সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মুসলিম হওয়ার কারণে, বৈধ ভিসা থাকার পরও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হলো ব্রিটিশ-মুসলিম শিক্ষার্থীকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৬:৪২
২০ বছর বয়সী আইনের ছাত্র লাইথ আলানিকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্যাটউইক ফেরত পাঠানোর একটি ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়। ছবি: সারাহ লি/দ্য গার্ডিয়ান
২০ বছর বয়সী আইনের ছাত্র লাইথ আলানিকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্যাটউইক ফেরত পাঠানোর একটি ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়। ছবি: সারাহ লি/দ্য গার্ডিয়ান

বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ২৩ ঘণ্টা আটকে রাখার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক ব্রিটিশ-মুসলিম শিক্ষার্থীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। লাইথ আলানি নামের ২০ বছর বয়সী ওই তরুণের অভিযোগ, কেবল মুসলিম হওয়ার কারণেই অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

 

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডের বাসিন্দা এই আইন বিভাগের শিক্ষার্থী থিম পার্ক পরিদর্শন ও ক্যালিফোর্নিয়ায় আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে এক সপ্তাহের জন্য আড়াই হাজার পাউন্ড খরচ করে ফ্লোরিডায় গিয়েছিলেন।

 

কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) তাকে ৯ ঘণ্টা ধরে একটানা জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং আরও ১৪ ঘণ্টা একটি হোল্ডিং সেলে আটকে রাখে। শেষ পর্যন্ত তার ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তল্লাশি করে তাকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়।

 

আলানির অভিযোগ, বিমানবন্দরে তাকে রীতিমতো অপহরণের মতো মানসিক নিপীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ, হার্টের সমস্যা এবং অটিজমে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও কর্মকর্তারা তাকে হাতকড়া পরানোর হুমকি দিয়ে একটানা জেরা করে গেছেন। জেরার সময় তার আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, ব্যক্তিগত শখ এবং ভ্রমণের ইতিহাস নিয়ে নানা অবান্তর প্রশ্ন করা হয়।

 

এর আগে ইরাকে ভ্রমণের কারণে তার দ্রুতগতির ইএসটিএ (ESTA) ভিসা বাতিল হলেও তাকে ১০ বছর মেয়াদি মাল্টি-এন্ট্রি পর্যটক ভিসা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর সময় জোরপূর্বক এমন একটি নথিতে সই নেওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল তিনি স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।

 

অন্যদিকে, মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) দাবি করেছে যে, আলানির ভ্রমণ ইতিহাসের মধ্যে বেশ কিছু অসংগতি পাওয়ায় তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। জাতিগত বা ধর্মীয় কারণে হয়রানির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে সংস্থাটি জানিয়েছে, পরবর্তী ফ্লাইট পেতে দেরি হওয়ার কারণেই তাকে এত দীর্ঘ সময় হেফাজতে রাখা হয়েছিল।

 

তবে মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন জানিয়েছে, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে মুসলিম পর্যটকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা, ডিভাইস বাজেয়াপ্ত ও হয়রানি করার ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর ইতিমধ্যে ভুক্তভোগীকে কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করেছে এবং এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এমপি অ্যানেলিজ ডডস ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
পেনসিলভানিয়ার পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কোকেন চক্র, ১৩ শিক্ষার্থীসহ এক অভিভাবক অভিযুক্ত I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
পেনসিলভানিয়ার পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কোকেন চক্র, ১৩ শিক্ষার্থীসহ এক অভিভাবক অভিযুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশাল কোকেন পাচার চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩ জনই ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং একজন অভিযুক্ত এক শিক্ষার্থীর বাবা।   পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত নথিতে এই ১৪ জনের বিরুদ্ধে কোকেন সরবরাহ, বিতরণ থেকে শুরু করে তা ওজন করা, প্যাকেটজাত করা এবং গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সাথে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।   তদন্তে জানা গেছে, এই মাদক চক্রটি মূলত ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডেল্টা আপসিলন’ এবং ‘সিগমা চি’ নামের দুটি ফ্র্যাটার্নিটি (শিক্ষার্থী সংগঠন) হাউস থেকে পরিচালিত হতো। অগস্টিনো আবাতিয়েল্লো এবং থমাস রবিনসন নামের দুই জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে কাজ করতেন।   তারা নিউইয়র্ক ও ফিলাডেলফিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ কোকেন সংগ্রহ করে ফ্র্যাটার্নিটি হাউসগুলোতে আনতেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই চক্রের নতুন সদস্যদের ফ্র্যাটার্নিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার (হাজিং বা র‍্যাগিং) শর্ত হিসেবে জোরপূর্বক কোকেন কাটা ও প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যবহার করা হতো।   অভিযুক্তদের মধ্যে আবাতিয়েল্লো, থমাস রবিনসন, মোহাম্মদ হুরাবি ও লার্স জিপভ্যাট নামের চারজনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর (ফেলোনি) অভিযোগ আনা হয়েছে। রবার্ট জানোল্লা নামের আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও অপরাধমূলক যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে।   বাকি আট শিক্ষার্থী—লিয়াম স্মিথ, মাইকেল ব্রোগনো, ক্যাডেন হাওয়ে, কনর হারলে, সেথ বিয়ার্ডসলি, কাইল রিডপাথ, ড্যানিয়েল প্রাইস এবং চার্লস ওয়াইজম্যানের বিরুদ্ধে মাদক রাখা ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম বহনের মতো তুলনামূলক লঘু (মিসডিমিনর) অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া থমাস রবিনসনের বাবা পল রবিনসনের (যিনি পেশায় একজন আইনজীবী) বিরুদ্ধে মাদক ও নগদ অর্থভর্তি একটি সিন্দুক লুকিয়ে রাখা এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযুক্ত ১৪ জনকেই নির্দোষ বলে ধরে নেওয়া হবে। পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের ফ্র্যাটার্নিটিগুলোকে নিষিদ্ধ করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৭:১৬
২০ বছর বয়সী আইনের ছাত্র লাইথ আলানিকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্যাটউইক ফেরত পাঠানোর একটি ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়। ছবি: সারাহ লি/দ্য গার্ডিয়ান

মুসলিম হওয়ার কারণে, বৈধ ভিসা থাকার পরও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হলো ব্রিটিশ-মুসলিম শিক্ষার্থীকে

নিউইয়র্কে সুইমিংপুলে গাড়ি পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু, ৯১১-এ ফোন করেও শেষ রক্ষা হলো না I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কে সুইমিংপুলে গাড়ি পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু, ৯১১-এ ফোন করেও শেষ রক্ষা হলো না

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় বাংলাদেশিদের সুখবর, এগোল আড়াই বছর I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় বাংলাদেশিদের সুখবর, এগোল আড়াই বছর

গুলিতে নিহত গুরদীপ সিং I ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে গুলিতে নি হত গুরদীপ, যুক্তরাষ্ট্রে আসার ঋণ শোধের আগেই থেমে গেল জীবন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গাড়ির ধাক্কাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিবাদে গুরদীপ সিং (২৭) নামের এক ভারতীয় ডেলিভারি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে ব্রুকলিনের ইস্ট নিউইয়র্ক এলাকার ক্রিসেন্ট স্ট্রিট ও স্ট্যানলি অ্যাভিনিউ মোড়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।   পুলিশ জানিয়েছে, গুরদীপের বুক ও শরীরের ওপরের অংশে অন্তত সাতবার গুলি করা হয়। ঘটনাস্থলে তার স্কুটারের পাশ থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের আগে রাস্তায় অপর এক ব্যক্তির সঙ্গে গুরদীপের সংঘর্ষ ও হাতাহাতি হয়েছিল। আশপাশের একটি নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দুজনের মারামারির দৃশ্য ধরা পড়েছে, যার পরপরই গুলির ঝলকানি দেখা যায় এবং একজনকে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখা যায়।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ঘাতক একটি কালো রঙের লেক্সাস গাড়িতে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণাদি সংগ্রহ করে ঘাতককে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।   নিহত গুরদীপ প্রায় এক দশক আগে ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তিনি কুইন্সের রিচমন্ড হিলে এক আত্মীয়ের বাসায় থেকে খাবার, বিশেষত পিজ্জা ডেলিভারির কাজ করে পরিবারের আর্থিক হাল ধরেছিলেন।   তার বাবা পিয়ারা লাল আক্ষেপ করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ছেলেকে উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে পরিবারকে বিশাল অঙ্কের ঋণ নিতে হয়েছিল, যা এত বছর পরও পুরোপুরি শোধ করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেশী ও পরিচিতদের কাছে গুরদীপ অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। বর্তমানে তার শোকাহত পরিবার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নিতে ভারত সরকারের জরুরি সহায়তা কামনা করেছে।  

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৫:১৫
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এতটাই বেড়েছে, চার সদস্যের পরিবার নিয়ে বাঁচতে বছরে দরকার ২ লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এতটাই বেড়েছে, চার সদস্যের পরিবার নিয়ে বাঁচতে বছরে দরকার ২ লাখ ডলার

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর নতুন ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য ভিসা বুলেটিন প্রকাশ

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক রাজু (বামে) এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত অপরজন। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ফ্রাই চিকেনের দোকানে বন্দুক হামলা, বাংলাদেশি যুবক নিহত

ফেরতযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিট সুবিধা ঠেকাতে নতুন বিধিমালার প্রস্তাব নিয়ে কথা বলছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
আইআরএসের নতুন প্রস্তাব, যুক্তরাষ্ট্রে অনিয়মিত অভিবাসীরা পাবেন না ফেরতযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিট

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন অনিয়মিত অভিবাসী ও অন্যান্য অযোগ্য ব্যক্তিদের ফেরতযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিটের সুবিধা পাওয়া ঠেকাতে নতুন বিধিমালার প্রস্তাব করেছে। ১৯ আগস্ট মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা এই প্রস্তাব প্রকাশ করে। প্রস্তাবটি শিশু ট্যাক্স ক্রেডিট, দত্তক গ্রহণ ট্যাক্স ক্রেডিট, অর্জিত আয় ট্যাক্স ক্রেডিট এবং আমেরিকান সুযোগ ট্যাক্স ক্রেডিটের ফেরতযোগ্য অংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।   প্রস্তাবিত বিধিমালায় এসব ট্যাক্স ক্রেডিটের ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্যতা স্পষ্ট করার কথা বলা হয়েছে। কোনো করদাতার পাওনা ফেডারেল ট্যাক্সের চেয়ে ট্যাক্স ক্রেডিটের পরিমাণ বেশি হলে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার যে সুযোগ থাকে, সেটিই ফেরতযোগ্য অংশ। অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা বলেছে, এই ফেরতযোগ্য অংশকে ফেডারেল জনসুবিধা হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।   প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত নিয়মের মাধ্যমে ফেডারেল আইনে যেসব অনিয়মিত অভিবাসী ও অন্যান্য অযোগ্য বিদেশি এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, তাদের ফেরতযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিট থেকে বিরত রাখা হবে। ১৯৯৬ সালের ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও কর্মসংস্থান সুযোগ পুনর্মিলন আইনের প্রয়োগ জোরদার করার অংশ হিসেবে এই প্রস্তাব আনা হয়েছে।   প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় এবং যোগ্য বিদেশি নাগরিকরা ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্য হবেন। যোগ্য বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা, শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী এবং আইনে নির্ধারিত অন্যান্য গোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা জানিয়েছে, প্রস্তাবটি নির্দিষ্ট চারটি ব্যক্তিগত আয়কর ক্রেডিটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।   তবে যেসব করদাতা ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্য নন, তারা নিজেদের ফেডারেল আয়কর দায় কমাতে ট্যাক্স ক্রেডিট ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ প্রস্তাবিত নিয়মে নির্দিষ্ট ট্যাক্স ক্রেডিটের পুরো সুবিধা বাতিল করার কথা বলা হয়নি; বরং যোগ্য নন এমন ব্যক্তিদের জন্য ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার সুযোগ সীমিত করার কথা বলা হয়েছে।   অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে প্রায় ২ লাখ থেকে ৭ লাখ করদাতা ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হতে পারেন। এর মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও থাকতে পারেন, যারা ফেরত পাওয়া অর্থ করবহির্ভূত দায় পরিশোধে ব্যবহার করতে পারতেন অথবা ফেডারেল করের দায়ের বিপরীতে তা সমন্বয় করতে পারতেন।   সরকারি হিসাবে, প্রস্তাবিত নিয়মের ফলে ৭০ কোটি থেকে ২৬০ কোটি ডলার পর্যন্ত অযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিট বন্ধ হতে পারে। তবে এই নিয়মের মাধ্যমে করদাতাদের অর্থ ঠিক কতটা সাশ্রয় হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট হিসাব দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবার কাছে নেই।   প্রস্তাবিত বিধিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে। প্রশাসন জানিয়েছে, এ বিষয়ে ১৪ অক্টোবর জনশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্রস্তাবিত নিয়ম চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর শেষ হওয়া করবর্ষগুলোর ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ফেডারেল অর্থায়নে দেওয়া সুবিধা যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং করব্যবস্থার আইনগত যোগ্যতার নিয়ম কার্যকর করা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফেডারেল অর্থায়নে অনিয়মিত অভিবাসীদের দেওয়া আর্থিক সুবিধা শনাক্ত ও বন্ধ করার লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন।   সূত্র: এনটিডি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৩:৫
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় হিন্দু ও দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের দীপাবলি উদযাপনে এসেছে নতুন স্বীকৃতি। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য সুখবর, ৮ নভেম্বর দীপাবলি দিবস ও সরকারি ছুটি

যুক্তরাষ্ট্রে অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের পরিবার চিকিৎসা ও শিক্ষাসহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

অটিজম শিশুদের পরিবার নগদ সহায়তাসহ যুক্তরাষ্ট্রে যেসব সরকারি সুবিধা পেতে পারে

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ার পর নতুন দায়িত্বে ফিরছেন কারোলিন লেভিট। ছবি: সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছেড়ে নতুন চাকরিতে কারোলিন লেভিট

0 Comments