যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলার ফি, অনিশ্চয়তায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় এক লাখ মার্কিন ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বিপুল পরিমাণ ফির প্রস্তাবের ফলে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সেখানে অধ্যয়নরত ও কর্মরত হাজারো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী।
নতুন এই নীতির কারণে বিদেশি মেধাবীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তারাও পিছিয়ে আসছেন, যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে শ্রেয়া মিশ্র রেড্ডির মতো অসংখ্য আন্তর্জাতিক স্নাতকের ক্যারিয়ারে। চার বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নিজের জীবন ও ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পর সম্প্রতি বাধ্য হয়েই পাততাড়ি গুটিয়ে কানাডার টরন্টোতে পাড়ি জমিয়েছেন শ্রেয়া।
ভারতে ছয় বছরের কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান শ্রেয়া। এরপর ২০২২ সালে ডিউক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর তিনি বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘ভিসা’-তে একটি লোভনীয় করপোরেট চাকরি পান।
ডিউক এবং হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর দীর্ঘমেয়াদী বসবাস নির্ভর করছিল সম্পূর্ণ ভাগ্যনির্ভর এইচ-১বি ভিসার লটারির ওপর। এর মধ্যেই ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে এক লাখ ডলার ফি নির্ধারণের প্রস্তাব আনলে ভিসা আবেদনকারী ও নিয়োগকর্তাদের মধ্যে তীব্র বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
একজন বিদেশি কর্মীকে নিয়োগ দিতে কোম্পানিগুলোকে এক লাখ ডলার ফি গুনতে হতে পারে— এমন বাস্তবতায় শ্রেয়া চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন। চাকরিরত অবস্থায় শ্রেয়া তিনবার এইচ-১বি লটারিতে অংশ নিলেও প্রতিবারই তিনি প্রত্যাখ্যাত হন। তৃতীয়বার প্রত্যাখ্যানের পর তাঁর স্টুডেন্ট ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে আসে।
সেই হতাশাজনক মুহূর্তে নিজের অফিসে বসেই কান্নায় ভেঙে পড়ার কথা সম্প্রতি লিংকডইনে শেয়ার করেছেন তিনি। আইনি অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন ত্যাগ করে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাধ্য হয়েই আমেরিকা ছাড়েন তিনি। ভারতে ফিরে যাওয়ার বদলে বর্তমানে তিনি পর্যটক ভিসায় কানাডার টরন্টোতে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পথ খুঁজছেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে বিজনেস ইনসাইডার এমন অসংখ্য ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা এই ভিসা-জটিলতার কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন নাকি নিজ দেশে ফিরে যাবেন, তা নিয়ে তীব্র দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন; আবার অনেকেই বাধ্য হয়ে এই ব্যবস্থা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন।
শ্রেয়া বিজনেস ইনসাইডারকে জানান, তিনি সত্যিই বিশ্বাস করেছিলেন যে এইচ-১বি লটারিতে তিনি সফল হবেন, আর সেটি না হওয়ায় তাঁর গভীর আক্ষেপ রয়েছে। তবে নিজের এই প্রবাস জীবনকে তিনি নিছক ব্যর্থতা নয়, বরং ঘুরে দাঁড়ানোর একটি বড় শিক্ষা হিসেবেই দেখছেন।
শ্রেয়ার এই অভিজ্ঞতাটি আমেরিকার শ্রমবাজারে বিদেশি শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবীদের বৃহত্তর পরিসংখ্যানগত সংকটেরই একটি খণ্ডচিত্র মাত্র। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪১ শতাংশ এফ-১ (F-1) স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
পাশাপাশি ২০২৫ সাল নাগাদ ভারতীয় ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদানের হারও ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধা ও সময় বিনিয়োগ করার পরও আন্তর্জাতিক প্রতিভাবানদের ক্যারিয়ার যখন তাদের যোগ্যতার বদলে লটারি পদ্ধতি এবং অত্যধিক ভিসা ফির মতো বাধা দিয়ে নির্ধারিত হয়, তখন তা বৈশ্বিক মেধাবীদের জন্য এক চরম হতাশার বাস্তবতাই তুলে ধরে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় টহলরত এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছে গিয়ে নিজেই খুনের রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন এক যুবক। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুটি ভিন্ন স্থান থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনার পর ওই যুবক কোনো ভয়ংকর সিরিয়াল কিলার বা ক্রমিক খুনি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছিলেন কি না, তা নিয়ে খোদ কৌঁসুলিরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ২৮ বছর বয়সী ওই যুবকের নাম মার্সেলিনো কাস্ত্রো। শনিবার বিকেল ৫টা ১৪ মিনিটের দিকে সান জোসে পুলিশের এক টহল কর্মকর্তার কাছে গিয়ে তিনি একজনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার এই স্বীকারোক্তির পর শহরের গুয়াডালুপ নদী এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ, যা থেকে আরও সম্ভাব্য খুনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সান্তা ক্লারা কাউন্টির ডেপুটি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মাইকেল গ্যাডেবার্গ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত দুজনের মরদেহ মিললেও এটি একটি সম্ভাব্য সিরিয়াল কিলিংয়ের শুরু বলেই মনে হচ্ছে। কাস্ত্রো আরও হত্যাযজ্ঞ চালানোর আগেই আত্মসমর্পণ করায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। পুলিশি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাস্ত্রো প্রথম যাকে হত্যা করেছিলেন, তিনি তার পূর্বপরিচিত ছিলেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর তারা টামিয়েন স্টেশনের কাছে মেথামফেটামিন মাদক সেবন করতে গিয়েছিলেন। সেখানে কোনো প্ররোচনা ছাড়াই কাস্ত্রো তার পরিচিত ওই ব্যক্তিকে শ্বাসরোধ করেন এবং গলা কেটে হত্যার পর গুয়াডালুপ নদীর কাছে একটি অগভীর গর্তে মৃতদেহটি লুকিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় কাস্ত্রো গোয়েন্দাদের দ্বিতীয় আরেকটি খুনের তথ্য দেন, যার সূত্র ধরে অটাম পার্কওয়ে এবং কোলম্যান অ্যাভিনিউ এলাকা থেকে অপর এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দ্বিতীয় খুনের ধরনটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। কাস্ত্রো পুলিশকে জানান, গত ১৫ বা ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি অপরিচিত ওই ব্যক্তিকে ধূমপান করার প্রলোভন দেখিয়ে কোলম্যান অ্যাভিনিউয়ের উত্তরে গুয়াডালুপ রিভার ট্রেইলে নিয়ে যান। এরপর তাকে শ্বাসরোধ করার পাশাপাশি পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন। পরে মৃতদেহটি একটি লাল রঙের তাঁবুতে মুড়িয়ে লম্বা ঘাসের মধ্যে ফেলে রাখেন। নিহত দুই ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এলাকাটি সাধারণত গৃহহীন মানুষের আনাগোণায় পূর্ণ থাকলেও, অভিযুক্ত যুবক প্রলোভন দেখিয়েই তাদের সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই জোড়া খুনের পেছনের আসল উদ্দেশ্য এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। নিহত দুই ব্যক্তির মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে কোনো যোগসূত্র না থাকায় বিষয়টি তদন্তকারীদের ভাবিয়ে তুলেছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি গ্যাডেবার্গের ধারণা, অভিযুক্ত যুবকের মধ্যে হয়তো মানুষ খুনের এক ধরনের মানসিক তাড়না তৈরি হয়েছিল, যা পরিচিত একজনকে হত্যার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে পরবর্তীতে একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত ব্যক্তির ওপর গিয়ে বর্তায়। বর্তমানে জোড়া খুনের অভিযোগে কাস্ত্রোকে সান্তা ক্লারা কাউন্টির প্রধান কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। এই দুটি হত্যাকাণ্ডকে ২০২৬ সালে সান জোসে শহরের ২০তম এবং ২১তম হত্যাকাণ্ড হিসেবে নথিভুক্ত করে বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলার ফি, অনিশ্চয়তায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ
২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে গু লিবিদ্ধ জেমস কোপেনহেভারের মৃ ত্যু
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হতেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড র্যাপিডস শহরের হেলেন ডিভোস চিলড্রেনস হাসপাতালে চার মাসের এক অপরিণত (প্রিম্যাচিউর) শিশুকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগে কিয়েরান অ্যান্সলি (৪৩) নামের এক নার্সকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক মাস নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসার পর শিশুটির যখন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার কথা, ঠিক তার আগেই এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালশিটে দাগ ও পা ভাঙা অবস্থায় উদ্ধার করেন তার মা, যা পরবর্তীতে চিকিৎসকদের কাছে ‘পেডিয়াট্রিক ফিজিক্যাল অ্যাবিউজ’ বা শারীরিক শিশু নির্যাতন হিসেবে প্রমাণিত হয়। পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বছরের নভেম্বরে মাত্র ২৩ সপ্তাহ গর্ভধারণের পর ১ পাউন্ড ১ আউন্স ওজন নিয়ে জন্ম নেয় শিশুটি। টানা চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার পর এপ্রিলে তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়। কিন্তু ২ এপ্রিল রাতে হাসপাতালে শিশুটিকে দেখতে যান তার মা এবং পরের দিন ভোরে ফিরে এসে দেখেন, তার মেয়ের জিভ নীলচে-কালো হয়ে আছে এবং শরীরে বেশ কয়েকটি কালশিটে দাগ রয়েছে। এ সময় অভিযুক্ত নার্স অ্যান্সলি তড়িঘড়ি করে শিশুটির মাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন যে এটি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু মায়ের সন্দেহের জেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করলে নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে আসে। হাসপাতালের লগবুক থেকে জানা যায়, ওই রাতে শিশুটির কক্ষে মোট ৩২ বার প্রবেশের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে ২৭ বারই প্রবেশ করেছিলেন অ্যান্সলি। অন্য নার্সদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ওই রাতে অ্যান্সলি তার দায়িত্ব নিয়ে বেশ হতাশ ও বিভ্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসকদের বিস্তারিত পরীক্ষায় শিশুটির হাত, পা, পেট, নিতম্ব ও জিভে মারাত্মক আঘাতের পাশাপাশি পায়ের হাড় ভাঙার প্রমাণ মেলে। শিশু নির্যাতনের চার দফা অভিযোগে চলতি মাসের শুরুতে অ্যান্সলিকে গ্রেপ্তার করা হলেও বর্তমানে তিনি ইলেকট্রনিক ট্র্যাকিং ডিভাইস পরার শর্তে জামিনে মুক্ত আছেন। আগামী নভেম্বরে তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। এদিকে, হেলেন ডিভোস চিলড্রেনস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগ ওঠার পরপরই ওই নার্সকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। চরম এই ট্রমা পেরিয়ে নির্যাতনের শিকার শিশুটি বর্তমানে ক্যালিডোনিয়ায় নিজ বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে পুরোপুরি সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন তার দাদা রবার্ট স্টিভেন্স।
আমেরিকায় নিত্যপণ্য কিনতে সাশ্রয়ী যেসব সুপারশপ, ওয়ালমার্টের চেয়েও কম দামে বিক্রি করছে কিছু প্রতিষ্ঠান
যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব ভাতার আবেদন ৫৭ বছরের সর্বনিম্নে, অর্থনীতিতে মিলছে স্বস্তির ইঙ্গিত
ক্যালিফোর্নিয়ায় বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমাতে স্বয়ংক্রিয় ৭৫ ডলার ছাড়, নিউসমের ঘোষণায় স্বস্তিতে লাখো পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার অবিলম্বে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন এক ফেডারেল আদালত। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মার্কিন ফেডারেল বিচারক টিম কেলি এই আদেশ জারি করেন। আদেশে ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে ‘সম্ভবত অসাংবিধানিক’ হিসেবে উল্লেখ করে আগামী ১৪ দিনের জন্য তা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউসে ঢুকতে বাধাগ্রস্ত হন এবং পরবর্তীতে তারা আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে বিচারক টিম কেলি এই যুক্তি সরাসরি নাকচ করে দেন। আদেশে তিনি স্পষ্ট জানান, সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিল করলে জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে বা পাস ফিরিয়ে দিলে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে— এমন কোনো বাস্তব প্রমাণ আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি। এর আগে সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ তুলেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ক্রমাগত মিথ্যা ও মনগড়া লেখা ছড়ানোর সুযোগ থাকা উচিত নয়। ওই সময় ভুয়া খবর প্রচারকারী অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ ও ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর নাম উল্লেখ করে ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আদালতের সর্বশেষ আদেশের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে হোয়াইট হাউস এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
নিজেদের আইসিই কর্মকর্তা পরিচয়ে দুই নির্মাণ শ্রমিককে টেনে-হিঁচড়ে নেওয়ার দৃশ্য ভাইরাল
যুক্তরাষ্ট্রে ননসিটিজেন ভোটার খুঁজতে ভোটার তালিকা দ্রুত যাচাইয়ের নির্দেশ হোয়াইট হাউসের