ওহাইওতে এক মাসের অভিযানে ৭৯ নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করল মার্কিন মার্শালরা
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে এক মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানে নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা ৭৯ শিশুকে খুঁজে বের করেছে ইউএস মার্শাল সার্ভিস। সংস্থাটির দাবি, এটি ওহাইওর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের অভিযান। ‘অপারেশন মেরিডিয়ান’ নামে অভিযানটি আগস্টজুড়ে ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত হয়।
উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স ৬ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ এক ছিল না। কিছু শিশু নিখোঁজ হয়েছিল পালিয়ে যাওয়ার কারণে, আবার কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন, অবহেলা, সম্ভাব্য মানব পাচার এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির বিষয় ছিল। তদন্তকারীরা শিশুদের খুঁজতে ওহাইওর বিভিন্ন এলাকায় কাজ করার পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যের বাইরেও অনুসন্ধান চালান। কয়েকটি শিশুকে জর্জিয়া পর্যন্ত গিয়ে খুঁজে বের করা হয়।
ইউএস মার্শাল সার্ভিসের নর্দার্ন ও সাদার্ন ডিস্ট্রিক্টের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে এফবিআই, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, ওহাইও ব্যুরো অব ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন, স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফের কার্যালয়সহ বহু সংস্থা অংশ নেয়। আকরন, ক্লিভল্যান্ড, কলম্বাস ও টলিডোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোও বিভিন্ন মামলায় সরাসরি কাজ করেছে।
অভিযানের একটি ঘটনায় কলম্বাস এলাকার দুই বোনকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনা বিশেষভাবে সামনে এসেছে। ১৩ ও ১৬ বছর বয়সী দুই বোনের একজনকে ২০২৪ সালের জুলাই এবং অন্যজনকে ২০২৬ সালের এপ্রিলে নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা কলম্বাস পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের খোঁজ শুরু করেন।
তদন্তের সূত্র ধরে লকবোর্নের একটি বাড়িতে গিয়ে ১৩ বছর বয়সী মেয়েটিকে খুঁজে পান কর্মকর্তারা। ইউএস মার্শাল সার্ভিস জানিয়েছে, বাড়িটির একটি শোবার ঘরের আলমারির মেঝের নিচে থাকা বেজমেন্টের একটি গোপন জায়গায় তাকে পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় মেয়েদের মাকে ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টির একটি পুরোনো প্রবেশন লঙ্ঘনের পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তের সময় পাওয়া অতিরিক্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরে ১৬ বছর বয়সী বোনটির অবস্থানও শনাক্ত করা হয়। তাকে কলম্বাসের একটি রেস্তোরাঁ থেকে উদ্ধার করা হয়। দুই বোনকে উদ্ধারের পর তাদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়।
আরেকটি ঘটনায় টলিডোতে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে খুঁজে বের করা হয়। ১৮ আগস্ট তাকে নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। ইউএস মার্শাল সার্ভিস জানিয়েছে, ওই কিশোরীকে আগে মানব পাচারের শিকার হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। টলিডো পুলিশ এবং ইউএস মার্শালদের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ দল ওহাইও ও মিশিগানে বিভিন্ন সূত্র অনুসরণ করে তার অবস্থান শনাক্ত করে।
পরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মেয়েটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সঙ্গে থাকতে পারে। টলিডোর একটি ঠিকানায় দুজনকে খুঁজে পাওয়া যায়। কিশোরীটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে হাসপাতালে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
শিশুদের উদ্ধারের পর তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই পুরো প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ নয় বলে জানিয়েছে ইউএস মার্শাল সার্ভিস। শিশু ও পরিবারবিষয়ক সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার হওয়া শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং সামাজিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এসব সহায়তার মধ্যে মানসিক আঘাত মোকাবিলায় পরামর্শ, পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
অভিযানে বিশেষভাবে যুক্ত ছিলেন আমান্ডা বেরি। ক্লিভল্যান্ডের এই নারী ২০০৩ সালে অপহৃত হওয়ার পর প্রায় এক দশক বন্দি ছিলেন এবং ২০১৩ সালে পালিয়ে মুক্ত হন। পরে তিনি নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে আসছেন।
অপারেশন মেরিডিয়ান শুরুর আগে বেরি ইউএস মার্শালদের দলের সঙ্গে কথা বলেন। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিটি নিখোঁজ শিশুকে নিজেদের সন্তানের মতো বিবেচনা করে খোঁজার আহ্বান জানান। ইউএস মার্শাল পিট এলিয়ট বলেন, কর্মকর্তারা সেই পরামর্শ অনুসরণ করেই কাজ করেছেন।
ইউএস মার্শাল সার্ভিসের কর্মকর্তা মাইকেল ব্ল্যাক বলেন, তাদের সংস্থা সাধারণত পলাতক আসামিদের খুঁজে বের করতে যে দক্ষতা ও অনুসন্ধান পদ্ধতি ব্যবহার করে, একই সক্ষমতা নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের উদ্ধারের ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় এই অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল।
তবে ৭৯ শিশুর উদ্ধারের সঙ্গে কতজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে ইউএস মার্শাল সার্ভিস কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, উদ্ধার হওয়া সব শিশু যে মানব পাচারের শিকার ছিল, এমন নয়। তাদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি ছিল, যার মধ্যে পালিয়ে যাওয়া, নির্যাতন, অবহেলা এবং অন্যান্য ঝুঁকিও রয়েছে।
ইউএস মার্শাল সার্ভিসের হিসাবে, আগস্টজুড়ে পরিচালিত অপারেশন মেরিডিয়ানে ৭৯ শিশুকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনা ওহাইওতে এ ধরনের একক অভিযানে সর্বোচ্চ। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি শিশুকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা শুধু একটি নিখোঁজ মামলা সমাধান নয়, বরং তাদের আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়া ঠেকানোরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সূত্র: ইউএস মার্শাল সার্ভিস, সিবিএস নিউজ এবং ওহাইওর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে এক মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানে নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা ৭৯ শিশুকে খুঁজে বের করেছে ইউএস মার্শাল সার্ভিস। সংস্থাটির দাবি, এটি ওহাইওর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের অভিযান। ‘অপারেশন মেরিডিয়ান’ নামে অভিযানটি আগস্টজুড়ে ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স ৬ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ এক ছিল না। কিছু শিশু নিখোঁজ হয়েছিল পালিয়ে যাওয়ার কারণে, আবার কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন, অবহেলা, সম্ভাব্য মানব পাচার এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির বিষয় ছিল। তদন্তকারীরা শিশুদের খুঁজতে ওহাইওর বিভিন্ন এলাকায় কাজ করার পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যের বাইরেও অনুসন্ধান চালান। কয়েকটি শিশুকে জর্জিয়া পর্যন্ত গিয়ে খুঁজে বের করা হয়। ইউএস মার্শাল সার্ভিসের নর্দার্ন ও সাদার্ন ডিস্ট্রিক্টের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে এফবিআই, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, ওহাইও ব্যুরো অব ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন, স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফের কার্যালয়সহ বহু সংস্থা অংশ নেয়। আকরন, ক্লিভল্যান্ড, কলম্বাস ও টলিডোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোও বিভিন্ন মামলায় সরাসরি কাজ করেছে। অভিযানের একটি ঘটনায় কলম্বাস এলাকার দুই বোনকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনা বিশেষভাবে সামনে এসেছে। ১৩ ও ১৬ বছর বয়সী দুই বোনের একজনকে ২০২৪ সালের জুলাই এবং অন্যজনকে ২০২৬ সালের এপ্রিলে নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা কলম্বাস পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের খোঁজ শুরু করেন। তদন্তের সূত্র ধরে লকবোর্নের একটি বাড়িতে গিয়ে ১৩ বছর বয়সী মেয়েটিকে খুঁজে পান কর্মকর্তারা। ইউএস মার্শাল সার্ভিস জানিয়েছে, বাড়িটির একটি শোবার ঘরের আলমারির মেঝের নিচে থাকা বেজমেন্টের একটি গোপন জায়গায় তাকে পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় মেয়েদের মাকে ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টির একটি পুরোনো প্রবেশন লঙ্ঘনের পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের সময় পাওয়া অতিরিক্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরে ১৬ বছর বয়সী বোনটির অবস্থানও শনাক্ত করা হয়। তাকে কলম্বাসের একটি রেস্তোরাঁ থেকে উদ্ধার করা হয়। দুই বোনকে উদ্ধারের পর তাদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। আরেকটি ঘটনায় টলিডোতে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে খুঁজে বের করা হয়। ১৮ আগস্ট তাকে নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। ইউএস মার্শাল সার্ভিস জানিয়েছে, ওই কিশোরীকে আগে মানব পাচারের শিকার হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। টলিডো পুলিশ এবং ইউএস মার্শালদের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ দল ওহাইও ও মিশিগানে বিভিন্ন সূত্র অনুসরণ করে তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মেয়েটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সঙ্গে থাকতে পারে। টলিডোর একটি ঠিকানায় দুজনকে খুঁজে পাওয়া যায়। কিশোরীটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে হাসপাতালে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। শিশুদের উদ্ধারের পর তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই পুরো প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ নয় বলে জানিয়েছে ইউএস মার্শাল সার্ভিস। শিশু ও পরিবারবিষয়ক সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার হওয়া শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং সামাজিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এসব সহায়তার মধ্যে মানসিক আঘাত মোকাবিলায় পরামর্শ, পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। অভিযানে বিশেষভাবে যুক্ত ছিলেন আমান্ডা বেরি। ক্লিভল্যান্ডের এই নারী ২০০৩ সালে অপহৃত হওয়ার পর প্রায় এক দশক বন্দি ছিলেন এবং ২০১৩ সালে পালিয়ে মুক্ত হন। পরে তিনি নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে আসছেন। অপারেশন মেরিডিয়ান শুরুর আগে বেরি ইউএস মার্শালদের দলের সঙ্গে কথা বলেন। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিটি নিখোঁজ শিশুকে নিজেদের সন্তানের মতো বিবেচনা করে খোঁজার আহ্বান জানান। ইউএস মার্শাল পিট এলিয়ট বলেন, কর্মকর্তারা সেই পরামর্শ অনুসরণ করেই কাজ করেছেন। ইউএস মার্শাল সার্ভিসের কর্মকর্তা মাইকেল ব্ল্যাক বলেন, তাদের সংস্থা সাধারণত পলাতক আসামিদের খুঁজে বের করতে যে দক্ষতা ও অনুসন্ধান পদ্ধতি ব্যবহার করে, একই সক্ষমতা নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের উদ্ধারের ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় এই অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল। তবে ৭৯ শিশুর উদ্ধারের সঙ্গে কতজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে ইউএস মার্শাল সার্ভিস কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, উদ্ধার হওয়া সব শিশু যে মানব পাচারের শিকার ছিল, এমন নয়। তাদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি ছিল, যার মধ্যে পালিয়ে যাওয়া, নির্যাতন, অবহেলা এবং অন্যান্য ঝুঁকিও রয়েছে। ইউএস মার্শাল সার্ভিসের হিসাবে, আগস্টজুড়ে পরিচালিত অপারেশন মেরিডিয়ানে ৭৯ শিশুকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনা ওহাইওতে এ ধরনের একক অভিযানে সর্বোচ্চ। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি শিশুকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা শুধু একটি নিখোঁজ মামলা সমাধান নয়, বরং তাদের আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়া ঠেকানোরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সূত্র: ইউএস মার্শাল সার্ভিস, সিবিএস নিউজ এবং ওহাইওর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
গৃহযুদ্ধের আগে ‘সন্তানের বাহিনী’ গড়তে চেয়েছিলেন ইলন মাস্ক, দাবি প্রাক্তন সঙ্গীর
নিউইয়র্কের গির্জায় আবারও কুরআন ছিঁড়লেন ট্রাম্পের ক্ষমাপ্রাপ্ত জেক ল্যাং
যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ কোটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ফাঁসের দাবি, তদন্তে এফবিআই
নিউইয়র্ক সিটিতে আবাসিক ভবনের ট্র্যাশ ব্যবস্থাপনায় নতুন নিয়ম আজ, মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর থেকে পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে। ১ থেকে ৯টি আবাসিক ইউনিটের ভবনে সাধারণ ট্র্যাশ বাইরে রাখার ক্ষেত্রে এখন থেকে অফিসিয়াল NYC বিন ব্যবহার করতে হবে। নিয়ম না মানলে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব স্যানিটেশন বা ডিএসএনই সামন্স জারি করে জরিমানা করতে পারবে। নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ নিউইয়র্কের বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য। যেসব বাংলাদেশি পরিবার এক বা দুই পরিবারের বাড়ির মালিক কিংবা ৯টি পর্যন্ত আবাসিক ইউনিট রয়েছে এমন ভবনের মালিক বা ম্যানেজার, তাদের ট্র্যাশ নির্ধারিত বিনে রাখতে হবে। ভবনের বাসিন্দাদের উৎপাদিত সব ট্র্যাশ রাখার জন্য পর্যাপ্ত বিনের ব্যবস্থা করার দায়িত্বও মালিক বা বিল্ডিং ম্যানেজারের। ডিএসএনই জানিয়েছে, ১ জুন ২০২৬ থেকেই ১ থেকে ৯টি আবাসিক ইউনিটের ভবনের জন্য অফিসিয়াল NYC বিন ব্যবহারের নিয়ম কার্যকর ছিল। তবে নিয়মটি বাস্তবায়নের আগে বাসিন্দা ও সম্পত্তির মালিকদের প্রস্তুতির সুযোগ দিতে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সতর্কতামূলক সময় দেওয়া হয়। সেই সময় শেষ হওয়ার পর ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে পূর্ণাঙ্গ এনফোর্সমেন্ট। জরিমানার পরিমাণ অপরাধের সংখ্যার ওপর নির্ভর করবে। প্রথমবার নিয়ম ভাঙলে ৫০ ডলার, দ্বিতীয়বার ১০০ ডলার এবং তৃতীয় ও পরবর্তী অপরাধে ২০০ ডলার জরিমানা হতে পারে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ২০০ ডলারের জরিমানা প্রযোজ্য হবে তৃতীয় ও পরবর্তী লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে। শুধু নির্দিষ্ট বিন ব্যবহার করলেই হবে না, ট্র্যাশের বিনেরও কিছু শর্ত রয়েছে। ট্র্যাশ রাখার জন্য সর্বোচ্চ ৫৫ গ্যালনের বিন ব্যবহার করতে হবে এবং বিনের ঢাকনা নিরাপদভাবে বন্ধ থাকতে হবে। বিন উপচে ট্র্যাশ বাইরে পড়ে থাকলেও জরিমানার ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমানে অফিসিয়াল NYC বিন বিভিন্ন আকারে পাওয়া যাচ্ছে। ৪৫ গ্যালনের বিন একাধিক আবাসিক ইউনিটের ভবনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। ছোট একক পরিবারের বাড়ির জন্য ৩৫ গ্যালনের বিন এবং জায়গা কম থাকা বা কম ট্র্যাশ উৎপাদনকারী বাড়ির জন্য ২৫ গ্যালনের বিনও রয়েছে। তবে রিসাইক্লিং ও কম্পোস্টের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। রিসাইক্লিংয়ের জন্য অফিসিয়াল NYC বিন কেনা বাধ্যতামূলক নয়। রিসাইক্লিং উপযুক্ত যেকোনো কনটেইনারে অথবা স্বচ্ছ প্লাস্টিক ব্যাগে রাখা যায়। কম্পোস্টও ঢাকনাযুক্ত ও সঠিকভাবে চিহ্নিত উপযুক্ত বিনে রাখা যাবে। নিউইয়র্ক সিটি বলছে, এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো রাস্তায় পড়ে থাকা কালো ট্র্যাশ ব্যাগ কমানো, জনসাধারণের জায়গা পরিষ্কার রাখা এবং ইঁদুরসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের সমস্যা কমানো। নতুন NYC বিন গুলো ইঁদুর প্রতিরোধী এবং স্যানিটেশন বিভাগের নতুন যান্ত্রিক ট্র্যাশ সংগ্রহ ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শুধু ১ থেকে ৯টি আবাসিক ইউনিটের ভবন নয়, বড় ভবনগুলোর ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে কন্টেইনারাইজেশন ব্যবস্থা চালু করছে নিউইয়র্ক সিটি। ৩১ বা তার বেশি আবাসিক ইউনিটের ভবনগুলোতে নির্দিষ্ট এলাকায় এম্পায়ার বিন ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ১০ থেকে ৩০ ইউনিটের ভবনগুলোর ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে নতুন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক সিটির সব আবাসিক ট্র্যাশকে ধীরে ধীরে কন্টেইনারাইজেশন ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে আবাসিক ভবনের মালিক, ম্যানেজার ও ভাড়াটিয়াদের জন্য নতুন ট্র্যাশ ব্যবস্থাপনা নিয়ম সম্পর্কে এখন থেকেই সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
মুসলিম পরিচয় ঘিরে আক্রমণের মাঝেও মিশিগান থেকে সিনেটের পথে এগিয়ে আবদুল এল-সাইদ
লং আইল্যান্ডে নিজের ছেলের ছুরিকাঘাতে ৬৯ বছরের বাবার মৃত্যু, মৃত্যুর আগে ৯১১-এ শেষ ফোন
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের দুই বছরের সন্তানকে ফাঁস দিয়ে হত্যার পর নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা, গ্রেপ্তার মা
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের বার্ষিক আয় কত হলে তাকে নিম্ন আয়ের, মধ্যম আয়ের বা উচ্চ আয়ের পরিবার বলা যায়? এর কোনো একক সরকারি সীমা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য এবং পিউ রিসার্চ সেন্টারের বহুল ব্যবহৃত আয়ভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি তার পরিবারের আয় কোন স্তরে রয়েছে, সে সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়। আদমশুমারি ব্যুরোর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে একটি পরিবারের প্রকৃত মধ্যম আয় ছিল ৮৩ হাজার ৭৩০ ডলার। অর্থাৎ অর্ধেক পরিবারের আয় এর চেয়ে বেশি এবং বাকি অর্ধেকের আয় এর চেয়ে কম। ২০২৩ সালে এই আয় ছিল ৮২ হাজার ৬৯০ ডলার। পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাবে, মধ্যম আয়ের পরিবার বলতে সাধারণভাবে জাতীয় মধ্যম আয়ের দুই-তৃতীয়াংশ থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত আয়কে বোঝানো হয়। তবে এই হিসাব করার সময় পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং বসবাসের এলাকার জীবনযাত্রার খরচও বিবেচনায় নেওয়া হয়। শুধু জাতীয় মধ্যম আয় ৮৩ হাজার ৭৩০ ডলার ধরে সরল হিসাব করলে এর দুই-তৃতীয়াংশ প্রায় ৫৫ হাজার ৮২০ ডলার এবং দ্বিগুণ প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬০ ডলার। ফলে এই পদ্ধতিতে প্রায় ৫৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৬৭ হাজার ডলারের মধ্যে আয় করা পরিবারকে মোটামুটি মধ্যম আয়ের পরিসরে দেখা যেতে পারে। তবে এটি কোনো সরকারি নির্ধারিত সীমা নয় এবং পরিবারের আকার ও এলাকার জীবনযাত্রার খরচ অনুযায়ী প্রকৃত শ্রেণি পরিবর্তিত হতে পারে। এর নিচে থাকা পরিবারগুলোকে পিউ রিসার্চ সেন্টারের পদ্ধতিতে নিম্ন আয়ের এবং এর ওপরে থাকা পরিবারগুলোকে উচ্চ আয়ের শ্রেণিতে ধরা হয়। তবে নিম্ন আয় মানেই সরকারি হিসাবে দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা নয়। এখানেই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ২০২৬ সালের দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ী, ৪ সদস্যের একটি পরিবারের জন্য ৪৮টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে বার্ষিক দারিদ্র্যসীমা ৩৩ হাজার ডলার। এই সীমা মূলত কিছু সরকারি সুবিধার আর্থিক যোগ্যতা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ বছরে ৫০ হাজার ডলার আয় করা একটি পরিবারকে সরাসরি দরিদ্র পরিবার বলা যাবে না। একইভাবে ১ লাখ ডলার আয় করলেই যে প্রতিটি পরিবারের জীবনযাত্রা একই রকম হবে, সেটিও ঠিক নয়। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া বা বোস্টনের মতো ব্যয়বহুল এলাকায় একই আয় দিয়ে যে জীবনযাপন সম্ভব, কম খরচের এলাকায় তার চেয়ে ভিন্ন হতে পারে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২২ সালের বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মধ্যম আয়ের পরিবারের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই হিসাবও পরিবারের আকার ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের পার্থ্যক্য বিবেচনা করে করা হয়েছে। তাই আপনার পরিবারের আয় যদি ৬০ হাজার, ৮০ হাজার, ১ লাখ, ১ লাখ ৫০ হাজার বা ২ লাখ ডলার হয়, শুধু একটি জাতীয় সংখ্যা দেখে নিজের অবস্থান চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা ঠিক হবে না। পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং আপনি কোথায় থাকেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে ‘নিম্ন-মধ্যম’, ‘মধ্যম’ বা ‘উচ্চ’ আয়ের কোনো একক ফেডারেল আয়সীমা নেই। এগুলো মূলত আয় তুলনা করার বিভিন্ন অর্থনৈতিক পদ্ধতির অংশ। তাই নিজের পরিবারের আয় দিয়ে হিসাব করার সময় জাতীয় মধ্যম আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং স্থানীয় জীবনযাত্রার খরচ একসঙ্গে বিবেচনা করাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত।
আইসিইর চাওয়া ১২ লাখ ৮০ হাজার মানুষের তথ্য আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্রের আপিল কোর্ট
৯/১১-এর ২৫ বছর পর ট্রাম্পের দাবি, ‘গ্রাউন্ড জিরো থেকে আমাকে উদ্ধার করেছিলেন দমকলকর্মীরা’