যুক্তরাষ্ট্রে স্কলারশিপ খোঁজার আগে যে ৫টি বিষয় যাচাই করবেন, জেনে নিন
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ খোঁজার সময় শুধু বড় অঙ্কের অর্থ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেখে আবেদন শুরু করলে পরে আর্থিক ও একাডেমিক জটিলতায় পড়তে পারেন শিক্ষার্থীরা। কারণ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ থাকলেই সেটি সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, সব ডিগ্রি বা সব বিভাগের জন্য প্রযোজ্য হয় না। তাই আবেদন করার আগে স্কলারশিপের যোগ্যতা, মোট খরচ, ফান্ডিংয়ের ধরন এবং নিজের প্রোফাইলের সঙ্গে এর মিল যাচাই করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ-সমর্থিত এডুকেশনইউএসএও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার খরচ ও ফান্ডিংয়ের সুযোগ আগে থেকেই গবেষণা করার পরামর্শ দেয়।
প্রথমেই দেখতে হবে, স্কলারশিপটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ‘স্কলারশিপ’ বা ‘ফিন্যান্সিয়াল এইড’ লেখা থাকলেই ধরে নেওয়া যাবে না যে বিদেশি শিক্ষার্থীরা সেটির জন্য আবেদন করতে পারবেন। অনেক সহায়তা নির্দিষ্ট নাগরিকত্ব, ডিগ্রি, বিভাগ, মেজর বা শিক্ষার্থীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে। আবার কিছু স্কলারশিপ নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য, কিছু বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য। এডুকেশনইউএসএর ফিন্যান্সিয়াল এইড তালিকাতেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা আলাদা সুযোগ, যোগ্যতা ও সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।
ফেডারেল শিক্ষাসহায়তার ক্ষেত্রেও যোগ্যতা আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড সাধারণত মার্কিন নাগরিক বা নির্দিষ্ট শ্রেণির যোগ্য ননসিটিজেনদের জন্য উন্মুক্ত। তাই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্কলারশিপ, ফেলোশিপ বা অন্যান্য ফান্ডিংয়ের সুযোগ আলাদাভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্কলারশিপের অঙ্ক নয়, পুরো পড়াশোনার খরচ। ধরুন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বছরে ২০ হাজার ডলারের স্কলারশিপ দিচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে টিউশন, বাধ্যতামূলক ফি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, বাসস্থান ও খাবারসহ মোট খরচ যদি অনেক বেশি হয়, তাহলে বাকি অর্থের ব্যবস্থা শিক্ষার্থীকে নিজেকেই করতে হতে পারে। এডুকেশনইউএসএও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফান্ডিং পরিকল্পনায় টিউশন ও ফি ছাড়াও জীবনযাত্রার খরচ বিবেচনা করতে বলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বাসস্থান ও খাবারের খরচও এক নয়।
তাই আবেদন করার আগে বার্ষিক টিউশন, বাধ্যতামূলক ফি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, বাসস্থান ও খাবারের আনুমানিক খরচ লিখে মোট হিসাব করা উচিত। পাশাপাশি দেখতে হবে স্কলারশিপটি শুধু এক বছরের জন্য নাকি পুরো ডিগ্রি মেয়াদে দেওয়া হবে। পরবর্তী বছরগুলোতে এটি নবায়নযোগ্য কি না এবং নবায়নের জন্য ন্যূনতম জিপিএ বা অন্য কোনো শর্ত আছে কি না, সেটিও জানা দরকার।
তৃতীয় বিষয় হলো ফান্ডিং পাওয়ার প্রক্রিয়া। কিছু ক্ষেত্রে ভর্তি আবেদন জমা দিলেই শিক্ষার্থী মেধাভিত্তিক স্কলারশিপের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচিত হতে পারেন। আবার কোনো কোনো স্কলারশিপের জন্য আলাদা আবেদন, প্রবন্ধ, সুপারিশপত্র বা অন্যান্য নথি প্রয়োজন হতে পারে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রাম পেজের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ফিন্যান্সিয়াল এইড পেজ এবং বিভাগের নির্দেশনাও দেখা জরুরি।
মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে টিউশন মওকুফের পাশাপাশি জীবনযাপনের জন্য স্টাইপেন্ড পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এডুকেশনইউএসএ বলছে, গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে গবেষণা, শিক্ষাদান বা প্রশাসনিক কাজে দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে টিউশন ওয়েভার ও স্টাইপেন্ড দেওয়া হতে পারে। তবে এসব সুযোগ প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে এবং ফান্ডিংয়ের ধরন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে আলাদা।
চতুর্থ বিষয় হলো নিজের প্রোফাইলের সঙ্গে ফান্ডিংয়ের মিল। মেধাভিত্তিক স্কলারশিপে একাডেমিক ফলাফল, নেতৃত্ব, কমিউনিটি সার্ভিস, প্রতিভা বা সামগ্রিক অর্জন বিবেচনায় আসতে পারে। অন্যদিকে গবেষণাভিত্তিক অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের ক্ষেত্রে গবেষণার আগ্রহ, আগের প্রকল্প, থিসিস, পদ্ধতিগত দক্ষতা বা ডেটা বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। শিক্ষাদানভিত্তিক অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, যোগাযোগ দক্ষতা ও শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
তাই শুধু ‘আমার জিপিএ কত’ এই প্রশ্নের মধ্যে নিজের আবেদনকে সীমাবদ্ধ না রেখে দেখতে হবে নিজের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক কোনটি। গবেষণা, শিক্ষাদান, নেতৃত্ব, পেশাগত অভিজ্ঞতা বা কমিউনিটি কাজের কোন অংশটি নির্দিষ্ট ফান্ডিংয়ের যোগ্যতার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মেলে, সেটি চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
পঞ্চম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তথ্যের উৎস। ফেসবুক গ্রুপ, ইউটিউব ভিডিও বা অন্য শিক্ষার্থীর তৈরি তালিকা প্রাথমিক ধারণার জন্য কাজে লাগতে পারে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট বিভাগের পেজ, গ্র্যাজুয়েট ফান্ডিং পেজ, অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের তথ্য এবং অফিসিয়াল কস্ট অব অ্যাটেনডেন্স দেখে তথ্য যাচাই করা উচিত। এডুকেশনইউএসএও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ফিন্যান্সিয়াল এইডের সুযোগ খুঁজে দেখার ব্যবস্থা রেখেছে।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রে স্কলারশিপ খোঁজা মানে শুধু ‘ফুলি ফান্ডেড’ লেখা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় তালিকা তৈরি করা নয়। কার্যকর স্কলারশিপ সার্চের জন্য নিজের প্রোফাইল, নির্দিষ্ট ডিগ্রি ও বিভাগের ফান্ডিং ব্যবস্থা, স্কলারশিপের যোগ্যতা এবং পুরো ডিগ্রির সম্ভাব্য খরচ একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। আবেদন করার আগে এসব তথ্য যাচাই করলে অপ্রাসঙ্গিক অ্যাপ্লিকেশন ফি ও সময় ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পড়াশোনার পুরো সময়ের আর্থিক পরিকল্পনাও আরও বাস্তবসম্মতভাবে করা সম্ভব।
সূত্র: আসিফ মুক্তাদির
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা বিভিন্ন আমদানি শুল্ক বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রিচার্ড নিল। প্রতিনিধি পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটির চেয়ারম্যান পদে ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকা এই নেতা বলেছেন, ট্রাম্পের অযৌক্তিক শুল্ক এবং বাণিজ্যসংক্রান্ত অস্বচ্ছ সমঝোতা পরিবর্তনে তিনি কাজ করবেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ওয়াশিংটনে এক বাণিজ্য সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় নিল এসব কথা বলেন। সাবেক মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ক্যাথরিন টাই আয়োজিত ওই সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিরতা তৈরি করেছে। তাঁর দাবি, এসব নীতি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে ধনী আমেরিকানদের অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের অন্তত ২৫০টি আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। ২০০৮ সালে বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই দলটির সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা। সিনেটেও অন্তত ৫৪টি আসন পাওয়ায় ট্রাম্পের শুল্কনীতি পরিবর্তনে আইন প্রণয়নের উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি হয়েছে। রিচার্ড নিল বলেন, ট্রাম্পের অযৌক্তিক শুল্ক বাতিল এবং স্বচ্ছতা ও সুশাসনভিত্তিক বাণিজ্যনীতি প্রতিষ্ঠায় তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর ভাষায়, বাণিজ্যনীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতিটি কর্মজীবী পরিবারের স্বার্থ রক্ষা করা, কোনো একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত অহংকারকে প্রাধান্য দেওয়া নয়। তবে শুল্কনীতি পরিবর্তনের জন্য কী ধরনের আইন প্রস্তাব করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি নিল। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্যচুক্তিতে মেক্সিকো ও কানাডাকে ধরে রাখা তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার। চুক্তিটির ছয় বছর অন্তর পর্যালোচনার বিধানকে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুযোগ হিসেবেও দেখছেন তিনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে কানাডা থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক। পাশাপাশি ট্রাম্পের বিভিন্ন শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তি পরিবর্তনের উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে। তবে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও ডেমোক্র্যাটদের সামনে বড় বাধা হতে পারেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। শুল্ক বাতিলের কোনো বিল কংগ্রেসে পাস হলে তিনি তাতে ভেটো দিতে পারেন। সেই ভেটো অতিক্রম করতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন হবে। ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান শক্তিশালী হলেও ট্রাম্পের শুল্কনীতি পরিবর্তনের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত দুই দলের আইনপ্রণেতাদের সমর্থন এবং হোয়াইট হাউসের অবস্থানের ওপর নির্ভর করবে।
ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে ৯ ঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকা ক্রুজকর্মীকে উদ্ধার করলেন দুই জেলে
ডেমোক্র্যাটদের জয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আশা, ট্রাম্পের সতর্কবার্তাও থামাতে পারছে না অভিবাসীদের
ওয়াশিংটনে বাড়ি সংস্কারের নামে প্রতারণা, ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ মালিক পেলেন ১ লাখ ১৫ হাজার ডলার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার অভাবনীয় এক প্রস্তাব পেয়েছেন আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ বা ইউএফসি (UFC)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডানা হোয়াইট। এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন তিনি। শনিবার লন্ডনে একটি বক্সিং ইভেন্ট শেষে ডানা হোয়াইট সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি হাসতে হাসতে জানান, তার হাতে এমনিতেই অনেক কাজ রয়েছে, তবে সোমবারের ওই বৈঠকের পর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত কথা বলা যাবে। এদিকে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে হোয়াইটকে এই দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, কট্টর বামপন্থীদের মোকাবিলা করতে তাদের এমন কাউকেই প্রয়োজন। এমনকি তিনি হোয়াইটকে সাহায্য করার জন্য ইসলাম মাখাচেভ, খবিব নুরমাগোমেদভ এবং জাস্টিন গেথজির মতো জনপ্রিয় সাবেক ও বর্তমান ইউএফসি যোদ্ধাদের সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছেন। ডানা হোয়াইট নিজেও জল্পনা উসকে দিয়ে হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমের পোডিয়ামে দাঁড়ানো একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন এবং ক্যাপশনে লিখেছেন, "পরবর্তী অধ্যায়ের দিকে।" হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভেন চিউংও এই উদ্যোগকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের জনসংযোগ বিভাগে চলমান অস্থিতিশীলতার মাঝেই এই নতুন প্রস্তাবের খবরটি সামনে এল। গত আগস্টে ক্যারোলিন লেভিট পদত্যাগ করার পর অক্টোবরে কেটি জাকারিয়া মাত্র পাঁচ দিনের জন্য প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ট্রাম্প তার প্রশাসনে রদবদল আনছেন, যার অংশ হিসেবে স্টেফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ট্রাম্প এবং ডানা হোয়াইটের মধ্যকার গভীর বন্ধুত্বের শুরু মূলত ২০০১ সাল থেকে। সেসময় আটলান্টিক সিটিতে ট্রাম্পের ক্যাসিনোতে ইউএফসির একটি ইভেন্ট আয়োজিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৬, ২০২০ এবং ২০২৪ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে ট্রাম্পের হয়ে জোরালো বক্তব্য দেন হোয়াইট। এমনকি গত জুনে ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন ও আমেরিকার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে ইউএফসির একটি বিশেষ ইভেন্টও অনুষ্ঠিত হয়। প্রথাগত রাজনৈতিক মিডিয়ার বাইরে তরুণ ও অনলাইন প্রজন্মের কাছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বাড়াতে ডানা হোয়াইটের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। আগামী বছর ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিসহ একাধিক বিষয়ে কড়া তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে বর্তমান প্রশাসনকে। ধারণা করা হচ্ছে, ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য সেই চাপ এবং রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্যই ডানা হোয়াইটের মতো একজন তুখোড় ও পরিচিত মুখকে হোয়াইট হাউসের সামনের সারিতে আনতে চাইছেন ট্রাম্প।
এক বছরেও নতুন বন্ধু তৈরি করেননি যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি মানুষ, বাড়ছে একাকিত্ব
পাঁচ রাজ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে ডেমোক্র্যাটদের জয়, নতুন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন
‘সেভেনটিন’ বানান জানে না এআই শিক্ষক, ভুল ধরিয়ে দিতেই রাগে ফোন কেটে দিল!
যুক্তরাষ্ট্রে শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানসিক চাপ, একাকিত্ব ও মন খারাপের সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটের সাহায্য নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, ৯ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ৫৭ শতাংশ দুঃখ, মানসিক চাপ, একাকিত্ব কিংবা অতিরিক্ত উদ্বেগের সময় এআইয়ের সঙ্গে কথা বলে। পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও আবেগসংক্রান্ত বিষয়েও প্রযুক্তিটির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। রোববার (৮ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য কুল ডাউনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জেইডি ফাউন্ডেশনের পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোরদের ৯০ শতাংশ অন্তত একবার এআই চ্যাটবট ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে ৫৮ শতাংশ পড়াশোনা ও বাড়ির কাজের জন্য এআইয়ের সাহায্য নিয়েছে। জরিপে আরও দেখা গেছে, ১২ শতাংশ শিশু-কিশোর সঙ্গ কিংবা বন্ধুত্বের জন্য এআইয়ের সঙ্গে কথা বলে। এ ছাড়া ফিউচারিজমের বরাতে প্রতিবেদনে পৃথক একটি জরিপের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ২০ শতাংশ উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী জানিয়েছে, তারা নিজেরা অথবা তাদের কোনো বন্ধু এআইয়ের সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্কের মতো যোগাযোগে জড়িয়েছে। গবেষণায় শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে এআই ব্যবহারের সম্পর্কও উঠে এসেছে। যারা মন খারাপ, একাকিত্ব বা মানসিক চাপের সময় চ্যাটবটের সাহায্য নেয়, তাদের মধ্যে অতীতে আত্মহত্যার চিন্তা ও আত্মহত্যার চেষ্টা করার অভিজ্ঞতার হার তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে। তাদের নিজেদের দেওয়া মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতার মূল্যায়নও তুলনামূলকভাবে খারাপ ছিল। তবে গবেষকেরা এআই ব্যবহারকে সরাসরি এসব সমস্যার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেননি। বরং মানসিকভাবে বেশি সমস্যায় থাকা শিশুরা এআইয়ের দিকে বেশি ঝুঁকছে কি না এবং এই ব্যবহার তাদের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। টেক্সাসের ১৫ বছর বয়সী কিশোর অর্জুন শারদার অভিজ্ঞতাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। রসায়ন পরীক্ষায় খারাপ করার ভয় থেকে তিনি চ্যাটজিপিটির কাছে বারবার জানতে চাইতেন, পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে তাঁর ফলাফল বা সামগ্রিক গ্রেড পয়েন্ট গড় ঠিক থাকবে কি না। অর্জুন ওরেগন পাবলিক ব্রডকাস্টিংকে জানান, রসায়নের প্রথম দিকের পরীক্ষায় রূপান্তর ও মোলের হিসাব নিয়ে তিনি খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাই বারবার চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞাসা করতেন, তিনি ঠিক থাকবেন কি না এবং তাঁর ফলাফল ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না। জেইডি ফাউন্ডেশনের গবেষণা ও মূল্যায়ন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মনোবিজ্ঞানী কায়লা অ্যান্ডারসন জানিয়েছেন, গবেষণায় তরুণদের এআই ব্যবহারের ধরন এবং তাদের মানসিক সুস্থতা, আত্মহত্যার চিন্তা ও অতীতের প্রচেষ্টার সঙ্গে এর সম্পর্ক আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় যুক্ত ছিলেন না এমন উন্নয়নমূলক মনোবিজ্ঞানী অ্যান মাহিউক্স মনে করেন, যেসব শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য আগে থেকেই দুর্বল, তারা সহায়তার আশায় এআইয়ের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারে। কিন্তু এই ব্যবহার তাদের মানসিক সমস্যাকে কমানোর পরিবর্তে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। প্রতিবেদনে শিশুদের এআই ব্যবহারের পরিবেশগত প্রভাবের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। চ্যাটবট পরিচালনায় বড় ধরনের কম্পিউটিং অবকাঠামো প্রয়োজন হয়, যা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এবং শীতল রাখার জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানির প্রয়োজন হতে পারে। শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং পড়াশোনায় এআইয়ের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গবেষকদের আলোচনায় উঠে এসেছে, মানসিক সমস্যার সময় শিশুরা যেন যথাযথ দিকনির্দেশনা এবং পরিবারের সদস্য বা বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পায়, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: দ্য কুল ডাউন
২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে জন ওসফ, স্ট্র-পোলে তলানিতে কমলা হ্যারিস
বিনা মূল্যে হাঁটুর ব্রেস দেওয়ার কথা বলে মেডিকেয়ার নম্বর চুরি, পরে আসছে হাজার ডলারের ভুয়া বিল