বর্তমান বিশ্বের জ্বালানি পরিস্থিতিকে ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট এবং ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের চেয়েও অধিক ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফতিহ বিরল। সোমবার (২৩ মার্চ) অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে এক বিশাল ও অভূতপূর্ব হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে আছে। ফতিহ বিরল এই পরিস্থিতিকে দুটি বড় তেল সংকট এবং একটি গ্যাস সংকটের সম্মিলিত ও জটিল রূপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আইইএ প্রধান জানান, চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ফলে ওই অঞ্চলের অন্তত ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ‘ভয়াবহভাবে’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সংকট নিরসনে কোনো একক দেশ নয়, বরং বিশ্বব্যাপী সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইইএ ইতিমধ্যে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে তাদের জরুরি তেলের মজুত বাজারে ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে সদস্য দেশগুলো বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে রেকর্ড ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিল।
ফতিহ বিরল আরও যোগ করেন, বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন হলে আইইএ আরও মজুত তেল বাজারে ছাড়তে প্রস্তুত রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের নিয়মিত সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়াটা সবচেয়ে জরুরি। যদি বর্তমান অস্থিরতা অব্যাহত থাকে, তবে বিশ্বের কোনো দেশই এর নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
স্কটল্যান্ডের একটি মসজিদে শিশু স্কাউটদের শিক্ষামূলক সফরের বাস্তব ভিডিওকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে বিভ্রান্তিকর দাবি। কোথাও ঘটনাটিকে স্কুলের ফিল্ড ট্রিপ, কোথাও শিশুদের বাধ্য করে নামাজ পড়ানো এবং একটি শিশুর সেই নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে ছড়ানো হয়েছে সম্পাদিত ছবি এবং পরে একই ঘটনার নামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি সম্পূর্ণ ভুয়া ছবিও। ব্রিটিশ ফ্যাক্টচেক সংস্থা ফুল ফ্যাক্টের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মূল ভিডিওটি বাস্তব। এটি স্কটল্যান্ডের একটি বিভার স্কাউট দলের মসজিদ পরিদর্শনের সময় ধারণ করা হয়েছিল। ভিডিওতে কয়েকজন শিশুকে মুসলিমদের নামাজের বিভিন্ন শারীরিক ভঙ্গি অনুসরণ করতে এবং একটি শিশুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বেশ কিছু পোস্টে ঘটনাটিকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তার সঙ্গে যাচাই করা তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ভাইরাল পোস্টগুলোর একটিতে দাবি করা হয়, একজন শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের স্কুলের ফিল্ড ট্রিপে মসজিদে নিয়ে যান। সেখানে একজন ইমাম শিশুদের ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষা দেন, মেয়েদের বোরকা পরার পদ্ধতি দেখান এবং সবাইকে নামাজের জন্য নত হতে বলেন। পোস্টটিতে আরও দাবি করা হয়, শুধু একটি ছেলে নত হতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী, এটি কোনো স্কুলের শিক্ষার্থীদের ফিল্ড ট্রিপ ছিল না। শিশুরা যুক্তরাজ্যের স্কাউট আন্দোলনের বিভার স্কাউট দলের সদস্য হিসেবে মসজিদটি পরিদর্শন করেছিল। শিশুদের বাধ্য করে নামাজ পড়ানোর দাবিও অস্বীকার করেছে স্কাউট কর্তৃপক্ষ। ফুল ফ্যাক্টকে স্কাউটসের একজন মুখপাত্র জানান, শিশুরা প্রকৃত নামাজে অংশ নিচ্ছিল না। ইমাম মুসলমানরা নামাজের সময় যেসব শারীরিক ভঙ্গি করেন, সেগুলো দেখাচ্ছিলেন। শিশুদের ইচ্ছা হলে সেই ভঙ্গি অনুসরণ করার সুযোগ ছিল। এতে অংশ নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। ভিডিওতে একটি শিশুকে অন্যদের মতো নত না হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এই দৃশ্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ইসলামি প্রার্থনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানো শিশু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে শিশুটি কেন দাঁড়িয়ে ছিল কিংবা সে প্রতিবাদ হিসেবে নামাজের ভঙ্গি অনুসরণ করেনি কি না, তা নিশ্চিত করার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শুধু ভিডিওর দৃশ্য দেখে শিশুটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ঘটনাটি নিয়ে বিভ্রান্তি আরও বাড়ে একটি ছবি ভাইরাল হওয়ার পর। ছবিটিতে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুটির পাশে সাদা পোশাক ও টুপি পরা লম্বা দাড়িওয়ালা একজন ব্যক্তিকে দেখা যায়। ছবিটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন ওই ব্যক্তিই শিশুদের সামনে দাঁড়িয়ে নামাজের নির্দেশনা দিচ্ছেন। কিন্তু স্কাউট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি মূল ভিডিওতে ছিলেনই না। ফুল ফ্যাক্ট মূল ভিডিওর সঙ্গে ভাইরাল ছবিটি তুলনা করে আরও কিছু অসঙ্গতি শনাক্ত করে। স্কাউটসের মুখপাত্রও নিশ্চিত করেন, সাদা পোশাকের দাড়িওয়ালা ব্যক্তিকে পরবর্তীতে ছবিতে যোগ করা হয়েছে। অর্থাৎ বাস্তব ভিডিও থেকে নেওয়া একটি দৃশ্য ডিজিটালি পরিবর্তন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। এর কয়েক দিনের মধ্যেই একই মসজিদ সফরের ঘটনা দাবি করে নতুন কিছু ছবিও ছড়িয়ে পড়ে। এবার ছবিগুলো শুধু সম্পাদিত নয়, পুরোপুরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি। ১০ জুন প্রকাশিত আরেকটি যাচাই প্রতিবেদনে ফুল ফ্যাক্ট জানায়, এসব ছবির শিশু, পোশাক ও কক্ষের সঙ্গে প্রকৃত ভিডিওর দৃশ্যের মিল নেই। ছবিগুলোতে এমন ডিজিটাল চিহ্নও পাওয়া গেছে যা সেগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি হওয়ার বিষয়টি নির্দেশ করে। ফলে পুরো ঘটনাটিতে বাস্তব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য আলাদা করা গুরুত্বপূর্ণ। স্কটল্যান্ডে বিভার স্কাউটদের একটি দলের মসজিদ পরিদর্শন বাস্তব। সেখানে মুসলমানদের নামাজের ভঙ্গি শিশুদের দেখানো হয়েছিল এবং কয়েকজন শিশু তা অনুসরণ করেছিল। একটি শিশুকে দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা গেছে। কিন্তু শিশুদের বাধ্য করে নামাজ পড়ানোর দাবি যাচাই করা যায়নি। বরং স্কাউট কর্তৃপক্ষ বলেছে, অংশগ্রহণ ছিল ঐচ্ছিক। একইভাবে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুটি ধর্মীয় কারণে প্রতিবাদ করেছিল, এমন দাবিরও স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটিকে স্কুলের শিক্ষার্থীদের ফিল্ড ট্রিপ হিসেবে উপস্থাপন করাও সঠিক নয়। আর ভাইরাল হওয়া দাড়িওয়ালা ব্যক্তিসহ ছবিটি সম্পাদিত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাও নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটেনে ইসলাম ও মুসলিমদের ঘিরে আরও বেশ কয়েকটি বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও ও দাবি শনাক্ত করেছে ফুল ফ্যাক্ট। এর মধ্যে ব্রিটেনে শরিয়াহ আইন চালুর দাবি, হালাল নীতির কারণে যুক্তরাজ্যের স্টারবাকসে কুকুর নিষিদ্ধ করার দাবি এবং লন্ডনে হালাল খাদ্যের দাবিতে মুসলিমদের বিশাল মিছিলের নামে ছড়ানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ভিডিও রয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে কোনো সংগঠিত যোগসূত্র রয়েছে কিংবা নির্দিষ্ট কোনো পক্ষ সমন্বিতভাবে ইসলামবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ইসলাম ও মুসলিমদের ঘিরে বাস্তব ঘটনার সঙ্গে বিভ্রান্তিকর বর্ণনা, সম্পাদিত ছবি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি কনটেন্ট যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার একাধিক ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে নথিবদ্ধ হয়েছে। স্কটল্যান্ডের শিশু স্কাউটদের মসজিদ সফরের ঘটনাটি দেখায়, একটি বাস্তব ভিডিওর সঙ্গে অযাচাইকৃত ব্যাখ্যা এবং পরিবর্তিত বা কৃত্রিম ছবি যুক্ত হলে মূল ঘটনা কত দ্রুত ভিন্ন বর্ণনায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। ধর্মের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে তাই ভাইরাল ছবি বা ভিডিওর ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে মূল ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।
ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ই-পাসপোর্ট সেবা আরও সহজ ও গতিশীল করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীরা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংকট, অনলাইন ব্যবস্থার নানা জটিলতা এবং সেবা গ্রহণে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। প্রবাসীদের এই ভোগান্তি লাঘব করতে এবং ফরাসি প্রেফেকচারে রেসিডেন্স পারমিট সংক্রান্ত জরুরি অ্যাপয়েন্টমেন্টের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দূতাবাস এই বিশেষ কনস্যুলার কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রথম পর্যায়ে ২৫ জুলাই, ৮ আগস্ট এবং ২২ আগস্ট—এই তিনটি শনিবার বিশেষ কনস্যুলার সেবা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ সেবার প্রথম দিনেই ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। এদিন ৮৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক সফলভাবে ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করেছেন। সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো, পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ পেয়েছেন অনেক আবেদনকারী। সম্প্রতি ইমেইলভিত্তিক আবেদন পদ্ধতির পরিবর্তে ওয়েবসাইটভিত্তিক অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেছিল দূতাবাস। কিন্তু সীমিত স্লট ও কারিগরি ত্রুটির কারণে অনেকেই সময়মতো অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাচ্ছিলেন না। এই বিশেষ সেবা সেই সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। পাসপোর্ট সেবার এই কারিগরি দিক ও বর্তমান চাপ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিল জানান, ই-পাসপোর্ট একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া। এখানে আবেদনকারীর ছবি, আঙুলের ছাপ ও স্বাক্ষরসহ নানা তথ্য যাচাই-বাছাই করে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পাসপোর্ট প্রস্তুত করা হয়। আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কার্যক্রমে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও সেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। দূতাবাসের এই বিশেষ কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করছে ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন। বাংলাদেশ নাগরিক পরিষদ ফ্রান্স এবং বিএনপি ফ্রান্সসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে আবেদনকারীদের তথ্য প্রদান, সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খল করতে সহায়তা করছেন। কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ দূতাবাসের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিএনপি ফ্রান্সের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদুর রহমান জুনেদ এবং কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা মিল্টন সরকার জানান, প্রবাসীরা যেন দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পান, সেটি নিশ্চিত করতেই তারা প্রবাসীদের পাশে থেকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন। বাংলাদেশ নাগরিক পরিষদ ফ্রান্সের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর দূতাবাসের কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রশংসা করে সেবাকে আরও গতিশীল ও প্রবাসীবান্ধব করার আহ্বান জানান। সাধারণ প্রবাসীদের প্রত্যাশা, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও ত্রুটিমুক্ত ও কার্যকর করা হবে, যাতে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিরা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ই-পাসপোর্ট সেবার পূর্ণ সুবিধা সহজেই পেতে পারেন।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে চালানো সামরিক অভিযানে দুই শতাধিক মার্কিন সেনাকে হত্যার দাবি জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)। তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন মোহেবি জানান, অপারেশন ভিক্টরি-টু অভিযানের ফলে নিহত আমেরিকানদের সংখ্যা দুইশ ছাড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক এই নতুন উত্তেজনার সূচনা হয় জুলাই মাসের শুরুর দিকে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের পর এই প্রথম ওয়াশিংটন দক্ষিণ ইরানে বিমান হামলা চালায়। এই মার্কিন হামলার জবাবে তেহরান বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। মার্কিন সামরিক বাহিনী কর্তৃক নিজেদের হতাহতের বিষয়ে প্রকাশিত সকল প্রতিবেদন সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জেনারেল মোহেবি। পাশাপাশি, ইরান অতীতে যেসব মার্কিন ঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়েছে, সেখানে স্বাধীন সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ওয়াশিংটনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন এই সামরিক কর্মকর্তা।