যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার আগে এই ট্যাক্সের হিসাব না জানলে বাড়বে মানসিক চাপ
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার সময় শুধু বাড়ির দাম ও মর্টগেজের কিস্তি হিসাব করলেই হয় না। প্রতি বছর কত প্রপার্টি ট্যাক্স দিতে হবে, সেটিও আগেই জানা জরুরি। কারণ এই ট্যাক্সের পরিমাণ রাজ্য, কাউন্টি ও স্থানীয় ট্যাক্সিং ইউনিটভেদে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে বাড়ির মালিকের মাসিক খরচে বড় প্রভাব ফেলে।
প্রপার্টি ট্যাক্স সাধারণত স্থানীয় সরকার ও বিভিন্ন স্থানীয় ট্যাক্সিং ইউনিট আদায় করে। এই অর্থ স্কুল, রাস্তা, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন স্থানীয় সেবা পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মালিকের বসবাস করা বাড়ির কার্যকর প্রপার্টি ট্যাক্স হারের হিসাবে নিউ জার্সি ছিল ১.৮৮ শতাংশ, কানেকটিকাট ১.৫৪ শতাংশ এবং মিসৌরি ০.৮৯ শতাংশ। একই হিসাবে টেক্সাসের হার ছিল ১.৪০ শতাংশ।
তবে এসব হারকে সরাসরি প্রতিটি বাড়ির নির্দিষ্ট ট্যাক্স বিল হিসেবে ধরা ঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে বাড়ির মূল্য নির্ধারণ ও অ্যাসেসমেন্টের নিয়ম এক নয়। কোথাও বাজারমূল্যের একটি নির্দিষ্ট অংশকে অ্যাসেসড ভ্যালু হিসেবে ধরে ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়। আবার স্থানীয় সরকার, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও অন্যান্য ট্যাক্সিং ইউনিটের আলাদা লেভিও থাকতে পারে। ফলে একই দামের দুটি বাড়ির প্রপার্টি ট্যাক্সও ভিন্ন হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের একটি বাড়িতে ১ শতাংশ কার্যকর হার প্রযোজ্য হলে বছরে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডলার, অর্থাৎ মাসে গড়ে প্রায় ২০৮ ডলার ট্যাক্স দাঁড়ায়। তবে নিউ জার্সি বা কানেকটিকাটের মতো তুলনামূলক বেশি প্রপার্টি ট্যাক্সের রাজ্যে একই দামের বাড়ির প্রকৃত ট্যাক্স বিল স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী আরও বেশি হতে পারে। তাই শুধু বাড়ির বিক্রয়মূল্য দেখে মাসিক খরচের হিসাব করা ঝুঁকিপূর্ণ।
বাড়ি কেনার পরও ট্যাক্সের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাড়ির অ্যাসেসড ভ্যালু পুনর্মূল্যায়ন করলে ট্যাক্স বিল বাড়তে পারে। আবার স্থানীয় ট্যাক্স রেট পরিবর্তন হলেও মালিকের বার্ষিক খরচে প্রভাব পড়তে পারে। তাই বাড়ি কেনার আগে সাম্প্রতিক কয়েক বছরের প্রপার্টি ট্যাক্স রেকর্ড দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
টেক্সাসের ক্ষেত্রেও একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানা দরকার। সেখানে স্টেট প্রপার্টি ট্যাক্স নেই। তবে স্থানীয় কাউন্টি, সিটি, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও অন্যান্য ট্যাক্সিং ইউনিট প্রপার্টি ট্যাক্স আদায় করে। টেক্সাস কম্পট্রোলারের তথ্য অনুযায়ী, এসব স্থানীয় সংস্থাই ট্যাক্সের হার নির্ধারণ করে এবং সেই অর্থ স্থানীয় সেবায় ব্যবহার করে।
বাড়ি কেনার আগে সম্ভাব্য ক্রেতাদের সংশ্লিষ্ট কাউন্টির অ্যাসেসর বা অ্যাপ্রেইজাল ডিস্ট্রিক্টের রেকর্ড থেকে বাড়িটির আগের প্রপার্টি ট্যাক্স কত ছিল তা যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে বাড়িটি হোমস্টেড এক্সেম্পশনের জন্য যোগ্য কি না, সেটিও জানা দরকার। কারণ এ ধরনের ছাড়ের নিয়ম ও সুবিধার পরিমাণ রাজ্য ও স্থানীয় এলাকার ওপর নির্ভর করে।
তাই নতুন বাড়ি দেখার সময় শুধু মর্টগেজের মাসিক কিস্তি নয়, প্রপার্টি ট্যাক্স, হোম ইন্স্যুরেন্স, সম্ভাব্য হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ফি এবং অন্যান্য নিয়মিত খরচ মিলিয়ে মোট মাসিক ব্যয় হিসাব করাই নিরাপদ। এতে বাড়ি কেনার পর অপ্রত্যাশিত খরচের চাপ কমানো সম্ভব।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার হেফাজতে থাকা ৪১ বছর বয়সী আলিমামি সেসাই একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও নিউ জার্সির নিউয়ার্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পায়ের সঙ্গে বিছানায় শিকলবন্দী থাকছেন বলে অভিযোগ করেছেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে থাকলেও তাঁর বাগদত্তা ও পাঁচ মাস বয়সী ছেলেকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। সেসাইকে গত ২৮ মে আইসিই আটক করে। হারিয়ে যাওয়া চালকের লাইসেন্সের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় অভিবাসন-সংক্রান্ত নথি নিতে তিনি নিজেই নিউয়ার্কের একটি ফেডারেল ভবনে গিয়েছিলেন। সেখানে অপেক্ষা করার সময় একজন আইসিই কর্মকর্তা তাঁকে জানান, তদারকি আদেশ অনুযায়ী তিনি একটি নির্ধারিত সাক্ষাতে উপস্থিত হননি। এরপর তাঁকে আটক করা হয় এবং ইউনিয়ন কাউন্টির এলিজাবেথ কন্ট্রাক্ট ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়। জুলাইয়ের শুরুতে অন্ত্রের সমস্যার চিকিৎসার জন্য সেসাইকে নিউয়ার্কের ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস হাসপাতালে থাকার সময়ে তাঁর একাধিক অস্ত্রোপচার হয়েছে। এর মধ্যে গত মাসে তাঁর বৃহদান্ত্রের একটি অংশ অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর পেটের বড় ক্ষত বন্ধ রাখতে চামড়া প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ক্ষত থেকে তরল বের করার জন্য পেটে একটি নলও রাখা হয়েছে এবং অন্তত ছয় মাস তাঁকে কলোস্টমি ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতালে থাকার সময়ে সেসাইয়ের ওজনও দ্রুত কমেছে। আটকের সময় তাঁর ওজন ২০০ পাউন্ডের বেশি ছিল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তা কমে ১৩৪ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। ক্ষত পরিষ্কার করার সময় চিকিৎসকদের সহায়তা করতে হয় বলেও তিনি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, চিকিৎসকেরা ক্ষত পরিষ্কার করার সময় কখনো কখনো বেশি চাপ প্রয়োগ করেন, তাই তিনি নিজেই ক্ষত পরিষ্কারের কাজে সহযোগিতা করেন। সেসাইয়ের অভিযোগ, শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও প্রায়ই তাঁর পা বিছানার সঙ্গে শিকল বা হাতকড়া দিয়ে আটকানো থাকে। এতে অস্বস্তি হয় এবং ঘুমাতেও সমস্যা হয় বলে জানান তিনি। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, হাসপাতালে থাকার সময়ে তাঁর বাগদত্তা জেনা কার্টার এবং তাঁদের পাঁচ মাস বয়সী ছেলে কিং সালিম সেসাইকে দেখতে দেওয়া হচ্ছে না। কার্টার জানান, সেসাই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর পর্যন্ত তিনি বিষয়টি জানতেন না। জুলাইয়ে তিনি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সেসাইয়ের শারীরিক অবস্থা বা চিকিৎসা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারেননি এবং তাঁকে দেখার অনুমতিও দেওয়া হয়নি। ২০ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রথমবার সেসাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারেন তিনি। পরে সেসাইয়ের একটি ছবি দেখে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কার্টার। ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আটক ব্যক্তি ও অন্য রোগীদের দর্শনার্থী প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য করা হয় কি না এবং এ বিষয়ে আইসিই কোনো নির্দেশনা দিয়েছে কি না। হাসপাতাল এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে জানায়, তাদের চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসা দল প্রত্যেক রোগীকে সহানুভূতিশীল ও মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের দাবি, সেসাইয়ের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। তাঁদের মতে, নিউ জার্সির এলিজাবেথ ও নিউয়ার্কের ডেলানি হলসহ বিভিন্ন আটককেন্দ্রের আটক ব্যক্তিদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিবেদনে হাসপাতালে ভর্তি আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে স্বজনদের তথ্য না দেওয়ার বিষয়টি দেশজুড়ে দেখা যায় এমন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেসাইয়ের চিকিৎসার পাশাপাশি এলিজাবেথ ডিটেনশন সেন্টারে থাকার সময় একজন নার্সের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মৌখিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘাড় ও কাঁধের ব্যথার চিকিৎসার জন্য সেখানে যাওয়ার সময় ওই ঘটনা ঘটে। ডিটেনশন সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কোরসিভিক জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করা হয়েছে এবং তা ভিত্তিহীন পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, তাদের নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে। সেসাইয়ের আইনজীবী র্যাচেল মারানডেট তাঁকে আইসিই হেফাজত থেকে মুক্ত করতে নিউ জার্সির ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছেন। আটক ব্যক্তিদের করা এ ধরনের আবেদনের মাধ্যমে সরকারকে কোনো ব্যক্তিকে হেফাজতে রাখার আইনি ভিত্তি আদালতের কাছে ব্যাখ্যা করতে হয়। সেসাইয়ের আবেদনটি নিউয়ার্কের ফেডারেল আদালতের বিচারক মাইকেল শিপের সামনে বিচারাধীন রয়েছে। সেসাই কিশোর বয়সে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির ১১ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় মা ও ভাইবোনদের সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছিলেন। তবে প্রায় এক দশক আগে গাঁজা-সংক্রান্ত একটি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর তাঁর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাতিল হয় বলে তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে সেসাইকে বহিষ্কার স্থগিত রাখার আদেশ এবং তদারকির আওতায় থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজও করতে পারতেন। সেসাই সায়রভিলে একটি গুদামে কাজ করতেন। কয়েক বছর আগে এক অনুষ্ঠানে জেনা কার্টারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের সন্তান জন্ম নেয় এবং তাঁরা নিউ জার্সিতে একটি বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছিলেন। সেসাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রই তাঁর বাড়ি এবং এখানেই তিনি তাঁর ছেলেকে বড় করতে চান। তাঁর ভাষ্য, জীবনের বেশির ভাগ সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাটানোর পর সিয়েরা লিওনে ফিরে যাওয়া তাঁর জন্য কঠিন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং কবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবেন, তা জানা নেই। সূত্র: এনজে ডটকম
এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় তুরস্কের নাগরিক, পুরস্কার ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার আগে এই ট্যাক্সের হিসাব না জানলে বাড়বে মানসিক চাপ
চাকরি নেই স্বামীর, বন্ধ খাদ্য সহায়তা, এরপর উচ্ছেদ, দুই শিশুসহ অভিবাসী পরিবারের পাশে কমিউনিটি
নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নিহত ৩২ বছর বয়সী এরিন পিয়াচেন্তি ছিলেন ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং পাঁচ মাসের এক কন্যাশিশুর মা। সোমবার বিকেলে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কোনো পূর্বপরিচয় ছাড়াই এক নারী তাকে ছুরিকাঘাত করেন। পিয়াচেন্তির মৃত্যুর ঘটনাটি আরও মর্মান্তিক হয়ে উঠেছে, কারণ মাতৃত্বকালীন পাঁচ মাসের ছুটি শেষে সেটিই ছিল কাজে ফেরার প্রথম দিন। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ম্যানহাটনের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ার এলাকায় ছুরিকাঘাতের খবর পায় পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, ৪৯ বছর বয়সী পামেলা সিসনেরাস প্রথমে ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেন। মাত্র ২০ সেকেন্ডের ব্যবধানে তিনি পিয়াচেন্তিকেও ছুরিকাঘাত করেন। পুলিশ ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে এলোমেলো ও উসকানিবিহীন হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। গুরুতর আহত পিয়াচেন্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। অন্য আহত ব্যক্তি তাক কামকে বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। হামলার পর সিসনেরাস দুই হাতে ছুরি নিয়ে পুলিশের দিকে এগিয়ে যান। পুলিশ তাকে অস্ত্র ফেলে দিতে বললেও তিনি তা করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে দুইবার টেজার ব্যবহার করা হলেও তিনি পুলিশের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিয়াচেন্তি নিউ জার্সির চেস্টারে স্বামী ফ্র্যাঙ্কের সঙ্গে বসবাস করতেন। তাদের পাঁচ মাসের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়েকে নিয়ে ছবি প্রকাশ করেছিলেন তিনি। মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষ হওয়ার আগে মেয়ের সঙ্গে কাটানো পাঁচ মাসের জন্য কৃতজ্ঞতার কথাও জানিয়েছিলেন। শিক্ষাজীবনেও পিয়াচেন্তির ছিল শক্তিশালী একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড। ২০১৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে পলিটিক্যাল সায়েন্সে স্নাতক হওয়ার পর ২০২১ সালে ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেন। সেখানেই তার স্বামী ফ্র্যাঙ্কের সঙ্গে পড়াশোনা করেছেন তিনি। পরে ব্যাংক অব আমেরিকায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যোগ দেন। ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল পিয়াচেন্তির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে। ব্যাংক অব আমেরিকাও এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়ে পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। এদিকে হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসনেরাস এর আগে পুলিশের নজরেও ছিলেন এবং তার দীর্ঘদিনের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার ইতিহাস ছিল বলে তার ভাই জানিয়েছেন। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি।
আগস্টে রেকর্ড ৫১ হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার করেছে আইসিই
সিকিউরিটি গার্ড থেকে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী, অসম্ভবকে সম্ভব করলেন রাসেল
২৯৬ বিলিয়ন ডলার ট্যাক্স রিফান্ড, মার্কিন অর্থনীতি এখনো শক্তিশালী- বলছেন বিশ্লেষকরা
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর জানুয়ারি ২০২৬ থেকে চালু থাকা অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিতাদেশ গত ২১ আগস্ট থেকে আর কার্যকর নেই। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করা যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ওই স্থগিতাদেশের বাধা আর থাকছে না। তবে ভিসা সংক্রান্ত সব ধরনের বিধিনিষেধ উঠে যায়নি। বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসায় জামানতের নিয়ম এখনো বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসায় নিরাপত্তা যাচাই আরও জোরদার করা হয়েছে। নির্দিষ্ট অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে অতিরিক্ত জামানতের ব্যবস্থাও চালু হয়েছে। অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ায় কী বদলেছে - চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল। এর আওতায় পরিবারভিত্তিক এবং চাকরিভিত্তিক স্থায়ী অভিবাসনের ভিসাও পড়েছিল। পরে আদালতের আদেশের পর ২১ আগস্ট থেকে ওই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ওই নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞার কারণে অভিবাসী ভিসা ইস্যু আটকে থাকার পরিস্থিতি শেষ হয়েছে। এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার জন্য যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিকরা এখন সংশ্লিষ্ট ভিসা শ্রেণি অনুযায়ী প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবেন। তবে স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়া মানেই ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ভিসার যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার, নিরাপত্তা যাচাই এবং অন্যান্য অভিবাসন আইনের শর্ত পূরণ করতে হবে। পরিবারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা - যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দার পরিবারের সদস্য হিসেবে যারা বাংলাদেশ থেকে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য আবেদন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে আগের ৭৫ দেশের স্থগিতাদেশ এখন আর বাধা নয়। তবে পরিবারের মাধ্যমে অভিবাসনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা অগ্রাধিকার তারিখ অনুযায়ী ভিসা পাওয়ার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। কোনো আবেদন অনুমোদিত হলেই সঙ্গে সঙ্গে ভিসা পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট শ্রেণিতে ভিসা নম্বর খালি থাকতে হবে এবং আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ যুক্তরাষ্ট্রের মাসিক ভিসা বুলেটিনের নির্ধারিত তারিখের মধ্যে থাকতে হবে। বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের ভিসা প্রক্রিয়ায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী কাগজপত্র যাচাই, আঙুলের ছাপ ও ছবি নেওয়া এবং কনস্যুলার সাক্ষাৎকারের ধাপ রয়েছে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কাগজপত্রও চাওয়া হতে পারে। চাকরির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চাকরিভিত্তিক অভিবাসী ভিসার ওপরও আগের ৭৫ দেশের স্থগিতাদেশ উঠে গেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট যোগ্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ওই স্থগিতাদেশের কারণে ভিসা ইস্যু আটকে থাকার বাধা নেই। তবে এ ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর চাকরির ধরন, আবেদন অনুমোদন, অগ্রাধিকার তারিখ, ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতা এবং অন্যান্য আইনগত শর্ত পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ কোনো কোম্পানি আবেদনকারীর পক্ষে আবেদন করলেই স্থায়ী ভিসা নিশ্চিত হবে না। প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করা হবে। বাংলাদেশিদের পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসা এখন কী অবস্থায়: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসার আবেদন বন্ধ নেই। তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো ভিসা জামানত বা ভিসা বন্ডের নিয়ম। বাংলাদেশ এই ভিসা বন্ডের আওতায় থাকা দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। ফলে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসার জন্য অন্য সব দিক থেকে যোগ্য বিবেচিত হলে কনস্যুলার কর্মকর্তা তাকে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলারের জামানত দিতে বলতে পারেন। কত টাকা জামানত দিতে হবে, তা সাক্ষাৎকারের সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা নির্ধারণ করবেন। তবে জামানত দিলেই ভিসা নিশ্চিত হবে না। আবেদনকারীকে প্রথমে ভিসার অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কনস্যুলার কর্মকর্তার নির্দেশ পাওয়ার আগে নিজের উদ্যোগে এই জামানতের টাকা জমা দেওয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই টাকা জমা দিতে হবে। নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অনুমোদিত সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়লে অথবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে না গেলে জামানত ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা চালু, তবে যাচাই কঠোর: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার ভিসার আবেদন চালু রয়েছে। তবে শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনকারীদের যাচাই আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যও যাচাই করা হতে পারে। এ ধরনের আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল প্রকাশ্য রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি নিশ্চিত হওয়া, আর্থিক সক্ষমতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার উদ্দেশ্য এবং সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি নিরাপত্তা যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসংস্থানের ভিসায় কী অবস্থা: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন অস্থায়ী কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদন পুরোপুরি বন্ধ নেই। তবে কোন ভিসায় কী শর্ত থাকবে, তা ভিসার ধরন অনুযায়ী আলাদা।বিশেষ করে দক্ষ কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত এইচ-১বি এবং তাদের নির্ভরশীলদের এইচ-৪ ভিসার ক্ষেত্রে অনলাইন উপস্থিতি যাচাই জোরদার করা হয়েছে। অন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর চাকরি, নিয়োগকর্তা, আবেদন অনুমোদন এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। অভিবাসী ভিসায় আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন নিয়ম: অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ উঠে গেলেও আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের নিয়ম শিথিল হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আগস্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর কাছ থেকে জনকল্যাণের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় অতিরিক্ত আর্থিক জামানত চাওয়া হতে পারে। এটি বাংলাদেশি প্রত্যেক আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে কনস্যুলার কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে এ ধরনের জামানত চাইতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ : ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি ভিসা শ্রেণির আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন উপস্থিতির তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এর অর্থ এই নয় যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলেই কারও ভিসা বাতিল হবে। তবে আবেদনকারীর পরিচয়, ভ্রমণের উদ্দেশ্য, নিরাপত্তা এবং ভিসার যোগ্যতা যাচাইয়ের সময় সরকারি কর্মকর্তারা আইন অনুযায়ী বিভিন্ন তথ্য বিবেচনা করতে পারেন। তাই ভিসা আবেদনকারীদের জন্য আবেদনপত্রে সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশিদের ভিসা সাক্ষাৎকার কোথায় হচ্ছে: যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে আবেদনকারীদের নিজেদের নাগরিকত্ব বা বৈধ বসবাসের দেশ থেকেই ভিসার আবেদন ও সাক্ষাৎকারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসই স্বাভাবিক ভিসা প্রক্রিয়ার প্রধান কেন্দ্র। শুধু দ্রুত সাক্ষাৎকার পাওয়ার আশায় অন্য দেশে গিয়ে আবেদন করার ক্ষেত্রে বাড়তি জটিলতা তৈরি হতে পারে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য বর্তমান চিত্র: বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হলো, ৭৫ দেশের নাগরিকদের ওপর চালু থাকা অভিবাসী ভিসা ইস্যুর স্থগিতাদেশ উঠে গেছে। এর ফলে পরিবার বা চাকরির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ওই নির্দিষ্ট বাধা আর নেই। অন্যদিকে পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসার আবেদন চালু থাকলেও বাংলাদেশিদের জন্য ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলারের ভিসা জামানতের নিয়ম রয়েছে। শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদনও করা যাচ্ছে, তবে অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই আগের তুলনায় কঠোর হয়েছে। নির্দিষ্ট অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক জামানত চাওয়া হতে পারে।
ঝকঝকে যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী আব্রাহাম লিংকন এখন মরিচায় জর্জরিত!
পেনসিলভেনিয়ায় নতুন! চাকরি, শিক্ষা ও জরুরি সহায়তার ঠিকানা জেনে নিন