চাকরি

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল এলাকার বাসিন্দা রাহুল
এআই চাকরি খাবে না, বরং কাজের গতি বাড়াবে: মাইক্রোসফট ইঞ্জিনিয়ার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে বিশ্বজুড়ে অনেকের মনেই চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এই প্রযুক্তির কারণে মানুষের পেশা পুরোপুরি হুমকির মুখে পড়বে, এমনটি মানতে নারাজ খোদ মাইক্রোসফটের একজন সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। তাঁর মতে, এআই কাজের গতি বাড়িয়ে ডেডলাইন বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দারুণভাবে সাহায্য করলেও, এটি কখনোই মানুষের সম্পূর্ণ বিকল্প হতে পারবে না। সম্প্রতি ৩৪ বছর বয়সী এই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার রাহুল দেবিকর এআই নিয়ে তাঁর দীর্ঘ বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল এলাকার বাসিন্দা রাহুল ২০১৮ সাল থেকে টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফটে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন। গত কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে সফটওয়্যার তৈরির পুরো প্রক্রিয়াকে আমূল বদলে দিয়েছে, তিনি তা একদম কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। কাজের ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকগুলো স্বীকার করে তিনি জানান, এআই টুলস মূলত উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু সফটওয়্যার আর্কিটেকচার বা সূক্ষ্ম সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে মানুষের অভিজ্ঞতা ও তদারকির কোনো বিকল্প নেই।   এআই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কাজের গতি বাড়ানোর একটি বড় উদাহরণও দিয়েছেন রাহুল। তিনি সম্প্রতি ‘মাইক্রোসফট ৩৬৫ এজেন্টস এসডিকে’ নামক একটি ওপেন-সোর্স লাইব্রেরি তৈরির প্রজেক্টে কাজ করেছেন, যা মূলত এআই এজেন্ট তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়। মাইক্রোসফটে এটিই ছিল তাঁর প্রথম ওপেন-সোর্স প্রজেক্ট। তিনি জানান, এআইয়ের সহায়তায় মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই একটি সাধারণ ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে প্রজেক্টটি পাবলিক প্রিভিউ পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। তাঁর এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, এআই মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং কর্মদক্ষতা বাড়ানোর এক অসাধারণ হাতিয়ার।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আমেরিকায় জীবন সহজ করবে যে ৫ ফ্রি রিসোর্স
আমেরিকায় জীবন সহজ করবে যে ৫ ফ্রি রিসোর্স, অনেকেই জানেন না

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করার পর প্রথম তিন মাস সাধারণত বাসা, চাকরি, পরিবহন, ভাষা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সামলাতেই কেটে যায়। অথচ এই সময়েই আশপাশে থাকা কয়েকটি বিনামূল্যের বা স্বল্প খরচের কমিউনিটি সেবা কাজে লাগালে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া অনেক সহজ হতে পারে।   ‘প্রথম ৯০ দিন’ কোনো সরকারি সময়সীমা নয়। তবে নতুন অভিবাসীদের পরিকল্পনা গুছিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক সময়। এসব সেবা সরাসরি নগদ সহায়তা নয়; বরং চাকরি খোঁজা, ইংরেজি শেখা, ডিজিটাল সুবিধা ব্যবহার, স্থানীয় সহায়তার সন্ধান এবং ছোট ব্যবসা শুরু করার মতো বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়।   ১. পাবলিক লাইব্রেরি: বইয়ের বাইরেও নানা সুবিধা   যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক লাইব্রেরিগুলো শুধু বই পড়া বা ধার নেওয়ার জায়গা নয়। বেশিরভাগ পাবলিক লাইব্রেরিতে ইন্টারনেট ও কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। অনেক শাখায় প্রিন্টিং, স্ক্যানিং, চাকরির আবেদন, জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা এবং শিশুদের পড়াশোনায় সহায়তার মতো সেবাও দেওয়া হয়।   ইনস্টিটিউট অব মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি সার্ভিসেসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৯৯ শতাংশের বেশি পাবলিক লাইব্রেরিতে ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে। বিভিন্ন এলাকার লাইব্রেরিতে ইংরেজি কথোপকথন, নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতি, চাকরি অনুসন্ধান এবং ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচিও চালু থাকে। তবে সব শাখায় একই ধরনের সেবা পাওয়া যায় না।    অনেক লাইব্রেরির সদস্যরা লিবির মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ই-বুক ও অডিওবুক ধার নিতে পারেন। লাইব্রেরি কার্ড করার নিয়ম শহর ও কাউন্টিভেদে আলাদা। সাধারণত পরিচয়পত্র ও স্থানীয় ঠিকানার প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। কোথাও অস্থায়ী বাসিন্দা বা এলাকার বাইরের মানুষের জন্য আলাদা কার্ডের ব্যবস্থাও থাকে।   ২. আমেরিকান জব সেন্টার: চাকরি খোঁজার সরকারি সহায়তা   ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের সমন্বয়ে পরিচালিত আমেরিকান জব সেন্টারগুলো চাকরিপ্রার্থীদের বিনামূল্যে বিভিন্ন সহায়তা দেয়। দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০টি জব সেন্টার রয়েছে। তবে প্রতিটি কাউন্টিতে একটি করে সেন্টার আছে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কাছের কেন্দ্রটি শহর, অঙ্গরাজ্য বা জিপ কোড দিয়ে খুঁজে নিতে হয়।   এসব কেন্দ্রে চাকরির তালিকা দেখা, কম্পিউটার ব্যবহার, জীবনবৃত্তান্ত তৈরি বা পর্যালোচনা, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, স্থানীয় শ্রমবাজার সম্পর্কে ধারণা এবং পেশাগত প্রশিক্ষণের তথ্য পাওয়া যায়। অনেক সেন্টারে ক্যারিয়ার কাউন্সেলর চাকরিপ্রার্থীর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে উপযুক্ত কাজ বা প্রশিক্ষণের পথ দেখান।    তবে ওশা, ফর্কলিফট বা অন্য কোনো পেশাগত প্রশিক্ষণ সব জব সেন্টারে সরাসরি ও বিনামূল্যে দেওয়া হয় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেন্টার শুধু অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তথ্য দেয়। প্রশিক্ষণের খরচ বহনের সহায়তা পাওয়া যাবে কি না, তা আবেদনকারীর যোগ্যতা, স্থানীয় কর্মসূচি ও তহবিলের ওপর নির্ভর করে।   ৩. অ্যাডাল্ট এডুকেশন: ইংরেজি ও সমমানের সনদের প্রস্তুতি   নতুন অভিবাসীদের জন্য কমিউনিটি কলেজ, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট, লাইব্রেরি এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের অ্যাডাল্ট এডুকেশন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হতে পারে। এসব কর্মসূচিতে ইংরেজি ভাষা, পড়া-লেখা, গণিত, কম্পিউটার দক্ষতা এবং হাইস্কুল সমমানের পরীক্ষার প্রস্তুতি দেওয়া হয়।   ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন জানিয়েছে, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অ্যাডাল্ট এডুকেশন কর্মসূচি প্রাপ্তবয়স্কদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, মৌলিক শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে। স্থানীয় কমিউনিটি কলেজ, লাইব্রেরি বা মানবসেবা দপ্তর থেকে এসব কর্মসূচির তথ্য পাওয়া যেতে পারে।   হাইস্কুল সমমানের পরীক্ষাকে সব জায়গায় শুধু জিইডি বলা ঠিক নয়। অঙ্গরাজ্যভেদে জিইডি, হাইসেট বা অন্য কোনো অনুমোদিত পরীক্ষা থাকতে পারে। ক্লাস বিনামূল্যে হবে নাকি স্বল্প ফি দিতে হবে, সেটিও প্রতিষ্ঠান ও কর্মসূচিভেদে ভিন্ন। কিছু প্রতিষ্ঠানে সন্ধ্যা, সপ্তাহান্ত বা অনলাইন ক্লাস থাকলেও তা সর্বত্র নিশ্চিত নয়।   ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের অনলাইন ব্যবস্থায় জিপ কোড দিয়ে স্থানীয় ইংরেজি ও নাগরিকত্ব প্রস্তুতি ক্লাস খোঁজার সুযোগ রয়েছে।    ৪. ২১১ হেল্পলাইন: স্থানীয় সহায়তার তথ্য এক জায়গায়   বাসস্থান, খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, ইউটিলিটি বিল, পরিবহন বা শিশুদের কর্মসূচি নিয়ে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে বুঝতে না পারলে ২১১ নম্বরটি কাজে আসতে পারে। ফোনে ২১১ ডায়াল করলে সাধারণত স্থানীয় প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা যায়। অনলাইনেও ঠিকানা বা জিপ কোড দিয়ে এলাকার সেবা খোঁজা যায়।   ইউনাইটেড ওয়ে পরিচালিত ২১১ নেটওয়ার্ক যুক্তরাষ্ট্রের ৯৯ শতাংশ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়। এই সেবা স্থানীয় ফুড প্যান্ট্রি, আবাসন সহায়তা, কম খরচের চিকিৎসা, পরিবহন, ইউটিলিটি সহায়তা এবং অন্যান্য কমিউনিটি কর্মসূচির তথ্য দিতে পারে। কল সাধারণত গোপনীয় রাখা হয় এবং পরিচয় না জানিয়েও সহায়তা চাওয়া যেতে পারে।    তবে ২১১ কোনো সুবিধা অনুমোদনকারী সরকারি সংস্থা নয়। তারা মূলত আবেদনকারীকে সম্ভাব্য স্থানীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত করে। সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে সহায়তা পাওয়া যাবে কি না, তা আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বসবাসের এলাকা, বয়স এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত যোগ্যতাসহ বিভিন্ন শর্তের ওপর নির্ভর করতে পারে।   ৫. স্কোর মেন্টরশিপ: ছোট ব্যবসার জন্য বিনামূল্যের পরামর্শ   ছোট ব্যবসা, অনলাইন স্টোর বা সেবাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান শুরু করার পরিকল্পনা থাকলে স্কোরের স্বেচ্ছাসেবী ব্যবসা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে বিনামূল্যে পরামর্শ পাওয়া যায়। স্কোর ইউএস স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের একটি রিসোর্স পার্টনার।   স্কোরের মেন্টররা ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, অর্থায়ন, বিপণন, মানবসম্পদ, পরিচালনা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের মতো বিষয়ে পরামর্শ দেন। সরাসরি সাক্ষাৎ ছাড়াও ফোন, ই-মেইল ও ভিডিও কলের মাধ্যমে মেন্টরশিপ নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। মেন্টররা শুধু অবসরপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী নন; তারা বিভিন্ন খাতের অভিজ্ঞ স্বেচ্ছাসেবী বিশেষজ্ঞ।    স্কোরের ব্যক্তিগত মেন্টরশিপ বিনামূল্যের হলেও সব কর্মশালা বা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান বিনামূল্যে হবে—এমন নয়। কোনো অনুষ্ঠানে নিবন্ধন ফি থাকতে পারে। তাই নাম লেখানোর আগে আয়োজনটির খরচ ও শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন।   প্রথম ৯০ দিনে যে তিনটি কাজ করবেন   প্রথমত, পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণ, ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত কাগজ, শিক্ষাগত সনদ এবং চাকরির নথির কপি একটি আলাদা ফোল্ডারে রাখুন। ডিজিটাল কপিগুলো নিরাপদ ক্লাউড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।   দ্বিতীয়ত, কোনো কর্মসূচির তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখে চূড়ান্ত ধরে নেবেন না। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, লাইব্রেরি, কলেজ বা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং ফোন নম্বর দিয়ে নিয়ম, ফি ও যোগ্যতা যাচাই করুন।   তৃতীয়ত, কোনো সরকারি বা চাকরির ফর্ম বুঝতে সমস্যা হলে আন্দাজ করে তথ্য দেবেন না। লাইব্রেরি, আমেরিকান জব সেন্টার বা অনুমোদিত সহায়তা প্রতিষ্ঠানে ব্যাখ্যা চাইতে পারেন। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের সাধারণ কর্মীকে আইনজীবী ধরে নিয়ে অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।   এই সেবাগুলোর অনেকটাই সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হলেও সব সুবিধা সবার জন্য বিনামূল্যে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাপ্য নয়। সেবার ধরন, নিবন্ধনের নিয়ম এবং যোগ্যতা অঙ্গরাজ্য, কাউন্টি ও প্রতিষ্ঠানভেদে বদলে যেতে পারে।   আপনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম কোন সালে এসেছেন? কমেন্টে শুধু সালটি লিখতে পারেন—যেমন ২০১৮, ২০২২ বা ২০২৪। কোন সময়ের অভিবাসীরা বেশি সাড়া দেন, তার ভিত্তিতে তাদের সাধারণ সমস্যা ও করণীয় নিয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন তৈরি করা যেতে পারে।   দাবিত্যাগ: এই প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্য ও কমিউনিটি সচেতনতার জন্য তৈরি। এটি কোনো আইনি, অভিবাসন বা আর্থিক পরামর্শ নয়। কোনো কর্মসূচিতে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ নিয়ম ও যোগ্যতার শর্ত যাচাই করুন।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ভয়ে প্রতি ৪ জনে ১ মার্কিন নাগরিক বাধ্য হয়ে অপছন্দের চাকরি করছেন
স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ভয়ে প্রতি ৪ জনে ১ মার্কিন নাগরিক বাধ্য হয়ে অপছন্দের চাকরি করছেন

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চারজন কর্মীর একজন এমন চাকরিতে আটকে আছেন, যা তারা ছেড়ে দিতে চান। তবে চাকরি হারালে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধাও হারানোর আশঙ্কায় তারা সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। নতুন এক জরিপে উঠে এসেছে, স্বাস্থ্যবিমা ধরে রাখার প্রয়োজনই লাখো মার্কিন কর্মীর চাকরি পরিবর্তনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।   ওয়েস্ট হেলথ-গ্যালাপ সেন্টার অন হেলথকেয়ার ইন আমেরিকার সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৪ শতাংশ কর্মী—সংখ্যায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ—শুধু নিয়োগকর্তা-প্রদত্ত স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ভয়ে অপছন্দের চাকরিতে রয়ে গেছেন। গবেষকরা এই পরিস্থিতিকে ‘জব লক’ নামে অভিহিত করেছেন। ২০২১ সালে এ হার ছিল ১৬ শতাংশ, অর্থাৎ পাঁচ বছরে এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।  জরিপে আরও দেখা গেছে, যাদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা রয়েছে বা চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ বেশি, তাদের মধ্যে এই প্রবণতা আরও বেশি। দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত কর্মীদের ২৯ শতাংশ জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিমা হারানোর আশঙ্কায় তারা চাকরি পরিবর্তন করতে পারছেন না। আর যাদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় নিয়ে তীব্র আর্থিক চাপ রয়েছে, তাদের প্রায় অর্ধেকই একই কারণে বর্তমান চাকরিতে আটকে আছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষের স্বাস্থ্যবিমা সরাসরি চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকায় চাকরি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার নয়, নতুন ব্যবসা শুরু করা, ভালো চাকরির সুযোগ গ্রহণ কিংবা শ্রমবাজারে স্বাভাবিক গতিশীলতাও বাধাগ্রস্ত হয়।   ওয়েস্ট হেলথ পলিসি সেন্টারের প্রেসিডেন্ট টিম ল্যাশ বলেন, শুধুমাত্র স্বাস্থ্যবিমা ধরে রাখার জন্য মানুষকে এমন চাকরিতে থাকতে বাধ্য হওয়া, যা তারা আর করতে চান না, তা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় ও প্রাপ্যতা নিয়ে গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। স্বাস্থ্যসেবার খরচ এখন শুধু চিকিৎসা নয়, মানুষের কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও প্রভাবিত করছে।    জরিপটি ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ৫ হাজার ৬৬০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়। এর মধ্যে নিয়োগকর্তার স্বাস্থ্যবিমার ওপর নির্ভরশীল কর্মীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।  

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থানের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছেন লেসলি সোনেনক্লার। ছবি: সংগৃহীত
৩২ বছরের অভিজ্ঞতাই যখন বড় বাধা: ৩০০ প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেও চাকরি পাচ্ছেন না ৫৫ বছর বয়সী মার্কিন পেশাজীবী

সুদীর্ঘ তিন দশকের পেশাগত সাফল্য, বিশাল অভিজ্ঞতা এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের দক্ষতা যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই যা হওয়ার কথা ছিল সবচেয়ে বড় সম্পদ। অথচ বর্তমান বিশ্বব্যাপী পরিবর্তিত শ্রমবাজারে সেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ বছর বয়সী মার্কিন যোগাযোগের মাধ্যম ও বিষয়বস্তু (কন্টেন্ট) বিশেষজ্ঞ লেসলি সোনেনক্লারের জন্য। গত বছরের মার্চ মাসে চাকরি হারানোর পর টানা ১৪ মাসে তিনি ৩০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করেছেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিজের এই হতাশাজনক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন আমেরিকার এরিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরের বাসিন্দা লেসলি। পেশাগত জীবনে এত বড় ধাক্কা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি তিনি এর আগে কখনো হননি। ১৯৯৪ সালে একজন বিপণন সমন্বয়ক (মার্কেটিং কোঅর্ডিনেটর) হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন লেসলি। পরবর্তীতে তিনি টানা ১১ বছর নিজস্ব ব্যবসা সফলভাবে পরিচালনা করেন এবং সম্প্রতি একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় বিষয়বস্তু ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান বা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু অর্থনৈতিক মন্দা ও প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের প্রবাহে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তিনি চাকরিচ্যুত হন।   চাকরি হারানোর পর থেকে নতুন কর্মসংস্থানের জন্য লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই অভিজ্ঞ নারী। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় নিজের অভিজ্ঞতা পুনর্মূল্যায়ন করে প্রতিটি আবেদনের জন্য আলাদা ‘জীবনবৃত্তান্ত’ (রিজিউমি) তৈরি করেছেন। পেশাদার নেটওয়ার্ক লিংকডইন থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এমনকি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের পদ মর্যাদার চাকরির জন্যও আবেদন করতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। তবুও বারবার তিনি উপেক্ষিত হয়েছেন।   নিজের এই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লেসলি বিজনেস ইনসাইডারকে বলেন, “চাকরির বিজ্ঞাপনে দেখা যায় শত শত মানুষ আবেদন করছেন। লিংকডইনে যখন দেখি এক একটি পদের জন্য শতাধিক আবেদন জমা পড়েছে, তখন ভাইভা বা সাক্ষাতকারের আগেই মনে হয় আমার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। কোম্পানিগুলো অভিজ্ঞতা চায় ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে তারা এমন এক অদ্ভুত যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী খোঁজে যিনি একই সাথে কৌশল তৈরি করবেন, লেখালেখি করবেন, এসইও সামলাবেন, আবার ডিজাইনও করবেন। একজন জ্যেষ্ঠ পেশাজীবীর ক্ষেত্রে সব বিষয়ে একসাথে সর্বগুণসম্পন্ন হওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে না।”   লেসলির ধারণা, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তার বয়সই প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। অনেক নিয়োগকারী সংস্থাই তাকে জীবনবৃত্তান্তে পুরো ৩২ বছরের অভিজ্ঞতার কথা না লিখে কেবল শেষ ১০ বছরের কাজের বিবরণ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা ও বয়সভিত্তিক বৈষম্য (এজইজম) এখন স্পষ্ট। প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় বয়স কম এমন তরুণ কর্মীদের কম বেতনে নিয়োগ দিয়ে নিজের মতো গড়ে নিতে পছন্দ করে, যা জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের সুযোগ সংকুচিত করে দিচ্ছে।   প্রথমে শুধুমাত্র ঘরে বসে বা দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে (রিমোট জব) কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও, দীর্ঘ ৯ মাস পর বাধ্য হয়ে নিজের এলাকার স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে সরাসরি কাজের আবেদন শুরু করেন লেসলি। অনলাইনে সরাসরি আবেদনের চেয়ে পরিচিতদের মাধ্যমে বা রেফারেন্সে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘদিনের পরিচিত ও সহকর্মীদের অনেকেই এখন আর মেসেজের জবাব দেন না, যা তাকে মানসিকভাবে আরও ভেঙে ফেলছে।   তবে দীর্ঘ সময় বেকার থাকলেও আগাম আর্থিক পরিকল্পনার কারণে লেসলির অবসরকালীন ফান্ড বা বর্তমান জীবনযাত্রায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি। তিনি আগে থেকেই সঞ্চয়মুখী হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে টানা এক বছর ধরে অবসরকালীন তহবিলে জমা করতে না পারায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে খানিকটা চিন্তা থেকে যাচ্ছে।   এত সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করছেন এই প্রবীণ পেশাজীবী। তার বিশ্বাস, এটি একটি সাময়িক বিপর্যয় মাত্র এবং দ্রুতই তিনি তার যোগ্যতার মর্যাদা পাবেন। এই ঘটনাটি শুধু লেসলির একার নয়, বরং বিশ্বজুড়ে অভিজ্ঞ ও বয়স্ক কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে যে বৈষম্য ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, এটি তারই একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
এআইয়ের কারণে চাকরি হারালে মাসে ১ হাজার ডলার সহায়তা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাবে যারা চাকরি হারাচ্ছেন, তাদের জন্য আশার আলো নিয়ে এসেছে 'এআই ডিভিডেন্ড' নামের ১২ মাস মেয়াদি একটি নতুন কর্মসূচি। এই উদ্যোগের আওতায় এআইয়ের কারণে কাজ হারানো কর্মীদের প্রতি মাসে ১ হাজার ডলার করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আপাতত ২৫ থেকে ৫০ জন কর্মীকে নিয়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি শুরু হলেও ভবিষ্যতে এর পরিসর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ‘এআই কমন্স প্রজেক্ট’ এবং ‘হোয়াট উই উইল’ নামের দুটি অলাভজনক সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো, এআই যুগে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি তাদের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করা।   নিজেদের ধরনের প্রথম এই উদ্যোগটি যোগ্য প্রার্থীদের ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত মাসিক ১ হাজার ডলার দেওয়ার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা উন্নয়নেও কাজ করবে। চাকরি হারানো এসব কর্মীকে নতুন করে দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন রি-স্কিলিং ও আপ-স্কিলিং প্রোগ্রাম, এআই ট্রেনিং সার্টিফিকেশন, জব কোচিং এবং ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রস্তুত করার মতো সহায়তা দেওয়া হবে।   এই আর্থিক সহায়তা পেতে আগ্রহীদের ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট ফর্মে নিজেদের পদবি এবং এআই কীভাবে তাদের কাজে প্রভাব ফেলেছে, তা বিস্তারিত জানাতে হবে। পাশাপাশি প্রাপ্ত অর্থ তারা কীভাবে কাজে লাগাবেন, সে বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণীও জমা দিতে হবে। এআই কমন্স প্রজেক্টের প্রতিষ্ঠাতা নিক সালাজারের মতে, সামাজিক নিরাপত্তার জালকে এআইয়ের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, যা বর্তমানে বেশ পিছিয়ে আছে। তিনি জানান, মানুষ এখনই কাজ হারাচ্ছে, তাই এই সমস্যা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে কেবল গবেষণা করার মতো সময় নেই।   ইতিমধ্যেই এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্যদের অর্থ ও সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে। শ্রমবাজারের পরিবর্তনের এই সময়ে এআই নীতিমালায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে কর্মসূচিটি চাকরি হারানো কর্মীদের বাস্তব তথ্য-উপাত্তও সংগ্রহ করছে। অন্যদিকে, সান ডিয়েগোর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০ শতাংশ চাকরি স্বয়ংক্রিয় হয়ে যেতে পারে।   গবেষণায় বলা হয়েছে, ক্ল্যারিক্যাল বা করণিক এবং কাস্টমার সার্ভিসের মতো চাকরিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ডিজিটাল ব্যাংকিং ও সেলফ-চেকআউট বৃদ্ধির ফলে ব্যাংক টেলার ও ক্যাশিয়ার পদের চাহিদাও দ্রুত কমছে। গবেষণার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক দশকের মধ্যে ৫৯ শতাংশ কর্মীর নতুন করে দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই শুধু চাকরি কেড়ে নিচ্ছে না, বরং কাজের ধরন পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে; তাই ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে এই পরিবর্তনগুলো বোঝা ও নতুন দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
স্বয়ংক্রিয় বিলিং ত্রুটির কারণে অন্যায়ভাবে চাকরি হারানোর অভিযোগ তুলেছেন ফোর্ডের সাবেক কর্মী নিক নাবোজনি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ৮ ডলারেরও কম দামের চিপস ও বিস্কুট চুরির অভিযোগে চাকরি হারালেন ফোর্ড কর্মী

মাত্র ৮ মার্কিন ডলারেরও কম মূল্যের চিপস ও ক্র্যাকার ‘চুরির’ অভিযোগে চাকরি হারানোর পর ফোর্ড মোটর কোম্পানির এক সাবেক কর্মী আবারও নিজের পুরোনো চাকরি ফিরে পাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তার দাবি, তিনি খাবারের মূল্য পরিশোধের চেষ্টা করেছিলেন। তবে স্বয়ংক্রিয় বিলিং ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে লেনদেন সম্পন্ন না হলেও সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।   নিউইয়র্ক পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৮ বছর বয়সী নিক নাবোজনি প্রায় নয় বছর ধরে ফোর্ডের মিশিগান অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টে কাজ করেছেন। এই সময়ে তার উপস্থিতির রেকর্ড ছিল নির্ভুল এবং কর্মজীবনে কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগও ছিল না।   নাবোজনির ভাষ্য, গত এপ্রিলে অতিরিক্ত সময় কাজ শেষে তিনি কারখানার ভেতরে আরামার্ক পরিচালিত স্বয়ংক্রিয় খাবারের দোকান থেকে একটি ডরিটোস এবং একটি রিটজ ক্র্যাকারস উইথ চিজ নেন। তার দাবি, দোকানের স্বয়ংক্রিয় কিয়স্কে দুটি পণ্য স্ক্যান করার পর তিনি নিজের ডেবিট কার্ড স্পর্শ করে মূল্য পরিশোধের চেষ্টা করেন। তার ধারণা ছিল, লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।   তবে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পর পারিবারিক সফর শেষে ফিরে এসে তিনি জানতে পারেন, কোম্পানি তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনেছে। নাবোজনি বলেন, শ্রম দপ্তরে ডেকে তার ইউনিয়নের প্রতিনিধি প্রথমে তাকে জানান, কোম্পানি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে চায়। তিনি বলেন, "আমি জানতে চাইলাম কেন? তখন বলা হলো, চুরির অভিযোগে।"   নাবোজনির দাবি, পরে নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনা করে কোম্পানির এক প্রতিনিধি স্বীকার করেন যে ভিডিওতে তাকে মূল্য পরিশোধের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তবে তিনি কিয়স্ক ছেড়ে চলে যাওয়ার আগেই লেনদেনের সময়সীমা শেষ হয়ে যায়। ফলে অর্থ পরিশোধ সম্পন্ন হয়নি এবং সেটিকেই চুরি হিসেবে গণ্য করা হয়। তার ভাষায়, "আমি ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত জানতেই পারিনি যে লেনদেনটি সম্পন্ন হয়নি।"   তিনি আরও বলেন, "আমি এই দোকানে বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার ডলার খরচ করেছি। আমার স্ত্রী ও দুই ছোট সন্তান রয়েছে। মাত্র দুটি খাবারের প্যাকেটের জন্য আমি কখনোই নিজের চাকরি ও পরিবারের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে ফেলতাম না।"   চাকরি হারানোর পর পরিবারের খরচ চালাতে নিজের অবসরকালীন সঞ্চয় (৪০১কে) ভেঙে কর ও জরিমানা পরিশোধের পর প্রায় ৭৮ হাজার মার্কিন ডলার তুলতে হয়েছে বলেও জানান নাবোজনি।   তিনি বলেন, ফোর্ড কিংবা ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স (ইউএডব্লিউ) ইউনিয়নের প্রতি তার কোনো ক্ষোভ নেই। তিনি শুধু চান, কোম্পানি বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে তাকে আবার চাকরিতে ফিরিয়ে নিক।   এদিকে নাবোজনি দাবি করেন, তার বিভাগেই অন্তত আরও চারজন কর্মী একই ধরনের অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন। সম্প্রতি ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস জানায়, মিশিগান অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টের অন্তত তিন কর্মীকে তদন্তে অভিযোগের ভিত্তি না পাওয়ায় পুনর্বহাল করা হয়েছে।   ফোর্ড মোটর কোম্পানি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আরামার্ক পরিচালিত স্বয়ংক্রিয় কিয়স্কের কার্যকারিতা নিয়ে কিছু সীমিত সমস্যা সম্পর্কে তারা অবগত। এসব বিষয় পর্যালোচনায় আরামার্কের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে আরামার্কও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো তারা পর্যালোচনা করছে এবং সততা ও জবাবদিহির সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনার প্রতিশ্রুতি তাদের রয়েছে।   এ ধরনের আরেকটি ঘটনায় ফোর্ডের সাবেক কর্মী কার্ট ক্রম ১ দশমিক ৯৫ ডলারের একটি বিস্কুটের প্যাকেটের মূল্য পরিশোধের প্রমাণ দেখিয়ে নিজের চাকরি ফিরে পান। কোম্পানি তাকে প্রায় ৩৩ হাজার ডলার বকেয়া বেতনও দেয়। তবে তিনি পুনরায় কাজে যোগ না দিয়ে আইনি পদক্ষেপের পথ বেছে নেন।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে Jobs NYC-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুটি বড় চাকরি মেলা। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে বিশাল কর্মী নিয়োগ মেলা, অন-স্পট ইন্টারভিউ ও সরাসরি চাকরির সুবর্ণ সুযোগ

নিউইয়র্কে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আবারও সরাসরি নিয়োগের সুযোগ নিয়ে আসছে Jobs NYC। শহরের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন নিয়োগদাতার অংশগ্রহণে ম্যানহাটন ও ব্রঙ্কসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুটি বড় চাকরি মেলা, যেখানে আবেদনকারীরা নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগও পাবেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম PIX11 জানিয়েছে, Jobs NYC-এর উদ্যোগে আয়োজিত এসব চাকরি মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটির সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। কিছু ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থীদের ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক সাক্ষাৎকার নেওয়া হতে পারে।   আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের অবশ্যই একটি বৈধ ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র এবং জীবনবৃত্তান্তের (রেজ্যুমে) একাধিক কপি সঙ্গে আনতে হবে। পাশাপাশি পেশাদার বা ব্যবসায়িক পোশাক পরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে নিয়োগদাতাদের সামনে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করা যায়।   প্রথম চাকরি মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আপার ম্যানহাটন Workforce1 Career Center, ২১৫ ওয়েস্ট ১২৫তম স্ট্রিটে। এই আয়োজনটি মূলত গ্রাহকসেবা-সংশ্লিষ্ট চাকরির ওপর গুরুত্ব দেবে।   অনলাইনে অগ্রিম নিবন্ধনের সব টিকিট শেষ হয়ে গেলেও আয়োজকরা জানিয়েছেন, নিবন্ধন ছাড়াই সরাসরি উপস্থিত হয়ে অংশ নেওয়া যাবে।   এই চাকরি মেলায় ক্যাশিয়ার, ফ্রন্ট ডেস্ক ক্লার্ক, ব্যাংক টেলার এবং ডিসপ্যাচারসহ বিভিন্ন পদের জন্য নিয়োগদাতারা প্রার্থী খুঁজবেন।   দ্বিতীয় চাকরি মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে ২৮ জুলাই সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ব্রঙ্কসের BronxWorks Classic Community Center, ২৮৬ ইস্ট ১৫৬তম স্ট্রিটে। তবে দুপুর ১টার পর প্রবেশের সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।   এই আয়োজনে নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা সম্ভাব্য কর্মী নিয়োগের জন্য উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া কর্মসংস্থান উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিবন্ধনের সুযোগও থাকবে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের চাকরি মেলা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে। কারণ এখানে নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়, জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়া যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে একই দিনেই প্রাথমিক সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হয়, যা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।   যারা নিউইয়র্কে নতুন চাকরি খুঁজছেন বা পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এই দুটি চাকরি মেলা গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে চাকরি পাওয়া শিক্ষার্থী দিব্যা বানসাল। ছবি: সংগৃহীত
৪২০ বার রিজেকশন! তবুও হার মানেননি, নিউইয়র্কে চাকরি পেয়ে নেটদুনিয়ায় আলোচনায় এক শিক্ষার্থী

শত শতবার চাকরির আবেদন করেও বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে নিউইয়র্কে পড়াশোনা করা ভারতীয় শিক্ষার্থী দিব্যা বানসাল দেখিয়ে দিয়েছেন, অধ্যবসায় থাকলে সাফল্য একদিন আসবেই। ৪২০টি আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর অবশেষে নিউইয়র্কে চাকরি পেয়েছেন তিনি। তবে শুধু চাকরি পাওয়ার গল্প নয়, কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।   নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি (এনওয়াইইউ) থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করা দিব্যা বানসাল সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে নিজের কর্মজীবনের প্রথম দিনের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটির শুরুতেই লেখা ছিল, "৪২০টি প্রত্যাখ্যানের পর চাকরির প্রথম দিন।" এরপরই তার গল্প হাজারো মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলে। দিব্যা জানান, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি পাওয়া সহজ নয়। ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা, সীমিত সুযোগ এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ চাকরির বাজারের কারণে তিনি প্রায় ৪২০টি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে মাত্র তিনটি সাক্ষাৎকারের সুযোগ পান। শেষ পর্যন্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাকরির প্রস্তাব আসে এবং স্নাতক শেষ করার এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি নিউইয়র্কে নতুন চাকরিতে যোগ দেন।   ভিডিওতে দিব্যা বলেন, চাকরিটি তার জন্য একটি স্বপ্নপূরণ হলেও তিনি চান না তার পুরো জীবন শুধু কাজকে ঘিরেই আবর্তিত হোক। তার ভাষায়, চাকরি তার জীবনের একটি অংশ, যা তাকে নতুন কিছু শিখতে, নিজেকে গড়ে তুলতে এবং জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করবে। কিন্তু সেটিই তার পুরো পরিচয় নয়। তিনি এমন একটি জীবন গড়তে চান, যেখানে কাজ তার জীবনের অংশ হবে, জীবন কাজের নয়।   দিব্যা আরও বলেন, চাকরির পাশাপাশি তিনি নাচ, শরীরচর্চা, নিজের দেশের খাবার রান্না এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো চালিয়ে যেতে চান। তার বিশ্বাস, কেউ যদি নিজের পরিচয়কে শুধু পেশার মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে ফেলে, তাহলে একসময় সেই কাজের প্রতিও আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, "আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে সীমিত সুযোগ এবং ভিসার অনিশ্চয়তার মধ্যেও ৪২০টি প্রত্যাখ্যানের পর এই চাকরি পেয়েছি। এটি অবশ্যই আমার জন্য বড় অর্জন। কিন্তু এত বড় নয় যে, আমার পুরো জীবন এর চারপাশে ঘুরবে।"   দিব্যার এই বার্তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তার অধ্যবসায়ের প্রশংসা করেছেন। আবার অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মন্তব্য করে বলেছেন, কঠিন চাকরির বাজারে তার অভিজ্ঞতা তাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে। কর্মজীবন নিয়ে দিব্যার এই বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গিও প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকের মতে, পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক সুস্থতা এবং নিজের পছন্দের কাজের জন্য সময় রাখার যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের তিন অঙ্গরাজ্যে নতুন আইন কার্যকর, বদলাচ্ছে চাকরি, মজুরি ও সড়ক নিরাপত্তার নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে ১ জুলাই থেকে একগুচ্ছ নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। নতুন এসব বিধান শ্রমবাজার, সড়ক নিরাপত্তা, আবাসন, বিচারব্যবস্থা এবং কর্মীদের অধিকারসহ দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে।   ভার্জিনিয়ায় নতুন আইনের আওতায় অনেক নিয়োগদাতার জন্য চাকরির বিজ্ঞাপনে বেতনের পরিসর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীর পূর্ববর্তী বেতনের তথ্য জানতে চাওয়ার ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কিছু অপরাধের রেকর্ড সিল করার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান ও সামাজিক পুনর্বাসন সহজ হয়। সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত গতিসীমা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নতুন ব্যবস্থা এবং কিছু ক্ষেত্রে গাড়িতে গতি-নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহারের বিধানও কার্যকর হয়েছে। তবে আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত কয়েকটি আইন আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশের কারণে আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। মেরিল্যান্ডে চার শতাধিক নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর শাস্তি কঠোর করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন নীতিমালা, জননিরাপত্তা জোরদার এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক বিধির পরিবর্তন। কয়েকটি কাউন্টিতে স্থানীয় পর্যায়েও নতুন শ্রম ও প্রশাসনিক নিয়ম চালু হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে ১ জুলাই থেকে ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টাপ্রতি ১৮ দশমিক ৪০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে টিপসনির্ভর কর্মীদের ন্যূনতম মজুরিও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রেস্তোরাঁ ও সেবাখাতের হাজারো কর্মীর আয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নতুন আইনগুলো কার্যকর হওয়ার ফলে রাজধানী অঞ্চলের বাসিন্দাদের চাকরি, ব্যবসা, সড়ক ব্যবহার, ভাড়া, মজুরি এবং সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের নতুন আইন সম্পর্কে অবগত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

সিদ্দিকুর রহমান জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে হাইস্কুলে পড়েই চাকরি করে শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে হাইস্কুলে পড়েই কেন চাকরি করে শিক্ষার্থীরা? শুধু আয় নয়, ভবিষ্যৎ গড়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি

বাংলাদেশে নবম-দশম কিংবা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়া কোনো শিক্ষার্থী যদি কোনো রেস্টুরেন্ট, দোকান বা কফিশপে কাজ শুরু করে, অনেকেই প্রথমে ধরে নেন পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন থেকেই সে কাজ করছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে হাইস্কুলের অসংখ্য শিক্ষার্থী, এমনকি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারের সন্তানরাও নিয়মিত খণ্ডকালীন কাজ করে। এর মূল উদ্দেশ্য অর্থ উপার্জন নয়; বরং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন, দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও কর্মজীবনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা।   যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন শুধু পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে হয় না। বিশেষ করে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীর সামগ্রিক যোগ্যতা ও ব্যক্তিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি, সমাজসেবা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, গবেষণা এবং বাস্তব কর্ম-অভিজ্ঞতাও ভর্তি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।   শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করে, তাহলে সেটি তার দায়িত্বশীলতা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়। এ কারণে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীর কর্ম-অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে। তবে শুধু চাকরি করলেই যে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যাবে, বিষয়টি এমন নয়। একাডেমিক ফলাফল, ভর্তি প্রবন্ধ, সুপারিশপত্র, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি কর্ম-অভিজ্ঞতাও সামগ্রিক মূল্যায়নের একটি অংশ মাত্র।   যুক্তরাষ্ট্রে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা সাধারণত গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বেশি কাজ করে। আবার বিদ্যালয় চালু হলে অনেকে সপ্তাহান্তে বা প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা কাজ চালিয়ে যায়, যাতে পড়াশোনার কোনো ক্ষতি না হয়। তারা বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, কফিশপ, মুদি দোকান, সুপারমার্কেট, পোশাকের দোকান, গ্রন্থাগার কিংবা স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পায়।   এই কাজের মাধ্যমে তারা শুধু কিছু অর্থ উপার্জনই করে না, বরং গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা, সময়ানুবর্তিতা, দলগতভাবে কাজ করার অভ্যাস, দায়িত্ব পালন, সমস্যা সমাধান এবং অর্থ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতা অর্জন করে। অনেক অভিভাবকও মনে করেন, এসব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে সন্তানদের আরও আত্মনির্ভরশীল ও আত্মবিশ্বাসী হতে সহায়তা করে।   যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সৎ কাজকে ছোট করে দেখা হয় না। সমাজে এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যেখানে কর্মের ধরন নয়, বরং কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধকে বেশি মূল্য দেওয়া হয়। এর একটি আলোচিত উদাহরণ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Barack Obama-এর ছোট মেয়ে Sasha Obama। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে তিনি ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের মার্থাস ভিনইয়ার্ডের একটি সামুদ্রিক খাবারের রেস্টুরেন্টে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি কর্মী হিসেবে কাজ করেছিলেন। সেখানে তিনি অন্য কর্মীদের মতোই সাধারণ দায়িত্ব পালন করেন। বিষয়টি সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাস্তব কর্ম-অভিজ্ঞতার গুরুত্বকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।   অন্যদিকে বাংলাদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের কর্ম-অভিজ্ঞতার সুযোগ এখনও সীমিত। অধিকাংশ পরিবারে পরীক্ষার ফলাফলকেই ভবিষ্যৎ সাফল্যের প্রধান ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব খণ্ডকালীন কাজ বা শিক্ষানবিশ কর্মসূচির সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম।   শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি কিংবা সীমিত পরিসরে বাস্তব কর্ম-অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি করা গেলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী এবং কর্মমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা অন্তত সেই বার্তাই দেয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
সাড়ে ৪ লাখ ডলারের চাকরি ছেড়ে শুরু করেছিলেন ব্যবসা। ছবি: সংগৃহীত
সাড়ে ৪ লাখ ডলারের চাকরি ছেড়ে হালাল বারবিকিউ রেস্টুরেন্ট, প্রথম বছরেই আয় ২৩ লাখ ডলার

প্রযুক্তি খাতে বছরে সাড়ে ৪ লাখ ডলার আয়ের চাকরি ছেড়ে হালাল বারবিকিউ রেস্টুরেন্ট চালু করেছিলেন সালাহউদ্দিন আবদুল-কাফি। ঝুঁকিপূর্ণ সেই সিদ্ধান্তই এখন সফল ব্যবসায় রূপ নিয়েছে। টেক্সাসের তাঁর রেস্টুরেন্ট কাফি বারবিকিউ (Kafi BBQ) চালুর প্রথম বছরেই প্রায় ২৩ লাখ ডলার আয় করেছে। তবে এত আয়ের পরও তিনি এখন পর্যন্ত নিজের জন্য কোনো বেতন নেননি।   বিজনেস ইনসাইডার-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৫ বছর বয়সী সালাহউদ্দিন আবদুল-কাফি জানান, তিনি ১৪ বছর ধরে মাইক্রোসফট, গুগল, ইউটিউব, শপিফাই ও ক্রুজ-এর মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। কর্মজীবনের এক পর্যায়ে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার।   তবে সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি খাতের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন তিনি। তাঁর ভাষায়, মানুষের জীবন সহজ করার চেয়ে শুধু মুনাফাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিল। এরপর ৩৩ বছর বয়সে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো ছেড়ে টেক্সাসে একটি ধর্মীয় অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে আগের চাকরির তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি বেতন কমে যায়।   অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পাশাপাশি বন্ধুদের জন্য বারবিকিউ রান্না করতেন কাফি। বিশেষ করে তাঁর তৈরি হালাল ব্রিসকেট বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অনেকেই তাঁকে জানান, প্রচলিত বারবিকিউ রেস্টুরেন্টে শূকরের মাংস ব্যবহারের কারণে হালাল খাবার খেতে অনেকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তখনই তিনি শুধু হালাল বারবিকিউ নিয়ে ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করেন।   ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে টেক্সাসের আরভিং শহরে যাত্রা শুরু করে কাফি বারবিকিউ। উদ্বোধনের আগে তিন দিনের জন্য যত খাবার প্রস্তুত করা হয়েছিল, সবই প্রথম দিন শেষ হয়ে যায়। সেদিন রাতেই আবার নতুন করে রান্না শুরু করতে হয়।   অল্প সময়ের মধ্যেই রেস্টুরেন্টটি সুনাম অর্জন করে। ডি ম্যাগাজিন ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ অঞ্চলের সেরা ১২টি বারবিকিউ রেস্টুরেন্টের তালিকায় কাফি বারবিকিউকে স্থান দেয়। আর ইটার এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি সেরা নতুন রেস্টুরেন্টের একটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।   কাফি জানান, প্রথম বছরে তাঁদের মোট আয় হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ ডলার। চলতি বছর আয় ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশা করছেন তিনি। তবে ব্যবসার আয় বাড়লেও নিজের জন্য এখনো কোনো বেতন নেননি। ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকেই তিনি দৈনন্দিন খরচ চালাচ্ছেন।   এর কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। তাঁর রেস্টুরেন্টের প্রতি মাসে শুধু খাবারের উপকরণ কিনতেই খরচ হয় প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার। শ্রমিকদের বেতন বাবদ ব্যয় হয় আরও ৫০ হাজার ডলার। এ ছাড়া ভাড়া, বিদ্যুৎ, বিপণন, মসলা ও অন্যান্য খাতে মাসিক মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ডলার।   তিনি জানান, বর্তমানে রেস্টুরেন্টটি মাসিক ভিত্তিতে লাভ করছে। তবে ব্যবসা শুরু করতে যে প্রায় ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করতে হয়েছে, সেই অর্থ এখনো পুরোপুরি উঠে আসেনি। তাই আপাতত নিজের জন্য কোনো বেতন নেওয়ার পরিকল্পনা নেই।   প্রযুক্তি খাতের চাকরির তুলনায় এখন সপ্তাহে ৭০ থেকে ৮০ ঘণ্টা কাজ করলেও এই কাজ তাঁকে বেশি তৃপ্তি দেয় বলে জানান কাফি। তাঁর মতে, প্রতিদিন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়া, তাদের মতামত শোনা এবং নতুন নতুন খাবারের স্বাদ নিয়ে কাজ করাই তাঁর সবচেয়ে বড় আনন্দ।   তিনি বলেন, প্রযুক্তি খাত ছেড়ে এলেও আগের অভিজ্ঞতা ব্যবসায় কাজে লাগছে। রেস্টুরেন্ট খোলার আগে কয়েক মাস বাড়ি থেকে বারবিকিউ বিক্রি করে সম্ভাব্য ক্রেতাদের চাহিদা যাচাই করেন। পাশাপাশি মাংসের ওজন, উৎপাদন খরচ, বিক্রির পরিমাণসহ প্রতিটি তথ্য বিশ্লেষণ করে তারপরই বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন।   এখনো প্রতিটি রেসিপি গ্রাম হিসেবে মাপা উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয়, যাতে প্রতিবার একই মানের খাবার পরিবেশন করা যায়। নতুন কোনো খাবার চালুর পর তিনি নিজেই ক্রেতাদের মতামত নেন এবং প্রয়োজন হলে রেসিপিতে পরিবর্তন আনেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, তাঁদের জনপ্রিয় পোমেগ্রানেট বিফ বেলি বার্ন্ট এন্ডস রেসিপিটি চূড়ান্ত করার আগে সাতবার পরিবর্তন করা হয়েছিল।   কাফির ভাষায়, প্রযুক্তি খাত আর বারবিকিউ ব্যবসার মধ্যে পার্থক্য যতটা মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। দুই ক্ষেত্রেই নতুন ধারণা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সমস্যা সমাধান এবং পণ্যের মান উন্নয়নের কাজই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের সার্টিফিকেট দিয়ে কি যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা যায়? যা জানা জরুরি

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা সম্ভব কি না—এ প্রশ্ন অনেক প্রবাসী, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এবং নতুন অভিবাসীদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়। অভিজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ডিগ্রি দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্পোরেট কোম্পানি, আইটি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করা সম্ভব। এমনকি স্টেট ও ফেডারেল গভর্নমেন্টের চাকরিও করা যায়, বিশেষ কিছু ক্ষেত্র বাদে।   তবে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সার্টিফিকেট নয়, বরং আপনার দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং রেজ্যুমি বা বায়োডাটার মান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।   পেশাজীবীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি পাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো একটি শক্তিশালী, প্রফেশনাল এবং “ইউএস ফরম্যাট” বা আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তৈরি রেজ্যুমি। এখানে বাংলাদেশের প্রচলিত অনেক তথ্য সাধারণত ব্যবহার করা হয় না। যেমন—বাবা-মায়ের নাম, বৈবাহিক অবস্থা, গ্রামের বাড়ি, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা পরিবারের বিস্তারিত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের রেজ্যুমিতে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।   বরং রেজ্যুমিতে গুরুত্ব দিতে হয় আপনার প্রফেশনাল স্কিল, কাজের অভিজ্ঞতা, অর্জন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি আপনার আগের চাকরিতে কী ধরনের কাজ করেছেন, কী কী দায়িত্ব পালন করেছেন, কোন কোন সফটওয়্যার, টুলস বা টেকনোলজিতে দক্ষ—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে।   উদাহরণ হিসেবে, একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হলে তিনি কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম বা অটোমেশন টুলে কাজ করেছেন, তা উল্লেখ করবেন। আবার একজন অ্যাকাউন্ট্যান্ট হলে কোন ফিন্যান্স সফটওয়্যার বা রিপোর্টিং সিস্টেমে কাজ করেছেন, সেটি তুলে ধরতে হবে।   এছাড়া পূর্ববর্তী চাকরিতে কোনো বড় অর্জন বা অ্যাচিভমেন্ট থাকলে সেগুলোও রেজ্যুমিতে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—টিম লিড করা, প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করা, প্রসেস ইমপ্রুভমেন্ট বা কোম্পানির পারফরম্যান্স বৃদ্ধিতে অবদান রাখা ইত্যাদি।   রেজ্যুমির শেষ অংশে শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হয়। কেউ যদি বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করে থাকেন, তাহলে আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে সেটি উল্লেখ করা যায়। উদাহরণ হিসেবে:   ব্যাচেলর অব সায়েন্স - ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা, বাংলাদেশ অথবা মাস্টার্স ইন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন - ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা, বাংলাদেশ।   বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কোম্পানি বিদেশি ডিগ্রি সরাসরি গ্রহণ করলেও কিছু প্রতিষ্ঠান “ক্রেডেনশিয়াল ইভ্যালুয়েশন” বা ডিগ্রির সমমান যাচাই দেখতে চাইতে পারে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি ডিগ্রিকে আমেরিকান শিক্ষাব্যবস্থার সমমান হিসেবে মূল্যায়ন করে।   তবে বাস্তবে অধিকাংশ প্রাইভেট কোম্পানি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে আইটি, সফটওয়্যার, কাস্টমার সার্ভিস, বিজনেস অ্যানালাইসিস, ফিন্যান্স এবং বিভিন্ন কর্পোরেট চাকরিতে বাংলাদেশের ডিগ্রি নিয়ে সরাসরি আবেদন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা।   অন্যদিকে, কিছু লাইসেন্সভিত্তিক পেশা—যেমন ডাক্তার, আইনজীবী, নার্স বা নির্দিষ্ট সরকারি নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট চাকরিতে অতিরিক্ত পরীক্ষা, লাইসেন্স বা ডিগ্রি ইভ্যালুয়েশনের প্রয়োজন হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন কর্মরত এক আইটি বিশেষজ্ঞ জানান, তিনি গত ১৫ বছরে বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করেছেন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে আলাদা ডিগ্রি ইভ্যালুয়েশন দেখাতে হয়নি। তবে কিছু কোম্পানি তাদের নিজস্ব নীতিমালার কারণে ইভ্যালুয়েশন চাইতে পারে।   সবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—শুধু ডিগ্রি নয়, নিজের স্কিল উন্নয়ন, ইংরেজিতে দক্ষতা, লিংকডইন প্রোফাইল, নেটওয়ার্কিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী রেজ্যুমি তৈরি করাই চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নুরুল্লাহ সাইদ মে ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
বিসিসিতে বড় ধরনের ছাঁটাই: চাকরি হারাচ্ছেন ২০০০ কর্মী

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এবং প্রাচীন গণমাধ্যম ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (বিবিসি) তাদের কর্মী বাহিনীতে বড় ধরনের কাটছাঁটের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। খরচ কমানোর অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২,০০০ কর্মী ছাঁটাই করতে যাচ্ছে। গত ১৫ বছরের মধ্যে এটিই বিবিসির সবচেয়ে বড় আকারের কর্মী কমানোর ঘটনা। বুধবার বিকেলে এক অভ্যন্তরীণ সভায় কর্মীদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২১,৫০০ জন নিয়মিত কর্মী কাজ করছেন, যার মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ বা ২,০০০ কর্মী চাকরি হারাবেন। আগামী তিন বছরের মধ্যে বিবিসির বার্ষিক খরচ অন্তত ১০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী মাসে বিবিসির নতুন মহাপরিচালক (ডিরেক্টর জেনারেল) হিসেবে গুগল-এর সাবেক নির্বাহী ম্যাট ব্রিটিন দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তাঁর কার্যভার গ্রহণের ঠিক আগ মুহূর্তে এই ব্যাপক পরিবর্তনের ঘোষণা এলো। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিবিসি ৬০০ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয়ের একটি বিশাল পরিকল্পনা উন্মোচন করেছিল। বিবিসি এক বিবৃতিতে জানায়, "দ্রুত পরিবর্তনশীল মিডিয়া বাজারে আমরা ক্রমাগত আর্থিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছি। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো বিবিসিকে আরও উৎপাদনশীল করে তোলা এবং দর্শকদের উন্নতমানের সেবা নিশ্চিত করা।" এদিকে, এই বড় আকারের ছাঁটাইয়ের খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কর্মীদের সংগঠন ‘বেকটু’ (Bectu)। তারা আশঙ্কা করছে, একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক অভিজ্ঞ কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে বিবিসির বিশ্বখ্যাত সংবাদ পরিবেশন এবং পাবলিক মিশনের গুণগত মান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২: জাতীয় সংসদে বিল পাস

দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাসহ সব ধরনের সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন এই বয়সসীমা স্থায়ী আইনি রূপ পেল। রোববার বিকেলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী সংসদে ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাগুলোতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলের মূল দিকসমূহ: সর্বজনীন প্রয়োগ: বিসিএস (ক্যাডার) এবং বিসিএস বহির্ভূত সব পর্যায়ের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স এখন থেকে ৩২ বছর। অস্পষ্টতা নিরসন: পূর্বে জারিকৃত অধ্যাদেশের কারণে কিছু বিশেষায়িত পদের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া জটিলতা দূর করা হয়েছে। যেসব পদে আগে থেকেই বয়সসীমা ৩২ বছরের বেশি ছিল, সেই নিয়মগুলো অপরিবর্তিত থাকবে। আইনি ভিত্তি: ২০২৪ ও ২০২৫ সালে জারি করা দুটি অধ্যাদেশ রহিত করে বিষয়টিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী আইনে রূপ দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষিত তরুণ সমাজকে দেশ গঠনে অধিকতর সম্পৃক্ত করা এবং শ্রমবাজারে ইতিবাচক গতিশীলতা আনাই এই বিলের প্রধান উদ্দেশ্য। এই সিদ্ধান্তের ফলে লাখো চাকরিপ্রার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ৪, ২০২৬ ১৪:০
বিশ্বের কোটি মানুষের কাছে আমেরিকা ছিল “স্বপ্নের দেশ”
স্বপ্নের আমেরিকা এখন অনিশ্চিত? নিরাপদ বিকল্প হয়ে উঠছে কানাডা

দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের কোটি মানুষের কাছে আমেরিকা ছিল “স্বপ্নের দেশ”—এর পেছনে ছিল বাস্তব ও শক্তিশালী কিছু কারণ। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি, বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজের সুযোগ, উচ্চ বেতনের চাকরি, উন্নত প্রযুক্তি ও গবেষণার পরিবেশ—সবকিছুই মানুষকে আকৃষ্ট করেছে আমেরিকার দিকে।   বিশেষ করে আইটি, স্বাস্থ্যসেবা, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ব্যবসায়িক খাতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রকে করেছে অনন্য। পাশাপাশি শক্তিশালী ডলার, বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরিশ্রম করলে দ্রুত উন্নতির বাস্তব উদাহরণ—এই সবকিছু মিলিয়েই বহু বছর ধরে অভিবাসীদের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ছিল সাফল্য ও সম্ভাবনার প্রতীক।   তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্রে ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি বড় অংশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে কানাডা কে বেশি নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতা এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ। কর্মভিত্তিক ভিসা, গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে অনেক আবেদনকারীকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পাশাপাশি ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বৃদ্ধি এবং নীতিমালার ঘনঘন পরিবর্তন অনেকের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।   অন্যদিকে, কানাডা তুলনামূলকভাবে সহজ ও পরিকল্পিত অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। দক্ষ কর্মীদের জন্য এক্সপ্রেস এন্ট্রি এবং বিভিন্ন প্রভিন্সিয়াল প্রোগ্রামের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দিচ্ছে দেশটি। ফলে যারা দ্রুত স্থায়ী হতে চান, তাদের কাছে কানাডা এখন বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।   এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কানাডা অনেক অভিবাসীর কাছে এগিয়ে রয়েছে। পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য দেশটিকে অনেকেই বেশি উপযোগী মনে করছেন। কম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অভিবাসীবান্ধব নীতিমালা কানাডাকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলছে।   তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তি এবং সুযোগের কেন্দ্র। তাই দেশটির আকর্ষণ পুরোপুরি কমে যায়নি। বরং বর্তমান বাস্তবতায় অভিবাসনপ্রত্যাশীরা এখন দুটি বিষয়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০