ইউএফসি প্রধান ডানা হোয়াইটকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার অভাবনীয় এক প্রস্তাব পেয়েছেন আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ বা ইউএফসি (UFC)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডানা হোয়াইট। এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন তিনি।
শনিবার লন্ডনে একটি বক্সিং ইভেন্ট শেষে ডানা হোয়াইট সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি হাসতে হাসতে জানান, তার হাতে এমনিতেই অনেক কাজ রয়েছে, তবে সোমবারের ওই বৈঠকের পর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত কথা বলা যাবে।
এদিকে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে হোয়াইটকে এই দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, কট্টর বামপন্থীদের মোকাবিলা করতে তাদের এমন কাউকেই প্রয়োজন। এমনকি তিনি হোয়াইটকে সাহায্য করার জন্য ইসলাম মাখাচেভ, খবিব নুরমাগোমেদভ এবং জাস্টিন গেথজির মতো জনপ্রিয় সাবেক ও বর্তমান ইউএফসি যোদ্ধাদের সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছেন।
ডানা হোয়াইট নিজেও জল্পনা উসকে দিয়ে হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমের পোডিয়ামে দাঁড়ানো একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন এবং ক্যাপশনে লিখেছেন, "পরবর্তী অধ্যায়ের দিকে।" হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভেন চিউংও এই উদ্যোগকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের জনসংযোগ বিভাগে চলমান অস্থিতিশীলতার মাঝেই এই নতুন প্রস্তাবের খবরটি সামনে এল।
গত আগস্টে ক্যারোলিন লেভিট পদত্যাগ করার পর অক্টোবরে কেটি জাকারিয়া মাত্র পাঁচ দিনের জন্য প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ট্রাম্প তার প্রশাসনে রদবদল আনছেন, যার অংশ হিসেবে স্টেফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
ট্রাম্প এবং ডানা হোয়াইটের মধ্যকার গভীর বন্ধুত্বের শুরু মূলত ২০০১ সাল থেকে। সেসময় আটলান্টিক সিটিতে ট্রাম্পের ক্যাসিনোতে ইউএফসির একটি ইভেন্ট আয়োজিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৬, ২০২০ এবং ২০২৪ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে ট্রাম্পের হয়ে জোরালো বক্তব্য দেন হোয়াইট।
এমনকি গত জুনে ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন ও আমেরিকার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে ইউএফসির একটি বিশেষ ইভেন্টও অনুষ্ঠিত হয়। প্রথাগত রাজনৈতিক মিডিয়ার বাইরে তরুণ ও অনলাইন প্রজন্মের কাছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বাড়াতে ডানা হোয়াইটের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। আগামী বছর ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিসহ একাধিক বিষয়ে কড়া তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে বর্তমান প্রশাসনকে।
ধারণা করা হচ্ছে, ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য সেই চাপ এবং রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্যই ডানা হোয়াইটের মতো একজন তুখোড় ও পরিচিত মুখকে হোয়াইট হাউসের সামনের সারিতে আনতে চাইছেন ট্রাম্প।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে বাড়ির সংস্কার ও নির্মাণকাজের নামে ঠিকাদারের প্রতারণার শিকার হওয়া বাড়ির মালিকদের জন্য প্রথমবারের মতো ক্ষতিপূরণ দিয়েছে অঙ্গরাজ্য সরকার। নতুন ‘হোমওনার রিকভারি ফান্ড’ থেকে পাঁচজন আবেদনকারীকে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ডলারের বেশি ফেরত দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব লেবার অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এলঅ্যান্ডআই) ৫ নভেম্বর এ তথ্য জানায়। কর্মসূচিটির আওতায় যোগ্য প্রত্যেক আবেদনকারী সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন। ২০২৩ সালে অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় পাস হওয়া আইনের ভিত্তিতে এই তহবিল গঠন করা হয়। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে বাড়ির মালিকদের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। ঠিকাদার নিবন্ধন আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় আদায় করা জরিমানা ও অন্যান্য অর্থ দিয়ে তহবিলটি পরিচালিত হচ্ছে। বাড়ির কাজ শেষ না করা, অর্থ নিয়ে উধাও হওয়া কিংবা নিম্নমানের কাজের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য। ক্ষতিপূরণ পাওয়া ব্যক্তিদের একজন টাকোমা শহরের বাসিন্দা ড্যান মরিল। নিজের প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো বাড়ির বাইরের দেয়ালে নতুন সাইডিং লাগানোর জন্য তিনি ঠিকাদার খুঁজছিলেন। এ জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র সংগ্রহ করে প্রায় ৭৫ হাজার ডলারের একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেন। ঠিকাদারকে অগ্রিম ৩২ হাজার ডলার দেওয়ার পরও কয়েক মাস কোনো কাজ শুরু হয়নি। পরে জানতে পারেন, নিবন্ধিত ওই ঠিকাদার তাঁর পাশাপাশি আরও কয়েক ডজন বাড়ির মালিকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। গত আগস্টে তহবিলে আবেদন করার পর মরিল ২৫ হাজার ডলার ফেরত পাওয়ার অনুমোদন পান। একইভাবে স্পোকেনের বাসিন্দা মারিনা ইভানকভ বাড়ির বাইরে সুইমিং পুল ও স্পা নির্মাণের জন্য ঠিকাদারকে প্রায় ৭০ হাজার ডলার অগ্রিম দিয়েছিলেন। কিন্তু অর্থ নেওয়ার পর ঠিকাদার যোগাযোগ বন্ধ করে উধাও হয়ে যান। পরে তিনি সরকারি তহবিলে আবেদন করেন এবং ২৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অনুমোদন পান। ইভানকভের ভাষ্য, আর্থিক ক্ষতির পর এই অর্থ তাঁর পরিবারের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি। তবে এই তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ পেতে কয়েকটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিক হতে হবে এবং সেখানে নিজে বসবাস করতে হবে। যে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁকে অবশ্যই অঙ্গরাজ্যের লেবার অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিভাগে নিবন্ধিত হতে হবে। পাশাপাশি ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কোর্টে দেওয়ানি মামলা করে চূড়ান্ত রায় পেতে হবে। আদালতের আদেশের ৯০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদন অনুমোদিত হলে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ দেওয়া হবে। তবে আদালতের রায়ে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ নির্ধারিত হবে। বাড়ির মালিককে আদালতের রায়ের অধিকার সংশ্লিষ্ট পরিমাণে অঙ্গরাজ্যের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এরপর সরকার প্রতারণার অভিযোগে দায়ী ঠিকাদারের কাছ থেকে আদালতের নির্ধারিত অর্থ ও সুদ আদায়ের চেষ্টা করবে, যাতে তহবিলের অর্থ আবার পূরণ করা যায়। এলঅ্যান্ডআইয়ের কর্মকর্তারা বাড়ির মালিকদের ঠিকাদার নিয়োগের আগে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। কাজ শেষ হওয়ার আগে পুরো অর্থ পরিশোধ না করা, একাধিক ঠিকাদারের কাছ থেকে দরপত্র নেওয়া এবং নিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, বন্ড, ইন্স্যুরেন্স ও আগের কাজের রেকর্ড যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রতারণার সন্দেহ হলে অঙ্গরাজ্যের সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিযোগ জানানোর সুযোগও রয়েছে। সূত্র: কেআইআরও ৭ নিউজ
ইউএফসি প্রধান ডানা হোয়াইটকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্পের
এক বছরেও নতুন বন্ধু তৈরি করেননি যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি মানুষ, বাড়ছে একাকিত্ব
পাঁচ রাজ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে ডেমোক্র্যাটদের জয়, নতুন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত এক শিক্ষকের ইংরেজি বানান ভুল ধরিয়ে দেওয়ার পর মজার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ‘সেভেনটিন’ শব্দে কয়টি ‘ই’ (E) আছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে বারবার ভুল বানান লিখে সেটিকেই সঠিক বলে দাবি করে এআই শিক্ষক। শিক্ষার্থী সঠিক বানান দেখিয়ে দেওয়ার পরও তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে রেগে যাওয়ার মতো আচরণ করে এআই শিক্ষকটি। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য কুল ডাউনের এক প্রতিবেদনে এ ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হুস্ক নামের এক ব্যবহারকারী ভিডিওটি প্রকাশ করেন। এআইয়ের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করা এই কনটেন্ট নির্মাতা শুরুতে শিক্ষককে একটি সাধারণ বানানসংক্রান্ত প্রশ্ন করেন। তিনি জানতে চান, ইংরেজি ‘সেভেনটিন’ শব্দে কয়টি ‘ই’ রয়েছে। উত্তরে এআই শিক্ষক বারবার ‘এস-ই-ভি-ই-ই-এন’ বানানটি লিখে তিনটি ‘ই’ থাকার দাবি করে। কিন্তু প্রকৃত বানান ‘এস-ই-ভি-ই-এন-টি-ই-ই-এন’, যেখানে মোট চারটি ‘ই’ রয়েছে। হুস্ক সঠিক বানানটি লিখে দেখানোর পরও এআই শিক্ষক সেটি প্রত্যাখ্যান করে। বরং বানানে ‘টি’ যুক্ত করার কারণে সেটি দুটি শব্দ হয়ে গেছে বলে দাবি করে। এরপরও ভুল বানান লিখে শিক্ষার্থীকে উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করে এআই শিক্ষক। সে বলে, ‘টি’ বাদ দিতে হবে, তুমি প্রায় সঠিকের কাছাকাছি পৌঁছে গেছ। কনটেন্ট নির্মাতা আবারও সঠিক বানানটি দেখালে এআই শিক্ষক বারবার ‘না’ বলতে থাকে। তার কথাবার্তায় বিরক্তি ও রাগের প্রকাশ দেখা যায়। পরে হুস্ক ক্ষমা চাইলে এআই শিক্ষক আবার শান্ত হয়ে বলে, ‘ক্ষমা চেয়ো না। এভাবেই আমরা শিখি।’ ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। এআই শিক্ষককে ‘ফোরটিন’ শব্দটির বানান জিজ্ঞাসা করলে সে সঠিক উত্তর দেয়। তখন হুস্ক প্রশ্ন তোলেন, ‘ফোরটিন’ যদি একটি শব্দ হয়, তাহলে ‘সেভেনটিন’ কেন দুটি শব্দ হবে? এই প্রশ্নের পর এআই শিক্ষক আরও উত্তেজিত আচরণ করে এবং একপর্যায়ে ফোনকল বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরে হুস্ক আবার যোগাযোগ করলে এআই শিক্ষক ‘সেভেনটিন’-এর সঠিক বানান বলতে সক্ষম হয়। কিন্তু আগের উত্তরে চারটি ‘ই’ থাকার বিষয়টি স্বীকার না করে নিজের অবস্থান ধরে রাখে। একপর্যায়ে সে বলে, ‘আমি তিনটি বলতাম, কিন্তু তুমি আমাকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়েছ।’ জবাবে হুস্ক জানান, তিনি শুধু মাথা নেড়েছিলেন, মাঝখানে কোনো বাধা দেননি। ভিডিওর শেষ দিকে এআই শিক্ষককে আরও কিছু প্রশ্ন করেন হুস্ক। তিনি জানতে চান, অসম্মানজনক আচরণ করলেও এআই শিক্ষক রেগে যাবে কি না। এআই প্রথমে জানায়, সে রাগ করবে না। কিন্তু হুস্ক তাকে চুপ করতে বললে তার কথায় বিরক্তির প্রকাশ দেখা যায়। পরে নিজেকে এআই শিক্ষকের চেয়ে ভালো কি না, এমন প্রশ্ন করেন হুস্ক। উত্তরে এআই শিক্ষক জানায়, সে কেবল অনুশীলনে সহায়তা করতে এসেছে এবং শেখার মূল ব্যক্তি শিক্ষার্থীই। তাই শিক্ষার্থীই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুল উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের ভুল সম্পর্কে নিশ্চিত ভঙ্গিতে কথা বলার প্রবণতা এআই প্রযুক্তির অন্যতম সীমাবদ্ধতা। বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে এআই শিক্ষক ব্যবহারের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভুলের প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সূত্র: দ্য কুল ডাউন
বন্ধুর বদলে এআই চ্যাটবট, পড়াশোনার পাশাপাশি মানসিক সহায়তা নিচ্ছে ৫৭ শতাংশ শিশু
২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে জন ওসফ, স্ট্র-পোলে তলানিতে কমলা হ্যারিস
বিনা মূল্যে হাঁটুর ব্রেস দেওয়ার কথা বলে মেডিকেয়ার নম্বর চুরি, পরে আসছে হাজার ডলারের ভুয়া বিল
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকায় বাংলাদেশিদের পরিচালিত অন্যতম বড় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার (জেএমসি) বন্ধ করে দিয়েছে নগরীর ফায়ার ডিপার্টমেন্ট (এফডিএনওয়াই)। মসজিদে চলমান সম্প্রসারণ প্রকল্পে স্বয়ংক্রিয় স্প্রিংকলার বা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় ফায়ার সেফটি বা অগ্নিঝুঁকির কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে গত ৬ নভেম্বর শুক্রবার ওই মসজিদে জুমার নামাজও স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এফডিএনওয়াই-এর স্পেশাল ইন্সপেকশন ইউনিটের ফায়ার প্রোটেকশন ইন্সপেক্টর টমাস ফোর্ড জানান, বেশ কয়েকটি অভিযোগ পাওয়ার পর তারা মসজিদটি পরিদর্শনে যান। সেখানে স্প্রিংকলার ব্যবস্থা না থাকায় মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য তা সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থাপন না করা পর্যন্ত মসজিদের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। ধর্মীয় এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান রেখেই তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তাকেই সবার আগে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। টমাস ফোর্ড আরও জানান, স্প্রিংকলার স্থাপনের কাজ শেষ হলে তারা পুনরায় পরিদর্শন করবেন এবং সব নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে তবেই পুনরায় কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দেওয়া হবে। জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের বোর্ড অব ট্রাস্টি ও কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার জানান, স্প্রিংকলার স্থাপনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং তারা আশা করেছিলেন আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এটি সম্পন্ন হবে। তবে এর আগেই জুমার নামাজের ঠিক আগে কার্যক্রম স্থগিতের এই নির্দেশ আসে। তিনি জানান, নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং মসজিদ কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জুমার নামাজ আদায় করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি আশা জানান যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা আবারও কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে নিয়মিত মুসল্লিদের সাময়িকভাবে আশেপাশের অন্যান্য মসজিদে নামাজ আদায়ের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। জেএমসির চলমান এই সম্প্রসারণ প্রকল্পের অধীনে মসজিদের হিফজ বিভাগটি দ্বিতীয় তলা থেকে তৃতীয় তলায় স্থানান্তর, প্রায় ১৮০ জন মুসল্লির জন্য নামাজের অতিরিক্ত জায়গার ব্যবস্থা করা, ভবনের পুরোনো ও নতুন অংশের সংযোগ উন্নত করা এবং একটি নতুন লিফট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই অবশিষ্ট সম্প্রসারণ কাজের জন্য গত ২৪ অক্টোবর আয়োজিত এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে প্রায় ১ মিলিয়ন (১০ লাখ) ডলারের অনুদান ও প্রতিশ্রুতি পেয়েছিল মসজিদ কর্তৃপক্ষ।
আঘাতে ১০ বছরের পালিত শিশুর মৃত্যু, অভিযুক্ত মায়ের বিরুদ্ধে আগেও নির্যাতনের অভিযোগ
১৭ বছর বয়সে আড়াই হাজার কানাডিয়ান ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ইলন মাস্ক!