মাকে হারিয়ে একসঙ্গে এতিম ৯ সন্তান, চার থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের পাশে পুরো কমিউনিটি
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ইডস এলাকার বাসিন্দা রেবেকা কেইস বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের শেষ পথচলা।
মেমফিসের কাছে কলিয়ারভিল শহরের হাইওয়ে ৩৮৫-এর প্রগ্রেস রোড ওভারপাস এলাকায় চারটি গাড়ির সংঘর্ষে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে গাড়িতে থাকা রেবেকা প্রাণ হারান।
রেবেকা ছিলেন নয় সন্তানের মা। তাঁর সন্তানদের বয়স চার থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। দুর্ঘটনার সময় সন্তানরা সবাই বাড়িতে ছিল। তারা জানত, মা কাজ শেষে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু সেই অপেক্ষার আর শেষ হয়নি।
কলিয়ারভিল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা প্রায় ৫টা ১২ মিনিটে হাইওয়ে ৩৮৫-এর নির্মাণকাজ চলা এলাকায় দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছান।
তদন্তে জানা গেছে, ৩৭ বছর বয়সী ডেরেক কাইল জনসন একটি গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি সামনে যান চলাচলের কারণে থেমে থাকা রেবেকার হোন্ডা সিআর-ভি গাড়ির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেন।
ধাক্কার ফলে রেবেকার গাড়িটি সামনে এগিয়ে গিয়ে আরও তিনটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাঁর গাড়িতে আগুন ধরে যায়। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়িটিকে আগুনে পুড়তে দেখেন। ভেতরে আটকে থাকা রেবেকাকে উদ্ধার করার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে দুর্ঘটনায় আরও একজন সামান্য আহত হন।
রেবেকার পরিবারকে ঘিরে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, তাঁর সন্তানরা এখন মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত।পরিবারের বন্ধু ম্যাথিউ নওলিন জানিয়েছেন, রেবেকা বাড়িতে সন্তানদের পড়াশোনা করাতেন। চার থেকে ১৮ বছর বয়সী সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্বও তিনি নিজেই পালন করতেন।
তিনি শুধু নিজের সন্তানদের মা ছিলেন না, আশপাশের তরুণী ও নতুন মায়েদেরও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতেন।রেবেকার স্বামী ম্যাট কেইস এবং সন্তানদের জন্য এই আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।পরিবারের এক বন্ধু জানিয়েছেন, ঘটনার সময় সন্তানরা কেউ মায়ের গাড়িতে ছিল না। এটিকে পরিবারটির জন্য বড় একটি সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন স্বজনেরা।
রেবেকার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় হোমস্কুলিং পরিবার, গির্জার সদস্য এবং প্রতিবেশীরা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।কেউ খাবার নিয়ে যাচ্ছেন, কেউ শিশুদের দেখাশোনায় সহযোগিতা করছেন, আবার কেউ পরিবারের কাপড়চোপড় ধুয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছেন।
পরিবারের বন্ধু ম্যাথিউ নওলিন জানিয়েছেন, বাড়িতে শিশুদের হাসি ও খেলাধুলার শব্দ শুনতে পাওয়া তাঁদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয়। এত বড় শোকের মধ্যেও কমিউনিটির মানুষ পরিবারটিকে একা থাকতে দিচ্ছেন না।পরিবারের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন, শেষকৃত্যের ব্যয় এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ সহায়তার জন্য অনলাইন অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক স্টেটে আনএমপ্লয়মেন্ট বেনিফিট বা বেকারভাতার পুরোনো সিস্টেম আধুনিকায়নের কারণে আগামী সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে সেবাটি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব লেবার কয়েক দশকের পুরোনো আনএমপ্লয়মেন্ট ইনস্যুরেন্স সিস্টেম পরিবর্তন করে একটি নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করতে যাচ্ছে, যার জন্য প্রায় ৫০০ কোটির বেশি ব্যবসাসংক্রান্ত রেকর্ড নতুন সিস্টেমে স্থানান্তর করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় ৯ থেকে ১২ দিন সময় লাগতে পারে। ফলে এই সময়ে সাপ্তাহিক বেনিফিটের আবেদন ও সার্টিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় হাজার হাজার মানুষের অর্থ পেতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে যে, এই সাময়িক বন্ধের কারণে কারও বেনিফিট বাতিল বা স্থগিত হবে না। গত ১৭ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে শুধু নিউইয়র্কেই প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার মানুষ মোট ৬ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের বেনিফিট দাবি করেছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৪৭ শতাংশই নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দা। পুরোনো সিস্টেমটি স্মার্টফোনে ঠিকমতো কাজ করত না, নির্দিষ্ট সময় ছাড়া অনলাইনে সেবা পাওয়া যেত না এবং ব্যস্ত সময়ে হেল্পলাইনের কল কেটে যেত। কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ফ্যাক্সের মাধ্যমেও তথ্য পাঠাতে হতো। বিশেষ করে ২০২০ সালের মার্চ-এপ্রিলে করোনা মহামারির সময় বিপুলসংখ্যক আবেদনের চাপে এই পুরোনো সিস্টেম প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল। স্টেট লেবার কমিশনার রবার্টা রিয়ারডন জানান, প্রায় ১৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয়ে ২০১৭ সাল থেকে চলা এই আধুনিকায়ন প্রকল্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আনএমপ্লয়মেন্ট ইনস্যুরেন্স সিস্টেমের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন। নতুন সিস্টেমটি চালু হলে আবেদনকারীরা স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট ব্যবহার করে খুব সহজেই বেনিফিট সার্টিফাই করতে পারবেন। সেই সঙ্গে কল সেন্টারে ফোন না করেই অনলাইনে নিজেদের আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা বা স্ট্যাটাস চেক করা যাবে। সম্ভাব্য ভোগান্তি এড়াতে স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব লেবার সকল বেনিফিট গ্রহণকারীকে আগামী ২ নভেম্বর বিকেল ৫টার আগেই তাদের সাপ্তাহিক সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করার বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে।
মাকে হারিয়ে একসঙ্গে এতিম ৯ সন্তান, চার থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের পাশে পুরো কমিউনিটি
যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া ফার্মেসি খুলে কোটি ডলার হাতিয়ে দেশ ছাড়ল প্রতারকরা
তিন বছরের মেয়েকে এতিম করে চলে গেলেন বাবা, সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ বছর বয়সী যুবক নিহত
যুক্তরাষ্ট্রে অন্য এক মার্কিন নাগরিকের পরিচয় ব্যবহার করে পাসপোর্ট নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্বের আবেদনে তথ্য গোপনের কারণে নাইজেরীয় বংশোদ্ভূত এক নারীর মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করেছেন ফেডারেল আদালত। ওই নারীর নাম ভিভিয়ান চিকে ওবিচেরে। ১৯৯২ সালে প্রথমবার অন্যের পরিচয়ে মার্কিন পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে নিজের প্রকৃত পরিচয়ে মার্কিন নাগরিকত্ব পেলেও ১৩ বছর পর সেই নাগরিকত্ব বাতিল হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত এ আদেশ দেন। ২১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওবিচেরে ১৯৯২ সালে অন্য এক মার্কিন নাগরিকের নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান ও সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর ব্যবহার করে পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। আদালতের নথিতে ওই নাগরিকের পরিচয় সংক্ষেপে ‘সিসিও’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ২০০২ সালে একই পরিচয়ে পাসপোর্ট নবায়ন করেন তিনি। এ সময় তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয়ে মার্কিন নাগরিক ছিলেন না। এরপর ২০০৩ সালে নিজের আসল পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী হন ওবিচেরে। কিন্তু ২০১২ সালে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় আবারও অন্যের পরিচয়ে নেওয়া পুরোনো পাসপোর্ট নবায়নের চেষ্টা করেন। একই সময়ে নিজের প্রকৃত নাম ব্যবহার করে ন্যাচারালাইজেশনের প্রক্রিয়াও চালিয়ে যান। বিচার বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারে শপথ নিয়ে ওবিচেরে জানিয়েছিলেন, তিনি কখনো ‘সিসিও’ পরিচয় ব্যবহার করেননি। অথচ সরকারি নথিতে দেখা যায়, ওই পরিচয়ে আগেই পাসপোর্ট সংগ্রহ ও নবায়ন করেছিলেন তিনি। বিচার বিভাগ বলছে, গুরুত্বপূর্ণ এই তথ্য গোপন করেই মার্কিন নাগরিকত্ব লাভের চেষ্টা করেছিলেন ওবিচেরে। ২০১৩ সালে তাঁকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। তবে ২০১৫ সালে পাসপোর্টের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং অন্যের পরিচয়ে পাসপোর্ট ব্যবহারের অপরাধে ফেডারেল আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। ওই ফৌজদারি মামলায় সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার বিষয়ও স্বীকার করেছিলেন। এরপর চলতি বছরের ৩০ জুলাই তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল চেয়ে দেওয়ানি মামলা করে মার্কিন বিচার বিভাগ। ৭ অক্টোবর উভয় পক্ষ নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়ে সম্মতিসূচক রায়ের আবেদন জমা দেয়। পরে ১৩ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালত ওবিচেরের ন্যাচারালাইজেশন বাতিলের আদেশ দেন। এই ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, ওবিচেরে ২৪ বছর ধরে বৈধ মার্কিন নাগরিক ছিলেন না। তিনি ১৯৯২ সালে অন্যের পরিচয়ে পাসপোর্ট নিয়েছিলেন এবং ২০১৩ সালে নিজের পরিচয়ে নাগরিকত্ব লাভ করেন। ফলে দীর্ঘদিন মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহারের ইতিহাস এবং আইনগত নাগরিকত্বের মেয়াদ এক নয়। এদিকে একই সময়ে কিউবায় জন্ম নেওয়া মিলাগ্রোস মারিলেইসিস অ্যাকোস্তা টরেস নামের আরেক নারীর নাগরিকত্বও বাতিল করেছেন ফ্লোরিডার ফেডারেল আদালত। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অর্থপাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার তথ্য নাগরিকত্বের আবেদনে গোপন করেছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর ২০২০ সালে সংশ্লিষ্ট অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, প্রতারণা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে নাগরিকত্ব অর্জনের ঘটনা শনাক্ত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে। তবে নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য আদালতের নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা এবং আদালতের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বাতিল করা এক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নাগরিকত্বের এন-৪০০ ফরমে আগে ব্যবহার করা নাম, পরিচয়, অপরাধসংক্রান্ত ইতিহাস এবং অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে জানানো প্রয়োজন। ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে নাগরিকত্ব অর্জনের বিষয়টি বহু বছর পরও আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করলেই কারও নাগরিকত্ব বাতিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, এমন নয়। একইভাবে নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিপোর্টেশন সম্পন্ন হওয়া নয়। ওবিচেরের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হলেও তাঁর পরবর্তী অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থার বিষয়ে পৃথক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।
পঞ্চম সন্তান নিতে চান জেডি ভ্যান্স, স্ত্রীর এক হু মকিতেই চুপ
হ্যালোইনে নিউ ইয়র্কের রাস্তায় নামছে ২ লাখ মানুষ, নিরাপত্তায় বিশেষ প্রস্তুতি
চাকরির মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের নিয়ম বদলাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, প্রস্তাবের পর্যালোচনা শেষ
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের সিডার র্যাপিডস শহরে স্কুলবাসে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী বেলা স্কট। বাসচালক শ্বাস নিতে না পারায় বিপদের মুহূর্তে বাবাকে ফোন করে জরুরি সহায়তা ডেকে আনে সে। তার দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে সময়মতো চিকিৎসা পান বাসচালক। ঘটনাটি ঘটে ভায়োলা গিবসন এলিমেন্টারি স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার পথে। সেদিন বাস চালাচ্ছিলেন ক্রিস্টিন হিউস্টন। হঠাৎ তীব্র সুগন্ধির গন্ধে তাঁর কাশি শুরু হয়। ধীরে ধীরে শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে কথা বলতেও সমস্যা হচ্ছিল তাঁর। বাসে থাকা বেলা বুঝতে পারে, চালকের অবস্থা স্বাভাবিক নয়। অন্যদের মতো অপেক্ষা না করে সে নিজের ফোন বের করে বাবাকে কল করে। কয়েকবার ফোন করে বাবাকে পরিস্থিতি জানায় এবং বাসটি কোথায় রয়েছে, সেই অবস্থানও বুঝিয়ে বলে। বেলার বাবা নিক স্কট কাছাকাছি ছিলেন। প্রথমে তিনি মেয়ের ফোনের গুরুত্ব বুঝতে পারেননি। কিন্তু বারবার ফোন আসার পর মেয়ের কণ্ঠে আতঙ্ক টের পেয়ে দ্রুত বাসটির কাছে পৌঁছান। বাসে উঠে তিনি দেখেন, চালক সত্যিই গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তিনি জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। একই সঙ্গে বাসে থাকা প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থীকে শান্ত রাখার এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করেন। পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্রিস্টিনকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি গুরুতর হাঁপানির আক্রমণে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যার কারণে শ্বাস নেওয়া ও কথা বলা কঠিন হয়ে পড়েছিল। বাসচালক জানান, বেলা শিক্ষার্থীদের বাস নিরাপত্তা প্রশিক্ষণে শেখানো নিয়ম অনুসরণ করেছে—বিপদের সময় পরিচিত ও বিশ্বস্ত কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সাহায্য নিতে হবে। ঘটনার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেলার সাহসিকতার স্বীকৃতি দেয়। বাসচালক ক্রিস্টিনও বেলার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষায়, বেলা তাঁর জীবন বাঁচিয়েছে। তিনি আরও বলেন, সব নায়ককে বিশেষ পোশাক পরতে হয় না; কখনো স্কুলব্যাগে রাখা একটি ফোনও জীবন রক্ষার মাধ্যম হতে পারে। একটি স্কুলবাসের সাধারণ যাত্রা মুহূর্তেই জরুরি পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু ছোট্ট বেলার উপস্থিত বুদ্ধি, সাহস এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত বড় বিপদ সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নিউইয়র্কে ই-বাইকের ব্যাটারি বি স্ফোরণে একই পরিবারের চারজনের মৃ ত্যু
বাড়ির আঙিনায় ভৌতিক জগৎ তৈরি করে তাক লাগালেন ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দারা