সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

হিন্দু প্রতিনিধি দল আসতেই নারী কর্মীদের সরে যেতে বলা হয়েছিল, আইফেল টাওয়ারে তদন্তের নির্দেশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২২:২১
হিন্দু প্রতিনিধিদলের সফরের সময় নারী কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্যারিস কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
হিন্দু প্রতিনিধিদলের সফরের সময় নারী কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্যারিস কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

প্যারিসে আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে আসা একটি হিন্দু ধর্মীয় দলের সফরকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই প্রতিনিধি দলের সফরের সময় নারী কর্মীদের কর্মস্থল থেকে সরে গিয়ে আড়ালে থাকতে বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কর্মীরা প্রতিবাদে নামার পর প্যারিস কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।

 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বর প্রায় ১০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আইফেল টাওয়ারে ব্যক্তিগত সফরে যায়। দলটি ভারতের হিন্দু ধর্মীয় সংগঠন বোচাসানওয়াসি অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামিনারায়ণ সংস্থা, সংক্ষেপে বিএপিএসের সঙ্গে যুক্ত। ফ্রান্সের উপকণ্ঠে সংগঠনটির একটি নতুন হিন্দু মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তাদের প্রতিনিধিরা সেখানে ছিলেন।

 

আইফেল টাওয়ারের কর্মীদের ইউনিয়ন প্রতিনিধি দিয়ান দাভোয়েন রয়টার্সকে জানান, প্রতিনিধি দলটি যাওয়ার সময় নারী কর্মীদের নিজ নিজ কর্মস্থল ছেড়ে দিতে বলা হয়। তাদের জায়গায় পুরুষ কর্মীদের দাঁড় করানো হয়েছিল বলেও তিনি জানান।

ফরাসি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকজন নারী কর্মীকে তাদের পদ ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে যেতে বলা হয়েছিল। কিছু কর্মস্থলে তাদের পরিবর্তে পুরুষদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রতিনিধি দলটি সেখানে অবস্থান করার সময় নারী কর্মীদের কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকা দিয়ে চলাচল না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে কর্মীরা অভিযোগ করেছেন।

 

ঘটনার পর আইফেল টাওয়ারের কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। ৭ সেপ্টেম্বর কর্মীরা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো নারী কর্মীকে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখে না পড়তে দেওয়ার নিশ্চয়তা চেয়ে বৈঠকে বসেন। এর ফলে সেদিন আইফেল টাওয়ারের কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং দর্শনার্থীদের জন্য টাওয়ার খোলার সময় পিছিয়ে যায়।

 

কর্মীদের ইউনিয়ন প্রতিনিধি দাভোয়েন জানান, ঘটনাটি নিয়ে ব্যবস্থাপনা কর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। কর্মীদের প্রতিবাদের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনেও সমালোচনা শুরু হয়।

প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার দ্রুত তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, কর্মীদের ক্ষোভ সম্পর্কে তিনি অবগত এবং তাদের অসন্তোষকে যৌক্তিক বলে মনে করেন। কী ঘটেছিল, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য দ্রুত সামনে আনা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ইয়ায়েল ব্রাউন-পিভে ঘটনাটির সমালোচনা করেছেন। তার বক্তব্য, অন্যদের স্বাগত জানানো মানে নিজেদের মূল্যবোধ বিসর্জন দেওয়া নয়। ফ্রান্সে নারীরা জনজীবনের সব ক্ষেত্রেই সমানভাবে উপস্থিত এবং তাদের অদৃশ্য হয়ে যেতে বলা গ্রহণযোগ্য নয়।

 

তবে বিএপিএস ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছে। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানায়, প্রতিনিধি দলের আকার বড় হওয়ায় অন্য দর্শনার্থীদের অসুবিধা এড়াতে আইফেল টাওয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দিনের শুরুর দিকে সফরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তাদের জানা অনুযায়ী, কাউকে আইফেল টাওয়ারে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়নি। তবে এ ঘটনায় কারও কষ্ট বা অসুবিধা হয়ে থাকলে তারা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

 

অন্যদিকে, আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসইটিই জানিয়েছে, প্রতিনিধি দলটির পক্ষ থেকে নারী কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল। পরবর্তী এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করে, এমন শর্ত মেনে নেওয়া উচিত ছিল না এবং তা তাদের মূল্যবোধ ও নারী-পুরুষের সমতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন বিএপিএসের প্রতিনিধিরা প্যারিসের উপকণ্ঠে বুসি-সাঁ-জর্জ এলাকায় সংগঠনটির নতুন হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষে ফ্রান্সে অবস্থান করছিলেন। ৬ সেপ্টেম্বর সেখানে মন্দিরটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

 

আইফেল টাওয়ারে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি এখন শুধু কর্মীদের প্রতিবাদের বিষয় নয়, ফ্রান্সের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নারী-পুরুষের সমতা এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। প্যারিস কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ হলে সফরের সময় ঠিক কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কে সেই নির্দেশ দিয়েছিল এবং তা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য সামনে আসতে পারে।

 

সূত্র: রয়টার্স


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ইসরায়েলে বহুমাত্রিক হামলার প্রস্তুতি হিসেবে মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াচ্ছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত
হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের নিয়ে একযোগে ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ সংঘাতে একাধিক ফ্রন্ট একসঙ্গে সক্রিয় করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। ইসরায়েলি গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাত দিয়ে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, তেহরান হিজবুল্লাহ, হামাস, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের ইরানপন্থি মিলিশিয়াদের সমন্বয় করে একই সময়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ তৈরির কৌশল নিয়ে কাজ করছে।   জেরুজালেম পোস্টের ৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের লক্ষ্য হলো ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সময় যে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল, ভবিষ্যতে তা এড়ানো। ওই হামলায় হামাস আকস্মিকভাবে ইসরায়েলে আক্রমণ চালালেও একই সময়ে ইরানপন্থি অন্যান্য গোষ্ঠী বড় পরিসরে আলাদা ফ্রন্ট খুলতে পারেনি। নতুন পরিকল্পনায় শুরু থেকেই একাধিক ফ্রন্টকে একই অভিযানের অংশ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ইসরায়েলি মূল্যায়নে বলা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহ, হুথি ও ইরাকের ইরানপন্থি মিলিশিয়াদের কমান্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও বৈঠক করছেন। এর উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে সংঘাত শুরু হলে বিভিন্ন গোষ্ঠীর কার্যক্রম যেন বিচ্ছিন্নভাবে না চলে, বরং সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়।   ইসরায়েলি সামরিক মূল্যায়নে এরই মধ্যে হামাস ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আবারও সমন্বয় বাড়ার কথা বলা হয়েছে। আগস্টে জেরুজালেম পোস্টের আরেক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মূল্যায়নের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, ইরানের সহায়তায় হামাস ও হিজবুল্লাহ নিজেদের কার্যক্রমের সমন্বয় বাড়াচ্ছে।   নতুন কৌশলের পেছনে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। হামাসের ওই হামলার পর হিজবুল্লাহ লেবানন সীমান্ত থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করলেও শুরুতেই হামাসের সঙ্গে সমন্বিতভাবে বড় ধরনের আক্রমণ চালায়নি। ইসরায়েলি মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান ও হিজবুল্লাহ হামাসের ওই অভিযানের সব বিস্তারিত তথ্য বা সঠিক সময় সম্পর্কে আগে থেকে অবহিত ছিল না।   এবার তেহরান সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে আগাম সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানপন্থি এই নেটওয়ার্কে লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজার হামাস, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর সামরিক সক্ষমতা ও ভৌগোলিক অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় একযোগে তাদের সক্রিয় করা হলে ইসরায়েলের ওপর একাধিক দিক থেকে চাপ তৈরি হতে পারে বলে ইসরায়েলি বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে।   এদিকে আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিবর্তনও ইরানের কৌশলে প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন এবং হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পর ইরাক ও ইয়েমেনভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোর গুরুত্ব তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।   জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ ও সামরিক সমন্বয় জোরদারের বিষয়ও রয়েছে। তবে এসব প্রস্তুতির কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং কোনো নির্দিষ্ট হামলার সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   এই সম্ভাব্য সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে বর্তমানে বিষয়টি মূলত ইসরায়েলি গোয়েন্দা মূল্যায়ন ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আলোচনায় এসেছে।   এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের একটি কৌশলগত এলাকায় হিজবুল্লাহর টানেল নেটওয়ার্ক থেকে যোদ্ধাদের সরিয়ে দেওয়ার দাবি করে। হিজবুল্লাহ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি।   বিশ্লেষকদের কাছে তাই ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর খবরটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ হামাস, হিজবুল্লাহ, হুথি ও ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী একই সময়ে সক্রিয় হলে সংঘাত শুধু ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।   তবে ইরান সত্যিই এমন একটি সমন্বিত হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, কিংবা এ ধরনের কোনো অভিযান বাস্তবে কবে বা কীভাবে হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২৩:৭
হিন্দু প্রতিনিধিদলের সফরের সময় নারী কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্যারিস কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

হিন্দু প্রতিনিধি দল আসতেই নারী কর্মীদের সরে যেতে বলা হয়েছিল, আইফেল টাওয়ারে তদন্তের নির্দেশ

মাদক সরবরাহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হ্যামিশ ক্রেগ লারনাখ। ছবি: সংগৃহীত

দেখতে শিশুসুলভ হওয়ায় ২০ বছর বয়সী মাদক বিক্রেতাকে কারাগারে পাঠালেন না বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দাবি করেছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে প্রথমবার ডেস্ট্রয়ার-বিধ্বংসী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

নিহত রিয়া তালুকদার গোস্বামী ও তাঁর স্বামী রামানুজন গোস্বামী। ছবি: সংগৃহীত
ভারতে ফ্রিজে মিলল স্ত্রীর কাটা মাথা, পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ স্বামীর

ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে ২৫ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, নারীর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি পলিথিনের ব্যাগে ভরে ফ্রিজে রাখা হয়েছিল। তাঁর আঙুলও কেটে ফেলা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।   নিহতের নাম রিয়া তালুকদার গোস্বামী। তিনি গুয়াহাটির হাটিগাঁও এলাকার একটি ফ্ল্যাটে স্বামী রামানুজন গোস্বামীর সঙ্গে থাকতেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁদের বিয়ে হয়েছিল প্রায় ছয় মাস আগে।   রোববার প্রতিবেশীরা ওই ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। এর আগে প্রায় দুই দিন ধরে তাঁরা দম্পতিকে দেখতে পাচ্ছিলেন না এবং দুজনের মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা খুলে ভেতরে তল্লাশি চালায়।   তল্লাশির সময় পুলিশ রিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি আংশিক পচন ধরেছিল এবং মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে ফ্ল্যাটের ফ্রিজে একটি পলিথিনের ব্যাগের মধ্যে তাঁর মাথা পাওয়া যায়। তাঁর আঙুলও কেটে ফেলা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।   পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহ উদ্ধারের প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে। তবে ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট সময় এবং কী পরিস্থিতিতে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।   ঘটনার পর রিয়ার স্বামী রামানুজন গোস্বামীকে পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রতিবেশীরা তাকে শেষবার শুক্রবার দেখেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন। পরে রোববার রাতেই তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। গুয়াহাটি পুলিশ কমিশনারেটের পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার অনুরাগ শর্মা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানান, রামানুজন এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত এবং আত্মসমর্পণের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ তাঁর বক্তব্যও যাচাই করছে।   ঘটনাস্থল থেকে একটি অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে, যা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশ সন্দেহ করছে। নিহতের মরদেহ ও বিচ্ছিন্ন মাথা ময়নাতদন্তের জন্য গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।   হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ ছিল, তা এখনো পুলিশ প্রকাশ করেনি। এ ছাড়া ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত, ময়নাতদন্তের ফল এবং অভিযুক্ত স্বামীর বক্তব্য মিলিয়ে ঘটনার পুরো ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা করছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়া ও রামানুজনের মধ্যে আগে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এই তথ্য এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।   পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার উদ্দেশ্য বা ঘটনার সম্পূর্ণ কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার ফলও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   সূত্র: এনডিটিভি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ৮:২৫
প্রেমিকের নতুন বাইকের শখ পূরণ করতে ৯ ভরি স্বর্ণ চুরির অভিযোগ উঠেছে ১৯ বছর বয়সী এক কলেজছাত্রীর বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত

প্রেমিককে নতুন বাইক কিনে দিতে স্বর্ণ চুরির অভিযোগ, কলেজছাত্রী গ্রেপ্তার

ইরানের মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলের মতো করে তৈরি করা একটি ছবি ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

নিজের মুখের আদলে ইরানের মানচিত্র পোস্ট করলেন ট্রাম্প

উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো ৫ হাজার টনের নতুন যুদ্ধজাহাজ ‘ক্যাং কন’। ছবি: সংগৃহীত

পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থায় নতুন যুদ্ধজাহাজ ‘ক্যাং কন’, প্রতিরোধ জোরদার কিম জং উনের

হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাব  প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের
হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থান, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন বা পুনঃনামকরণের উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। লেক অন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার পর এবার হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাবও সামনে এসেছে। তবে এসব উদ্যোগের সবগুলো একই ধরনের নয় - কিছু ইতোমধ্যে ফেডারেল পর্যায়ে কার্যকর হয়েছে, আবার কিছু এখনো প্রস্তাব বা রাজনৈতিক উদ্যোগের পর্যায়ে রয়েছে।    সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর একটি হলো লেক অন্টারিওকে ‘লেক আমেরিকা’ নাম দেওয়া। ২৭ আগস্ট জারি করা নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প মার্কিন ফেডারেল নথি ও জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেম (জিএনআইএস)-এ নতুন নাম ব্যবহারের নির্দেশ দেন। তবে লেকটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় কানাডা এই নাম গ্রহণ করেনি এবং দেশটি এখনো ‘লেক অন্টারিও’ নামই ব্যবহার করছে।    এর আগে ২০২৫ সালে ট্রাম্প গালফ অব মেক্সিকোকে ‘গালফ অব আমেরিকা’ নামে অভিহিত করার উদ্যোগ নেন। একই সময়ে উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্বত ডেনালির ফেডারেল নাম আবার ‘মাউন্ট ম্যাককিনলি’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ডেনালি ন্যাশনাল পার্ক অ্যান্ড প্রিজার্ভের নাম অপরিবর্তিত রয়েছে।    সামরিক স্থাপনাতেও নাম পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন নয়টি আর্মি ঘাঁটির নাম পরিবর্তন বা আগের নাম ফিরিয়ে আনে। এর মধ্যে ফোর্ট লিবার্টিকে আবার ফোর্ট ব্র্যাগ এবং ফোর্ট মুরকে ফোর্ট বেনিং করা হয়। এগুলো ট্রাম্পের নিজের নামে করা হয়নি; বরং আগের নাম ফিরিয়ে দেওয়া বা নতুন ব্যক্তির নামে নামকরণ করা হয়েছে।    সরকারি ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নিয়েও একই ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেনেডি সেন্টারের বোর্ডে ট্রাম্পের সমর্থকেরা তাঁর নাম যুক্ত করে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প অ্যান্ড জন এফ. কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস’ হিসেবে পরিচিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জও হয়েছে, কারণ প্রতিষ্ঠানটি কংগ্রেসের আইনে প্রতিষ্ঠিত।    এদিকে ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অব পিস-এর ওয়াশিংটন সদর দপ্তরকেও ট্রাম্পের নামে পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আইনি বিরোধ চলার মধ্যেই এই নাম ব্যবহারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।    সবচেয়ে সাম্প্রতিক প্রস্তাবগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি নিয়ে। ২ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌশলগত এই জলপথের নাম ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার কথা বলেন। পরে ওভাল অফিসে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি শুধু ‘উত্থাপন’ করেছিলেন। ফলে এটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নয়।    এ ছাড়া নিউইয়র্কের পেন স্টেশন ও ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ট্রাম্পের নামে করার ধারণাও আলোচনায় এসেছে। তবে এগুলোও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর নাম পরিবর্তন নয়।    ট্রাম্পের নাম যুক্ত হয়েছে এমন আরও কিছু উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যৎ ‘ট্রাম্প-ক্লাস’ যুদ্ধজাহাজ, ২০২৬ সালের একটি ট্রাম্পের প্রতিকৃতিযুক্ত ১ ডলারের মুদ্রা এবং আর্মেনিয়ার একটি প্রস্তাবিত পরিবহন করিডোরের নাম ‘ট্রাম্প রুট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি’। ফ্লোরিডায় পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম ট্রাম্পের নামে পরিবর্তনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যদিও সেটি রাজ্য পর্যায়ের উদ্যোগ এবং ফেডারেল অনুমোদনের বিষয় রয়েছে।    তবে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের ক্ষমতারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফেডারেল সরকার তার নিজস্ব নথি, মানচিত্র ও সরকারি যোগাযোগে নতুন নাম ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু কোনো নির্বাহী আদেশ অন্য দেশ, অঙ্গরাজ্য, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাধ্যতামূলক নয়। লেক অন্টারিওর ক্ষেত্রে কানাডা এখনো পুরোনো নাম ব্যবহার করছে - যা এই সীমাবদ্ধতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ।    নাম পরিবর্তনের উদ্যোগগুলো নিয়ে জনমতও বিভক্ত নয়, বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিরোধিতার চিত্র পাওয়া গেছে। রয়টার্স/ইপসোসের ২৮-৩০ আগস্টের জরিপে ৬৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছেন, বিপরীতে সমর্থন করেছেন ১৪ শতাংশ। 

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ৪:১৬
ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সৈন্যদের আর্থিক সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি পেন্টাগনের

ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সৈন্যদের আর্থিক সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি পেন্টাগনের

যুদ্ধের খরচ মেটাতে পর্নোগ্রাফিকে বৈধ বৈধতা দিচ্ছে ইউক্রেন

যুদ্ধের খরচ মেটাতে পর্নোগ্রাফিকে বৈধ বৈধতা দিচ্ছে ইউক্রেন

পাঁচ বছর বয়সী বেনেডিক্ট ব্লাইথ

স্কুলের গরুর দুধের অ্যালার্জিতে শিশুর মৃত্যু, বাবা-মায়ের প্রচেষ্টায় ইংল্যান্ডের স্কুলে নতুন নিরাপত্তা নিয়ম

0 Comments