সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক পাবেন কার্ড, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্য ৪৩ লাখ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ৬:১৬
কৃষক নিবন্ধন ও ব্যাংক হিসাব খোলার কার্যক্রম চলছে
কৃষক নিবন্ধন ও ব্যাংক হিসাব খোলার কার্যক্রম চলছে

চার বছরে দেশের ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির আওতায় ৪৩ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে। কৃষকদের নিবন্ধন, আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং কৃষি উপকরণসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা সহজে পৌঁছে দিতে দেশব্যাপী পর্যায়ক্রমে কর্মসূচিটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
 

কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১৪ হাজার ১৮০টি কৃষি ব্লককে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এরই মধ্যে কৃষকদের পরিচিতি ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পরীক্ষামূলকভাবে কার্ড বিতরণ ও কৃষি উপকরণ সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।


গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কৃষক কার্ড কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে প্রতিটি উপজেলা থেকে একটি করে কৃষি ব্লক নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচিত ৭৭টি ব্লকে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


এ কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব খোলার কাজও চলছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে তথ্য সংগ্রহের অগ্রগতি হয়েছে। এসব ব্লকে এখন পর্যন্ত ১৯ লাখ ২৫ হাজার কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ।


কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ ও ব্যাংক হিসাব খোলা কর্মসূচির প্রাথমিক বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পরবর্তী ধাপে আরও বিস্তৃত এলাকায় কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।


কৃষক কার্ড কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যাচাই করতে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দেশের আটটি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। ওই পর্যায়ে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়।


গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। পরে নির্ধারিত এলাকাগুলোতে কর্মসূচির কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।


প্রাক-পাইলটিংয়ের আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৮০ জনকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে এ পর্যায়ে মোট ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়। প্রাথমিক কার্যক্রম থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে কর্মসূচিটি আরও বেশি এলাকায় সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


অক্টোবরে চালু হওয়া নতুন পর্যায়ে কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি কৃষি উপকরণ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যায়ে কৃষি উপকরণ সহায়তার আওতায় আসবেন ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক। এর মধ্যে ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলার ৭ হাজার ১৫৩ জন এবং বাকি ৫৫ জেলার ৯২ হাজার ৮৯৪ জন কৃষক রয়েছেন।


অন্যদিকে, ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জেলার ছয়টি কৃষি ব্লকে কৃষক কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচিত এলাকাগুলোতে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।


কৃষকদের জন্য সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরির পাশাপাশি তাঁদের চাহিদা নিরূপণ, কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করাও কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে বিপুলসংখ্যক কৃষকের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও ব্যবস্থাপনা করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব খোলা, কার্ড বিতরণ এবং সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার অগ্রগতিও ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।


কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্প।


প্রকল্পটির ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মো. রাকিবুজ্জামান খান বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ, তাঁদের চাহিদা নির্ধারণ এবং কৃষির আধুনিকায়নে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।


তিনি জানান, কৃষকদের চাহিদা মৌসুম ও ফসলভেদে পরিবর্তিত হয়। ফলে তাঁদের প্রয়োজন যথাযথভাবে নিরূপণ করা একটি চ্যালেঞ্জ। তবে নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা গেলে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।


রাকিবুজ্জামান খান আরও বলেন, ইতোমধ্যে ২২ হাজার কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কৃষক কার্ড কর্মসূচির সঙ্গে বিভিন্ন তথ্য ও কার্যক্রমের সমন্বয় করা গেলে কৃষকদের নানা ধরনের কৃষিসেবার আওতায় আনা এবং মাঠপর্যায়ে সরকারি উদ্যোগগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব হবে।


কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ এবং তাঁদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে সহজ ও কার্যকর করা। এ জন্য তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষক কার্ড দেশের কৃষকদের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডারের আওতায় আনার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করা, তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক ও কৃষি উপকরণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং কৃষিসেবা কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল করার সুযোগ তৈরি হবে।


তিনি বলেন, কৃষকবান্ধব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের কল্যাণে কৃষক কার্ড চালু করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী চার বছরের মধ্যে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এ কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।


সেলিম খান জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা ১০ ধরনের সেবা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে স্বল্প সুদে কৃষিঋণ, সেচ, সার, বীজ, প্রণোদনা, কৃষিবিমা, আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য এবং বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শসহ বিভিন্ন সুবিধা।


তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষক কার্ড শুধু আর্থিক ও কৃষি উপকরণ সহায়তা দেওয়ার মাধ্যম নয়; এর মাধ্যমে কৃষকের প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করা এবং সরকার ও রাষ্ট্র কৃষকের পাশে রয়েছে—সেই বার্তাও তুলে ধরা হবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
কৃষক নিবন্ধন ও ব্যাংক হিসাব খোলার কার্যক্রম চলছে
চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক পাবেন কার্ড, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্য ৪৩ লাখ

চার বছরে দেশের ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির আওতায় ৪৩ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে। কৃষকদের নিবন্ধন, আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং কৃষি উপকরণসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা সহজে পৌঁছে দিতে দেশব্যাপী পর্যায়ক্রমে কর্মসূচিটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১৪ হাজার ১৮০টি কৃষি ব্লককে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এরই মধ্যে কৃষকদের পরিচিতি ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পরীক্ষামূলকভাবে কার্ড বিতরণ ও কৃষি উপকরণ সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কৃষক কার্ড কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে প্রতিটি উপজেলা থেকে একটি করে কৃষি ব্লক নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচিত ৭৭টি ব্লকে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব খোলার কাজও চলছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে তথ্য সংগ্রহের অগ্রগতি হয়েছে। এসব ব্লকে এখন পর্যন্ত ১৯ লাখ ২৫ হাজার কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ। কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ ও ব্যাংক হিসাব খোলা কর্মসূচির প্রাথমিক বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পরবর্তী ধাপে আরও বিস্তৃত এলাকায় কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষক কার্ড কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যাচাই করতে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দেশের আটটি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। ওই পর্যায়ে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়। গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। পরে নির্ধারিত এলাকাগুলোতে কর্মসূচির কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। প্রাক-পাইলটিংয়ের আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৮০ জনকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে এ পর্যায়ে মোট ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়। প্রাথমিক কার্যক্রম থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে কর্মসূচিটি আরও বেশি এলাকায় সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অক্টোবরে চালু হওয়া নতুন পর্যায়ে কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি কৃষি উপকরণ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যায়ে কৃষি উপকরণ সহায়তার আওতায় আসবেন ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক। এর মধ্যে ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলার ৭ হাজার ১৫৩ জন এবং বাকি ৫৫ জেলার ৯২ হাজার ৮৯৪ জন কৃষক রয়েছেন। অন্যদিকে, ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জেলার ছয়টি কৃষি ব্লকে কৃষক কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচিত এলাকাগুলোতে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কৃষকদের জন্য সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরির পাশাপাশি তাঁদের চাহিদা নিরূপণ, কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করাও কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে বিপুলসংখ্যক কৃষকের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও ব্যবস্থাপনা করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব খোলা, কার্ড বিতরণ এবং সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার অগ্রগতিও ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্প। প্রকল্পটির ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মো. রাকিবুজ্জামান খান বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ, তাঁদের চাহিদা নির্ধারণ এবং কৃষির আধুনিকায়নে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। তিনি জানান, কৃষকদের চাহিদা মৌসুম ও ফসলভেদে পরিবর্তিত হয়। ফলে তাঁদের প্রয়োজন যথাযথভাবে নিরূপণ করা একটি চ্যালেঞ্জ। তবে নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা গেলে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে। রাকিবুজ্জামান খান আরও বলেন, ইতোমধ্যে ২২ হাজার কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কৃষক কার্ড কর্মসূচির সঙ্গে বিভিন্ন তথ্য ও কার্যক্রমের সমন্বয় করা গেলে কৃষকদের নানা ধরনের কৃষিসেবার আওতায় আনা এবং মাঠপর্যায়ে সরকারি উদ্যোগগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ এবং তাঁদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে সহজ ও কার্যকর করা। এ জন্য তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষক কার্ড দেশের কৃষকদের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডারের আওতায় আনার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করা, তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক ও কৃষি উপকরণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং কৃষিসেবা কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল করার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি বলেন, কৃষকবান্ধব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের কল্যাণে কৃষক কার্ড চালু করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী চার বছরের মধ্যে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এ কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। সেলিম খান জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা ১০ ধরনের সেবা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে স্বল্প সুদে কৃষিঋণ, সেচ, সার, বীজ, প্রণোদনা, কৃষিবিমা, আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য এবং বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শসহ বিভিন্ন সুবিধা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষক কার্ড শুধু আর্থিক ও কৃষি উপকরণ সহায়তা দেওয়ার মাধ্যম নয়; এর মাধ্যমে কৃষকের প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করা এবং সরকার ও রাষ্ট্র কৃষকের পাশে রয়েছে—সেই বার্তাও তুলে ধরা হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ৬:১৬
বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা

সরকারি প্রাথমিকে শিক্ষকতায় প্রকৌশলী-চিকিৎসকসহ ৩০ ধরনের ডিগ্রিধারীরা

বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও রেকর্ড করা বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার

পুলিশ বাহিনী ঢেলে সাজাতে সরাসরি ১৪ হাজার এসআই-কনস্টেবল নিয়োগ

পুলিশ বাহিনী ঢেলে সাজাতে সরাসরি ১৪ হাজার এসআই-কনস্টেবল নিয়োগ

আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাইলেন শেখ হাসিনা
আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ চাইলেন শেখ হাসিনা

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা এবং নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ বন্ধ রাখার বিষয়ে জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর পক্ষে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক তিনজন বিশেষজ্ঞের কাছে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখার মাধ্যমে দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটিকে অংশ নিতে না দেওয়ার কারণে নির্বাচনের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র ও বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শেখ হাসিনা।   মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যভিত্তিক আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ম্যাট্রিক্স চেম্বার্স তাদের ওয়েবসাইটে যোগাযোগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ম্যাট্রিক্স চেম্বার্স জানিয়েছে, শেখ হাসিনার পক্ষে ব্রিটিশ আইনজীবী স্টিভেন পাওলস কেসি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের কাছে আবেদনটি জমা দিয়েছেন। তবে জাতিসংঘ এই আবেদনের ভিত্তিতে কোনো নির্দেশনা দিয়েছে কিংবা আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। যোগাযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। পরে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে। এর ফলে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারেনি। ওই নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। শেখ হাসিনার পক্ষের অভিযোগ, নতুন সরকারও আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ বহাল রেখেছে। আবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটার নিজেদের পছন্দের দলের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। শেখ হাসিনার আইনজীবীদের যুক্তি, কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলকে আইনগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে না দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করার চেষ্টা মৌলিক রাজনৈতিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁরা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক ছিল না বলে দাবি করেছেন। তবে এটি আবেদনকারীর পক্ষের আইনি ও রাজনৈতিক অবস্থান, জাতিসংঘ বা কোনো আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্ত নয়। ম্যাট্রিক্স চেম্বার্সের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, যোগাযোগপত্রে আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক চুক্তির চারটি অনুচ্ছেদ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার, ২২ নম্বর অনুচ্ছেদে সংগঠন করার স্বাধীনতা এবং ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক কার্যক্রম ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার সুরক্ষার কথা রয়েছে। শেখ হাসিনার আইনজীবীদের দাবি, আওয়ামী লীগের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা এসব অধিকারের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। যোগাযোগপত্রে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হামলা এবং দলীয় কার্যক্রমের ওপর বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশে আদালতের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আইনজীবী নিয়োগ, সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং আইনি প্রতিকার চাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আবেদনে উত্থাপিত প্রতিটি হামলা বা প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং পৃথক তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনের মাধ্যমে জাতিসংঘের তিনটি মানবাধিকার ম্যান্ডেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় মানবাধিকার সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক এবং গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাবিষয়ক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ। তাঁদের কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে প্রকাশ্য বিবৃতি দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। তবে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকদের কাছে যোগাযোগপত্র জমা দেওয়া এবং জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ গ্রহণ বা তার সত্যতা নিশ্চিত করা এক বিষয় নয়। বিশেষ প্রতিবেদক ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা জাতিসংঘের মানবাধিকার ব্যবস্থার আওতায় স্বাধীনভাবে কাজ করেন। তাঁরা অভিযোগ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চাইতে পারেন, উদ্বেগ জানাতে পারেন কিংবা প্রকাশ্য বিবৃতি দিতে পারেন। তবে তাঁদের কাছে আবেদন করলেই কোনো দেশের আইন বা সরকারি সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। এদিকে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞার পেছনে রয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে সংঘটিত আন্দোলন ও সহিংসতার ঘটনা। ওই সময় আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং ব্যাপক প্রাণহানির পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক তদন্তে তৎকালীন সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী ও আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। ফলে দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি অতীতের সহিংসতার বিচার ও জবাবদিহির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্য সরকারের ২২ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশবিষয়ক একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন সাধারণভাবে গণতান্ত্রিক, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পর্যবেক্ষণেও নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে একই প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ থাকার কথাও স্বীকার করা হয়েছে। ফলে নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন এবং আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়ার বৈধতা নিয়ে শেখ হাসিনার অভিযোগ আলাদা বিষয়। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টেও শেখ হাসিনার পক্ষে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের কাছে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়েছিল। সর্বশেষ যোগাযোগপত্রটি এসেছে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর। এতে আগের দাবির পাশাপাশি নির্বাচনের ফলাফলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন এবং চলমান নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে নতুন সরকারের দায়িত্বের প্রসঙ্গও যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আবেদনটির গুরুত্ব রয়েছে। একদিকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পেছনে অতীতের সহিংসতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক সংগঠন করার অধিকার, নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং ব্যক্তিগত অপরাধের দায় নির্ধারণের বিষয়গুলোও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনো রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আইনসম্মত ও প্রয়োজনীয় কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট আইন, নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য এবং ব্যবস্থাটির আনুপাতিকতা বিবেচনা করা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছেন শেখ হাসিনা। তাঁর আইনজীবীরা জাতিসংঘের তিনজন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তবে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই আবেদনের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা কী পদক্ষেপ নেন এবং বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানায়, তার ওপর পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে। সূত্র: ম্যাট্রিক্স চেম্বার্স, ২৭ অক্টোবর ২০২৬; ইন্ডিয়া টুডে, ২৮ অক্টোবর ২০২৬; যুক্তরাজ্য সরকারের বাংলাদেশবিষয়ক কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন নোট, ২২ অক্টোবর ২০২৬।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ৬:২১
জাপানে চাকরির সুযোগ পেতে প্রয়োজন ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা

পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে জাপানে যাবেন ১ লাখ বাংলাদেশি কর্মী, কোন খাতে কতজনের চাকরির সুযোগ

মেট্রোরেলের নতুন চুক্তি, প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কাজ

ঢাকার মেট্রোরেলে আড়াই লাখ কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা, বড় কাজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অবৈধ ভোট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি হাচিবুর রহমানে বিরুদ্ধে মামলা

মেট্রোরেলে স্ট্রোকের পরও সিটে বসতে দেয়নি কেউ, মুহূর্তে লুটিয়ে পড়ে মৃ ত্যু শিক্ষকের
মেট্রোরেলে স্ট্রোকের পরও সিটে বসতে দেয়নি কেউ, মুহূর্তে লুটিয়ে পড়ে মৃ ত্যু শিক্ষকের

রাজধানী ঢাকার মেট্রোরেলে অসুস্থ হয়ে পড়া এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে বসার জন্য আসন ছেড়ে দেননি কোনো সহযাত্রী। এমন অভিযোগ করেছেন তাঁর ছেলে নাকিবুর রহমান। গত শনিবার, ২৪ অক্টোবর, শাহবাগ থেকে উত্তরা যাওয়ার পথে শেওড়াপাড়া স্টেশনের কাছাকাছি অসুস্থ হয়ে পড়েন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজীবুর রহমান। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বাবার মৃত্যুর ঘটনা তুলে ধরে প্রবীণ ও অসুস্থ যাত্রীদের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর ছেলে।   জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য নাকিবুর রহমান জানান, ঘটনার দিন তাঁর বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে একটি বৈঠকে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে দুপুরে মেট্রোরেলে করে উত্তরার বাসায় ফিরছিলেন। যাত্রাপথে শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়া স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় তিনি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন। এ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হওয়ায় আশপাশের যাত্রীদের কাছে বসার জন্য জায়গা চান। কিন্তু কেউ তাঁকে আসন ছেড়ে দেননি বলে অভিযোগ করেন নাকিবুর। একপর্যায়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই তিনি মেট্রোরেলের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।   মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক পোস্টে নাকিবুর রহমান লেখেন, তাঁর বাবা গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে মেট্রোরেলে শাহবাগ থেকে উত্তরা ফেরার পথে শেওড়াপাড়া স্টেশনের কাছাকাছি স্ট্রোক করে মারা যান। মৃত্যুর আগে অসুস্থ বোধ করায় তিনি আশপাশের মানুষের কাছে বসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কেউ তাঁকে জায়গা ছেড়ে দেননি। পরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে নিচে পড়ে যান। বাবাকে এভাবে হারানোর বিষয়টি সন্তান হিসেবে মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর বলে জানান নাকিবুর। তবে এ ঘটনায় কারও প্রতি তাঁর কোনো রাগ বা অভিমান নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   নাকিবুর রহমানের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার সময় তাঁর বাবার একজন সহকর্মী একই মেট্রোরেলে ছিলেন। পেশায় চিকিৎসক ওই সহকর্মী নজীবুর রহমান মেঝেতে পড়ে যাওয়ার পর এগিয়ে আসেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন। প্রাথমিকভাবে তিনি বুঝতে পারেন, নজীবুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে। পরে তাঁকে উত্তরা উত্তর স্টেশনে নেওয়া হয়। সেখান থেকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর তাঁকে উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। বাবার আরেক সহকর্মীর কাছ থেকে খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান নাকিবুর।   তবে নজীবুর রহমানের মৃত্যুর সময় ও পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত বিবরণে কিছু পার্থক্য রয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৪ অক্টোবর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মেট্রোরেলে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁকে উত্তরার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে তাঁর ছেলের বক্তব্য অনুযায়ী, মেট্রোরেলের ভেতরেই তিনি মারা যান। নাকিবুর রহমান বাবার মৃত্যুর কারণ হিসেবে স্ট্রোকের কথা জানালেও হাসপাতালের চিকিৎসা নথি থেকে তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। একইভাবে যাত্রীরা তাঁকে আসন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   বাবার মৃত্যুর ঘটনা তুলে ধরে নাকিবুর রহমান সাধারণ মানুষের প্রতি মানবিক আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চলাফেরার সময় বয়স্ক বা প্রবীণ নাগরিকদের যেখানেই দেখা হোক, তাঁদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করা উচিত। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, 'আপনি আজকে যাকে ইগনোর করলেন, সে আপনার বাবা না হলেও, অন্য কারও বাবা।' একই সঙ্গে বাবার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউকে দোষারোপ না করার অনুরোধ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, গণপরিবহনে চলাচলের সময় আশপাশের মানুষের অসুবিধা ও প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা সবার উচিত।   বাবার মৃত্যুর সময় পরিবারের কেউ তাঁর পাশে থাকতে পারেননি বলেও জানান নাকিবুর রহমান। তাঁর মা ও ছোট ভাই তখন সৌদি আরবে ওমরাহ পালনে ছিলেন। আকস্মিক মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরও তাঁরা দ্রুত দেশে ফেরার টিকিটের ব্যবস্থা করতে পারেননি। নাকিবুরের ভাষ্য অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবরের আগে দেশে ফেরার টিকিট পাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে পরিবারের অন্য সদস্যদের অনুপস্থিতিতেই শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়েছে। বাবাকে শেষ মুহূর্তে দেখতে না পারার বিষয়টি পরিবারের জন্য আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে।   মৃত্যুকালে ড. মুহাম্মদ নজীবুর রহমানের বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রাজধানীর উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরে বসবাস করতেন তিনি। তাঁর গ্রামের বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলায়। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও শিক্ষার্থী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত শোকবার্তায় তাঁকে একজন সজ্জন, বিনয়ী ও নিষ্ঠাবান শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৪ অক্টোবর রাতে উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরের আইইএস স্কুল মসজিদে নজীবুর রহমানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ি বরিশালের গৌরনদীতে নিয়ে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিকে তাঁর ছেলের ফেসবুক পোস্ট সামনে আসার পর গণপরিবহনে প্রবীণ, অসুস্থ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত আসনের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মেট্রোরেলে এসব যাত্রীর জন্য সংরক্ষিত আসন থাকলেও প্রয়োজনে অন্য যাত্রীদের সহযোগিতার গুরুত্বও সামনে এসেছে। নাকিবুর রহমানের আহ্বান, এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কাউকে দোষারোপ না করে অসুস্থ ও প্রবীণ মানুষের প্রতি আরও সহমর্মী হতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১৩:৫৩
ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহ

ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বসিয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিলেই ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা ৫০ পয়সা প্রণোদনা

: মাথাপিছু জিডিপির পূর্বাভাসে বাংলাদেশ ও ভারত

২০২৬ সালে মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ, পূর্বাভাস আইএমএফের

শ্যালিকাকে বিয়ে ঘিরে নওগাঁয় মাসুদ রানাকে নিয়ে বিতর্ক (ছবি: সংগৃহীত)

শ্যালিকাকে বিয়ে করে বিতর্কে মাসুদ রানা, এবার মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে বের করে দিল গ্রামবাসী

0 Comments