সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে দেড় বছরে ২০০ কোটি ডলারের সমরাস্ত্র আমদানি ইরানের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১২:৪২
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে দেড় বছরে ২০০ কোটি ডলারের সমরাস্ত্র আমদানি ইরানের
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে দেড় বছরে ২০০ কোটি ডলারের সমরাস্ত্র আমদানি ইরানের

মার্কিন নৌ অবরোধ ও পশ্চিমা কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে একটি বিশাল গোপন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। অন্তত পাঁচ হাজার প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে তৈরি এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম, বিস্ফোরক ও ভারী যানবাহন আমদানি করেছে দেশটি।

 

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং ইসরায়েলি-আমেরিকান ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ২৪০ অ্যানালিটিকস-এর যৌথ অনুসন্ধানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, নেটওয়ার্কের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর নামের শুরুতে ‘এমওডি’ (MOD) বা ফারসি ভাষায় ‘ভিওডিজেএ’ (VODJA) লেখা থাকে, যার সাথে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ‘বুনিয়াদ’-এর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই ২০১৩ সালে গঠিত হলেও, নথিপত্রে কৌশলগত কারণে সেগুলোর প্রতিষ্ঠাকাল হিসেবে ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি (ইরানের ইসলামি বিপ্লবের দিন) উল্লেখ করা হয়। এই নেটওয়ার্ক মূলত তেল বিক্রির অর্থ ব্যবহার করে মধ্যস্থতাকারী এবং বিদেশি ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে চীন, রাশিয়া, জার্মানি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রকেটের কাঁচামাল, বিস্ফোরক এবং দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ আমদানি করে।

 

বিশেষ করে, এমওডি ৩৪৬৪২৮ নামক প্রতিষ্ঠানটি একাই ২৩০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ৪৩৫টি ইভেকো ট্রাক এবং হাজার হাজার টয়োটা পিকআপ, যা পরবর্তীতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযান হিসেবে রূপান্তরিত করা সম্ভব। অবাক করা বিষয় হলো, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সংঘাত শুরুর পরও চীন ও রাশিয়া থেকে টাইটানিয়াম, নাইট্রোসেলুলোজ ও ডেটোনেটরের মতো সংবেদনশীল সামরিক কাঁচামালের সরবরাহ অব্যাহত ছিল।

 

বিশেষজ্ঞরা ইরানের এই গোপন সরবরাহব্যবস্থাকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বহর পুনর্গঠনের ‘শিল্প-পর্যায়ের উদ্যোগ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা ইরানের আয়ের উৎস বন্ধ করতে কাজ করছেন এবং এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ফাঁকির চেষ্টার ওপর কড়া নজর রাখছেন।

 

অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, তারা এই বিষয় সম্পর্কে অবগত নয় এবং আঞ্চলিক সংঘাতে তাদের জড়ানোর যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে। তবে ইরান, রাশিয়া এবং হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ইসরায়েলের নির্বাচনে আসন কমেছে নেতানিয়াহুর, সরকার গঠনের সুযোগ দেখছেন না লাপিদ
ইসরায়েলের নির্বাচনে আসন কমেছে নেতানিয়াহুর, সরকার গঠনের সুযোগ দেখছেন না লাপিদ

ইসরায়েলের সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনে কোনো জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ১২০ আসনের নেসেটে (ইসরায়েলের পার্লামেন্ট) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পেতে ব্যর্থ হয়েছে প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবির।   সর্বশেষ ভোট গণনা শেষে ইসরায়েলি সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ জোট ৫৩টি, বিরোধী ‘চেঞ্জ’ বা পরিবর্তন জোট ৪৮টি এবং আরব দলগুলো ১৯টি আসন পেয়েছে। আগামী ৪ নভেম্বর চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।   এই জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদ মন্তব্য করেছেন যে, নেতানিয়াহুর সামনে নতুন করে সরকার গঠনের আর কোনো সুযোগ অবশিষ্ট নেই।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইয়াইর লাপিদ নেতানিয়াহুর জোটের পাওয়া ৫৩টি আসনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, শত চেষ্টা করলেও তার পক্ষে এবার সরকার গঠন করা সম্ভব নয়। বিদায়ী নেসেটে লিকুদ জোটের ৬৮টি আসন থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে লাপিদ বর্তমান ফলাফলকে নেতানিয়াহুর জন্য এক বড় বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।   ১৯৯৯ সালের পর এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৭৭.৭ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতিকে বিরোধী জোটের জন্য ‘পয়েন্টের ভিত্তিতে জয়’ বা সামান্য ব্যবধানের জয় হিসেবে দেখছেন তিনি। তবে সরকার গঠনের পথ যে বেশ কঠিন, তা স্বীকার করে তিনি সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। লাপিদ জানান, নির্বাচনী প্রচারণার চেয়ে জোট গঠনের আলোচনা সম্পূর্ণ ভিন্ন, যা ক্যামেরার আড়ালে ধীরগতিতে সম্পন্ন হয়।   এদিকে নতুন সরকার গঠন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। ডানপন্থী সরকার টিকিয়ে রাখতে এবং আরব দলগুলোর সমর্থনে সম্ভাব্য ‘বামপন্থী সরকার’ ঠেকাতে কট্টর ডানপন্থী জিউইশ পাওয়ার দলের নেতা ইতামার বেন-গভির এরই মধ্যে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।   অন্যদিকে বিকল্প সরকার গঠনের লক্ষ্যে ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার জন্য বিরোধী জোটের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইউনাইটেড আরব লিস্টের (রা’আম) শীর্ষ নেতা মানসুর আব্বাসের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। বিরোধী জোট ও আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসন সংখ্যা ৬৭টি, যা সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট। তবে আরব দলগুলোকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ইসরায়েল বেইতেইনু দলের নেতা আভিগদোর লিবারম্যানের কড়া বিরোধিতাসহ বিরোধী নেতাদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নেতানিয়াহু-বিহীন সরকার গঠনের পথে বর্তমানে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৪:০
স্কুলে হা ম লার ঘটনায় গুরুতর আ হ ত দুই ছাত্রী

ক্লাস চলাকালে বৈদ্যুতিক করাত নিয়ে স্কুলে তরুণ, দুই ছাত্রীর ওপর হা ম লা

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে দেড় বছরে ২০০ কোটি ডলারের সমরাস্ত্র আমদানি ইরানের

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে দেড় বছরে ২০০ কোটি ডলারের সমরাস্ত্র আমদানি ইরানের

দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার বদলে নতুন করে বই পড়ার প্রবণতা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণ প্রজন্মের নতুন ট্রেন্ড 'বই পড়া', কমছে স্ক্রলিংয়ের আকর্ষণ

যুক্তরাজ্যের সমারসেটের টনটনে এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় আইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডেইলি এক্সপ্রেস। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে আইএস সংশ্লিষ্ট অভিবাসী ব্যক্তিকে ঘিরে প্রতিবেদন

যুক্তরাজ্যের সমারসেটের টনটন শহরে এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় ইসলামিক স্টেট বা আইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেস। প্রতিবেদনের শিরোনামে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠীটির সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ, মামলার বর্তমান অবস্থা এবং আদালতের কোনো রায় হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ঘটনাটি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করতে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয়, অভিযোগ আনার সময়, পুলিশের বক্তব্য এবং আদালতের নথি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের, নাকি আদালতে প্রতিষ্ঠিত তথ্য, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। একইভাবে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়া এবং আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার মধ্যে আইনি পার্থক্য রয়েছে।   যুক্তরাজ্যে ধর্ষণের অভিযোগের বিচার ফৌজদারি আইনের অধীনে পরিচালিত হয়। অভিযোগের তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির দায় নির্ধারণ করা হয়। যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রেও দেশটিতে বিশেষ আইনি সুরক্ষা রয়েছে।   ডেইলি এক্সপ্রেসের মূল প্রতিবেদনের পূর্ণ বিবরণ পাওয়া না যাওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম, বয়স, জাতীয়তা, অপরাধ সংঘটনের সময় এবং সম্ভাব্য সাজা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া যাচ্ছে না। এসব তথ্য ছাড়া ঘটনাটিকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা যথাযথ হবে না।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১১:৫৭
ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত মার্কিন অর্থোডক্স ইহুদি ধর্মীয় নেতা ইয়োসি

হিন্দুরা গরুর মূত্র খায়! এবং গরুর পূজা করে, ভারত নিয়ে উপহাস ইসরায়েলি ধর্মীয় নেতার

১৫ বছরের বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন ভেঙে মাঝপথে জাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো মার্কিন যাত্রীদের

১৫ বছরের বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন ভেঙে মাঝপথে জাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো মার্কিন যাত্রীদের

ক্রিপ্টো দুনিয়ায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুরি, ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের ঘটনায় সন্দেহ উত্তর কোরিয়াকে

ক্রিপ্টো দুনিয়ায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুরি, ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের ঘটনায় সন্দেহ উত্তর কোরিয়াকে

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি, মার্কিন সেনাবাহিনীর গণকবর খোঁড়ার মহড়া
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি, মার্কিন সেনাবাহিনীর গণকবর খোঁড়ার মহড়া

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক সংঘাত এবং তাতে বিপুল সংখ্যক সৈন্যের প্রাণহানির আশঙ্কায় যুদ্ধক্ষেত্রে সহযোদ্ধাদের গণকবর দেওয়ার বিশেষ মহড়া পরিচালনা করেছে। ১৯৫০-৫৩ সালের ঐতিহাসিক কোরীয় যুদ্ধের পর দীর্ঘ সাত দশকের বেশি সময় পর এই প্রথম মার্কিন সেনারা এমন কোনো বৃহৎ অনুশীলনে অংশ নিল। সেই যুদ্ধে প্রায় ৩৭ হাজার মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর পেন্টাগনের যুদ্ধরীতির ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছিল।   পরবর্তী সময়ে ইরাক বা আফগানিস্তান যুদ্ধে কোনো মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হলে, আকাশপথে পূর্ণ আধিপত্য থাকায় তাদের মরদেহ দ্রুত বিমানে করে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হতো। তবে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বজায় রাখা সেই নিয়ম থেকে সরে এসে মার্কিন বাহিনী এবার যুদ্ধের ময়দানেই 'অস্থায়ী গণকবর' বা 'টেম্পোরারি ব্যাটলফিল্ড ইন্টারমেন্ট'-এর প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ সামরিক ঘাঁটিতে এই অভিনব অনুশীলন সম্পন্ন হয়।   মার্কিন সেনাসূত্রে জানা গেছে, ফোর্ট ব্র্যাগের থার্ড কোর সাসটেইনমেন্ট কমান্ড, ২০তম প্রকৌশলী ব্রিগেড এবং সামরিক চ্যাপ্লেন বা ধর্মীয় গুরুরা যৌথভাবে 'অপারেশন ড্রাগন কভেন্যান্ট' নামের এই মহড়ায় অংশ নেন। সংঘাতের তীব্রতার মধ্যে দ্রুত ভারী বুলডোজার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কীভাবে সুশৃঙ্খলভাবে মরদেহ কবর দেওয়া যায়, সেনাসদস্যরা তারই কৌশলগত অনুশীলন করেছেন। মূলত নিহতদের শরীর যাতে অক্ষত থাকে এবং যুদ্ধ শেষে পরিচয় নিশ্চিত করে পূর্ণ মর্যাদায় তাদের দেশে ফেরত পাঠানো যায়, সেভাবেই এই পদ্ধতিগুলো পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে।   মহড়ায় অংশ নেওয়া থার্ড কোর সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের কর্মকর্তা ফার্স্ট ক্লাস সার্জেন্ট ডেলবার্ট রুয়েড জানান, সংঘাতের মুহূর্তে সহযোদ্ধাদের মরদেহ কীভাবে সর্বোচ্চ সম্মান ও নিয়মতান্ত্রিকতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করা যায়, তা খতিয়ে দেখতেই এই উদ্যোগ। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, হঠাৎ আজ বা কাল যদি কোনো বড় যুদ্ধ বেধে যায়, তবে ময়দানে হুটহাট সিদ্ধান্ত না নিয়ে আগে থেকেই একটি বৈজ্ঞানিক ও পরীক্ষিত পদ্ধতি রাখা জরুরি।   এর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর ধর্মীয় গুরু বা চ্যাপ্লেনরাও রণক্ষেত্রে অস্থায়ী দাফনের ধর্মীয় রীতি পালনের বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে যদি সত্যিই এক বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু হয়, তবে সেখানে আকাশপথে দ্রুত মরদেহ সরানোর সুযোগ নাও থাকতে পারে, আর সম্ভাব্য সেই ভয়াবহ পরিণতির কথা ভেবেই পেন্টাগন এমন নজিরবিহীন প্রস্তুতি সেরে রাখছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১৮:৩১
ইরান সংঘাতে নি হত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ২৩, আহত ৮৬৫ জনের বেশি

ইরান সংঘাতে নি হত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ২৩, আহত ৮৬৫ জনের বেশি

যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসায় নতুন নিয়ম, ৩০ নভেম্বর থেকে ব্যাংকে দেখাতে হবে বাড়তি অর্থ

যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসায় নতুন নিয়ম, ৩০ নভেম্বর থেকে ব্যাংকে দেখাতে হবে বাড়তি অর্থ

নিলামের প্রতিযোগিতা নয়, বিকল্প পথে বাড়ি কিনে মেলবোর্নের দম্পতির ৮০ হাজার ডলার সাশ্রয়

নিলামের প্রতিযোগিতা নয়, বিকল্প পথে বাড়ি কিনে মেলবোর্নের দম্পতির ৮০ হাজার ডলার সাশ্রয়

0 Comments