বিমানের জানালা ভেঙে যাত্রী ‘বাইরে চলে যান’, দাবির আপত্তি রায়ানএয়ার সিইও
গ্রিস থেকে জার্মানিগামী রায়ানএয়ারের একটি বিমানের জানালা মাঝ আকাশে ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় যাত্রী লুবিশা কারোভিচের শরীরের অংশ বিমানের বাইরে চলে গিয়েছিল - এমন দাবি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন রায়ানএয়ারের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ও’লিয়ার। তাঁর দাবি, যাত্রীটি জানালার দিকে প্রবলভাবে টেনে নেওয়া হলেও তাঁর শরীরের কোনো অংশ বিমানের বাইরে যায়নি।
ঘটনাটি ঘটে ১০ জুলাই ২০২৬, থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিনজেনগামী রায়ানএয়ার ফ্লাইটে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড বা এনটিএসবি-র প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোয়িং ৭৩৭-৮এএস বিমানের ডান ইঞ্জিনের একটি ফ্যান ব্লেড ভেঙে যায়। ভাঙা অংশ বিমানের কাঠামো ভেদ করে কেবিনের একটি জানালা ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং কেবিনের চাপ কমে যায়।
এ ঘটনায় ৬১ বছর বয়সী কারোভিচ গুরুতর আহত হন। এনটিএসবি জানিয়েছে, বিমানে থাকা ১৫৪ জনের মধ্যে তিনিই গুরুতর আহত ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর ঘাড় ও কাঁধে আঘাত এবং শরীরে ঘর্ষণজনিত ক্ষত হয়। বিমানটি জরুরি অবতরণ না করে নিরাপদে থেসালোনিকি বিমানবন্দরে ফিরে যায়।
ঘটনার পর কারোভিচের স্ত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেবিনের চাপ কমে যাওয়ার পর তাঁর মাথা ও কাঁধ জানালার দিকে টেনে নেওয়া হয়। তাঁর স্ত্রী দাবি করেন, তিনি স্বামীর পা ধরে রেখেছিলেন এবং অন্য যাত্রীরাও তাঁকে বিমানের ভেতরে টেনে আনতে সাহায্য করেন। প্রাথমিক সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতেও ওই সময় তাঁকে আংশিকভাবে জানালার বাইরে চলে যেতে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছিল।
তবে ১০ সেপ্টেম্বর ডাবলিনে রায়ানএয়ারের বার্ষিক সাধারণ সভার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ও’লিয়ার এই বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, কারোভিচ অবশ্যই জানালার দিকে টেনে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু “তাঁর শরীরের কোনো অংশ জানালার বাইরে যায়নি” - এমনটাই রায়ানএয়ারের অবস্থান। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে যাত্রী আহত হয়েছেন এবং ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে।
এনটিএসবির প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, জানালা ভেঙে যাওয়ার আগে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা প্রচণ্ড কম্পনের শব্দ অনুভব করেন। এরপর কেবিনে ধোঁয়া বা কুয়াশার মতো কিছু দেখা যায় এবং অক্সিজেন মাস্ক নেমে আসে। বিমানটি তখন উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পর প্রায় ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উঠেছিল।
তদন্তে ইঞ্জিনের ফ্যান ব্লেড ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও দুর্ঘটনার পূর্ণ কারণ নির্ধারণের কাজ এখনো শেষ হয়নি। এনটিএসবি তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং বোয়িং, জিই অ্যারোস্পেস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এতে অংশ নিচ্ছে। এনটিএসবি জানিয়েছে, তাদের প্রাথমিক তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে।
ঘটনার বিষয়ে রায়ানএয়ারের বক্তব্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য থাকায় যাত্রী ঠিক কতটা জানালার বাইরে গিয়েছিলেন, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্রে অনলাইন ও সাইবার প্রতারণায় প্রতি ঘণ্টায় ২০ লাখ ডলারের বেশি হারাচ্ছেন মার্কিনিরা। ২০২৫ সালে এ ধরনের প্রতারণায় প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির অভিযোগ জমা পড়েছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) কাছে। অথচ আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের কাছ থেকে কত অর্থ উদ্ধার হয়েছে এবং তার কতটা ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়া হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেই মার্কিন সরকারের কাছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত মার্কিন কংগ্রেসের এক তদন্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রসঙ্গও এসেছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কংগ্রেসের জয়েন্ট ইকোনমিক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত চালিয়েছেন। সিনেটর ম্যাগি হাসান এবং কংগ্রেসম্যান ডন বেয়ারের নেতৃত্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কার্যক্রম, উদ্ধার করা অর্থ এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তার বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক প্রতারণা মোকাবিলায় সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতাও অনেক ক্ষেত্রে স্বেচ্ছামূলক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মার্কিন নাগরিকেরা সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার ক্ষতির অভিযোগ এফবিআইকে জানিয়েছেন। হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার এবং প্রতি ঘণ্টায় ২০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে। তবে এটি শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জমা পড়া অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি হিসাব। অনেক ভুক্তভোগী প্রতারণার ঘটনা জানাতে চান না কিংবা কোথায় অভিযোগ করতে হবে, তা জানেন না। ফলে প্রকৃত আর্থিক ক্ষতি আরও বেশি হতে পারে। তদন্তে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা প্রতারণার অর্থ উদ্ধার এবং ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়ার কাজ করলেও এসব কার্যক্রমের সমন্বিত তথ্যভান্ডার নেই। বিশেষ করে বিদেশে পরিচালিত প্রতারণা কেন্দ্র থেকে কত অর্থ জব্দ করা হয়েছে, কোন সংস্থা কত অর্থ উদ্ধার করেছে এবং তার কতটা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ফেরত দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি। এতে সরকারি উদ্যোগের প্রকৃত কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এফবিআই কংগ্রেসের তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের ৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার ফেরত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ফেডারেল ট্রেড কমিশন বা এফটিসি জানিয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন প্রতারণাসংক্রান্ত আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তাদের ১৮৩ কোটি ডলার ফেরত দেওয়া হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি। তবে এফটিসি নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি, ফেরত দেওয়া অর্থের কতটা বিদেশে পরিচালিত প্রতারণা চক্রের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছিল। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছর মিলিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার ঘটনায় জব্দ করা সম্পদ থেকে ভুক্তভোগীদের ৭৭ কোটি ডলারের বেশি ফেরত দেওয়া হয়েছে। এই অর্থও শুধু আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ফলে এফবিআই, এফটিসি ও সিক্রেট সার্ভিসের প্রকাশিত হিসাব সরাসরি যোগ করে বিদেশি প্রতারণা চক্র থেকে উদ্ধার করা মোট অর্থ হিসেবে দেখানো যাবে না। সংস্থাগুলোর হিসাবের সময়কাল এবং অপরাধের ধরনও আলাদা। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাপ্রাপ্ত বিদেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো প্রতারণা চক্রের কাছ থেকে কয়েক শ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে। তবে সুনির্দিষ্ট হিসাব জানতে বিচার বিভাগ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, প্রতারণা মোকাবিলায় একাধিক সংস্থা কাজ করলেও উদ্ধার করা অর্থ এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা চক্রের কর্মকাণ্ড নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বড় আকারের প্রতারণা কেন্দ্র পরিচালনার তথ্য উঠে এসেছে। এসব কেন্দ্র থেকে ভুয়া বিনিয়োগের প্রলোভন, অনলাইন প্রেমের সম্পর্কের নামে প্রতারণা, ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন আর্থিক কৌশলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের নানা দেশের মানুষকে লক্ষ্য করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা ব্যবহার করছে অপরাধী চক্রগুলো। কংগ্রেসের তদন্ত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর ইউএনওডিসির সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা কার্যক্রমের উদীয়মান কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে তৈরি ওই গবেষণায় আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে কতটি প্রতারণা কেন্দ্র রয়েছে কিংবা দেশটি থেকে মার্কিন নাগরিকদের কত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, তার নির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট কমানোর কারণে বাংলাদেশে সাইবার প্রতারণা তদন্তে সহায়তাকারী অন্তত একটি কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেছে বলে কংগ্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। কর্মসূচিটির আওতায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সাইবার প্রতারণার তদন্তসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্র নতুন নতুন দেশে কার্যক্রম বিস্তার করলেও অপরাধ মোকাবিলায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি উদ্যোগ বন্ধ হওয়ার বিষয়টিকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণার উদীয়মান কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করার অর্থ এই নয় যে দেশটির সব অনলাইন কার্যক্রম কিংবা সাধারণ নাগরিকেরা এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত। আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রগুলো বিভিন্ন দেশে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, আর্থিক যোগাযোগ এবং অপরাধী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। কিছু ক্ষেত্রে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদেরও জোরপূর্বক প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হয়। ফলে অপরাধী চক্রের পরিচালনাকারী এবং শোষণের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য করা গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন কংগ্রেসের জয়েন্ট ইকোনমিক কমিটির জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সদস্য সিনেটর ম্যাগি হাসান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধী সংগঠনগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতারণা চালাচ্ছে। তাঁর মতে, প্রতারণার বিস্তার ও আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় কংগ্রেস, প্রশাসন এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও কার্যকরভাবে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। শুধু অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ নয়, প্রতারণা সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মার্কিন প্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতারণা প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর সমন্বিত জবাবদিহির ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরে গ্রাহকদের প্রতারণা থেকে রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও আইনি বাধ্যবাধকতার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে এখনো একই ধরনের বিস্তৃত ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য আন্তর্জাতিক প্রতারণা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়েছে। একাধিক সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত স্ক্যাম সেন্টার স্ট্রাইক ফোর্স বিভিন্ন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের সহায়তায় প্রতারণা চক্রের ব্যবহৃত মার্কিন প্রযুক্তিগত অবকাঠামো শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার কাজ করছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্র দপ্তর গুগল, মেটা ও স্টারলিংকের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তথ্য বিনিময় এবং অপরাধীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করার বিষয়ে যোগাযোগ করেছে। তবে তদন্তকারীদের মতে, এসব উদ্যোগের পরও একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশলের প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছে আলাদাভাবে অভিযোগ করতে হয়। অনেকেই বুঝতে পারেন না, কোন সংস্থার কাছে অভিযোগ করলে দ্রুত সহায়তা পাওয়া যাবে। এ সমস্যা সমাধানে একটি কেন্দ্রীয় অভিযোগ গ্রহণ ও সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং উদ্ধার করা অর্থের হিসাব সংরক্ষণের ব্যবস্থা উন্নত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও অনলাইন প্রতারণার এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, অনলাইন বিনিয়োগ, চাকরির প্রস্তাব এবং সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে অর্থ দাবি করার মতো প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ পাঠানোর আগে পরিচয় যাচাই এবং সন্দেহজনক লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। প্রতারণার শিকার হলে এফবিআইয়ের ইন্টারনেট ক্রাইম কমপ্লেইন্ট সেন্টারের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের তদন্তে আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণার আর্থিক ক্ষতি এবং তা মোকাবিলায় সরকারি ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে এসেছে। ২০২৫ সালে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির অভিযোগ থাকলেও উদ্ধার ও ফেরত দেওয়া অর্থের পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত হিসাব নেই। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম বিস্তারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রতারণা প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের সহায়তা এবং প্রযুক্তি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর সমন্বয়ের সুপারিশ করেছেন তদন্তকারীরা। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের জয়েন্ট ইকোনমিক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যদের তদন্ত প্রতিবেদন, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, মার্কিন কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের।
বন্যায় বিচ্ছিন্ন বাড়ি, ১২ বার খিঁচুনি নবজাতকের, জীবন বাঁচাতে বুকসমান পানিতে উদ্ধারকারীরা
মেক্সিকোর পানির সংকট যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও বড় সতর্কবার্তা
স্পেন থেকে বাংলাদেশিসহ ১৬ অভিবাসীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে
স্পেনের মধ্যাঞ্চলীয় তোলেদো প্রদেশে দুটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী ট্রেনের সং ঘ র্ষে অন্তত ৩৯ জনের প্রাণ হা নির খবর পাওয়া গেছে। বুধবার সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয়। কয়েকটি প্রতিবেদনে প্রাণ হা নির সংখ্যা ৪৬ বলা হলেও এ বিষয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে আঞ্চলিক সরকার অন্তত ১০ জনের প্রাণ হা নির তথ্য নিশ্চিত করেছিল। পরে জরুরি সেবার সূত্রের বরাতে প্রাণ হা নির সংখ্যা বাড়ার খবর আসে। উদ্ধারকাজ চলতে থাকায় হ তা হ তের চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। স্পেনের রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফ জানিয়েছে, বুধবার সকালে তোলেদো প্রদেশে দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি দ্রুতগতির ট্রেন থেমে থাকা আরেকটি ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। তবে ঠিক কী কারণে সং ঘ র্ষ ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া পর্যন্ত দ্রুতগতির রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। মাদ্রিদ, সিউদাদ রিয়াল ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে ট্রেন চলাচল স্থগিত থাকায় যাত্রীদের যাত্রা ব্যাহত হয়েছে। কখন আবার রেল চলাচল স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলোতে নিশ্চিত কোনো সময় জানানো হয়নি। কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের সরকারের মুখপাত্র এস্থার পাদিয়া জানান, প্রথম দফায় অন্তত ১০ জনের প্রাণ হা নির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে উদ্ধারকাজ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। দুর্ঘটনায় আ হ তের সঠিক সংখ্যা এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ তথ্যও প্রাথমিক পর্যায়ে পাওয়া যায়নি। স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভিইকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুটি ট্রেনেই কয়েক শ যাত্রী ছিলেন। একটি ট্রেন অন্যটির পেছনে ধাক্কা দেওয়ার পর দুটি বগি রেললাইন থেকে ছিটকে যায়। দুর্ঘটনাস্থলটি উর্দা ও লস ইয়েবেনেস শহরের মধ্যবর্তী কৃষিজমি ঘেরা সমতল এলাকায়। সং ঘ র্ষের তীব্রতায় একটি বগির বড় অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ধাতব টুকরাসহ বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ পাশের ঢালু জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোনিকা গার্সিয়া জানান, উদ্ধারকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বগি থেকে জীবিত যাত্রীদের উদ্ধার এবং প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের ম র দে হ উদ্ধারে মনোযোগ দিচ্ছেন। আ হ তদের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। দুর্ঘটনার তীব্রতা বিবেচনায় পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্ঘটনায় স্পেনের রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফে এবং বেসরকারি রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইরিওর ট্রেন জড়িত ছিল। প্রাথমিক সংবাদে বলা হয়েছে, রেনফের ট্রেনটি ইরিওর ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দেয়। তবে সং ঘ র্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত প্রয়োজন। আঞ্চলিক সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রেনফের ট্রেনে ৩৯৭ জন যাত্রী ছিলেন। ইরিওর ট্রেনে ছিলেন ১৪৭ জন যাত্রী। অর্থাৎ দুটি ট্রেনে মোট পাঁচ শতাধিক মানুষ ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কতজন আ হ ত হয়েছেন, তা নিয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলোতে একক কোনো নিশ্চিত হিসাব পাওয়া যায়নি। ইরিও কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত জরুরি ব্যবস্থা চালু করেছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য সামরিক জরুরি সেবা ইউনিট, দমকলকর্মী, পুলিশ ও অন্যান্য জরুরি সেবার কর্মীদের মোতায়েন করা হয়। কাছের উর্দা শহরের মেয়র ম্যানুয়েল গালান জানান, আ হ ত যাত্রীদের প্রয়োজনে আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়ার জন্য স্থানীয় একটি ক্রীড়া ভবন প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর তাঁর নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি ঘটনাটিকে গুরুতর রেল দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রী ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বয় করছে বলেও জানান তিনি। কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পাখে দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা জানান। স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবার কর্মীরা উদ্ধার এবং আ হ তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন। চলতি বছর স্পেনে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের রেল দুর্ঘটনা। এর আগে জানুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় আদামুজ এলাকায় একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সং ঘ র্ষে জড়ায়। ওই দুর্ঘটনায় ৪৫ জনের প্রাণ হা নির খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ঘটনা স্পেনের বিস্তৃত দ্রুতগতির রেলব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। তোলেদোর নতুন দুর্ঘটনাও দেশটির রেল যোগাযোগের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে বর্তমান দুর্ঘটনার কারণ, দায়ী কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল কি না এবং রেল পরিচালনায় কোনো ভুল ঘটেছিল কি না—এসব বিষয়ে তদন্তের ফল না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
‘ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থি’ যুক্তিতে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধ করল তালেবান, দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে রোগীরা
নির্বাচনে হারার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাভিও বলসোনারো, পরিবারসহ ভিসা দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
"তুই আমার থেকে বেশি আয় করিস" মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় স্ত্রীকে রাস্তায় মারধর
করোনাভাইরাস মহামারির সময় সামাজিক দূরত্বের বিধিনিষেধে মসজিদে জায়গার সংকট দেখা দেওয়ায় ২০২০ সালের রমজানে মুসলিমদের জুমার নামাজ আদায়ের জন্য দরজা খুলে দিয়েছিল জার্মানির বার্লিনের একটি লুথেরান গির্জা। শহরের ক্রয়ৎসবার্গ এলাকায় অবস্থিত মার্থা লুথেরান চার্চের এ উদ্যোগ আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। বার্লিনের নয়ক্যোলন এলাকায় অবস্থিত দার আসসালাম মসজিদে সাধারণত শত শত মুসল্লি নামাজ আদায় করতেন। কিন্তু করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম কার্যকর থাকায় একসঙ্গে মাত্র ৫০ জনের মতো মুসল্লির নামাজ আদায়ের সুযোগ ছিল। ফলে রমজান মাসে বিশেষ করে জুমার নামাজের জন্য জায়গার সংকট তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে কাছাকাছি অবস্থিত মার্থা লুথেরান চার্চ মুসল্লিদের জন্য নিজেদের প্রার্থনাকক্ষ ব্যবহারের সুযোগ দেয়। গির্জার ভেতরে মুসল্লিরা আরবি ভাষায় জুমার নামাজ আদায় করেন। তাঁদের মাথার ওপর ছিল ভার্জিন মেরির ছবি সংবলিত রঙিন কাচের জানালা, যা দৃশ্যটিকে বিশেষ তাৎপর্য দেয়। দার আসসালাম মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ তাহা সাবরি এ উদ্যোগকে কঠিন সময়ে সংহতি ও সহমর্মিতার নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, সংকটের সময় একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়। গির্জার যাজক মনিকা ম্যাথিয়াসও মুসলিমদের নামাজের আয়োজনে অংশ নেন। ভিন্ন ধর্মের মানুষের কাছ থেকে শেখা, তাঁদের বিশ্বাসকে বোঝা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। ২০২০ সালের মে মাসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে আসে ঘটনাটি। করোনার বিধিনিষেধের মধ্যে ধর্মীয় উপাসনালয়ের সীমিত সক্ষমতা যে মানুষের ধর্মীয় চর্চায় বাধা তৈরি করেছিল, এ উদ্যোগ তার একটি বাস্তব উদাহরণ। একই সঙ্গে এটি দেখিয়ে দেয়, সংকটের সময় ধর্মীয় পরিচয়ের সীমা পেরিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। মসজিদে জায়গার অভাবে মুসল্লিদের নামাজ আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও গির্জার এ সহযোগিতায় তাঁরা জুমার নামাজ আদায়ের সুযোগ পান। মহামারির কঠিন সময়ে বার্লিনের এই উদ্যোগ বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সহাবস্থান, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি স্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।
ছেলেকে নার্সারিতে পৌঁছে দিতে গিয়ে মায়ের কোলের নবজাতকের মাথায় অ্যাভোকাডো পড়ে শিশুর মৃত্যু
কানাডার আলবার্টায় মসজিদের ইমামকে ঘিরে পুরোনো মার্কিন মামলা, যৌন অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা