ক্যালিফোর্নিয়ার ডাউন পেমেন্টের কাছাকাছি দামেই ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় বাড়ি!
ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি সাধারণ বাড়ি কিনতে যে পরিমাণ অর্থ ডাউন পেমেন্ট হিসেবে লাগতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক সস্তা অঙ্গরাজ্য ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কিছু এলাকায় সেই অর্থের কাছাকাছি দামেই পুরো বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। তবে বাড়ির অবস্থান, আয়তন ও অবস্থা অনুযায়ী দাম ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়।
জিলোর ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি বাড়ির গড় মূল্য ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৯ ডলার। অন্যদিকে মে মাসে রাজ্যটির মিডিয়ান বিক্রয়মূল্য ছিল ৭ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৭ ডলার।
এই গড় মূল্যের একটি বাড়ি কিনতে কেউ যদি ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দেন, তাহলে শুরুতেই দিতে হবে প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ১১০ ডলার। এর বাইরে ক্লোজিং কস্ট, হোম ইন্স্যুরেন্স, প্রপার্টি ট্যাক্স এবং মর্টগেজের অন্যান্য খরচ থাকতে পারে।
তবে ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়। ক্রেতার লোন প্রোগ্রাম, ক্রেডিট প্রোফাইল ও অন্যান্য শর্তের ওপর নির্ভর করে এর চেয়ে কম ডাউন পেমেন্টেও বাড়ি কেনা সম্ভব। ২০ শতাংশ দেওয়ার একটি বড় সুবিধা হলো, প্রচলিত অনেক মর্টগেজে প্রাইভেট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স এড়ানো যায়।
ক্যালিফোর্নিয়ার সঙ্গে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার দামের ব্যবধান বেশ বড়। একই সময়ের জিলো তথ্য অনুযায়ী, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় একটি বাড়ির গড় মূল্য ১ লাখ ৮২ হাজার ৭০৪ ডলার। অর্থাৎ ক্যালিফোর্নিয়ার গড় বাড়ির মূল্যের ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের সঙ্গে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার গড় বাড়ির মূল্যের ব্যবধান প্রায় ২৭ হাজার ৬০০ ডলার।
তবে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কিছু এলাকায় বাড়ির সাধারণ মূল্য এর চেয়েও কম। জিলোর জুনের তথ্যে সাটনে সাধারণ বাড়ির মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার ৮৮২ ডলার, ফ্ল্যাটউডসে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫৬ ডলার এবং গ্যাসাওয়েতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৬৬ ডলার। ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার গড় বাড়ির ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের সমপরিমাণ অর্থে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কিছু বাজারে পুরো বাড়ি কেনা বাস্তবেই সম্ভব হতে পারে।
তবে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার সব বাড়ি ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে পাওয়া যায়, এমন ধারণা সঠিক নয়। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে রাজ্যটির মিডিয়ান বিক্রয়মূল্য ছিল ২ লাখ ২১ হাজার ১৬৭ ডলার এবং জুনে মিডিয়ান লিস্টিং প্রাইস ছিল ২ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০ ডলার। তাই নির্দিষ্ট একটি কমদামি বাড়ির উদাহরণকে পুরো রাজ্যের বাজারদর হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার আরেকটি সুবিধা তুলনামূলক কম প্রপার্টি ট্যাক্স। ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, মালিকের নিজস্ব বসবাসের বাড়ির মূল্যের ওপর রাজ্যটির কার্যকর প্রপার্টি ট্যাক্স রেট গড়ে প্রায় শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ।
বাজারে ক্রেতাদের জন্য বাড়ির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। জিলোর হিসাবে, জুনের শেষে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় বিক্রির জন্য ৫ হাজার ১৯৮টি বাড়ি ছিল এবং ওই মাসে নতুন করে ১ হাজার ৭৪৯টি বাড়ি বাজারে আসে। মে মাসে ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ি লিস্টিং প্রাইসের নিচে বিক্রি হয়েছে।
তবে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় গেলে শুধু বাড়ির দাম বিবেচনা করলেই হবে না। চাকরির সুযোগ, আয়, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট, হেলথ কেয়ার, যাতায়াত, হোম ইন্স্যুরেন্স, বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভবিষ্যতে বাড়িটি বিক্রি করার সম্ভাবনাও হিসাব করতে হবে। বিশেষ করে কমদামি পুরোনো বাড়ির ক্ষেত্রে মেরামতের খরচ উল্লেখযোগ্য হতে পারে।
একই কারণে ক্যালিফোর্নিয়ায় মাসে ৩ হাজার ৫০০ ডলার এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ৮০০ থেকে ৯০০ ডলার খরচ হবেই, এমন নির্দিষ্ট তুলনাও সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। মর্টগেজের পরিমাণ, ডাউন পেমেন্ট, সুদের হার, প্রপার্টি ট্যাক্স ও ইন্স্যুরেন্সের ওপর মাসিক খরচ নির্ভর করে।
আর ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক থেকে “হাজার হাজার বাংলাদেশি পরিবার” ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় চলে যাচ্ছে, এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। বরং ইউএস সেনসাস ব্যুরোর হিসাবে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার মোট জনসংখ্যা কমেছে।
তারপরও বাড়ির দামের বিশাল ব্যবধান একটি বিষয় পরিষ্কার করে। ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির মালিক হতে যে অর্থ শুধু ডাউন পেমেন্টে চলে যেতে পারে, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কিছু শহর ও ছোট কমিউনিটিতে সেই বাজেটেই মর্টগেজ ছাড়াই একটি বাড়ি কেনার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। তবে কোথায় বসবাস করবেন, সেই সিদ্ধান্তে বাড়ির দাম যতটা গুরুত্বপূর্ণ, চাকরি, জীবনযাত্রা ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক হিসাবও ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreআমেরিকায় থাকা ভাই বা বোন নাগরিক হওয়ার পরও বাংলাদেশে থাকা স্বজনদের অনেকেরই প্রশ্ন থাকে, “আমাকে এখনো আমেরিকায় নিয়ে যাচ্ছে না কেন?” বাস্তবে বিষয়টি সব সময় ইচ্ছা বা চেষ্টা না করার কারণে হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা নির্দিষ্ট নিয়মে ভাই-বোনের জন্য ইমিগ্রেশন আবেদন করতে পারেন। তবে ভাই-বোনের আবেদন এফ-৪ ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরিতে পড়ে এবং এই ক্যাটাগরিতে ভিসার সংখ্যা সীমিত। ফলে আবেদন করার পরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অক্টোবর ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশের এফ-৪ ক্যাটাগরিতে বর্তমানে ২২ অক্টোবর ২০১১-এর আগের প্রায়োরিটি ডেটের আবেদনগুলো ভিসার জন্য বিবেচিত হচ্ছে। অর্থাৎ এখন নতুন করে ভাই-বোনের জন্য আবেদন করলে অপেক্ষার সময় প্রায় ১৫ বছরের কাছাকাছি হতে পারে। তবে এই সময় নির্দিষ্ট নয়। ভিসা বুলেটিনের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে অপেক্ষার সময় ভবিষ্যতে কমতেও পারে, আবার বাড়তেও পারে। অনেকেই মনে করেন ভাই-বোনকে আনার আবেদন মানে শুধু একটি ফর্ম পূরণ করা। বাস্তবে প্রক্রিয়াটি এত সহজ নয়। প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে ফর্ম আই-১৩০ জমা দিতে হয় এবং ভাই-বোনের সম্পর্কের প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে হয়। বর্তমানে আই-১৩০-এর সরকারি ফাইলিং ফি অনলাইনে ৬২৫ ডলার এবং কাগজে জমা দিলে ৬৭৫ ডলার। এর বাইরে জন্মসনদ, নাগরিকত্বের প্রমাণ, নাম পরিবর্তনের কাগজসহ পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন ডকুমেন্ট লাগতে পারে। অনেক আবেদনকারী নিজেরা ইমিগ্রেশন ফর্ম পূরণ করতে পারেন না। তখন ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি বা অনুমোদিত প্রতিনিধির সহায়তা নিতে হয়, যার জন্য সরকারি ফি’র বাইরে আলাদা পেশাগত খরচ হতে পারে। ডকুমেন্ট সংগ্রহ, অনুবাদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের খরচও থাকতে পারে। ফলে শুরু থেকেই এটি একটি সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা তাদের স্বামী বা স্ত্রী, ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান এবং ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী বাবা-মাকে ইমিডিয়েট রিলেটিভ হিসেবে আনার সুযোগ পান। এসব সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভাই-বোনের মতো বার্ষিক ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ভিসা কোটার দীর্ঘ অপেক্ষা থাকে না। তবে আবেদনকারী ও যার জন্য আবেদন করা হচ্ছে, উভয়ের নির্ধারিত যোগ্যতা ও অন্যান্য ইমিগ্রেশন শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের ক্ষেত্রেও নিয়ম আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকের ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী অবিবাহিত সন্তান এফ-১ এবং বিবাহিত সন্তান এফ-৩ ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরিতে পড়েন। ফলে তাদের ক্ষেত্রেও ভিসা নম্বর পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কোন ক্যাটাগরিতে কত সময় লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরি, প্রায়োরিটি ডেট এবং ভিসা বুলেটিনের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে। ভাই-বোনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষা এবং আবেদন প্রক্রিয়ার খরচ ও কাগজপত্রের জটিলতার কারণে অনেক বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিক আবেদন করার বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। কেউ ভাবেন, এত বছর পর ভাই-বোনের বয়স, পরিবার বা পরিস্থিতি বদলে যাবে। আবার কেউ মনে করেন, এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলে এখন আবেদন করে লাভ কী। ফলে কেউ আবেদন করেন না, আবার অনেকে আবেদন করে বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন। তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি। ভাই-বোনের জন্য আবেদন করা এবং দ্রুত আমেরিকায় নিয়ে আসা এক বিষয় নয়। একজন যোগ্য মার্কিন নাগরিক আবেদন করে প্রায়োরিটি ডেট তৈরি করতে পারেন, কিন্তু ভিসা নম্বর পাওয়ার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। তাই আমেরিকায় থাকা ভাই বা বোন আপনাকে দ্রুত নিয়ে আসতে পারছেন না মানেই তিনি চেষ্টা করছেন না, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে মূল বাধা হলো দীর্ঘ ভিসা ব্যাকলগ ও সীমিত ভিসা সংখ্যা। পরিবারের কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার পরিকল্পনা থাকলে তাই আগে বুঝতে হবে সম্পর্কটি কোন ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে পড়ছে, সেই ক্যাটাগরিতে ভিসার সংখ্যা কীভাবে নির্ধারিত হয় এবং বর্তমান ভিসা বুলেটিনে তার অবস্থান কোথায়। কারণ স্বামী বা স্ত্রী, বাবা-মা, নাবালক অবিবাহিত সন্তান, ভাই-বোন এবং প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান সবার জন্য একই নিয়ম বা একই অপেক্ষার সময় প্রযোজ্য নয়।
পুলিশ, শেরিফ নাকি সেনাবাহিনী, যুক্তরাষ্ট্রে কোন চাকরিতে বেতন ও সুবিধা বেশি?
রাস্তায় গাড়ির বদলে সোফা চালাচ্ছিলেন দুই ব্যক্তি, থামাল পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য নতুন সুযোগ, অক্টোবরেই কার্যকর হচ্ছে যেসব নিয়ম
সান ফ্রান্সিসকোতে বাড়িভাড়ার চাপ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাড়া বাজার নিয়ে জাম্পারের সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শহরটিতে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া মাসে ৪ হাজার ৪০০ ডলারে উঠেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৪০ ডলারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। জাম্পারের তথ্য অনুযায়ী, দুই বেডরুমের ভাড়ার ক্ষেত্রে সান ফ্রান্সিসকো নিউইয়র্ক সিটিকেও ছাড়িয়ে গেছে। নিউইয়র্কে একই ধরনের বাসার মধ্যম ভাড়া ৫ হাজার ৪৫০ ডলার। অর্থাৎ দুই বেডরুমের বাসার ক্ষেত্রে সান ফ্রান্সিসকোতে মধ্যম ভাড়া নিউইয়র্কের তুলনায় মাসে ৮৯০ ডলার বেশি। এক বেডরুমের ক্ষেত্রে অবশ্য নিউইয়র্ক এখনো এগিয়ে। নিউইয়র্কে এর মধ্যম ভাড়া ৪ হাজার ৫৮০ ডলার, সান ফ্রান্সিসকোতে ৪ হাজার ৪০০ ডলার। সান ফ্রান্সিসকোর এক বেডরুমের ভাড়া শুধু নিউইয়র্কের কাছাকাছি পৌঁছেছে তা নয়, গত এক বছরে এর বৃদ্ধির হারও উল্লেখযোগ্য। জাম্পারের হিসাব বলছে, সেপ্টেম্বর মাসে এক বেডরুমের ভাড়া মাসিক হিসাবে ২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং বার্ষিক হিসাবে ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। দুই বেডরুমের ক্ষেত্রে মাসিক বৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধি ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ। জুলাই মাসেই দুই বেডরুমের মধ্যম ভাড়া প্রথমবারের মতো ৬ হাজার ডলার ছাড়িয়েছিল। ভাড়ার এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে জাম্পার জানিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে কর্মসংস্থানের দ্রুত বৃদ্ধি। সান ফ্রান্সিসকো ও আশপাশের এলাকায় এ খাতের নতুন কর্মসংস্থান বাড়ায় আবাসনের চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় নতুন আবাসন সরবরাহ সীমিত থাকায় ভাড়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। জাম্পারের প্রধান নির্বাহী শন মুলাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এখন একক কোনো ভাড়া বাজার নেই, বিভিন্ন শহরে আবাসন সরবরাহ ও চাহিদার পার্থক্যের কারণে পরিস্থিতি আলাদা হয়ে উঠেছে। সান ফ্রান্সিসকোর এই পরিস্থিতি পুরো বে এরিয়া অঞ্চলের সঙ্গে তুলনা করলেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জাম্পারের সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, পাশের সান হোসেতে এক বেডরুমের মধ্যম ভাড়া ২ হাজার ৮৯০ ডলার। অন্যদিকে ওকল্যান্ডে একই ধরনের বাসার মধ্যম ভাড়া ২ হাজার ১০০ ডলার। অর্থাৎ সান ফ্রান্সিসকোর ৪ হাজার ৪০০ ডলারের তুলনায় এই দুই শহরে ভাড়া অনেক কম। জাতীয় চিত্র আরও বড় পার্থক্য দেখাচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া ছিল ১ হাজার ৫১৮ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেশি। দুই বেডরুমের মধ্যম ভাড়া ছিল ১ হাজার ৯০৩ ডলার, যা বার্ষিক হিসাবে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ জাতীয় বাজারে ভাড়ার পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকলেও সান ফ্রান্সিসকোতে বৃদ্ধি অনেক বেশি। জাম্পারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে সান ফ্রান্সিসকো যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোর মধ্যে এক বেডরুমের ভাড়া বৃদ্ধির দিক থেকেও শীর্ষে ছিল। এক বছরে ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধির পর শহরটির পরেই ছিল ভার্জিনিয়া বিচ, যেখানে এক বেডরুমের ভাড়া বেড়েছে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে অতিরিক্ত আবাসন সরবরাহের কারণে টেক্সাসের কয়েকটি শহরে ভাড়া কমেছে। ভাড়ার চাপ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়েও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোর মেয়র ড্যানিয়েল লুরি চলতি মাসে শহরের আবাসন পরিস্থিতিকে ‘ভাড়া জরুরি অবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ভাড়ার দ্রুত বৃদ্ধি এবং উচ্ছেদের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় ভাড়া বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ নির্ধারণ এবং ভাড়াটিয়াদের আইনি সহায়তার জন্য প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তহবিলের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। জাম্পারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ সান ফ্রান্সিসকোতে তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৬৫০টি ভাড়ার বাসা তালিকাভুক্ত ছিল। শহরটির সামগ্রিক মধ্যম ভাড়া ছিল প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ডলার, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় ১৩৭ শতাংশ বেশি। তবে জাম্পারের হিসাব মূলত অনলাইনে প্রকাশিত ভাড়ার তালিকার মধ্যম মূল্যভিত্তিক। অর্থাৎ এটি শহরের প্রতিটি বাসার প্রকৃত চুক্তিভিত্তিক ভাড়া বা সব ভাড়াটিয়ার পরিশোধ করা অর্থের সরাসরি পরিমাপ নয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের জাতীয় ভাড়া সূচক যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার দিক থেকে ১০০টি বড় শহরের এক ও দুই বেডরুমের সক্রিয় ভাড়ার তালিকা বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়। সূত্র: রয়টার্স
দমবন্ধ হয়ে আসা ১১ মাসের শিশুকে বাঁচালেন নিউইয়র্কের দুই পুলিশ কর্মকর্তা, মায়ের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে সহায়তা দেওয়া মা-বাবার ৬৪ শতাংশ আর্থিক চাপে
নিউইয়র্ক পুলিশে ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইসলাম
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি স্কুল ভবনের চারতলা থেকে পড়ে ১৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে ছেলেটি বুলিংয়ের শিকার হচ্ছিল। তবে বুলিংয়ের অভিযোগ ও ভবন থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক তদন্তে এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ। নিহত শিক্ষার্থীর নাম জেভিয়ার আমায়া। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টার দিকে হাইল্যান্ড পার্ক এলাকার বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন হাই স্কুলে ঘটনাটি ঘটে। চারতলা থেকে পড়ে যাওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়; সেখানেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার পর প্রায় তিন ঘণ্টা স্কুলে চলাচল সীমিত রাখা হয়েছিল। জেভিয়ারের সঙ্গে একই ক্লাসে থাকা এক শিক্ষার্থী এবিসি৭-কে বলেছেন, পড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে আরেক শিক্ষার্থী তাঁকে কয়েকবার আঘাত করেছিল। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য রয়েছে। ভিডিওতে দেখা ঘটনাগুলোর পূর্ণ পরিস্থিতি এবং জেভিয়ারের পড়ে যাওয়ার কারণ তদন্ত করছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা জেভিয়ারের সঙ্গে মৃত্যুর আগের দিনগুলোতে কেমন আচরণ করা হয়েছিল, তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তাঁরা বলেছেন, জেভিয়ার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছিলেন। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত জোর করে তাঁকে ফেলে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ হয়নি। বৃহস্পতিবার স্কুলে ক্লাস শুরু হলেও প্রবেশপথে জেভিয়ারের স্মরণে ফুল ও মোমবাতি রাখা হয়। সন্ধ্যায় আয়োজিত স্মরণসভায় শত শত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য শোক সামলাতে সহায়তা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ফ্লোরিডায় ১৭ বছর বয়সী যমজ সন্তানদের ছুরিকাঘাত, পরে নিজেও আ ত্মহ ত্যা বাবার
মেক্সিকো সীমান্তে সম্ভাব্য হুমকি সামলাতে আরও কয়েক শ মার্কিন সেনা প্রেরণ যুক্তরাষ্ট্রের