সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

হিজাব নিষেধের প্রস্তাব, মুসলিম নারীদের পাশে দাঁড়াতে হিজাব পরে ফরাসি নারীদের প্রতিবাদ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ৭:৩২
মুসলিম নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে হিজাব পরে ফরাসি নারীদের অভিনব প্রতিবাদ
মুসলিম নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে হিজাব পরে ফরাসি নারীদের অভিনব প্রতিবাদ

ফ্রান্সে জনসমক্ষে হিজাব নিষিদ্ধ করার ডানপন্থী প্রস্তাবের প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন প্রচারণা শুরু করেছেন দেশটির একদল নারী। মুসলিম নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তারা নিজেদের হিজাব পরা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করছেন। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ন্যাশনাল র‍্যালি বা আরএন-এর প্রস্তাব ঘিরে যখন রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হচ্ছে, তখনই এই অনলাইন উদ্যোগ সামনে এসেছে। 


প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের কেউ লিখেছেন, “হিজাব পরা আমাদের সব সহনাগরিকের সমর্থনে।” আবার কেউ জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত আইন পাস হলে সংহতি জানাতে তিনি নিজেও সঙ্গে সঙ্গে হিজাব পরবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। 


এই প্রচারণার পেছনে রয়েছে ফ্রান্সের ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র‍্যালির হিজাব নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা। দলটির এমপি জ্যঁ-ফিলিপ তাঙ্গি গত ৩০ আগস্ট এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বলেন, দলটি ক্ষমতায় গেলে জনসমক্ষে হিজাব পরার ক্ষেত্রে জরিমানার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি জানান, এ বিষয়ে দলের অবস্থান চূড়ান্ত হয়েছে। 


তবে ন্যাশনাল র‍্যালির প্রস্তাবটি সরাসরি নির্বাচনের পরদিন কার্যকর করার কথা নয়। দলটির নেতা জর্ডান বারদেলা জানিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে এ বিষয়ে গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি এটিকে বৃহত্তরভাবে ইসলামপন্থী মতাদর্শ নিয়ে একটি গণভোটের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। 


প্রস্তাবটি নিয়ে ফ্রান্সে সাংবিধানিক ও আইনগত প্রশ্নও উঠেছে। ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে এর সাংবিধানিক বৈধতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞরাও জনসমক্ষে হিজাব নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ আইনগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মত দিয়েছেন। 


ফ্রান্সে বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা দায়িত্ব পালনের সময় দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করতে পারেন না। ২০০৪ সাল থেকে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের বড় বা স্পষ্ট ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যার আওতায় মুসলিম হিজাবও পড়ে। তবে জনসমক্ষে হিজাব পরার ওপর দেশজুড়ে সাধারণ নিষেধাজ্ঞা বর্তমানে নেই। 


২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে হিজাব ইস্যুটি ফ্রান্সের রাজনীতিতে আবারও গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কে পরিণত হয়েছে। ন্যাশনাল র‍্যালি এটিকে তাদের নির্বাচনী কর্মসূচির অংশ করছে, আর বিরোধীরা বলছেন, প্রস্তাবটি বিশেষভাবে মুসলিম নারীদের লক্ষ্যবস্তু করছে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
অস্ত্রোপচারের পর মুখে ব্যান্ডেজ নিয়ে বিমানবন্দরে বসে আছেন তিন চীনা নারী
প্লাস্টিক সার্জারি করিয়ে বিমানবন্দরে আটকা পর্যটকরা, পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে চেহারার নেই মিল

২০১৭ সালের চীনের গোল্ডেন উইক ছুটিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্লাস্টিক সার্জারি করাতে যাওয়া তিন চীনা নারীকে ঘিরে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছিল। ছবিতে দেখা যায়, মুখ ব্যান্ডেজে ঢাকা ও ফুলে থাকা অবস্থায় তারা হাতে পাসপোর্ট নিয়ে বিমানবন্দরে বসে আছেন। ছড়িয়ে পড়া দাবিতে বলা হয়, অস্ত্রোপচারের পর তাদের চেহারা পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে এতটাই অমিল হয়েছিল যে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি এবং তাদের দেশে ফিরতে বাধা দেওয়া হয়। তবে পরে জানা যায়, ঘটনাটির এই বর্ণনা নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার আইন মন্ত্রণালয় ভাইরাল দাবিটিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। দেশটির সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে সে সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, তিন নারীকে পরিচয় যাচাই করতে আটকে রাখা বা ফ্লাইটে উঠতে না দেওয়ার দাবির পক্ষে কোনো বাস্তব তথ্য পাওয়া যায়নি। ছবিটি প্রথমে চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতে চীনা টেলিভিশন উপস্থাপক জিয়ান হুয়াহুয়া প্রকাশ করেছিলেন। পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, গোল্ডেন উইকের ছুটিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্লাস্টিক সার্জারি করানোর পর ওই নারীরা দেশে ফেরার সময় সমস্যায় পড়েছেন। পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটিকে আরও নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়। এমনকি তাদের পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে চেহারার মিল না থাকায় ইমিগ্রেশনে আটকে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। পরে দক্ষিণ কোরিয়ার আইন মন্ত্রণালয় সেই দাবিকে ‘তথ্যভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করে। ফলে ভাইরাল ছবিটি সত্য হলেও ছবির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া বিমানবন্দরে আটকে পড়ার পুরো গল্পকে সত্য ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। তবে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্লাস্টিক সার্জারি করাতে যাওয়া বিদেশি রোগীদের পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়টি নতুন নয়। অস্ত্রোপচারের পর মুখে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে ভ্রমণের সময় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ কারণে কিছু ক্লিনিক বিদেশি রোগীদের অস্ত্রোপচারের তথ্য ও পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে থাকে। সৌন্দর্য বাড়ানোর আশায় প্লাস্টিক সার্জারি করলেও অস্ত্রোপচারের পরপরই ভ্রমণ করলে শারীরিক অস্বস্তির পাশাপাশি পরিচয় যাচাই নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে তিন চীনা নারীকে ঘিরে ২০১৭ সালের ভাইরাল ঘটনাটি যে বিমানবন্দরে আটকে পড়ার সত্য ঘটনা ছিল, সে দাবি দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ প্রত্যাখ্যান করেছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ৭:৪৩
মুসলিম নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে হিজাব পরে ফরাসি নারীদের অভিনব প্রতিবাদ

হিজাব নিষেধের প্রস্তাব, মুসলিম নারীদের পাশে দাঁড়াতে হিজাব পরে ফরাসি নারীদের প্রতিবাদ

অস্ত্রোপচারের সময় অন্ত্রের গ্যাস লেজারের সংস্পর্শে আগুন ধরে টোকিওর হাসপাতালে গুরুতর দগ্ধ হন এক নারী

অস্ত্রোপচারের সময় এক নারী রোগীর বায়ুত্যাগের জন্য লেজারে ধরে যায় আগুন, দগ্ধ হয় রোগী নিজেই!

সার্কিট হাউসের সড়কে নামাজ পড়ার অভিযোগে এফআইআর, আলোচনায় সমাজবাদী পার্টির নেতা হাজি মোহাম্মদ উসমান

ভারতে রাস্তায় নামাজ পড়ার অভিযোগে নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর

শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর ছবি প্রকাশ করে আলোচনায় কলম্বিয়ার ট্রান্স পুরুষ ম্যাক্সিমো কাস্তেয়ানোস
শিশুকে বুকের দুধ খাইয়ে ভাইরাল ট্রান্স বাবা! দিলেন সমালোচনার জবাব

কলম্বিয়ার ট্রান্স পুরুষ ম্যাক্সিমো কাস্তেয়ানোস শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার পর ব্যাপক আলোচনায় আসেন। ছবিটি প্রথম প্রকাশের পর থেকেই তাকে ঘিরে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে সমর্থন জানালেও, কেউ কেউ তার লিঙ্গপরিচয় নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ম্যাক্সিমো কাস্তেয়ানোস কলম্বিয়ার সান্তান্দের এলাকার বাসিন্দা। ২০২০ সালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর একটি ছবি প্রকাশ করেন। পরে জানা যায়, ছবিটি এরও আগে তোলা হয়েছিল। ছবিটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে গেলে তার লিঙ্গপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কয়েকজন ব্যবহারকারী। সমালোচনার জবাবে ম্যাক্সিমো নিজের পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানান। তিনি বলেন, তিনি নিজেকে সবসময়ই একজন পুরুষ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং গর্ভধারণ, সন্তান জন্ম দেওয়া ও শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর অভিজ্ঞতার মধ্যেও তার পরিচয় একজন পুরুষ হিসেবেই রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক জবাবে ম্যাক্সিমো বলেন, তিনি একজন পুরুষ হিসেবেই সন্তান ধারণ, গর্ভধারণ, সন্তান জন্ম দেওয়া এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। একই সঙ্গে নিজের পরিচয় নিয়ে অন্যদের প্রশ্ন না তুলে সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান। ম্যাক্সিমোর এই ঘটনা নতুন নয়। কলম্বিয়ার সরকারি সামাজিক উন্নয়ন বিভাগের একটি প্রকাশনাতেও তার গর্ভধারণ ও সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২২ সালে কুন্দিনামার্কা সরকারের আয়োজিত একটি স্তন্যপান বিষয়ক অনুষ্ঠানে তিনি ট্রান্স পুরুষ হিসেবে গর্ভধারণ ও শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর অভিজ্ঞতা নিয়েও বক্তব্য দেন। ছবিটি ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি অনেকেই ম্যাক্সিমো ও তার পরিবারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অভিজ্ঞতা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যও উঠে আসে, যা ট্রান্স ব্যক্তিদের পরিচয় ও পারিবারিক জীবন নিয়ে অনলাইন বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে আসে। ম্যাক্সিমোর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল নিজের পরিচয়ের প্রতি সম্মান এবং পরিবারকে ভালোবাসা ও যত্নের সঙ্গে বড় করে তোলা। সন্তান জন্ম দেওয়া বা তাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর অভিজ্ঞতা তার কাছে নিজের পুরুষ পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ৬:৩৮
রের আদালতে মাদক মামলায় মৃত্যুদণ্ড পেলেন টিভি উপস্থাপিকা সারাহ খলিফা

মাদক মামলায় মিসরের টিভি উপস্থাপিকা সারাহ খলিফার মৃত্যুদণ্ড

এফবিআইয়ের 'মোস্ট ওয়ান্টেড' প্রতারক মনজিৎ সিং ভারতে গ্রেপ্তার

৬ লাখ ডলার আত্মসাৎ করে পলাতক, ভারতে ধরা পড়ল এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ প্রতারক

সূর্যের এমন স্পষ্ট ছবি আগে কখনো দেখেনি মানুষ, ধরা পড়ল প্লাজমার রহস্যময় ঘূর্ণন

সূর্যের এমন স্পষ্ট ছবি আগে কখনো দেখেনি মানুষ, ধরা পড়ল প্লাজমার রহস্যময় ঘূর্ণন

প্রাক্তন প্রেমিকাকে ১৩১ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে ফেলে হ ত্যা, পুলিশের সামনে ঝাঁপ দিয়ে যুবকের আত্মহ ত্যা
প্রাক্তন প্রেমিকাকে ১৩১ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে ফেলে হ ত্যা, পুলিশের সামনে ঝাঁপ দিয়ে যুবকের আত্মহ ত্যা

ইতালিতে সম্পর্ক ভাঙার জের ধরে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। লোরেনা ইসেরি (৪৬) নামের এক নারীকে অপহরণের পর ১৩১ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে নিচে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছেন তার প্রাক্তন প্রেমিক ফেদেরিকো ভেল্লা (৩৬)। এই নির্মম ঘটনার পর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নিজেও ব্রিজ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই যুবক।   সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহ পর এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। আত্মহত্যার কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে "সবাইকে বিদায়" লিখে একটি রহস্যময় পোস্ট দিয়েছিলেন ভেল্লা।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘কোরিয়েরে দেল্লা সেরা’র সূত্রে জানা যায়, গাড়ি ভাড়া দেওয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ভেল্লা লোরেনার ফ্লোরেন্সের বাড়ির গ্যারেজে আগে থেকেই লুকিয়ে ছিলেন। লোরেনা সেখানে পৌঁছালে তাকে মারধর করে পা বেঁধে তার নিজের অডি গাড়ির ট্রাঙ্কে ভরে ফেলেন ভেল্লা। এরপর গাড়িটি নিয়ে উত্তরের শহর বোলোনিয়ার দিকে রওনা হন তিনি।   ট্রাঙ্কের ভেতর একটি ব্যাকপ্যাকে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে লোরেনা প্রথমে তার মা ও এক বন্ধুকে কল করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তিনি পুলিশকে কল করতে সক্ষম হন এবং আততায়ীর বর্ণনা দিয়ে বাঁচার জন্য আকুতি জানান।   পুলিশ লোরেনার ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে এগিয়ে আসতে থাকে। এদিকে ভেল্লা গাড়িটি একটি ভায়াডাক্টের পাশের ফাঁকা জায়গায় থামান। তিনি ট্রাঙ্ক খুলে লোরেনার হাতে ফোন দেখতে পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সেটি ছিনিয়ে নেন। এরপর চরম আক্রোশে তাকে ১৩১ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে নিচে ফেলে দেন।   পুলিশ ভেল্লাকে ঘিরে ফেলে এই নৃশংসতার কারণ জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, লোরেনা তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এবং খারাপ আচরণ করেছেন। এই কথা বলার পরপরই পুলিশের সামনে তিনি নিজেও ব্রিজ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। উল্লেখ্য, বিচ্ছেদের ঠিক আগের দিন ভেল্লা তাদের সম্পর্কের নানা মুহূর্তের ভিডিও ও ছবি পোস্ট করে আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৮:৪২
গাজা ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এর প্রকৃত মালিক ফিলিস্তিনিরাই: চীন

গাজা ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এর প্রকৃত মালিক ফিলিস্তিনিরাই: চীন

সহকর্মীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই আটকা, অন্ধকার সুড়ঙ্গে ৯ দিনের মৃত্যুযুদ্ধ শেষে ফিরলেন সঞ্জয়

সহকর্মীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই আটকা, অন্ধকার সুড়ঙ্গে ৯ দিনের মৃত্যুযুদ্ধ শেষে ফিরলেন সঞ্জয়

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৬৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

৩ বছরে গাজায় ৭৩ হাজার ৬৫১ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে দখলদার ইসরাইল

0 Comments