সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় চকরিয়ার নারী-শিশুসহ একই পরিবারের সাত বাংলাদেশির মৃত্যু
সৌদি আরবে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ সাত বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) মদিনা থেকে জেদ্দায় যাওয়ার পথে মহাসড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাতজনের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, বাংলাদেশিরা একটি গাড়িতে করে মদিনা থেকে জেদ্দার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে গাড়িতে থাকা সাতজনই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান।
নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে আল আবীর কোল্ড স্টোর ট্রেডিং কোম্পানির মার্কেটিং ম্যানেজার নুরুজ্জামানের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির স্টোরকিপার জিয়াউর রহমান, তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ফর্কলিফট চালক ইলিয়াসের স্ত্রী এবং মক্কায় কর্মরত স্টোরকিপার আলমশাহ ও তাঁর মাত্র এক মাস বয়সী কন্যাশিশু রয়েছে।
অর্থাৎ, দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। বিশেষ করে এক মাস বয়সী শিশুটির মৃত্যুর খবর প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।জানা গেছে, নিহত ব্যক্তিরা সৌদি আরবে আল আবীর কোল্ড স্টোর ট্রেডিং কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির রিয়াদ ও জেদ্দায় কার্যালয় রয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর সৌদি আরবের স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সেগুলো স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে স্বজনদের সহযোগিতা করা হবে। মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, একসঙ্গে সাত বাংলাদেশির মৃত্যুতে কক্সবাজারের চকরিয়ায় তাঁদের স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রবাসে উপার্জনের জন্য যাওয়া মানুষগুলোর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারগুলোর সামনে নেমে এসেছে অপূরণীয় ক্ষতি। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট স্থান, সময় এবং গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারানোর পেছনে বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশিত হয়নি। মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়েও পরবর্তী সরকারি তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বাড়লেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চাপ কমছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, জ্বালানি খরচ, বাড়ি ও গাড়ির ঋণের সুদ এবং দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে অনেক পরিবার। সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্বস্তি ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এবং নতুন কংগ্রেসের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ৮ নভেম্বর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে ভোটারদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো। মূল্যস্ফীতির কারণে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ আয়ের পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় অর্থনীতি নিয়ে অসন্তোষ রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২ মাসে দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। সেপ্টেম্বর মাসে সামগ্রিক মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। একই মাসে পেট্রলের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ, যা মাসিক মূল্যবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কিছুটা ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। ৬ নভেম্বর প্রকাশিত অক্টোবরের চাকরির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ওই মাসে ১ লাখ ৬৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। একই সময়ে বেকারত্বের হার কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের তুলনায় নতুন চাকরির সংখ্যা বেশি ছিল তবে চাকরির সংখ্যা বাড়লেও কর্মীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অক্টোবর মাসে গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি আগের মাসের তুলনায় ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু এক বছরের হিসাবে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ১ শতাংশ। ফলে মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে অনেক কর্মীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কর্মসংস্থান প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবা খাতে ৭০ হাজার এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রায় ৪২ হাজার নতুন চাকরি যুক্ত হয়েছে। উৎপাদন খাতেও ১৯ হাজার কর্মসংস্থান বেড়েছে। তবে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পানশালা খাতে ১০ হাজার ৬০০ কর্মসংস্থান কমেছে। অর্থাৎ সব খাতে চাকরির পরিস্থিতি একই রকম নয়। অর্থনীতির আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো সরকারের বাজেট ঘাটতি ও ঋণের সুদ পরিশোধ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বছরে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ নিচ্ছে। জাতীয় ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বছরে ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কর বৃদ্ধি, সরকারি খরচ কমানো কিংবা স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয় সাশ্রয়ের মতো বিষয় নিয়ে নীতিনির্ধারকদের আলোচনা করতে হতে পারে। এদিকে অবসরপ্রাপ্ত ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের সামাজিক নিরাপত্তা ট্রাস্টিদের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবসর ও উত্তরাধিকারী সুবিধা দেওয়া প্রধান তহবিলটির সঞ্চিত অর্থ ২০৩২ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে শেষ হয়ে যেতে পারে। সে সময় নতুন আয় অব্যাহত থাকলেও নির্ধারিত পূর্ণ সুবিধার মাত্র ৭৮ শতাংশ পরিশোধ করা সম্ভব হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ২০৩২ সাল থেকে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, অবসরভাতা ও প্রতিবন্ধী সুবিধার দুটি তহবিল একত্রে বিবেচনা করলে সেগুলোর সঞ্চিত অর্থ ২০৩৪ সাল পর্যন্ত পূর্ণ সুবিধা দেওয়ার সক্ষমতা রাখবে। এরপরও নতুন আইন বা সংস্কার না হলে পূর্ণ সুবিধা পরিশোধে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেতন থেকে সামাজিক নিরাপত্তা কর কাটার সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানো এবং অবসরের বয়স পরিবর্তনের মতো প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। কংগ্রেসে দুই দলের সমর্থন ছাড়া বড় ধরনের সংস্কার বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় বাজেট, করনীতি, শুল্ক, স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তাদের মতপার্থক্য তৈরি হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও নিজের বিরোধী কোনো প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে একদিকে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ ব্যয় সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তিকে সীমিত করছে। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলের দীর্ঘমেয়াদি সংকট অবসরপ্রাপ্ত ও ভবিষ্যৎ সুবিধাভোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন নতুন কংগ্রেস ও ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে এসব সমস্যার সমাধানে কতটা অগ্রগতি হয়।
মালিককে বাঁচাতে দুই গুলি খেয়েছিল কুকুর, দুই বছর পর চিকিৎসার অভাবে নিজেই মৃত্যুঝুঁকিতে
ট্রাম্পের শুল্কনীতি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা ডেমোক্র্যাট নেতা রিচার্ড নিলের
ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে ৯ ঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকা ক্রুজকর্মীকে উদ্ধার করলেন দুই জেলে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বিশাল জয়ের মাত্র দুদিনের মাথায় এল সালভাদরে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কড়া সতর্কবার্তা জারি করে। স্প্যানিশ ভাষায় দেওয়া ওই পোস্টে স্পষ্ট জানানো হয় যে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না এবং অভিবাসন আইন আগের মতোই বলবৎ রয়েছে। তা সত্ত্বেও, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই ‘ব্লু ওয়েভ’ বা বিপুল বিজয় লাতিন আমেরিকার অনেক অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা শুরু করতে নতুন করে উৎসাহিত করেছে। বিশেষ করে চলতি সপ্তাহে হন্ডুরাস এবং এল সালভাদর থেকে রওনা হওয়া অভিবাসীদের একটি ক্যারাভ্যানের (দলবদ্ধ অভিযাত্রী) মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথ সহজ হওয়ার আশা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিবাসীদের অনেকেই জানিয়েছেন, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের আসন্ন সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো এবার আগের চেয়ে সহজ হবে বলেই তারা বাজি ধরছেন। এল সালভাদর থেকে স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে রওনা হওয়া বিয়াত্রিজ এম নামের এক নারী জানান, গন্তব্যে পৌঁছানোর বুকভরা আশা নিয়েই তারা এই যাত্রা শুরু করেছেন। সান সালভাদরের ওয়েস্টার্ন বাস টার্মিনাল থেকে গুয়াতেমালা-মেক্সিকো সীমান্তের টেকুন উমানের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া অভিবাসীদের এই অস্বাভাবিক ঢল সম্পর্কে বাস কোম্পানির এক কর্মীও বিস্ময় প্রকাশ করেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তারা হন্ডুরাস থেকে রওনা হওয়া আরেকটি ক্যারাভ্যানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। মূলত ২০২৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর মেক্সিকো সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং অভিবাসীদের 'অনুপ্রবেশ' ঠেকাতে ব্যাপক বিতাড়ন শুরু করলে ওই সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গিয়েছিল। তবে চলতি সপ্তাহে জড়ো হওয়া অভিবাসীদের অনেকেই আশা করছেন, নির্বাচনের পর মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তারা হয়তো এবার কিছুটা ভালো আচরণ পাবেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুবার বিতাড়িত হওয়া সান্তিয়াগো নামের এক হন্ডুরান নাগরিক এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে নিজেদের অবস্থার উন্নতির আশা করছেন। দীর্ঘ ২৬ বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পর গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিতাড়িত হওয়া হুয়ান নামের আরেক হন্ডুরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর পেয়ে এই ক্যারাভ্যানে যোগ দিয়েছেন এবং পরিবারের কাছে ফেরার জন্য আরও একবার চেষ্টা করতে চান। তবে সবাই যে সমান আশাবাদী, তা নয়। গুয়াতেমালা সীমান্তে থাকা আনিবাল নামের এক অভিবাসীর মতে, ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, অবৈধভাবে প্রবেশের পরিণতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কেবল বিতাড়ন। তার ভাষায়, এখন দেখার বিষয় তারা (যুক্তরাষ্ট্র) নাকি আমরা, কে আগে ক্লান্ত হয়। মূলত নিজ দেশের চরম দারিদ্র্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে দূরে থাকার যন্ত্রণাই তাদের এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় বাধ্য করছে। কার্লোস ই নামের এক সালভাদরীয় জানান, টানা চার মাস বেকার থাকার কারণেই তিনি পথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে দীর্ঘ দুই বছর পর পরিবারের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হওয়ার আশায় বাসে উঠেছেন হোসে কিউ। মরিসিও এস নামের এক তরুণ কৃষকের মতে, দেশে কাজ থাকলেও তা জীবনধারণের জন্য মোটেও পর্যাপ্ত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান পরিস্থিতি সহজ না হলেও ভাগ্য পরিবর্তন এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় তারা এই কঠিন ও অনিশ্চিত যাত্রায় পা বাড়াচ্ছেন।
ওয়াশিংটনে বাড়ি সংস্কারের নামে প্রতারণা, ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ মালিক পেলেন ১ লাখ ১৫ হাজার ডলার
ইউএফসি প্রধান ডানা হোয়াইটকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্পের
এক বছরেও নতুন বন্ধু তৈরি করেননি যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি মানুষ, বাড়ছে একাকিত্ব
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য এক নতুন ও শক্তিশালী আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে টেক্সাস, জর্জিয়া, ওহাইও, আইওয়া এবং কানসাসের মতো পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে জয়লাভ করেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থীরা। এই বিজয় কেবল ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক অবস্থানকেই মজবুত করেনি, বরং রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যগুলোতে ফেডারেল সরকারের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে অভিবাসন নীতি ও আইসিই (ICE)-এর বিতর্কিত কার্যক্রম বাস্তবায়নে এক বড় ধরনের বাধার প্রাচীর দাঁড় করিয়েছে। রাজ্য পর্যায়ে আইনি ক্ষমতার সর্বোচ্চ পদে ডেমোক্র্যাটদের এই উপস্থিতির কারণে আগামীতে হোয়াইট হাউসকে প্রতিটি পদক্ষেপে তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নবনির্বাচিত এই ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেলরা নিজ নিজ রাজ্যে ইতিহাস গড়েছেন। টেক্সাসে রিপাবলিকান মেইস মিডলটনকে পরাজিত করে ১৯৯০-এর দশকের পর এই পদে প্রথম ডেমোক্র্যাট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন স্টেট সিনেটর নাথান জনসন। তিনি ভোক্তা অধিকার, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষাকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। অন্যদিকে, জর্জিয়ার ইতিহাসে প্রথম নারী অ্যাটর্নি জেনারেল হতে যাচ্ছেন সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর ও স্টেট প্রতিনিধি তানিয়া মিলার। রিপাবলিকান ব্রায়ান স্ট্রিকল্যান্ডকে হারিয়ে নির্বাচিত হওয়া এই নেত্রী অপরাধ দমন, মানবপাচার প্রতিরোধ ও ভোক্তা সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। ওহাইওতে রিপাবলিকান কিথ ফেবারকে পরাজিত করেছেন চার দশকের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবী জন কুলেউইচ। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টেও মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই নেতা সরকারি অর্থের অপব্যবহার, প্রতারণা ও মূল্য নির্ধারণে কারসাজি মোকাবিলায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আইওয়াতে বর্তমান রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেনা বার্ডকে হটিয়ে জয়ী হয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক আইনজীবী ও সাবেক স্টেট প্রতিনিধি নেট উইলেমস। তিনি শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি আদায় এবং পরিবেশদূষণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া কানসাসে রিপাবলিকান ক্রিস কোবাখের বিরুদ্ধে নির্বাচনে এগিয়ে থেকে বিজয় ঘোষণা করেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর ক্রিস মান। যদিও ৬ নভেম্বর পর্যন্ত ভোটের চূড়ান্ত ফল নিরীক্ষার প্রক্রিয়ায় রয়েছে, তবে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোক্তা প্রতারণা প্রতিরোধ ও শিশু-কিশোরদের সুরক্ষাকে নিজের কাজের মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এই পাঁচ অ্যাটর্নি জেনারেল ট্রাম্প প্রশাসনের গণ-বিতাড়নসহ যেকোনো কড়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি বিরোধে জড়াবেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে এই রাজ্যগুলোতে রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেলরা ফেডারেল সরকারের কঠোর নীতিগুলোকে সমর্থন জুগিয়ে আসলেও এবার দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে চলেছে। অভিবাসন ইস্যুর বাইরেও পরিবেশ সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন অধিকার এবং নাগরিক অধিকারের মতো বিষয়গুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের ফেডারেল নীতিগুলোর বিরুদ্ধে তারা একজোট হয়ে মামলা করতে পারেন। এর ফলে আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ও ফেডারেল আদালতগুলোতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে একাধিক হাই-প্রোফাইল আইনি লড়াই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা দেশ।
‘সেভেনটিন’ বানান জানে না এআই শিক্ষক, ভুল ধরিয়ে দিতেই রাগে ফোন কেটে দিল!
বন্ধুর বদলে এআই চ্যাটবট, পড়াশোনার পাশাপাশি মানসিক সহায়তা নিচ্ছে ৫৭ শতাংশ শিশু