ক্যালিফোর্নিয়ার চোখধাঁধানো বিলাসবহুল বাড়ি ‘দ্য স্যান্ড ক্যাসল’ বিক্রি হচ্ছে ৮ কোটি ৭৫ লাখ ডলারে
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার রিয়েল এস্টেট বাজারে সম্প্রতি একটি নজরকাড়া বিলাসবহুল বাড়ি বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে। সাগরের তীরে অবস্থিত ফরাসি স্থাপত্যশৈলীর আদলে তৈরি এই প্রাসাদের দাম হাঁকা হয়েছে ৮ কোটি ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার। ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর কাছে লা জোলা উপকূলে অবস্থিত এই বাড়ির নাম দেওয়া হয়েছে 'দ্য স্যান্ড ক্যাসল'। ইউরোপীয় আভিজাত্য এবং সাগরের তীরের প্রশান্তির এক অনন্য মিশ্রণ ঘটিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে এটি অন্যতম একটি উচ্চাভিলাষী আবাসিক সম্পত্তি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
গত ২০২৪ সালে বাড়িটির দাম ধরা হয়েছিল ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। তবে ২০২৬ সালে এসে এর দাম কিছুটা কমিয়ে ৮ কোটি ৭৫ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা এখনও সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে। রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের দেওয়া তথ্যমতে, দ্য স্যান্ড ক্যাসল তার আকার এবং সুযোগ সুবিধার দিক থেকে সত্যিই অসাধারণ। ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্তমানে উপকূলীয় উন্নয়নের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ থাকায়, সমুদ্রের তীরে এত বড় পরিসরের কোনো আবাসিক সম্পত্তি নতুন করে নির্মাণ করা এখন প্রায় অসম্ভব।
বিশাল এই সম্পত্তিতে মূল ভবনের পাশাপাশি অতিথিদের থাকার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বাড়ি রয়েছে। প্রায় ১৩ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই বিশাল প্রাসাদে রয়েছে ১০টি এনস্যুট বেডরুম এবং ১৪টি আধুনিক বাথরুম। প্রতিটি ঘর এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেখানে খরচের কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি। উনিশ শতকের প্রাচীন আসবাবপত্র, চমৎকার সোনালি রঙের কারুকাজ এবং দৃষ্টিনন্দন মোজাইকের সঙ্গে আধুনিক স্মার্ট হোম প্রযুক্তির এক দারুণ সমন্বয় ঘটানো হয়েছে পুরো বাড়িটিতে।
বাড়িটির বর্তমান মালিক ডারউইন ডেসন। তিনি অ্যাফিলিয়েটেড কম্পিউটার সার্ভিসেসের প্রতিষ্ঠাতা, যা তিনি ২০০৯ সালে জেরক্সের কাছে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি দামে বিক্রি করেছিলেন। প্রায় ১৫ বছর আগে ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার খরচ করে তিনি দ্য স্যান্ড ক্যাসল এবং এর পাশের একটি জায়গা কিনেছিলেন। মূলত ২০০৫ সালে সান দিয়েগোর ডেভেলপার ডাগ ম্যানচেস্টার এটি নির্মাণ করলেও ডারউইন ডেসন তার স্বপ্নের রূপ দিতে সেরা পেশাদারদের একত্রিত করেন। আইল্যান্ড আর্কিটেক্টসের স্থপতি ড্রেক্স প্যাটারসন এবং বিশ্বখ্যাত ইন্টেরিয়র ডিজাইনার টিমোথি কোরিগান এই প্রাসাদের নকশা ও অন্দরমহল সাজানোর দায়িত্ব পালন করেন।
ফরাসি রাজপ্রাসাদ, বিশেষ করে ভার্সাই এবং এর বিখ্যাত পেটিট ট্রায়ানন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এর সাথে ক্যালিফোর্নিয়ার বিচ হাউসের আরামদায়ক পরিবেশও বজায় রাখা হয়েছে। বাড়িটিতে রয়েছে একটি সুইমিংপুল, ফিটনেস সেন্টার, দুটি ক্যাবানা এবং একটি ব্যক্তিগত সমুদ্রসৈকত। প্রশান্ত মহাসাগর এবং চারপাশের উপকূলের বাধাহীন মনোরম দৃশ্য উপভোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।
সমুদ্রের ১৬৩ ফুট অংশ জুড়ে থাকা এই সম্পত্তির সুরক্ষায় ১৯৫০-এর দশকে তৈরি একটি ঐতিহাসিক সীওয়াল বা সমুদ্র প্রাচীর রয়েছে। এছাড়া বাইরের অংশে রয়েছে সমুদ্রমুখী বারান্দা, একটি বোটহাউস এবং প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া সামুদ্রিক গুহা। বাড়িটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর ব্যক্তিগত উঁচু একটি ছাদ বা টেরেস। সেখানে ব্যবহৃত সাদা বালি আনা হয়েছে বিখ্যাত অগাস্টা ন্যাশনাল গলফ কোর্সের বালুর টেক্সচার ও গুণগত মানের সঙ্গে মিল রেখে। এছাড়া বড় কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য রয়েছে একটি বিশাল ও বিলাসবহুল শোরুম।
বর্তমানে এই সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন কম্পাস এজেন্সির প্রতিনিধি ব্রেট ডিকিনসন এবং রস ক্লার্ক। তাদের মতে এটি সান দিয়েগো কাউন্টির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দামি আবাসিক সম্পত্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের পিটসবার্গ শহরে এক অভিনব সাইবার জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ভুয়া পরিচয়ে এবং এক সরকারি কর্মকর্তার ইমেইল হ্যাক করে শহর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রায় এক মিলিয়ন (১০ লাখ) মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে একদল প্রতারক। গত ১২ ফেব্রুয়ারি পিটসবার্গ শহর কর্তৃপক্ষ ৯ লাখ ১৩ হাজার ডলারের একটি ফান্ড ট্রান্সফার করে। শহর কর্তৃপক্ষের ধারণা ছিল, এই অর্থ ‘ডিসকভারি বিল্ডার্স ইনকর্পোরেটেড’ নামের একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানটি শহরে ‘ড্রিম কোর্টস’ নামের একটি স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন কমপ্লেক্স নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে। কিন্তু ঘটনার পাঁচ দিন পর আসল নির্মাণ প্রতিষ্ঠান যখন তাদের পাওনা টাকার খোঁজ নিতে আসে, তখনই শহর কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। তারা বুঝতে পারে, পুরো টাকাটাই আসলে প্রতারকদের পকেটে চলে গেছে। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, এই বিশাল জালিয়াতির পেছনে অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রতারকরা আসল ডিসকভারি বিল্ডার্সের ইমেইল ঠিকানার সঙ্গে একটি অতিরিক্ত ছোট হাতের ‘l’ (এল) যুক্ত করে একটি ভুয়া ইমেইল তৈরি করে। এরপর তারা পিটসবার্গের সিটি ম্যানেজারের সহকারী সারা বেল্লাফ্রন্টের ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে। হ্যাক করা সেই অ্যাকাউন্ট থেকে শহর কর্তৃপক্ষের অর্থ বিভাগের এক কর্মীর কাছে মেসেজ পাঠিয়ে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ভুয়া সারা বেল্লাফ্রন্টে মেসেজে জানান, তিনি মৌখিকভাবে নতুন ব্যাংকের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং অর্থ বিভাগ যেন দ্রুত পেমেন্টের ব্যবস্থা করে। এই নির্দেশের পর দ্রুত অর্থ স্থানান্তর করা হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা একাধিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে উধাও হয়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই তদন্তে নামে। তদন্তের অংশহিসেবে ১১৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ওপর ১৮টি সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। অর্থের গতিপথ অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থাকা দুজন এবং নাইজেরিয়ায় অবস্থানরত এক সন্দেহভাজনের খোঁজ পায় পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা বা প্রকাশ্যে তাদের নাম জানানো হয়নি। তদন্তকারীরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রতারকদের একটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে সক্ষম হন, যেখান থেকে পিটসবার্গ কর্তৃপক্ষ প্রায় ৬ লাখ ৯৬ হাজার ডলার পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে। তবে এখনও প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার ডলার নিখোঁজ রয়েছে, যা উদ্ধারের জন্য কর্তৃপক্ষ বীমা কোম্পানির দ্বারস্থ হয়েছে। আদালতের তথ্যমতে, ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের এক ব্যক্তি এই জালিয়াতিতে অজান্তেই জড়িয়ে পড়েন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে তিনি ‘টাইকো অ্যালয় ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের একটি বৈধ কোম্পানিতে কাজ করছেন। এই বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে তিনি প্রতারকদের পাঠানো অর্থ দিয়ে প্রায় ২ লাখ ১৭ হাজার ডলারের বিটকয়েন কিনে একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে পাঠিয়ে দেন। এদিকে ডিসকভারি বিল্ডার্সের প্রেসিডেন্ট লুই পার্সনস জানান, তারা এই ঘটনার জন্য শহর কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছেন না। সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই জালিয়াতিটি অত্যন্ত নিপুণভাবে করা হয়েছে। পিটসবার্গ শহরকে এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে দেখে তিনি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে জালিয়াতির বিষয়টি জানার ৬০ দিনের মধ্যেই ডিসকভারি বিল্ডার্স তাদের পাওনা ৯ লাখ ১৩ হাজার ডলার বুঝে পায়। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কোম্পানিটি এখন আর অনলাইনে লেনদেন না করে সরাসরি প্রতিনিধি পাঠিয়ে শহর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চেক সংগ্রহ করছে। পিটসবার্গ শহরের মেয়র ডিওন অ্যাডামস এই ঘটনাটিকে একটি বড় শিক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, অপরাধীরা আমাদের সিস্টেমে প্রবেশ করতে পেরেছে, যা খুবই হতাশাজনক। এই ঘটনার পর শহর কর্তৃপক্ষ তাদের পেমেন্ট ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে এবং আইটি বিভাগে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য মার্কারি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, এই সাইবার প্রতারণার কারণে শহরটির শেষ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ডলারের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। তদন্তের স্বার্থে এতদিন বিষয়টি গোপন রাখা হলেও গত বুধবার পিটসবার্গ শহর কর্তৃপক্ষ এই জালিয়াতির বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করে।
নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিভাবকদের বাড়তি চাপ, স্কুলসামগ্রীর দাম বেড়েছে ৭.৭ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১ ডলারে বিক্রি হচ্ছে শতবর্ষী ঐতিহাসিক বাড়ি, তবে রয়েছে একটি শর্ত
ক্যালিফোর্নিয়ার চোখধাঁধানো বিলাসবহুল বাড়ি ‘দ্য স্যান্ড ক্যাসল’ বিক্রি হচ্ছে ৮ কোটি ৭৫ লাখ ডলারে
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক হারবারে একটি স্পিডবোট উল্টে এক মা ও তার পাঁচ মাস বয়সী কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পানিতে পড়ে যাওয়া আরও ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বোটটির চালকের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে নৌযানটি অবৈধভাবে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল কি না, তা তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং মার্কিন কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার নিউইয়র্ক হারবারের লিবার্টি আইল্যান্ডের কাছে ২২ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বেলাইনার স্পিডবোট উল্টে যায়। লিবার্টি আইল্যান্ডেই বিশ্বের অন্যতম পরিচিত স্থাপনা স্ট্যাচু অব লিবার্টি অবস্থিত। দুর্ঘটনার পর আশপাশে থাকা অন্যান্য নৌযান এবং সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পানিতে থাকা ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ ডুবুরি দল পানির ভেতর থেকে ২৭ বছর বয়সী এক নারী ও তার পাঁচ মাস বয়সী কন্যাশিশুকে উদ্ধার করে। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় উদ্ধার হওয়া অন্যদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ঘটনার পর নিউইয়র্কের ৪৬ বছর বয়সী ম্যানুয়েল হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে ১৩টি বেপরোয়া আচরণের মাধ্যমে অন্যের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ যুক্ত হতে পারে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কিছু জানায়নি। কোস্ট গার্ডের সেক্টর নিউইয়র্কের কমান্ডার ক্যাপ্টেন ডরিন ম্যাককার্থি এক বিবৃতিতে বলেন, "গত রাতের এই মর্মান্তিক প্রাণহানিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা রইল। একই সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া অংশীদার সংস্থা এবং সহায়তাকারী সাধারণ নৌযানের দ্রুত ও সাহসী ভূমিকার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।" রোববার কোস্ট গার্ড জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত নৌযানটি অনুমোদন ছাড়া বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী বহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এ ধরনের অবৈধ চার্টার কার্যক্রম নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত মা ও শিশুর পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার পর তাদের পরিচয় জানানো হবে।
হাঁটতে বেরিয়ে রহস্যজনকভাবে উধাও বাবা ও শিশুপুত্র, হন্যে হয়ে খুঁজছে দুই অঙ্গরাজ্যের পুলিশ
ন্যাশভিল-অস্টিনকে পেছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে রোমান্টিক শহর নিউইয়র্ক
ম্যাচ ফিক্সিংয়ের চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারকে ৮ বছরের নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) চালকদের জন্য নির্ধারিত ২০০ ডলারের বার্ষিক রেজিস্ট্রেশন ফি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি এক ইভি চালক তার গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নবায়নের সময় এই অতিরিক্ত ফি লক্ষ্য করে রেডিট (Reddit)-এ একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, টেক্সাসের এই নিয়মের সমস্যা কোথায় এবং অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও এই ফি এর চেয়ে কম কি না। তার এই সাধারণ একটি প্রশ্ন বৈদ্যুতিক গাড়ির যুগে রাস্তাঘাটের উন্নয়নের জন্য তহবিল কীভাবে সংগ্রহ করা উচিত এবং এই নীতি কতটুকু যৌক্তিক, তা নিয়ে একটি বৃহত্তর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই ফি মূলত জ্বালানি করের বিকল্প হিসেবে আরোপ করা হয়েছে, কারণ ইভি চালকরা গ্যাস স্টেশন থেকে জ্বালানি কেনেন না, ফলে তারা সরকারকে কোনো জ্বালানি করও দেন না। তবে অনেক চালকের দাবি, গ্যাসচালিত গাড়ির মালিকরা জ্বালানি কর হিসেবে যে অর্থ প্রদান করেন, এই ২০০ ডলার তার চেয়েও অনেক বেশি। রেডিটে এক ব্যবহারকারী হিসাব কষে দেখান, ২০০ ডলার ফি মানে হলো ১,০০০ গ্যালন গ্যাসের ওপর হারানো করের সমান, যা সপ্তাহে প্রায় ৫৭৫ মাইল গাড়ি চালানোর সমতুল্য। ফলে যারা গড়ে অনেক কম দূরত্বে গাড়ি চালান, তাদের জন্য বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ এই ফি একটি বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এক মন্তব্যকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এর মানে হলো সাধারণ ইঞ্জিনচালিত গাড়ির চেয়ে ইভি চালকদের শক্তির জন্য বেশি কর দিতে হচ্ছে। এই বিতর্ক কেবল একটি ফি-এর ফরমে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের প্রকৃত খরচের ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলছে। যারা গাড়ি কম চালান, তাদের জন্য এই ফ্ল্যাট ফি গ্যাসচালিত গাড়ির করের চেয়েও বেশি ব্যয়বহুল। যদিও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ সাশ্রয় হয়, তবুও এমন শাস্তিমূলক বা বিভ্রান্তিকর ফি নতুন ক্রেতাদের বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত থেকে নিরুৎসাহিত করতে পারে। গাড়ি কেনার আগে চালকদের এই ফি বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই নির্দিষ্ট ফি-এর পরিবর্তে চালকদের অতিক্রান্ত দূরত্ব (মাইলেজ) বা গাড়ির ওজনের ওপর ভিত্তি করে নতুন ব্যবস্থা চালু হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ায় রাস্তা সংস্কারে আবর্জনা সংগ্রহের বিলে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাড়তি ফি
বিনামূল্যেই প্রাক্তন স্ত্রী জেনিফার লোপেজকে দিলেন ৬০ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি