- প্রচ্ছদ
- Topic
এইচ-১বি
যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ বছর ধরে ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন মাধুর মেহতা। বর্তমানে তিনি অ্যামাজনে প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন। ২০২৬ সালে এইচ-১বি ভিসাও পেয়েছেন। তবু যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে ঘর কেনা কিংবা পরিবার শুরু করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না তিনি। কারণ, ভিসার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। ৩৫ বছর বয়সী মেহতা ২০২১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট ডালাস থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করেন। পড়াশোনা শেষে অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে কাজের সুযোগ পেলেও দীর্ঘমেয়াদি ভিসার নিশ্চয়তা পাচ্ছিলেন না। ২০২৫ সালে অ্যামাজনে যোগ দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি তার এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করে। নতুন লটারি ব্যবস্থায় বেতনভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়েও তখন উদ্বেগে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালে ভিসা নির্বাচিত হওয়াকে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখেন মেহতা। তবে এইচ-১বি পাওয়ার পরও তার দুশ্চিন্তা পুরোপুরি শেষ হয়নি। চাকরি হারালে সাধারণত নতুন চাকরি খুঁজে নেওয়ার জন্য সীমিত সময় থাকে। ফলে চাকরি ও ভিসার অবস্থার ওপর তার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভরশীল। মেহতার বাগদত্তাও ভারতের নাগরিক এবং তার এইচ-১বি লটারিতে আর মাত্র একটি সুযোগ বাকি। দুজনের ভিসার পরিস্থিতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা বা পরিবার শুরু করার মতো বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে থাকা মেহতার পরিচিত অনেক অভিবাসীও ভিসার অনিশ্চয়তার কারণে এখনো বাড়ি কেনার বদলে ভাড়া বাসায় থাকছেন বলে তিনি জানান। মেহতা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার জন্য এখন ইবি-১এ ভিসার আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এটি পেলে ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও নিশ্চিন্তভাবে পরিকল্পনা করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। তার অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দক্ষ বিদেশি কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার বিষয়টিও সামনে আনছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে এইচ-১বি ভিসা পাওয়া কর্মীদের বড় একটি অংশকে কয়েক বছর ধরে চাকরি, ভিসা এবং স্থায়ী বসবাস—তিনটি বিষয় একসঙ্গে সামলাতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি (H-1B) ভিসার আবেদন ফি পরিবর্তনের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নতুন প্রস্তাব সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা পার করেছে। এর ফলে প্রস্তাবটি জনসমক্ষে প্রকাশের আরও এক ধাপ কাছাকাছি পৌঁছে গেল, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মরত বিপুল সংখ্যক ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এই প্রস্তাবটি গত বুধবার অফিস অব ইনফরমেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। প্রস্তাবটির কোড নম্বর হলো 'আরআইএন ১৬১৫-এডি২০' এবং এটি খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে বলে নিশ্চিত করেছে। এইচ-১বি ভিসার ফি সংক্রান্ত এই নতুন প্রস্তাবে ঠিক কত টাকা ফি বাড়ানো হবে, কোন ধরনের নিয়োগকর্তা বা আবেদনকারীরা এর আওতায় পড়বেন এবং এটি কবে থেকে কার্যকর হবে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে এই প্রস্তাবটি হোয়াইট হাউস থেকে ছাড়পত্র পেলেও এখনই কোনো নতুন ফি কার্যকর হচ্ছে না। যেকোনো নতুন নিয়ম চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়ার আগে প্রস্তাবটিকে অবশ্যই ফেডারেল স্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হতে হবে এবং অংশীজনদের মতামত নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ট্রাম্প প্রশাসন এই নতুন প্রস্তাবটি সামনে এনেছে। এর আগে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট কিছু এইচ-১বি কর্মীর ওপর ১ লাখ ডলারের বিপুল ফি আরোপ করেছিল প্রশাসন। নতুন এই প্রস্তাব ছাড়াও এইচ-১বি কর্মসূচিতে আরও কিছু বড় পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ভিসার যোগ্যতা যাচাই, নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিয়োগকর্তাদের ওপর কঠোর নজরদারি এবং থার্ড-পার্টি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে তদারকি বাড়ানোর প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে। মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কাজের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবেই ভারতীয় নাগরিকদের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। তাই আবেদন ফি বা অন্যান্য খরচ বাড়লে তা সরাসরি সেসব কোম্পানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যারা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের স্পনসর করে থাকে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেও মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন ফি পরিবর্তন করেছিল। বর্তমানে এইচ-১বি কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো, নতুন এই প্রস্তাবিত ফি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। তবে এই উদ্যোগ স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি পেশাজীবী ও তাদের স্পনসর করা কোম্পানিগুলোকে আরও কঠোর নিয়ম এবং অতিরিক্ত খরচের মুখোমুখি হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঞ্চলে ২০১৯ থেকে ২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত এইচ-১বি (H-1B) ভিসার আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তবে এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে রিপাবলিকান অধ্যুষিত টেক্সাসের শহরতলিগুলোতে। 'লেঅফহেজ' (LayoffHedge)-এর কেন্দ্রীয় শ্রম তথ্যের একটি নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ছয় বছরে দেশজুড়ে এইচ-১বি ভিসার চাহিদা বৃদ্ধির শীর্ষ আটটি কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টই টেক্সাসে অবস্থিত। আর এই সবগুলো এলাকার প্রতিনিধিত্ব করছেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা। প্রায় ৬৯ লাখ লেবার কন্ডিশন অ্যাপ্লিকেশনের (এলসিএ) ওপর ভিত্তি করে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। উল্লেখ্য, এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করার আগে নিয়োগকর্তাদের অবশ্যই এলসিএ সম্পন্ন করতে হয়, যা মূলত বিদেশি দক্ষ শ্রমিকের প্রতি কর্পোরেট চাহিদাকে নির্দেশ করে। সারাদেশের হিসাবের সাথে টেক্সাসের এই পরিসংখ্যানের বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত ২৪৩টি কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের অর্ধেকেরও বেশিতে আবেদন কমেছে। ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত এলাকায় এইচ-১বি ফাইলিংয়ের পরিমাণ দেশব্যাপী সবচেয়ে বেশি হলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে আবেদন কমার মধ্যম হার ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে রিপাবলিকান ডিস্ট্রিক্টগুলোতে এই হার ১৮ শতাংশ। কিন্তু এর ব্যতিক্রম কেবল টেক্সাসের শহরতলিগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ২০টি দ্রুত বর্ধনশীল ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে ১০টিই টেক্সাসে এবং ওই ২০টির মধ্যে ১৫টিতেই রিপাবলিকানরা জয়ী হয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, টেক্সাসের থার্ড কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে (প্রতিনিধি কিথ সেলফ) অনুমোদিত আবেদন ২৪২ শতাংশ এবং পাশ্ববর্তী ২৬তম ডিস্ট্রিক্টে (প্রতিনিধি ব্র্যান্ডন গিল) ২১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ৩১তম, ১০তম, ২২তম, ৮ম, ২১তম এবং ৪র্থ ডিস্ট্রিক্টেও যথাক্রমে ১৪৫ থেকে ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত আবেদন বৃদ্ধির রেকর্ড পাওয়া গেছে। নিউজউইক এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে কংগ্রেস সদস্যদের সাথে ইমেইলে যোগাযোগ করেছে। এইচ-১বি মূলত একটি অস্থায়ী মার্কিন ওয়ার্ক ভিসা, যার মাধ্যমে নিয়োগকর্তারা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থায়ন, প্রকৌশল ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার মতো বিশেষায়িত পেশায় স্নাতক ডিগ্রিধারী বা সমমানের বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দিয়ে থাকেন। টেক্সাসে এই ভিসার চাহিদা এমন এক সময়ে বাড়ল, যখন ফেডারেল পর্যায়ে নতুন করে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে উচ্চ আয়ের কর্মীদের অগ্রাধিকার দিতে প্রথাগত এইচ-১বি লটারি ব্যবস্থা বাতিল করেছে। এছাড়া মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কয়েক হাজার ডলারের বায়োমেট্রিক স্ক্রিনিং ফি যুক্ত করা এবং চাকরি হারানো অভিবাসীদের নতুন কাজ খোঁজার ৬০ দিনের সময়সীমা বাতিলেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও নতুন বিদেশি কর্মীদের ওপর এক লাখ ডলার ফি বসানোর একটি প্রস্তাব বিচারকরা ইতিমধ্যেই বাতিল করে দিয়েছেন। এরই মাঝে, টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এক নির্দেশনায় রাজ্যের সকল সরকারি সংস্থা ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন এইচ-১বি ভিসার আবেদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। টেক্সাস ওয়ার্কফোর্স কমিশনের বিশেষ অনুমোদন ছাড়া এই স্থগিতাদেশ ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট বা নির্বাচনী এলাকাগুলোতে গত এক দশকে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য রিপাবলিকান এলাকার তুলনায় তিন গুণেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। ‘লেঅফহেজ’ (LayoffHedge)-এর নতুন এক বিশ্লেষণে কেন্দ্রীয় শ্রম দপ্তরের এই তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৫ অর্থবছর থেকে ২০২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত প্রায় ৬৯ লাখ অনুমোদিত লেবার কন্ডিশন অ্যাপ্লিকেশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে এই আবেদনের সংখ্যা ছিল ৫১ লাখ ৭০ হাজার। অন্যদিকে, রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত এলাকায় এর পরিমাণ ছিল মাত্র ১৬ লাখ ৯০ হাজার। বাকি ৫৬ হাজার ৫৯৬টি আবেদন বর্তমানে শূন্য থাকা চারটি আসন থেকে এসেছে। সার্বিক পরিসংখ্যানে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধির চিত্রটি বেশ চমকপ্রদ। ২০১৯ থেকে ২০২৫ অর্থবছরের মধ্যে এইচ-১বি ভিসার আবেদন সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ আটটি নির্বাচনী এলাকাই টেক্সাসের রিপাবলিকানদের দখলে রয়েছে। লেঅফহেজের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই তথ্য মূলত নিয়োগকর্তারা কোথায় কর্মীদের পদায়ন করতে চেয়েছেন তা নির্দেশ করে। এটি প্রমাণ করে না যে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল এইচ-১বি ভিসার ব্যবহার বাড়াতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। উল্লেখ্য, এই পরিসংখ্যানটি সরাসরি ইস্যু করা ভিসা বা নির্দিষ্ট কোনো কর্মীর সংখ্যা নয়, বরং এটি লেবার কন্ডিশন অ্যাপ্লিকেশনের হিসাব, যা কোনো বিদেশি কর্মীকে নিয়োগের আবেদন করার আগে মার্কিন শ্রম দপ্তরে জমা দিতে হয়। একটি আবেদনের মাধ্যমে একাধিক কর্মীর জন্যও অনুরোধ করা যেতে পারে। এই পরিসংখ্যান এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন আইনি অভিবাসনের পথ, বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে কড়াকড়ি আরোপের পদক্ষেপ নিচ্ছে। ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই বর্তমান প্রশাসন বার্ষিক এইচ-১বি লটারি ব্যবস্থা বাতিল করে উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নিয়ম চালু করেছে। এছাড়া ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক স্ক্রিনিং ফি বৃদ্ধি এবং চাকরিচ্যুত কর্মীদের নতুন কাজ খোঁজার জন্য দেওয়া ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বাতিলের প্রস্তাবও করা হয়েছে। ট্রাম্প সমর্থক বা ‘মাগা’ (MAGA) আন্দোলনের কট্টরপন্থীদের দাবি, এই ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে বিদেশি কর্মীদের জায়গা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রযুক্তি খাতের কর্মকর্তা ও ব্যবসাবান্ধব রক্ষণশীলদের মতে, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের প্রবেশ সীমিত করা হলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে পড়বে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রধান প্রযুক্তি ও ব্যবসাকেন্দ্রগুলোতেই এইচ-১বি ভিসার আবেদন সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীভূত। এর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার ১৭তম ডিস্ট্রিক্ট (প্রতিনিধি রো খান্না) ৩ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৬টি আবেদন নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে নিউইয়র্কের ১২তম এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ১৬তম ডিস্ট্রিক্ট। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে টেক্সাসের ৪নং ডিস্ট্রিক্ট, যেখানে আবেদনের সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার ৮৯২টি। এরপরই রয়েছে জর্জিয়ার ৭নং এবং টেক্সাসের ২৪নং ডিস্ট্রিক্ট। শীর্ষ ১০টি ডিস্ট্রিক্ট মিলে মোট ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৭৬৬টি আবেদন রেকর্ড করা হয়েছে, যা সারা দেশের ২১৯টি রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত এলাকার মোট আবেদনের চেয়েও বেশি। লেঅফহেজ জানিয়েছে, মাত্র ৪০টি কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকেই মোট আবেদনের অর্ধেক জমা পড়েছে, যা প্রমাণ করে যে এইচ-১বি ভিসার ব্যবহার পুরো দেশে সমানভাবে নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে ব্যাপকভাবে কেন্দ্রীভূত।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে এসেছে। চাকরি হারানোর পর নতুন চাকরি খোঁজা বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস পরিবর্তনের জন্য বর্তমানে যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে, তা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস। প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি ও ভারতীয়সহ হাজারো এইচ-১বি কর্মীর জন্য চাকরি হারানোর পর দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বর্তমান নিয়মে এইচ-১বি কর্মীর চাকরি নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হলে সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড পাওয়া যেতে পারে। এই সময়ে কর্মী নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজতে পারেন, নতুন এইচ-১বি পিটিশন দাখিলের সুযোগ নিতে পারেন অথবা যোগ্যতা অনুযায়ী অন্য ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে পরিবর্তনের জন্য অ্যাপ্লিকেশন করতে পারেন। তবে ৬০ দিন সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত নয়। কর্মীর আই-৯৪-এর অনুমোদিত মেয়াদ আগে শেষ হলে সেই সময়সীমাই প্রযোজ্য হবে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রেস পিরিয়ড সর্বোচ্চ ৬০ দিন বা কর্মীর অনুমোদিত থাকার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে আসে, ততদিন পর্যন্ত হতে পারে। যোগ্য এইচ-১বি কর্মীর নতুন নিয়োগকর্তা নির্ধারিত সময়ে নতুন এইচ-১বি পিটিশন দাখিল করলে কর্মী পিটিশন গ্রহণের পরই নতুন চাকরিতে কাজ শুরু করার সুযোগও পেতে পারেন। প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি বাস্তবায়িত হলে চাকরি শেষ হওয়ার পর এই ৬০ দিনের স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা আর থাকবে না। তখন চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীর এইচ-১বি স্ট্যাটাস নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে নতুন নিয়োগকর্তায় যাওয়ার বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ইউএসসিআইএস স্ট্যাটাসের ঘাটতি ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ডিএইচএসের এই উদ্যোগ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সরকারি নিয়ন্ত্রক তথ্য অনুযায়ী, এইচ-১বি কর্মসূচি সংস্কারসংক্রান্ত প্রস্তাবিত নিয়ম বর্তমানে প্রস্তাব তৈরির পর্যায়ে রয়েছে এবং আগস্ট ২০২৬-এ প্রস্তাবিত নিয়ম প্রকাশের সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হয়নি। কোনো এইচ-১বি কর্মী আজ চাকরি হারালে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী তিনি যোগ্য হলে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধা নিতে পারেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে বর্তমান ব্যবস্থাই বহাল থাকবে। এই প্রস্তাব ভারতীয় কর্মীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি কর্মীদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের সংখ্যা বড় হওয়ায় চাকরি হারানোর পর গ্রেস পিরিয়ড কমে গেলে বা বাতিল হলে তাদের ওপর প্রভাব উল্লেখযোগ্য হতে পারে। একই নিয়ম বাংলাদেশি এইচ-১বি কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত নয়। ডিএইচএস প্রস্তাবিত নিয়ম প্রকাশ করার পর সাধারণত জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়া থাকে। এরপর চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ এবং কার্যকর হওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হবে। ফলে এই মুহূর্তে এইচ-১বি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হয়েছে এমন নয়, বরং সেটি বাতিলের একটি প্রস্তাব সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কাজের পরিকল্পনা থাকলে নতুন এই প্রস্তাবটি সম্পর্কে জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকান সিনেটর টিম শিহি ‘এন্ড এইচ-১বি অ্যাবিউজ অ্যাক্ট’ নামের একটি বিল উত্থাপন করেছেন, যেখানে নতুন এইচ-১বি ভিসা ইস্যু করা তিন বছরের জন্য স্থগিত করাসহ এই কর্মসূচিতে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও এটি এখনও কেবল একটি বিল এবং আইনে পরিণত হয়নি, তবে এটি পাস হলে প্রতি বছর এইচ-১বি ভিসার একটি বিশাল অংশ পাওয়া ভারতীয় পেশাজীবীদের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। মন্টানার এই সিনেটরের মতে, এইচ-১বি কর্মসূচিটি এমন সব বিশেষায়িত পদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে আমেরিকান কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত যোগ্য কর্মী পায় না। এটিকে কম খরচের বিদেশি শ্রমিক দিয়ে আমেরিকানদের প্রতিস্থাপনের কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়। তার দাবি, এই বিলটি পাস হলে কর্মসূচিটি তার মূল উদ্দেশ্যে ফিরে যাবে, জালিয়াতি কমবে এবং আমেরিকান কর্মীরা অগ্রাধিকার পাবেন। প্রস্তাবিত এই বিলে আগামী তিন বছরের জন্য নতুন এইচ-১বি ভিসা প্রদান পুরোপুরি স্থগিত রাখা এবং প্রতিটি এইচ-১বি পিটিশনের জন্য এক লাখ মার্কিন ডলার ফি বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বর্তমান লটারি পদ্ধতির বদলে উচ্চ বেতনের চাকরিতে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি বেতনভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ, থার্ড-পার্টি স্টাফিং এজেন্সির ব্যবহার এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজের পাশাপাশি স্থায়ী বসবাসের সুযোগ বা 'ডুয়াল ইনটেন্ট' বিধান বাতিলের কথাও উল্লেখ রয়েছে। বিলটিতে এইচ-শ্রেণির ভিসা গ্রহীতাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য 'অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং' বা ওপিটি-এর মতো কাজের অনুমতি বাতিল করার মতো কঠোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিলটিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় আরোপিত এক লাখ ডলার ফি পুনরায় আইনি বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা আগে একটি ফেডারেল আদালত কংগ্রেসের অনুমোদনহীন অবৈধ কর আখ্যা দিয়ে বাতিল করেছিল। ভারত এই এইচ-১বি কর্মসূচির অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী দেশ। প্রতি বছর হাজার হাজার ভারতীয় প্রকৌশলী, আইটি পেশাজীবী, গবেষক ও স্বাস্থ্যকর্মী এই ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে যান। প্রস্তাবিত বিলটি আইনে পরিণত হলে এই পেশাজীবীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তিন বছর নতুন ভিসা বন্ধ থাকার পাশাপাশি বিপুল ফি আরোপের কারণে কোম্পানিগুলো স্পন্সরশিপ দিতে নিরুৎসাহিত হতে পারে। এছাড়া পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ হলে এবং পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থীদের কাজের পথ রুদ্ধ হলে ভারতীয়দের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের আকর্ষণ অনেকটাই কমে যাবে। তবে আপাতত প্রস্তাবটি কেবল মার্কিন সিনেটে উত্থাপিত হয়েছে। এটিকে আইনে পরিণত হতে আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। তাই বর্তমানে বিদ্যমান নিয়মেই এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে এবং এই মুহূর্তে ভিসা প্রত্যাশীদের তাৎক্ষণিক চিন্তার কোনো কারণ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতে ইচ্ছুক এবং বর্তমানে সেখানে কর্মরত পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছে ট্রাম্প প্রশাসন। সদ্য পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের সম্ভাব্য নতুন অভিবাসন নীতির কারণে বহুল আলোচিত এইচ-১বি (H-1B) ভিসা প্রোগ্রাম, কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা মেয়াদে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি (OPT) প্রোগ্রামেও ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপের প্রস্তুতি চলছে। খুব শিগগিরই প্রকাশ হতে যাওয়া এই চূড়ান্ত নীতিমালায় এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্টের (EAD) স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির দীর্ঘদিনের সুবিধাও বাতিল করা হবে। নতুন এই নিয়মগুলো বাস্তবায়িত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দক্ষিণ এশিয়া, বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীরা। প্রস্তাবিত নীতি অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রে বার্ষিক ৮৫ হাজার কোটার বাইরে যেসব বিশেষ ছাড় ছিল, সেগুলো সীমিত করা হতে পারে। পাশাপাশি থার্ড-পার্টি ক্লায়েন্টের কাছে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের আরও বেশি নথিপত্র দাখিলের শর্ত জুড়ে দেওয়া হবে। অন্যদিকে ইএডি (EAD) বা কাজের অনুমতির মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আর বাড়বে না। ফলে বর্তমান অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ইউএসসিআইএস (USCIS)-এর নতুন অনুমোদন না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন না, যা অভিবাসীদের আর্থিক ও পেশাগত জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও আসছে বড় ধরনের ধাক্কা। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা বা প্রোগ্রাম শেষ হওয়া পর্যন্ত ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান। কিন্তু নতুন নিয়মে ভিসার মেয়াদ একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত (সম্ভবত চার বছর) বেঁধে দেওয়া হতে পারে। এরপর সেখানে থাকতে চাইলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন করে মেয়াদ বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে। এছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বা স্টেম (STEM) শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা দুই বছরের ওপিটি (OPT) মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধাতেও কাঁটছাঁট করার কথা ভাবা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মেধাভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি বদলে দিতে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের মাঝে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।