ওয়াশিংটনে বাড়ি সংস্কারের নামে প্রতারণা, ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ মালিক পেলেন ১ লাখ ১৫ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে বাড়ির সংস্কার ও নির্মাণকাজের নামে ঠিকাদারের প্রতারণার শিকার হওয়া বাড়ির মালিকদের জন্য প্রথমবারের মতো ক্ষতিপূরণ দিয়েছে অঙ্গরাজ্য সরকার। নতুন ‘হোমওনার রিকভারি ফান্ড’ থেকে পাঁচজন আবেদনকারীকে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ডলারের বেশি ফেরত দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব লেবার অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এলঅ্যান্ডআই) ৫ নভেম্বর এ তথ্য জানায়। কর্মসূচিটির আওতায় যোগ্য প্রত্যেক আবেদনকারী সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন।
২০২৩ সালে অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় পাস হওয়া আইনের ভিত্তিতে এই তহবিল গঠন করা হয়। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে বাড়ির মালিকদের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। ঠিকাদার নিবন্ধন আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় আদায় করা জরিমানা ও অন্যান্য অর্থ দিয়ে তহবিলটি পরিচালিত হচ্ছে। বাড়ির কাজ শেষ না করা, অর্থ নিয়ে উধাও হওয়া কিংবা নিম্নমানের কাজের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।
ক্ষতিপূরণ পাওয়া ব্যক্তিদের একজন টাকোমা শহরের বাসিন্দা ড্যান মরিল। নিজের প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো বাড়ির বাইরের দেয়ালে নতুন সাইডিং লাগানোর জন্য তিনি ঠিকাদার খুঁজছিলেন। এ জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র সংগ্রহ করে প্রায় ৭৫ হাজার ডলারের একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেন। ঠিকাদারকে অগ্রিম ৩২ হাজার ডলার দেওয়ার পরও কয়েক মাস কোনো কাজ শুরু হয়নি। পরে জানতে পারেন, নিবন্ধিত ওই ঠিকাদার তাঁর পাশাপাশি আরও কয়েক ডজন বাড়ির মালিকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। গত আগস্টে তহবিলে আবেদন করার পর মরিল ২৫ হাজার ডলার ফেরত পাওয়ার অনুমোদন পান।
একইভাবে স্পোকেনের বাসিন্দা মারিনা ইভানকভ বাড়ির বাইরে সুইমিং পুল ও স্পা নির্মাণের জন্য ঠিকাদারকে প্রায় ৭০ হাজার ডলার অগ্রিম দিয়েছিলেন। কিন্তু অর্থ নেওয়ার পর ঠিকাদার যোগাযোগ বন্ধ করে উধাও হয়ে যান। পরে তিনি সরকারি তহবিলে আবেদন করেন এবং ২৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অনুমোদন পান। ইভানকভের ভাষ্য, আর্থিক ক্ষতির পর এই অর্থ তাঁর পরিবারের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি।
তবে এই তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ পেতে কয়েকটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিক হতে হবে এবং সেখানে নিজে বসবাস করতে হবে। যে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁকে অবশ্যই অঙ্গরাজ্যের লেবার অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিভাগে নিবন্ধিত হতে হবে। পাশাপাশি ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কোর্টে দেওয়ানি মামলা করে চূড়ান্ত রায় পেতে হবে। আদালতের আদেশের ৯০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের আবেদন জমা দিতে হবে।
আবেদন অনুমোদিত হলে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ দেওয়া হবে। তবে আদালতের রায়ে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ নির্ধারিত হবে। বাড়ির মালিককে আদালতের রায়ের অধিকার সংশ্লিষ্ট পরিমাণে অঙ্গরাজ্যের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এরপর সরকার প্রতারণার অভিযোগে দায়ী ঠিকাদারের কাছ থেকে আদালতের নির্ধারিত অর্থ ও সুদ আদায়ের চেষ্টা করবে, যাতে তহবিলের অর্থ আবার পূরণ করা যায়।
এলঅ্যান্ডআইয়ের কর্মকর্তারা বাড়ির মালিকদের ঠিকাদার নিয়োগের আগে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। কাজ শেষ হওয়ার আগে পুরো অর্থ পরিশোধ না করা, একাধিক ঠিকাদারের কাছ থেকে দরপত্র নেওয়া এবং নিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, বন্ড, ইন্স্যুরেন্স ও আগের কাজের রেকর্ড যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রতারণার সন্দেহ হলে অঙ্গরাজ্যের সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিযোগ জানানোর সুযোগও রয়েছে।
সূত্র: কেআইআরও ৭ নিউজ
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বিশাল জয়ের মাত্র দুদিনের মাথায় এল সালভাদরে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কড়া সতর্কবার্তা জারি করে। স্প্যানিশ ভাষায় দেওয়া ওই পোস্টে স্পষ্ট জানানো হয় যে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না এবং অভিবাসন আইন আগের মতোই বলবৎ রয়েছে। তা সত্ত্বেও, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই ‘ব্লু ওয়েভ’ বা বিপুল বিজয় লাতিন আমেরিকার অনেক অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা শুরু করতে নতুন করে উৎসাহিত করেছে। বিশেষ করে চলতি সপ্তাহে হন্ডুরাস এবং এল সালভাদর থেকে রওনা হওয়া অভিবাসীদের একটি ক্যারাভ্যানের (দলবদ্ধ অভিযাত্রী) মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথ সহজ হওয়ার আশা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিবাসীদের অনেকেই জানিয়েছেন, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের আসন্ন সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো এবার আগের চেয়ে সহজ হবে বলেই তারা বাজি ধরছেন। এল সালভাদর থেকে স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে রওনা হওয়া বিয়াত্রিজ এম নামের এক নারী জানান, গন্তব্যে পৌঁছানোর বুকভরা আশা নিয়েই তারা এই যাত্রা শুরু করেছেন। সান সালভাদরের ওয়েস্টার্ন বাস টার্মিনাল থেকে গুয়াতেমালা-মেক্সিকো সীমান্তের টেকুন উমানের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া অভিবাসীদের এই অস্বাভাবিক ঢল সম্পর্কে বাস কোম্পানির এক কর্মীও বিস্ময় প্রকাশ করেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তারা হন্ডুরাস থেকে রওনা হওয়া আরেকটি ক্যারাভ্যানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। মূলত ২০২৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর মেক্সিকো সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং অভিবাসীদের 'অনুপ্রবেশ' ঠেকাতে ব্যাপক বিতাড়ন শুরু করলে ওই সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গিয়েছিল। তবে চলতি সপ্তাহে জড়ো হওয়া অভিবাসীদের অনেকেই আশা করছেন, নির্বাচনের পর মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তারা হয়তো এবার কিছুটা ভালো আচরণ পাবেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুবার বিতাড়িত হওয়া সান্তিয়াগো নামের এক হন্ডুরান নাগরিক এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে নিজেদের অবস্থার উন্নতির আশা করছেন। দীর্ঘ ২৬ বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পর গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিতাড়িত হওয়া হুয়ান নামের আরেক হন্ডুরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর পেয়ে এই ক্যারাভ্যানে যোগ দিয়েছেন এবং পরিবারের কাছে ফেরার জন্য আরও একবার চেষ্টা করতে চান। তবে সবাই যে সমান আশাবাদী, তা নয়। গুয়াতেমালা সীমান্তে থাকা আনিবাল নামের এক অভিবাসীর মতে, ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, অবৈধভাবে প্রবেশের পরিণতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কেবল বিতাড়ন। তার ভাষায়, এখন দেখার বিষয় তারা (যুক্তরাষ্ট্র) নাকি আমরা, কে আগে ক্লান্ত হয়। মূলত নিজ দেশের চরম দারিদ্র্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে দূরে থাকার যন্ত্রণাই তাদের এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় বাধ্য করছে। কার্লোস ই নামের এক সালভাদরীয় জানান, টানা চার মাস বেকার থাকার কারণেই তিনি পথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে দীর্ঘ দুই বছর পর পরিবারের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হওয়ার আশায় বাসে উঠেছেন হোসে কিউ। মরিসিও এস নামের এক তরুণ কৃষকের মতে, দেশে কাজ থাকলেও তা জীবনধারণের জন্য মোটেও পর্যাপ্ত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান পরিস্থিতি সহজ না হলেও ভাগ্য পরিবর্তন এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় তারা এই কঠিন ও অনিশ্চিত যাত্রায় পা বাড়াচ্ছেন।
ওয়াশিংটনে বাড়ি সংস্কারের নামে প্রতারণা, ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ মালিক পেলেন ১ লাখ ১৫ হাজার ডলার
ইউএফসি প্রধান ডানা হোয়াইটকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্পের
এক বছরেও নতুন বন্ধু তৈরি করেননি যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি মানুষ, বাড়ছে একাকিত্ব
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য এক নতুন ও শক্তিশালী আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে টেক্সাস, জর্জিয়া, ওহাইও, আইওয়া এবং কানসাসের মতো পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে জয়লাভ করেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থীরা। এই বিজয় কেবল ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক অবস্থানকেই মজবুত করেনি, বরং রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যগুলোতে ফেডারেল সরকারের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে অভিবাসন নীতি ও আইসিই (ICE)-এর বিতর্কিত কার্যক্রম বাস্তবায়নে এক বড় ধরনের বাধার প্রাচীর দাঁড় করিয়েছে। রাজ্য পর্যায়ে আইনি ক্ষমতার সর্বোচ্চ পদে ডেমোক্র্যাটদের এই উপস্থিতির কারণে আগামীতে হোয়াইট হাউসকে প্রতিটি পদক্ষেপে তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নবনির্বাচিত এই ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেলরা নিজ নিজ রাজ্যে ইতিহাস গড়েছেন। টেক্সাসে রিপাবলিকান মেইস মিডলটনকে পরাজিত করে ১৯৯০-এর দশকের পর এই পদে প্রথম ডেমোক্র্যাট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন স্টেট সিনেটর নাথান জনসন। তিনি ভোক্তা অধিকার, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষাকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। অন্যদিকে, জর্জিয়ার ইতিহাসে প্রথম নারী অ্যাটর্নি জেনারেল হতে যাচ্ছেন সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর ও স্টেট প্রতিনিধি তানিয়া মিলার। রিপাবলিকান ব্রায়ান স্ট্রিকল্যান্ডকে হারিয়ে নির্বাচিত হওয়া এই নেত্রী অপরাধ দমন, মানবপাচার প্রতিরোধ ও ভোক্তা সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। ওহাইওতে রিপাবলিকান কিথ ফেবারকে পরাজিত করেছেন চার দশকের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবী জন কুলেউইচ। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টেও মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই নেতা সরকারি অর্থের অপব্যবহার, প্রতারণা ও মূল্য নির্ধারণে কারসাজি মোকাবিলায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আইওয়াতে বর্তমান রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেনা বার্ডকে হটিয়ে জয়ী হয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক আইনজীবী ও সাবেক স্টেট প্রতিনিধি নেট উইলেমস। তিনি শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি আদায় এবং পরিবেশদূষণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া কানসাসে রিপাবলিকান ক্রিস কোবাখের বিরুদ্ধে নির্বাচনে এগিয়ে থেকে বিজয় ঘোষণা করেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর ক্রিস মান। যদিও ৬ নভেম্বর পর্যন্ত ভোটের চূড়ান্ত ফল নিরীক্ষার প্রক্রিয়ায় রয়েছে, তবে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোক্তা প্রতারণা প্রতিরোধ ও শিশু-কিশোরদের সুরক্ষাকে নিজের কাজের মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এই পাঁচ অ্যাটর্নি জেনারেল ট্রাম্প প্রশাসনের গণ-বিতাড়নসহ যেকোনো কড়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি বিরোধে জড়াবেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে এই রাজ্যগুলোতে রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেলরা ফেডারেল সরকারের কঠোর নীতিগুলোকে সমর্থন জুগিয়ে আসলেও এবার দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে চলেছে। অভিবাসন ইস্যুর বাইরেও পরিবেশ সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন অধিকার এবং নাগরিক অধিকারের মতো বিষয়গুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের ফেডারেল নীতিগুলোর বিরুদ্ধে তারা একজোট হয়ে মামলা করতে পারেন। এর ফলে আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ও ফেডারেল আদালতগুলোতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে একাধিক হাই-প্রোফাইল আইনি লড়াই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা দেশ।
‘সেভেনটিন’ বানান জানে না এআই শিক্ষক, ভুল ধরিয়ে দিতেই রাগে ফোন কেটে দিল!
বন্ধুর বদলে এআই চ্যাটবট, পড়াশোনার পাশাপাশি মানসিক সহায়তা নিচ্ছে ৫৭ শতাংশ শিশু
২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে জন ওসফ, স্ট্র-পোলে তলানিতে কমলা হ্যারিস
যুক্তরাষ্ট্রে বিনা মূল্যে হাঁটুর ব্রেস বা চিকিৎসা সরঞ্জাম দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বয়স্ক নাগরিকদের মেডিকেয়ার নম্বর হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র। পরে চুরি করা নম্বর ব্যবহার করে এমন চিকিৎসা সরঞ্জামের বিল জমা দেওয়া হচ্ছে, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কখনো অর্ডার করেননি। এতে মেডিকেয়ারের সুবিধা ব্যবহারের সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার নথিতেও ভুয়া তথ্য যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। রোববার (৮ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ২৪/৭ ওয়াল স্ট্রিটের এক প্রতিবেদনে এ ধরনের প্রতারণার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে ৭২ বছর বয়সী এক অবসরপ্রাপ্ত নারীর উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। ফোনে এক নারী তাঁকে জানান, মেডিকেয়ারের আওতায় বিনা মূল্যে হাঁটুর ব্রেস পাওয়া যাবে। শুধু পরিচয় যাচাইয়ের জন্য মেডিকেয়ার নম্বর প্রয়োজন বলে জানানো হয়। ওই নারী বিশ্বাস করে নিজের কার্ডের ১১ অক্ষরের নম্বর জানিয়ে দেন। কয়েক সপ্তাহ পর তাঁর বাড়ির সামনে এমন একটি হাঁটুর ব্রেস পৌঁছে যায়, যা তিনি কখনো অর্ডার করেননি। পরে মেডিকেয়ারের বিবরণীতে এমন একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নাম দেখা যায়, যেটির সঙ্গে তাঁর কোনো পরিচয় নেই। তাঁর নামে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের বিলও জমা দেওয়া হয়েছে। এভাবেই ব্যক্তিগত মেডিকেয়ার নম্বর ব্যবহার করে ভুয়া বিল তৈরির ঘটনা ঘটছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের প্রতারণার বড় উদাহরণ হিসেবে ২০১৯ সালের একটি মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সে বছরের এপ্রিলে ফেডারেল প্রসিকিউটররা প্রায় ১২০ কোটি ডলারের একটি কথিত প্রতারণা পরিকল্পনার অভিযোগে ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। তদন্তে বলা হয়, ফিলিপাইন ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন কল সেন্টার থেকে মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের ফোন করে চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হতো। এরপর টেলিমেডিসিন প্রতিষ্ঠানগুলো চিকিৎসকদের অর্থ দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করাত এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মেডিকেয়ারের কাছে প্রতিটি ব্রেসের জন্য প্রায় ৫০০ থেকে ৯০০ ডলার পর্যন্ত বিল জমা দিত। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সুবিধাভোগীদের চুরি করা মেডিকেয়ার নম্বর ব্যবহার করা হতো। মেডিকেয়ারের পার্ট বি কর্মসূচিতে হাঁটুর ব্রেস, ওয়াকার ও হুইলচেয়ারের মতো দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সরঞ্জামের খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতারণার আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিতে ভুল তথ্য যুক্ত হওয়া। কোনো ব্যক্তির নামে আগে থেকেই একটি ব্রেস সরবরাহের দাবি জমা থাকলে ভবিষ্যতে সত্যিকারের চিকিৎসার প্রয়োজনে একই ধরনের সরঞ্জাম পেতে সমস্যা হতে পারে। কারণ মেডিকেয়ারের নির্দিষ্ট কিছু চিকিৎসাসেবায় ব্যবহারের সীমা রয়েছে। আগে থেকেই সুবিধা নেওয়া হয়েছে বলে দেখানো হলে নতুন চিকিৎসার বিল প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া কখনো চিকিৎসা না নিয়েও রোগীর নথিতে ভুয়া রোগনির্ণয় যুক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে সরবরাহ না করা চিকিৎসাসেবার জন্য রোগীর নামে অতিরিক্ত অর্থ বা কো-পেমেন্টের দাবি আসতে পারে। নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য এসব আর্থিক চাপ আরও সমস্যার কারণ হতে পারে। প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের মেডিকেয়ার পার্ট বি-এর মাসিক প্রিমিয়াম ২০২ দশমিক ৯০ ডলার এবং বার্ষিক ডিডাক্টিবল ২৮৩ ডলার উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর গড় মাসিক সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা ২ দশমিক ৮ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয়ের পর ২ হাজার ৭১ ডলার। এমন পরিস্থিতিতে ৫০০ থেকে ৯০০ ডলারের ভুয়া চিকিৎসা বিলও একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে। প্রতারণা শনাক্ত করার জন্য মেডিকেয়ার সামারি নোটিশ নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ব্যক্তির মেডিকেয়ার নম্বর ব্যবহার করে জমা দেওয়া সব চিকিৎসা ও সরঞ্জামের বিলের বিবরণ থাকে। নিজের চিকিৎসার তারিখ ও সেবার সঙ্গে বিবরণী মিলিয়ে দেখলে অপরিচিত কোনো দাবি সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব। মেডিকেয়ার ডট গভ ওয়েবসাইটে বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলেও মূল মেডিকেয়ারের বিলের তথ্য দেখা যায়। কোনো অপরিচিত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, না পাওয়া চিকিৎসা সরঞ্জামের বিল কিংবা নিজের অর্ডার না করা কোনো প্যাকেট বাড়িতে এলে সেটিকে সতর্কসংকেত হিসেবে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। মেডিকেয়ার সাধারণত হঠাৎ ফোন করে ব্যক্তিগত নম্বর জানতে চায় না। তাই কেউ মেডিকেয়ারের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নম্বর চাইলে ফোনে তা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতারণার শিকার হলে প্রথমেই ১-৮০০-মেডিকেয়ার নম্বরে যোগাযোগ করে অপরিচিত বিলের বিষয়ে জানাতে হবে। প্রয়োজনে নতুন মেডিকেয়ার কার্ড ও নম্বর চাওয়ার বিষয়েও আলোচনা করতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল কার্যালয়ে ১-৮০০-৪৪৭-৮৪৭৭ নম্বরে অভিযোগ জানানো যাবে। এ ছাড়া প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে থাকা সিনিয়র মেডিকেয়ার প্যাট্রোলের সহায়তা নেওয়া যায়। তাদের জাতীয় যোগাযোগ নম্বর ১-৮৭৭-৮০৮-২৪৬৮। সংস্থাটি অভিযোগ গ্রহণ করে প্রতারণা নাকি বিলিংয়ের ভুল, তা যাচাইয়ে সহায়তা করে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি পাঠায়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফোনে কেউ মেডিকেয়ারের নম্বর চাইলে তা দেওয়া উচিত নয়। চিকিৎসক ও ফার্মেসির প্রয়োজন হলে নম্বর ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু বিনা মূল্যে ব্রেস দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া অপরিচিত ব্যক্তিকে নয়। কেউ মেডিকেয়ারের প্রতিনিধি পরিচয় দিলে ফোন কেটে নিজে ১-৮০০-৬৩৩-৪২২৭ নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: ২৪/৭ ওয়াল স্ট্রিট
নিউইয়র্কে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিতে বাংলাদেশিদের পরিচালিত মসজিদের কার্যক্রম বন্ধ
আঘাতে ১০ বছরের পালিত শিশুর মৃত্যু, অভিযুক্ত মায়ের বিরুদ্ধে আগেও নির্যাতনের অভিযোগ