যুক্তরাষ্ট্রে ২৯ হাজার বেবি বোতল স্টেরিলাইজার প্রত্যাহার, রয়েছে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের দুধের বোতল ও ব্রেস্ট পাম্পের যন্ত্রাংশ জীবাণুমুক্ত ও শুকানোর কাজে ব্যবহৃত প্রায় ২৯ হাজার বেবি স্টেরিলাইজার প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতিরিক্ত গরম হয়ে যন্ত্রটির প্লাস্টিকের অংশ গলে যাওয়া এবং স্পর্শ করলে শরীরে পোড়া আঘাত লাগার ঝুঁকি থাকায় ৫ নভেম্বর পণ্যটি বাজার থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের কনজ্যুমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশন (সিপিএসসি)।
প্রত্যাহার করা পণ্যটি হলো বেবি ব্রেজার সুপারফাস্ট স্টেরিলাইজার ড্রায়ার। এটি একটি কাউন্টারটপ যন্ত্র, যা মাত্র ১০ মিনিটে শিশুর দুধের বোতল, ব্রেস্ট পাম্পের বিভিন্ন অংশ ও অন্যান্য সামগ্রী জীবাণুমুক্ত এবং শুকাতে ব্যবহৃত হয়। পণ্যটির তিনটি মডেল এই প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে। মডেল নম্বরগুলো হলো BRZ0083, BRZ0154 এবং BRZ0156।
সিপিএসসির তথ্য অনুযায়ী, যন্ত্রটি বিদ্যুতে সংযুক্ত রেখে চালানোর সময় অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। এতে বাইরের প্লাস্টিকের আবরণ গলে যাওয়ার পাশাপাশি যন্ত্রটির গরম পৃষ্ঠ স্পর্শ করলে ব্যবহারকারীর শরীরে পোড়া আঘাত লাগার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পর্যন্ত পণ্যটির অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া অথবা প্লাস্টিকের আবরণ গলে যাওয়ার ৩২টি অভিযোগ পেয়েছে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বেবি ব্রেজা এন্টারপ্রাইজেস। তবে এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো শারীরিক আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে টিজে ম্যাক্স ও মার্শালসের বিভিন্ন স্টোরে এবং অনলাইনে বেবি ব্রেজা, টার্গেট ও বেবিলিস্টের মাধ্যমে পণ্যটি বিক্রি করা হয়েছে। প্রতিটি যন্ত্রের খুচরা মূল্য ছিল ১৬০ থেকে ১৮০ ডলারের মধ্যে।
যাঁদের বাসায় এই মডেলের স্টেরিলাইজার রয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যন্ত্রটি স্বাভাবিকভাবে কাজ করলেও সেটি আর ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রথমে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে।
পণ্যটির মডেল নম্বর যন্ত্রের নিচের দিকে লাগানো লেবেলে পাওয়া যাবে। ক্রেতাদের কেনার রসিদ ছাড়াই বিনা মূল্যে নতুন স্টেরিলাইজার পাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন মডেল হিসেবে দেওয়া হবে সুপারকুইক ১০ মিনিট স্টেরিলাইজার ড্রায়ার। এর পাশাপাশি নতুন পণ্য পাঠানোর শিপিং খরচও বহন করবে কোম্পানি।
বিনিময় পেতে ক্রেতাদের বেবি ব্রেজার রিকল ফরম পূরণ করে যন্ত্রের মডেল নম্বরের ছবি জমা দিতে হবে। এরপর প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে রিটার্ন অথরাইজেশন নম্বর ও পরবর্তী নির্দেশনা পাওয়ার পর পুরোনো যন্ত্রটি নষ্ট করে তার প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় ছবি পাঠাতে হবে। পুরোনো যন্ত্রটি স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্যের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী ফেলে দিতে হবে।
এ বিষয়ে সহায়তার জন্য বেবি ব্রেজা এন্টারপ্রাইজেসের ৮৮৮-৫২৭-৯৮২৪ নম্বরে সোমবার থেকে শুক্রবার, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া recall@babybrezza.com ঠিকানায় ইমেইল করেও বিস্তারিত জানা যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কানাডাতেও একই পণ্যের প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ইউনিট প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে দুই দেশ মিলিয়ে এই প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার ৫০০ স্টেরিলাইজার।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreবিগত কয়েক দশক ধরে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে অত্যন্ত মজবুত কৌশলগত, কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। গাজা যুদ্ধের মতো কঠিন পরিস্থিতিতেও যখন আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েল চাপের মুখে, তখন ভারত তাদের জোরালো সমর্থন বজায় রেখেছে। কিন্তু দুই দেশের এই গভীর বন্ধুত্বের মাঝেই এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ইসরায়েলি-আমেরিকান ধর্মগুরু রাব্বি ইউসেফ মিজরাহি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তিনি দাবি করেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধলে ইহুদিদের উচিত ভারতের পরিবর্তে পাকিস্তানকে সমর্থন করা। গত ৩ নভেম্বর ‘নির্বাচন ও বর্তমান ঘটনা’ শীর্ষক এক লেকচারে তোরাহ ও অন্যান্য ইহুদি শাস্ত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে রাব্বি মিজরাহি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তার মতে, ইহুদি ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী মূর্তিপূজকদের বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই, তাই ইহুদিদের উচিত একশ্বরে বিশ্বাসীদের পক্ষ নেওয়া। তিনি স্বীকার করেন যে পাকিস্তানের সাথে ইসরায়েলের চরম বৈরী সম্পর্ক রয়েছে, তবে তার যুক্তি হলো—ধর্মের স্বার্থের কাছে যেকোনো রাজনৈতিক বা কৌশলগত মিত্রতা গৌণ হওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হলে মূর্তিপূজা বনাম বিশুদ্ধ একেশ্বরবাদের ধর্মীয় নীতিগত পার্থক্যের কারণেই ইহুদিদের পাকিস্তানের পক্ষ নেওয়া উচিত। রাব্বি ইউসেফ মিজরাহির এমন হিন্দুবিদ্বেষী ও চরমপন্থী বক্তব্য এবারই প্রথম নয়। গত মাসেও তিনি হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস ও গো-পূজা নিয়ে চরম তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিলেন। ওই সময় এক ভারতীয় হিন্দু ব্যক্তির ইহুদি ধর্ম গ্রহণের আগ্রহের প্রসঙ্গ টানতে গিয়ে তিনি হিন্দুদের গো-সেবা সংস্কৃতি নিয়ে চরম উপহাস করেন। কিছু হিন্দু পরিবার শোবার ঘরে গরু ঢুকতে দেয়, গোমূত্র পান করে এবং ফার্মেসিতে তা বিক্রি হয় উল্লেখ করে তিনি কটাক্ষ করেছিলেন। এমনকি তিনি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছিলেন, "ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে তিনি আমাকে ভারতীয়দের মতো বানাননি।" ইসরায়েলের সাথে ভারতের বিশাল অস্ত্র চুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেও ধর্মীয় নীতিকে সব বন্ধুত্বের ঊর্ধ্বে রাখার এই মতবাদে ভারতীয় নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ভারতীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন, ইসরায়েলের এই আচরণ কেমন বন্ধুত্বের নিদর্শন? তবে অনেকেই আবার বিষয়টিকে কেবল একজন কট্টরপন্থীর ব্যক্তিগত ও ভিত্তিহীন মতবাদ হিসেবে দেখে একে কোনো ধরনের গুরুত্ব না দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।
ফিলাডেলফিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি আমানুর রহমান মুকুলের মৃত্যু, কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
যুক্তরাষ্ট্রে ২৯ হাজার বেবি বোতল স্টেরিলাইজার প্রত্যাহার, রয়েছে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি
বিমানবন্দরে ভেন্ডিং মেশিনে পানি কিনেও দিতে হচ্ছে টিপস, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় চেকপোস্ট ফাঁকি দিয়ে পালানোর সময় বিপুল পরিমাণ মাদকসহ দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল। কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের (CBP) তথ্যমতে, গত ২৫ অক্টোবর সান ক্লেমেন্টে বর্ডার প্যাট্রোল চেকপোস্টে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুটি গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৯.৮ মিলিয়ন (প্রায় ১ কোটি) ডলার মূল্যের ১ হাজার ৪৩৫ পাউন্ড কোকেন জব্দ করা হয়। ঘটনার দিন চেকপোস্টে আসার পর চালকদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্যান ডিয়েগো সেক্টরের বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টরা গাড়ি দুটিকে অতিরিক্ত তল্লাশির জন্য নির্দেশ দেন। এর মধ্যে একজন চালক তার গাড়িটি পেছনের দিকে ঘুরিয়ে চেকপোস্ট থেকে পালিয়ে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। বর্ডার প্যাট্রোলের বিশেষ প্রশিক্ষিত কুকুর (K9) গাড়ি দুটিতে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত করে। এরপর তল্লাশি চালিয়ে কালো রঙের আবর্জনার ব্যাগে লুকানো ৫৫০টি ভ্যাকুয়াম-সিল করা প্যাকেটের সন্ধান পান এজেন্টরা। প্রাথমিক ফিল্ড টেস্টে প্যাকেটগুলোতে কোকেন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। সান ক্লেমেন্টে স্টেশনের প্যাট্রোল এজেন্ট ইন চার্জ জে. ডি. স্কট এক বিবৃতিতে জানান, এই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের মাধ্যমে তারা চেকপোস্টটিতে মাদকবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে একটি রেকর্ড গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ কমে যাওয়ায় এজেন্টরা এখন চেকপোস্টগুলোতে আরও বেশি সময় দিয়ে কড়া নজরদারি চালাতে পারছেন। গ্রেপ্তারকৃত দুই চালককে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা ও ফেডারেল বিচারের জন্য 'ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন' বা ডিইএ-এর (DEA) হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক কারবারি চক্র, আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠন এবং মানব পাচারকারী নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান ব্যাপক অভিযানের অংশ হিসেবেই এই বিশাল সফলতা ধরা দিয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত মে মাসেও ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একটি আন্তঃসীমান্ত গোপন সুড়ঙ্গের সন্ধান পেয়েছিল কর্তৃপক্ষ, যেখান থেকে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এক টনের বেশি কোকেন উদ্ধার করা হয়েছিল।
নিউইয়র্কে ইসরায়েলি কোম্পানির নজরদারি প্রযুক্তি কেনার চুক্তি স্থগিত করল পুলিশ
চাঁদে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়তে স্পেসএক্স-ব্লু অরিজিনসহ ৮ কোম্পানির সঙ্গে নাসার ১০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি
ক্যালিফোর্নিয়ায় শিখ স্বেচ্ছাসেবককে অপহরণ ও হত্যার মামলায় মেক্সিকোয় গ্রেপ্তার এক
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার বাসিন্দা জেমস গেটস অভিযোগ করেছেন, তাঁকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যার পরিকল্পনায় তাঁর স্ত্রী শেরিল হ্যারিস গেটসকে সহায়তা করেছিল চ্যাটজিপিটি। এ অভিযোগে চ্যাটবটটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ের একাধিক প্রতিষ্ঠান ও প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেছেন তিনি। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে মামলাটি দাখিল হয়। এর আগে শেরিলের বিরুদ্ধে নর্থ ক্যারোলাইনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনেছিলেন প্রসিকিউটররা। পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাঁরা সেই ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করেন। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, শার্লটের একটি স্কুল ব্যবস্থায় শিশুদের অকুপেশনাল থেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করতেন শেরিল। কাজের দীর্ঘ মূল্যায়ন প্রতিবেদন দ্রুত তৈরি করতে জেমসের পরামর্শেই ২০২৫ সালের শুরুর দিকে তিনি চ্যাটজিপিটি ব্যবহার শুরু করেন। জুলাই নাগাদ কাজের পাশাপাশি ওষুধসংক্রান্ত প্রশ্ন, সন্তানদের নানা কাজের পরিকল্পনা ও দৈনন্দিন পরামর্শের জন্যও তিনি প্রায় প্রতিদিন চ্যাটবটটি ব্যবহার করতেন। ওই সময় সংসারের অর্থ নিয়ে টানাপোড়েন বাড়লে তিনি দাম্পত্যের কথাও চ্যাটজিপিটিকে বলতে শুরু করেন। জেমসের দাবি, তিনি নজরদারি করছেন এবং স্ত্রী-সন্তানদের আর্থিক সহায়তা ছাড়াই চলে যাবেন বলে শেরিল যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, চ্যাটবটের উত্তরগুলো তা আরও জোরালো করে। জেমসের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের গ্রীষ্মের শুরুতে বাড়ির কয়েকটি পানীয়ের স্বাদ তাঁর কাছে অস্বাভাবিক তেতো লাগে। ওই বছরের ১০ জুলাই তিনি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযোগপত্রে তিনি জানান, প্রায় তিন দিন ধরে তাঁর বুক ধড়ফড়, পেটে তীব্র ব্যথা, দুর্বলতা ও বিভ্রান্তির মতো উপসর্গ ছিল। পরে তিনি সেরে ওঠেন। জেমস বলেন, অসুস্থতার সময় তিনি এর কারণ বুঝতে পারেননি। সেপ্টেম্বরে স্ত্রীর হাতে লেখা বলে দাবি করা একটি নোট পাওয়ার পর তাঁর সন্দেহ হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নোটে একটি বিষাক্ত উদ্ভিদ ও কয়েকটি ওষুধের উল্লেখ ছিল। সেখানে চ্যাটজিপিটির কথোপকথন মুছে অ্যাকাউন্ট থেকে বের হওয়ার কথাও লেখা ছিল। অভিযোগপত্রে শেরিলের চ্যাটজিপিটি কথোপকথনের কিছু অংশ তুলে ধরা হয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালতের একটি আদেশের আওতায় শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশের কাছ থেকে তাঁরা ওই কথোপকথনের রেকর্ড পেয়েছেন। মামলায় বলা হয়েছে, শেরিল প্রথমে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়ে বিষক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। জেমসের অভিযোগ, পরে প্রশ্নগুলো তাঁর ক্ষতি করার দিকে মোড় নিলেও চ্যাটবট কথোপকথন থামায়নি। বরং বিষ প্রয়োগ ও তার প্রমাণ আড়াল করার বিষয়ে উত্তর দিয়েছে। জেমসের দাবি, কথোপকথনের রেকর্ড পড়ার পরই তিনি চ্যাটবটের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারেন। শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর শেরিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা এবং খাবার বা পানীয়তে ক্ষতিকর পদার্থ মেশানোর অভিযোগ আনা হয়েছিল। পুলিশ সে সময় জানায়, ঘটনাটি স্কুল প্রাঙ্গণের বাইরে ঘটেছে এবং এর সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতা ছিল না। পরে প্রসিকিউটররা পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করেন বলে নর্থ ক্যারোলাইনার আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। শেরিলের একজন আইনজীবী এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। ওপেনএআইয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা তাদের অগ্রাধিকার। প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করেছে এবং তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়েছে। দেওয়ানি মামলায় চ্যাটজিপিটির নকশায় ত্রুটি, ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করতে ব্যর্থতা এবং মানসিক ক্ষতির অভিযোগসহ নয়টি আইনি দাবি তুলেছেন জেমস। তিনি শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন। একই সঙ্গে কোনো ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট কাউকে আঘাত করার পরিকল্পনা করছেন বলে কথোপকথনে ইঙ্গিত মিললে তা শনাক্ত ও থামানোর ব্যবস্থা নিতে ওপেনএআইকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করেছেন তিনি। সূত্র - সান ফ্রান্সিসকো কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে দাখিল করা অভিযোগপত্র, শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ বিভাগ, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
ইসরায়েলে মার্কিন সহায়তা বন্ধে ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে চান নবনির্বাচিত সিনেটর এল-সাইয়েদ
ডেট্রয়েটে লেবাননের কনসাল জেনারেলকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ