যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের দাম কেন বাড়ছে, হার্ভার্ডের নতুন গবেষণায় উঠে এলো আসল কারণ
যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের বিল বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই দায়ী করছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ডেটা সেন্টারগুলোকে। তবে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। গবেষকদের হিসাবে, গত পাঁচ বছরে আবাসিক বিদ্যুতের দাম যতটা বেড়েছে, তার মাত্র ৪ শতাংশ বৃদ্ধির জন্য দায়ী ডেটা সেন্টার। বরং প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, পুরোনো বিদ্যুৎ গ্রিড সংস্কার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের খরচ বিদ্যুতের দাম বাড়ার গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে এআই প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেটা সেন্টারের সংখ্যা। এসব স্থাপনায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার মধ্যে অনেকেই মনে করছেন, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ সাধারণ গ্রাহকদের বহন করতে হচ্ছে।
তবে হার্ভার্ড ও পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, দেশজুড়ে আবাসিক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে ডেটা সেন্টারের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। গবেষণার অন্যতম লেখক ও পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হোয়ার্টন স্কুলের অধ্যাপক সের্গেই নেতেসিন জানিয়েছেন, এই ফলাফল তাঁর কাছেও কিছুটা বিস্ময়কর ছিল। তাঁর মতে, এখন পর্যন্ত ডেটা সেন্টারের কারণে সাধারণ মানুষের বিদ্যুতের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে শিল্পকারখানা ও বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে চিত্র কিছুটা আলাদা। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে শিল্প খাতে বিদ্যুতের দাম যতটা বেড়েছে, তার প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে ডেটা সেন্টারের সম্পর্ক রয়েছে। অর্থাৎ সাধারণ পরিবারের তুলনায় শিল্প খাতের বিদ্যুৎ খরচে এসব স্থাপনার প্রভাব বেশি।
এর আগেও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষণায় দেখা যায়, ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক বিদ্যুতের গড় দাম বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে ব্র্যাটল গ্রুপ ও লরেন্স বার্কলে ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বিশ্লেষণে কিছু অঞ্চলে ডেটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহের খরচ কমার তথ্যও পাওয়া গেছে।
গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের বড় অংশের খরচ আসে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, ট্রান্সমিশন লাইন এবং বিতরণ অবকাঠামো থেকে। অনেক এলাকায় পুরোনো বিদ্যুৎ গ্রিড সংস্কার করতে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং দাবানল ও হারিকেনের মতো দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎব্যবস্থা পুনর্নির্মাণের খরচও গ্রাহকদের বিলের ওপর প্রভাব ফেলছে।
তবে সব অঙ্গরাজ্যে পরিস্থিতি এক নয়। পেনসিলভানিয়া, ভার্জিনিয়া ও ওহাইওসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পিজেএমের আওতায় ডেটা সেন্টারের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। এর ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মেরিল্যান্ডের মতো অঙ্গরাজ্যে ডেটা সেন্টারের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে আবাসিক বিদ্যুতের দামও আংশিকভাবে বেড়েছে।
ব্র্যাটল গ্রুপের গবেষক রায়ান হ্লেডিক জানিয়েছেন, গবেষণার পদ্ধতি ও অঞ্চলভেদে ডেটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুতের দাম কোথাও সামান্য বেড়েছে, আবার কোথাও কমেছে। তবে সামগ্রিকভাবে এখন পর্যন্ত এর প্রভাব প্রচলিত ধারণার তুলনায় অনেক কম।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরোধিতা বাড়ছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ৪১টি স্থানীয় ভোটের মধ্যে ৪০টিতে ডেটা সেন্টার নির্মাণ সীমিত বা নিষিদ্ধ করার পক্ষে ফলাফল এসেছে। বিদ্যুতের দাম ছাড়াও শব্দদূষণ, পরিবেশের ক্ষতি এবং এআই প্রযুক্তির কারণে ভবিষ্যতে চাকরি কমে যাওয়ার আশঙ্কা এই বিরোধিতার পেছনে ভূমিকা রাখছে।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক বছরে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা আরও দ্রুত বাড়তে পারে। নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে ভবিষ্যতে আবাসিক গ্রাহকদের বিলেও এর প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শীতকালে হিটিং এবং গ্রীষ্মকালে এয়ার কন্ডিশনিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে গেলে পরিবারের মাসিক বাজেটে চাপ তৈরি হয়। নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে, বিদ্যুতের বিল বৃদ্ধির পেছনে শুধু ডেটা সেন্টার নয়, জ্বালানির দাম, পুরোনো অবকাঠামো ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো একাধিক কারণ কাজ করছে।
সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreবৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার আলোচিত সাইবারট্রাকের উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থিত গিগাফ্যাক্টরিতে সাইবারট্রাকের উৎপাদন ধাপে ধাপে বন্ধ করা হবে। এর পরিবর্তে চালকবিহীন সাইবারক্যাবের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে টেসলা। গাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি রোবটিকস ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দিকে কোম্পানিটির মনোযোগ বাড়ানোর অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ইয়াহু ফাইন্যান্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে সাইবারট্রাকের উৎপাদন বন্ধের পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছেন ইলন মাস্ক। তিনি জানান, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি টেক্সাসের গিগাফ্যাক্টরিতে সাইবারট্রাকের উৎপাদন গুটিয়ে নেওয়া হবে। কারখানাটিতে সাইবারক্যাবের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য জায়গা তৈরি করতেই এই সিদ্ধান্ত। ২০১৯ সালে প্রথম সাইবারট্রাক উন্মোচন করে টেসলা। ব্যতিক্রমী নকশা, স্টেইনলেস স্টিলের বডি এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির প্রতিশ্রুতির কারণে গাড়িটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় আসে। সে সময় মাস্ক জানিয়েছিলেন, সাইবারট্রাকের চাহিদা প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি। কোম্পানিটি একপর্যায়ে ১০ লাখের বেশি প্রি-অর্ডার পাওয়ার কথাও জানিয়েছিল। তবে বাস্তবে সেই আগ্রহ বিক্রিতে রূপ নেয়নি। কক্স অটোমোটিভের কেলি ব্লু বুকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাজারে আসার পর থেকে সাইবারট্রাকের মোট বিক্রি হয়েছে আনুমানিক ৭১ হাজার ইউনিট। অথচ টেক্সাসের কারখানায় বছরে আড়াই লাখ সাইবারট্রাক উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করেছিল টেসলা। পরিকল্পিত উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় গাড়িটির বিক্রি অনেক কম ছিল। সাইবারট্রাক বাজারে আনার সময় সবচেয়ে সাশ্রয়ী সংস্করণের দাম ৪০ হাজার ডলারের নিচে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মাস্ক। পাশাপাশি উচ্চমূল্যের সংস্করণে একবার চার্জে সর্বোচ্চ ৫০০ মাইল চলার সক্ষমতার কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু বাজারে আসার পর গাড়িটির দাম ও রেঞ্জ কোনোটিই প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হয়নি। প্রথমদিকে ২০২১ সালের শেষ নাগাদ সাইবারট্রাক বাজারে আনার পরিকল্পনা থাকলেও নকশা চূড়ান্ত করা, বড় আকারের স্টেইনলেস স্টিলের বডি তৈরি এবং করোনা মহামারির কারণে উৎপাদন পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালে গাড়িটির বিক্রি শুরু হয়। এখন ২০২৭ সালের মাঝামাঝি উৎপাদন বন্ধ হলে বাজারে আসার প্রায় চার বছরের মধ্যেই সাইবারট্রাকের উৎপাদন কার্যক্রম শেষ হবে। সাইবারট্রাকের পরিবর্তে টেসলা গুরুত্ব দিচ্ছে সাইবারক্যাব প্রকল্পে। এটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলার জন্য পরিকল্পিত একটি গাড়ি, যেখানে প্রচলিত স্টিয়ারিং হুইল কিংবা প্যাডেল নেই। মূলত রোবট্যাক্সি ও চালকবিহীন যাত্রী পরিবহন সেবার জন্য গাড়িটি তৈরি করছে টেসলা। কোম্পানিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে সাধারণ ক্রেতাদের কাছেও সাইবারক্যাব বিক্রি করা হতে পারে। এর আগে টেসলার জনপ্রিয় মডেল এস সেডান ও মডেল এক্স এসইউভির উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে সময় মাস্ক জানিয়েছিলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রিমন্ট কারখানায় এসব গাড়ির উৎপাদনের জায়গা ব্যবহার করা হবে অপটিমাস হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির জন্য। পরপর কয়েকটি গাড়ির মডেল বন্ধের সিদ্ধান্তে টেসলার ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কৌশল আরও স্পষ্ট হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রচলিত বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি এআই, রোবটিকস, সফটওয়্যার এবং স্বয়ংক্রিয় পরিবহন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। তবে এই পরিবর্তন নিয়ে গাড়িপ্রেমী ও টেসলার কিছু গ্রাহকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা নিজেরা গাড়ি চালাতে পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ গাড়ির মডেল ও উৎপাদন পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সাইবারট্রাকের উৎপাদন বন্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদ্যুতিক পিকআপ ট্রাকের বাজারেও পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে রিভিয়ানের আর১টি এবং জেনারেল মোটরসের শেভরোলেট সিলভেরাডো ইভি ও জিএমসি সিয়েরা ইভির মতো গাড়ি এই বাজারে রয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নতুন বৈদ্যুতিক পিকআপ বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাইবারট্রাক বন্ধের পরিকল্পনা টেসলার ব্যবসায়িক অগ্রাধিকারে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একসময় ব্যতিক্রমী বৈদ্যুতিক গাড়ি দিয়ে বাজারে আলোড়ন তৈরি করা প্রতিষ্ঠানটি এখন চালকবিহীন পরিবহন ও রোবট প্রযুক্তিকে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে। সূত্র: ইয়াহু ফাইন্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের দাম কেন বাড়ছে, হার্ভার্ডের নতুন গবেষণায় উঠে এলো আসল কারণ
২০২৭ সালের নতুন ট্যাক্স ব্র্যাকেট ঘোষণা আইআরএসের, বাড়ছে কর ছাড়ের সুবিধা
ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে টেক্সাসে গিয়েও স্বস্তিতে নেই ইলন মাস্ক, ক্ষমতায় ডেমোক্র্যাটরা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে হোয়াইট হাউসের কাছে অস্ত্রসহ এক ভেনেজুয়েলার নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে ওয়াশিংটন ডিসির কনস্টিটিউশন অ্যাভিনিউতে একটি চোরাই গাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়। গাড়িটি তল্লাশি করে একটি রাইফেল, দুটি পিস্তল এবং কয়েক ডজন গুলি উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার নির্দেশ পাচ্ছেন বলে কর্মকর্তাদের কাছে দাবি করেছিলেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ফাইভ ডিসি ও এবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম রনি ইয়র্ড্রিক্স গুয়ানিপা ক্রিনোস। তাঁর বয়স ৩০ বছর। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি কনস্টিটিউশন অ্যাভিনিউতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়ির ভেতর তাঁর সন্দেহজনক আচরণ নজরে আসে সিক্রেট সার্ভিসের টহলরত কর্মকর্তাদের। পরে তাঁরা গাড়িটির কাছে গিয়ে চালকের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ক্রিনোস জানান, তিনি নিজের মাথার ভেতর কিছু কণ্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছেন, যা তাঁকে ওয়াশিংটনে এসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যা করতে বলছে। তবে তাঁর এই বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, সিক্রেট সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা একটি নীল রঙের ফোর্ড এফ-১৫০ গাড়ির কাছে গিয়ে চালকের কাছে অস্ত্র থাকার বিষয়ে জানতে চান। পরে ক্রিনোস গাড়িতে অস্ত্র থাকার কথা জানান। তল্লাশি চালিয়ে একটি এআর-১৫ ধরনের রাইফেল, একটি ম্যাক-১০ এবং একটি গ্লক পিস্তল উদ্ধার করেন কর্মকর্তারা। গাড়িতে কয়েক ডজন গুলিও পাওয়া যায়। তদন্তে জানা যায়, গাড়িটি আগে চুরি হয়েছে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছিল। অস্ত্র উদ্ধারের পর ক্রিনোসকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়। ডিএইচএস জানিয়েছে, ক্রিনোস ভেনেজুয়েলার নাগরিক। তিনি ২০২৪ সালের মার্চ মাসে টেক্সাস সীমান্ত দিয়ে অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। সে সময় মার্কিন বর্ডার প্যাট্রোল তাঁকে আটক করলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে সংস্থাটির দাবি। এবারের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে চোরাই গাড়ি ব্যবহার, চোরাই সম্পত্তি গ্রহণ, লাইসেন্স ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র বহন এবং অস্ত্রসংক্রান্ত আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তাঁর বিরুদ্ধে একটি ডিটেইনারও জারি করেছে, যাতে ফৌজদারি হেফাজত থেকে মুক্তির আগে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসির সুপিরিয়র কোর্টে ক্রিনোসকে প্রথমবার হাজির করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাঁকে জামিন ছাড়াই আটক রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বর্তমানে ইউএস মার্শালস সার্ভিসের হেফাজতে রয়েছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টকে হত্যার ষড়যন্ত্রের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, প্রকাশিত আদালতের তথ্য থেকে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ডিএইচএস তাঁর কথিত হুমকির বিষয়টি সামনে আনলেও এবিসি নিউজের পর্যালোচনা করা আদালতের অভিযোগপত্রে ওই বক্তব্যের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা তাঁর উদ্দেশ্য ও ঘটনার অন্যান্য পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। ঘটনার পর মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের পরিচালক শন কারান বলেন, হোয়াইট হাউসকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র ব্যক্তিদের উপস্থিতি এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত হুমকির ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাঁর মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য কর্মকর্তারা প্রশিক্ষিত হলেও হুমকির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়াকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তাদের প্রশংসা করেছেন। হোয়াইট হাউস কর্তৃপক্ষ এ ঘটনা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে। এর আগেও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একাধিক নিরাপত্তা হুমকি ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে নির্বাচনী সমাবেশে গুলিবর্ষণের ঘটনায় আহত হয়েছিলেন তিনি। একই বছরের সেপ্টেম্বরে ফ্লোরিডায় তাঁর গলফ ক্লাবের কাছেও সম্ভাব্য হামলার একটি ঘটনা সামনে আসে। এসব ঘটনার পর প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়। সর্বশেষ গ্রেপ্তারের ঘটনায় হোয়াইট হাউসের আশপাশে নিরাপত্তা নজরদারির বিষয়টি আবারও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে ক্রিনোসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। সূত্র: মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস), এবিসি নিউজ ও ফক্স ফাইভ ডিসি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পেছনে ভোট না দেওয়া মার্কিনিদেরও দায় মন্তব্য রিহানার
ক্ষমতা ছাড়ার আগে ৫৪৮ বন্দির মৃত্যুদণ্ড বাতিলের উদ্যোগ নিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর
ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেস নির্বাচনে জয়ী আফগান বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট আয়েশা ওয়াহাব
যুক্তরাষ্ট্রে ৫০০ দিনের বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর অনলাইন ভিডিও গেম ‘অ্যামং আস’-এর মাধ্যমে বাইরে যোগাযোগ করে উদ্ধার হয়েছে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী। কাইলি আরেলানো নামের ওই কিশোরী ২০২৫ সালের মে মাসে উটাহ অঙ্গরাজ্যের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিল। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর গত ১ নভেম্বর ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় ৩৯ বছর বয়সী অ্যাডাম হান্টার হারমেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য এবং ফেডারেল আদালতের নথি অনুযায়ী, হারমেলের সঙ্গে কাইলির পরিচয় হয়েছিল অনলাইনে। ২০২৫ সালের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগের পর হারমেল তাঁকে ওরেগনে যাওয়ার জন্য অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে তিনি নিজেই উটাহর পেরি এলাকায় গিয়ে কাইলিকে গাড়িতে তুলে নেন। অভিযোগ রয়েছে, গাড়িতে ওঠার পর তাঁর মোবাইল ফোন নদীতে ফেলে দেওয়া হয় এবং তাঁকে ওরেগনের হান্টিংটনে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে বাইরে যেতে দেওয়া হতো না বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাইলিকে দীর্ঘ সময় বাড়ির বেসমেন্টে আটকে রাখা হয়েছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর চলাফেরা ও যোগাযোগের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতেন। আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, হারমেল তাঁকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করেছেন। এমনকি পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন করতে প্লায়ার্স দিয়ে তাঁর দাঁতের ব্রেস খুলে ফেলতে বাধ্য করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে হারমেল নিজের বালিশের নিচে ছুরি রাখতেন বলে কাইলি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। তবে বন্দিদশার মধ্যেও বাইরে যোগাযোগের একটি সুযোগ পান কাইলি। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে এমন একটি মোবাইল ফোন দিয়েছিলেন, যাতে সিমকার্ড বা মোবাইল ডেটা ব্যবহারের সুবিধা ছিল না। তবে ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যেত। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে জনপ্রিয় অনলাইন গেম ‘অ্যামং আস’-এ অন্য এক শিশুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। পরে গেমের বাইরে অন্য একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথোপকথন চালিয়ে নিজের পরিচয় প্রকাশ করেন এবং তাঁকে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে বলে জানান। ওই শিশুর মা বিষয়টি জানার পর এফবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর গত ১ নভেম্বর তদন্তকারীরা কাইলির সঙ্গে একটি ভিডিও কলের ব্যবস্থা করেন। এফবিআই কর্মকর্তারা সেই কথোপকথন পর্যবেক্ষণ করেন। সেখানে কাইলি কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিল, কোথায় তাকে আটকে রাখা হয়েছে এবং কীভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তার বিবরণ দেয়। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে থাকা ছুরিসহ কিছু প্রমাণও দেখায় সে। পরে ওরেগন অঙ্গরাজ্যের পুলিশ ও ফেডারেল তদন্তকারীরা ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কাইলিকে উদ্ধার করেন। তাঁকে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হারমেলের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ককে অবৈধ যৌন কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে এক অঙ্গরাজ্য থেকে অন্য অঙ্গরাজ্যে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ২ নভেম্বর উটাহর ফেডারেল আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়। ৪ নভেম্বর আইডাহোর বোইসি শহরের ফেডারেল আদালতে প্রাথমিক শুনানিতে হাজির হন তিনি। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তিনি নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। কাইলির উদ্ধারের পর শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে এফবিআই। সংস্থাটির তদন্তে উঠে এসেছে, কিছু অনলাইন গোষ্ঠী ভিডিও গেম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে এবং পরে তাদের শোষণের চেষ্টা করে। ‘নো লাইভস ম্যাটার’, ‘ম্যানিয়াক মার্ডার কাল্ট’ এবং ‘দ্য কম’ নামের কয়েকটি অনলাইন নেটওয়ার্কের কথাও মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল কাইলির নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, শিশুদের লক্ষ্য করে যারা এ ধরনের অনলাইন গোষ্ঠীর মাধ্যমে তাদের শোষণের চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে এফবিআই ও সহযোগী সংস্থাগুলো ব্যবস্থা নেবে। অনলাইন মাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, কাইলি আরেলানো নিখোঁজ হওয়ার পর উটাহর রিচ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এবং এফবিআইয়ের সল্টলেক সিটি কার্যালয় যৌথভাবে অনুসন্ধান চালায়। দীর্ঘ ১৭ মাসের বেশি সময় ধরে চলা সেই অনুসন্ধানের পর একটি অনলাইন গেমে অন্য শিশুর সঙ্গে যোগাযোগই শেষ পর্যন্ত তাঁকে উদ্ধারের সূত্র হয়ে ওঠে। ঘটনাটি শিশুদের অনলাইন গেম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, এফবিআই ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
নিউ ইয়র্কে তুষার সরানোর কাজে ঘণ্টায় ৪৫ ডলার আয়ের সুযোগ, নিয়োগ চলছে