীল সদস্যের ক্রেডিট কার্ডে অথরাইজড ইউজার হওয়া। মূল কার্ডধারীর ভালো পেমেন্ট হিস্ট্রি এবং কম ব্যালেন্স নতুন ব্যবহারকারীর জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে মূল কার্ডে বেশি ঋণ জমলে বা পেমেন্টে সমস্যা হলে উল্টো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শুধু ক্রেডিট স্কোর বাড়ানোর উদ্দেশ্যে অপরিচিত ব্যক্তি বা অনির্ভরযোগ্য কারও অ্যাকাউন্টে যুক্ত হওয়া উচিত নয়। ক্রেডিট রিপোর্ট নিয়মিত পরীক্ষা করাও জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি প্রধান ক্রেডিট ব্যুরোর প্রত্যেকটি থেকে সপ্তাহে একবার বিনামূল্যে ক্রেডিট রিপোর্ট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অ্যানুয়াল ক্রেডিট রিপোর্ট নামের অনুমোদিত সেবার মাধ্যমে এসব রিপোর্ট সংগ্রহ করা যায়। তবে বিনামূল্যের ক্রেডিট রিপোর্টে সব সময় ক্রেডিট স্কোর অন্তর্ভুক্ত থাকে না। রিপোর্টে ভুল ঠিকানা, অপরিচিত ঋণ, ভুল পেমেন্ট তথ্য কিংবা নিজের নামে খোলা অজানা অ্যাকাউন্ট দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট ক্রেডিট ব্যুরো ও তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ডিসপিউট করা যায়। নিজের রিপোর্ট নিজে পরীক্ষা করলে ক্রেডিট স্কোর কমে না। Consumer Advice +1 ক্রেডিট স্কোর দ্রুত বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারেও সতর্ক করেছে ফেডারেল ট্রেড কমিশন। সংস্থাটির মতে, ক্রেডিট রিপোর্টে সঠিক ও হালনাগাদ নেতিবাচক তথ্য কোনো ক্রেডিট রিপেয়ার কোম্পানি আইনসম্মতভাবে মুছে দিতে পারে না। ভুল তথ্য সংশোধনের আবেদন গ্রাহক নিজেই বিনামূল্যে করতে পারেন। ফলে অল্প সময়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক পয়েন্ট বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে অর্থ খরচ না করে নিয়মিত পেমেন্ট ও দায়িত্বশীল ক্রেডিট ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়াই নিরাপদ। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ভালো ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এটি এক বা দুই মাসের মধ্যে বড় অঙ্কের লোন নেওয়ার বিষয় নয়। বরং সামর্থ্যের মধ্যে খরচ, সময়মতো বিল পরিশোধ, কম ক্রেডিট ইউটিলাইজেশন এবং নিয়মিত ক্রেডিট রিপোর্ট পরীক্ষা করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক অবস্থান শক্তিশালী করা সম্ভব। বাসা ভাড়া বা লোনের পাশাপাশি কিছু চাকরির ব্যাকগ্রাউন্ড চেকেও ক্রেডিট রিপোর্টের তথ্য ব্যবহৃত হতে পারে। তবে চাকরিদাতার ক্রেডিট রিপোর্ট যাচাই এবং সরাসরি ক্রেডিট স্কোর দেখা এক বিষয় নয়। এ ধরনের রিপোর্ট সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাধারণত আবেদনকারীর লিখিত অনুমতি প্রয়োজন হয় এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের আইনও প্রযোজ্য হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শুরু থেকেই ভালো আর্থিক অভ্যাস তৈরি করা। কার্ডের অনুমোদন, ক্রেডিট লিমিট এবং অন্যান্য ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়ার শর্ত আবেদনকারীর আয়, পরিচয় যাচাই ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার ওপর নির্ভর করে। তাই যেকোনো আর্থিক সিদ্ধান্তের আগে ব্যাংকের অফিশিয়াল শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে নিউইয়র্কে, গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত বাংলাদেশি মেহেদী শামীম
স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনায় স্ত্রীকে চ্যাটজিপিটির সহায়তার অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
বিশ্বকে বোকা বানানো সেই জলপরীর আসল পরিচয় উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ও মর্টগেজের সুদের চাপের কারণে অনেকের জন্য বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক, সান ফ্রান্সিসকো ও মিয়ামির মতো বড় শহরে বাড়ির মূল্য অনেক বেশি। তবে দেশটির কিছু শহরে এখনো তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। আবাসন খাতের কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতে, এসব শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে ভবিষ্যতে বাড়ির চাহিদা বাড়তে পারে। এ বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি শহরকে সম্ভাবনাময় আবাসন বাজার হিসেবে চিহ্নিত করেছে ভ্রমণ ও জীবনধারাবিষয়ক সাময়িকী ট্রাভেল অ্যান্ড লেজার। গত ১৩ আগস্ট প্রকাশিত সাময়িকীটির প্রতিবেদনে রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং স্থানীয় আবাসন বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে শহরগুলোর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে নর্থ ক্যারোলাইনার র্যালি, মিশিগানের গ্র্যান্ড র্যাপিডস, সাউথ ক্যারোলাইনার গ্রিনভিল, ওয়াশিংটনের স্পোকেন, টেনেসির চ্যাটানুগা, ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড, জর্জিয়ার এথেন্স, টেক্সাসের হিউস্টন এবং ওহাইওর সিনসিনাটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব শহরে জীবনযাত্রার মান, কর্মসংস্থান এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসনের সমন্বয় নতুন ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। নর্থ ক্যারোলাইনার র্যালির উত্তরাঞ্চল বা নর্থ র্যালিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন সিনচ হোম বায়ার্সের প্রতিষ্ঠাতা রায়ান স্মিথ। তাঁর মতে, প্রযুক্তি খাতের নতুন প্রতিষ্ঠান, বড় আবাসন প্রকল্প এবং উচ্চ আয়ের মানুষের আগমনে সেখানে বাড়ির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। পাশাপাশি নতুন বাড়ির সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম থাকায় ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়তে পারে। জাইলো’র উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, সাময়িকীটির প্রতিবেদনের সময় র্যালিতে একটি বাড়ির গড় মূল্য ছিল প্রায় ৫ লাখ ডলারের কাছাকাছি। মিশিগানের গ্র্যান্ড র্যাপিডসেও বাড়ির বাজারে আগ্রহ বাড়ছে। ২০২০ সালের পর শহরটির বাড়ির মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় এটি এখনো অনেক ক্রেতার নাগালের মধ্যে রয়েছে। সাময়িকীটির হিসাবে, সেখানে বাড়ির গড় মূল্য ৩ লাখ ডলারের কিছু বেশি। রেস্তোরাঁ, সংস্কৃতি, শিল্পচর্চা, উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্র এবং হাঁটার উপযোগী আবাসিক এলাকার কারণে বিশেষ করে তরুণ ক্রেতাদের কাছে শহরটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। সাউথ ক্যারোলাইনার গ্রিনভিলকে সম্ভাবনাময় বলছেন রেড বার্ন হোমবায়ার্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা কেন করসিনি। শহরটির কাছাকাছি পাহাড়ি এলাকা, প্রাণবন্ত ডাউনটাউন এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের সম্প্রসারণ আবাসন বাজারকে শক্তিশালী করছে। মিশেলিন নর্থ আমেরিকার সদর দপ্তরও এই অঞ্চলে অবস্থিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে শহরটির বাড়ির গড় মূল্য ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। তাঁর মতে, মানুষ শুধু কম দামে বাড়ি কেনার জন্য নয়, উন্নত জীবনযাপনের সুযোগের কারণেও গ্রিনভিলে আসছে। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেনও তালিকায় রয়েছে। সিয়াটলের তুলনায় সেখানে বাড়ির দাম অনেক কম। সাময়িকীটির হিসাবে, স্পোকেনে একটি বাড়ির গড় মূল্য প্রায় ৪ লাখ ডলার। প্রকৃতির কাছাকাছি জীবনযাপন, নদী ও পাহাড়ঘেরা পরিবেশ এবং তুলনামূলক কম আবাসন ব্যয়ের কারণে সিয়াটল ও পিউজেট সাউন্ড অঞ্চলে বাড়ি কিনতে না পারা অনেক ক্রেতার কাছে শহরটি বিকল্প হয়ে উঠছে। টেনেসির চ্যাটানুগায় বাড়ির গড় মূল্য প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ডলার। তুলনায় ন্যাশভিলে এই মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। কেন করসিনির মতে, কর্মসংস্থানের সুযোগ, নদী ও পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং উন্নত শহুরে জীবনযাপনের সমন্বয় চ্যাটানুগাকে আকর্ষণীয় করছে। দক্ষিণাঞ্চলের তুলনামূলক ব্যয়বহুল শহরগুলো থেকে কিছু মানুষ এখানে চলে আসছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন। ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে বাড়ি কেনার প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যে বেড়েছে। সাময়িকীটির প্রতিবেদনে জাইলো’র তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সেখানে একটি বাড়ি বিক্রির প্রস্তাব বাজারে আসার পর গড়ে প্রায় ছয় দিনের মধ্যে ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় অর্ধেক বাড়ি তালিকাভুক্ত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। শহরটির গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার। ওয়াশিংটন ডিসি ও নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার তুলনায় কম ব্যয়ে বসবাস, ঐতিহাসিক আবাসিক এলাকা, খাবার ও সংস্কৃতির পরিবেশ এবং বৈচিত্র্যময় কর্মসংস্থানের সুযোগ নতুন বাসিন্দাদের আকৃষ্ট করছে। জর্জিয়ার এথেন্স শহরে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক আবাসনের চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কারণে ভাড়ার বাড়ির বাজারে স্থিতিশীল চাহিদা রয়েছে। শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় নতুন উন্নয়ন হলেও সেখানে বাড়ি তৈরির জন্য জমির পরিমাণ সীমিত। রিয়েলটর ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদনের সময় এথেন্সে বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য ছিল প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কম। ফলে ক্রেতাদের দরদাম করার কিছু সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। টেক্সাসের হিউস্টন তালিকার আরেকটি উল্লেখযোগ্য শহর। সেখানে বাড়ির গড় মূল্য প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মহাকাশ গবেষণা, প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি, জ্বালানি, বাণিজ্য, উৎপাদন ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ শহরটির অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বৈচিত্র্যময় খাবার ও সংস্কৃতির পরিবেশও নতুন বাসিন্দাদের আকৃষ্ট করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হিউস্টনের বাজারে সম্ভাবনা থাকলেও নিকট ভবিষ্যতে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি নিশ্চিত নয়। ওহাইওর সিনসিনাটিও তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসনের জন্য আলোচনায় রয়েছে। শহরটির বাড়ির গড় মূল্য ২ লাখ ডলারের মাঝামাঝি। ঐতিহাসিক আবাসিক এলাকা, পেশাদার ক্রীড়া দল, রেস্তোরাঁ, শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশ এবং নদীতীরবর্তী পরিবেশ নতুন প্রজন্মের বাসিন্দাদের আকৃষ্ট করছে। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ কারেন কোস্তিউর মতে, সিনসিনাটি ও ক্লিভল্যান্ডের মতো শহরে তুলনামূলক কম বাড়ির দাম, আবাসনের বিভিন্ন ধরন এবং পুরোনো এলাকার উন্নয়ন তরুণ বাসিন্দা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আকর্ষণ করছে। বিশেষজ্ঞদের এই তালিকা যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ি কেনার বাজারে সম্ভাব্য সুযোগগুলো তুলে ধরলেও কোনো শহরে বাড়ির দাম নিশ্চিতভাবে বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা দেয় না। বাড়ি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার সম্পত্তির কর, বাড়ির অবস্থা, বীমা, স্থানীয় কর্মসংস্থান, স্কুল, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং মর্টগেজের খরচ বিবেচনা করা জরুরি। বিশেষ করে বিদেশি ক্রেতা বা নতুন অভিবাসীদের জন্য বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা ও অন্যান্য আর্থিক শর্তও গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আশায় নয়, দীর্ঘমেয়াদি বসবাস ও আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করেই বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আবাসন বিশেষজ্ঞরা। সংবাদসূত্র: ট্রাভেল অ্যান্ড লেজার, জাইলো, রিয়েলটর ডটকম।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ি কিনতে নগদ অর্থের ব্যবহার বাড়ছে, বড় ভরসা পারিবারিক সম্পদ
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সুবিধা পেতে সাবেক স্ত্রীকে দুই বছর শেকল দিয়ে বেঁধে রাখলেন স্বামী
ভেটেরানস ডে উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির ২৬ স্থানে বিনামূল্যে কার ওয়াশ
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন ও অস্টিন শহরে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতার নিয়মে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর এই পদক্ষেপ সামনে এসেছে। হিউস্টনের মেয়র জন হুইটমায়ার ইতোমধ্যে পুলিশের জন্য নতুন নির্বাহী নির্দেশনা জারি করেছেন। অন্যদিকে অস্টিনের মেয়র কার্ক ওয়াটসন পুলিশ বিভাগের বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, শুধু অভিবাসনসংক্রান্ত প্রশাসনিক পরোয়ানা পাওয়া গেলেই যেন স্থানীয় পুলিশ অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসের সঙ্গে যোগাযোগ না করে। গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে টেক্সাসের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যব্যাপী নির্বাচনী লড়াইগুলোতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয় পান। ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করে সিনেট সদস্য নির্বাচিত হন। একই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসা রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়ে টেক্সাসের প্রথম লাতিনা গভর্নর নির্বাচিত হন। প্রায় তিন দশক ধরে অঙ্গরাজ্যটির শীর্ষ নির্বাচনী পদগুলোতে রিপাবলিকানদের আধিপত্যের পর এই ফলাফল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেবেন আগামী জানুয়ারিতে। হিউস্টনের মেয়র জন হুইটমায়ার শুক্রবার (৬ নভেম্বর) পুলিশের জন্য নির্বাহী নির্দেশনা জারি করেন। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইসের প্রশাসনিক অভিবাসন পরোয়ানা থাকলেও শুধু সেই কারণে পুলিশ ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে জানাবে না। ওই ব্যক্তিকে কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধে গ্রেপ্তার করা হলে এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পরোয়ানা থাকলে আইসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। অর্থাৎ সাধারণ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মতো ঘটনায় কাউকে শুধু সতর্ক করা বা জরিমানা দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আইসকে খবর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। হিউস্টন পুলিশপ্রধান জে নোয়ে ডিয়াজও নতুন নির্দেশনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় মেয়র হুইটমায়ার বলেন, কমিউনিটির মানুষের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ কমিয়ে আনা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু করতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। নির্বাচনের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়েও তিনি সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন বলে জানান। তাঁর আশা, হিউস্টনের এই নীতি টেক্সাসের অন্য শহরগুলোর জন্যও অনুসরণযোগ্য হতে পারে। শহরটির প্রশাসক ক্রিস হলিনস সিদ্ধান্তটিকে ইতিবাচক প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানালেও তাঁর মতে, আরও আগেই এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে অস্টিনের মেয়র কার্ক ওয়াটসন শুক্রবার পুলিশপ্রধান লিসা ডেভিসকে বিভাগের সাধারণ নির্দেশনা সংশোধনের খসড়া তৈরির দায়িত্ব দিয়েছেন। নতুন গভর্নর জিনা হিনোজোসা আগামী জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর সংশোধিত নীতিমালা কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে। অস্টিনের পুলিশ বিভাগ চলতি বছর এর আগেও আইসের সঙ্গে যোগাযোগের নিয়ম দুইবার পরিবর্তন করেছে। নতুন উদ্যোগের বিষয়ে মেয়র জানিয়েছেন, অঙ্গরাজ্যের নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর স্থানীয় প্রশাসনের নিজস্ব নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে চাপ কমবে বলে তিনি আশা করছেন। শহরের কাউন্সিল সদস্য মাইক সিগেল ও ভ্যানেসা ফুয়েন্তেসও আইসের সঙ্গে স্থানীয় পুলিশের যোগাযোগ আইনসম্মত ন্যূনতম পর্যায়ে সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। টেক্সাসে স্থানীয় পুলিশের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা সীমিত করার ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। ২০১৭ সালে প্রণীত সিনেট বিল ৪ বা এসবি-৪ অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার ও পুলিশ বিভাগ এমন কোনো নীতি গ্রহণ করতে পারে না, যা ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে বাধা দেয় বা পুলিশের সহযোগিতা নিষিদ্ধ করে। এ আইনের আওতায় পুলিশকে আইন অনুযায়ী ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হয়। ফলে হিউস্টন ও অস্টিনের নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যের আইন মেনে চলতে হবে। হিউস্টনের নতুন নির্দেশনাও আইসের স্বাধীন অভিযান বন্ধ করছে না। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে হিউস্টন সিটি কাউন্সিল পুলিশের সঙ্গে আইসের যোগাযোগসংক্রান্ত একটি নিয়ম পরিবর্তন করেছিল। ওই পরিবর্তনের পর গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট শহরটির প্রায় ১১ কোটি ডলারের জননিরাপত্তা অনুদান আটকে দেওয়ার হুমকি দেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতা সীমিত করার উদ্যোগ এসবি-৪ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পরে শহর কর্তৃপক্ষ নীতিতে পরিবর্তন এনে পুলিশকে প্রশাসনিক পরোয়ানা পাওয়া গেলে আইসের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দেয়। নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে মেয়র আবারও সেই অবস্থানে পরিবর্তন আনলেন। এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিসি এই ধরনের উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। নিউজউইককে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এতে টেক্সাসের মানুষের নিরাপত্তা কমতে পারে এবং অপরাধে জড়িত অভিবাসীদের সুরক্ষার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে স্থানীয় নেতারা বলছেন, সাধারণ অভিবাসনসংক্রান্ত প্রশাসনিক পরোয়ানার কারণে স্থানীয় পুলিশ ও জনগণের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ভীতি তৈরি হওয়া উচিত নয়। নির্বাচনের পর টেক্সাসের দুই বড় শহরের এই নীতিগত পরিবর্তন দেশটির অভিবাসন প্রয়োগব্যবস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংবাদসূত্র: দ্য টেক্সাস ট্রিবিউন, কেটিইউটি অস্টিন।
বিদেশে পড়ার সুযোগ পেয়ে উত্তর কোরিয়াকে বেছে নিলেন রুশ তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অসহায়দের বিনামূল্যে নতুন পোশাক দিচ্ছে ‘কমপ্যাশন থ্রেডস’