ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত রিপাবলিকানরা, সন্দিহান ভোটাররা
মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের চেক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার এই অভাবনীয় প্রতিশ্রুতিতে খোদ রিপাবলিকান মিত্ররাই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন এবং সাধারণ ভোটারদের মাঝেও ব্যাপক সংশয় দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এই নীতি তদারকির দায়িত্বে থাকা সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, যা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিতরণের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আরও বেশি ধোঁয়াশার সৃষ্টি করেছে।
সাধারণ ভোটাররাও ট্রাম্পের এই আশ্বাসকে খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন না। নর্থ ক্যারোলিনার এক বাসিন্দা, যিনি আগে তিনবার ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন, সম্প্রতি এনবিসি নিউজকে তার হতাশার কথা জানিয়েছেন।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "আমি এখনও আমার শুল্কের চেকের (ট্যারিফ চেক) জন্য অপেক্ষা করছি, আর অপেক্ষা করছি কবে জ্বালানি তেলের দাম কমবে।"
তার এই বক্তব্যেই স্পষ্ট যে, ট্রাম্পের আগের অনেক প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় কট্টর সমর্থক ও ভোটাররা এখন তার নতুন কোনো অর্থনৈতিক আশ্বাস সহজে বিশ্বাস করতে চাইছেন না।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreজাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর আগমনকে সামনে রেখে তাঁকে স্বাগত জানাতে ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া ও ম্যারিল্যান্ডের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রস্তুতি চলছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ‘চল চল, নিউইয়র্ক চলো’ কর্মসূচির আওতায় গ্রেটার ওয়াশিংটন বিএনপির নেতা এজেএম হোসেনের নেতৃত্বে এসব প্রস্তুতি চলছে। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে ধারাবাহিক মতবিনিময়, গণসংযোগ ও প্রস্তুতি সভা করা হচ্ছে। ১৬ সেপ্টেম্বর ভার্জিনিয়ার স্প্রিংফিল্ডের কমফোর্ট ইন-এ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের গণসংবর্ধনা ও নিউইয়র্ক যাত্রার প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া ও ম্যারিল্যান্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় ডেরা রেস্টুরেন্টে আরেকটি আলোচনা ও প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৮ সেপ্টেম্বর কাবাব কিং রেস্টুরেন্টে নেতাকর্মীদের নিয়ে আরও একটি মিলন ও গণসংযোগ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। পাশাপাশি ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে উপস্থিত থাকার জন্যও নেতাকর্মীদের আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে ২৪ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর সফরে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং বাংলাদেশ আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক আলোচনায় অংশ নেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে। এজেএম হোসেন বলেন, ওয়াশিংটন বিএনপি অতীতের মতো বর্তমানেও দলীয় কর্মসূচিতে ভূমিকা রাখবে। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর আহ্বান জানান।
ক্যালিফোর্নিয়ায় হুইলচেয়ারে থাকা ব্যক্তিকে চাপা দিয়ে পালাল গাড়ি, র ক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে মৃ ত্যু
ক্যালিফোর্নিয়ায় দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুতে অভিযুক্ত পলাতক অবৈধ ট্রাকচালক গ্রেপ্তার
ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত রিপাবলিকানরা, সন্দিহান ভোটাররা
ভুয়া মার্কিন নাগরিকত্ব ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মহাকাশ ও সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে টানা ৩০ বছর চাকরি করার অভিযোগে এক মেক্সিকান নারীকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। ক্যালিফোর্নিয়ার সাউথ লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে আলমা প্যাট্রিসিয়া কনট্রেরাস ভিলাফানা নামের ৫৪ বছর বয়সী ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। তিনি ‘হাউমেট অ্যারোস্পেস’ নামের একটি কারখানায় যন্ত্রবিদ হিসেবে কাজ করতেন। গ্রেপ্তারের আগে তিনি কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় কারখানার একটি কনফারেন্স রুমে লুকিয়ে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি বেরিয়ে এলে এজেন্টরা তাকে হাতকড়া পরান। আদালতের নথি থেকে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে ওই নারী নিজেকে মার্কিন নাগরিক দাবি করে হাউমেট-এর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানে প্রথম চাকরি পান। অথচ ২০০৩ সালেই একজন অভিবাসন বিচারক তাকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। চাকরি বাঁচাতে চলতি বছর তিনি আবারও ভুয়া নাগরিকত্ব দাবি করে অন্য এক ব্যক্তির ন্যাচারালাইজেশন নম্বর ব্যবহার করেন। দীর্ঘ ৩০ বছরের এই চাকরিতে তিনি অন্তত ১৪ লাখ ২ হাজার ৪৫৯ ডলার বেতন হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণা, ভুয়া নথির ব্যবহার, পরিচয় চুরি এবং মিথ্যা নাগরিকত্ব দাবিসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসায়লি জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একটি সামরিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে এভাবে ভুয়া পরিচয়ে কাজ করা দেশের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। হাউমেট অ্যারোস্পেস মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য এফ-৩৫ ফাইটার জেটের মতো অত্যাধুনিক বিমানের বিভিন্ন সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ তৈরি করে থাকে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভিলাফানাকে প্রতারণার প্রতিটি ধারায় সর্বোচ্চ ২০ বছরসহ অন্যান্য অভিযোগে আরও দীর্ঘ মেয়াদী কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।
২১ বছরের নিচে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করা অসাংবিধানিক: মার্কিন বিচার বিভাগ
জর্জিয়ায় স্কুল বাসে ঢুকে চালকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, ৩ অভিভাবকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
মিশিগানে নদীতে ডুবে দুই তরুণী মায়ের মৃ ত্যু, সন্তানদের রেখে চিরবিদায় ২৪ বছরের ভ্যানেসার
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বাস্থ্যবিমা থাকলেও তারা চিকিৎসা ঋণের পাহাড় জমিয়ে তুলছেন। দ্য কমনওয়েলথ ফান্ড নামের একটি নির্দলীয় স্বাস্থ্য নীতি গবেষণা গ্রুপের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগকর্তা, 'অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট' মার্কেটপ্লেস বা বেসরকারি খাত থেকে স্বাস্থ্যবিমা নেওয়া প্রতি তিনজন আমেরিকানের মধ্যে একজন চিকিৎসা ঋণের কবলে পড়েছেন। তারা সময়ের সাথে সাথে কিস্তিতে এই ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই ঋণের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, হাসপাতালের বিল থেকেই তাদের এই ঋণের সূত্রপাত। এছাড়া নিয়মিত চেকআপ, চিকিৎসকের চেম্বারে যাওয়া এবং ল্যাব বা ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার মতো সাধারণ চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়েও রোগীরা ঋণের সম্মুখীন হচ্ছেন। গবেষণার প্রধান লেখক ও স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ সারা কলিন্স সিবিএস নিউজকে জানান, বিমা থাকার পরও রোগীদের নিজেদের পকেট থেকে ঠিক কতটা খরচ করতে হচ্ছে, মূলত তার ওপর ভিত্তি করেই এই ঋণের বিশাল বোঝা তৈরি হয়। জরিপের তথ্যমতে, চিকিৎসা ঋণে থাকা প্রায় অর্ধেক আমেরিকানের অন্তত দুই হাজার ডলার বা তার বেশি ঋণ রয়েছে, যা কর্মক্ষম ও বেসরকারি বিমাভুক্ত প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৫ শতাংশ। এই বিল পরিশোধ করতে গিয়ে ৩৭ শতাংশ মানুষ তাদের জমানো সঞ্চয় ভেঙেছেন। অন্যদিকে, ৩০ শতাংশ মানুষ বাধ্য হয়ে খাবার, ঘর গরম রাখার জ্বালানি বা বাড়ি ভাড়ার মতো দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদাগুলো কমিয়ে দিয়েছেন। এমনকি টাকার অভাবে ৩০ শতাংশ মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে দেরি করছেন বা একেবারেই নিচ্ছেন না। সারা কলিন্সের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ মানুষের কাছেই অতিরিক্ত নগদ অর্থ থাকে না। আকস্মিক কোনো বড় খরচ সামনে এলে তা বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের দৈনন্দিন বাজেটকে পুরোপুরি এলোমেলো করে দেয়। দেশব্যাপী ৬ হাজার ৩৫৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ওপর টেলিফোন ও অনলাইনে পরিচালিত এক জরিপের ভিত্তিতে এই তথ্যগুলো প্রকাশ করা হয়েছে। বিশাল এই চিকিৎসা ঋণের বোঝা থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক সময় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো ভুল চার্জ যুক্ত করে বিল পাঠায়, তাই কোনো অসংগতি মনে হলে গ্রাহকদের অবশ্যই সেই বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত। যদিও ক্রেডিট স্কোর কমার ভয়ে অনেকেই এটি করতে দ্বিধাবোধ করেন, তবে প্রকৃত বিল যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া, কোনো চিকিৎসার জন্য বিমা কভারেজ প্রত্যাখ্যান করা হলে গ্রাহকরা তাদের বিমা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কিস্তিতে বিল পরিশোধের সুবিধা বা নিজস্ব খরচের পরিমাণ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে পারেন।
নিউ জার্সিতে ফিলিস্তিনপন্থী শিল্পীকে বাদ দেওয়ার জেরে এড শিরানের কনসার্ট বয়কটের আহ্বান
'আমি পেডোফাইল হতে ভালোবাসি': শিশু প/র্নো/গ্রাফি চক্রের ডেট্রয়েটের চিকিৎসকের ৯ বছরের কারাদণ্ড