সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

৪ কোটি ডলারের সোনা লুকিয়ে রাখার পর যা ঘটল সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার সঙ্গে!

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৬:৪৬
ডেভিড জে. রাশের বাড়িতে মিলেছিল ৩০০ সোনার বার, ২০ লাখ ডলার ও বিলাসবহুল ঘড়ি
ডেভিড জে. রাশের বাড়িতে মিলেছিল ৩০০ সোনার বার, ২০ লাখ ডলার ও বিলাসবহুল ঘড়ি

বাড়ি থেকে ৪ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সোনার বার উদ্ধারের পর চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা ডেভিড জে. রাশ একটি সমঝোতামূলক রফার দিকে এগিয়েছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাঁর আইনজীবী ও সরকারি কৌঁসুলিরা একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছেন। এর ফলে মামলাটি পূর্ণাঙ্গ বিচার পর্যন্ত না-ও গড়াতে পারে।


শুক্রবার এক ফেডারেল বিচারক রাশকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করার সময়সীমা ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। সরকারি কৌঁসুলি ও রাশের আইনজীবী চুক্তির চূড়ান্ত বিষয়গুলো ঠিক করার জন্য আরও সময় চেয়েছিলেন। আদালতে জমা দেওয়া যৌথ আবেদনে সম্ভাব্য সমঝোতার বিস্তারিত জানানো হয়নি।


রাশের বিরুদ্ধে গত মে মাসে সরকারি অর্থ চুরির অভিযোগ আনা হয়। এফবিআইয়ের এক কর্মকর্তার আদালতে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ২০১৫ সালে নৌবাহিনী থেকে সম্মানের সঙ্গে অবসর নেওয়ার পরও রাশ তাঁর সময়ের হিসাবপত্রে ৭৪৪ ঘণ্টা সামরিক ছুটি নেওয়ার কথা দেখিয়েছিলেন। পাশাপাশি ক্লেমসন ইউনিভার্সিটি ও রেনসেলার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিগ্রি অর্জনের মিথ্যা দাবি করে তিনি নিজের বেতন বাড়িয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


তদন্তের সময় রাশের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ উদ্ধার করে এফবিআই। এর মধ্যে ছিল প্রায় ৩০০টি সোনার বার, যার মোট মূল্য ৪ কোটি ডলারের বেশি। এ ছাড়া প্রায় ২০ লাখ ডলার নগদ অর্থ এবং প্রায় ৩৫টি বিলাসবহুল ঘড়িও উদ্ধার করা হয়।


এফবিআইয়ের হলফনামায় বলা হয়েছে, রাশ মার্কিন সরকারের কাছ থেকে ‘কাজ-সংক্রান্ত খরচের’ জন্য ওই সোনার বারগুলো পেয়েছিলেন। তবে তাঁর আইনজীবী দাবি করেছেন, রাশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সঙ্গে সোনার বারগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি সোনার বিষয়টিকে মামলার একটি ‘চাঞ্চল্যকর তথ্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।


তবে জুনে আদালতে এক বিচার বিভাগের আইনজীবী জানান, রাশের বাড়িতে ওই সোনার বার রাখার কথা ছিল না। বিষয়টি নিয়ে তদন্তকারীদের মধ্যে আলাদা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।


এদিকে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। রাশের আইনজীবীর কাছ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আদালতের নথি অনুযায়ী, মামলাটি বিচার পর্যন্ত গড়ালে গোপনীয় বা শ্রেণিবদ্ধ তথ্য নিয়ে বড় ধরনের আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা ছিল।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
সন্তান পালনে খরচ বাড়ছে, এক অভিভাবকের বাড়িতে থাকা নিয়ে নতুন গবেষণা
সন্তান পালনে এক অভিভাবক ঘরে থাকলে যেসব রাজ্যে খরচ কম

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান লালন-পালনের খরচ বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার ভাবছে, দুজনই চাকরি করবেন নাকি একজন বাড়িতে থেকে সন্তানের দেখাশোনা করবেন। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজ্যে একজন অভিভাবক চাকরি ছেড়ে বাড়িতে থাকলেও পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ তুলনামূলক কম আয়ে সামলানো সম্ভব। আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্মার্টঅ্যাসেটের ২০২৬ সালের বিশ্লেষণে ৫০টি রাজ্যে তিন সদস্যের একটি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় আয় তুলনা করা হয়েছে। হিসাবটি করা হয়েছে এমন একটি পরিবার ধরে, যেখানে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ও একটি শিশু রয়েছে এবং একজন অভিভাবক চাকরি না করে বাড়িতে থেকে শিশুর যত্ন নিচ্ছেন। গবেষণাটি ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়। গবেষণা অনুযায়ী, সবচেয়ে কম আয়ে এমন পরিবার চালানো সম্ভব আরকানসাসে। সেখানে একজন কর্মজীবী অভিভাবকের বার্ষিক আয় প্রয়োজন প্রায় ৬৮ হাজার ৮৬৯ ডলার। এরপর রয়েছে মিসিসিপি, কেনটাকি, পশ্চিম ভার্জিনিয়া ও নর্থ ডাকোটা। এসব রাজ্যে একজন অভিভাবক বাড়িতে থেকে সন্তান দেখাশোনা করলে পরিবারের প্রয়োজনীয় আয় তুলনামূলকভাবে কম। কেনটাকিতে এই পরিবারের জন্য একজন কর্মজীবী অভিভাবকের প্রয়োজনীয় বার্ষিক আয় প্রায় ৭০ হাজার ১৭৯ ডলার। অন্যদিকে টেনেসিতে প্রয়োজন প্রায় ৭২ হাজার ৯৪৬ ডলার। টেনেসির ক্ষেত্রে দুজন অভিভাবক কাজ করলে পরিবারের মোট প্রয়োজনীয় আয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮৩ হাজার ৭৫ ডলার। তবে সব রাজ্যে পরিস্থিতি একই নয়। হাওয়াইয়ে একজন অভিভাবককে বাড়িতে রেখে পরিবার চালাতে সবচেয়ে বেশি আয় প্রয়োজন—প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার ৪৯৬ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ১ হাজার ২১৩ ডলার এবং ম্যাসাচুসেটসে প্রায় ৯৯ হাজার ৯৬৫ ডলার। অর্থাৎ বসবাসের রাজ্য অনুযায়ী একজন অভিভাবক ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালনের আর্থিক বাস্তবতায় বড় পার্থক্য রয়েছে। স্মার্টঅ্যাসেটের হিসাব অনুযায়ী, একজন অভিভাবক বাড়িতে থাকলে পরিবারের বড় একটি ব্যয়—শিশুর দেখাশোনার খরচ—কমতে পারে। তবে এর বিপরীতে একজনের বেতন, অবসরকালীন সঞ্চয়ে অবদান, সোশ্যাল সিকিউরিটির উপার্জনভিত্তিক সুবিধা এবং নিয়োগকর্তার দেওয়া স্বাস্থ্যসুবিধার মতো বিষয় হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই শুধু আয় নয়, পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনাও এ ধরনের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণাটিতে আরও বলা হয়েছে, এসব হিসাব রাজ্যভিত্তিক গড় মডেলের ওপর তৈরি। বসবাসের কাউন্টি, সন্তানের বয়স, কর ও সরকারি সুবিধার পার্থক্যের কারণে একটি পরিবারের প্রকৃত প্রয়োজনীয় আয় এর চেয়ে কম-বেশি হতে পারে। গবেষণার তথ্যের ভিত্তি হিসেবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির এমআইটি লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটরের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। সূত্র: ডব্লিউকেআরএন, স্মার্টঅ্যাসেট, এমআইটি লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৭:৪৩
ট্রাম্পের নীতিতে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা, আমেরিকান পণ্য ও ভ্রমণ বর্জনের পথে

ট্রাম্পের নীতিতে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা, বয়কট করছেন আমেরিকা: বন্ধ হচ্ছে কেনাকাটা ও ভ্রমণ

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের ঋণ ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারে, বাড়ছে ক্রেডিট কার্ডের নির্ভরতা

খরচ বাড়ছে, সঞ্চয় ফুরোচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারগুলোর ঋণ এখন ১৮ ট্রিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে ৪০১(কে) সঞ্চয়ে নতুন রেকর্ড

৪০১(কে)-তে আমেরিকানদের গড় সঞ্চয় বেড়ে রেকর্ড, এক বছরে বাড়ল ১৩ শতাংশ

ডেভিড জে. রাশের বাড়িতে মিলেছিল ৩০০ সোনার বার, ২০ লাখ ডলার ও বিলাসবহুল ঘড়ি
৪ কোটি ডলারের সোনা লুকিয়ে রাখার পর যা ঘটল সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার সঙ্গে!

বাড়ি থেকে ৪ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সোনার বার উদ্ধারের পর চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা ডেভিড জে. রাশ একটি সমঝোতামূলক রফার দিকে এগিয়েছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাঁর আইনজীবী ও সরকারি কৌঁসুলিরা একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছেন। এর ফলে মামলাটি পূর্ণাঙ্গ বিচার পর্যন্ত না-ও গড়াতে পারে। শুক্রবার এক ফেডারেল বিচারক রাশকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করার সময়সীমা ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। সরকারি কৌঁসুলি ও রাশের আইনজীবী চুক্তির চূড়ান্ত বিষয়গুলো ঠিক করার জন্য আরও সময় চেয়েছিলেন। আদালতে জমা দেওয়া যৌথ আবেদনে সম্ভাব্য সমঝোতার বিস্তারিত জানানো হয়নি। রাশের বিরুদ্ধে গত মে মাসে সরকারি অর্থ চুরির অভিযোগ আনা হয়। এফবিআইয়ের এক কর্মকর্তার আদালতে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ২০১৫ সালে নৌবাহিনী থেকে সম্মানের সঙ্গে অবসর নেওয়ার পরও রাশ তাঁর সময়ের হিসাবপত্রে ৭৪৪ ঘণ্টা সামরিক ছুটি নেওয়ার কথা দেখিয়েছিলেন। পাশাপাশি ক্লেমসন ইউনিভার্সিটি ও রেনসেলার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিগ্রি অর্জনের মিথ্যা দাবি করে তিনি নিজের বেতন বাড়িয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের সময় রাশের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ উদ্ধার করে এফবিআই। এর মধ্যে ছিল প্রায় ৩০০টি সোনার বার, যার মোট মূল্য ৪ কোটি ডলারের বেশি। এ ছাড়া প্রায় ২০ লাখ ডলার নগদ অর্থ এবং প্রায় ৩৫টি বিলাসবহুল ঘড়িও উদ্ধার করা হয়। এফবিআইয়ের হলফনামায় বলা হয়েছে, রাশ মার্কিন সরকারের কাছ থেকে ‘কাজ-সংক্রান্ত খরচের’ জন্য ওই সোনার বারগুলো পেয়েছিলেন। তবে তাঁর আইনজীবী দাবি করেছেন, রাশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সঙ্গে সোনার বারগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি সোনার বিষয়টিকে মামলার একটি ‘চাঞ্চল্যকর তথ্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে জুনে আদালতে এক বিচার বিভাগের আইনজীবী জানান, রাশের বাড়িতে ওই সোনার বার রাখার কথা ছিল না। বিষয়টি নিয়ে তদন্তকারীদের মধ্যে আলাদা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এদিকে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। রাশের আইনজীবীর কাছ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আদালতের নথি অনুযায়ী, মামলাটি বিচার পর্যন্ত গড়ালে গোপনীয় বা শ্রেণিবদ্ধ তথ্য নিয়ে বড় ধরনের আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা ছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৬:৪৬
এপস্টিন-ট্রল নিয়ে কাশ প্যাটেলের বার্তালাপ ফাঁস

এপস্টিন-সম্পর্কিত ট্রল অ্যাকাউন্টকে জবাব দিতে চেয়েছিলেন এফবিআই প্রধান কাশ প্যাটেল

নিউইয়র্কে সরকারি-বেসরকারি খাতে নতুন নিয়োগ

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর! নিউইয়র্কে সরকারি-বেসরকারি খাতে নতুন নিয়োগ

মেরিল্যান্ডে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ব্যাটন দিয়ে পেটালো আইসিই

মেরিল্যান্ডে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ব্যাটন দিয়ে পেটালো আইসিই, তদন্তের দাবি

এআই প্রতিযোগিতায় জয়ী দেশই এগিয়ে থাকবে
এআই প্রতিযোগিতায় জয়ী দেশই এগিয়ে থাকবে, চীনের সঙ্গে জিততে চান ট্রাম্প

চীনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্রুতগতিতে এআই উন্নয়নের ঝুঁকি নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের সতর্কতার মধ্যেই তিনি কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা কম গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে হবে।    আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, এআইয়ের ক্ষেত্রে কিছু গার্ডরেল বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। তবে প্রযুক্তিটির দ্রুত বিকাশ ধীর করার পক্ষে তিনি অবস্থান নেননি। বরং এআই নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ তৈরির জন্য কিছু ‘নেতিবাচক শক্তিকে’ দায়ী করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য, এআই প্রতিযোগিতায় যে দেশ জয়ী হবে, তারাই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবে।    ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে এআই নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের ভেতরেই নতুন উদ্বেগ তৈরির সময়। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও অ্যামোডেই সম্প্রতি এআই উন্নয়নের গতি কিছুটা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রযুক্তির সক্ষমতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারে। তার এই অবস্থানকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন এক্সএআইয়ের ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান।    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও এআই নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। হাউস স্পিকার মাইক জনসন বলেছেন, এআই যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সে জন্য কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগতি ধরে রাখার বিষয়টিকেও তিনি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফরিসও দ্রুত এআই উন্নয়নের গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমেরিকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।    এআই নিয়ে উদ্বেগ শুধু নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বড় আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণের কারণে কৃষিজমি, পানি ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ বিল নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এআইয়ের কারণে ভবিষ্যতে চাকরির ধরন বদলে যাওয়া বা কিছু কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এআইয়ের নিরাপত্তা, শিশুদের ওপর প্রভাব এবং সম্ভাব্য চাকরি হারানোর বিষয়গুলোকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।    বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যদি পরস্পরকে টেক্কা দিতে গিয়ে এআই উন্নয়নের গতি আরও বাড়াতে থাকে, তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তির সক্ষমতার ব্যবধান তৈরি হতে পারে। অ্যানথ্রপিকের সাবেক কর্মী জ্যাকব কক্সন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই নিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তার মতে, দুই দেশ একই প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকলে ঝুঁকিও বাড়তে পারে।    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এআই নিরাপত্তা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। উন্নত এআই ব্যবস্থার সম্ভাব্য ঝুঁকি, সাইবার হামলা এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের মতো বিষয় এসব আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনা এআই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন প্রযুক্তি অনুকরণের অভিযোগ তুলেছে, যা দুই দেশের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কীভাবে এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ধরে রাখা যায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৩:১০
বিদ্রুপ ও আপত্তি সত্বেও  ৯/১১ স্মরণে উপস্থিত মামদানি

বিদ্রুপ ও আপত্তি সত্বেও ৯/১১ স্মরণে উপস্থিত মামদানি, স্মরণানুষ্ঠান শেষ হওয়া পর্যন্ত পাশে ছিলেন তিনি

পেন স্টেটের ফ্র্যাট হাউসে কোকেন ভাগ করে করা হচ্ছে প্যাকেট

পেন স্টেটের ফ্র্যাট হাউসে কোকেন ভাগ করে করা হচ্ছে প্যাকেট, ক্যাম্পাসে বাড়ছে মাদকঝুঁকি

আইসিইর আটক নিয়ে প্রশ্ন তোলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বরখাস্ত

আইসিইর আটক নিয়ে প্রশ্ন তোলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বরখাস্ত, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাবেক বিচারকের মামলা

0 Comments