সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

রিপাবলিকানদের পরাজয়ে কি থেমে গেল ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:৬
রিপাবলিকানদের পরাজয়ে কি থেমে গেল ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি?
রিপাবলিকানদের পরাজয়ে কি থেমে গেল ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ৫ হাজার ডলারের চেক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে।

 

কিন্তু নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষেই জয় পাওয়ায় সেই প্রতিশ্রুতির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

 

গত ১০ সেপ্টেম্বর ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনবিষয়ক সম্মেলনে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। তিনি অর্থ বিতরণের প্রস্তাবটির নাম দিয়েছিলেন ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সাফল্য এবং আমদানি শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্বের মাধ্যমে নাগরিকদের এই অর্থ দেওয়া সম্ভব হবে। এমনকি নির্বাচনের আগে অক্টোবর মাসেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি একই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

কিন্তু গতকাল ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে সেই রাজনৈতিক হিসাব পাল্টে গেছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ পেতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে যুক্ত প্রধান শর্তটি আর পূরণ হচ্ছে না। নির্বাচনের ফলাফলের পর এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের ৫ হাজার ডলার পাওয়ার আশাও শেষ?

 

তবে বিষয়টি শুধু নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৪০ থেকে ২৪৫ মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে প্রত্যেককে ৫ হাজার ডলার করে দিতে হলে সরকারের ব্যয় হতো প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। এত বিপুল অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। ট্রাম্প শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্বের কথা বললেও বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই আয় দিয়ে এত বড় অঙ্কের অর্থ বিতরণ করা সম্ভব নয়।

 

এ ছাড়া ট্রাম্পের এই ঘোষণাটি কোনো অনুমোদিত সরকারি অর্থ বিতরণ কর্মসূচি ছিল না। এ ধরনের অর্থ বিতরণের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হতো। ডেমোক্র্যাটদের হাতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ায় প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের রাজনৈতিক সম্ভাবনাও নেই বললেই চলে।

 

সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করার যে রাজনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প, নির্বাচনের ফলাফলে তার ভবিষ্যৎ এখন বড় প্রশ্নের মুখে। আপাতত মার্কিন নাগরিকদের জন্য ৫ হাজার ডলারের কোনো চেক আসছে এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, রিপাবলিকানরা জিতলে যে ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি ছিল, দলটির পরাজয়ের পর সেই প্রতিশ্রুতির কী হবে?


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
বাঁয়ে ওপরে আবদুল এল-সায়েদ, নিচে বারাক ওবামা। ডানে মাইক জনসন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
মূল্যস্ফীতি থেকে ইরান যু দ্ধ, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের ৫ কারণ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচন কিছুটা কঠিন হলেও, রিপাবলিকানদের এই বিশাল পরাজয়কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত দুই বছরের শাসনকালের প্রতি জনগণের চরম প্রত্যাখ্যান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   এই ভরাডুবির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকলেও সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়। জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় দেশজুড়ে ভোটারদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৩.৭ শতাংশে দাঁড়ায় এবং ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি রেকর্ড ৬.৫২ ডলারে পৌঁছায়।   প্রায় ৭৯ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের পরিবার চরম বা মাঝারি আর্থিক কষ্টের মুখে পড়েছে এবং এর জন্য অর্ধেকেরও বেশি ভোটার ট্রাম্পের নীতিকেই সরাসরি দায়ী করেছেন।   মূল্যবৃদ্ধির এই সংকটের পেছনে বড় একটি কারণ ছিল গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ। এই যুদ্ধের জেরে তেহরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়। আমেরিকার সাধারণ নাগরিকদের কাছে এই যুদ্ধ মোটেও জনপ্রিয় হয়নি; এমনকি 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির অধীনে আর কোনো যুদ্ধে না জড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, কট্টর রিপাবলিকানরাও একে সেই প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ হিসেবে দেখেছেন। জরিপ বলছে, প্রায় ৭৪ শতাংশ ভোটার কংগ্রেস নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে এই সংঘাতকে মূল নিয়ামক হিসেবে বিবেচনা করেছেন।   এর পাশাপাশি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অজনপ্রিয়তাও রিপাবলিকানদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও যুদ্ধের দায়ভার সরাসরি তার ওপর পড়ায় রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও তার সমর্থন কমতে থাকে। নিজের মেয়াদের ব্যর্থতাগুলো আড়াল করতে গিয়ে তিনি নিজেকেই প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত হিতে বিপরীত হয়েছে।   অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের সুশৃঙ্খল নির্বাচনী প্রচারণাও তাদের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। জেমস ট্যালারিকো, অ্যানি অ্যান্ড্রুজ, আবদুল এল-সায়েদ কিংবা জন ওসফের মতো প্রার্থীরা জীবনযাত্রার ব্যয় এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলোকে অত্যন্ত সুচারুভাবে সামনে এনেছেন। এমনকি খোদ ট্রাম্পও ডেমোক্র্যাটদের কৌশলের প্রশংসা করতে বাধ্য হয়েছেন।   এর পাশাপাশি, হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের একটি বড় অংশ পুনরায় ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকেছে। অভিবাসন নীতি ও আইসিই (ICE)-এর প্রতি ক্ষোভের কারণে টেক্সাস-মেক্সিকো সীমান্তের হিস্পানিক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনগুলো এবং মিসিসিপির মতো কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থীরা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন। ভোটারদের এই জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং ডেমোক্র্যাটদের বাস্তবমুখী কৌশলের কাছেই মূলত রিপাবলিকানদের এমন শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:৪২
রিপাবলিকানদের পরাজয়ে কি থেমে গেল ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি?

রিপাবলিকানদের পরাজয়ে কি থেমে গেল ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি?

কোভিড ত্রাণের দেড় লাখ ডলার আত্মসাৎ, ৩০ বছরের কারাদণ্ডের মুখে মার্কিন কলেজ শিক্ষিকা

কোভিড ত্রাণের দেড় লাখ ডলার আত্মসাৎ, ৩০ বছরের কারাদণ্ডের মুখে মার্কিন কলেজ শিক্ষিকা

যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইন্সে আবারও বাড়ল ব্যাগেজ ফি

যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইন্সে আবারও বাড়ল ব্যাগেজ ফি, প্রথম চেকড ব্যাগের ফি বেড়ে ৫০ থেকে ৫৫ ডলার

ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির ক্রেতাদের জন্য ২৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ তহবিল পাস
ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির ক্রেতাদের জন্য ২৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ তহবিল পাস, তবে সুবিধা পেতে রয়েছে শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন বাড়ি ক্রেতাদের সহায়তার জন্য ২৫ বিলিয়ন ডলারের একটি ঐতিহাসিক ঋণ তহবিল অনুমোদিত হয়েছে। গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ‘প্রস্তাবনা ৩৭’ বা প্রপোজিশন ৩৭-এর পক্ষে ৬০ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ায় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) মঙ্গলবার রাতে এই বিল পাসের বিষয়টি নিশ্চিত করে।   নতুন এই আইনের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দারা প্রচলিত ২০ শতাংশের পরিবর্তে মাত্র ৩ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়েই নতুন বাড়ি কেনার সুযোগ পাবেন। তবে বিশাল এই তহবিলের কার্যক্রম ঠিক কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে এখনও সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।   প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়া হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বন্ড বিক্রি করে ২৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ঋণ সংগ্রহ করবে। পরবর্তীতে সেই অর্থ রাজ্যের সেসব মধ্যবিত্তদের বাড়ি কেনার জন্য ফিক্সড-রেট মর্টগেজ হিসেবে দেওয়া হবে, যাদের মাসিক কিস্তি পরিশোধের সামর্থ্য থাকলেও ২০ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দেওয়ার মতো নগদ অর্থ নেই।   এই ঋণ একটি বাড়ির মোট মূল্যের ১৭ শতাংশ পর্যন্ত কভার করবে। তবে এই সুবিধা পেতে বেশ কিছু কঠিন শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়িটিকে অবশ্যই নতুন নির্মিত বা নতুনভাবে আবাসনে রূপান্তরিত হতে হবে, অর্থাৎ ঋণগ্রহীতাকে ওই বাড়ির প্রথম বাসিন্দা হতে হবে।   শুধু তাই নয়, এই সহায়তার জন্য বাড়ির দামের একটি নির্দিষ্ট সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির দাম সর্বোচ্চ ১ মিলিয়ন ডলার এবং লস অ্যাঞ্জেলেস, অরেঞ্জ কাউন্টি ও বে এরিয়ায় তা সর্বোচ্চ ১.৫ মিলিয়ন ডলার হতে পারবে। এছাড়া আবেদনকারীর আয় নিজ এলাকার মধ্যম আয়ের (মিডিয়ান ইনকাম) দ্বিগুণের বেশি হওয়া যাবে না। ঋণগ্রহীতারা ঋণ পরিশোধ করলে সেই অর্থ সুদসহ বন্ডহোল্ডারদের কাছে ফিরে যাবে।   তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কীভাবে বাস্তবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা। 'লিগ অব উইমেন ভোটারস অব ক্যালিফোর্নিয়া' এবং 'রিফর্ম ক্যালিফোর্নিয়া'-এর মতো বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর দাবি, রাজ্যের সরাসরি মর্টগেজ ঋণ কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া মোটেও উচিত নয়। তাদের মতে, এই কর্মসূচি ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসন ব্যয় অত্যধিক বৃদ্ধির মূল কারণগুলোর কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান করবে না।   উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা রাজ্যব্যাপী এমন ১৪টি ব্যালট প্রস্তাবনায় ভোট দিয়েছেন, যেগুলো নতুন আইন হিসেবে কার্যকর হতে সাধারণ ভোটারদের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১৩:২
মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম সিনেটর হয়ে ভ্যান্সকে ‘হাবিবি’ বলে খোঁচা এল-সায়েদের

মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম সিনেটর হয়ে ভ্যান্সকে ‘হাবিবি’ বলে খোঁচা এল-সায়েদের

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর দুর্গম পাহাড়ে নিখোঁজ দুই কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রকাশ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে পাহাড়ে হাইকিং এর সময় দুই কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যু, তদন্তে ভয়াবহ তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রে বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুসহ দুই সন্তানকে হ ত্যা করে বাবার আ ত্মহ ত্যা

যুক্তরাষ্ট্রে বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুসহ দুই সন্তানকে হ ত্যা করে বাবার আ ত্মহ ত্যা

ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা পেতে পারবে ২৩টি দেশের যোগ্য নাগরিক
দ্রুত ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা পাচ্ছে ২৩ দেশের নাগরিক, বাংলাদেশীদের জন্য দুঃসংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে দ্রুত ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা পেতে পারবে ২৩টি দেশের যোগ্য নাগরিক। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) পরিচালিত ‘গ্লোবাল এন্ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত যাত্রীরা সাধারণ ইমিগ্রেশন লাইনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। সর্বশেষ ২৭ অক্টোবর সৌদি আরবকে এই কর্মসূচিতে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে অংশীদার দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই।   মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশনের তথ্য অনুযায়ী, গ্লোবাল এন্ট্রি কর্মসূচি মূলত আগে থেকে নিরাপত্তা যাচাইয়ে অনুমোদিত এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য। এই কর্মসূচির সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণকারী বিমানবন্দরে পৌঁছে বিশেষ গ্লোবাল এন্ট্রি পোর্টাল বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করতে পারেন। এতে দীর্ঘ ইমিগ্রেশন লাইনে অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে। তবে গ্লোবাল এন্ট্রি সদস্যপদ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা দেয় না এবং প্রয়োজনীয় ভিসার বিকল্পও নয়।   সিবিপির ২৭ অক্টোবরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, গ্লোবাল এন্ট্রির ২৩টি আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশ হলো আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ক্রোয়েশিয়া, ডমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, জার্মানি, ভারত, জাপান, জর্ডান, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, পানামা, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরব। কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক নেক্সাস কর্মসূচি রয়েছে, যার অনুমোদিত সদস্যরাও নির্দিষ্ট শর্তে গ্লোবাল এন্ট্রির সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন।   বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ এখনো গ্লোবাল এন্ট্রির আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে শুধু বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও মার্কিন ভিসা থাকা ব্যক্তি সাধারণভাবে এই কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন না। তবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা বৈধ গ্রিন কার্ডধারী, তাঁরা অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করে গ্লোবাল এন্ট্রির জন্য আবেদন করতে পারবেন। কারণ মার্কিন নাগরিক ও লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্টদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশের নাগরিকত্বের শর্ত প্রযোজ্য নয়।   গ্লোবাল এন্ট্রির সদস্যপদ পেতে আবেদনকারীকে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাস্টেড ট্রাভেলার প্রোগ্রামসের সরকারি পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফি ১২০ ডলার, যা ফেরতযোগ্য নয়। এরপর আবেদনকারীর অপরাধসংক্রান্ত রেকর্ড, ইমিগ্রেশন ইতিহাস এবং অন্যান্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয়। প্রাথমিক অনুমোদনের পর সিবিপির কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি ইন্টারভিউ দিতে হয়। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে পাঁচ বছরের জন্য সদস্যপদ কার্যকর থাকে।   অপ্রাপ্তবয়স্করাও অভিভাবকের সম্মতিতে আবেদন করতে পারে। অভিভাবক আগে থেকেই অনুমোদিত সদস্য হলে অথবা তাঁর আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকলে নির্ধারিত শর্তে ১৮ বছরের কম বয়সীদের আবেদন ফি মওকুফ হতে পারে। গ্লোবাল এন্ট্রির অনুমোদিত সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে নির্দিষ্ট শর্তে টিএসএ প্রিচেক সুবিধাও পেতে পারেন। এতে বিমানবন্দরের সিকিউরিটি চেকিং প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার সুযোগ থাকে।   সিবিপি জানিয়েছে, গ্লোবাল এন্ট্রি কর্মসূচিতে সদস্যপদ পাওয়ার পরও নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাই চলতে থাকে। ইমিগ্রেশন বা কাস্টমস আইন লঙ্ঘন করলে সদস্যপদ বাতিল করা হতে পারে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করাই এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১২:৯
ছবি: শাজিয়া হক, মন্টেবেলো সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী। (সংগৃহীত)

নির্বাচনে জয় আসেনি, তবুও দমে না যাওয়ার প্রত্যয় বাংলাদেশি-আমেরিকান নারী শাজিয়া হকের

যুক্তরাষ্ট্রে আটক আফগান নাগরিকদের পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনায় সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছে মার্কিন আদালত। ছবি: সংগৃহীত

আটক আফগানদের দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা আদালতে স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পর ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে বুকে পাথর বেধে ডেমোক্র্যাটদের শুভেচ্ছা জানালেন ট্রাম্প, বললেন ‘ভালো কাজ করেছে’

0 Comments