জ্বালানির দাম বাড়লেও ক্ষমা চাইবেন না ট্রাম্প, ইরানকে ঠেকানোর মূল্য হিসেবে দেখছেন
হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধ ও জাহাজ চলাচল বন্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম বাড়ার মধ্যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকানোকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়লে সেটি জনগণকে মেনে নিতে হবে। এ কারণে তিনি কোনো ক্ষমা চাইবেন না বলেও জানিয়েছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ঠেকানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তার তুলনায় জ্বালানির বাড়তি দাম একটি ছোট মূল্য। তিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাকে তাঁর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের তুলনায় গ্যাসোলিনের দাম প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি। এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যেও জ্বালানির দামের ওপর ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির প্রভাবের কথা উঠে এসেছে।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি জ্বালানি বাজারে চাপ আরও বাড়িয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে যেত। কিন্তু বর্তমানে সেখানে জাহাজ চলাচল নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। শুক্রবার মাত্র দুটি জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে এবং কোনো অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়নি বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
এই সরবরাহ সংকটের প্রভাব অপরিশোধিত তেলের বাজারেও পড়ছে। ১৪ আগস্ট ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৪৫ ডলার বেড়ে ৮৮ দশমিক ৫২ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ দশমিক ১৫ ডলার বেড়ে ৮২ দশমিক ৪০ ডলারে পৌঁছায়।
তবে জ্বালানির দাম কমানো নিয়েও মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে জোর দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ক্ষেত্রে আমেরিকানদের জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কম রাখা প্রশাসনের প্রথম অগ্রাধিকার।
অর্থাৎ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকানোর পাশাপাশি মার্কিন ভোক্তাদের ওপর জ্বালানির বাড়তি দামের চাপ কমানোও এখন ওয়াশিংটনের বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়েও ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কৌশলগত এই নৌপথকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইরান অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ফলে ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের প্রভাব এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সীমাবদ্ধ নেই। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, বৈশ্বিক তেল সরবরাহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাম্পে জ্বালানির দাম—সবকিছুই একই সংকটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কানাডাবিরোধী মন্তব্য ও শুল্কনীতির প্রতিবাদে ক্রমশ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কানাডার পর্যটকরা। ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ আখ্যা দেওয়া এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে ‘গভর্নর’ বলে উল্লেখ করার পর থেকে দেশটির নাগরিকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফলে অনেকে আগে থেকেই পরিকল্পিত মার্কিন সফর বাতিল করে নিজ দেশ কিংবা ইউরোপ, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণে আগ্রহী হচ্ছেন। নিউ ইয়র্ক হয়ে পানামা খাল ভ্রমণের সিদ্ধান্ত বদলে এক কানাডীয় দম্পতি রোম ও বার্সেলোনা রুট বেছে নেন। সেখানকার প্রাচীন স্থাপত্য ও স্থানীয় খাবারের অভিজ্ঞতায় তারা সন্তুষ্ট। অন্টারিওর বাসিন্দা কেন্ট ট্রাসকট জানান, টেক্সাসে স্পেসএক্সের স্টারশিপ উৎক্ষেপণ দেখার পরিকল্পনা বাদ দিয়ে তাঁরা নোভা স্কশিয়া ও প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ড ভ্রমণ করেছেন। কাবট ট্রেইলে হেঁটেছেন, আটলান্টিক উপকূলে মহিলা পরিচালিত রিসোর্টে থেকেছেন এবং স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিয়েছেন—মার্কিন সফরে যে অর্থ খরচ হওয়ার কথা ছিল, তা কানাডাতেই ব্যয় করেছেন তাঁরা। ভ্যাঙ্কুভারের অবসরপ্রাপ্ত নিক স্মিথ ২০১৬ সালের পর থেকেই মার্কিন সফর এড়িয়ে চলছেন। বাইডেনের সময় কিছুটা ভ্রমণ করলেও ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আবার বন্ধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ছাড়লেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরব, এমন না—বাস্তব সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ দেখতে চাই।’’ গত বছর তিনি সরাসরি ভ্যাঙ্কুভার থেকে মেক্সিকো সিটি এবং স্ত্রীকে নিয়ে মরক্কো ভ্রমণ করেছেন, যেখানে মারাকেশ, ফেজ ও এসাউইরা শহর ঘুরে রমজানের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেছেন। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ক্রিস্টি মিচেলের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল স্পেনের ক্যামিনো ফ্রান্সেস পথে হাঁটার। ট্রাম্পের নীতিতে হতাশ হয়ে তিনি লাস ভেগাসের বদলে স্পেনে ৭৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন। পথে নানা দেশের মানুষের সঙ্গে গভীর কথোপকথন তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতে আবার যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান তিনি, তবে শর্ত—হোয়াইট হাউসে নতুন নেতৃত্ব ও কানাডা-মার্কিন সম্পর্কের পুনর্মিলন। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর এপ্রিলে কানাডা থেকে মার্কিন সড়কপথে ভ্রমণ গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮ লাখ কমেছে। এর ফলে গত বছর মার্কিন পর্যটন খাতে রাজস্ব কমেছে প্রায় ৩৩০ কোটি কানাডীয় ডলার (২৩৫ কোটি মার্কিন ডলার)। ফিরিয়ে আনতে নিউ ইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ ব্রডওয়ে ও হোটেলে ৩০% ছাড় ঘোষণা করলেও, কানাডীয় ডলারের দুর্বলতা ও ট্রাম্পের নীতিতে অনাগ্রহ অনেককে দমিয়ে রাখছে। অনেক কানাডিয়ান মনে করছেন, কেবল ট্রাম্প বিদায় নিলেই সম্পর্ক আগের জায়গায় ফিরবে না—প্রয়োজন গভীর কূটনৈতিক ও আচরণগত পরিবর্তন। কানাডার নাগরিকরা এখন নিজের দেশের সৌন্দর্য আবিষ্কার করছেন, কিংবা ইউরোপ-আফ্রিকার পথে পা বাড়াচ্ছেন, যা মার্কিন অর্থনীতির জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জ্বালানির দাম বাড়লেও ক্ষমা চাইবেন না ট্রাম্প, ইরানকে ঠেকানোর মূল্য হিসেবে দেখছেন
আমেরিকায় ট্যাক্স ফাইল করছেন? যে ভুলে হাতছাড়া হতে পারে হাজার ডলারের রিফান্ড
কৃত্রিম আলোয় পথ হারিয়ে ফ্লোরিডায় ৫৫ সামুদ্রিক কচ্ছপের মৃত্যু
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ছয় মাসে শহরের বাস থেকে ভাড়া আদায় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ মিলিয়ন ডলার কমেছে। একই সময়ে বাসে ভাড়া না দিয়ে যাতায়াতের হারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় অর্ধেক বাসযাত্রী নির্ধারিত ৩ ডলার ভাড়া পরিশোধ করছেন না। ফক্স নিউজ ও নিউইয়র্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গথামিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুনে বাসে ভাড়া পরিশোধ করা যাত্রীর সংখ্যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে সাবওয়ে ও কমিউটার রেলে ভাড়া থেকে আয়ের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল। এই পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মামদানির বহুল আলোচিত বাসভাড়া ফ্রি করার পরিকল্পনা। ২০২৫ সালের মেয়র নির্বাচনের ক্যাম্পেইনে নিউইয়র্ক সিটির বাসে ভাড়া তুলে দেওয়াকে নিজের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি করেছিলেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত নিউইয়র্কের বাস ফ্রি করা হয়নি এবং যাত্রীদের নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধের নিয়ম বহাল রয়েছে। নিউইয়র্কের গণপরিবহন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমটিএ সিটি সরকারের অধীন নয়। এটি নিউইয়র্ক স্টেটের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি পাবলিক অথরিটি। ফলে মেয়র একক সিদ্ধান্তে বাসের ভাড়া বাতিল করতে পারেন না। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে স্টেট পর্যায়ে অনুমোদন ও অর্থায়নের ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে। এমটিএ চেয়ারম্যান ও সিইও জানো লিবারের বক্তব্যে মামদানির ফ্রি বাসের রাজনৈতিক প্রচারণার সঙ্গে ভাড়া না দেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধির সম্ভাব্য সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে। তার যুক্তি, বাস ফ্রি করার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে আলোচনা চলতে থাকায় কিছু যাত্রীর মধ্যে ভাড়া না দেওয়ার প্রবণতা স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে। ট্রানজিট কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নের একজন কর্মকর্তাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো সেবাকে ভবিষ্যতে ফ্রি করার কথা বারবার বলা হলে কিছু মানুষের মধ্যে সেটির জন্য এখনই অর্থ না দেওয়ার মনোভাব তৈরি হতে পারে। তবে বাসে ফেয়ার ইভেশন বা ভাড়া ফাঁকি দেওয়ার সমস্যার জন্য শুধু মামদানির ক্যাম্পেইনকে দায়ী করার মতো প্রমাণ নেই। নিউইয়র্কে বাসভাড়া ফাঁকি দেওয়ার হার মামদানি মেয়র হওয়ার অনেক আগে থেকেই অত্যন্ত বেশি ছিল। নিউইয়র্ক স্টেট কম্পট্রোলারের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৪ সালে বাসে ফেয়ার ইভেশনের গড় হার ছিল প্রায় ৪৭ শতাংশ। ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে তা কিছুটা কমে ৪৪ শতাংশে নেমেছিল। কোভিড মহামারির সময়ও নিউইয়র্ক সিটির বাসে সাময়িকভাবে ভাড়া নেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে আবার ভাড়া চালু হলেও বাসে ফেয়ার ইভেশন দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হিসেবে থেকে যায়। ফলে বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে মামদানির রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা নিয়ে এমটিএ কর্মকর্তা ও মেয়র প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এর আগে নিউইয়র্কে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি বাস রুটে ফ্রি সার্ভিস চালু করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া ওই কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়নি। কর্মসূচিটি ২০২৪ সালে শেষ হয়। মামদানি বরাবরই যুক্তি দিয়ে আসছেন, বাসভাড়া তুলে দিলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের নিউইয়র্কবাসীর দৈনন্দিন খরচ কমবে এবং গণপরিবহন আরও সহজলভ্য হবে। তার প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ফ্রি বাস পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান বহাল রাখা হয়েছে। অন্যদিকে এমটিএর সামনে বড় প্রশ্ন অর্থায়ন। বাস থেকে ভাড়া আদায় কমে গেলে সেই ঘাটতি কোথা থেকে পূরণ হবে, তা নিয়েই মূল বিতর্ক। কারণ বাস পরিচালনা, কর্মীদের বেতন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পুরো ট্রানজিট ব্যবস্থার আর্থিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে ভাড়া থেকে পাওয়া রাজস্ব সরাসরি যুক্ত। ফলে নিউইয়র্কে বিতর্ক এখন শুধু বাস ফ্রি হবে কি না, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। বাস এখনো ফ্রি না হলেও কেন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ভাড়া দিচ্ছেন না এবং বছরে শত শত মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য রাজস্ব হারানোর চাপ কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, সেটিই এমটিএ ও মামদানি প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
‘ট্রাম্প বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে’, খাবার সংকটে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজের নাবিকের স্ত্রীর ক্ষোভ
হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করছেন ট্রাম্প!
আমেরিকায় নতুন এসেই বাংলাদেশিরা, এই ৫ ভুলে লস করছেন হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ (ডিএফডব্লিউ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের জন্য ওজুর স্থান (ওজুখানা) নির্মাণের একটি পরিকল্পনা তীব্র বিতর্কের মুখে বাতিল করা হয়েছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে এটিকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দেওয়ার পরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। একই সঙ্গে রাজ্যের দুটি বড় বিমানবন্দরে ধর্মীয় সুবিধার নামে কোনো বৈষম্য হচ্ছে কি না, তা পর্যালোচনার জন্য সরকারি অনুদান খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর। গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় গভর্নর অ্যাবট বলেন, "সরকারি মালিকানাধীন বিমানবন্দরগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে অন্য সব ধর্মের ওপর বিশেষ সুবিধা দিতে পারে না। ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দরে ইসলামিক ওজুর জায়গা নির্মাণের পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণ বেআইনি। আমি সম্ভাব্য অনুদান বাতিলের জন্য রাজ্যের দুটি বিমানবন্দরের সব সরকারি অনুদান পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছি। পাশাপাশি তদন্তের জন্য বিষয়টি মার্কিন পরিবহন বিভাগের (ইউএসডিওটি) কাছে পাঠিয়েছি।" তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো স্থাপনায় এ ধরনের বেআইনি ধর্মীয় বৈষম্য বরদাশত করবে না টেক্সাস। গভর্নরের এই কড়া বার্তার পরই ডালাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানায়, তারা তাদের আন্তর্জাতিক টার্মিনাল (টার্মিনাল ডি)-এর নিরাপত্তা তল্লাশির আগের অংশে যাত্রীদের জন্য একটি ওজুখানা স্থাপনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছিল। কিন্তু জনসমক্ষে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হওয়ায় তারা দ্রুত এই পর্যালোচনা শেষ করেছে এবং প্রকল্পটি নিয়ে আর না এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পটি থেকে প্রাথমিকভাবে যে ধরনের পরিচালনগত সুবিধার আশা করা হয়েছিল, সেটি পূরণ হবে না বলেই এই সিদ্ধান্ত। এর আগে গত ৩১ জুলাই টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব লাইসেন্সিং অ্যান্ড রেগুলেশনের কাছে প্রকল্পটির নিবন্ধন করা হয়। সেখানে প্রাথমিকভাবে এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ডলার এবং অর্থায়নের উৎসের জায়গায় ‘ব্যক্তিগত অর্থায়ন’ উল্লেখ করা হয়েছিল। কথা ছিল, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এর নির্মাণকাজ শেষ হবে। তবে ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, নথিপত্রে উল্লেখ করা এসব তথ্য আসলে তাদের বহিরাগত নকশা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ‘করণিক ভুল’ ছিল। বিমানবন্দরটির একজন মুখপাত্র ফক্স নিউজকে বলেন, ৩ লাখ ডলারের হিসাবটি ছিল একটি প্রাথমিক উচ্চ ধারণা। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে এর প্রকৃত ব্যয় হতো প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডলার। এছাড়া ‘ব্যক্তিগত অর্থায়ন’ কথাটিও ভুলবশত লেখা হয়েছিল। অন্যান্য প্রকল্পের মতো এই প্রকল্পেও বিমানবন্দরের নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করার কথা ছিল। বিমানবন্দরটি তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে না, বরং পার্কিং ও বিভিন্ন দোকানপাট থেকে আয়ের ওপর নির্ভরশীল বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, গভর্নরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে একটি ওজুখানা এবং এর সংলগ্ন একটি প্রার্থনাকক্ষ রয়েছে। মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফিকে দেওয়া এক চিঠিতে গভর্নর অ্যাবট মার্কিন পরিবহন বিভাগ এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে উভয় বিমানবন্দরের ধর্মীয় সুযোগ-সুবিধাগুলো পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, "এই ওজুখানাগুলো দৃশ্যত নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্যই নকশা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। সংবিধানে এ ধরনের বৈষম্যকে প্রশ্রয় দেওয়া নিষেধ। সরকার যেমন পবিত্রতার চেয়ে ধর্মনিরপেক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে পারে না, তেমনি অন্য সব মতাদর্শের ওপর কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতবাদকেও বিশেষ সুবিধা দিতে পারে না।" উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বড় বিমানবন্দরগুলোতেও, যেমন, শিকাগো ও'হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, যাত্রীদের সুবিধার্থে এ ধরনের নিচু বেসিন বা ওজুখানা এবং সর্বজনীন প্রার্থনার স্থান রয়েছে।
একসঙ্গে জন্ম, একসঙ্গে বেড়ে ওঠা: কলম্বিয়ার ভূমিকম্পে তিন বোনের মধ্যে বেঁচে রইলেন শুধু একজন, হারালেন বাবা-মাকেও
টেক্সাসে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, প্রাণ গেল দুই মার্কিন সেনা পাইলটের