যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল চাকরির বড় সুযোগ, সিবিপিতে বিভিন্ন পদে নিয়োগ
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য নতুন নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশটির কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশন সংস্থা সিবিপিতে একাধিক পদে বর্তমানে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন অফিসার পদে বিভিন্ন লোকেশনে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন অফিসাররা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রবেশপথে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাত্রী ও পণ্য পরীক্ষা করা এবং কাস্টমস ও অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে কাজ করেন। পদটি ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী চাকরি হওয়ায় দায়িত্বের সঙ্গে ইউনিফর্ম পরা, আগ্নেয়াস্ত্র বহন এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার বিষয়ও যুক্ত রয়েছে।
বর্তমান একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই পদে বেতন ৬৩ হাজার ৪৩১ ডলার থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৬৪ ডলার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। পূর্ণ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মূল বেতনের বাইরে বছরে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ওভারটাইম আয় করতে পারেন। চাকরিটি পূর্ণকালীন এবং নিয়মিত শিফট ও ওভারটাইমে কাজ করার প্রয়োজন হতে পারে।
নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন যোগ্যতা ও যাচাই প্রক্রিয়া রয়েছে। আবেদনকারীদের ব্যাকগ্রাউন্ড ইনভেস্টিগেশন, ড্রাগ টেস্ট, মেডিকেল পরীক্ষা এবং অন্যান্য নিয়োগসংক্রান্ত ধাপ পেরোতে হয়। কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন অফিসার পদে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে দক্ষতাও বাধ্যতামূলক।
কিছু নির্দিষ্ট লোকেশনে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য অতিরিক্ত নিয়োগ প্রণোদনাও রয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট এলাকায় তিন বছরের সার্ভিস কনট্রাক্টের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার এবং কিছু এলাকায় চার বছরের সার্ভিস কনট্রাক্টের জন্যও বছরে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হতে পারে।
শুধু কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন অফিসার নয়, সিবিপির ক্যারিয়ার পেজে বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট, মেরিন ইন্টারডিকশন এজেন্ট এবং এয়ার ইন্টারডিকশন এজেন্টসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী পদেও নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। এসব পদের কয়েকটির আবেদন শেষ হওয়ার তারিখও ৩১ আগস্ট ২০২৬।
তবে পদভেদে যোগ্যতা, বয়সসীমা, বেতন, দায়িত্ব, কর্মস্থল এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া আলাদা। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সর্বশেষ তথ্য দেখে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও শর্ত নিশ্চিত করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের জন্য ইউএস ওপেনের ১,০০০টি টিকিট মাত্র ১০০ ডলারে বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি ও যুক্তরাষ্ট্র টেনিস অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার ২৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে প্রথমে আসলে আগে টিকিট পাওয়ার ভিত্তিতে এসব টিকিট বিক্রি শুরু হবে। এই বিশেষ টিকিটের সুযোগ শুধু নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের জন্য। একজন সর্বোচ্চ দুটি টিকিট কিনতে পারবেন। টিকিটগুলো ৩০ আগস্ট থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ইউএস ওপেনের মূল পর্বের ম্যাচের জন্য ব্যবহার করা যাবে। টিকিটের মধ্যে আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়াম ও লুইস আর্মস্ট্রং স্টেডিয়ামে ম্যাচ দেখার সুযোগের পাশাপাশি টেনিস সেন্টারের বিভিন্ন কোর্টে খেলা দেখার জন্য গ্রাউন্ডস পাসও থাকবে। মেয়র মামদানি বলেছেন, বিশ্বের সেরা টেনিস খেলোয়াড়রা যখন নিউইয়র্কে খেলতে আসছেন, তখন শহরের বাসিন্দাদেরও সেই ম্যাচ সরাসরি দেখার সুযোগ থাকা উচিত। ক্রমবর্ধমান টিকিটের দামের কারণে অনেক নিউইয়র্কবাসী বড় ক্রীড়া আয়োজন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ইউএস ওপেন ও নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশেষ মূল্যছাড়ের এই ১,০০০ টিকিট বুধবার সকাল ১০টায় বিক্রি শুরু হবে এবং টিকিট শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রথমে আসলে আগে পাওয়ার ভিত্তিতে বিক্রি চলবে। নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ হিসেবে ক্রেতার জিপ কোড যাচাই করা হবে। ইউএস ওপেন বিশ্বের অন্যতম বড় বার্ষিক ক্রীড়া আয়োজন। ২০২৫ সালে প্রায় ১২ লাখ দর্শক এই টুর্নামেন্টে উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের হিসাবে, টুর্নামেন্টটি প্রতিবছর নিউইয়র্কে ১২০ কোটি ডলারের বেশি অর্থনৈতিক প্রভাব তৈরি করে এবং ৭ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত। মামদানি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কবাসীর জন্য বড় ক্রীড়া আয়োজন আরও সাশ্রয়ী করার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ইউএস ওপেনের এই বিশেষ টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর আগে ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচের জন্যও নিউইয়র্কবাসীর জন্য ১,০০০টি সাশ্রয়ী টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ইউএস ওপেনের আয়োজকরা জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের ফ্যান উইকের সময় কিছু অনুষ্ঠান ও গ্রাউন্ডস প্রবেশের সুযোগ বিনামূল্যেও রাখা হয়েছে। তবে নতুন এই উদ্যোগে নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারা মূল পর্বের ম্যাচ সরাসরি দেখার জন্য তুলনামূলক কম দামে টিকিট কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।
আদালত বাধা দিলে কেনেডি সেন্টার ভেঙে ফেলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্প প্রশাসনের
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রোসারি খরচ কমানোর ১০ বাস্তব উপায়, মাসে শত শত ডলার সাশ্রয়ের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল চাকরির বড় সুযোগ, সিবিপিতে বিভিন্ন পদে নিয়োগ
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা সীমিত করে এবং স্থানীয় কারাগারে আইসের অভিবাসন-আটক কার্যক্রম বন্ধে নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া এসব বিধানের ফলে স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফের কার্যালয়গুলো আইসের সঙ্গে ২৮৭(জি) ধরনের আনুষ্ঠানিক চুক্তি চালিয়ে যেতে পারবে না। ‘লোকাল কপস, লোকাল ক্রাইমস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত আইনটি স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা সংস্থাকে আইসের হয়ে ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া ২৮৭(জি) চুক্তি করা, নবায়ন বা বহাল রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বিদ্যমান চুক্তিগুলোও বাতিল ও অকার্যকর করার বিধান রয়েছে। ২৮৭(জি) ব্যবস্থার আওতায় আগে স্থানীয় কর্মকর্তারা আইসের প্রশিক্ষণ ও তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট অভিবাসন-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করতে পারতেন। নতুন আইনের ফলে স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফের কার্যালয়গুলো আর এ ধরনের ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নিতে পারবে না। তবে গুরুতর অপরাধ বা ফৌজদারি তদন্তের ক্ষেত্রে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফেডারেল সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করতে পারবে। আইন কার্যকরের আগে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের কার্যালয় ১২টি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থাকে ২৫ আগস্টের মধ্যে তাদের ২৮৭(জি) চুক্তি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অধিকাংশ সংস্থা চুক্তি বাতিলের কথা জানালেও কয়েকটি কাউন্টি তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়। এরই মধ্যে বিষয়টি আদালতে গড়িয়েছে। রেনসেলার কাউন্টি নতুন আইন বাতিলের দাবিতে ফেডারেল মামলায় যোগ দিয়েছে। আরও কয়েকজন শেরিফও আইনটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের কেউ কেউ দাবি করছেন, আইসের সঙ্গে সহযোগিতা জননিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে গভর্নর ক্যাথি হোকুলের প্রশাসনের অবস্থান হলো, স্থানীয় পুলিশকে স্থানীয় অপরাধ দমনে কেন্দ্রীভূত রাখা উচিত। একই সঙ্গে ‘ডিগনিটি নট ডিটেনশন অ্যাক্ট’ স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্থাপনা ব্যবহার করে ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন ভায়োলেশনের অভিযোগে মানুষকে আটক রাখার ব্যবস্থা বন্ধ করেছে। আইনটি স্থানীয় সরকার ও কারাগারগুলোকে আইসের সঙ্গে এ ধরনের আটক চুক্তি করা বা চালিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখে। রাজ্য সিনেটর জুলিয়া সালাজারের উদ্যোগে আনা ‘ডিগনিটি নট ডিটেনশন’ বিধানটি ২০২৬ সালের রাজ্য বাজেটের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এর আওতায় আইসের সঙ্গে বিদ্যমান ইন্টারগভর্নমেন্টাল সাপোর্ট অ্যাগ্রিমেন্টসহ অভিবাসন আটক-সংক্রান্ত চুক্তিগুলোও শেষ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নতুন আইনগুলোর ফলে নিউইয়র্কে আইসের ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষমতা বন্ধ হয়নি। পরিবর্তনটি মূলত স্থানীয় পুলিশ, শেরিফের কার্যালয়, কারাগার ও সরকারি সম্পদকে ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহার করার পথ সীমিত করেছে। তবে আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি কাউন্টির আইনি চ্যালেঞ্জ নতুন করে নিউইয়র্ক ও ফেডারেল সরকারের মধ্যে অভিবাসন নীতি নিয়ে বিরোধকে আরও তীব্র করেছে।
টেক্সাসের খ্রিষ্টান বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবারের ব্যবস্থা
ঘর পুড়ে ছাই, পাশে দাঁড়ালেন ডলি পার্টন, ৯০০ পরিবার পেল ১০ হাজার ডলার
বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত, নতুন তারিখ দেবে দূতাবাস
যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের তিন কর্মকর্তাকে সম্ভাব্য দুর্ব্যবহারের অভিযোগের তদন্তের মধ্যে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ছুটিতে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে সংস্থাটির যোগাযোগ বিভাগের প্রধান অ্যান্থনি গুগলিয়েলমিও রয়েছেন। তদন্ত চলাকালে তিন কর্মকর্তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র স্থগিত করা হয়েছে এবং সরকারি কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিতে তাদের প্রবেশাধিকারও বন্ধ করা হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছুটিতে পাঠানো তিন কর্মকর্তাই সিক্রেট সার্ভিসের যোগাযোগ বিভাগের সঙ্গে যুক্ত। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তের সময় নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও সরকারি যন্ত্রপাতিতে প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া একটি প্রচলিত ব্যবস্থা। তবে তদন্তের আওতায় থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রকৃতি বা তাদের কথিত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সিক্রেট সার্ভিসও তিনজন কর্মীকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা আইন প্রয়োগকারী দায়িত্বে থাকা কর্মী নন এবং সম্ভাব্য দুর্ব্যবহারের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হয়েছে। তবে সংস্থাটি তাদের নাম প্রকাশ করেনি এবং অভিযোগের বিস্তারিত বিষয়েও কোনো তথ্য দেয়নি। সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত করছে সংস্থাটির পেশাগত দায়িত্ব ও জবাবদিহি বিষয়ক কার্যালয়। তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত মন্তব্য করা হয়নি। সংস্থাটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, সততা ও দায়িত্ববোধের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার বিষয়ে সিক্রেট সার্ভিস প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিন কর্মকর্তাকে ছুটিতে পাঠানোর ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন সিক্রেট সার্ভিসের কার্যক্রম নিয়ে বাড়তি নজরদারি চলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একাধিক হত্যাচেষ্টার ঘটনা এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সংস্থাটি সমালোচনা ও পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ট্রাম্পের উপস্থিতিতে ওয়াশিংটনের একটি অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ভেদ করে এক সশস্ত্র ব্যক্তি প্রবেশের ঘটনাও ছিল। এ ছাড়া তুরস্ক সফরের সময় ট্রাম্পকে ঘিরে একটি গোপন নিরাপত্তা ব্যবস্থার তথ্য প্রকাশ এবং সেটি কীভাবে বাইরে এসেছে, তা নিয়েও তদন্তের বিষয় সামনে এসেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য ইরানি হুমকির আশঙ্কার কারণে ট্রাম্প কাতারের দেওয়া একটি বিমান ব্যবহার না করে অন্য একটি বিমানে তুরস্ক থেকে বের হয়ে যান। ওই ঘটনা সম্পর্কিত তথ্য ফাঁসের বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছিল। এই তথ্য ফাঁসের প্রাথমিক তদন্তের সঙ্গে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের নামও এসেছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের ভেতর থেকে ওই প্রাথমিক তদন্ত শুরু করতে তিনি সহায়তা করেছিলেন। একই সময়ে সিক্রেট সার্ভিসের এক সদস্যের বিরুদ্ধেও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সফরসংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে আলাদা তদন্ত চলছিল। যোগাযোগ বিভাগের প্রধান অ্যান্থনি গুগলিয়েলমি সিক্রেট সার্ভিসের সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একাধিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাও রয়েছে। পেনসিলভানিয়ার বাটলারে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনার পর সিক্রেট সার্ভিসের তৎকালীন প্রধান পদত্যাগ করেন এবং সংস্থাটির কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। তবে বর্তমান তদন্তে গুগলিয়েলমি ও অন্য দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সিক্রেট সার্ভিসও তদন্তের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আপাতত তিন কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে রেখে সম্ভাব্য দুর্ব্যবহারের বিষয়টি যাচাই করছে সংস্থাটির পেশাগত দায়িত্ব ও জবাবদিহি বিষয়ক কার্যালয়।
মসজিদ সফরে শিক্ষার্থীদের হিজাব ও কোরআন দেওয়ায় ক্যালিফোর্নিয়ার স্কুল ডিস্ট্রিক্টের বিরুদ্ধে মামলা
২৬ আগস্ট সোশ্যাল সিকিউরিটির চেক, কারা পাচ্ছেন জেনে নিন