নিউজার্সিতে স্কুল বাসে ঘুমিয়ে পড়া শিশুকে ফেলে গেল চালক, উদ্ধার বাস ইয়ার্ডে
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে সামার স্কুলে যাওয়ার পথে স্কুল বাসে ঘুমিয়ে পড়া ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে একা ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই শিশুর মা ওয়ান্ডা চ্যান্ডলার এই ঘটনার সুষ্ঠু জবাব দাবি করেছেন।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তার ছেলে সামার স্কুলের শেষ দিনের ক্লাসে যোগ দেওয়ার জন্য যথারীতি বাসে ওঠে।
কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টা পর স্কুল ডিস্ট্রিক্টের পক্ষ থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয় যে, তার ছেলে সেদিন স্কুলে পৌঁছায়নি। পরবর্তীতে ডিস্ট্রিক্টের বাস ইয়ার্ডে শিশুটিকে একা ঘোরাঘুরি করতে দেখে এক কর্মী তাকে উদ্ধার করেন।
ওয়ান্ডা চ্যান্ডলারের ভাষ্যমতে, স্কুলে যাওয়ার পথে তার ছেলে বাসে ঘুমিয়ে পড়েছিল। পরে ঘুম ভাঙলে সে নিজেকে সম্পূর্ণ ফাঁকা একটি বাসের ভেতর আবিষ্কার করে।
এরপর সে বাস থেকে নেমে ইয়ার্ডের ভেতর একা ঘুরতে থাকে। শিশুটি ঠিক কতক্ষণ সেখানে একা ছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে পুরো ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ 'অগ্রহণযোগ্য' ও চরম গাফিলতি আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই মা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের কুইন্সের জ্যাকসন হাইটসে গতকাল রোববার (৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড ২০২৬’। ‘এক অঞ্চল, এক সংস্কৃতি, এক ভবিষ্যৎ’ (One Region, One Culture, One Future) স্লোগানকে সামনে রেখে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের এক মঞ্চে নিয়ে আসার লক্ষ্যেই এই বর্ণাঢ্য প্যারেডের আয়োজন করা হয়। নিউইয়র্ক সিটির অনুমোদিত পারমিট অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জ্যাকসন হাইটসের ৩৭তম অ্যাভিনিউ ধরে ৬৯তম স্ট্রিট থেকে ৮৭তম স্ট্রিট পর্যন্ত মূল প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট রুটটিতে সাধারণ যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। আয়োজক সংগঠন ‘সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড ইনকরপোরেটেড’ জানিয়েছে, নিউইয়র্কে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সংগীত, নৃত্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতির মাধ্যমে মেলবন্ধন তৈরি করাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এবারের প্যারেডে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশি সংস্কৃতি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রস্তুতিপর্বেই বাংলাদেশকে এই আয়োজনের ‘হোস্ট কান্ট্রি’ এবং বাংলাদেশ সোসাইটিকে হোস্ট সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। প্যারেডে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নিজস্ব সংস্কৃতি বিশেষভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তানের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিও সমানভাবে উদযাপিত হয়েছে। আয়োজকদের ‘ফ্ল্যাগস অব ইউনিটি’ বা ঐক্যের পতাকা প্রদর্শনীতে দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের পতাকার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচয় বজায় রেখেই নিউইয়র্কে দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির ঐক্যের বার্তা তুলে ধরাই ছিল এর লক্ষ্য। এই আয়োজনে আয়োজক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শাহ নওয়াজ এবং প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন শাহ শহিদুল হক। এছাড়াও সহসভাপতি হিসেবে রানু আমেনা নেওয়াজ ও ড. আবু জুবায়ের দারা এবং কনভেনার হিসেবে মহিউদ্দিন দেওয়ান যুক্ত ছিলেন। জ্যাকসন হাইটস এলাকাটি নিউইয়র্কের অন্যতম প্রধান দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল হওয়ায়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে প্যারেডের জন্য এই স্থানটিকে বেছে নেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে ঠিক কতজন সাধারণ মানুষ বা দর্শনার্থী এই প্যারেডে অংশ নিয়েছেন এবং কোন কোন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন, সে সম্পর্কে চূড়ান্ত বা নিশ্চিত কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ভাষা, জাতীয়তা ও সাংস্কৃতিক ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ এশীয় প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্য শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই প্যারেড একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
নিউইয়র্কের ডমিনিকান ডে প্যারেডে একে অপরকে এড়িয়ে চললেন মামদানি ও কংগ্রেসম্যান এসপাইলট
নিউজার্সিতে স্কুল বাসে ঘুমিয়ে পড়া শিশুকে ফেলে গেল চালক, উদ্ধার বাস ইয়ার্ডে
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ডাকোটার ৭ হাজার মানুষের শহরে ৫ লাখ বাইকার, তাক লাগানো স্টারজিস র্যালি
বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিতের যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-এ১ অভিবাসন পিটিশন অনুমোদনের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অভিনেতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আদনান ফারুক হিল্লোল তার ফেসবুক পোস্টে কুমার বিশ্বজিতকে অভিনন্দন জানিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেন। পোস্টের সঙ্গে থাকা একটি প্রচারপত্রে কুমার বিশ্বজিতের ছবি ব্যবহার করে ইবি-এ১ অনুমোদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে আরও দাবি করা হয়েছে, পিটিশনটি নয় দিনের মধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। কুমার বিশ্বজিৎ বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের অন্যতম পরিচিত কণ্ঠশিল্পী। দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় গান এবং বিভিন্ন অর্জনের মাধ্যমে তিনি দেশের শ্রোতাদের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন। ফলে তার যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-এ১ পিটিশন অনুমোদনের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি শুধু বিনোদন অঙ্গনেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি করেছে। তবে এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে এটিকে ‘ ইবি-এ১ ভিসা অ্যাপ্রুভড’ হিসেবে তুলে ধরা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় ইবি-এ১ মূলত একটি কর্মভিত্তিক অভিবাসী শ্রেণির পিটিশন। এর মাধ্যমে অসাধারণ সক্ষমতা রয়েছে এমন ব্যক্তিরা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। তাই ইবি-এ১ পিটিশন অনুমোদনকে সরাসরি চূড়ান্ত অভিবাসী ভিসা বা গ্রিন কার্ড পাওয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইবি-এ১ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মভিত্তিক প্রথম অগ্রাধিকার শ্রেণি ইবি-এ১ এর একটি উপশ্রেণি। বিজ্ঞান, শিল্পকলা, শিক্ষা, ব্যবসা কিংবা ক্রীড়াক্ষেত্রে অসাধারণ সক্ষমতা রয়েছে এবং নিজ ক্ষেত্রে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য এই শ্রেণি প্রযোজ্য। আবেদনকারীর যোগ্যতা প্রমাণের জন্য পুরস্কার, প্রকাশিত প্রতিবেদন, পেশাগত অবদান, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, স্বীকৃতি এবং নিজ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অর্জনের মতো বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ বিবেচনা করা হয়। শিল্পী ও সংগীতশিল্পীদের ক্ষেত্রেও ইবি-এ১ প্রযোজ্য হতে পারে। তবে শুধু জনপ্রিয় বা পরিচিত ব্যক্তি হওয়াই এই শ্রেণির অনুমোদনের জন্য যথেষ্ট নয়। ইউএসসিআইএস আবেদনকারীর জমা দেওয়া নথি ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে তিনি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অসাধারণ সক্ষমতার প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করেছেন কি না, তা নির্ধারণ করে। হিল্লোলের প্রকাশিত পোস্টে কুমার বিশ্বজিতের পিটিশন অনুমোদনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। পোস্টে নয় দিনের মধ্যে অনুমোদনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। দ্রুত অনুমোদনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। তবে নয় দিনের এই সময়সীমা সম্পর্কে আলাদা কোনো সরকারি কেস রেকর্ড বা ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত অনুমোদনপত্র প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে এই সময়সীমার দাবিটি বর্তমানে হিল্লোলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে দেওয়া তথ্য হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ইবি-এ১ পিটিশনের ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম প্রসেসিংয়ের সুযোগ রয়েছে। এ সুবিধার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে যোগ্য পিটিশনের দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের অনুরোধ করা যায়। তবে কোনো নির্দিষ্ট আবেদন কত দিনে অনুমোদিত হবে, তা মামলার ধরন, জমা দেওয়া প্রমাণ এবং ইউএসসিআইএসের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে। বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা যাচাই, ব্যাকগ্রাউন্ড স্ক্রিনিং এবং আবেদনকারীর তথ্য যাচাইয়ের ওপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে একজন বাংলাদেশি জনপ্রিয় শিল্পীর ইবি-এ১পিটিশন অনুমোদনের খবর প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিতেও আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি প্রকাশের পর অনেকেই কুমার বিশ্বজিতকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। শিল্পী হিসেবে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনের এই খবরকে ঘিরে বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে।
নিউইয়র্কের কুইন্সে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর, ২৫ আগস্ট বসছে ‘জবস এনওয়াইসি’র বিশাল নিয়োগ মেলা
নর্থ ক্যারোলাইনায় রাস্তায় একা নারী পেলেই করতেন হামলা, অবশেষে ধরা পড়ল অভিযুক্ত
নিউইয়র্ক হারবারে নৌকা ডুবে প্রাণ গেল মা ও ৫ মাসের কন্যাশিশুর; গ্রেপ্তার চালক
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে নিজের বাড়ির পেছনের সুইমিংপুলের পানিতে ডুবে অবসরপ্রাপ্ত এক নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ (এনওয়াইপিডি) চিফের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার স্টোনি ব্রুকের ম্যালভার্ন লেনে অবস্থিত নিজ বাড়িতে ৭৫ বছর বয়সী অ্যান্থনি ইজোকে সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে পরিবারের এক সদস্য জরুরি নম্বর ৯১১-এ কল করে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সাফোক কাউন্টি পুলিশ এবং স্টোনি ব্রুক ফায়ার ডিপার্টমেন্টের উদ্ধারকারী দল। তারা ইজোকে পুল থেকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে সিপিআর (CPR) দেন। পরে তাকে দ্রুত স্টোনি ব্রুক ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাফোক কাউন্টি পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পেছনে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে তারা ধারণা করছেন। অ্যান্থনি ইজোর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এনওয়াইপিডি (NYPD)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তারা জানায়, কর্মজীবনে ইজো অর্গানাইজড ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরোর প্রধান হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, ১৯৯৫ সালে তিনি ১১৫তম প্রিসিঙ্কট-এর কমান্ডিং অফিসার হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। এক্সে দেওয়া শোকবার্তায় এনওয়াইপিডি উল্লেখ করে, নিউইয়র্ক সিটির মানুষের প্রতি তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও উৎসর্গ এক চিরস্থায়ী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই শোকের মুহূর্তে তার পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তার আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক সাবওয়েতে দীর্ঘদিনের বিলম্ব নিরসনে এমটিএর উদ্যোগ, সংস্কারের তালিকায় ২৫ স্পট
আইস হেফাজতে জরুরি চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ ভেনেজুয়েলার তরুণীর