সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ফ্লোরিডায় নজিরবিহীন অভিযানে উদ্ধার ১৬৩ নিখোঁজ শিশু, গ্রেপ্তার ৩ সন্দেহভাজন

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৭:৫৯
ফ্লোরিডায় নজিরবিহীন অভিযানে উদ্ধার ১৬৩ নিখোঁজ শিশু, গ্রেপ্তার ৩ সন্দেহভাজন I ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় নজিরবিহীন অভিযানে উদ্ধার ১৬৩ নিখোঁজ শিশু, গ্রেপ্তার ৩ সন্দেহভাজন I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় 'অপারেশন স্টেটওয়াইড শিল্ড'-এর মাধ্যমে এক ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই অভিযানের মাধ্যমে ২ মাস থেকে শুরু করে ১৭ বছর বয়সী মোট ১৬৩ জন নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।

 

ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এটি ফ্লোরিডার ইতিহাসে এ ধরনের সবচেয়ে বড় এবং রাজ্যব্যাপী পরিচালিত প্রথম শিশু উদ্ধার অভিযান। উদ্ধারকৃত শিশুদের ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্রের আরও ছয়টি অঙ্গরাজ্য, পুয়ের্তো রিকো এবং বিশ্বের ১২টি ভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

 

এই যৌথ আইনি অভিযানে এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও অনেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

এই বিশাল অভিযানটি পরিচালনা করেছে একটি বহুমুখী টাস্কফোর্স, যারা ফ্লোরিডার টাম্পা, মায়ামি, জ্যাকসনভিল, অরল্যান্ডো, ফোর্ট মায়ার্স, পেনসাকোলা এবং টালাহাসি শহরে পৃথকভাবে উপ-অভিযান চালায়। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল এনফোর্সমেন্টের নেতৃত্বে এবং মানবপাচার বিষয়ক বিশেষ কৌঁসুলি রিটা পিটার্সের সার্বিক সহযোগিতায় টানা পাঁচ দিন ধরে এই তদন্ত কার্যক্রম চলে।

 

অভিযানের পরিধি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সীমানায় আটকে থাকেনি, বরং ব্রাজিল, কানাডা, কলম্বিয়া, স্পেন, ফিনল্যান্ড, মেক্সিকো, তাইওয়ানসহ ১২টি দেশে বিস্তৃত ছিল। উদ্ধার হওয়া শিশুদের দ্রুত বিশেষায়িত সেবাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা, সামাজিক সুরক্ষা এবং মানসিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

 

শিশু পাচার ও শোষণের মতো অবৈধ চক্রের মূল হোতাদের ধরতে এখনো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এই চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে জ্যাকসনভিল থেকে মাইকেল প্রেসকট, লি কাউন্টি থেকে রবার্ট ফেরাল অ্যালিসন এবং জেডেন অ্যালেন হারউড নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

তাদের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর অশালীন আচরণ, শারীরিক হামলা ও শিশুর আইনগত অভিভাবকত্বে বেআইনি হস্তক্ষেপসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল উথমিয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, শিশু নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউটররা সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাবেন, যার মধ্যে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ভার্জিনিয়ায় মেজবানে খাবার নিয়ে বিশৃঙ্খলা, দুঃখপ্রকাশ করে ভুল স্বীকার আয়োজকদের I ছবি: আমেরিকা বাংলা
ভার্জিনিয়ায় মেজবানে খাবার নিয়ে বিশৃঙ্খলা, দুঃখপ্রকাশ করে ভুল স্বীকার আয়োজকদের

গত ২৩ আগস্ট ভার্জিনিয়ায় বাইটপোর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মেজবানকে ঘিরে ব্যাপক মানুষের সমাগম হলেও খাবার বিতরণ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা অনেকেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও খাবার না পাওয়ার অভিযোগ করেন।   অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি একপর্যায়ে কিছুটা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে বলে অংশগ্রহণকারীদের অনেকে জানিয়েছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা আলোচনা ও সমালোচনা দেখা যায়।   আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনার কিছু ভুল-ত্রুটি স্বীকার করা হয়েছে এবং আগামী আয়োজন আরও সুশৃঙ্খলভাবে করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।   আমেরিকা বাংলার হাতে আসা আয়োজকদের সেই লিখিত বক্তব্যটি হুবহু তুলে ধরা হলো— ডিএমভিতে স্মরণকালের সফল আয়োজন—বাইটপোর মেজবান: কৃতজ্ঞতা, ভুল-ত্রুটির স্বীকারোক্তি ও আগামী দিনের পরিকল্পনা   গত ২৩ আগস্ট বাইটপোর উদ্যোগে ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত মেজবান আমাদের জন্য ছিল অত্যন্ত আনন্দের, আবেগের এবং স্মরণীয় একটি আয়োজন। বিপুলসংখ্যক দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে ডিএমভি এলাকার অন্যতম বৃহৎ ও সফল কমিউনিটি আয়োজনে পরিণত করেছে।   শুধু ডিএমভি নয়—পেনসিলভানিয়া, নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক, টেক্সাসসহ বিভিন্ন স্টেট থেকে অনেকেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আমাদের মেজবানে অংশ নিয়েছেন। আপনাদের প্রত্যেকের প্রতি জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা।   শুরু থেকেই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল কেবল একটি খাওয়া-দাওয়ার অনুষ্ঠান আয়োজন করা নয়। আমরা চেয়েছিলাম আমাদের ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং প্রবাসে বেড়ে ওঠা সন্তানদের শেকড়ের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করতে।   একদিকে অতিথিরা উপভোগ করেছেন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ও অথেনটিক মেজবানি খাবারের স্বাদ, অন্যদিকে ডিএমভিতে প্রথমবারের মতো উপভোগ করেছেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খানের গান। পাশাপাশি বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় শিল্পী প্রতীক হাসানের পরিবেশনা এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নাচ, গান ও ফ্যাশন শো অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছিল।   হাজারো দর্শক-শ্রোতা শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানস্থলে থেকে পুরো আয়োজন উপভোগ করেছেন। একটি সুশৃঙ্খল, মানসম্মত ও সময়ানুবর্তী অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার চেষ্টা আমাদের ছিল, আর আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই সেই প্রচেষ্টাকে সার্থক করেছে।   শুধু উপস্থিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানালেই আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ সম্পূর্ণ হবে না। গত প্রায় তিন মাস ধরে যাঁরা নিজেদের মূল্যবান সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করেছেন—আমাদের কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, ডোনার, স্পন্সর, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং নানাভাবে সহযোগিতা করা প্রত্যেক মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এত বড় একটি আয়োজন কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।   এত বড় একটি আয়োজনের অনেক সফলতার পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতা ও ভুল-ত্রুটিও ছিল। আমরা সেগুলো এড়িয়ে যেতে চাই না। আমাদের মেজবানি অনুষ্ঠান নিয়ে কমিউনিটিতে যে আলোচনা, সমালোচনা ও কিছু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কিছু বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছি।   প্রথমেই আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ক্ষমাপ্রার্থী তাঁদের কাছে, যাঁরা অনুষ্ঠানে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও খাবার পাননি অথবা অন্য কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। আপনাদের কষ্ট আমাদেরও কষ্ট দিয়েছে।   আমাদের প্রস্তুতি মূলত রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যাকে ভিত্তি করেই করা হয়েছিল। রেজিস্ট্রেশনের তুলনায় অনেক বেশি মানুষের জন্য—রেজিস্ট্রেশন থেকে তিনগুণ বেশি মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা আমরা করেছিলাম। কিন্তু অনুষ্ঠানের দিন আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি মানুষের উপস্থিতি ঘটে।   পার্কটি চারদিক থেকে উন্মুক্ত হওয়ায় রেজিস্ট্রেশন ছাড়া অনেক মানুষও অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। ফলে প্রবেশকারীর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।   মেজবানির প্রতি কমিউনিটির ভালোবাসা এবং আমাদের আগের আয়োজনগুলোর প্রতি মানুষের আস্থার কারণে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত হবেন—এটি আমরা সঠিকভাবে অনুমান করতে পারিনি। এখানেই আমাদের পরিকল্পনার একটি বড় ঘাটতি ছিল, এবং আমরা সেটি স্বীকার করছি।   আগের ঘোষণা ও ভিডিওগুলোতেও আমরা বারবার জানিয়েছিলাম যে, যেহেতু কিংবদন্তি শিল্পী নকীব খানের কনসার্টসহ সাংস্কৃতিক আয়োজন ছিল, তাই দুপুর ১টা থেকে ৩টার মধ্যেই খাবার পরিবেশনের মূল পর্ব শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। এরপর পুরো টিমকে কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনায় ব্যস্ত থাকতে হয়েছে।   কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি মানুষের উপস্থিতির কারণে খাবারের জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। অতিরিক্ত চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাবার ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা আমরা যত দ্রুত করা প্রয়োজন ছিল, তত দ্রুত করতে পারিনি।   যেহেতু অনুষ্ঠানটি একটি পার্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, তাই শেষ মুহূর্তে নতুন করে বিপুল পরিমাণ খাবার রান্না ও সরবরাহের ব্যবস্থা করাও বাস্তবসম্মতভাবে সম্ভব হয়নি। এসব কারণে যাঁরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন কিংবা শেষ পর্যন্ত খাবার পাননি—তাঁদের কাছে আমরা আবারও আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।   অনুষ্ঠানে সংগৃহীত অর্থ নিয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই—এই আয়োজন কোনো ব্যবসায়িক বা লাভজনক উদ্দেশ্যে করা হয়নি। অনুষ্ঠানের ব্যয় নির্বাহে কমিউনিটির সদস্যরা স্বেচ্ছায় যে সহযোগিতা করেছেন, সেটিই ছিল সংগৃহীত অর্থের মূল উৎস।   কাউকে বাধ্যতামূলকভাবে অর্থ প্রদানের কথা বলা হয়নি। শিল্পী, খাবার, প্যান্ডেল, সাউন্ড, স্টেজ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনাসহ এত বড় আয়োজন সম্পন্ন করতে যে পরিমাণ ব্যয় হয়েছে, তার তুলনায় সংগৃহীত অর্থ কোনোভাবেই ব্যবসায়িক লাভের পর্যায়ে ছিল না। প্রয়োজনে আয়-ব্যয়ের হিসাব কমিউনিটির সামনে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করতেও আমরা প্রস্তুত।   একটি অনুষ্ঠান সফল হয়েছে বলেই তার ভুলগুলো অস্বীকার করতে হবে—আমরা এমনটি বিশ্বাস করি না। বরং আমরা স্বীকার করছি, আমাদের পরিকল্পিত উপস্থিতি এবং বাস্তব উপস্থিতির মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছিল।   সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাবার বিতরণ, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং সারিবদ্ধ ব্যবস্থাপনায় আরও ভালো প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন ছিল। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিক্ষা নিচ্ছি।   ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই আগামী বছরের বাইটপোর মেজবানের তারিখ ঘোষণা করা হবে। আগামী আয়োজনে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া আরও কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ, প্রবেশব্যবস্থা, সারিবদ্ধতা, ভলান্টিয়ার টিম এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আরও বড় পরিসরে ও আরও সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি নেওয়া হবে।   বিশেষ করে, এ বছর যাঁরা রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত খাবার পাননি, তাঁদের জন্য আগামী মেজবানে একটি বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা আমরা শিগগিরই জানাব।   আমাদের লক্ষ্য খুব পরিষ্কার—এ বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামী বছরের আয়োজনকে আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণবান্ধব করা।   একটি বড় কমিউনিটি আয়োজনের ভুল-ত্রুটি নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক। আমরা সেই সমালোচনাকে সম্মান করি এবং তা থেকে শেখার চেষ্টা করি। তবে কিছু ফেইক আইডি থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার চালানোর বিষয়টিও আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা হয়েছে।   কমিউনিটির সবার প্রতি অনুরোধ—যাচাই না করে কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার করবেন না। গঠনমূলক পরামর্শ দিন, ভুল ধরিয়ে দিন এবং আমাদের জবাবদিহির মধ্যে রাখুন। একই সঙ্গে কমিউনিটির ইতিবাচক উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করুন, যাতে ভবিষ্যতে আমরা আরও বড় ও সুন্দর আয়োজন আপনাদের উপহার দিতে পারি।   আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন শুধু হাজারো মানুষের উপস্থিতি নয়। সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—একটি মেজবানকে কেন্দ্র করে দূর-দূরান্তের মানুষ একত্রিত হয়েছেন, পুরোনো ও নতুন প্রজন্ম পাশাপাশি বসেছেন, আমাদের খাবার, গান, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে উদ্‌যাপন করেছেন। এটাই ছিল আমাদের স্বপ্ন।   যেখানে ভুল হয়েছে, আমরা তা স্বীকার করছি। যেখানে ঘাটতি ছিল, আমরা তা সংশোধন করব। আর যেখানে আপনাদের ভালোবাসা পেয়েছি, সেটিকে সঙ্গে নিয়েই আরও ভালো কিছু করার পথে এগিয়ে যাব। বাইটপোর চট্টগ্রামের মেজবান আপনাদের অনুষ্ঠান—আপনাদের ভালোবাসা, অংশগ্রহণ ও সহযোগিতাই এর সবচেয়ে বড় শক্তি।   আবারও আমাদের সকল অতিথি, শিল্পী, কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, ডোনার, স্পন্সর, সহযোগী ও শুভাকাঙ্ক্ষী এবং পুরো কমিউনিটির প্রতি জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা।   ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে, সাফল্যকে সঙ্গে নিয়ে—ইনশাআল্লাহ আগামী বছর আবার দেখা হবে আরও বড়, আরও সুন্দর এবং আরও সুশৃঙ্খল বাইটপোর মেজবানে।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৯:১২
মিনিয়াপলিসে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চার্চে গোপন অভিযান, অভিযুক্ত মার্কিন প্রশাসন

মিনিয়াপলিসে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চার্চে গোপন অভিযান, অভিযুক্ত মার্কিন প্রশাসন

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে কর্মরত অবস্থায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি কর্মী মোহাম্মদ ইউসুফ

নিউইয়র্কে রেস্টুরেন্টে গুলিতে বাংলাদেশি কর্মী নি হত রাজুর মরদেহ দেশে নিতে সহায়তার আহ্বান

ফ্লোরিডায় নজিরবিহীন অভিযানে উদ্ধার ১৬৩ নিখোঁজ শিশু, গ্রেপ্তার ৩ সন্দেহভাজন I ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় নজিরবিহীন অভিযানে উদ্ধার ১৬৩ নিখোঁজ শিশু, গ্রেপ্তার ৩ সন্দেহভাজন

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের বেশি ফি বসানোর প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের বেশি ফি বসানোর প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসার ক্ষেত্রে একটি বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন এইচ-ওয়ানবি ভিসার ফি হিসেবে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে একটি প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশ করা হয়েছে।   গত সোমবার মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের (ডিএইচএস) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এই প্রস্তাবনাটি বছরের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত হতে পারে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন সাময়িকভাবে এই বিশাল অঙ্কের ফি আরোপ করলেও মার্কিন আদালত তা আটকে দিয়েছিল। কিন্তু নতুন এই প্রস্তাবনার মাধ্যমে সেই অভূতপূর্ব ফি-কে স্থায়ী রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলো।   মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং গবেষণা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি মেধাবী কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে এইচ-ওয়ানবি ভিসার ওপর নির্ভরশীল। ট্রাম্প প্রশাসনের এই আদেশের আগে এইচ-ওয়ানবি ভিসার ফি সাধারণত ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।   গত বছর সাময়িকভাবে ১ লাখ ডলারের বেশি ফি আরোপ করা হলে জুন মাসে একজন ফেডারেল বিচারক সেটিকে বেআইনি ঘোষণা করে ফি আদায়ে নিষেধাজ্ঞা দেন। বর্তমানে বোস্টনভিত্তিক একটি আপিল আদালতে ওই রায়ের পর্যালোচনা চলছে।   এদিকে আগামী সেপ্টেম্বরেই প্রথম সাময়িক আদেশের মেয়াদ শেষ হতে যাওয়ায় ডিএইচএস এই নতুন স্থায়ী বিধিমালা প্রস্তাব করেছে। আগের আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর এই ফি প্রযোজ্য না হলেও নতুন প্রস্তাবে তাদেরও এর আওতায় আনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   এইচ-ওয়ানবি ভিসা কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ এই কর্মসূচির সমালোচকদের অভিযোগ, অনেক মার্কিন কোম্পানি সস্তায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিয়ে আমেরিকানদের কর্মসংস্থান কেড়ে নিচ্ছে।   অন্যদিকে, ইউএস চেম্বার অব কমার্সসহ ব্যবসায়িক লবিং গ্রুপগুলোর দাবি, কিছু সুনির্দিষ্ট পদে যোগ্য মার্কিন কর্মীর অভাবেই তাদের বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতে হয় এবং বিশ্বমানের মেধা আকর্ষণের জন্য এই ভিসা অপরিহার্য।   মার্কিন অভিবাসন আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে এমন বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার কথা উল্লেখ করেই এই ফি বাড়ানো হয়েছিল।   আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলোতে দাবি করা হয়েছে, ভিসা কর্মসূচি তৈরি করা মূল আইনকে পাশ কাটানোর ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। এছাড়া কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ডিএইচএস রাজস্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে এ ধরনের কোনো কর বা ফি বসাতে পারে না বলেও বাদীদের অভিযোগ।   তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এটি কোনো সাধারণ কর নয় এবং দেশের ভেতরে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার এখতিয়ার আদালতের নেই।   ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রভাবে এমনিতেই এইচ-ওয়ানবি ভিসার চাহিদা কমেছে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার এইচ-ওয়ানবি ভিসার আবেদন জমা পড়েছিল, যা ২০২৩ সালের ৭ লাখ ৫৯ হাজার আবেদনের অর্ধেকেরও কম।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৭:৩৬
মিনেসোটায় অভিবাসীকে গুলি, আইসিই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলার প্রস্তুতি

মিনেসোটায় অভিবাসীকে গুলি, আইসিই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলার প্রস্তুতি

৮০ বছর বয়সে চিরবিদায় নিলেন কান্ট্রি মিউজিকের কিংবদন্তি গায়িকা ডলি পার্টন I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

৮০ বছর বয়সে চিরবিদায় নিলেন কান্ট্রি মিউজিকের কিংবদন্তি গায়িকা ডলি পার্টন

যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে শিশুসহ নি হত ৮, বাড়িতে আ গুন I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে শিশুসহ নি হত ৮, বাড়িতে আ গুন

ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনার সেরা ঠিকানা ইরভাইন, পিছিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস-সান ফ্রান্সিসকো I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনার সেরা ঠিকানা ইরভাইন, পিছিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস-সান ফ্রান্সিসকো

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে বাড়ি কেনার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী আবাসন বাজার হিসেবে শীর্ষে উঠে এসেছে অরেঞ্জ কাউন্টির শহর ইরভাইন। আর্থিক গবেষণা সংস্থা ‘ওয়ালেটহাব’-এর ২০২৬ সালের সর্বশেষ আবাসন বাজার র‍্যাঙ্কিংয়ে অঙ্গরাজ্যের মধ্যে প্রথম এবং পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দশম সেরা বাজারের স্বীকৃতি পেয়েছে এই শহরটি। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার ঐতিহ্যবাহী বড় ও জনপ্রিয় শহর যেমন লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ফ্রান্সিসকো এই তালিকায় বেশ পেছনের দিকে অবস্থান করছে।   যুক্তরাষ্ট্রের মোট ৩০০টি শহরের ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ সূচকের ওপর ভিত্তি করে এই বিশদ গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাড়ির মূল্যবৃদ্ধি, সাশ্রয়ী সক্ষমতা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বন্ধকী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতা (মর্টগেজ ডিলিংকুয়েন্সি), নতুন নির্মাণ কার্যক্রম এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ।   গবেষণায় ৬৪ দশমিক ২৮ স্কোর অর্জন করে ইরভাইন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর মধ্যে নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লট শহরের ঠিক পরেই দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো জানিয়েছেন, সেরা আবাসন শহরগুলো হয়তো সবসময় সবচেয়ে সস্তা হয় না, তবে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব এবং চমৎকার জীবনমানের নিশ্চয়তা দেয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার পরবর্তী সেরা শহরগুলোর মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে রোজভিল ১২তম, সান্তা ক্লারা ২৯তম, ক্লোভিস ৩৩তম, ওন্টারিও ৩৪তম এবং এলক গ্রোভ ৩৯তম স্থানে রয়েছে। এছাড়া সেরা দশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে মুরিয়েটা (৫৮তম), সানিভেল (৬৬তম), সান ডিয়েগো (৭০তম) ও সান্তা মারিয়া (৭২তম)।   তবে ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনার খরচের সাথে আয়ের অসঙ্গতি বেশ স্পষ্ট। উদাহরণস্বরূপ, সান্তা ক্লারা বাজারের দিক থেকে শক্তিশালী হলেও সাশ্রয়ী সক্ষমতার দিক থেকে ২৫০তম স্থানে পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে ক্লোভিস শহর সাশ্রয়ী সক্ষমতায় ষষ্ঠ হলেও সামগ্রিক বাজার শক্তিতে ৭২তম স্থানে রয়েছে।   এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার মেগা শহরগুলোর অবস্থান এই তালিকায় বেশ হতাশাজনক। সামগ্রিক র‍্যাঙ্কিংয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস ২৩৭তম, সান ফ্রান্সিসকো ২৭৩তম এবং ওকল্যান্ড ২৮২তম স্থানে নেমে গেছে।   পাশাপাশি গ্লেনডেল, বার্কলে, সান্তা বারবারা ও সান্তা মনিকার মতো শহরগুলো আয়ের তুলনায় বাড়ির উচ্চমূল্যের কারণে তলানির দিকে (২৯৭তম) অবস্থান করছে।   অঙ্গরাজ্যটির সবচেয়ে দুর্বল আবাসন বাজার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ল্যাঙ্কাস্টার (২৯১তম) ও পামডেল (২৯২তম)। তবে ঋণ সংকটের ঝুঁকি কম থাকার দিক থেকে সান জোসে, সান্তা ক্লারা ও সানিভেলের মতো শহরগুলো জাতীয় পর্যায়ে ইতিবাচক অবস্থান ধরে রেখেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৬:১৬
ফ্লোরিডায় ১৯ বছর ধরে বসবাসকারী মার্কিন নৌসেনার বাবাকে আটক করল আইসিই

ফ্লোরিডায় ১৯ বছর ধরে বসবাসকারী মার্কিন নৌসেনার বাবাকে আটক করল আইসিই

মিসিসিপিতে অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীর ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল মার্কিন নাগরিকের I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

মিসিসিপিতে অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীর ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল মার্কিন নাগরিকের

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বন্ধুর বাড়ি ভেবে ভুল ঠিকানায় গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন ২২ বছরের তরুণ গ্লেন পিশার। ছবি: সংগৃহীত

পেনসিলভানিয়ায় বন্ধুর বাড়ি ভেবে ভুল বাড়িতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত তরুণ

0 Comments