৪০ হাজার বাংলাদেশির শহর আটলান্টা কিন্তু কনস্যুলেট অফিস মায়ামীতে!
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশ সরকারের নতুন কনস্যুলেট অফিস স্থাপনকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জর্জিয়ার আটলান্টায় বসবাসরত প্রবাসীরা প্রশ্ন তুলেছেন—যেখানে প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশির বসবাস, সেই শহরকে বাদ দিয়ে কেন ফ্লোরিডার মায়ামীতে কনস্যুলেট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
কমিউনিটির বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠকদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনসংখ্যার দিক থেকে আটলান্টা দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর একটি। এখান থেকে ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, টেনেসি, আলাবামা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনা—এই ছয়টি অঙ্গরাজ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিরা সহজেই যাতায়াত করতে পারেন। ফলে কনস্যুলেট অফিস আটলান্টায় হলে বৃহত্তর সংখ্যক মানুষ সরাসরি সেবা নিতে পারতেন বলে মনে করছেন প্রবাসীরা।
অন্যদিকে মায়ামী যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় পাশের অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রবাসীদের জন্য সেখানে গিয়ে কনস্যুলার সেবা নেওয়া সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, একটি কনস্যুলেট যদি একটি শহরেই স্থাপন করতে হয়, তাহলে অধিক সংখ্যক প্রবাসীর সুবিধা বিবেচনা করে আটলান্টাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল।
প্রবাসী নেতারা আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সোনালী ব্যাংকের অর্থ প্রেরণ সেবা “সোনালী একচেঞ্জ” আটলান্টা থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শাখার তুলনায় এখান থেকে বেশি রেমিট্যান্স আসে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও আটলান্টায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেশি ছিল বলে দাবি করা হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে এবং বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, যদি ভবিষ্যতে একাধিক কনস্যুলেট স্থাপনের পরিকল্পনা থাকে, তাহলে ফ্লোরিডার পাশাপাশি জর্জিয়ার আটলান্টাতেও কনস্যুলেট স্থাপন করা উচিত।
প্রবাসীদের আশা, অধিক সংখ্যক বাংলাদেশির সুবিধা বিবেচনা করে সরকার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কনস্যুলেট স্থাপনের বিষয়ে আবারও পর্যালোচনা করবে এবং বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার একটি জঙ্গলে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া নবজাতক ‘বেবি ইন্ডিয়া’র ঘটনা ছয় বছর পর আইনি পরিণতি পেয়েছে। ২০১৯ সালে জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ব্যাগে বেঁধে জঙ্গলে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় তার জন্মদাত্রী মা কারিমা জিওয়ানি পরে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। ঘটনাটি ২০১৯ সালের ৬ জুন রাতে জর্জিয়ার ফরসাইথ কাউন্টিতে। অ্যালান রাগাটজের দুই কিশোরী মেয়ে বাড়ির কাছের জঙ্গল থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পায়। প্রথমে সেটিকে কোনো প্রাণীর শব্দ মনে হলেও বারবার কান্না শুনে তারা বাবাকে বিষয়টি জানায়। এরপর জঙ্গলে গিয়ে একটি বাঁধা প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে শিশুর কান্না আসছে বুঝতে পেরে তারা ৯১১-এ ফোন করেন। ফরসাইথ কাউন্টি শেরিফের ডেপুটিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাগ খুলে নবজাতক মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। তখনও তার শরীরে নাভির নাড়ি যুক্ত ছিল। পুলিশের বডি ক্যামেরায় উদ্ধার অভিযানের সেই মুহূর্ত ধরা পড়ে। ডেপুটি টেরি রোপার শিশুটিকে বের করার সময় তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের কর্মীরা পরিচয়হীন নবজাতকদের জন্য রাখা নামের তালিকা থেকে তার নাম দেন ‘ইন্ডিয়া’। তদন্তকারীরা জানান, উদ্ধারের সময় শিশুটি ভালো অবস্থায় ছিল এবং পরবর্তী সময়েও সে সুস্থ ছিল। তবে কে তাকে এভাবে জঙ্গলে ফেলে গেল, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে তদন্তকারীদের অপেক্ষা করতে হয় প্রায় চার বছর। উন্নত ডিএনএ ও ফরেনসিক জেনেটিক জিনিয়লজি প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে শিশুটির জৈবিক বাবাকে শনাক্ত করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, শিশুটিকে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় বাবার সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ তারা পাননি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কারিমা জিওয়ানিকে শিশুটির জন্মদাত্রী মা হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ২০২৩ সালের মে মাসে ৪০ বছর বয়সী জিওয়ানিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, শিশুর প্রতি প্রথম ডিগ্রির নিষ্ঠুরতা, গুরুতর হামলা ও শিশুকে পরিত্যাগসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, জিওয়ানি একটি গাড়ির ভেতরে শিশুটির জন্ম দিয়েছিলেন। এরপর কিছু সময় গাড়ি চালিয়ে নবজাতককে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে রেখে সেটির মুখ বেঁধে ডেভস ক্রিক রোডের কাছের নির্জন জঙ্গলে ফেলে যান। শেরিফ রন ফ্রিম্যান সে সময় বলেছিলেন, শিশুটিকে এমন কোনো জায়গায় রাখা হয়নি যেখানে সহজে কারও নজরে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। মামলাটি শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। জিওয়ানি হত্যাচেষ্টা এবং শিশুর প্রতি প্রথম ডিগ্রির নিষ্ঠুরতার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাকে মোট ৩০ বছরের সাজা দেয়। এর মধ্যে ১৫ বছর কারাগারে এবং বাকি ১৫ বছর প্রবেশনে কাটাতে হবে। ঘটনার সময় জর্জিয়ায় নবজাতককে নিরাপদ স্থানে রেখে যাওয়ার আইনি ব্যবস্থা ছিল। নির্দিষ্ট শর্তে হাসপাতাল, ফায়ার স্টেশনসহ অনুমোদিত স্থানে নবজাতককে নিরাপদে হস্তান্তরের সুযোগ থাকলেও বেবি ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রে সেই পথ অনুসরণ করা হয়নি। সবচেয়ে স্বস্তির খবর, জঙ্গলে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়া সেই নবজাতক বেঁচে গেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বেবি ইন্ডিয়াকে পরে দত্তক নেওয়া হয়েছে। তার ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখা হলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সে একটি পরিবারের সঙ্গে সুস্থ ও ভালোভাবে বেড়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার একটি জঙ্গলে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া নবজাতক ‘বেবি ইন্ডিয়া’র ঘটনা ছয় বছর পর আইনি পরিণতি পেয়েছে। ২০১৯ সালে জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ব্যাগে বেঁধে জঙ্গলে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় তার জন্মদাত্রী মা কারিমা জিওয়ানি পরে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। ঘটনাটি ২০১৯ সালের ৬ জুন রাতে জর্জিয়ার ফরসাইথ কাউন্টিতে। অ্যালান রাগাটজের দুই কিশোরী মেয়ে বাড়ির কাছের জঙ্গল থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পায়। প্রথমে সেটিকে কোনো প্রাণীর শব্দ মনে হলেও বারবার কান্না শুনে তারা বাবাকে বিষয়টি জানায়। এরপর জঙ্গলে গিয়ে একটি বাঁধা প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে শিশুর কান্না আসছে বুঝতে পেরে তারা ৯১১-এ ফোন করেন। ফরসাইথ কাউন্টি শেরিফের ডেপুটিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাগ খুলে নবজাতক মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। তখনও তার শরীরে নাভির নাড়ি যুক্ত ছিল। পুলিশের বডি ক্যামেরায় উদ্ধার অভিযানের সেই মুহূর্ত ধরা পড়ে। ডেপুটি টেরি রোপার শিশুটিকে বের করার সময় তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের কর্মীরা পরিচয়হীন নবজাতকদের জন্য রাখা নামের তালিকা থেকে তার নাম দেন ‘ইন্ডিয়া’। তদন্তকারীরা জানান, উদ্ধারের সময় শিশুটি ভালো অবস্থায় ছিল এবং পরবর্তী সময়েও সে সুস্থ ছিল। তবে কে তাকে এভাবে জঙ্গলে ফেলে গেল, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে তদন্তকারীদের অপেক্ষা করতে হয় প্রায় চার বছর। উন্নত ডিএনএ ও ফরেনসিক জেনেটিক জিনিয়লজি প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে শিশুটির জৈবিক বাবাকে শনাক্ত করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, শিশুটিকে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় বাবার সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ তারা পাননি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কারিমা জিওয়ানিকে শিশুটির জন্মদাত্রী মা হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ২০২৩ সালের মে মাসে ৪০ বছর বয়সী জিওয়ানিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, শিশুর প্রতি প্রথম ডিগ্রির নিষ্ঠুরতা, গুরুতর হামলা ও শিশুকে পরিত্যাগসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, জিওয়ানি একটি গাড়ির ভেতরে শিশুটির জন্ম দিয়েছিলেন। এরপর কিছু সময় গাড়ি চালিয়ে নবজাতককে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে রেখে সেটির মুখ বেঁধে ডেভস ক্রিক রোডের কাছের নির্জন জঙ্গলে ফেলে যান। শেরিফ রন ফ্রিম্যান সে সময় বলেছিলেন, শিশুটিকে এমন কোনো জায়গায় রাখা হয়নি যেখানে সহজে কারও নজরে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। মামলাটি শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। জিওয়ানি হত্যাচেষ্টা এবং শিশুর প্রতি প্রথম ডিগ্রির নিষ্ঠুরতার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাকে মোট ৩০ বছরের সাজা দেয়। এর মধ্যে ১৫ বছর কারাগারে এবং বাকি ১৫ বছর প্রবেশনে কাটাতে হবে। ঘটনার সময় জর্জিয়ায় নবজাতককে নিরাপদ স্থানে রেখে যাওয়ার আইনি ব্যবস্থা ছিল। নির্দিষ্ট শর্তে হাসপাতাল, ফায়ার স্টেশনসহ অনুমোদিত স্থানে নবজাতককে নিরাপদে হস্তান্তরের সুযোগ থাকলেও বেবি ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রে সেই পথ অনুসরণ করা হয়নি। সবচেয়ে স্বস্তির খবর, জঙ্গলে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়া সেই নবজাতক বেঁচে গেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বেবি ইন্ডিয়াকে পরে দত্তক নেওয়া হয়েছে। তার ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখা হলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সে একটি পরিবারের সঙ্গে সুস্থ ও ভালোভাবে বেড়ে উঠছে।
শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে হিজাব পরেই যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কে এই আসমা আলী?
২০ হাজারের লক্ষ্য, সংগ্রহ হলো ৯৩ হাজারের বেশি খাবার, ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ স্কাউটরা
ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভোর সকালে বন্দুক হামলা, আহত পাঁচজন
একটি জুম কলে একসঙ্গে প্রায় ৯০০ কর্মীকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছিলেন বেটার ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বিশাল গর্গ। প্রায় পাঁচ বছর পর এবার নিজের প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদ থেকেই বরখাস্ত হয়েছেন তিনি। তবে সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে শেয়ারহোল্ডারদের সমর্থন নিয়ে বোর্ডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন গর্গ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডিজিটাল মর্টগেজ প্রতিষ্ঠান বেটার হোম অ্যান্ড ফাইন্যান্স হোল্ডিং কোম্পানির বোর্ড চলতি আগস্টে গর্গকে সিইও পদ থেকে সরিয়ে দেয়। কোম্পানির বোর্ড তার নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। গর্গ অবশ্য এসব অভিযোগের কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করেছেন। ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে ২০২১ সালের বহুল সমালোচিত সেই জুম কলের কারণে। ওই বছরের ডিসেম্বরে গর্গ প্রায় ৯০০ কর্মীকে একটি অনলাইন মিটিংয়ে ডেকে জানান, তাদের চাকরি তাৎক্ষণিকভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ছুটির মৌসুমের ঠিক আগে এত কর্মীকে একই জুম কলে ছাঁটাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে তখন ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গর্গ নিজের পদ্ধতির জন্য ক্ষমাও চেয়েছিলেন। তিনি স্বীকার করেছিলেন, ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি যথাযথ সম্মান ও সংবেদনশীলতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিতর্কের জেরে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তিনি আবার সিইও পদে ফিরে আসেন। এরপরও বেটারের পরিস্থিতি সহজ হয়নি। আবাসন ও মর্টগেজ বাজারের পরিবর্তন, কর্মী ছাঁটাই এবং আর্থিক ক্ষতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। ২০২৩ সালে শেয়ারবাজারে প্রবেশের প্রথম দিনেই বেটারের শেয়ারের দাম বড় ধরনের পতনের মুখে পড়ে। এবার গর্গকে সরানোর পর কোম্পানির অন্তর্বর্তী সিইও হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ড্যানিয়েল লুইস। তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের মধ্যেই বেটারের ভেতরে নতুন করে বোর্ডরুম লড়াই শুরু হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গর্গের পক্ষে থাকা শেয়ারহোল্ডারদের একটি অংশ কোম্পানির বর্তমান নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে চাইছে। গর্গের পক্ষের দাবি, তাদের সঙ্গে এমন বিনিয়োগকারীরা রয়েছেন যাদের হাতে কোম্পানির প্রায় ৫২ শতাংশ ভোটিং শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তারা অন্তর্বর্তী সিইও লুইসসহ বোর্ডের পাঁচ সদস্যকে সরানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন। অন্যদিকে বেটারের বোর্ড গর্গকে সরানোর সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গর্গকে বাদ দিয়ে বোর্ডের অন্য সদস্যরা তাকে সরানোর পক্ষে সর্বসম্মতভাবে ভোট দেন। বোর্ড তার নেতৃত্ব ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক উদ্বেগের কথা তুলেছে। গর্গের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের কিছু অংশের সত্যতা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। ফলে প্রায় পাঁচ বছর আগে শত শত কর্মীকে এক জুম কলে চাকরি হারানোর খবর দেওয়া যে সিইও নিজেই বিশ্বজুড়ে বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছিলেন, এখন সেই গর্গের নিজের চাকরি হারানো এবং আবার সিইও পদ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা বেটারের নতুন করপোরেট লড়াইয়ের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
আমেরিকায় ফ্যামিলি স্পন্সরশিপে নতুন গাইডলাইন, আবেদনকারীদের জন্য যা জানা জরুরি
নিজের জমির বিচার পেতে ১৬ বছর আইন শিখলেন কৃষক, আদালতে পেলেন জয়
প্রধানমন্ত্রীর খালাতো ভাইয়ের পাম্পের ছিনতাইকৃত ১ কোটি ২১ লাখ টাকার ১২ লাখ টাকা উদ্ধার, জড়িত ৮
মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদের বোন ইমান আবদেলহাদির অতীতের কিছু রাজনৈতিক মন্তব্য ও আইনি বিতর্ককে সামনে এনে রিপাবলিকানরা এখন আব্দুল এল-সায়েদকে আক্রমণের চেষ্টা করছে। নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনের আগে বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। ইমান আবদেলহাদি ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর একজন অধ্যাপক ও লেখক। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা নিয়ে তার কিছু প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার পর তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টকে সমালোচকেরা হামাসের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে এসব মন্তব্য ইমানের নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং এর সঙ্গে তার ভাইয়ের নির্বাচনী অবস্থানের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা আলাদা বিষয়। ইমানের বিরুদ্ধে আরেকটি বড় বিতর্ক তৈরি হয় ২০২৫ সালের অক্টোবরে। ইলিনয়ের ব্রডভিউয়ে আইসিই-সংশ্লিষ্ট একটি স্থাপনার বাইরে আইসিইবিরোধী বিক্ষোভের সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেন, তিনি এক ইলিনয় স্টেট পুলিশ ট্রুপারের দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে থুতু নিক্ষেপ করেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীর ওপর গুরুতর হামলার দুটি অভিযোগ এবং পুলিশকে বাধা দেওয়া বা প্রতিরোধের দুটি অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইমানের যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও ঐতিহাসিক ঘটনাকে নিয়ে করা কিছু পুরোনো মন্তব্যও নতুন করে সামনে আনা হয়েছে। এর মধ্যে স্বাধীনতা দিবস ও থ্যাংকসগিভিং নিয়ে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যও রয়েছে। এসব বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকানপন্থী মহলে আব্দুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার আরও জোরালো হয়েছে। তবে আব্দুলের নির্বাচনী ক্যাম্পেইন বলছে, পরিবারের সদস্যের রাজনৈতিক মতামতের জন্য একজন প্রার্থীকে দায়ী করা যায় না। ক্যাম্পেইনের একজন মুখপাত্র নিউজউইককে বলেন, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিষয়ে মতভেদ থাকাও স্বাভাবিক। মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যালটে রয়েছেন আব্দুল এল-সায়েদ এবং ভোটারদের বিবেচনা করা উচিত তার নিজের জনসেবার রেকর্ড ও মিশিগানের মানুষের জীবনকে আরও ভালো ও সাশ্রয়ী করার পরিকল্পনা। আব্দুল এল-সায়েদ চলতি আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয়ী হয়ে দলের সিনেট প্রার্থী হন। এখন নভেম্বরে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। মিশিগানকে দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এই আসনের ফলাফল সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রাইমারিতে জয়ের পর থেকেই আব্দুলকে ঘিরে রিপাবলিকানদের প্রচার আরও তীব্র হয়েছে। তার বোনের বিতর্কিত বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডকে সেই রাজনৈতিক আক্রমণের অংশ হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে। অন্যদিকে আব্দুলের ক্যাম্পেইন জোর দিচ্ছে তার নিজস্ব রাজনৈতিক রেকর্ড, স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং মিশিগানের মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার ওপর। এখন পর্যন্ত আব্দুল এল-সায়েদ তার বোনের আলোচিত মন্তব্যগুলোর প্রতিটির বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত অবস্থান নেননি। তবে তার ক্যাম্পেইন স্পষ্ট করেছে, ইমান আবদেলহাদির ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতামতকে আব্দুলের নির্বাচনী অবস্থানের সঙ্গে এক করে দেখার বিষয়টি তারা গ্রহণ করছে না।
শিকাগোর হাইড পার্কে বন্দুকধারীদের হাতে এক ব্যক্তির সম্পদ ছিনতাই, তদন্তে নেমেছে পুলিশ
অ্যাক্রনে ১৫ বছরের কিশোরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত