সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ছুরিকাঘাত

শাশুড়ির সামনের চড় মারায় বাবাকে হত্যা
শাশুড়ির সামনের চড় মারায় বাবাকে হত্যা, দুই দিন পর ছেলের আত্মসমর্পণ

রংপুরের পীরগাছায় বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ ওঠার দুই দিন পর ছেলে হাসানুর রহমান (২২) থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তিনি নিজেই পীরগাছা থানায় যান। নিহত মাহাবুর রহমান ওরফে মহুবারের বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।   ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের চর তাম্বুলপুর মাস্টারপাড়া এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, শ্বশুরবাড়ির লোকজন বেড়াতে এলে তাঁদের সঙ্গে হাসানুরের আচরণ নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।   স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে হাসানুরের শাশুড়ির সামনে তাঁকে চড় মারেন তাঁর বাবা। এরপর হাসানুর ঘর থেকে ছুরি এনে বাবার বুকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত মাহাবুর রহমানকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।   পীরগাছা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার পর হাসানুর আত্মগোপনে ছিলেন। রোববার সন্ধ্যায় তিনি থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাঁকে মাদকাসক্ত বলে দাবি করেছেন, তবে এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   হাসানুরের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী বলা যাবে না।    সূত্র: মাছরাঙা টিভি  

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ডা. ইদ্রিস ইভান্স ও তার স্ত্রীকে ঘুমের মধ্যে ছুরিকাঘাত করা হয়
‘আমি ঈশ্বর’ দাবি করা ব্যক্তির ছু রিকাঘাতে শিশু চিকিৎসকের প্রাণহানি, আহত স্ত্রীও

যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গে নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন শিশু চিকিৎসক ডা. ইদ্রিস ইভান্স। ভোররাতে হঠাৎ এক ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে রান্নাঘরের ছু রি দিয়ে তাদের ওপর হা ম লা চালায়। গুরুতর আ হ ত হয়ে পরে ৪৬ বছর বয়সী এই চিকিৎসকের মৃ ত্যু হয়। হা ম লায় তার স্ত্রীও গুরুতর আ হ ত হয়েছেন।   বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পিটসবার্গের উপকণ্ঠ এজউডের একটি বাড়িতে দুইজনকে ছু রিকা ঘা তের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে ডা. ইভান্স ও তার স্ত্রীকে একাধিক ছু রিকা ঘা তের জখমসহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইভান্সের মৃ ত্যু হয়। তার স্ত্রীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   ডা. ইদ্রিস ইভান্স ইউপিএমসি চিলড্রেনস হাসপাতাল অব পিটসবার্গের শিশুদের গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসক ছিলেন। তিনি পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপকও ছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে তার মৃ ত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ইভান্স ও তার স্ত্রী বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় হা ম লাকারী তাদের ওপর ছু রি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ইভান্সের স্ত্রী পুলিশকে জানান, হা ম লাকারী শুধু অন্তর্বাস পরা ছিল এবং সে ‘আমি ঈশ্বর’ ধরনের কথা বলছিল। হা ম লার সময় তিনি তাদের দুই সন্তানকে দ্রুত প্রতিবেশীর বাড়িতে চলে যেতে বলেন।   পুলিশ পরে হা ম লার ঘটনায় ৩২ বছর বয়সী এলিয়াহ হেমিংওয়েকে আ ট ক করে। তদন্তকারীরা তাকে কাছের একটি বাড়ির পেছনে খুঁজে পান। তার হাতেও কাটা জখম ছিল এবং চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হ ত্যা, গুরুতর হা ম লা, বাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে।   ইভান্সের স্ত্রী পুলিশকে জানান, হা ম লার সময় তার স্বামী হা ম লাকারীকে ‘এলিয়াহ’ নামে ডাকেন। তবে পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয় যে ইভান্স ও স ন্দে হভাজন ব্যক্তির মধ্যে আগে কোনো পরিচয় বা সম্পর্ক ছিল কি না। হা ম লার উদ্দেশ্যও এখনো জানা যায়নি।   আলেঘেনি কাউন্টি পুলিশের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ভিক্টর জোসেফ জানান, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সহিং স। শোবার ঘরের আসবাবপত্র ও আয়না ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও হা ম লার উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে।    

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ায় নিষ্ঠুর মায়ের ছুরিকাঘাতে নিহত পাঁচ বছরের শিশু, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে আরও দুই সন্তান
অস্ট্রেলিয়ায় নিষ্ঠুর মায়ের ছুরিকাঘাতে নিহত পাঁচ বছরের শিশু, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে আরও দুই সন্তান

অস্ট্রেলিয়ার ব্লু মাউন্টেনস এলাকায় এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনায় নিজের পাঁচ বছর বয়সী সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন এক নারী। এ ঘটনায় তার আরও দুই শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। ৪৫ বছর বয়সী ওই মাকে এই ঘটনার মূল সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তার শরীরেও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা তিনি নিজেই করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   রোববার সকালে ভ্যালি হাইটস শহরের একটি ফাঁকা জায়গায় পার্ক করা গাড়ির কাছে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখতে পান পথচারী সাইক্লিস্টরা। তারা দ্রুত জরুরি সেবায় খবর দেন এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পাঁচ বছর বয়সী ওই শিশুর মৃত্যু হয়।   ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জুলি সুক্কার সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি ঝোপের মধ্যে এক নারীকে পড়ে থাকতে দেখেন এবং গাড়ির সিটে একটি ছোট শিশু ছিল। সেখানে আরেক নারীকে শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে দেখেন তিনি। পরে তিনি বুঝতে পারেন যে সেখানে মোট তিনটি শিশু ছিল এবং উপস্থিত সবাই তাদের সাহায্য করার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল।   অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী পুরো দৃশ্যটিকে অত্যন্ত ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ও আহত শিশুদের বাবাকে খবর দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন এবং খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মা ও তার বেঁচে থাকা দুই শিশুকে ওয়েস্টমিড হাসপাতাল এবং চিলড্রেনস হসপিটাল অ্যাট ওয়েস্টমিডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের ডেপুটি কমিশনার পিটার ম্যাককেনা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ওই নারী সুস্থ হয়ে উঠলে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হবে। গাড়ি থামিয়ে ওই নির্জন স্থানে কেন এই নৃশংস ঘটনা ঘটানো হলো, তার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো তদন্তকারীদের জানা নেই।   তিনি আরও জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় ওই এলাকায় এটিসহ মোট চারটি পৃথক পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা তার পুলিশি ক্যারিয়ারের অন্যতম মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা। এর মধ্যে ওয়াগাতে এক যুবক তার প্রেমিকাকে, বন্ডাই বিচে এক নাতি তার দাদিকে এবং মোল রিভারে এক ছেলে তার মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছে। অভিযুক্তদের কারো বিরুদ্ধেই আগে থেকে পারিবারিক সহিংসতার কোনো পূর্ব-রেকর্ড ছিল না।   ভয়াবহ এই সপ্তাহান্তের পর অস্ট্রেলিয়ায় পারিবারিক সহিংসতা রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ ও পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দের দাবি তুলেছেন সচেতন নাগরিক ও অধিকারকর্মীরা।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
জার্মান নারীকে  ৩৩ ছুরিকাঘাতে হত্যা সোমালি অভিবাসীর
“সুযোগ পেলে আবারও করতাম” জার্মান নারীকে ৩৩ ছুরিকাঘাতে হত্যা সোমালি অভিবাসীর

জার্মানির বাডেন-ভুর্টেমবার্গের ভিসলখ শহরে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মনোরোগ ক্লিনিক থেকে পালিয়ে ৩০ বছর বয়সী এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় সোমালি নাগরিক আহমাদ এন.-এর বিরুদ্ধে ওঠা মামলায় আদালত তাকে মানসিক অসুস্থতার কারণে অপরাধের জন্য দায়ী নয় বলে বিবেচনা করেছে। ঘটনার পর তাকে আবারও ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিক চিকিৎসার আওতায় রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি এখনো ভেইনসবের্গের ক্লিনিকাম আম ভেইসেনহফে চিকিৎসাধীন।   ২০২৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভিসলখের সাইকিয়াট্রিশেস জেন্ট্রুম নর্ডবাডেনের ফরেনসিক সাইকিয়াট্রি ইউনিট থেকে বের হওয়ার সময় আহমাদ এন. পালিয়ে যান। এর আগে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় আদালতের নির্দেশে তাকে ওই প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের মূল্যায়নে তার চিকিৎসায় অগ্রগতি হওয়ায় ধাপে ধাপে কিছুটা ছাড়ের আওতায় তিনি প্রতিষ্ঠানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।   পালানোর পর তিনি শহরের একটি TEDi দোকানে যান। সেখানে ৩০ বছর বয়সী লিসা এস.-কে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় তাকে ৩৩ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল।   আহমাদ এন.-এর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অপরাধের অভিযোগ ছিল। আদালতের নথি ও জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে যৌন হয়রানি, শারীরিক হামলা, হুমকি এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার মতো অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালে হাইডেলবার্গের একটি আদালত মানসিক অসুস্থতার কারণে তাকে অপরাধের জন্য দায়ী না বলে বিবেচনা করে এবং নিরাপত্তামূলক মানসিক চিকিৎসার আওতায় রাখার নির্দেশ দেয়।   তার অভিবাসন অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বাডেন-ভুর্টেমবার্গের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সাল থেকেই তার বিরুদ্ধে দেশ ছাড়ার নির্দেশ ছিল। তবে মানসিক চিকিৎসা ও আদালতের নির্দেশে তাকে জার্মানিতে রাখা হয়েছিল।   হত্যাকাণ্ডের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ওঠে কীভাবে এমন একজন ব্যক্তিকে ক্লিনিকের বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং তার পালিয়ে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব ছিল কি না। চিকিৎসা কর্তৃপক্ষের ঝুঁকি মূল্যায়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও তখন রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়।   ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইডেলবার্গের ল্যান্ড কোর্টে হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রসিকিউশন পক্ষের বক্তব্য ছিল, আহমাদ এন. প্যারানয়েড স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত থাকায় ঘটনার সময় নিজের কাজের বেআইনি চরিত্র বুঝতে সক্ষম ছিলেন না। পরে তাকে শাস্তিমূলক কারাদণ্ডের পরিবর্তে মানসিক চিকিৎসা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার আওতায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়।   ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে জার্মানির অভিবাসন ব্যবস্থা, মানসিকভাবে অসুস্থ অপরাধীদের ব্যবস্থাপনা এবং ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিতে ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়ে সমালোচনা করা হয়। তবে রাজনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগগুলো মতামতভিত্তিক; এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায় বা অবহেলা নিয়ে পৃথকভাবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তদন্তের বিষয় রয়েছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
মাকে হত্যার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত জমজ দুই বোন
মাকে ৮০ বার ছুরিকাঘাত, ১২ বছর পর ছাড়া পেল কুখ্যাত ‘জমজদের’ একজন

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় কিশোর বয়সে যমজ বোনের সঙ্গে মিলে মাকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত তাসমিয়াহ হোয়াইটহেড কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। ৩০ বছরের সাজা হলেও প্রায় ১২ বছর পর গত ৫ আগস্ট প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাঁকে। তাসমিয়াহ ও তাঁর যমজ বোন জাসমিয়াহ হোয়াইটহেড ২০১০ সালের ১৩ জানুয়ারি তাঁদের মা জারমেকা ‘নিকি’ হোয়াইটহেডকে হত্যা করেন। রকডেল কাউন্টির বাড়িতে ওই ঘটনার সময় মাকে ৫০ থেকে ৮০ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। এ ঘটনার পর দুই বোনকে ‘টুইস্টেড টুইনস’ নামে ডাকা শুরু হয়। তাসমিয়াহর বয়স এখন ৩৩ বছর। তিনি ‘টাস’ নামে পরিচিত। জর্জিয়ার সংশোধন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে তিনি হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করে সমঝোতার ভিত্তিতে সাজা পান। সমঝোতার আওতায় তাঁর বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলা স্বেচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে নামিয়ে আনা হয়। তাঁকে ওই অভিযোগে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর সঙ্গে অপরাধের সময় ছুরি রাখার জন্য আরও পাঁচ বছর এবং সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার জন্য আরও পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে তাঁর সাজা দাঁড়ায় ৩০ বছর। তাসমিয়াহ কারাগারে যাওয়ার আগে বিচারপূর্ব আটকসহ মোট ১৬ বছর সাজা ভোগ করেছেন। ২০১৭ সাল থেকেই তিনি প্যারোলের জন্য যোগ্য ছিলেন। তবে প্যারোল বোর্ড তাঁর মুক্তির অনুমোদন দেওয়ার আগে আরও প্রায় নয় বছর কারাগারে থাকতে হয়। ২০১০ সালের ওই ঘটনার সময় যমজ দুই বোনের বয়স ছিল কিশোরী। তাঁদের মা কিছুদিন আগে তাঁদের আবার নিজের সঙ্গে থাকতে দিয়েছিলেন। এর আগে দুই বোনের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ায় তাঁরা অন্য জায়গায় ছিলেন বলে তদন্তে জানা যায়। ঘটনার দিন স্কুলে যেতে দেরি হওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে দুই বোনের ঝগড়া হয়। পরে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। দুই বোনের দাবি ছিল, তাঁদের মা রান্নার পাত্র দিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর তাঁরা মাকে ধরে ফেলেন এবং মারামারি শুরু হয়। তাসমিয়াহ তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন, প্রথমে তিনি একটি পাত্র দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করেন। পরে রান্নাঘর থেকে একটি ছুরি নিয়ে মাকে আঘাত করেন। জাসমিয়াহর ভাষ্য অনুযায়ী, মারামারির সময় তাঁদের মা তাঁর বুকে কামড় দিয়েছিলেন। এরপর তাসমিয়াহ ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। মাকে গুরুতর আহত করার পর দুই বোন তাঁর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে গিয়ে পানিভর্তি বাথটাবে রাখেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ ধারণা করেছিল, বাথটাবে নেওয়ার সময়ও তাঁদের মা জীবিত ছিলেন। এরপর দুই বোন স্কুলে চলে যান। স্কুল থেকে ফিরে তাঁরা পুলিশকে ফোন করেন এবং প্রথমে নিজেদের নির্দোষ হিসেবে উপস্থাপন করেন। পুলিশও শুরুতে তাঁদের হত্যার শিকার হিসেবে বিবেচনা করেছিল। তদন্তকারীরা পরে তাঁদের শরীরে থাকা কামড় ও আঁচড়ের চিহ্ন নিয়ে সন্দেহ করেন। দুই বোন এসব চিহ্ন লুকানোর চেষ্টা করেছিলেন। একপর্যায়ে তদন্তকারীরা গাড়িতে একটি গোপন রেকর্ডিং ডিভাইস ব্যবহার করেন। সেখানে দুই বোনকে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ এবং খুনের অস্ত্র না পাওয়ার বিষয় নিয়ে কথা বলতে শোনা যায় বলে তদন্তে উঠে আসে। ঘটনার প্রায় চার মাস পর দুই বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুরুতে তাঁরা হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করলেও ২০১৪ সালে দুজনই সমঝোতার মাধ্যমে অভিযোগ স্বীকার করে সাজা নেন। তাসমিয়াহ মুক্তি পেলেও তাঁর যমজ বোন জাসমিয়াহ এখনো কারাগারে রয়েছেন। একই ধরনের সমঝোতায় সাজা পাওয়া জাসমিয়াহ ২০২৮ সালের মে মাসের আগে প্যারোলের জন্য যোগ্য হবেন না। তাসমিয়াহর মুক্তিতে তাঁদের দাদি লিন্ডা হোয়াইটহেড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, একজনকে ৩০ বছরের সাজা দিয়ে এত দ্রুত প্যারোলের সুযোগ দেওয়া হলে নিহত নিকি হোয়াইটহেডের ন্যায়বিচার কোথায়?

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
লং আইল্যান্ডে নিজের ছেলের ছুরিকাঘাতে ৬৯ বছরের বাবার মৃত্যু, মৃত্যুর আগে ৯১১-এ শেষ ফোন
লং আইল্যান্ডে নিজের ছেলের ছুরিকাঘাতে ৬৯ বছরের বাবার মৃত্যু, মৃত্যুর আগে ৯১১-এ শেষ ফোন

যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডে নিজ বাড়িতে ছেলের ছুরিকাঘাতে ৬৯ বছর বয়সি এডওয়ার্ড ব্রাউন নামের এক প্রবীণ বাবা নিহত হয়েছেন। লেবার ডে-এর প্রথম প্রহরে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ৩৩ বছর বয়সি ছেলে সেজ এরিয়াস-ব্রাউনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   পুলিশ ও সাফক কাউন্টি প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে লং আইল্যান্ডের ম্যাস্টিক এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন সেজ এরিয়াস-ব্রাউন।   এরপর তিনি তার বাবা এডওয়ার্ড ব্রাউনের পেটে ও বুকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। ঘটনার সময় এক প্রত্যক্ষদর্শী হামলাকারীর অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ, বাবার চিৎকার এবং হামলাকারীকে দ্রুত পালিয়ে যেতে দেখেন।   গুরুতর আহত অবস্থায়ও এডওয়ার্ড ব্রাউন নিজের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে ফোনের কাছে পৌঁছে ৯১১-এ কল করে হামলার বিবরণ দেন এবং পুলিশের সহায়তা চান। তবে সাহায্য পৌঁছানোর আগেই তিনি ঘটনাস্থলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পুলিশ আসার সামান্য দূর থেকেই অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়।   আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত এরিয়াস-ব্রাউনের মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বে একটি ডাকাতির মামলাও বিচারাধীন ছিল। মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে তার আইনজীবী ক্যাথরিন ফার্নান্দেজ উপস্থিত ছিলেন। এই নৃশংস হত্যা মামলায় দ্বিতীয় ডিগ্রি খুনের অভিযোগ আনা হলেও অভিযুক্ত নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।   আদালত তাকে জামিনঅযোগ্য ঘোষণা করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে এবং আগামী শুক্রবার তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই পারিবারিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতের পর ঘটনাস্থল ঘিরে রাখে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নারী নিহত, পুলিশের গুলিতে হামলাকারীও নিহত

নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এক নারী নিহত হয়েছেন। হামলার পর ছুরি হাতে পুলিশের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পুলিশের গুলিতে হামলাকারী আরেক নারীও নিহত হয়েছেন। সোমবার ৩১ আগস্ট বিকেলে ম্যানহাটনের ওয়েস্ট ৪১ থেকে ৪৩ স্ট্রিট ও সেভেন্থ অ্যাভিনিউ এলাকার কাছে এ ঘটনা ঘটে।    নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী ৪৯ বছর বয়সী কুইন্সের বাসিন্দা পামেলা সিসনেরোস। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি দুটি রান্নাঘরের ছুরি নিয়ে হঠাৎ পথচারীদের ওপর হামলা চালান। প্রথমে তিনি সাবওয়ে থেকে বের হওয়া ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির পেটে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়।    দুই আহত ব্যক্তিকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়। ৩২ বছর বয়সী নারী পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ৬৮ বছর বয়সী পুরুষের অবস্থা স্থিতিশীল বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত নারী ও আহত পুরুষের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।    ছুরিকাঘাতের পর সিসনেরোস উত্তর দিকে গিয়ে টাইমস স্কয়ারের কাছে থাকা নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের একটি সাবস্টেশনের দিকে এগিয়ে যান। সেখানে পুলিশ সদস্যরা তাকে ছুরি ফেলে দিতে বারবার নির্দেশ দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টেজারও ব্যবহার করে। তবে এতে তিনি থামেননি এবং ছুরি হাতে পুলিশ সদস্যদের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। পরে দুই পুলিশ সদস্য গুলি চালান বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।    গুলিতে গুরুতর আহত সিসনেরোসকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে এলোমেলো বা উদ্দেশ্যহীন হামলা বলে মনে হচ্ছে এবং এর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।    নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানিয়েছেন, হামলাকারীর মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পূর্ববর্তী রেকর্ড ছিল। তবে তার বিরুদ্ধে আগে কোনো গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার পুরো পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে।    ঘটনার পর তদন্তের জন্য টাইমস স্কয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পুলিশ ব্যারিকেড বসানো হয় এবং সেভেন্থ অ্যাভিনিউর কয়েকটি অংশে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়।    টাইমস স্কয়ার নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটন এলাকা এবং ওয়ান টাইমস স্কয়ারের পাশেই ঘটনাটি ঘটে। সেখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকের সমাগম হয়। ফলে ব্যস্ত এই এলাকায় এমন সহিংস ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭৩ বছরের বৃদ্ধাকে প্রকাশ্যে কু পিয়ে খু ন, গ্রেপ্তার ১৯ বছরের তরুণ
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭৩ বছরের বৃদ্ধাকে প্রকাশ্যে কু পিয়ে খু ন, গ্রেপ্তার ১৯ বছরের তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি ব্যস্ত শপিং মলের বাইরে ৭৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গত ২০ জুলাই ক্যাপিটোলা মলের কাছে ঘটা এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত হন র‍্যাচেল সামার্স নামের ওই নারী।   তিনি স্থানীয় ‘আর্ট অব সান্তা ক্রুজ’ নামের একটি শিল্পগ্যালারির ব্যবস্থাপক ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত টাইলার লেইবেলের সঙ্গে নিহত র‍্যাচেলের আগে থেকে কোনো পরিচয় বা শত্রুতা ছিল না। এটি ছিল সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যহীন একটি হামলা। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত নিজেই জরুরি নম্বরে ফোন করে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং রক্তমাখা পোশাকসহ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।   তবে তদন্ত এগোতেই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের ভয়ংকর সব তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে। আদালতে দাখিল করা নথির বরাত দিয়ে জানা যায়, টাইলার লেইবেল আগে থেকেই মানুষ হত্যার পরিকল্পনা করছিলেন। এমনকি হামলার দিন ক্যাপিটোলা মলে যাওয়ার আগেও তিনি অন্য কাউকে হত্যার ছক কষেছিলেন, যা পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলে গিয়ে র‍্যাচেল সামার্সকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।   জানা গেছে, এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরেও বড় ধরনের প্রাণহানির হুমকি দেওয়ায় সান্তা ক্রুজ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় তার বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত জরুরি সুরক্ষা আদেশ চেয়েছিল। মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়া এই তরুণ বহু মানুষকে হত্যার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে একটি বিদায়পত্রও লিখেছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   এই ঘটনায় অভিযুক্ত লেইবেলের বিরুদ্ধে প্রথম মাত্রার (ফার্স্ট-ডিগ্রি) হত্যার অভিযোগের পাশাপাশি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার ও ওত পেতে থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১৯ আগস্ট আদালতে হাজির হয়ে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে আগামী ৮ অক্টোবর মামলার প্রাথমিক শুনানির দিন ধার্য করেছেন।   এদিকে, সদ্য নানি হওয়া র‍্যাচেল সামার্সের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে ক্যাপিটোলা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার নাতির ভবিষ্যৎ শিক্ষার জন্য গঠিত তহবিলে ইতিমধ্যেই ১৪ হাজার ৭১২ ডলারের বেশি অর্থ জমা পড়েছে। অতীতে একাধিকবার সহিংসতার ইঙ্গিত থাকা সত্ত্বেও কেন এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এড়ানো গেল না, তা নিয়েই এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকায় প্রশ্ন উঠেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে বেড়াতে এসে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এক অস্ট্রেলিয়ান
নিউইয়র্কে বেড়াতে এসে ম্যাকডোনাল্ডসে খাবার খাওয়ার সময় কিশোরকে একাধিক ছুরিকাঘাত

নিউইয়র্কে বেড়াতে এসে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এক অস্ট্রেলিয়ান তরুণ। ম্যানহাটনের টাইমস স্কয়ার ও পেন স্টেশনের কাছের একটি ম্যাকডোনাল্ডসে বসে খাবার খাওয়ার সময় তাকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় ২৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।   ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত প্রায় ২টার দিকে ম্যানহাটনের এইটথ অ্যাভিনিউয়ের একটি ম্যাকডোনাল্ডসে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ওই তরুণের পাঁজরের অংশ ও পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়।   প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত ৯১১-এ ফোন করলে জরুরি সেবা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত তরুণকে বেলভিউ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   ঘটনার পরপরই পুলিশ সন্দেহভাজন একজনকে হেফাজতে নেয়। পরে তাকে ফ্লোরিডার পোর্ট শার্লটের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী হুয়ান মার্সিডিজ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে সেকেন্ড ডিগ্রি অ্যাসল্টের অভিযোগ আনা হয়েছে।   পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে দুজনের মধ্যে সংক্ষিপ্ত কথাবার্তা হয়েছিল। তবে কেন ওই তরুণের ওপর হামলা চালানো হলো, তার স্পষ্ট কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি তদন্ত করছে এনওয়াইপিডি।   যে ম্যাকডোনাল্ডসে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি ম্যানহাটনের ৪৯০ এইটথ অ্যাভিনিউয়ে। পেন স্টেশন ও টাইমস স্কয়ারের মাঝামাঝি ব্যস্ত এলাকায় থাকা রেস্তোরাঁটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটক এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন।   তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিশেষ করে গভীর রাতে ওই ম্যাকডোনাল্ডস ও আশপাশের এলাকায় ঝগড়া ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা নতুন নয়। নিয়মিত একজন গ্রাহক জানান, রাতে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে তিনি ওই এলাকায় বেশিক্ষণ অবস্থান করেন না।   ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন নিউইয়র্কে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটন এলাকা টাইমস স্কয়ার ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে পর্যটকদের আগ্রহ সবসময়ই বেশি থাকে। এনওয়াইপিডির মিডটাউন সাউথ প্রিসিঙ্কট এলাকায় চলতি বছর সামগ্রিক বড় ধরনের অপরাধ কমলেও বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।   অস্ট্রেলিয়ান তরুণটির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। নিউইয়র্ক পুলিশ এখন হামলার আগের পরিস্থিতি, দুই ব্যক্তির মধ্যে কোনো পূর্বপরিচয় ছিল কি না এবং ঠিক কী কারণে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে ইহুদি ব্যক্তির ওপর হামলা I  কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
নিউইয়র্কে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে ইহুদি ব্যক্তির ওপর হামলা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হেইট ক্রাইমের মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের আপার ওয়েস্ট সাইডে প্রকাশ্য দিবালোকে এক ইহুদি ও এক এশীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির ওপর ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অভিযুক্ত রাউল মোরালেসের বিরুদ্ধে হেইট ক্রাইম বা বিদ্বেষমূলক অপরাধের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, ৫১ বছর বয়সী ওই হামলাকারী জোড়া হামলার সময় উন্মত্ত অবস্থায় ‘আল্লাহু আকবার’ বলে চিৎকার করেছিলেন এবং রাস্তায় ঘোরাঘুরির সময় ‘ইসলাম’ শব্দটি বিড়বিড় করছিলেন।   পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যমতে, এই আকস্মিক ও হিংস্র হামলার প্রথম শিকার হন এক এশীয় পথচারী। মোরালেস পেছন থেকে ওই ব্যক্তির পিঠে আচমকা ছুরিকাঘাত করেন। এরপর তিনি এক ইহুদি ব্যক্তির ওপর চড়াও হন। হামলার সময় ওই ইহুদি ব্যক্তি মাথায় তাদের ঐতিহ্যবাহী 'ইয়ারমুলকে' টুপি পরিহিত ছিলেন। মোরালেস একটি স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে সরাসরি তার বুকে সজোরে আঘাত করেন। প্রকাশ্য দিবালোকে এমন ভয়ংকর জোড়া হামলার ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।   আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, ইহুদি ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনায় রাউল মোরালেসের বিরুদ্ধে হেইট ক্রাইমের আওতায় হত্যাচেষ্টা ও বিদ্বেষমূলক হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে, এশীয় পথচারীর ওপর হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, ফার্স্ট-ডিগ্রি বা প্রথম মাত্রার হামলা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য অবৈধ অস্ত্র বহনের দায়ে পৃথক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। মার্কিন পুলিশ বর্তমানে এই জোড়া হামলার পেছনের উদ্দেশ্য ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিশদ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
'আল্লাহু আকবার' বলে দুই পথচারীকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত
'আল্লাহু আকবার' বলে দুই পথচারীকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত, আতঙ্ক নিউইয়র্কে

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের আপার ওয়েস্ট সাইডে সেন্ট্রাল পার্কের কাছাকাছি প্রকাশ্য দিবালোকে দুই পথচারীর ওপর পৃথক ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি সম্ভাব্য বিদ্বেষপ্রসূত (হেট ক্রাইম) হামলা কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার কিছু পর প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে ওয়েস্ট ৮৪তম স্ট্রিট ও সেন্ট্রাল পার্ক ওয়েস্ট এলাকায়। ৫৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করা হয়। কয়েক মিনিট পর ওয়েস্ট ৮৬তম স্ট্রিট ও আমস্টারডাম অ্যাভিনিউয়ের কাছে ৫০ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তির ওপর হামলা চালানো হয়। দুই আহতকেই দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল এবং তাঁরা প্রাণে বেঁচে গেছেন।   পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ৫১ বছর বয়সী রাউল মোরালেসকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন থেকে আটক করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, হামলাকারীর সঙ্গে দুই ভুক্তভোগীর কারও পূর্বপরিচয়ের প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।    এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী হামলার সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি “আল্লাহু আকবার” বলে চিৎকার করেছিলেন। তবে এই মুহূর্তে হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, তদন্তে বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধের সম্ভাবনার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।    নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এ ঘটনাকে নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের ঘৃণাপ্রসূত সহিংসতার কোনো স্থান শহরে নেই। একই সঙ্গে তিনি আহত দুজনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার পর সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
উটাহর ভ্যালি ফেয়ার মলে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত মুসলিম কর্মী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছবি: সংগৃহীত
‘সব মুসলিমকে মেরে ফেলতে চাই’, যুক্তরাষ্ট্রের ইউটায় ভয়াবহ ইসলামোফোবিক হামলা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের একটি শপিং মলে ধর্মীয় পরিচয়কে লক্ষ্য করে এক মুসলিম কর্মীর ওপর ছুরিকাঘাতের ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে তিনি ভুক্তভোগীকে মুসলিম হওয়ার কারণেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিলেন।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার উটাহর ওয়েস্ট ভ্যালি সিটির ভ্যালি ফেয়ার মলের ভেতরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, মলের একটি কিয়স্কে কর্মরত মুসলিম যুবকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানানো হয়েছে।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন সাধারণ মানুষ সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে এসে হামলাকারীকে ধরে ফেলেন এবং পুলিশ পৌঁছানো পর্যন্ত তাকে আটকে রাখেন। এ সময় তাকে নিরস্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী হামলাকারীকে আঘাতও করেন। পরে পুলিশ এসে তাকে হেফাজতে নেয়।   গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম পিটার মাইকেল লারসেন। তাকে সল্ট লেক কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা এবং নিষিদ্ধ অবস্থায় বিপজ্জনক অস্ত্র বহনের অভিযোগে তদন্ত চলছে।   পুলিশের আদালতে দাখিল করা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় লারসেন বলেন যে তিনি ভুক্তভোগীকে "মুসলিম হওয়ার কারণে হত্যা করার উদ্দেশ্যে" লক্ষ্য করেছিলেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য, তিনি আরও দাবি করেন যে তিনি মুসলিমদের হত্যা করতে চান। এসব বক্তব্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং তাকে মুক্তি দিলে জনসাধারণের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আদালতে উল্লেখ করেছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য সল্ট লেক ট্রিবিউন জানায়, হামলার আগে সন্দেহভাজন ব্যক্তি কিয়স্কে এসে কর্মীর নাম ও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চান। এরপর তিনি পানির একটি বোতল চান। ভুক্তভোগী পানি আনতে ঘুরে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই হামলাকারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে শুরু করেন।   ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা উটাহ ইসলামিক সেন্টারের ইমাম শুয়াইব দিন জানান, আহত ব্যক্তি একাধিক অস্ত্রোপচার করাতে পারেন। এদিকে তার এক বন্ধু চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ভুক্তভোগীর শরীরে অন্তত ১৫টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।   তদন্তে আরও জানা গেছে, হামলাকারীকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে আটকে রাখার সময় তিনি কিছু আঘাত পান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।   মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসলামবিদ্বেষ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর থেকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ঘটনা বাড়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য, শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী মতাদর্শ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরেও মুসলিমবিদ্বেষ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। হামলাটিকে ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে কি না, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
অ্যালাবামায় শাসন করায় জন্মদাত্রী মাকে কুপিয়ে হত্যা করল ছেলে, রাস্তায় আহত পিতার আর্তনাদ

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামায় পারিবারিক কলহের জেরে নিজের মায়ের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। ছেলের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী মা সামান্থা বেকার। একই ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন তার বাবা, ৪৬ বছর বয়সী ল্যান্স বেকার। রক্তাক্ত অবস্থায় ওই ব্যক্তি রাস্তায় প্রতিবেশীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বাঁচার জন্য আর্তনাদ করতে থাকেন। গত রোববার রাত ৯টার দিকে অ্যালাবামার বাল্ডউইন কাউন্টির বেলফরেস্ট এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ঘটনার রাতে সন্তানকে শাসন করা নিয়ে পরিবারের মধ্যে তর্কাতর্কির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ওই কিশোর ক্ষিপ্ত হয়ে তার মা-বাবার ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালায়। বাড়ির ভেতরে ও বাইরে উভয় স্থানেই তাদের ছুরিকাঘাত করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে ওই দম্পতি পালানোর চেষ্টা করেন।   হামলা চালানোর পর ওই কিশোর নিজেকে ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ করে রাখে এবং নিজেই পুলিশকে ফোন করে। খবর পেয়ে পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সামান্থা বেকারকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, সংকটাপন্ন অবস্থায় তার স্বামী ল্যান্স বেকারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।   ল্যান্স বেকার মার্কিন সেনাবাহিনীর রিজার্ভ ব্যাটালিয়নের একজন কমান্ডার হিসেবে কর্মরত। হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রতিবেশীদের দরজায় কড়া নেড়ে সাহায্য চাইতে থাকেন। শন স্কারি নামের এক প্রতিবেশী জানান, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ল্যান্স বেকারের বাঁচার আকুতি ধরা পড়েছে। ভিডিওতে তাকে বারবার বলতে শোনা যায়, "দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন... আমি মরতে চাই না।" প্রতিবেশী শন আরও জানান, ওই ব্যক্তি একটি খোলা দরজার খোঁজে রাস্তায় হন্যে হয়ে ছোটাছুটি করছিলেন।   বাল্ডউইন কাউন্টির শেরিফ অফিস জানিয়েছে, অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবেই তার বিচারকার্য পরিচালিত হবে। সোমবার আদালতে হাজির করার পর তাকে ১০ লাখ ডলারের বন্ডে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নিহত সামান্থা বেকার পেশায় একজন রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ছিলেন এবং স্বামী ল্যান্সের মতো তিনিও একসময় মার্কিন সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন। তাদের অপর এক ছোট ছেলে হামলার সময় বাড়িতে ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনাটিকে একটি বিচ্ছিন্ন পারিবারিক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে স্থানীয় শেরিফ বিভাগ।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড সেন্ট্রালে দা হাতে হামলা, তিনজন আহত—পুলিশের গুলিতে হামলাকারী নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্যস্ততম পরিবহন কেন্দ্র গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনালে দা হাতে এক ব্যক্তির হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ সদস্যদের গুলিতে ওই হামলাকারী নিহত হন।   শনিবার স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৯টা ৪০ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ। পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, হামলাকারী একটি দা হাতে প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত হয়ে আচরণে অস্বাভাবিকতা প্রদর্শন করছিলেন এবং নিজেকে ‘লুসিফার’ বলে দাবি করছিলেন।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে অন্তত ২০ বার অস্ত্র ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি তা অমান্য করে দা উঁচিয়ে পুলিশ সদস্যদের দিকে এগিয়ে আসেন। এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত্যু হয়।   ঘটনায় আহত তিনজনের মধ্যে দুজন পুরুষ (বয়স ৮৪ ও ৬৫ বছর) এবং একজন নারী (৭০ বছর)। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে দুজনের মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত রয়েছে, আর একজনের কাঁধে আঘাত লেগেছে।   পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পরিচিত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের অভিযোগ ছিল। অতীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনাতেও তিনি জড়িত ছিলেন।   নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনাকে ‘অর্থহীন সহিংসতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। শহরের মেয়রও পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন।   পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় সন্ত্রাসবাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্ত চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিউইয়র্কের পাতালরেলে একাধিক সহিংস ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, সামগ্রিক অপরাধের হার আগের তুলনায় কমেছে এবং নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Unknown এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
নিহত মো. রাব্বি। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্র নিহত

রাজধানীর মগবাজারে দুর্বৃত্তের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মো. রাব্বি (১৭) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) রাতের দিকে মগবাজারের মধুবাগ মাদ্রাসা খেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।   নিহত রাব্বি মগবাজার আঞ্জুমান হাই স্কুলের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং পঞ্চগড়ের ফুলতলা উপজেলার মো. ফারুক মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে মগবাজারের চেয়ারম্যান গলিতে বসবাস করতেন।   প্রতিবেশী কাজী সিয়াম আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, ইফতারের পর রাব্বি তার দুই বন্ধু ও এক বান্ধবীর সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় বখাটে উজ্জ্বলসহ ৫-৬ জন কিশোর তাদের ঘিরে ফেলে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা রাব্বির বুকে ছুরি মারে এবং পালিয়ে যায়।   গুরুতর আহত অবস্থায় রাব্বিকে প্রথমে স্থানীয় কমিউনিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, রাব্বির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তি আটক হয়েছে।

Unknown মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০