যৌনকর্মীর কাছে যাওয়ার ইতিহাস থাকলেও এফবিআইয়ে মিলবে চাকরির সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) অতীতে যৌনকর্মীর সেবা নেওয়া ব্যক্তিদের চাকরির আবেদন সরাসরি বাতিল করার নীতি শিথিল করেছে। নতুন ব্যবস্থায় কিছু আবেদনকারীকে অতীত কর্মকাণ্ডের ধরন, সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।
তবে নতুন নীতির অর্থ এই নয় যে এফবিআই যৌনকর্মীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য করেছে। চলতি বছরের বসন্তে জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ১০ বছরের মধ্যে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, মোট তিনবার বা তার বেশি এ ধরনের কর্মকাণ্ড করা অথবা জননিরাপত্তার মতো দায়িত্বশীল পদে থাকা অবস্থায় এতে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে আবেদনকারীকে এখনও চাকরির জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।
এর বাইরে থাকা কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীর অতীত কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করার সুযোগ থাকবে। এ পরিবর্তনের ফলে অতীতে এমন ঘটনায় জড়িত ছিলেন এমন কিছু প্রার্থী স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়বেন না।
এফবিআই জানিয়েছে, নীতির পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হলো এমন কিছু যোগ্য প্রার্থীকে বিবেচনার সুযোগ দেওয়া, যারা এমন দেশে অবস্থানকালে এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন যেখানে বিষয়টি বৈধ ছিল। পাশাপাশি অল্প বয়সে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিস্থিতিও বিবেচনায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এফবিআই স্পষ্ট করেছে, অপরাধমূলক যৌন কর্মকাণ্ড এখনও চাকরির ক্ষেত্রে অযোগ্যতার কারণ। সংস্থাটির ভাষ্য, আবেদনকারীদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক ও ভেটিং প্রক্রিয়া এখনও ব্যাপক ও কঠোর।
এফবিআইয়ে চাকরির আবেদনকারীদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক, বিস্তারিত প্রশ্নপত্র, ক্রেডিট চেক, প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের সঙ্গে ইন্টারভিউ এবং পলিগ্রাফ টেস্টের মতো একাধিক ধাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অতীতের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এমন ব্যক্তিগত তথ্যও যাচাই করা হয়, যা ভবিষ্যতে কোনো কর্মীকে চাপ বা ব্ল্যাকমেইলের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
ফেলোনি কনভিকশন, ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের কনভিকশন, ইউরিনালাইসিসে ব্যর্থতা এবং সংস্থার ড্রাগ নীতির কিছু লঙ্ঘন এখনও স্বয়ংক্রিয় অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
নীতির এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে এলো, যখন এফবিআইসহ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জনবল পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। নিয়োগের মানদণ্ড শিথিল হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে এফবিআই বলছে, সংস্থাটি এখনও আবেদনকারী ও কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্যতম কঠোর উপযুক্ততা মানদণ্ড বজায় রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসকারী কম আয়ের মানুষের জন্য গণপরিবহনে ভাড়া কমানোর বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে ফেয়ার ফেয়ার্স নিউইয়র্ক। এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য বাসিন্দারা সাবওয়ে ও নির্দিষ্ট বাসে ৫০ শতাংশ কম ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারেন। ২০২৬ সালে চার সদস্যের পরিবারের বার্ষিক আয় ৪৯ হাজার ৫০০ ডলার বা তার কম হলে এই সুবিধার জন্য যোগ্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির মানবসম্পদ প্রশাসন পরিচালিত ফেয়ার ফেয়ার্স নিউইয়র্ক কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো কম আয়ের বাসিন্দাদের যাতায়াতের খরচ কমানো। সাবওয়ে ও যোগ্য বাসের পাশাপাশি বিশেষ পরিবহনসেবা ব্যবহারকারীরাও এই কর্মসূচির আওতায় ৫০ শতাংশ ছাড় পেতে পারেন। বর্তমান সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী আয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক সদস্যের পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ বার্ষিক আয় ২৩ হাজার ৯৪০ ডলার, দুই সদস্যের জন্য ৩২ হাজার ৪৬০ ডলার, তিন সদস্যের জন্য ৪০ হাজার ৯৮০ ডলার, চার সদস্যের জন্য ৪৯ হাজার ৫০০ ডলার এবং পাঁচ সদস্যের পরিবারের জন্য ৫৮ হাজার ২০ ডলার। ফেয়ার ফেয়ার্সের জন্য সাধারণত আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরোর কোনো একটিতে বসবাস করতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে। যারা অন্য কোনো ছাড়যুক্ত গণপরিবহন কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছেন বা তার জন্য যোগ্য, তারা এই কর্মসূচির কিছু সুবিধা থেকে বাদ পড়তে পারেন। অভিবাসন স্ট্যাটাস নিয়েও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ফেয়ার ফেয়ার্স কর্মসূচিতে আবেদন করার জন্য আবেদনকারীর অভিবাসন স্ট্যাটাস জানতে চাওয়া হয় না এবং এই তথ্য সংরক্ষণও করা হয় না। ফলে নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করলে বিভিন্ন অভিবাসন স্ট্যাটাসের নিউইয়র্কবাসী আবেদন করতে পারেন। ফেয়ার ফেয়ার্স কর্মসূচিতে আর মেট্রোকার্ড ব্যবহার করা হয় না। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এই কর্মসূচি ওএমএনওয়াই ব্যবস্থায় স্থানান্তরিত হয়েছে। অনুমোদিত আবেদনকারীদের ফেয়ার ফেয়ার্স ওএমএনওয়াই কার্ড দেওয়া হয়। এই কার্ড দিয়ে সাবওয়ে, নির্দিষ্ট বাস, স্ট্যাটেন আইল্যান্ড রেলওয়ে, রুজভেল্ট আইল্যান্ড ট্রাম এবং হাডসন রেল লিংকে ছাড়ের ভাড়া ব্যবহার করা যায়। তবে এক্সপ্রেস বাসে পূর্ণ ভাড়া দিতে হয়। আবেদন করা যায় অনলাইনে ফেয়ার ফেয়ার্স নিউইয়র্কের মাধ্যমে অথবা অ্যাক্সেস এইচআরএ অ্যাপ ব্যবহার করে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচয়, বয়স, নিউইয়র্কে বসবাস এবং আয়ের প্রমাণ জমা দিতে হতে পারে। আবেদন অনুমোদিত হলে ফেয়ার ফেয়ার্স ওএমএনওয়াই কার্ড সাধারণত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ডাকযোগে পাঠানো হয়। নিউইয়র্ক সিটির এই কর্মসূচি ২০১৯ সালে চালু হয়। পরবর্তী সময়ে আয়ের যোগ্যতার সীমা বাড়ানো হয়েছে, যাতে আরও বেশি কম আয়ের নিউইয়র্কবাসী গণপরিবহনে ছাড়ের সুবিধা পেতে পারেন। নিউইয়র্কে নিয়মিত সাবওয়ে বা বাস ব্যবহার করেন এবং পরিবারের আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকলে ফেয়ার ফেয়ার্স কর্মসূচির জন্য যোগ্যতা যাচাই করে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবার প্রতিদিন গণপরিবহনের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই সুবিধা মাসিক যাতায়াতের খরচ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
মুসলিম সহকর্মী সেনার অনুপ্রেরণায় শাহাদা পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ মার্কিন নারী সেনা কর্মকর্তার
অভিবাসনবিরোধী উসকানিদাতা ইয়ান্নোপোলোসকে গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার
যৌনকর্মীর কাছে যাওয়ার ইতিহাস থাকলেও এফবিআইয়ে মিলবে চাকরির সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে একটি স্কুলের কাস্টোডিয়ান প্রায় ছয় মাস ধরে গোপনে ওই স্কুলেই বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি স্কুল ভবনের ভেতরেই নিজের থাকার ব্যবস্থা করে নিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি গোপন রাখতে সক্ষম হন। তবে কীভাবে তিনি নিয়মিতভাবে স্কুলে অবস্থান করতেন এবং বিষয়টি এতদিন কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুলে কাস্টোডিয়ানের দায়িত্ব পালন করার সুযোগকে কাজে লাগিয়েই তিনি ভবনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। স্কুলের স্বাভাবিক কার্যক্রম চললেও কর্তৃপক্ষ প্রথমদিকে তার সেখানে বসবাসের বিষয়টি জানতে পারেনি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্কুলের নিরাপত্তা, কর্মীদের প্রবেশাধিকার এবং ভবন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কর্মীদের দায়িত্ব পালনের সময় ও দায়িত্বের বাইরে স্কুল ভবনে অবস্থানের নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ওই কাস্টোডিয়ান কেন স্কুলে গোপনে বসবাস করছিলেন এবং তার এমন সিদ্ধান্তের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি সামনে আসার পর স্কুল ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্মীদের জন্য নির্ধারিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
ইকুয়েডরের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেশে ফেরত পাঠাল আইসিই, প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ
নিউ ইয়র্কে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন আরএসএস প্রধানের অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ মুসলিমদের
চাকরি হারালেই দ্রুত ছাড়তে হবে যুক্তরাষ্ট্র, H-1B ভিসাধারীদের জন্য ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছেছেন ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ এর প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শনিবার দুপুরে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ফোবানা হোস্ট কমিটির কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন, টাইটেল স্পন্সর মুনিরুল ইসলাম, চিফ প্যাট্রন শিপার চৌধুরীসহ হোস্ট কমিটির নেতৃবৃন্দ। এ সময় লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল, ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, সাধারণ সম্পাদক এম. ওয়াহিদ রহমান, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মুনিম, সাধারণ সম্পাদক লায়েক আহমেদ, বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস অ্যাঞ্জেলেস (বাফলা)-এর সাধারণ সম্পাদক নাসির সৈয়দ জেবুলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং মন্ত্রীর নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন। তিন দিনব্যাপী ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটিতে অবস্থিত ইউনিভার্সল হিলটন এ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর এ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। ভেন্যুটির ঠিকানা ৫৫৫ Universal Hollywood Drive, Universal City, California কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে পরিচিত ফোবানা কনভেনশন। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও প্রদেশ থেকে বাংলাদেশি-আমেরিকান ও বাংলাদেশি-কানাডিয়ানরা এ আয়োজনে অংশ নেন। এবারের ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের হোস্ট সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া। লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড সংলগ্ন ইউনিভার্সাল সিটিতে আয়োজন হওয়ায় এবারের কনভেনশনকে ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আয়োজকদেরা জানান, তিন দিনের এই কনভেনশনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা, বিভিন্ন প্রতিভা প্রদর্শন, যুব কার্যক্রম, সম্মাননা ও কমিউনিটি গ্যাদারিংয়ের পাশাপাশি খাবার, পরিবারকেন্দ্রিক আয়োজন ও বিভিন্ন কর্মশালার ব্যবস্থা থাকবে। ফোবানা দীর্ঘদিন ধরে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠন ও প্রবাসীদের একটি বৃহৎ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে আসছে। বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদার করাও এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ৪০তম ফোবানা কনভেনশনে বাংলাদেশ সরকারের একজন মন্ত্রীর প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণকে তাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। লস অ্যাঞ্জেলেসে মন্ত্রীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ফোবানা হোস্ট কমিটি ও স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। কনভেনশনকে সফল করতে আয়োজকরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
ইসরায়েলের সমালোচনা করা শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করতে পারবেন না ট্রাম্প, মার্কিন আদালতের রায়
লিভারের চর্বি কমাতে কিটো ডায়েট এগিয়ে, গবেষণায় চর্বি কমেছে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত