- প্রচ্ছদ
- Topic
আবাসন
যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় সুদের হার আবারও ৭ শতাংশের ওপরে উঠেছে। ১০ সেপ্টেম্বর দৈনিক হিসাবে হার বেড়ে ৭ দশমিক ০৭ শতাংশে পৌঁছায়, যা এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবার ৭ শতাংশের সীমা অতিক্রম। এর ফলে বাড়ি কিনতে আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য মাসিক মর্টগেজ পেমেন্টের চাপ আরও বাড়ছে। মর্টগেজ নিউজ ডেইলির দৈনিক সূচক অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের হার ছিল ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এক দিনের ব্যবধানে তা আরও ১০ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৭ দশমিক ০৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এক বছর আগে একই সূচকে হার ছিল ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে হার বেড়েছে প্রায় ৭৮ বেসিস পয়েন্ট। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাব পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় মর্টগেজ রেটের সংখ্যায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। ফ্রেডি ম্যাকের সাপ্তাহিক হিসাবে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় হার ছিল ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা আগের সপ্তাহের ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে বেড়েছে। মর্টগেজ রেটের এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের ফলন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ১০ বছরের ট্রেজারি ইয়েল্ড ১০ সেপ্টেম্বর ৪ দশমিক ৯ শতাংশের কাছাকাছি বা তার ওপরে ওঠে। এই ইয়েল্ড মর্টগেজ রেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাজার সূচক হিসেবে কাজ করে। মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ, জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বন্ড মার্কেটেও। ১০ বছরের ট্রেজারি ইয়েল্ডের ঊর্ধ্বগতি শেষ পর্যন্ত বাড়ির ঋণের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। উচ্চ মর্টগেজ রেটের প্রভাব ইতোমধ্যে আবাসন বাজারেও দেখা যাচ্ছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ২ শতাংশ কমে এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একই সময়ে বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ির সরবরাহ বাড়লেও উচ্চ ঋণ খরচ অনেক ক্রেতাকে অপেক্ষায় রাখছে। বাড়ি কিনতে চাওয়া ক্রেতাদের জন্য এর অর্থ হলো একই দামের বাড়ির ক্ষেত্রেও মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট আগের তুলনায় বেশি হতে পারে। বিশেষ করে ডাউন পেমেন্ট কম হলে সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাব আরও বেশি পড়তে পারে। মর্টগেজ রেট আবার ৭ শতাংশের ওপরে ওঠায় যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে চাপ আরও বাড়ল। চলতি বছরের শুরুতে সুদের হার কমে ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি তৈরি হলেও সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতি সেই সুবিধার বড় অংশ কমিয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের তীব্র সংকট তৈরি হলেও দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার সাশ্রয়ী হিসেবে চিহ্নিত আবাসন ইউনিট খালি পড়ে আছে। অস্টিন, ডেনভার ও পোর্টল্যান্ডের মতো শহরে এমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যেখানে কম আয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত কিছু বাড়ি ভাড়াটে পাচ্ছে না। কারণ, এসব আবাসনের ভাড়া অনেক দরিদ্র মানুষের সামর্থ্যের বাইরে চলে গেছে। ফলে একদিকে সবচেয়ে কম আয়ের মানুষ বাসস্থানের জন্য সংগ্রাম করছেন, অন্যদিকে তাদের জন্য নির্ধারিত কিছু ইউনিট খালি থাকছে। টেক্সাসের অস্টিনে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ম্যাথিউ ডেভিস নিজের একটি অ্যাপার্টমেন্ট চান। কিন্তু রক্তের প্লাজমা দান করে মাসে কয়েকশ ডলার আয় করা ডেভিসের জন্য মাসে ৪৫০ ডলারের একটি ছোট ঘরের ভাড়াও বহন করা কঠিন। ওই ছোট ঘরটিতে পানির সরবরাহ নেই এবং বাথরুমও যৌথভাবে ব্যবহার করতে হয়। অথচ অস্টিনে শহর কর্তৃপক্ষের হিসাবে সাশ্রয়ী আবাসন হিসেবে চিহ্নিত ৪ হাজার ৫০০টির বেশি ইউনিট খালি পড়ে আছে, যা মোট ইউনিটের প্রায় ১৬ শতাংশ। এই বৈষম্যের বড় কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থায়ন পাওয়া নিম্নআয়ের আবাসনের বড় অংশ এমন মানুষের জন্য তৈরি হয়েছে, যাদের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের অন্তত ৫০ শতাংশ বা তার বেশি। কিন্তু সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের আয় তার চেয়ে অনেক কম। ফলে কাগজে-কলমে এসব বাড়ি সাশ্রয়ী হিসেবে বিবেচিত হলেও দেশের সবচেয়ে কম আয়ের মানুষের কাছে সেগুলো বাস্তবে সাশ্রয়ী নয়। কিছু শহরে এসব ইউনিটের ভাড়া বাজারদরের কাছাকাছি চলে আসায় খালি থাকার হারও বেড়েছে। ন্যাশনাল লো ইনকাম হাউজিং কোয়ালিশনের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত কম আয়ের ১ কোটি ১০ লাখ ভাড়াটে পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী ও খালি থাকা ভাড়ার আবাসনের ঘাটতি ৭২ লাখ। অর্থাৎ প্রতি ১০০টি অত্যন্ত কম আয়ের ভাড়াটে পরিবারের বিপরীতে এমন আবাসন রয়েছে মাত্র ৩৫টি। এই শ্রেণির মানুষের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার নিচে অথবা তাদের এলাকার মধ্যম আয়ের ৩০ শতাংশের মধ্যে, যেটি বেশি। এই পরিবারগুলোর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ তাদের আয়ের অর্ধেকের বেশি বাড়িভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ব্যয় করে। ফলে খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের জন্য তাদের হাতে খুব কম অর্থ থাকে। এর মধ্যে রয়েছেন কম বেতনের চাকরিজীবী, প্রবীণ এবং নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও। সবচেয়ে কম আয়ের ভাড়াটেদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্য ও বড় মহানগর এলাকাতেই রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাশ্রয়ী আবাসন তৈরিতে ব্যবহৃত ফেডারেল নিম্নআয়ের আবাসন কর সুবিধা কর্মসূচির আওতায় ২০২৪ সালে অর্থায়ন পাওয়া ইউনিটগুলোর মাত্র প্রায় ১২ শতাংশ অত্যন্ত কম আয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত ছিল। অধিকাংশ ইউনিট এমন মানুষের জন্য তৈরি হয়েছে, যাদের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের অন্তত ৫০ শতাংশ। অস্টিনে উদাহরণ হিসেবে, একক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এলাকার মধ্যম আয়ের ৫০ শতাংশ পর্যায়ের আয় প্রায় ৪৭ হাজার ডলার, যেখানে অত্যন্ত কম আয়ের একজনের আয় ২৮ হাজার ডলারের নিচে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন, সাশ্রয়ী আবাসন তৈরির বর্তমান ব্যবস্থা জটিল এবং ভাড়া ভাউচারের তুলনায় বেশি ব্যয়বহুল। অন্যদিকে কিছু আবাসন বিশেষজ্ঞের মতে, কর সুবিধার মাধ্যমে তৈরি আবাসন ও ভাড়া ভাউচার একসঙ্গে কাজ করতে পারে। তবে ভাড়া ভাউচারের ক্ষেত্রেও বড় ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, যোগ্য পরিবারগুলোর মাত্র চারটির মধ্যে একটি পরিবার ভাড়া ভাউচার পায় এবং অনেক ক্ষেত্রে অপেক্ষার তালিকায় থাকতে হয় বছরের পর বছর। অস্টিনে এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশ পর্যায়ের মানুষের জন্য তৈরি সাশ্রয়ী আবাসনের ভাড়া বাজারদরের কাছাকাছি চলে এসেছে। ফলে কিছু মানুষ সামান্য বেশি ভাড়া দিয়ে বাজারদরের অ্যাপার্টমেন্টে উঠতে আগ্রহী হচ্ছেন, কারণ সেখানে আয় যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুত। বিপরীতে সাশ্রয়ী আবাসনের আবেদনকারীদের ব্যাংক হিসাব, বেতন, বিলসহ বিভিন্ন আর্থিক তথ্য যাচাই করা হয়। ডেনভারে ফেডারেল কর সুবিধা কর্মসূচির আওতায় এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশ পর্যায়ের ইউনিটে খালি থাকার হার ১৩ শতাংশ এবং ৮০ শতাংশ পর্যায়ের ইউনিটে ২১ শতাংশ। পোর্টল্যান্ডে ১ হাজার ৭০০টির বেশি সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট খালি রয়েছে। সেখানে এসব ইউনিটের বড় অংশ এমন মানুষের জন্য নির্ধারিত, যাদের আয় এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। অস্টিনে ২০১৮ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে অত্যন্ত কম আয়ের মানুষের জন্য ২০ হাজার আবাসন ইউনিট তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সাল পর্যন্ত তৈরি হয়েছে মাত্র ৫৪৩টি। বিপরীতে এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যায়ের মানুষের জন্য পরিকল্পিত ১৫ হাজার ইউনিটই নির্মাণ করা হয়েছে। শহরের আবাসন বিভাগ জানিয়েছে, সবচেয়ে কম আয়ের মানুষের জন্য আরও আবাসন তৈরির প্রয়োজন তারা স্বীকার করছে এবং ৩০ শতাংশ মধ্যম আয় পর্যায়ের মানুষের জন্য ইউনিটসহ প্রকল্পে অর্থায়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ম্যাথিউ ডেভিসের মতো মানুষের কাছে এই পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। গাড়িতে এক বছর বসবাস করার পর অস্টিনের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার সুযোগ পাওয়া ডেভিস এমন একটি জায়গা চান, যেখানে রাতে দরজা বন্ধ করে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন। কিন্তু সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ঘাটতি এবং বিদ্যমান সাশ্রয়ী আবাসনের ভাড়া ও আবেদন প্রক্রিয়ার কারণে সেই সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে শীতলতার মধ্যে আগস্টে বড় ৫০টি মহানগরের ৩৬টিতে বাড়ির প্রতি বর্গফুটের মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে অস্টিনে, যেখানে দাম কমেছে ৮ দশমিক ১ শতাংশ। এরপর রয়েছে টাম্পা ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মেমফিস ৪ দশমিক ১ শতাংশ। উচ্চ বন্ধকি ঋণের সুদহার, বাড়ির বাড়তি সরবরাহ এবং করোনাভাইরাস মহামারির পর বাজারের পুনর্বিন্যাসের কারণে এসব এলাকায় দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। রিয়েলটর ডটকমের আগস্টের আবাসন বাজারের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে বাড়ির প্রতি বর্গফুটের দাম টানা ১০ম মাসের মতো বার্ষিক হিসাবে কমেছে। জাতীয়ভাবে এই দাম গত বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, দক্ষিণাঞ্চলে ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পশ্চিমাঞ্চলে ২ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে দাম অপরিবর্তিত ছিল। শীর্ষ ৫০টি মহানগরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে অস্টিন-রাউন্ড রক-সান মারকোস এলাকায়। সেখানে প্রতি বর্গফুটের মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৮ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। টাম্পা-সেন্ট পিটার্সবার্গ-ক্লিয়ারওয়াটারে প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। সেখানে মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৫০ ডলার। মেমফিসে প্রতি বর্গফুটের দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৫ ডলার। এ তালিকায় এরপর রয়েছে সান ফ্রান্সিসকো-অকল্যান্ড-ফ্রেমন্ট, যেখানে প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। ওই এলাকার মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৯ লাখ ৮ হাজার ৭০০ ডলার। সান অ্যান্টোনিও-নিউ ব্রাউনফেলসে দাম কমেছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ ডলার। ডেনভার-অরোরা-সেন্টেনিয়ালে প্রতি বর্গফুটের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৯১৩ ডলারে। বাল্টিমোর-কলাম্বিয়া-টাওসনে প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলার। সান ডিয়েগো-চুলা ভিস্তা-কার্লসবাডে কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৮ লাখ ৯৯ হাজার ডলার। অরল্যান্ডো-কিসিমি-স্যানফোর্ডে কমেছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৪ লাখ ১৭ হাজার ডলার। পোর্টল্যান্ড-ভ্যাঙ্কুভার-হিলসবোরো এলাকায় প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৫ লাখ ৯৫ হাজার ডলার। রিয়েলটর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেল বলেন, অস্টিন, টাম্পা, সান অ্যান্টোনিও ও ডেনভারের মতো বাজারে ২০২০ থেকে ২০২২ সালের আবাসন বাজারের দ্রুত উত্থানের পর এখন মহামারির সময়ের মূল্যবৃদ্ধির একটি অংশ কমে আসছে। এসব এলাকায় মহামারির আগের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাড়ির মজুতও বেশি রয়েছে। ফলে বিক্রেতাদের আগের তুলনায় আরও বাস্তবসম্মত দামে বাড়ি তালিকাভুক্ত করতে হচ্ছে। সান ফ্রান্সিসকোতে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। সেখানে প্রতি বর্গফুটের তালিকাভুক্ত দাম ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমলেও জুলাইয়ে সক্রিয় বাড়ির তালিকা আগের বছরের তুলনায় ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছিল। শহরটির মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দামও গত বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৯ লাখ ৮ হাজার ৭০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ ক্রিমেলের মতে, সেখানে দামের পরিবর্তনের পেছনে বাজারে আসা বাড়ির ধরনও ভূমিকা রাখছে। ফ্রেমন্ট এলাকার রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ভেরোনিকা পিটার বলেন, প্রযুক্তি খাতের পরিবর্তনও সান ফ্রান্সিসকো এলাকার আবাসন বাজারে প্রভাব ফেলছে। ওই এলাকার অনেক কর্মী প্রযুক্তি খাতে কাজ করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন ও কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে কিছু ক্রেতা চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। এর সঙ্গে উচ্চ সুদের হার এবং প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দরপতনও বাড়ি কেনার জন্য রাখা অর্থের ওপর চাপ তৈরি করেছে। রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বাজারে বাড়ির দামের নিম্নমুখী সমন্বয় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়ি কেনার সামর্থ্যের সমস্যায় থাকা সম্ভাব্য ক্রেতাদের জন্য কিছুটা সুযোগ তৈরি করছে। দেশজুড়ে সক্রিয় বাড়ির মজুতও বাড়ছে এবং ২০১৯ সালের শেষের পর দেখা যায়নি এমন মাত্রার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে। ফলে বিক্রেতাদের তুলনামূলক বেশি বেছে নেওয়া ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নিজেদের দাম নির্ধারণের কৌশল নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। তবে এসব বাজারে বাড়ির দাম কমার প্রবণতা সাময়িক নাকি আরও বড় আঞ্চলিক পরিবর্তনের সূচনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সামনে বন্ধকি ঋণের সুদহারে সম্ভাব্য পরিবর্তন শরৎকালীন বাড়ি কেনাবেচার মৌসুমে বাজারের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: রিয়েলটর ডটকম
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার সময় শুধু বাড়ির দাম ও মর্টগেজের কিস্তি হিসাব করলেই হয় না। প্রতি বছর কত প্রপার্টি ট্যাক্স দিতে হবে, সেটিও আগেই জানা জরুরি। কারণ এই ট্যাক্সের পরিমাণ রাজ্য, কাউন্টি ও স্থানীয় ট্যাক্সিং ইউনিটভেদে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে বাড়ির মালিকের মাসিক খরচে বড় প্রভাব ফেলে। প্রপার্টি ট্যাক্স সাধারণত স্থানীয় সরকার ও বিভিন্ন স্থানীয় ট্যাক্সিং ইউনিট আদায় করে। এই অর্থ স্কুল, রাস্তা, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন স্থানীয় সেবা পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মালিকের বসবাস করা বাড়ির কার্যকর প্রপার্টি ট্যাক্স হারের হিসাবে নিউ জার্সি ছিল ১.৮৮ শতাংশ, কানেকটিকাট ১.৫৪ শতাংশ এবং মিসৌরি ০.৮৯ শতাংশ। একই হিসাবে টেক্সাসের হার ছিল ১.৪০ শতাংশ। তবে এসব হারকে সরাসরি প্রতিটি বাড়ির নির্দিষ্ট ট্যাক্স বিল হিসেবে ধরা ঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে বাড়ির মূল্য নির্ধারণ ও অ্যাসেসমেন্টের নিয়ম এক নয়। কোথাও বাজারমূল্যের একটি নির্দিষ্ট অংশকে অ্যাসেসড ভ্যালু হিসেবে ধরে ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়। আবার স্থানীয় সরকার, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও অন্যান্য ট্যাক্সিং ইউনিটের আলাদা লেভিও থাকতে পারে। ফলে একই দামের দুটি বাড়ির প্রপার্টি ট্যাক্সও ভিন্ন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের একটি বাড়িতে ১ শতাংশ কার্যকর হার প্রযোজ্য হলে বছরে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডলার, অর্থাৎ মাসে গড়ে প্রায় ২০৮ ডলার ট্যাক্স দাঁড়ায়। তবে নিউ জার্সি বা কানেকটিকাটের মতো তুলনামূলক বেশি প্রপার্টি ট্যাক্সের রাজ্যে একই দামের বাড়ির প্রকৃত ট্যাক্স বিল স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী আরও বেশি হতে পারে। তাই শুধু বাড়ির বিক্রয়মূল্য দেখে মাসিক খরচের হিসাব করা ঝুঁকিপূর্ণ। বাড়ি কেনার পরও ট্যাক্সের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাড়ির অ্যাসেসড ভ্যালু পুনর্মূল্যায়ন করলে ট্যাক্স বিল বাড়তে পারে। আবার স্থানীয় ট্যাক্স রেট পরিবর্তন হলেও মালিকের বার্ষিক খরচে প্রভাব পড়তে পারে। তাই বাড়ি কেনার আগে সাম্প্রতিক কয়েক বছরের প্রপার্টি ট্যাক্স রেকর্ড দেখা গুরুত্বপূর্ণ। টেক্সাসের ক্ষেত্রেও একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানা দরকার। সেখানে স্টেট প্রপার্টি ট্যাক্স নেই। তবে স্থানীয় কাউন্টি, সিটি, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও অন্যান্য ট্যাক্সিং ইউনিট প্রপার্টি ট্যাক্স আদায় করে। টেক্সাস কম্পট্রোলারের তথ্য অনুযায়ী, এসব স্থানীয় সংস্থাই ট্যাক্সের হার নির্ধারণ করে এবং সেই অর্থ স্থানীয় সেবায় ব্যবহার করে। বাড়ি কেনার আগে সম্ভাব্য ক্রেতাদের সংশ্লিষ্ট কাউন্টির অ্যাসেসর বা অ্যাপ্রেইজাল ডিস্ট্রিক্টের রেকর্ড থেকে বাড়িটির আগের প্রপার্টি ট্যাক্স কত ছিল তা যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে বাড়িটি হোমস্টেড এক্সেম্পশনের জন্য যোগ্য কি না, সেটিও জানা দরকার। কারণ এ ধরনের ছাড়ের নিয়ম ও সুবিধার পরিমাণ রাজ্য ও স্থানীয় এলাকার ওপর নির্ভর করে। তাই নতুন বাড়ি দেখার সময় শুধু মর্টগেজের মাসিক কিস্তি নয়, প্রপার্টি ট্যাক্স, হোম ইন্স্যুরেন্স, সম্ভাব্য হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ফি এবং অন্যান্য নিয়মিত খরচ মিলিয়ে মোট মাসিক ব্যয় হিসাব করাই নিরাপদ। এতে বাড়ি কেনার পর অপ্রত্যাশিত খরচের চাপ কমানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের উডস্টকের একটি আবাসিক এলাকায় বাড়ির মালিকরা অভিযোগ করেছেন, ২০৪০ সাল পর্যন্ত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনার ওপর মূল ডেভেলপারের প্রভাব বজায় থাকতে পারে। ভিলেজ অব টাউন লেক এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ২০২০ সালে করা একটি চুক্তির কারণে আবাসিক এলাকার বাড়ির মালিক সমিতির সঙ্গে ডেভেলপারের নিজস্ব সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক ২০৪০ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলাকার মূল ডেভেলপার ডেভিড পিয়ারসন ২০২০ সালে নিজের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওই চুক্তি করেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, চুক্তিটির মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানটি এমন কিছু দায়িত্ব পেয়েছে, যেগুলো সাধারণত বাড়ির মালিক সমিতির বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। ফলে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ডেভেলপারের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন বাড়ির মালিক। চুক্তি অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানটিকে বছরে কমপক্ষে ৭৯ হাজার ডলার অথবা বাড়ির মালিক সমিতির মোট বাজেটের ২০ শতাংশ, যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ অর্থ দেওয়ার কথা রয়েছে। বাড়ির মালিকদের দাবি, গত কয়েক বছরে সমিতির বাজেট প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। এর ফলে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পারিশ্রমিকও বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ৬৩৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষের একটি উদাহরণ হিসেবে একটি বেড়া নিয়ে বিরোধের কথা উঠে এসেছে। বাড়ির মালিক জেসন সার্সি জানান, তিনি একটি বেড়া নির্মাণে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ ডলার খরচ করেছিলেন। পরে সম্পত্তির সীমানা নিয়ে বিরোধের কারণে সেটি সরিয়ে ফেলা হয়। তার দাবি, এ বিষয়ে তিনি কোনো ক্ষতিপূরণ বা যথাযথ যোগাযোগ পাননি। বাড়ির মালিকদের আরও অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পারিশ্রমিক তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। একজন বাসিন্দা অন্য কয়েকটি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে খরচের হিসাব নেন। সেখানে সর্বোচ্চ প্রস্তাবও প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার ডলারের মধ্যে ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পারিশ্রমিকের পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা। তবে ভিলেজ অব টাউন লেকের বাড়ির মালিক সমিতির সভাপতি বেকি রিপিক এই ব্যবস্থাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তাদের এলাকার ব্যবস্থাপনা কাঠামোটি অন্য সাধারণ বাড়ির মালিক সমিতির তুলনায় আলাদা। তার মতে, সমিতির বোর্ডের দায়িত্বও প্রচলিত বাড়ির মালিক সমিতির তুলনায় সীমিত। তিনি আরও দাবি করেন, অধিকাংশ বাসিন্দা এলাকায় সন্তুষ্ট এবং যারা আপত্তি তুলছেন তারা সংখ্যায় কম। এদিকে চুক্তির বৈধতা ও ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জর্জিয়ার বাড়ির মালিক সমিতি-সংক্রান্ত আইন প্রণয়নে সহায়তাকারী আইনজীবী র্যান্ডি লিপশুটজ বলেছেন, চুক্তিটি যথাযথভাবে অনুমোদিত হয়ে থাকলে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পারিশ্রমিক নিজেই অবৈধ নাও হতে পারে। তবে বাড়ির মালিক সমিতির বোর্ডের ক্ষমতার বড় একটি অংশ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি আলাদা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি সামনে আসার সময় জর্জিয়ায় বাড়ির মালিক সমিতি নিয়ে নতুন অভিযোগ ব্যবস্থাও চালুর প্রস্তুতি চলছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে এসব অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনার প্রক্রিয়া ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ভিলেজ অব টাউন লেকের বাসিন্দাদের অভিযোগও ভবিষ্যতে ওই ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারে। এলাকার বাড়ির মালিকদের মূল উদ্বেগের জায়গা হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ, অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা। তাদের অভিযোগ, ২০৪০ সাল পর্যন্ত চলমান চুক্তির কারণে বাড়ির মালিক সমিতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ডেভেলপারের প্রভাব সহজে শেষ হচ্ছে না। অন্যদিকে সমিতির পক্ষ থেকে ব্যবস্থাটিকে স্বতন্ত্র ও বিশেষ কাঠামো হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সূত্র: দ্য কুল ডাউন, ১১অ্যালাইভ
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ি কেনা ও ভাড়া নেওয়া দুটোই এখন অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত। তবে এপার্টমেন্ট ডট কমের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, দেশটির সাতটি বড় মেট্রো এলাকায় বাড়ি কেনার তুলনায় ভাড়া থাকলে মাসে কয়েকশ থেকে ১ হাজার ডলারের বেশি সাশ্রয় হতে পারে। এর মধ্যে অস্টিন ও স্যাক্রামেন্টোতে এই ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। তালিকায় রয়েছে টেক্সাসের অস্টিন, ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টো, কলোরাডোর ডেনভার, ওরেগনের পোর্টল্যান্ড, মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর, ইউটাহর সল্ট লেক সিটি এবং ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো। এসব মেট্রো এলাকায় গড় মাসিক রেন্টের তুলনায় মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অস্টিনে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ৪৭৫ ডলার। বিপরীতে গড় মাসিক রেন্ট ১ হাজার ৪২১ ডলার। অর্থাৎ বাড়ি কেনার পরিবর্তে ভাড়া থাকলে মাসে প্রায় ১ হাজার ৫৪ ডলার কম খরচ হতে পারে। স্যাক্রামেন্টোতে ব্যবধানও ১ হাজার ডলারের বেশি। সেখানে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ৬২১ ডলার, আর গড় রেন্ট ১ হাজার ৫৭৯ ডলার। ফলে ভাড়া থাকলে মাসে প্রায় ১ হাজার ৪২ ডলার সাশ্রয় হতে পারে। ডেনভারে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ৫১৮ ডলার এবং গড় রেন্ট ১ হাজার ৬৩৩ ডলার। ব্যবধান প্রায় ৮৮৫ ডলার। ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে মধ্যম মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ৪০৪ ডলার, যেখানে গড় রেন্ট ১ হাজার ৫৫১ ডলার। অর্থাৎ ভাড়া থাকলে মাসে প্রায় ৮৫৩ ডলার কম খরচ হতে পারে। মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ২৫৪ ডলার এবং গড় রেন্ট ১ হাজার ৫২৭ ডলার। এখানে ব্যবধান প্রায় ৭২৭ ডলার। ইউটাহর সল্ট লেক সিটিতে মধ্যম মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ১০৬ ডলার। গড় রেন্ট ১ হাজার ৪২৮ ডলার। ফলে ভাড়া থাকলে মাসে প্রায় ৬৭৮ ডলার সাশ্রয় হতে পারে। তালিকার সপ্তম শহর ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো। সেখানে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ১ হাজার ৯৬৭ ডলার এবং গড় রেন্ট ১ হাজার ৫৯০ ডলার। ব্যবধান প্রায় ৩৭৭ ডলার। বিশ্লেষণে ব্যবহৃত রেন্টের তথ্য এপার্টমেন্ট ডট কমের সাম্প্রতিক বাজারের হিসাবের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। জুলাই ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী অস্টিনে গড় রেন্ট ছিল প্রায় ১ হাজার ৪২০ ডলার, স্যাক্রামেন্টোতে ১ হাজার ৫৮৩ ডলার, ডেনভারে ১ হাজার ৬৪২ ডলার এবং পোর্টল্যান্ডে ১ হাজার ৫২৯ ডলার। একই সময়ে অরল্যান্ডোর গড় রেন্ট ছিল প্রায় ১ হাজার ৫৮৫ ডলার। অস্টিনের আবাসন বাজার নিয়ে স্থানীয় রিয়েল এস্টেট এজেন্ট দিলার শোয়ার্টজ ফক্স বিজনেসকে বলেন, শহরটিতে বাড়ি কেনা ও রেন্ট নেওয়া দুই বাজারেই চাহিদা রয়েছে। কাজের কারণে অস্টিনে আসা, নতুন এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা এবং বিভিন্ন সাবডিভিশনে স্থানান্তরের কারণে রেন্টাল ইনকোয়ারি বেড়েছে বলে তিনি জানান। তবে রেন্ট বনাম বাইয়ের সিদ্ধান্ত শুধু মাসিক রেন্ট ও মর্টগেজ পেমেন্টের পার্থক্যের ওপর নির্ভর করে না। বাড়ি কিনলে ডাউন পেমেন্ট, প্রপার্টি ট্যাক্স, হোম ইন্স্যুরেন্স, মেইনটেন্যান্স ও ক্লোজিং কস্টের মতো অতিরিক্ত খরচ থাকে। অন্যদিকে রেন্টারদের সাধারণত এসব মালিকানাসংক্রান্ত খরচ বহন করতে হয় না। বর্তমান আবাসন বাজারে মর্টগেজের উচ্চ খরচ ও বাড়ির দামের কারণে অনেক পরিবারের জন্য রেন্ট নেওয়া স্বল্পমেয়াদে তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অস্টিন ও স্যাক্রামেন্টোর মতো শহরে মাসিক ব্যয়ের ব্যবধান ১ হাজার ডলারের বেশি হওয়ায় বাড়ি কেনার আগে রেন্ট বনাম বাইয়ের হিসাব নতুন করে বিবেচনা করছেন অনেক ক্রেতা।
যুক্তরাজ্যে সন্তানসহ বিবাহিত দম্পতিদের সামাজিক আবাসনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন রিফর্ম ইউকের ডেপুটি লিডার রিচার্ড টাইস। নতুন আবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেছেন, সন্তানদের বিবাহিত বাবা-মায়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠা আদর্শ পরিস্থিতি এবং ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া শিশুদের উৎসাহিত করা উচিত। রিফর্ম ইউকের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩৫ বছরের কম বয়সী ব্রিটিশ নাগরিকদের সামাজিক আবাসনের অপেক্ষমাণ তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি সন্তানসহ বিবাহিত দম্পতি, কর্মরত ব্যক্তি ও সাবেক সেনাসদস্যদেরও অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। টাইসকে জিজ্ঞেস করা হলে, সন্তানসহ বিবাহিত ব্রিটিশ দম্পতি একক ব্রিটিশ নাগরিকের চেয়ে সামাজিক আবাসনে অগ্রাধিকার পাবেন কি না, তিনি বলেন, হ্যাঁ। তাঁর যুক্তি, পরিবার সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া শিশুদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন। একক অভিভাবকদের প্রসঙ্গে টাইস বলেন, বাস্তব জীবনে অনেক পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তবে তাঁর মতে, আদর্শ পরিস্থিতিতে সন্তানদের বিবাহিত দম্পতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা বেশি কাম্য এবং এ বিষয়টি উৎসাহিত করা উচিত। রিফর্ম ইউকের এই পরিকল্পনায় ব্রিটিশ নাগরিকদের আবাসনের তালিকায় এগিয়ে রাখার পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের সামাজিক আবাসন থেকে সরিয়ে দেওয়ার আগের একটি প্রস্তাবও রয়েছে। দলটির দাবি, বিদেশি নাগরিকদের সামাজিক আবাসন থেকে সরিয়ে দিলে প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার বাড়ি খালি হতে পারে। তবে প্রস্তাবটির তীব্র সমালোচনা করেছে গৃহহীনতা নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা শেল্টার। সংস্থাটির মতে, এমন নীতি বাস্তবায়ন হলে অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় অস্থায়ী আবাসনে আটকে থাকতে পারে। বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের জন্য এটি গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেছে। দলটির দাবি, সামাজিক আবাসনের সুযোগ নির্ধারণে আবাসনের প্রয়োজনের পরিবর্তে জাতীয়তা ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিলে আরও বেশি পরিবার গৃহহীনতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এর আগে জুন মাসে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ বিদেশি নাগরিকদের সামাজিক আবাসন থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি প্রস্তাব সামনে আনেন। তিনি বলেছিলেন, ক্ষমতায় গেলে সামাজিক আবাসনে থাকা বিদেশি নাগরিকদের বেসরকারি ভাড়া বাসায় যাওয়ার জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হবে। তা না হলে তাদের যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার হারানো এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়ার কথা বলা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র আবাসন সংকটের কারণে আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া সাধারণ মানুষের আয়ের বড় একটি অংশ গিলে খাচ্ছে। আবাসন খাতের প্রতিষ্ঠান জিলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্কে দুই বেডরুমের একটি বাসার গড় ভাড়া মাসে ৪ হাজার ৭৫০ ডলার, যা বছরে দাঁড়ায় ৫৭ হাজার ডলারে। ২০২৩ সালের মার্কিন শুমারি ব্যুরোর তথ্যমতে, এটি ওই শহরের পরিবারগুলোর গড় আয়ের দুই-তৃতীয়াংশের চেয়েও বেশি। শুধু নিউইয়র্ক নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই মানুষের আয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে বাসস্থানের পেছনে। জিলোর দেওয়া তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশটিতে গড় বার্ষিক বাড়িভাড়া ২১ হাজার ৪৮০ ডলার। জিলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক ভাড়াটেই 'কস্ট-বার্ডেনড' বা আবাসন ব্যয়ভারের চাপে পিষ্ট, যার অর্থ হলো তাদের আয়ের ৩০ শতাংশেরও বেশি কেবল আবাসন খাতেই ব্যয় হয়। ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তান থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে এই হার আরও বেশি, প্রায় ৫৪ শতাংশ। জিলো ও স্ট্রিটইজি-এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ কেনি লি জানান, যদিও ভাড়া বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে, তবুও আয়ের তুলনায় ভাড়ার পরিমাণ এখনো অনেক উঁচুতে অবস্থান করছে। করোনা মহামারির পর থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ ভাড়াটে এই অতিরিক্ত খরচের চাপে রয়েছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির জয়েন্ট সেন্টার ফর হাউজিং স্টাডিজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরে ৩০ হাজার ডলারের কম আয় করা প্রতি ১০ জন ভাড়াটের মধ্যে ৮ জনেরও বেশি মানুষ ২০২৪ সালে মারাত্মক ব্যয়ভারের চাপে ছিলেন। বাড়িভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো তীব্র আবাসন সংকট। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকে দীর্ঘ দুই দশক ধরে নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে বর্তমানে মার্কিন আবাসন বাজারে ৪৭ লাখ বাড়ির বিশাল ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতির কারণে অনেক মানুষ বাড়ি কেনার বদলে বাসা ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা আবাসন সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলছে। অর্থনীতিবিদ লি জানান, উন্নয়নের জন্য জমি থাকা সত্ত্বেও জোনিং বা আঞ্চলিক বিধিনিষেধ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নির্মাণকাজ থমকে আছে। উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন ভাড়ার বাজারগুলোতে তাই আবাসন প্রকল্পগুলো আটকে রয়েছে। এই বাধাগুলো পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহ কোনোভাবেই চাহিদার সমকক্ষ হতে পারবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি দ্বিদলীয় বিল আইনে পরিণত হয়েছে। হোয়াইট হাউস এটিকে দেশের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ আবাসন আইন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই আইনটি আবাসন সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করলেও, তাৎক্ষণিকভাবে এটি বাড়িভাড়ার আকাশচুম্বী মূল্যের লাগাম টেনে ধরতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত বর্ধনশীল মেট্রো এলাকাগুলোর অন্যতম আটলান্টায় জনসংখ্যা এখনও বাড়ছে, তবে সেই বৃদ্ধির গতি কমে এসেছে। আটলান্টা রিজিওনাল কমিশনের সর্বশেষ হিসাবে, গত এক বছরে ১১ কাউন্টির মেট্রো আটলান্টায় প্রায় ৫৩ হাজার ৭০০ নতুন বাসিন্দা যোগ হলেও বাড়ির সীমিত সরবরাহ, চড়া দাম এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের ধীরগতি মানুষের স্থানান্তরে বাধা তৈরি করছে। আটলান্টা রিজিওনাল কমিশনের ২০২৬ সালের পপুলেশন এস্টিমেট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১১ কাউন্টির আটলান্টা অঞ্চলে ৫৩ হাজার ৬৯০ জন নতুন বাসিন্দা যোগ হয়েছেন। এতে অঞ্চলটির মোট জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩ লাখ ৩৯ হাজার। এক বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ। আগের বছর এই বৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং তখন নতুন বাসিন্দা যোগ হয়েছিল ৬৪ হাজার ৪০০ জন। অর্থাৎ আটলান্টায় মানুষ আসা বন্ধ হয়নি, কিন্তু আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার ৭০০ কম মানুষ যুক্ত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি হিসাবেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মেট্রো আটলান্টার গড় বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ। ২০১০-এর দশকে এই হার ছিল ১ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ২ শতাংশ এবং ১৯৯০-এর দশকে ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। আটলান্টা রিজিওনাল কমিশন জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার পেছনে আবাসন সংকটকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অঞ্চলে বাড়ির চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম উঁচু রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন বাড়ি নির্মাণের পারমিট কমে যাওয়া এবং চাকরি বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে আসাও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য এলাকা থেকে আটলান্টায় স্থানান্তর হতে আগ্রহীদের ওপর বাড়ির চড়া দাম প্রভাব ফেলছে। একসময় তুলনামূলক কম খরচে বাড়ি কেনা এবং জীবনযাপনের সুযোগ আটলান্টার অন্যতম আকর্ষণ ছিল। কিন্তু জনসংখ্যা ও আবাসনের চাহিদা বাড়তে থাকায় সেই সুবিধা আগের মতো নেই। নতুন বাড়ি নির্মাণের তথ্যেও সংকটের চিত্র স্পষ্ট। ২০২৫ সালে ১১ কাউন্টির আটলান্টা অঞ্চলে মোট ২৪ হাজার ১৫টি রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং পারমিট ইস্যু করা হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এটি ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ কম। বর্তমান নির্মাণের হার দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায়ও অনেক নিচে। ১৯৮০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে বছরে গড়ে প্রায় ৩৩ হাজার ১৫০টি রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং পারমিট ইস্যু হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান আবাসন নির্মাণ সেই ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছে। তবে পুরো মেট্রো এলাকার বৃদ্ধির গতি কমলেও সব জায়গায় পরিস্থিতি একই নয়। গত এক বছরে ১১টি কাউন্টির প্রতিটিতেই জনসংখ্যা বেড়েছে। ফুলটন কাউন্টিতে বৃদ্ধির হার ছিল সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ। এরপর ফরসাইথ কাউন্টিতে ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং হেনরি কাউন্টিতে ১ দশমিক ৩ শতাংশ জনসংখ্যা বেড়েছে। আটলান্টা শহরেও নতুন বাসিন্দা যোগ হওয়া অব্যাহত রয়েছে। গত এক বছরে শহরটিতে প্রায় ৬ হাজার ৯০০ নতুন বাসিন্দা যোগ হয়ে মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০ জনে পৌঁছেছে। আটলান্টা রিজিওনাল কমিশনের মতে, মিডটাউন এবং আটলান্টা বেল্টলাইনের আশপাশে মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং ডেভেলপমেন্ট শহরের সাম্প্রতিক জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহরের কেন্দ্র ও আশপাশে অ্যাপার্টমেন্ট এবং অন্যান্য মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং নির্মাণের কারণে আটলান্টা শহরের বৃদ্ধির হার আগের কয়েক দশকের তুলনায় বেশি রয়েছে। ২০২৫ সালে আটলান্টা শহরেই ৫ হাজার ৬২২টি রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং পারমিট ইস্যু হয়েছে, যা অঞ্চলটির মধ্যে সর্বোচ্চ। আটলান্টা শহরের বাইরের ফুলটন কাউন্টি এলাকায় ইস্যু হয়েছে আরও ৪ হাজার ৩৮টি পারমিট। ফুলটন কাউন্টিতে মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং নির্মাণের তৎপরতাও বেড়েছে। ২০২৫ সালে কাউন্টিটিতে এ ধরনের আবাসনের জন্য ২ হাজার ২৫৫টি পারমিট ইস্যু হয়। ২০২৪ সালে সংখ্যাটি ছিল ১ হাজার ৩২২। স্যান্ডি স্প্রিংস, জনস ক্রিক, ইউনিয়ন সিটি ও কলেজ পার্কে এর বড় অংশের নির্মাণ কার্যক্রম হয়েছে। আটলান্টা রিজিওনাল কমিশন বলছে, অঞ্চলটির অর্থনীতি এখনও শক্তিশালী এবং নতুন বাসিন্দা আসছেন। তবে ভবিষ্যতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী বাড়ি তৈরি করতে না পারলে হাউজিং খরচ আরও বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আটলান্টা রিজিওনাল কমিশন ইতিমধ্যে অঞ্চলব্যাপী একটি হাউজিং স্ট্র্যাটেজি তৈরির কাজ শুরু করেছে। পরিকল্পনাটির লক্ষ্য বিভিন্ন আয়ের মানুষের নাগালের মধ্যে আরও বাড়ি তৈরি, বিদ্যমান অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং সংরক্ষণ এবং বাসিন্দাদের চাকরি ও প্রয়োজনীয় সেবার কাছাকাছি থাকার সুযোগ বাড়ানো। সর্বশেষ জনসংখ্যার হিসাব তাই আটলান্টার জন্য দুই ধরনের বাস্তবতা সামনে আনছে। অঞ্চলটিতে মানুষ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, কিন্তু পর্যাপ্ত বাড়ি তৈরি না হওয়া এবং হাউজিং খরচ বেড়ে যাওয়ায় একসময়কার দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি ধীরে ধীরে কমে আসছে।
নিউইয়র্ক শহরে আবাসন সংকট মোকাবিলা, সাশ্রয়ী আবাসন বাড়ানো এবং জমির ব্যবহার নিয়ে আগস্ট মাসে একাধিক সভা, গণশুনানি ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম চলছে। এসব আলোচনায় নতুন আবাসন প্রকল্প, ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন এবং নগরের আবাসন নীতির বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পাচ্ছে। চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কের আবাসন ও ভূমি ব্যবহারসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে জনসাধারণের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। নগরের কোনো এলাকায় নতুন আবাসন বা বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত নেওয়া এসব প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিউইয়র্কে ভূমি ব্যবহারের বড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ইউনিফর্ম ল্যান্ড ইউজ রিভিউ প্রসিডিউর বা ইউলুর্প প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। এতে স্থানীয় কমিউনিটি বোর্ড, বরো প্রেসিডেন্ট, নগর পরিকল্পনা কমিশন এবং শেষ পর্যন্ত সিটি কাউন্সিলের পর্যালোচনা যুক্ত থাকে। আবাসন সংকটের কারণে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ ও বিদ্যমান আবাসন সংরক্ষণ এখন নগর রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসনও আবাসন সংকট মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। একই সময়ে নগরের আবাসন নীতি ও ভূমি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে নতুন আবাসন প্রকল্পের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ, ভবনের ঘনত্ব, অবকাঠামোর সক্ষমতা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী ইউনিটের সংখ্যা—এসব বিষয় গণশুনানিতে গুরুত্ব পেতে পারে। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভাড়া, নতুন আবাসন নির্মাণ, ভবনের ব্যবহার পরিবর্তন এবং স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সিদ্ধান্ত সরাসরি অনেক পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। নগর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য এসব শুনানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে আগামী দিনগুলোতে আবাসন ও ভূমি ব্যবহারের সিদ্ধান্তগুলো নিউইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় মানুষের স্থানান্তর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত অভ্যন্তরীণ অভিবাসন প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। উচ্চ আবাসন ব্যয়, তুলনামূলক বেশি রাজ্য আয়কর এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগের কারণে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক পরিবার ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে অ্যারিজোনায় বসতি গড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর জনসংখ্যা ও অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের তথ্যেও দুই রাজ্যের বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে ক্যালিফোর্নিয়া জনসংখ্যা হারাচ্ছে, অন্যদিকে অ্যারিজোনা দ্রুত জনসংখ্যা বাড়ানো রাজ্যগুলোর একটি হয়ে উঠছে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এগুলো হলো রাজ্য আয়কর, বাড়ির দাম এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ। প্রথম কারণ, আয়করের বড় পার্থক্য ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যক্তিগত আয়কর আয়ের স্তর অনুযায়ী ১ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত। এর পাশাপাশি ১০ লাখ ডলারের বেশি করযোগ্য আয়ের ওপর অতিরিক্ত ১ শতাংশ কর রয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রাজ্য আয়করের হার দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে, অ্যারিজোনায় ২০২৩ সাল থেকে ব্যক্তিগত আয়করের সমতল হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য দুই রাজ্যের আয়করের ব্যবধান বেশ বড়। তবে শুধু আয়কর দিয়েই একজন মানুষের মোট করের বোঝা নির্ধারিত হয় না। বাড়ির দাম, সম্পত্তি কর, বিক্রয় কর, বাড়ির বীমা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয়ও হিসাব করতে হয়। তারপরও ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় কম রাজ্য আয়কর অ্যারিজোনাকে অনেক পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। দ্বিতীয় কারণ, তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ আবাসন ব্যয়। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ডিয়েগো, অরেঞ্জ কাউন্টি ও সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকার মতো ব্যয়বহুল অঞ্চলের তুলনায় অ্যারিজোনার অনেক এলাকায় একই বাজেটে বড় বাড়ি কেনা সম্ভব। রিয়েল এস্টেট কোম্পানি রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার বড় শহর ও মহানগর এলাকাগুলোতে বাড়ির দাম দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিপরীতে ফিনিক্স ও টুসনের মতো অ্যারিজোনার বড় শহরগুলোতে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। তবে দুই রাজ্যের বাড়ির দাম সরাসরি তুলনা করার সময় শহর ও এলাকার পার্থক্য বিবেচনায় নিতে হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার সব এলাকার বাড়ির দাম যেমন সমান নয়, তেমনি অ্যারিজোনার সব এলাকাও সস্তা নয়। তারপরও ক্যালিফোর্নিয়ার উচ্চ আবাসন ব্যয় বহু পরিবারকে অন্য রাজ্যে যাওয়ার কথা ভাবতে বাধ্য করছে। অ্যারিজোনায় তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার পাশাপাশি অনেক পরিবার কম মাসিক ঋণের কিস্তির সুবিধাও পাচ্ছে। তৃতীয় কারণ, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থান অ্যারিজোনার আকর্ষণ শুধু কম আবাসন ব্যয় বা কম করের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজ্যটি দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও অর্ধপরিবাহী শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। তাইওয়ানের অর্ধপরিবাহী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি অ্যারিজোনার ফিনিক্স এলাকায় বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। কোম্পানিটি সেখানে তিনটি কারখানা নির্মাণের জন্য ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে প্রথম কারখানায় ৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। পরবর্তী কারখানাগুলো চালু হলে অ্যারিজোনায় উন্নত প্রযুক্তির অর্ধপরিবাহী উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রযুক্তি জায়ান্ট ইন্টেলও অ্যারিজোনার চ্যান্ডলারে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে দুটি নতুন অর্ধপরিবাহী কারখানা নির্মাণের প্রকল্প নিয়েছে। এসব বিনিয়োগের ফলে শুধু কারখানায় সরাসরি চাকরি নয়, প্রকৌশল, নির্মাণ, সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন, প্রযুক্তি ও অন্যান্য সহযোগী খাতেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার প্রবণতা অবশ্য নতুন নয় ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অন্য রাজ্যে মানুষের চলে যাওয়ার প্রবণতা কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে। উচ্চ আবাসন ব্যয়, জীবনযাত্রার খরচ, কর এবং কিছু ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের অবস্থান পরিবর্তন এর পেছনে ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে অ্যারিজোনা, টেক্সাস, নেভাদা ও ফ্লোরিডার মতো রাজ্যগুলো তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের কারণে নতুন বাসিন্দাদের আকর্ষণ করছে। তবে অ্যারিজোনায় মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানেও আবাসনের চাহিদা ও দাম বাড়ছে। পানি, পরিবহন, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য অবকাঠামোর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে শুধু কম কর বা কম বাড়ির দামের হিসাব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। পরিবারের আয়, চাকরির ধরন, দূর থেকে কাজের সুযোগ, সন্তানদের শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনাও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারপরও সাম্প্রতিক বছরগুলোর অভ্যন্তরীণ জনসংখ্যা স্থানান্তরের চিত্রে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনার দিকে মানুষের আগমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হিসেবে উঠে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার উচ্চ আবাসন ব্যয় ও করের চাপের বিপরীতে অ্যারিজোনার তুলনামূলক কম রাজ্য আয়কর, আবাসনের সুযোগ এবং প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগ অনেক পরিবারের কাছে নতুন করে বসতি গড়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে।
নিউইয়র্কের হাউজিং লটারিতে ফ্ল্যাট পেয়ে মাসে মাত্র ৮৮১ ডলার ভাড়া দিচ্ছেন ২৬ বছর বয়সী নাহজায়ে অলিন। ব্রঙ্কনের বাসিন্দা এই তরুণী ২০২০ সালে সাশ্রয়ী আবাসনের জন্য আবেদন শুরু করেন এবং ২০২২ সালে একটি এক বেডরুমের ফ্ল্যাটের জন্য অপেক্ষমাণ তালিকায় জায়গা পান। পরে ২০২৩ সালের মে মাসে তিনি দুই বছরের চুক্তিতে ওই ফ্ল্যাটে ওঠেন। নাহজায়ে ব্রঙ্কনে জন্ম ও বেড়ে ওঠেন। পাঁচ ভাইবোনের সঙ্গে তিনি যে এক বেডরুমের ফ্ল্যাটে বড় হয়েছেন, বর্তমানে তার নতুন বাসা সেই বাড়ি থেকে মাত্র এক ব্লক দূরে। কলেজ শেষ করে ২০১৯ সালে পরিবারের সঙ্গে ফিরে আসার পর নিজের জন্য আলাদা বাসা খোঁজার পরিকল্পনা শুরু করেন তিনি। একাই বা কারও সঙ্গে বাসা ভাগ করে থাকার খরচ দেখে নাহজায়ে নিউইয়র্কের হাউজিং লটারিতে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২০ সালে তিনি প্রথম আবেদন করেন। ২০২২ সালে সাড়া পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ১০০টির বেশি আবেদন করেছিলেন। নিউইয়র্কের হাউজিং লটারির মাধ্যমে আয়ের যোগ্যতার ভিত্তিতে বাসিন্দাদের সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ দেওয়া হয়। শহরের আবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাশ্রয়ী আবাসনের খরচ একজন ব্যক্তি বা পরিবারের আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা নয়। তবে কোন ফ্ল্যাটের জন্য কত আয় প্রয়োজন, তা নির্ভর করে এলাকার গড় আয়, ফ্ল্যাটের আকার, পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও বার্ষিক আয়ের ওপর। নাহজায়ে ব্রঙ্কনেই থাকতে চেয়েছিলেন। কয়েক বছর ধরে তিনি ব্রুকলিনের বিভিন্ন হাউজিং লটারির বিষয়ে সাড়া পেলেও নিজের এলাকার একটি বাসার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। ২০২২ সালে তিনি ব্রঙ্কনের উইলিয়ামসব্রিজ এলাকায় একটি এক বেডরুমের ফ্ল্যাটের অপেক্ষমাণ তালিকায় যুক্ত হওয়ার খবর পান। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো এক বেডরুমের ফ্ল্যাট তার সামর্থ্যের বাইরে হবে। কিন্তু বাসাটি দেখতে গিয়ে সেটি তার পছন্দ হয়ে যায়। ২০২৩ সালের মে মাসে তিনি ওই ফ্ল্যাটের জন্য দুই বছরের চুক্তিতে সই করেন। সেখানে তার মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ৮৮১ ডলার। একই সময়ে ব্রঙ্কনে এক বেডরুমের ফ্ল্যাটের গড় ভাড়া ছিল ২ হাজার ২৩০ ডলার। ওই ফ্ল্যাটের জন্য যোগ্য হতে নাহজায়ের বার্ষিক আয় ৩৩ হাজার ৮৬ ডলার থেকে ৪৬ হাজার ৭০০ ডলারের মধ্যে হতে হতো। নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে ব্যাংক হিসাবের তথ্য, বিল ও করসংক্রান্ত কাগজপত্রসহ আয়ের প্রমাণ জমা দিতে হয়। ভবনটিতে কাপড় ধোয়ার জায়গা, ব্যায়ামাগার ও বিনা মূল্যের ইন্টারনেট সুবিধাও রয়েছে। নিউইয়র্কের হাউজিং লটারিতে আবেদন করলেই যে দ্রুত বাসা পাওয়া যায়, তা নয়। শহরের আবাসন সংস্থার একজন কর্মকর্তার মতে, একটি ফ্ল্যাটের জন্য গড়ে প্রায় ৫০টি আবেদন পড়ে। আবেদন বন্ধ হওয়ার পর কাগজে করা আবেদনও যুক্ত করা হয় এবং আবেদনগুলো এলোমেলোভাবে বিভিন্ন দলে সাজানো হয়। প্রত্যেক আবেদনকারীকে একটি নম্বর দেওয়া হয়, যা আবাসন সংক্রান্ত অনলাইন হিসাবের মাধ্যমে দেখা যায়। নম্বর যত কম, সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা তত আগে আসে। আবেদনকারীদের নিজেদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ রাখা এবং আয়সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কের বাসিন্দা না হলেও হাউজিং লটারিতে আবেদন করা যায়। তবে যারা আগে থেকেই নিউইয়র্কে থাকেন, তাদের আগে যোগাযোগ করা হয়। আবেদন করার জন্য মার্কিন নাগরিক হওয়াও বাধ্যতামূলক নয়। নাহজায়ের পরিবার তার নতুন বাসা পেয়ে আনন্দিত। মা প্রথমবার বাসাটি দেখে কেঁদে ফেলেন এবং মেয়ের জন্য গর্ব প্রকাশ করেন। নাহজায়ে জানান, নিজের আয়ের মধ্যে বাসা পাওয়া তার জন্য কঠিন মনে হয়েছিল। এখন তিনি পরিবার ও ভাইবোনদের নিয়ে সেখানে সময় কাটান। নাহজায়ে একমাত্র নন, আরও অনেক নিউইয়র্কবাসী হাউজিং লটারির মাধ্যমে সাশ্রয়ী বাসা পেয়েছেন। তাদের একজন নকেংজে ২০২০ সালে আবেদন শুরু করে ২০২৩ সালে এক বেডরুমের একটি ফ্ল্যাট পান। এর আগে তিনি হারলেমে ছোট একটি এক বেডরুমের বাসার জন্য প্রায় ১ হাজার ৯০০ ডলার ভাড়া দিতেন। পরে হাউজিং লটারির মাধ্যমে তিনি মাসে ৯৯৭ ডলারের ভাড়ায় একটি ফ্ল্যাট পান। নকেংজের নতুন বাসায় ব্যায়ামাগার, খেলার ঘর ও ছাদের সুবিধা রয়েছে। তার দুই বছরের চুক্তিতে মাসিক ভাড়া ৯৯৭ ডলার নির্ধারিত হয়, যার মধ্যে ৮৫ ডলারের ইউটিলিটি সুবিধাও রয়েছে। কম ভাড়ার কারণে তিনি ভবিষ্যতে বাড়ি কেনার জন্য অর্থ সঞ্চয় করছেন। নিউইয়র্কের হাউজিং লটারিতে সুযোগ পেতে আবেদনকারীদের ধৈর্য ধরে নিয়মিত আবেদন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আবাসন কর্মকর্তাদের মতে, প্রথমবার আবেদন করেই সুযোগ পাওয়া নাও যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে আবেদন চালিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
নিউইয়র্কের হ্যাম্পটনে মাত্র পাঁচ মাস আগে ৭ কোটি ২০ লাখ ডলারে বিক্রি হওয়া একটি সম্পত্তি নতুন করে ১৬ কোটি ২০ লাখ ডলারের তালিকামূল্যে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইস্ট হ্যাম্পটনের ৪৩ ইস্ট ডিউন লেনের এই সম্পত্তিতে পুরোনো বাড়ির জায়গায় বিশাল নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্পত্তিটি গত মার্চে ৭ কোটি ২০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়। নতুন পরিকল্পনায় সেখানে ১৭ হাজার ৫০০ বর্গফুটের মূল বাড়ি এবং ৩ হাজার ৫০০ বর্গফুটের অতিথিশালা নির্মাণ করা হবে। পুরো প্রকল্পে স্থাপত্য, নির্মাণ ও ল্যান্ডস্কেপের জন্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল কাজ করছে। এই সম্পত্তির সঙ্গে রয়েছে ঐতিহাসিক পরিচয়ও। দীর্ঘদিন এটি লি র্যাডজিউইলের মালিকানায় ছিল, যিনি জ্যাকি ওনাসিসের বোন। র্যাডজিউইল ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে সম্পত্তিটি ৬০ লাখ ডলারের কিছু বেশি দামে কিনেছিলেন এবং এক দশকেরও বেশি সময় সেখানে স্বামী হার্বার্ট রসের সঙ্গে বসবাস করেন। বর্তমান মালিকের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। একটি শেল কোম্পানির মাধ্যমে সম্পত্তিটি কেনা হয়েছে। দলিল ও কর-সংক্রান্ত নথিতে ক্রেতার ম্যানহাটনের ফ্ল্যাট আয়রন এলাকার একটি সমবায় ভবনের একটি ইউনিটের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। নতুন বাড়ির নকশা ও নির্মাণে স্থপতি রবার্ট এ এম স্টার্ন, নির্মাতা এড বুলগিন এবং ল্যান্ডস্কেপ স্থপতি এড হল্যান্ডার যুক্ত রয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্মাণের অনুমতিপত্র আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। বাড়িটিতে ২৭০ ডিগ্রি সমুদ্রের দৃশ্য এবং হ্যাম্পটনের উপকূলীয় সম্পত্তির জন্য বিরল একটি বেসমেন্ট থাকবে। প্রস্তাবিত সম্পত্তিটি ৩ দশমিক ৬ একর জায়গাজুড়ে থাকবে এবং সরাসরি সমুদ্রসীমা থাকবে ২২৫ ফুট। তিন তলা বাড়িটির প্রতিটি তলা থেকেই সমুদ্রের দৃশ্য দেখা যাবে। সেখানে থাকবে নয়টি শোবার ঘর, ১১টি পূর্ণ বাথরুম ও দুটি অর্ধেক বাথরুম। চলাচলের সুবিধার জন্য লিফট ও একাধিক সিঁড়ির ব্যবস্থাও থাকবে। বাড়ির নিচের অংশে বিনোদন ও সুস্থতার জন্য বিভিন্ন সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে গলফ সিমুলেটর, ব্যায়ামের জায়গা, ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা, সনা, খেলাঘর ও খাবারের জায়গা থাকবে। পাশাপাশি থাকবে ওয়াইন সেলার ও বার। বাইরের অংশে একটি টেনিস কোর্ট, বড় লন, বাগান ও অতিথিশালা থাকবে। এছাড়া ২০ বাই ৮০ ফুটের একটি প্রান্তবিহীন সুইমিং পুল নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। হ্যাম্পটনের বিলাসবহুল আবাসিক বাজারে এই সম্পত্তির সঙ্গে আরও কয়েকটি উচ্চমূল্যের সম্পত্তি প্রতিযোগিতায় রয়েছে। ক্যালভিন ক্লেইনের সাবেক ইস্ট হ্যাম্পটন সম্পত্তি ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারে এবং বিলিয়নিয়ার জ্যাচ শ্রাইবারের স্যাগাপোন্যাকের বাড়ি ১৫ কোটি ২৫ লাখ ডলারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। হ্যাম্পটনে আবাসিক সম্পত্তির বর্তমান রেকর্ড ২০১৪ সালের ১৪ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বিক্রি। ৪৩ ইস্ট ডিউন লেনের নতুন সম্পত্তিটি ১৬ কোটি ২০ লাখ ডলারের তালিকামূল্যে বাজারে এলে সেটি ওই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের একটি বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন এখনো সাধারণ পরিবারের জন্য কঠিনই রয়ে গেছে। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের মাঝারি দামের একটি বাড়ি কিনে মর্টগেজের খরচ আয়সীমার মধ্যে রাখতে হলে একটি পরিবারের বছরে অন্তত ১ লাখ ৯ হাজার ৭৯৬ ডলার আয় প্রয়োজন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ পরিবারের আনুমানিক মধ্যম বার্ষিক আয় ৮৭ হাজার ৫৯৯ ডলার। অর্থাৎ বাড়ি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় আয়ের তুলনায় গড়ে প্রায় ২২ হাজার ২০০ ডলার পিছিয়ে রয়েছে একটি সাধারণ পরিবার। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান রেডফিনের জুন ২০২৬-এর তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি এমন বাড়িকে ক্রেতার জন্য সামর্থ্যের মধ্যে বলে বিবেচনা করে, যেখানে মর্টগেজসহ মাসিক হাউজিং পেমেন্ট পরিবারের মোট আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি নয়। এই হিসাবে প্রয়োজনীয় বার্ষিক আয় গত বছরের রেকর্ড ১ লাখ ১০ হাজার ৩৮২ ডলার থেকে মাত্র দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। কাগজে-কলমে সামান্য উন্নতি হলেও গড় আমেরিকানের জন্য বাস্তবতা এখনো কঠিন। মধ্যম আয়ের একটি পরিবারকে বর্তমানে মাঝারি দামের একটি বাড়ি কিনতে হলে তার আয়ের প্রায় ৩৮ শতাংশ হাউজিং খরচে ব্যয় করতে হবে। অর্থাৎ প্রচলিত ৩০ শতাংশের সামর্থ্যসীমার তুলনায় ব্যয়ের চাপ এখনো অনেক বেশি। তবে হাউজিং মার্কেটে কিছুটা স্বস্তির লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রির জন্য থাকা বাড়িগুলোর প্রায় ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ মধ্যম আয়ের পরিবারের সামর্থ্যের মধ্যে রয়েছে। এক বছর আগে এই হার ছিল ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ। আয় বৃদ্ধি এবং কিছু এলাকায় বাড়ির দাম কমে আসায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। প্রথমবার বাড়ি কিনতে চাওয়া ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো। একটি সাধারণ স্টার্টার হোম কিনতে বর্তমানে বছরে প্রায় ৭০ হাজার ৬৯৩ ডলার আয় প্রয়োজন। সামগ্রিক হাউজিং মার্কেটের তুলনায় এ ধরনের কমদামি বাড়ির সামর্থ্য পরিস্থিতি কিছুটা দ্রুত উন্নত হচ্ছে। তবে শহরভেদে ব্যবধান ব্যাপক। দেশের বড় মেট্রো এলাকাগুলোর মধ্যে সাধারণ পরিবারের আয় দিয়ে মাঝারি দামের বাড়ি কেনা সহজ এমন শহরের সংখ্যা খুবই সীমিত। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়াসহ উচ্চমূল্যের অনেক এলাকায় সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য বাড়ির মালিক হওয়া এখনো নাগালের বাইরে। অন্যদিকে সেন্ট লুইস, ইন্ডিয়ানাপোলিস ও পিটসবার্গের মতো কয়েকটি শহরে তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি ভালো। বাড়ির দাম বেশি থাকার পাশাপাশি মর্টগেজ রেটও ক্রেতাদের ওপর চাপ তৈরি করছে। জুনে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় হার ছিল প্রায় ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। উচ্চ বাড়ির দাম ও মর্টগেজ রেট একসঙ্গে মাসিক পেমেন্টকে উচ্চ পর্যায়ে ধরে রেখেছে। রেডফিনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কয়েক বছর ধরে দ্রুত অবনতির পর যুক্তরাষ্ট্রের হাউজিং অ্যাফোর্ডেবিলিটি এখন ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে। কিন্তু বছরে প্রায় ছয় অঙ্কের আয় ছাড়া দেশের মাঝারি দামের একটি বাড়ি স্বচ্ছন্দে কেনা এখনো কঠিন। ফলে বিশেষ করে প্রথমবার বাড়ি কিনতে চাওয়া এবং মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য আমেরিকান হোমওনারশিপের স্বপ্ন এখনো বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান আবাসন ব্যয়ের কারণে যখন সাধারণ মানুষ দিশেহারা, তখন এক নতুন বিশ্লেষণে দেশটির সবচেয়ে সাশ্রয়ী আবাসন বাজারগুলোর চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার জন্য সবচেয়ে কম খরচের অঙ্গরাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে আইওয়া। প্রপার্টিশার্ক-এর তথ্যমতে, সেখানে একটি বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা দেশটির জাতীয় গড়ের তুলনায় দুই লাখ ডলারেরও বেশি কম। সাশ্রয়ী দামের এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আলাবামা। অন্যদিকে ওকলাহোমা এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছে, যেখানে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার ডলার। আবাসনবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আইওয়া, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, মিশিগান, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, আরকানসাস, ইন্ডিয়ানা ও মিসৌরির মতো অঙ্গরাজ্যগুলো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সাশ্রয়ী আবাসন বাজারের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এসব অঙ্গরাজ্যে বাড়ির মধ্যম মূল্য সাধারণত ২ লাখ ৩০ হাজার থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্য-পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে তুলনামূলকভাবে বাড়ির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় কম হওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত আবাসন সরবরাহ রয়েছে। এ কারণে এই অঞ্চলগুলো প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। তবে সাশ্রয়ী বাজারের এই খবরের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক আবাসন সংকটের চিত্রটি এখনও বেশ তীব্র। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, দেশজুড়ে একটি গড় মানের বাড়ি কিনতে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ডলারের বার্ষিক আয় প্রয়োজন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যম পারিবারিক আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। এর ফলে অধিকাংশ মার্কিন পরিবারের জন্যই নিজস্ব বাড়ি কেনা এখনও একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। একদিকে যেমন আইওয়া, আলাবামা, ওকলাহোমা, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া এবং ইন্ডিয়ানার মতো রাজ্যগুলোতে সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি মিলছে, ঠিক তেমনি ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই, ম্যাসাচুসেটস ও নিউইয়র্কের মতো অঙ্গরাজ্যগুলো এখনও দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসন বাজার হিসেবে তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন খাতের চরম মূল্যস্ফীতি কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কিছুটা স্থিতিশীল হলেও সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি কেনার স্বপ্ন এখনো অনেকটাই অধরা রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন প্রযুক্তি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'রেডফিন'-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে একটি মধ্যম মানের বাড়ি কিনে আয়ের ৩০ শতাংশের মধ্যে মাসিক বন্ধকী কিস্তি বা মর্টগেজ সীমাবদ্ধ রাখতে হলে একটি পরিবারের বার্ষিক আয় হতে হবে অন্তত ১ লাখ ৯ হাজার ৭৯৬ ডলার। গত বছরের রেকর্ড ১ লাখ ১০ হাজার ৩৮২ ডলারের তুলনায় এই প্রয়োজনীয় আয়ের অঙ্ক সামান্য ০.৫ শতাংশ কমলেও এটি এখনো ছয় অঙ্কের ঘরেই রয়ে গেছে, যা মার্কিন সাধারণ নাগরিকদের বর্তমান বার্ষিক আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিবারের গড় বার্ষিক আয় বর্তমানে ৮৭ হাজার ৫৯৯ ডলার। আয় আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বাড়লেও বাড়ি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম আয়ের চেয়ে তা এখনো প্রায় ২২ হাজার ১৯৭ ডলার কম। বর্তমানে সাধারণ একটি পরিবারকে মধ্যম দামের একটি বাড়ি কিনতে গেলে তাদের মোট বার্ষিক আয়ের প্রায় ৩৮ শতাংশই খরচ করতে হয় মর্টগেজ বাবদ। রেডফিনের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ইংকি শু জানান, বাড়ি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণের অবনতি ঘটা বন্ধ হলেও তা গড় আমেরিকানদের সাধ্যের মধ্যে আসেনি। তবে ইতিবাচক দিক হলো, গত দু’বছরের তুলনায় এই আয়ের ঘাটতি কিছুটা কমেছে এবং প্রথমবার বাড়ি কিনতে চাওয়া মানুষদের জন্য পরিস্থিতি সামান্য সহজ হয়েছে। বর্তমানে একটি প্রাথমিক পর্যায়ের (এন্ট্রি-লেভেল) বাড়ি কিনতে বছরে অন্তত ৭০ হাজার ৬৯৩ ডলার আয় প্রয়োজন, যা গত বছরের চেয়ে ১.৫ শতাংশ কম। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে থাকা মোট বাড়ির প্রায় ৩৪.২ শতাংশকে সাশ্রয়ী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা এক বছর আগে ছিল ৩০.৫ শতাংশ। সিয়াটল এবং সান হোসের মতো প্রধান প্রধান মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে বাড়ি কেনার আর্থিক সামর্থ্য কিছুটা উন্নত হয়েছে। তবে সার্বিক দেশের চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র তিনটি বড় শহর—সেন্ট লুইস, ইন্ডিয়ানাপোলিস এবং পিটসবার্গে সাধারণ পরিবারের অর্জিত আয় দিয়ে একটি মধ্যম মানের বাড়ি কেনা সম্ভব হচ্ছে। বাকি প্রায় সব প্রধান শহর ও মেট্রোপলিটন এলাকায় কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য নিজস্ব বাড়ি কেনা এখনো একটি বড় ধরনের আর্থিক সংকট হিসেবে বজায় রয়েছে।
সমুদ্রের পাশে বাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখা ক্রেতাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি সম্ভাবনাময় উপকূলীয় শহরের তালিকা প্রকাশ করেছেন আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এসব শহরে বর্তমানে তুলনামূলক কম দামে সম্পত্তি কেনার সুযোগ রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এসব এলাকার চাহিদা বাড়তে পারে। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো উপকূলীয় এলাকার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বোঝার ক্ষেত্রে উন্নয়ন কার্যক্রম, নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার সুবিধার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার মধ্যে ১০টি শহর বেছে নেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজ, ফ্লোরিডার ভেরো বিচ, দক্ষিণ ক্যারোলিনার মার্টল বিচ, মিসিসিপির প্যাসকাগোলা, আলাবামার গালফ শোরস, ফ্লোরিডার ভিলানো বিচ, নিউ হ্যাম্পশায়ারের পোর্টসমাউথ, নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটি, রোড আইল্যান্ডের পোর্টসমাউথ এবং ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিল বিচ। ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজ শহরটি তালিকার প্রথম দিকের একটি জায়গা পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার সবচেয়ে ব্যয়বহুল উপকূলীয় এলাকার তুলনায় এখানে কিছুটা সাশ্রয়ী দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। শহরটিতে সমুদ্রসৈকত, বাইরের বিনোদন, প্রাণবন্ত শহরকেন্দ্র এবং শক্তিশালী কমিউনিটি রয়েছে। সিলিকন ভ্যালি ও বে এরিয়ার কাছাকাছি হওয়ায় শহরটির চাহিদা ধরে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফ্লোরিডার ভেরো বিচকে রাজ্যের অন্যতম সম্ভাবনাময় উপকূলীয় শহর হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, পাম বিচের মতো ব্যয়বহুল এলাকার ক্রেতারা এখন ভেরো বিচের দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এখানে ব্যক্তিগত সৈকত সুবিধা, গলফ এবং সমুদ্রঘেঁষা জীবনযাপনের সুযোগ তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া যায়। শহরটির গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার। দক্ষিণ ক্যারোলিনার মার্টল বিচও তালিকায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোর উন্নয়ন, পর্যটন এবং পারিবারিক বসবাসের উপযোগী পরিবেশের কারণে শহরটির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এখানকার গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ডলার। মিসিসিপির প্যাসকাগোলাকে উপকূলীয় এলাকার একটি কম পরিচিত বাজার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে এখনো তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। শহরটির গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার। তবে ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আলাবামার গালফ শোরস শহর পর্যটন, সমুদ্রসৈকত, নৌযান সুবিধা এবং বাড়তে থাকা অবকাঠামোর কারণে তালিকায় জায়গা পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় জীবনযাপন এবং বাড়তে থাকা জনসংখ্যার কারণে শহরটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার ডলার। ফ্লোরিডার ভিলানো বিচকে দ্রুত উন্নয়নশীল এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন কম পরিচিত থাকা এই এলাকায় এখন বড় ধরনের উন্নয়ন হচ্ছে। ভিলানো বিচে বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য প্রায় ৭ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৮ ডলার। নিউ হ্যাম্পশায়ারের পোর্টসমাউথ ঐতিহাসিক পরিবেশ, সমুদ্রঘেঁষা অবস্থান, হাঁটার উপযোগী শহর এবং শক্তিশালী কমিউনিটির কারণে তালিকায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউ ইংল্যান্ডের পরিচিত ও ব্যয়বহুল উপকূলীয় এলাকার তুলনায় এখানে তুলনামূলক ভালো সুযোগ পাওয়া যায়। শহরটির গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৮ লাখ ডলার। নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটি সমুদ্রসৈকত, বিনোদন ব্যবস্থা, যোগাযোগ সুবিধা এবং নিউইয়র্ক ও ফিলাডেলফিয়ার কাছাকাছি অবস্থানের কারণে সম্ভাবনাময় হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত শহরটির গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার ডলার। রোড আইল্যান্ডের পোর্টসমাউথ নিউপোর্টের কাছাকাছি অবস্থিত একটি উপকূলীয় এলাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে সমুদ্রসৈকত, নৌযান সুবিধা এবং উপকূলীয় পরিবেশ পাওয়া যায়। শহরটির গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৭ লাখ ডলার, যা নিউপোর্টের তুলনায় কম। ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিল বিচও তালিকায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে শহরটিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এখনো কিছু এলাকায় ৮ লাখ ডলারের নিচে সংস্কার করা ভালো বাড়ি পাওয়া যেতে পারে। শহরটির গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৬ লাখ ৪৫ হাজার ডলার। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, উপকূলীয় এলাকায় বাড়ি কেনার আগে সম্পত্তির দাম, এলাকার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে, যেখানে একটি অ্যাপার্টমেন্টের গড় দাম ১০ লাখ ডলারেরও বেশি, সেখানে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার ডলারে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ মিলছে। তবে এই কম দামের পেছনে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও সীমাবদ্ধতা। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারে থাকা সবচেয়ে কম দামের অ্যাপার্টমেন্টগুলোর মধ্যে একটি ইস্ট হারলেমে অবস্থিত ৩৬৪ বর্গফুটের স্টুডিও ইউনিট, যার মূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। একইভাবে হারলেমে ২৫০ বর্গফুটের আরেকটি স্টুডিওর দাম ১ লাখ ৫৫ হাজার ডলার। এছাড়া নোম্যাড এলাকায় ২৫৪ বর্গফুটের একটি ছোট স্টুডিও বিক্রি হচ্ছে ৩ লাখ ২০ হাজার ডলারে। তবে কম দামের এই অ্যাপার্টমেন্টগুলোর বেশিরভাগই এইচডিএফসি কো-অপের আওতাভুক্ত। অর্থাৎ, এগুলো কিনতে হলে নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকতে হবে, অ্যাপার্টমেন্টটিকে নিজের প্রধান বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করতে হবে এবং ভবিষ্যতে বিক্রির ক্ষেত্রেও বিভিন্ন নিয়ম মেনে চলতে হবে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিউইয়র্কে আবাসন সাশ্রয়ী রাখা। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এত ছোট জায়গায় আরামদায়কভাবে বসবাস করতে হলে বহুমুখী আসবাব, দেয়ালে লাগানো স্টোরেজ, আয়নার ব্যবহার এবং পরিকল্পিত ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ওপর গুরুত্ব দিতে হয়। এতে সীমিত জায়গাকেও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ম্যানহাটনের মতো ব্যয়বহুল এলাকায় তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ থাকলেও, আয়ের সীমা, বসবাসের বাধ্যবাধকতা এবং কো-অপের নিয়ম সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে দুই ভিন্ন চিত্র। একদিকে বিলাসবহুল বাড়ির বিক্রি ও চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য তুলনামূলক কম দামের বাড়িগুলো বাজারে জমে থাকছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ সুদের হার, মূল্যস্ফীতি এবং ক্রয়ক্ষমতার চাপ সাধারণ ক্রেতাদের বাজার থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে, আর আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ক্রেতারা বিলাসবহুল সম্পত্তি কেনা অব্যাহত রেখেছেন। রিয়েল এস্টেট বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান জিলোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে বিলাসবহুল বাড়ির বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে, স্টার্টার হোম বা প্রথমবারের ক্রেতাদের উপযোগী বাড়ির বিক্রি কমেছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। অথচ এই শ্রেণির বাড়ির সরবরাহ ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে এবং বিক্রির জন্য মূল্য কমানোর ঘটনাও আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা এবং উচ্চ আয়ের মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বিলাসবহুল বাড়ির বাজারকে শক্তিশালী রেখেছে। অন্যদিকে, উচ্চ মর্টগেজ সুদ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক মধ্যবিত্ত ও নতুন ক্রেতা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। জিলোর প্রধান অর্থনীতিবিদ কারা এনগ বলেন, আবাসন কেনার সামর্থ্যের সংকট এখন শুধু উপকূলীয় বড় শহরগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে তুলনামূলক কম দামের বাড়ির বাজারে ক্রেতার সংকট আরও প্রকট হচ্ছে। তথ্য বলছে, ক্লিভল্যান্ড, মেমফিস ও সিনসিনাটির মতো শহরে বিলাসবহুল বাড়ির বিক্রি ২০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টো ও সান হোসের মতো কিছু শহরে স্টার্টার হোমের বিক্রি কিছুটা উন্নতি করেছে, যেখানে নতুন সরবরাহ বাজারকে কিছুটা ভারসাম্য দিয়েছে। এদিকে রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ মর্টগেজ সুদের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে সামগ্রিক চাপ এখনো অব্যাহত রয়েছে। নতুন বাড়ির বিক্রি কিছুটা বাড়লেও অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা এখনো বাজারের বাইরে অবস্থান করছেন, কারণ বাড়ির দাম ও ঋণের কিস্তি তাদের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে আয়ভিত্তিক বৈষম্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে বিলাসবহুল ও সাধারণ আবাসনের এই ব্যবধান আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ও আকর্ষণীয় জীবনযাত্রার জন্য ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য অত্যন্ত সুপরিচিত হলেও সার্বিক নিরাপত্তাগত দিক থেকে এর বড় বড় শহরগুলোর অবস্থান বেশ আশঙ্কাজনক। ব্যক্তিগত অর্থায়ন বিষয়ক জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম 'স্মার্টঅ্যাসেট'-এর এক নতুন সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশটির সবচেয়ে কম নিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ বড় শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষভাগে রয়েছে সান ফ্রান্সিসকো, ওকল্যান্ড, স্টকটন এবং রিভারসাইডের নাম। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার আইকনিক দুই শহর সান ফ্রান্সিসকো এবং ওকল্যান্ড নিরাপত্তার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তলানির ১০টি শহরের মধ্যে ঠাঁই পেয়েছে। অন্তত আড়াই লাখ জনসংখ্যাবিশিষ্ট ৮৩টি মার্কিন শহরের সহিংস অপরাধ, সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধ, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার এবং দুর্যোগজনিত ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণা পরিচালিত হয়। সমীক্ষার তথ্যানুযায়ী, ওকল্যান্ডে অপরাধের হার প্রতি এক হাজার বাসিন্দার বিপরীতে ১৯.৩টি ঘটনা, যা মেমফিসের পর পুরো যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির দিক থেকে সান ফ্রান্সিসকো ও স্টকটন যৌথভাবে দেশের শীর্ষে অবস্থান করছে; যেখানে প্রতি এক লাখ বাসিন্দার মধ্যে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার ১৮.৫ জন। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার আরভাইন এবং সান্তা আনার মতো শহরগুলোতে অপরাধের মাত্রা তুলনামূলক কম হওয়া সত্ত্বেও শহর দুটি নিরাপদ তালিকায় এগোতে পারেনি। মূলত দাবানল ও ভূমিকম্পের সর্বোচ্চ মাত্রার প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকির কারণেই শহর দুটি পিছিয়ে পড়েছে। সমীক্ষাভুক্ত ক্যালিফোর্নিয়ার ১২টি শহরের একটিও যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি নিরাপদ শহরের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেনি। উল্টো অপরাধ ও অন্যান্য ঝুঁকি কাটিয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি সামলানোর সক্ষমতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নিরাপদ শহর নির্বাচিত হয়েছে ভার্জিনিয়ার ‘ভার্জিনিয়া বিচ’। তবে টেক্সাসের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গেছে; অঙ্গরাজ্যটির প্ল্যানো ও লারেডো যেমন শীর্ষ ১০টি নিরাপদ শহরের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে, তেমনি ডালাস ও হিউস্টন স্থান পেয়েছে সবচেয়ে অনিরাপদ ১০টি শহরের তালিকায়।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ও সুদের হার বাড়তে থাকায় নতুন বাড়ি কেনার আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—মাসিক মর্টগেজের কিস্তি কত হলে একজন ক্রেতার আর্থিকভাবে নিরাপদ থাকা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বাড়ির দাম নয়, আয়, ঋণ, সুদের হার এবং অন্যান্য খরচ বিবেচনা করেই বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষকদের মতে, অনেক ক্রেতাই বাড়ির মোট দামের দিকে বেশি মনোযোগ দেন, কিন্তু প্রকৃত চাপ আসে মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট, সম্পত্তি কর, বাড়ির বীমা এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ থেকে। সাধারণভাবে আর্থিক বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, একজন ব্যক্তির মাসিক আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশের বেশি আবাসন খাতে ব্যয় করা উচিত নয়। আয় ও ঋণের ভারসাম্য ঠিক না থাকলে বাড়ি কেনার পর আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। মর্টগেজ ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্রেতারা বাড়ির দাম, ডাউন পেমেন্ট, সুদের হার এবং ঋণের মেয়াদ অনুযায়ী প্রতি মাসে কত টাকা দিতে হবে তা আগে থেকেই হিসাব করতে পারেন। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সুদের হার বাড়লে একই দামের বাড়ির জন্যও মাসিক কিস্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। ফলে অনেক ক্রেতাকে আগের তুলনায় বেশি আয় বা বড় ডাউন পেমেন্টের প্রয়োজন হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়ি কেনার আগে শুধু ব্যাংক থেকে কত টাকা ঋণ পাওয়া যাবে তা দেখা উচিত নয়। বরং নিজের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতা, জরুরি সঞ্চয় এবং ভবিষ্যৎ খরচ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চ বাড়ির দাম ও মর্টগেজ সুদের হার ক্রেতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে যাওয়া মানুষদের জন্য সঠিক বাজেট পরিকল্পনা এখন আগের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বাড়ি শুধু বিনিয়োগ নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়িত্ব। তাই বাড়ি কেনার আগে মাসিক কিস্তি নিজের আয় ও জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।