বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না বিশ্বখ্যাত মার্কিন র্যাপার কানিই ওয়েস্টের (ইয়ে)। দীর্ঘ ১১ বছর পর ব্রিটিশ ভক্তদের মাতাতে লন্ডনের মঞ্চে ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু পুরোনো ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্যের খেসারত দিতে হলো তাকে।
ব্রিটিশ সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে লন্ডনে প্রবেশের অনুমতি পাননি এই শিল্পী, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে লন্ডনের জনপ্রিয় ‘ওয়্যারলেস ফেস্টিভ্যাল’-এর ওপর। প্রধান শিল্পীর অনুপস্থিতিতে পুরো উৎসবটিই বাতিল ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন আয়োজকরা।
আজ মঙ্গলবার উৎসবের আয়োজক সংস্থা ‘ফেস্টিভ্যাল রিপাবলিক’ এক বিবৃতিতে জানায়, ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনস্বার্থ বিবেচনা করে কানিই ওয়েস্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ১০ থেকে ১২ জুলাই লন্ডনের ফিন্সবারি পার্কে নির্ধারিত তিন দিনের এই মেগা ইভেন্টটি বাতিল করা হয়েছে। ইতিমধ্যে টিকিট ক্রেতাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
কানিই ওয়েস্টের অতীতে করা অ্যান্টি-সেমেটিক বা ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য এবং অ্যাডলফ হিটলারের প্রশংসা করার বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই যুক্তরাজ্যে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এই কনসার্ট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। পাশাপাশি বিতর্কের মুখে পেপসি ও ডিয়াজিও-র মতো বড় স্পন্সররা উৎসব থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। মূলত সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই ব্রিটিশ সরকার তাকে দেশটিতে প্রবেশের ভিসা দিতে অস্বীকার করে।
নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে নমনীয় সুর শোনা গেছে ইয়ের কণ্ঠে। এক বিবৃতিতে তিনি ব্রিটেনের ইহুদি নেতাদের সঙ্গে দেখা করে ক্ষমা চাওয়ার এবং ঐক্য ও শান্তির বার্তা নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এর আগে গত জানুয়ারিতে নিজের মানসিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি জনসম্মুখে ক্ষমা চেয়েছিলেন, যা ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্ত বদলাতে যথেষ্ট ছিল না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৫ সালের পর যুক্তরাজ্যে ফেরার এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় কানিই ওয়েস্টের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
নিজের ২২তম জন্মদিন উদযাপনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরের একটি গ্যাস স্টেশনে গুলিতে নিহত হয়েছেন এক তরুণ। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ফিনিক্স পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস স্টেশনে দুই ব্যক্তির মধ্যে তর্কের জেরেই এ প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্যমতে, শনিবার ভোর সাড়ে ২টার দিকে ফিনিক্সের ১৬তম স্ট্রিট ও থমাস রোড এলাকার একটি এআরসিও গ্যাস স্টেশন থেকে গুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান কর্মকর্তারা। সেখানে ২২ বছর বয়সী হুলিও অ্যাঞ্জেল ওসিফে দিয়াজকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার আগের রাতেই তিনি পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে নিজের ২২তম জন্মদিন উদযাপন করেছিলেন। আনন্দঘন সেই উদযাপনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন মর্মান্তিক ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে, এটি তারা কল্পনাও করেননি। পরিবারের সদস্যরা তাকে পরিশ্রমী, প্রাণবন্ত ও সবার প্রিয় একজন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি গ্যাস স্টেশনে গিয়ে দিয়াজের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস রূপ নেয়। এরপর সন্দেহভাজন ব্যক্তি গুলি চালান। ঘটনাস্থলেই তাকে আটক করা হয় এবং পরে দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, নিহত ও সন্দেহভাজন একে অপরের পরিচিত ছিলেন না। কী কারণে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে না বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিবারের সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। তাদের ভাষায়, একটি আনন্দের দিন মুহূর্তেই আজীবনের শোকে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে মোতায়েন থাকা ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের জন্য ২৯২ মিলিয়ন ডলারের একটি আবাসন চুক্তি অনুমোদন করেছে ন্যাশনাল গার্ড ব্যুরো। এই চুক্তির আওতায় সর্বোচ্চ দুই হাজার গার্ড সদস্যের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট-ধাঁচের আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে এই পদক্ষেপকে রাজধানীতে ন্যাশনাল গার্ডের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ন্যাশনাল গার্ড ব্যুরো জানিয়েছে, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ন্যাশনাল গার্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সহযোগিতায় প্লেসমেকার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিটি করা হয়েছে। এটি ন্যাশনাল গার্ডের ইতিহাসে আন্তঃসংস্থার সবচেয়ে বড় আবাসনসংক্রান্ত চুক্তি। এর লক্ষ্য হলো রাজধানীতে মোতায়েন সদস্যদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি, নিরাপদ ও স্থিতিশীল আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং একই সঙ্গে সরকারি ব্যয় কমানো। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এতদিন মোতায়েন সদস্যরা ওয়াশিংটন অঞ্চলের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করছিলেন। নতুন ব্যবস্থায় তারা অ্যাপার্টমেন্ট-ধাঁচের আবাসনে থাকতে পারবেন, যেখানে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, জীবনযাত্রার মান, নিরাপদ পার্কিং এবং সমন্বিত সহায়তা সেবা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি হোটেল ব্যবহারের তুলনায় সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে দাবি করা হয়েছে। ন্যাশনাল গার্ড ব্যুরোর প্রধান জেনারেল স্টিভ নর্ডহাউস বলেন, রাজধানীতে মোতায়েন গার্ড সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা এবং নিখোঁজ শিশুদের পরিবারে ফিরিয়ে দেওয়ার মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব পালনের জন্য উন্নত আবাসন প্রয়োজন ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে, দ্য হিলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে পরবর্তী অভিষেক অনুষ্ঠান পর্যন্ত রাজধানীতে ন্যাশনাল গার্ডের একটি উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি বজায় থাকতে পারে। তবে এ পরিকল্পনার জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন। চুক্তিটি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। স্থানীয় কিছু অধিকারকর্মী ও বিশ্লেষকের মতে, রাজধানীতে দীর্ঘ সময় ধরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের যৌক্তিকতা এবং এর ব্যয় নিয়ে আরও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, এই আবাসন ব্যবস্থা সৈন্যদের জীবনমান উন্নত করার পাশাপাশি করদাতাদের অর্থ সাশ্রয়েও সহায়ক হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপে একটি বাড়িতে আগুন লাগার পর একই পরিবারের আট সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ছয় শিশু রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে কয়েকজনের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাটিকে "সন্দেহজনক" হিসেবে উল্লেখ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। অটোয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপের রিভারসাইড ট্রেইলের একটি বাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে দমকল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলে তারা একে একে আটজনের মরদেহ দেখতে পান। অটোয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের ক্যাপ্টেন জ্যাকব স্পার্কস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে কারা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বা কতজনের শরীরে এ ধরনের আঘাত ছিল, সে বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তিনি বলেন, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত জটিল। আগুনটি ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়ে থাকতে পারে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সহায়তা করছে মিশিগান স্টেট পুলিশের অগ্নিসংযোগ তদন্ত ইউনিট। তদন্তকারীরা এ মুহূর্তে কোনো বাইরের সন্দেহভাজনকে খুঁজছেন না। তাদের ধারণা, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাই ওই বাড়ির ভেতরেই ছিলেন। তবে এটি হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী আত্মহত্যা ছিল কি না, নাকি অন্য কোনো ঘটনা, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি কর্তৃপক্ষ। তারা বলছেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। স্বজনদের অবহিত করার প্রক্রিয়া এবং মরদেহ শনাক্তের কাজ শেষ হওয়ার পর পরিচয় জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, পরিবারটি এলাকায় পরিচিত ছিল এবং প্রায়ই শিশুদের বাড়ির সামনে খেলতে দেখা যেত। এমন একটি ঘটনার খবর পেয়ে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপ লেক মিশিগানের পূর্ব তীরে অবস্থিত একটি আবাসিক এলাকা। এমন মর্মান্তিক ঘটনার পর সেখানে নিরাপত্তা ও তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের ফল পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে আরও নিশ্চিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে।