সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মেরিল্যান্ডে কিশোরী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অবৈধ অভিবাসী চালক গ্রেপ্তার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৯:৫৫
মেরিল্যান্ডে কিশোরী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অবৈধ অভিবাসী চালক গ্রেপ্তার
মেরিল্যান্ডে কিশোরী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অবৈধ অভিবাসী চালক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে রাইডশেয়ার গাড়ির এক অপ্রাপ্তবয়স্ক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আবদুলায়ে দিয়া নামের এক অবৈধ অভিবাসী চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির নাগরিক এই চালকের বিরুদ্ধে পূর্বেও নিউইয়র্কে যৌন নিপীড়নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গ্রেপ্তারের ইতিহাস রয়েছে।

 

মেরিল্যান্ডের ল্যানহ্যামের বাসিন্দা এই চালকের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির ধর্ষণ, অপহরণ, দ্বিতীয় ডিগ্রির শারীরিক নির্যাতন এবং তৃতীয় ডিগ্রির যৌন অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার মন্টগোমারি কাউন্টির একটি হাসপাতালে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হলে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়।

 

ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, 'এমপাওয়ার' নামের একটি রাইডশেয়ারের গাড়িতে ওঠার পর চালক তাকে সিলভার স্প্রিং এলাকার একটি নির্জন পার্কিং লটে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করে।

 

পরে রাইডশেয়ার অ্যাপ থেকে পাওয়া ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে চালক আবদুলায়ে দিয়াকে শনাক্ত করে বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

ডিএইচএসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আবদুলায়ে দিয়া ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অ্যারিজোনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তৎকালীন বাইডেন প্রশাসনের সময় তিনি মুক্তি পান।

 

এরপর গত বছরের ১০ জুন নিউইয়র্ক সিটিতে ১৭ বছরের কম বয়সী এক শিশুকে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন ও আঘাতের অভিযোগে তিনি একবার গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।

 

এদিকে অভিযুক্তের এমন অপরাধের ইতিহাস থাকার পরও কীভাবে তিনি রাইডশেয়ারের গাড়ি চালানোর অনুমতি পেলেন, তা নিয়ে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর জবাবে এমপাওয়ার কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, উবার ও লিফটের মতো তারাও চালকদের ব্যাকগ্রাউন্ড, সেক্স অফেন্ডার তালিকা ও অপরাধের রেকর্ড আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই করে থাকে।

 

গত ১৬ জুলাই দিয়ার যাবতীয় তথ্য যাচাইয়ের সময় তার রেকর্ডে কোনো ধরনের নেতিবাচক তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশি তদন্তে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করছে বলে নিশ্চিত করেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কের রাস্তায় গাড়ির পাশে নামাজ আদায়ের ছবি
নিউইয়র্কের রাস্তায় গাড়ির পাশে নামাজ আদায়ের ছবি নিয়ে আলোচনা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তার মাঝামাঝি একটি হলুদ ট্যাক্সির পাশে এক ব্যক্তিকে নামাজ আদায়রত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। ছবিটি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, ব্যস্ত সড়কে এভাবে নামাজ আদায় করা কতটা প্রয়োজনীয় এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় গাড়ির ভেতরে নামাজ পড়ার সুযোগ রয়েছে কি না।   ছবিতে দেখা যায়, আবাসিক ভবনঘেরা একটি সড়কে হলুদ ট্যাক্সির পেছনের দিকে নীল পোশাক পরা এক ব্যক্তি নামাজ আদায়ের ভঙ্গিতে রয়েছেন। তাঁর আশপাশে আরও কয়েকটি গাড়ি রয়েছে। তবে ছবিটি ঠিক কবে এবং কোথায় তোলা হয়েছে কিংবা ওই ব্যক্তি কেন সড়কে নামাজ আদায় করছিলেন, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে। কেউ ব্যক্তিটির ধর্মীয় অনুশাসন পালনের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন। আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন, যানবাহন চলাচলের সড়কে নামাজ আদায়ের পরিবর্তে নিরাপদ কোনো স্থান বেছে নেওয়া যেত কি না। বিশেষ করে গাড়ির ভেতরে বসেও নামাজ আদায়ের সুযোগ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।   ইসলামি শরিয়তে ফরজ ও নফল নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে কিছু বিধানগত পার্থক্য রয়েছে। সহিহ বুখারির ৪০০ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সফরের সময় বাহনে বসে নফল নামাজ আদায় করতেন। তবে ফরজ নামাজের সময় বাহন থেকে নেমে কিবলামুখী হয়ে নামাজ আদায় করতেন।   ইসলামি ফিকহবিষয়ক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সক্ষম ব্যক্তির জন্য ফরজ নামাজে দাঁড়ানো এবং কিবলামুখী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তাই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে গাড়ি থামিয়ে নিরাপদ স্থানে নেমে ফরজ নামাজ আদায় করাই নিয়ম। তবে অসুস্থতা, নিরাপত্তাঝুঁকি কিংবা গাড়ি থেকে নামার সুযোগ না থাকার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে সামর্থ্য অনুযায়ী নামাজ আদায়ের বিশেষ বিধান রয়েছে।   মালয়েশিয়ার ফেডারেল টেরিটরি মুফতি দপ্তরের ব্যাখ্যাতেও গাড়িতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে ফরজ ও নফল নামাজের পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে সফরকালে বাহনে নফল নামাজ আদায়ের সুযোগ থাকলেও ফরজ নামাজের জন্য সম্ভব হলে যথাযথভাবে দাঁড়িয়ে এবং কিবলামুখী হয়ে নামাজ পড়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবির ব্যক্তিটি ফরজ নাকি নফল নামাজ আদায় করছিলেন, তাঁর সামনে বিকল্প নিরাপদ স্থান ছিল কি না কিংবা কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে তিনি সেখানে নামাজ পড়েছিলেন কি না, তা জানা যায়নি। ফলে তাঁর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়াই ধর্মীয় বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা সমীচীন হবে না।   ঘটনাটি ধর্মীয় অনুশাসন পালনের পাশাপাশি জননিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এনেছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়কে অবস্থান করলে নিজের এবং অন্য পথচারী ও যানবাহন ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। নামাজ আদায়ের জন্য নিরাপদ ও উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের গুরুত্বও রয়েছে।   সূত্র: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ছবি; সহিহ বুখারি, হাদিস ৪০০; মালয়েশিয়ার ফেডারেল টেরিটরি মুফতি দপ্তরের গাড়িতে নামাজ আদায়সংক্রান্ত ফতোয়া।  

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ৪:৫৮
যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভবতী কর্মীদের গর্ভপাত ও বন্ধ্যত্বের চিকিৎসাসংক্রান্ত সুবিধা কমানোর পরিকল্প

যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভবতী কর্মীদের গর্ভপাত ও বন্ধ্যত্বের চিকিৎসাসংক্রান্ত সুবিধা কমানোর পরিকল্পন ট্রাম্প প্রশাসনের

গর্ভবতী কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা ও আইনি সুরক্ষার বিধান শিথিল করার উদ্যোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক

গর্ভবতী কর্মীদের সুরক্ষা কমানোর ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ, বাড়ছে উদ্বেগ

বাড়ির আঙিনায় কাজ করছিলেন বাবা-মা, হামাগুড়ি দিয়ে সড়কে উঠে ১ বছরের শিশুর মৃত্যু

বাড়ির আঙিনায় কাজ করছিলেন বাবা-মা, হামাগুড়ি দিয়ে সড়কে উঠে ১ বছরের শিশুর মৃত্যু

নিউইয়র্কে অজান্তেই  ১০ বছর ধরে প্রতিবেশীর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন নারী, ক্ষতিপূরনের দাবি
নিউইয়র্কে অজান্তেই ১০ বছর ধরে প্রতিবেশীর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন নারী, ক্ষতিপূরনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে প্রায় ১০ বছর ধরে নিজের অজান্তে প্রতিবেশীর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন এক নারী। বিদ্যুতের ব্যবহার কমিয়েও বিল বেশি আসায় দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন নিকোল নিসেফোরো। অবশেষে তদন্তে বেরিয়ে আসে, তাঁর অ্যাপার্টমেন্টের বিদ্যুতের বিলের সঙ্গে ওপরতলার প্রতিবেশীর বিল অদলবদল হয়ে গিয়েছিল। ভুল স্বীকার করে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কন এডিসন তাঁকে ৬ হাজার ডলারের বেশি ফেরত দিয়েছে। তবে পুরো ১০ বছরের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত না পাওয়ায় বিরোধ এখনো শেষ হয়নি।   গত ২৯ অক্টোবর ফক্স ৫ নিউইয়র্কের সাংবাদিক কেলি কেনেডিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিসেফোরো জানান, বিদ্যুতের বিল অস্বাভাবিক বেশি আসায় তিনি দীর্ঘদিন এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করতে ভয় পেতেন। খরচ কমাতে বাসনপত্রও হাতে ধুতেন। কিন্তু বিদ্যুতের ব্যবহার সীমিত রাখার পরও প্রতি মাসে বিল বাড়তে থাকায় তিনি বুঝতে পারেন, কোথাও সমস্যা রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরেই নিসেফোরো কন এডিসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সে সময় তিনি তাঁর অ্যাপার্টমেন্টের বিদ্যুতের মিটার পরীক্ষা করতে একজন টেকনিশিয়ান পাঠানোর অনুরোধ জানান। কিন্তু কোম্পানির পক্ষ থেকে তাঁকে ভবন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। প্রায় এক দশক আগের ইমেইলেও তাঁর অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।   এরপর বছরের পর বছর তিনি সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যান। বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো, বারবার ফোন করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর সমাধান পাননি। শেষ পর্যন্ত নয় বছরের বেশি সময় পর আবার মিটার পরীক্ষা করার দাবি জানান তিনি। এরপর ভবন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পরীক্ষা করে প্রকৃত সমস্যা শনাক্ত করে। তদন্তে দেখা যায়, নিসেফোরোর অ্যাপার্টমেন্টের বিদ্যুতের বিল আসলে তাঁর ঠিক ওপরের অ্যাপার্টমেন্টের সঙ্গে অদলবদল হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ তিনি নিজের ব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিবর্তে প্রতিবেশীর বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য বিল পরিশোধ করছিলেন। দীর্ঘদিনের সন্দেহ সত্য প্রমাণিত হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সমস্যাটি শেষ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়ায় স্বস্তিও পান।   কন এডিসন লিখিতভাবে বিলিংয়ের ভুল স্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি নিসেফোরোকে ৬ হাজার ডলারের বেশি অর্থ ফেরত দিয়েছে। তবে এই অর্থের হিসাব করা হয়েছে মাত্র ছয় বছরের জন্য। ফলে আগের প্রায় চার বছরের সম্ভাব্য অতিরিক্ত বিল এবং সেই অর্থের সুদের বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। পুরো সময়ের অর্থ ফেরত পেতে নিসেফোরো নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সার্ভিসের দ্বারস্থ হন। কিন্তু সংস্থাটি অতিরিক্ত অর্থ ফেরতের নির্দেশ দিতে রাজি হয়নি। কন এডিসনের দাবি অনুযায়ী, এ ধরনের বিল সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ছয় বছরের সময়সীমা রয়েছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ২০১৬ সালে নিসেফোরো তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছিলেন, এমন কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি।   এ বিষয়ে ফক্স ৫ নিউইয়র্ককে দেওয়া বিবৃতিতে কন এডিসন জানিয়েছে, গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে বিলের অসংগতি থাকলে প্রতিষ্ঠানটি তাঁদের সঙ্গে কাজ করে। তবে কোম্পানিটি পুনরায় নিশ্চিত করেছে, বিল সংশোধন ও অর্থ সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ছয় বছরের সীমা প্রযোজ্য।   ঘটনাটি নিউইয়র্কের অ্যাপার্টমেন্ট বাসিন্দাদের জন্য বিদ্যুতের মিটার ও বিলিংয়ের সঠিকতা যাচাইয়ের গুরুত্ব সামনে এনেছে। বিশেষ করে বিদ্যুতের ব্যবহার কম থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন অস্বাভাবিক বিল এলে মিটারের সঙ্গে অ্যাপার্টমেন্টের সংযোগ সঠিক রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।   নিকোল নিসেফোরোর ক্ষেত্রে প্রায় এক দশক ধরে চলা সমস্যার সমাধান হলেও তাঁর দাবি করা পুরো অর্থ এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি। ফলে ৬ হাজার ডলারের বেশি রিফান্ড পাওয়ার পরও বাকি অর্থ আদায়ের বিষয়টি অনিশ্চিত রয়ে গেছে। সূত্র: ফক্স ৫ নিউইয়র্ক, ২৯ অক্টোবর ২০২৬।    

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১:৩৮
গ্রেপ্তার অভিযানের সময় প্রতিবেশীর দিকে অস্ত্র তাক করার অভিযোগ উঠেছে এক ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টের বিরুদ্ধে

ক্যালিফোর্নিয়ায় গ্রেপ্তার অভিযানের সময় প্রতিবেশীর দিকে আইসিই এজেন্টের অস্ত্র তাক, ভিডিও ভাইরাল

ক্যালিফোর্নিয়ায় নির্বাচনের আগে ভোটারদের ১ হাজারের বেশি প্রচারপত্র পৌঁছে দেননি ডাককর্মী, ফেডারেল মামলা

ক্যালিফোর্নিয়ায় নির্বাচনের আগে ভোটারদের ১ হাজারের বেশি প্রচারপত্র পৌঁছে দেননি ডাককর্মী, ফেডারেল মামলা

সাবেক সেনাসদস্যদের বসবাসের পছন্দের শহর: চাকরি, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবায় এগিয়ে থাকা শহরের তালিকা

সাবেক সেনাসদস্যদের বসবাসের পছন্দের শহর: চাকরি, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবায় এগিয়ে থাকা শহরের তালিকা

ট্র্যাপার ক্রিক এলাকায় পার্কস হাইওয়ের ১১৫ মাইল পয়েন্টে ঘটে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনাটি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবার মৃত্যু, অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল ২ বছরের শিশু

আলাস্কায় ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবাকে হারিয়েছে দুই বছর বয়সী এক শিশু। মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান শিশুটির মা-বাবা। তবে গুরুতর দুর্ঘটনার পরও প্রাণে বেঁচে গেছে ছোট্ট মেয়েটি। দুর্ঘটনায় তার শরীরের ছয়টি হাড় ভেঙে গেলেও বর্তমানে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে সে। স্বজনেরা শিশুটিকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া এক আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন।   গত ১৯ অক্টোবর স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে আলাস্কার পার্কস হাইওয়ের ট্র্যাপার ক্রিক এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। আলাস্কা স্টেট ট্রুপার্সের তথ্য অনুযায়ী, হাইওয়ের ১১৫ মাইল পয়েন্টে থ্রি বিয়ার্স গ্যাস স্টেশনের সামনে দক্ষিণমুখী একটি কালো ২০১৮ মডেলের সুবারু ফরেস্টার গাড়ি চলার পথে সড়কের মাঝের বিভাজক রেখা অতিক্রম করে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সাদা ২০০৮ মডেলের ফোর্ড এফ-২৫০ পিকআপের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়। সুবারু গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ৩৮ বছর বয়সী সাশা হার্ট। গাড়িতে তাঁর স্বামী ৪১ বছর বয়সী ডেভিড হার্ট এবং তাঁদের দুই বছর বয়সী মেয়ে পেইজও ছিল।   দুর্ঘটনায় সাশা ও ডেভিড দুজনই ঘটনাস্থলে মারা যান। তাঁদের মেয়েকে গুরুতর আহত অবস্থায় অ্যাঙ্কোরেজের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পরপরই শিশুটির আঘাতকে প্রাণঘাতী নয় বলে জানিয়েছিলেন কর্মকর্তারা। তবে পরে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিটিইউকে জানান, সংঘর্ষে পেইজের শরীরের ছয়টি হাড় ভেঙেছে। বর্তমানে সে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। আলাস্কা স্টেট ট্রুপার্স জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় শিশুটির মা-বাবার স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁরা হাসপাতালে পৌঁছান।   ডেভিডের বোন শেরি এলটারম্যান-হার্ট কেটিটিইউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভাতিজিকে ‘অলৌকিক’ বলে উল্লেখ করেন। পরিবারের আরেক সদস্য কেটি র‍্যাগসডেল বলেন, পেইজের মধ্যে তাঁর মা-বাবার স্মৃতি ও নানা বৈশিষ্ট্য খুঁজে পান তাঁরা। তাঁর ভাষায়, ‘তাদের একটি অংশ এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে।’ স্বজনেরা জানান, সাশা ও ডেভিড সম্প্রতি তাঁদের দশম বিবাহবার্ষিকী উদ্‌যাপন করেছিলেন। ফেয়ারব্যাংকসে একসঙ্গে জীবন গড়ে তোলা এই দম্পতি ভ্রমণ, হকি খেলা দেখা এবং একসঙ্গে খাবার উপভোগ করতে ভালোবাসতেন। তবে তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল একমাত্র মেয়ে পেইজ।   দুর্ঘটনার পর পার্কস হাইওয়ের ওই অংশে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। তবে থ্রি বিয়ার্স গ্যাস স্টেশনের পার্কিং এলাকা দিয়ে বিকল্প পথে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করায় বড় ধরনের যানজট এড়ানো সম্ভব হয়। দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে বলে জানিয়েছে আলাস্কা স্টেট ট্রুপার্স।   সূত্র: আলাস্কা স্টেট ট্রুপার্স, আলাস্কা’স নিউজ সোর্স (কেটিটিইউ)

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ২২:৩৮
দীর্ঘদিন চোখের মেকআপ না তোলার অভ্যাসের পর চোখের জটিল সমস্যায় পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোর এক নারী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

২০ বছর চোখের মেকআপ না তুলেই ঘুমাতেন, এখন দীর্ঘস্থায়ী চোখের রোগে ভুগছেন নারী

যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভবতী কর্মীদের কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা আইন সংশোধনের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

গর্ভবতী কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা কমানোর পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্টের বিশেষায়িত কারিগরি পদে রয়েছে উচ্চ বেতনের সুযোগ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

কলেজ ডিগ্রি ছাড়াই ওয়ালমার্টে ঘণ্টায় ৭০ ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগ

0 Comments