বিশ্ব

জেলেনস্কির যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ রাশিয়ার, শান্তির সম্ভাবনা অনিশ্চিত

Unknown প্রকাশ: মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৬:২১
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি

ইউক্রেন যুদ্ধের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইস্টার উপলক্ষে প্রস্তাবিত সাময়িক যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি-এর দেওয়া এ প্রস্তাবকে ‘অস্পষ্ট’ বলে মন্তব্য করেছে ক্রেমলিন।

 

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, এই প্রস্তাবে স্থায়ী শান্তির জন্য প্রয়োজনীয় কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বন্ধ করার প্রয়োজন ইউক্রেনেরই বেশি বলে দাবি করেন তিনি।

 

এর আগে সোমবার অর্থোডক্স ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আসন্ন ১২ এপ্রিলের ইস্টার উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান জেলেনস্কি। তিনি এই উদ্যোগকে ‘আপসের একটি পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি।

 

তবে রাশিয়ার মতে, এমন প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয়। পেসকভ দাবি করেন, রুশ বাহিনী বর্তমানে বিভিন্ন ফ্রন্টে অগ্রসর হচ্ছে কোথাও দ্রুত, কোথাও ধীরগতিতে। এ অবস্থায় ইউক্রেনের নেতৃত্বকে সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, দেরি হলে সেই সিদ্ধান্তের মূল্য আরও বেড়ে যাবে।

 

রাশিয়ার এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, তারা বর্তমান সামরিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ইউক্রেনের ওপর চাপ ধরে রাখতে চায়।

 

গত বছর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একতরফাভাবে ইস্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও, উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। তখন জেলেনস্কি ওই বিরতি ৩০ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ৩০ দিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করেননি পুতিন।

 

এবার জেলেনস্কি জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ রাখারও প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে বৈশ্বিক তেল-গ্যাস বাজারে চাপ কমানো যায়। তবে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি পেসকভ। তিনি শুধু জানান, রাশিয়া তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। বিশেষ করে বাল্টিক সাগর অঞ্চলের উস্ত-লুগা ও প্রিমোরস্ক বন্দরে ধারাবাহিক আঘাত হানা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি আয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে কিয়েভ।

 

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। ফলে আন্তর্জাতিক মহল এখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ভাঙা পায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার
ভাঙা পায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার, হাসপাতালে নারীর মৃত্যু

ভারতের হরিয়ানার পানিপথে ভাঙা পায়ের হাড়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট বসানোর পর এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, তাদের অনুমতি ছাড়াই হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।   নিহত গুড্ডি দেবী সড়ক দুর্ঘটনায় পায়ের হাড় ভেঙে গত ২৪ জুলাই পানিপথের একটি বেসরকারি পার্ক হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিবারের দাবি, তাকে অর্থোপেডিক চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হলেও পরদিন চিকিৎসকেরা তাদের জানান যে তার হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট বসানো হয়েছে।   গুড্ডি দেবীর ছেলে কুলদীপ অভিযোগ করেন, স্টেন্ট বসানোর আগে পরিবারের কোনো সদস্যের সম্মতি নেওয়া হয়নি। এমনকি সম্মতিপত্রে পরিবারের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।   পরিবারের ভাষ্য, চিকিৎসকদের অবহেলা, প্রতারণা এবং অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের কারণেই গুড্ডি দেবীর মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ করেন স্বজনরা।   ঘটনার পর পানিপথের সেক্টর ২৯ থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   অন্যদিকে, পার্ক হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্বপ্না তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি জানিয়েছেন, পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া হবে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় কোনো বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করেনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ১:৩৫
অরেঞ্জের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন সাবেক কর্মী লরেন্স ভ্যান ওয়াসেনহোভ। ছবি: সংগৃহীত

কাজ ছাড়াই ২০ বছর সম্পূর্ণ বেতন দেয়ায় সেই কোম্পানির বিরুদ্ধেই করলেন মামলা

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবাস নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞের নিন্দা: ৩৩ মাস ধরে একাকী কারাবাসে ইমরান খান

উপগ্রহ চিত্রে চীনের হোটান বিমানঘাঁটিতে জে-২০ স্টিলথ যুদ্ধবিমান দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় সীমান্তে চিনের ১১টি অত্যাধুনিক জে-২০ স্টিলথ ফাইটার, চিন্তায় নয়াদিল্লি

ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়ে নতুন মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের অনুরোধেই হামলা বন্ধ, সমঝোতা না হলে আবারও আঘাত করা শুরু হবে: ট্রাম্প

তেহরানের বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষাপটেই ইরানের ওপর চলমান সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো দীর্ঘস্থায়ী বা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি সমঝোতা না হলে আবারও আগের মতো পূর্ণ মাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করা হবে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।   সোমবার (২৭ জুলাই) মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এয়ার ফোর্স ওয়ানে সফররত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। খবর সিএনএন-এর।   সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, "তারা (ইরান) অত্যন্ত নম্রভাবে আমাদের অনুরোধ করেছে, 'অনুগ্রহ করে আপাতত হামলা বন্ধ রাখুন, আসুন আমরা আলোচনার টেবিলে বসি।' আমরা তাদের সেই অনুরোধে সাড়া দিয়ে এখন আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছি। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়ায়! যদি কোনো যৌক্তিক সমঝোতায় না পৌঁছানো যায়, তবে আমরা আবারও আগের কঠোর সামরিক অবস্থানে ফিরে যাব।"   ইরানের ওপর টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে অব্যাহত বিমান ও সামরিক হামলা চালিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই হুট করে অভিযানের গতি কমিয়ে এনে সামরিক বিরতির ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এই বিরতিকালে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর ও হোয়াইট হাউস তেহরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী কৌশলগত ও সামরিক পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন চালিয়ে যাচ্ছে।   এর আগে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সামরিক অভিযান আরও দীর্ঘায়িত করার বিষয়ে নিজেদের শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছিলেন। তাদের ধারণা ছিল, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপক সামরিক অভিযান চালাতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্র ও গোলাবারুদের পর্যাপ্ত মজুতে বড় ধরনের চাপ পড়তে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, ভেতরে অভ্যন্তরীণ সামরিক চাপের কারণেই আলোচনার এই কূটনৈতিক পথ বেছে নিয়েছে ওয়াশিংটন, যদিও ট্রাম্প প্রকাশ্যে একে ইরানের অনুরোধ বলে তুলে ধরছেন। আপাতত দুই দেশের আলোচনার টেবিলের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংঘাতের রূপরেখা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ২৩:৭
লিয়ানের ভিডিওর জবাবে গাজার শিশু ও ফিলিস্তিনি জনগণের উদ্দেশে সংহতির বার্তা দেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের সেই কিশোরীকে আবেগঘন বার্তা স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর

আইনিভাবে বাবার ‘ক্রুজ’ পদবি বাদ দিয়ে নতুন নাম গ্রহণ করেছেন সুরি। ছবি: সংগৃহীত

কোটি টাকার সম্পত্তি ও পরিচয় ছেড়ে আইনিভাবে বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন টম ক্রুজের মেয়ে সুরি

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন নেতানিয়াহু

উদ্বোধনের অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত লখনউ-কানপুর গ্রিনফিল্ড ন্যাশনাল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশ। ছবি: সংগৃহীত
উদ্বোধনের ১২ দিন পরই ভারতে ৪২০০ কোটির এক্সপ্রেসওয়েতে ফাটল

উদ্বোধনের মাত্র ১২ দিনের মাথায় ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউ-কানপুর গ্রিনফিল্ড ন্যাশনাল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশে ধস ও ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণমান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রায় ৪ হাজার ২০০ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ এক্সপ্রেসওয়েটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত করা হলেও বিরোধী দল নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে।    ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৩ জুলাই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গড়করি এবং উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ যৌথভাবে ৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ লখনউ-কানপুর গ্রিনফিল্ড ন্যাশনাল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধনের ১২ দিন পর উন্নাও জেলার কাছে কানপুর থেকে লখনউগামী লেনের একটি অংশে প্রায় ৫ থেকে ৭ মিটার এলাকায় রাস্তার ওপরের স্তর ধসে পড়ে এবং বড় ধরনের ফাটল দেখা যায়।    ভারতীয় জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ (এনএইচএআই) জানিয়েছে, টানা ভারী বর্ষণের কারণে ওই স্থানে মাটির স্তর সরে গিয়ে রাস্তার অংশে ধসের সৃষ্টি হয়েছিল। সংস্থাটির দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে, সমাজবাদী পার্টির নেতা মধুসূদন যাদব সামাজিক মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের ভিডিও প্রকাশ করে নির্মাণকাজে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, উদ্বোধনের এত অল্প সময়ের মধ্যে একটি নতুন এক্সপ্রেসওয়েতে এ ধরনের ক্ষতি নির্মাণের গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।    লখনউ-কানপুর গ্রিনফিল্ড ন্যাশনাল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি ‘ভারতমালা পরিযোজনা’র আওতায় নির্মিত হয়েছে। ছয় লেনের এই নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার (অ্যাকসেস-কন্ট্রোল্ড) এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ার ফলে লখনউ ও কানপুরের মধ্যে যাতায়াতের সময় প্রায় ৩ ঘণ্টা থেকে কমে ৩৫ থেকে ৪৫ মিনিটে নেমে এসেছে। প্রকল্পটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা, ব্যারিয়ারবিহীন টোল সংগ্রহ প্রযুক্তি এবং আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা যুক্ত করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, উদ্বোধনের আগেও এই এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছিল। সে সময় উত্তর প্রদেশ সরকারের মন্ত্রী দিনেশ প্রতাপ সিং বলেছিলেন, নির্মাণকাজ চলাকালে এ ধরনের ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। সর্বশেষ ধসের ঘটনায় আবারও প্রকল্পটির নির্মাণমান ও তদারকি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ২০:৪২
ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করেছে

ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করেছে: ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সমালোচনায় কংগ্রেসম্যান

প্রাইড উৎসবে গাড়ি হামলায় পুলিশের গুলিতে আবদুল বি. নিহত

প্রাইড উৎসবে গাড়ি হামলায় পুলিশের গুলিতে আবদুল বি. নিহত, ইসলামী চরমপন্থার যোগসূত্রের দাবি

আন্দোলনকারীদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নন, জামায়াতিপন্থী-মৌলবাদী: শুভেন্দু

আন্দোলনকারীদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নন, জামায়াতিপন্থী-মৌলবাদী: শুভেন্দু

0 Comments