- প্রচ্ছদ
- Topic
ওহাইও
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত এক নারীর অস্ত্রোপচারে ভুল পা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল, চিকিৎসক ও অস্ত্রোপচার দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে মা ম লা করেছেন ওই নারী ও তার স্বামী। শ্যারন জ্যাকস নামের ৭৪ বছর বয়সী ওই নারী ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মারিয়েটার সেলবি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ কেটে ফেলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফেরার সময় তিনি দেখতে পান, তার বাঁ পা কেটে ফেলা হয়েছে বলে মা ম লায় অভিযোগ করা হয়েছে। মা ম লার নথি অনুযায়ী, জ্যাকসের ডান পায়ে ক্যানসারজনিত সমস্যার কারণে ওই পা কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসকরা ভুল করে বাঁ পায়ে অস্ত্রোপচার করেন। পরে ক্যানসারে আক্রান্ত ডান পাটিও অন্য একটি হাসপাতালে কেটে ফেলতে হয়। ফলে জ্যাকস এখন দুই পা হারিয়েছেন। জ্যাকসের আইনজীবী ব্র্যাড লেইনের দাবি, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসক সঠিক পা চিহ্নিত করেছিলেন। এমনকি ভুল পা কেটে ফেলার পরও সঠিক পায়ে অস্ত্রোপচারের চিহ্নটি ছিল বলে চিকিৎসা নথিতে দেখা গেছে। মা ম লায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসা দল দুবার ‘টাইম-আউট’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল। এই প্রক্রিয়ায় রোগীর পরিচয়, কোন অস্ত্রোপচার হবে এবং শরীরের কোন অংশে অস্ত্রোপচার করা হবে—এসব নিশ্চিত করার কথা। এরপরও কীভাবে ভুল পায়ে অস্ত্রোপচার হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্যাকসের আইনজীবী। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারে থাকা চিকিৎসক, নার্স, অ্যানেস্থেসিওলজিস্টসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব ছিল অস্ত্রোপচারের স্থান সঠিকভাবে নিশ্চিত করা। কিন্তু মা ম লায় অভিযোগ করা হয়েছে, একাধিকবার যাচাইয়ের সুযোগ থাকার পরও ভুলটি শনাক্ত করা হয়নি। এ ধরনের ভুল অস্ত্রোপচার চিকিৎসাক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুতর ও প্রতিরোধযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। মা ম লায় ঘটনাটিকে এমন একটি গুরুতর নিরাপত্তা ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে এড়ানো সম্ভব ছিল। মা ম লায় জ্যাকসের শারীরিক ও মানসিক কষ্ট, স্থায়ী অক্ষমতা, আগের ও ভবিষ্যতের চিকিৎসা ব্যয় এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ হারানোর জন্য ক্ষতিপূরণ ও শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে সেলবি জেনারেল হাসপাতালও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সেখানে একটি গুরুতর অস্ত্রোপচারজনিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। নিজেদের পর্যালোচনায় তারা নিশ্চিত হয়েছে যে ঘটনাটি এড়ানো সম্ভব ছিল এবং নির্ধারিত অপারেশন থিয়েটার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। হাসপাতাল জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে এবং তারা আর ওই পদে কর্মরত নেই। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে অস্ত্রোপচার দলের কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সংশোধনমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল আরও জানিয়েছে, তারা ওহাইও ডিপার্টমেন্ট অব হেলথের পর্যালোচনায় পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। একই সঙ্গে রোগী ও তার পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। মা ম লাটি এখন আদালতে চলমান। অভিযোগগুলো মা ম লায় উত্থাপিত দাবি হিসেবে রয়েছে এবং এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের লাকোটা ইস্ট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রব বার্নসাইড জানতে পারেন, তার শিক্ষার্থী ল্যান্ডেরিয়াস ‘ডিডি’ হেইস অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। মায়ের সঙ্গে থাকা সম্ভব ছিল না, আর বাবার মোবাইল হোমে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়লে কখনো গাড়িতে হিটার চালিয়ে রাত কাটাত ডিডি। তবুও সে স্কুলে যাওয়া চালিয়ে যাচ্ছিল। ডিডির জুনিয়র বছরে স্কুলে একটি চিঠি আসে। সেখানে জানানো হয়, তার মা নতুন ঠিকানায় চলে গেছেন এবং সেই ঠিকানা স্কুল জেলার বাইরে। জেলা কর্তৃপক্ষের অবস্থান ছিল, ডিডি আর লাকোটা ইস্টে পড়তে পারবে না। কিন্তু বার্নসাইড শুধু কাগজপত্রের ভিত্তিতে তাকে স্কুল থেকে বাদ দিতে রাজি হননি। তিনি ডিডিকে স্কুলে আসতে দেন। এরপর বার্নসাইডকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয় এবং তার সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ৩১ বছরের শিক্ষাজীবনের পর তিনি প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তবে চাকরি হারানোর পরও নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে তার কোনো আফসোস নেই। তিনি বলেন, একজন তরুণের জীবনের মূল্য দিয়ে কোনো কিছু পরিমাপ করা যায় না। এর মধ্যেই বার্নসাইড তার স্ত্রী অ্যাঞ্জেলকে ডিডির পরিস্থিতির কথা জানান। অ্যাঞ্জেল তাকে তাদের সঙ্গে থাকার প্রস্তাব দেন। ডিডির মায়ের সম্মতিতে সে বার্নসাইড পরিবারের সঙ্গে থাকতে শুরু করে। পরে রব ও অ্যাঞ্জেল তার আইনি অভিভাবক হন। ডিডি পরে নতুন একটি স্কুল থেকে ২০২৬ সালের মে মাসে হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করে। সেই অনুষ্ঠানে দর্শকসারিতে ছিলেন রব ও অ্যাঞ্জেল - যাদের ডিডি এখন ‘পপস’ ও ‘মা’ বলে ডাকে। বার্নসাইড পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কও এখন অনেকটা নিজের পরিবারের মতো; বার্নসাইড দম্পতির অন্য সন্তানরাও তাকে ভাই হিসেবে গ্রহণ করেছে। ডিডির সামনে এখন নতুন লক্ষ্য - এভিয়েশন মেকানিক হওয়া। অন্যদিকে, বার্নসাইডের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের শেষ অধ্যায়টি চাকরি হারানোর মধ্য দিয়ে হলেও, তার একটি সিদ্ধান্ত একজন গৃহহীন তরুণকে দিয়েছে নিরাপদ একটি পরিবার, স্থিতিশীল পরিবেশ এবং নতুন ভবিষ্যতের সুযোগ।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে এক মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানে নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা ৭৯ শিশুকে উদ্ধার করেছে ইউএস মার্শালস সার্ভিস। ‘অপারেশন মেরিডিয়ান’ নামে আগস্টজুড়ে চলা এই অভিযানকে কর্তৃপক্ষ ওহাইওর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে। উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স ৬ থেকে ১৭ বছর। এই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষভাবে সহায়তা করেছেন আমান্ডা বেরি। ২০০৩ সালে ক্লিভল্যান্ডে অপহৃত হওয়ার পর প্রায় এক দশক বন্দি ছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে বন্দিদশা থেকে পালিয়ে বেরিয়ে আসেন এবং মুক্ত হন। এবার নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের অভিযানে যুক্ত হয়ে তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিটি শিশুকে নিজেদের সন্তানের মতো বিবেচনা করে উদ্ধারের আহ্বান জানান। ইউএস মার্শালস জানিয়েছে, আগস্টজুড়ে চলা ‘অপারেশন মেরিডিয়ান’-এ ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করে। নিখোঁজ শিশুদের সন্ধানে তদন্তকারীরা ওহাইওর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও অন্য অঙ্গরাজ্য পর্যন্ত অনুসন্ধান চালান। কিছু শিশুর সন্ধান জর্জিয়া পর্যন্ত পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া শিশুদের অনেকেই বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ছিল। এসব মামলার মধ্যে মানবপাচারের আশঙ্কা, যৌন পাচার, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, অবহেলা এবং বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ছিল। শিশুদের উদ্ধারের পর তাদের চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও সামাজিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। অভিযানের সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনাগুলোর একটি ছিল ১৩ ও ১৬ বছর বয়সী দুই বোনকে উদ্ধার। ১৩ বছর বয়সী মেয়েটি ২০২৪ সালের জুলাই থেকে এবং ১৬ বছর বয়সী মেয়েটি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিল। তদন্তের পর ১৩ বছর বয়সী মেয়েটিকে লকবোর্নের একটি বাড়ির বেডরুমের আলমারির মেঝের নিচের গোপন জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে একই দিন কলম্বাসের একটি রেস্তোরাঁ থেকে ১৬ বছর বয়সী বোনকেও উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় দুই মেয়ের মাকে একটি পুরোনো প্রবেশন লঙ্ঘনের পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করা হয়। তবে শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে তদন্তও চলমান রয়েছে। আরেক ঘটনায়, ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে টোলিডোতে উদ্ধার করা হয়। ওই কিশোরীকে আগে মানবপাচারের সম্ভাব্য শিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তদন্তের সূত্র ধরে তাকে এক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সঙ্গে খুঁজে পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা ও মূল্যায়ন করা হয়, আর ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সম্ভাব্য অপরাধ নিয়ে স্থানীয় তদন্ত চলছে। ইউএস মার্শালসের কর্মকর্তারা বলছেন, নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ছিল অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ফেডারেল সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ, অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা এবং শিশু ও পরিবারসেবা বিভাগের কর্মকর্তারাও অভিযানে যুক্ত ছিলেন। ইউএস মার্শাল পিট এলিয়ট বলেন, আমান্ডা বেরির সঙ্গে কাজ করতে পারা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বেরি অভিযানের আগে কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, প্রতিটি নিখোঁজ শিশুকে নিজেদের সন্তানের মতো বিবেচনা করতে। আমান্ডা বেরির নিজের অভিজ্ঞতাই এই অভিযানের মানবিক দিকটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। দীর্ঘ বন্দিত্বের পর নিজে মুক্ত হয়ে এখন নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করছেন তিনি। ইউএস মার্শালস জানিয়েছে, শিশুদের খুঁজে বের করা অভিযানের প্রথম ধাপ। উদ্ধার হওয়ার পর তাদের নিরাপদ পুনর্বাসন, মানসিক চিকিৎসা, পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে এক মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানে নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা ৭৯ শিশুকে খুঁজে বের করেছে ইউএস মার্শাল সার্ভিস। সংস্থাটির দাবি, এটি ওহাইওর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের অভিযান। ‘অপারেশন মেরিডিয়ান’ নামে অভিযানটি আগস্টজুড়ে ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স ৬ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ এক ছিল না। কিছু শিশু নিখোঁজ হয়েছিল পালিয়ে যাওয়ার কারণে, আবার কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন, অবহেলা, সম্ভাব্য মানব পাচার এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির বিষয় ছিল। তদন্তকারীরা শিশুদের খুঁজতে ওহাইওর বিভিন্ন এলাকায় কাজ করার পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যের বাইরেও অনুসন্ধান চালান। কয়েকটি শিশুকে জর্জিয়া পর্যন্ত গিয়ে খুঁজে বের করা হয়। ইউএস মার্শাল সার্ভিসের নর্দার্ন ও সাদার্ন ডিস্ট্রিক্টের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে এফবিআই, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, ওহাইও ব্যুরো অব ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন, স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফের কার্যালয়সহ বহু সংস্থা অংশ নেয়। আকরন, ক্লিভল্যান্ড, কলম্বাস ও টলিডোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোও বিভিন্ন মামলায় সরাসরি কাজ করেছে। অভিযানের একটি ঘটনায় কলম্বাস এলাকার দুই বোনকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনা বিশেষভাবে সামনে এসেছে। ১৩ ও ১৬ বছর বয়সী দুই বোনের একজনকে ২০২৪ সালের জুলাই এবং অন্যজনকে ২০২৬ সালের এপ্রিলে নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা কলম্বাস পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের খোঁজ শুরু করেন। তদন্তের সূত্র ধরে লকবোর্নের একটি বাড়িতে গিয়ে ১৩ বছর বয়সী মেয়েটিকে খুঁজে পান কর্মকর্তারা। ইউএস মার্শাল সার্ভিস জানিয়েছে, বাড়িটির একটি শোবার ঘরের আলমারির মেঝের নিচে থাকা বেজমেন্টের একটি গোপন জায়গায় তাকে পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় মেয়েদের মাকে ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টির একটি পুরোনো প্রবেশন লঙ্ঘনের পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের সময় পাওয়া অতিরিক্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরে ১৬ বছর বয়সী বোনটির অবস্থানও শনাক্ত করা হয়। তাকে কলম্বাসের একটি রেস্তোরাঁ থেকে উদ্ধার করা হয়। দুই বোনকে উদ্ধারের পর তাদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। আরেকটি ঘটনায় টলিডোতে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে খুঁজে বের করা হয়। ১৮ আগস্ট তাকে নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। ইউএস মার্শাল সার্ভিস জানিয়েছে, ওই কিশোরীকে আগে মানব পাচারের শিকার হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। টলিডো পুলিশ এবং ইউএস মার্শালদের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ দল ওহাইও ও মিশিগানে বিভিন্ন সূত্র অনুসরণ করে তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মেয়েটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সঙ্গে থাকতে পারে। টলিডোর একটি ঠিকানায় দুজনকে খুঁজে পাওয়া যায়। কিশোরীটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে হাসপাতালে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। শিশুদের উদ্ধারের পর তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই পুরো প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ নয় বলে জানিয়েছে ইউএস মার্শাল সার্ভিস। শিশু ও পরিবারবিষয়ক সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার হওয়া শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং সামাজিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এসব সহায়তার মধ্যে মানসিক আঘাত মোকাবিলায় পরামর্শ, পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। অভিযানে বিশেষভাবে যুক্ত ছিলেন আমান্ডা বেরি। ক্লিভল্যান্ডের এই নারী ২০০৩ সালে অপহৃত হওয়ার পর প্রায় এক দশক বন্দি ছিলেন এবং ২০১৩ সালে পালিয়ে মুক্ত হন। পরে তিনি নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে আসছেন। অপারেশন মেরিডিয়ান শুরুর আগে বেরি ইউএস মার্শালদের দলের সঙ্গে কথা বলেন। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিটি নিখোঁজ শিশুকে নিজেদের সন্তানের মতো বিবেচনা করে খোঁজার আহ্বান জানান। ইউএস মার্শাল পিট এলিয়ট বলেন, কর্মকর্তারা সেই পরামর্শ অনুসরণ করেই কাজ করেছেন। ইউএস মার্শাল সার্ভিসের কর্মকর্তা মাইকেল ব্ল্যাক বলেন, তাদের সংস্থা সাধারণত পলাতক আসামিদের খুঁজে বের করতে যে দক্ষতা ও অনুসন্ধান পদ্ধতি ব্যবহার করে, একই সক্ষমতা নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের উদ্ধারের ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় এই অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল। তবে ৭৯ শিশুর উদ্ধারের সঙ্গে কতজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে ইউএস মার্শাল সার্ভিস কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, উদ্ধার হওয়া সব শিশু যে মানব পাচারের শিকার ছিল, এমন নয়। তাদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি ছিল, যার মধ্যে পালিয়ে যাওয়া, নির্যাতন, অবহেলা এবং অন্যান্য ঝুঁকিও রয়েছে। ইউএস মার্শাল সার্ভিসের হিসাবে, আগস্টজুড়ে পরিচালিত অপারেশন মেরিডিয়ানে ৭৯ শিশুকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনা ওহাইওতে এ ধরনের একক অভিযানে সর্বোচ্চ। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি শিশুকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা শুধু একটি নিখোঁজ মামলা সমাধান নয়, বরং তাদের আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়া ঠেকানোরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সূত্র: ইউএস মার্শাল সার্ভিস, সিবিএস নিউজ এবং ওহাইওর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গুগলে দেওয়া ১-স্টার রিভিউকে মিথ্যা ও মানহানিকর দাবি করে এক নারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ভিয়েনা শহরের স্টার ম্যানুফ্যাকচারিং ইনকরপোরেটেড কলম্বাসের বাসিন্দা জুলি ওয়াটসনের বিরুদ্ধে ট্রাম্বুল কাউন্টি কোর্ট অব কমন প্লিজে করা মামলায় ২৫ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ চেয়েছে। গ্যাস উৎপাদন সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, ওয়াটসন চলতি বছরের মার্চে গুগলে তাদের বিরুদ্ধে একটি ১-স্টার রিভিউ প্রকাশ করেন। মামলায় প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, ওই পর্যালোচনায় তাদের উৎপাদন ও কাজের মান নিয়ে মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, রিভিউ প্রকাশের পর তাদের সুনাম ও ব্যবসায় ক্ষতি হয়েছে। মামলার নথিতে পর্যালোচনার পুরো বক্তব্য সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওয়াটসনের নামে প্রকাশিত একটি গুগল রিভিউয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ঠিকাদারদের কাজের মান, বিভিন্ন কূপ এলাকায় কাজ সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা এবং বোল্ট ও ফাস্টেনার সঠিকভাবে সংযুক্ত না করার মতো অভিযোগ তোলা হয়েছিল। একই সঙ্গে এসব সমস্যার বিষয়ে আরও ব্যক্তির নাম ও অবস্থান দেওয়ার কথাও ওই পর্যালোচনায় বলা হয়েছিল। স্টার ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের আইনজীবী থমাস নাদের দাবি করেছেন, ওয়াটসন কখনোই প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক ছিলেন না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই নারীর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল এবং পরে সেই সম্পর্কের অবনতি হয়। আইনজীবী অভিযোগ করেছেন, এরপরই কথিত মিথ্যা পর্যালোচনাটি প্রকাশ করা হয় এবং এটিকে তিনি ব্যক্তিগত বিদ্বেষের ফল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি মামলায় দাবি করেছে, ওয়াটসনের বক্তব্যের কারণে তাদের উল্লেখযোগ্য সুনামগত ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ভবিষ্যতেও তিনি ইন্টারনেটে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কথিত মিথ্যা ও ক্ষতিকর অভিযোগ প্রকাশ করতে পারেন বলেও মামলায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি আদালতের মাধ্যমে এমন বক্তব্য প্রকাশ বন্ধের নির্দেশও চেয়েছে। স্টার ম্যানুফ্যাকচারিং প্রকৃত ও ক্ষতিপূরণমূলক অর্থের পাশাপাশি ২৫ হাজার ডলারের বেশি দণ্ডমূলক ক্ষতিপূরণ, আইনজীবীর পারিশ্রমিক ও মামলার খরচ দাবি করেছে। মামলাটি ১২ আগস্ট ট্রাম্বুল কাউন্টি কোর্ট অব কমন প্লিজে করা হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মামলায় প্রতিষ্ঠানটির করা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। জুলি ওয়াটসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে রিভিউতে করা অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা, এবং প্রতিষ্ঠানটির দাবিকৃত ক্ষতির পরিমাণ কতটা, তা আদালতের প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের পারমায় একটি স্কুলবাসের ধাক্কায় হুইলচেয়ারে থাকা এক নারী আহত হয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর ওই নারীকে মেট্রো হেলথ মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের কেউ আহত হয়নি। পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ৮ জানিয়েছে, স্কুলবাসটি ওই নারীকে ধাক্কা দেওয়ার পর ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যরা পৌঁছান। পরে আহত নারীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার সময় স্কুলবাসে থাকা শিক্ষার্থীদের কেউ আহত না হওয়ায় তাদের বিষয়ে বড় ধরনের কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং দুর্ঘটনার জন্য কারও দায় রয়েছে কি না, তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ বা আহত নারীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে সম্পত্তি কর (প্রোপার্টি ট্যাক্স) ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে এবং রাজ্যটি এখন এই চরম সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত বছর কর সংকট চরমে পৌঁছানোর পর রাজ্য সরকার কিছু ত্রাণের ব্যবস্থা করলেও এর ভয়াবহ পরিণতি এখনও স্পষ্ট। জুন মাসে কুইয়াহোগা কাউন্টি রেকর্ড ১৮ মিলিয়ন ডলারের বকেয়া সম্পত্তি করের ঋণ বিক্রি করেছে, অন্যদিকে মাহোনিং কাউন্টির অডিটর ২৪ হাজারের বেশি বকেয়া পার্সেলের তালিকা প্রকাশ করেছেন। বাড়িঘরের ক্রমবর্ধমান মূল্য, পুনর্মূল্যায়ন এবং অস্বাভাবিক কর বৃদ্ধি রাজ্যের বাড়ির মালিকদের চরম হতাশার দিকে ঠেলে দিয়েছে। গত বসন্তে মাহোনিং কাউন্টিতে কর খেলাপির হার ১৮ শতাংশে পৌঁছায়, যেখানে বকেয়া করের পরিমাণ ছিল ৭০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ইয়াংস্টাউনের কিছু এলাকায় প্রতি তিনজন বাড়ির মালিকের মধ্যে একজন কর দিতে পিছিয়ে পড়েছেন। কুইয়াহোগা কাউন্টিতে পুনর্মূল্যায়নের পর বাড়ির দাম গড়ে ৩২ শতাংশ লাফিয়ে বাড়ে, যার ফলে বকেয়া ব্যালেন্স এক ধাক্কায় ৬০ মিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পায়। কাউন্টি অডিটরস অ্যাসোসিয়েশন অব ওহাইওর সভাপতি ম্যাট নোলান সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং আগামী বছরগুলোতে বাড়ির মালিকদের সম্পত্তি কর আরও ২৫ শতাংশ বাড়তে পারে। বর্তমানে সম্পত্তি করের বোঝার দিক থেকে ওহাইও পুরো যুক্তরাষ্ট্রে অষ্টম স্থানে রয়েছে, যা নিউইয়র্ক এবং ক্যালিফোর্নিয়ার চেয়েও বেশি; অথচ পারিবারিক গড় আয়ের দিক থেকে রাজ্যটির অবস্থান ৪০তম। ওহাইওর বিভিন্ন শহর যেমন কলম্বাস ও ক্লিভল্যান্ডে ব্যাপক উন্নয়ন এবং আবাসন খাতে বুম বা আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির কারণেই মূলত করের পরিমাণ হু হু করে বাড়ছে। রাজ্যটিতে প্রতি ছয় বছর পরপর সম্পত্তির পুনর্মূল্যায়ন করা হয়, যার ফলে কোভিড-১৯ মহামারির পর অনেকেই তাদের প্রথম পুনর্মূল্যায়নের মুখোমুখি হয়েছেন। এই কাঠামোগত কারণেই করের বিল বহুগুণ বেড়ে গেছে। আইনপ্রণেতারা এই হতাশার কথা স্বীকার করলেও কোনো কার্যকর সমাধান এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে একটি তৃণমূল আন্দোলন গড়ে উঠেছে, যারা সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে সম্পত্তি কর পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন। ‘সিটিজেন্স ফর প্রোপার্টি ট্যাক্স রিফর্ম’ নামক সংগঠনের অন্যতম আয়োজক বেথ ব্ল্যাকমার জানান, যখন তিনি নিজের বাড়ির পুনর্মূল্যায়ন বিলটি হাতে পেয়েছিলেন, তখন তা দেখে রীতিমতো মেঝেতে বসে পড়েছিলেন। তার বাড়ির মূল্যায়ন প্রায় ৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। তিনি আরও জানান, অনেক বাড়ির মালিকের বর্তমান করের পরিমাণ তাদের মূল বন্ধকি ঋণের কিস্তির চেয়েও বেশি হয়ে গেছে। বর্তমানে ‘এক্স দ্য ট্যাক্স’ (Ax the Tax) নামের একটি প্রচারণার মাধ্যমে সম্পত্তি কর পুরোপুরি বাতিলের জন্য স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজ্য আইনসভায় করের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব আনা হয়েছে এবং গভর্নর মাইক ডিওয়াইন একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। তবে দ্রুত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিলে তরুণ প্রজন্মের জন্য বাড়ি কেনার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। হ্যাশট্যাগ:
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে শিশুকন্যাকে স্ট্রলারে বসিয়ে মাত্র ৪ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে ১ মাইল দৌড় শেষ করে আলোচনায় এসেছেন এক বাবা। সময়টি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ যাচাই করলে এটি হবে স্ট্রলার ঠেলে সবচেয়ে দ্রুত ১ মাইল দৌড়ানোর নতুন বিশ্বরেকর্ড। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক স্টিফেন বিবেলহাউজেন গত শনিবার ক্লিভল্যান্ডের বার্ষিক ‘গার্ডিয়ান মাইল’ প্রতিযোগিতার ‘স্ট্রলার মাইল’ বিভাগে অংশ নেন। তার সঙ্গে ছিল ছোট মেয়ে ব্লেক, যে পুরো পথ স্ট্রলারে বসেই বাবার সঙ্গে দৌড় সম্পন্ন করে। আয়োজকদের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, স্টিফেন ১ মাইল দৌড় শেষ করেন ৪ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই বিভাগের রেকর্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সিলাস ফ্রান্টজ। তিনি ২০২৫ সালের ২৪ জুন ৪ মিনিট ২৬ দশমিক ২৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। সেই হিসাবে স্টিফেনের সময় প্রায় ৯ সেকেন্ড কম। তবে নতুন এই সময়টি এখনও গিনেস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করেনি। যাচাই শেষে অনুমোদন মিললে স্টিফেনই হবেন স্ট্রলার ঠেলে সবচেয়ে দ্রুত ১ মাইল দৌড়ানোর নতুন বিশ্বরেকর্ডধারী। স্টিফেন জানান, শুরুতে তার লক্ষ্য ছিল শুধু মেয়েকে নিয়ে একটি আনন্দময় অভিজ্ঞতা তৈরি করা। তিনি বলেন, "মেয়েকে স্ট্রলারে বসিয়ে দৌড়ানো মজার হবে বলে মনে হয়েছিল। পরে আগের কোর্স রেকর্ড দেখে ভাবলাম, হয়তো সেটি ভাঙতে পারব।" দৌড়ে শুরু থেকেই দারুণ গতি ধরে রাখেন তিনি। প্রথম আধা মাইল শেষ করেন ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডে। এরপর আরও গতি বাড়িয়ে শেষ আধা মাইল সম্পন্ন করেন মাত্র ২ মিনিট ৫ সেকেন্ডে। ফলে মোট সময় দাঁড়ায় ৪ মিনিট ১৭ সেকেন্ড। প্রতিযোগিতার পথ ছিল ক্লিভল্যান্ড শহরের মধ্য দিয়ে। মার্কেট স্কয়ার পার্কের কাছে শুরু হয়ে কুয়াহোগা নদী পার হয়ে ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ফায়ার মিউজিয়াম ও প্রগ্রেসিভ ফিল্ডের কাছে গিয়ে শেষ হয় দৌড়। স্টিফেন জানান, পুরো দৌড়জুড়ে তার মেয়ে ব্লেক বেশ আনন্দে ছিল। তার ভাষায়, "সে পুরো সময় কথা বলছিল। দর্শকদের উৎসাহ-উদ্দীপনাও খুব উপভোগ করেছে। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, তখন তার ঘুমানোর সময় পেরিয়ে প্রায় ৪৫ মিনিট হয়ে গিয়েছিল, তবুও সে হাসিখুশিই ছিল।" সম্ভাব্য বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও মেয়ের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তটিকেই বেশি মূল্য দেন স্টিফেন। তিনি বলেন, "এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি ওকে নিয়ে নিয়মিত দৌড়াতে বের হই। প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটাতে ও খুব আনন্দ পায়, আর সেই মুহূর্তগুলো আমার কাছেও বিশেষ।" এবিসি নিউজ জানিয়েছে, স্টিফেনের দৌড়ের সময়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায় কি না, তা জানতে তারা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এখন সেই যাচাইয়ের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন স্টিফেন ও তার পরিবার।
২০২৪ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে গৃহহীন হয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের শিক্ষার্থী ল্যান্ডেরিয়াস “ডিডি” হেইস। পারিবারিক সংকটের কারণে তার মায়ের বাসা স্কুল জেলার বাইরে চলে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়, সে আর লাকোটা ইস্ট হাই স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে না। কিন্তু স্কুলটির তৎকালীন প্রধান শিক্ষক রবার্ট বার্নসাইড সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি। তিনি যুক্তি দেন, গৃহহীন হয়ে পড়া একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তার শেষ আশ্রয়, স্কুলটিও কেড়ে নেওয়া উচিত নয়। এ নিয়ে তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বারবার কথা বলেন এবং শিক্ষার্থীটির পক্ষে অবস্থান নেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে তার মতবিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। অভিযোগ ওঠে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার এই অবস্থানকে নির্দেশ অমান্য হিসেবে দেখছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনের পদ হারানোর ঝুঁকি সামনে রেখেও তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেননি। অবশেষে রবার্ট বার্নসাইড প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তবে সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি। পরে তিনি ও তার স্ত্রী অ্যাঞ্জেল বার্নসাইড ল্যান্ডেরিয়াসের স্থায়ী আইনগত অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন এবং নিজেদের ছয় সন্তানের সঙ্গে তাকে পরিবারের সদস্য হিসেবে ঘরে তুলে নেন। আট সদস্যের পরিবার মুহূর্তেই হয়ে যায় নয় সদস্যের পরিবার। ২০২৬ সালের মে মাসে ল্যান্ডেরিয়াস “ডিডি” হেইস যখন উচ্চবিদ্যালয়ের সনদ গ্রহণের জন্য মঞ্চে ওঠেন, তখন দর্শকসারিতে উপস্থিত ছিলেন রবার্ট বার্নসাইড। তবে সেদিন তিনি আর তার প্রধান শিক্ষক ছিলেন না। তিনি ছিলেন তার বাবা। যে মানুষটি একসময় স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অধিকার রক্ষায় লড়েছিলেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত তাকে নিজের পরিবারের সদস্য করে নতুন জীবনের পথ দেখান। শিক্ষা ও মানবিকতার এই ব্যতিক্রমী ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অনেকের কাছে এটি একজন শিক্ষকের দায়িত্ববোধ ও মানবতার অসাধারণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টলেডো শহরে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রবীণ ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা মার্সি কাপ্তুর। ৮০ বছর বয়সী এই মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য রবিবার সকালে চার্চে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তবে তার আঘাত জীবনসংহারী বা গুরুতর নয়। দুর্ঘটনার পর তিনি পুরোপুরি সজাগ ও সক্রিয় রয়েছেন বলেও বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও টলেডো পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, রবিবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টার ঠিক আগে দুটি গাড়ির মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ এটিকে একটি ‘হিট-অ্যান্ড-রান’ বা ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ঘটনার সময় কংগ্রেসওম্যান মার্সি কাপ্তুর গাড়ির যাত্রী আসনে বসা ছিলেন। দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়া অপর গাড়িটির চালককে ধরতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের রেকর্ড অনুযায়ী, মার্সি কাপ্তুর দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী নারী আইনপ্রণেতা। দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে তিনি প্রতিনিধি পরিষদে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আসন্ন শরৎকালীন নির্বাচনে ওহাইও আইনসভার সাবেক রিপাবলিকান সদস্য ডেরেক মেরিনের বিপরীতে পুনর্নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা রয়েছে এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে যৌন সহিংসতার সময় হত্যা করার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী এক যুবক আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। মামলার বিচার শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে তিনি আদালতের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে এই স্বীকারোক্তি দেন। পরে আদালত তাকে ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পিপল ম্যাগাজিন, মেইগস কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিস এবং কোর্ট টিভির তথ্য অনুযায়ী, ওহাইওর রাটল্যান্ড এলাকার বাসিন্দা স্যামুয়েল হকস্টেটলার ২০২৫ সালে ২৮ বছর বয়সী রোজানা কিনসিঙ্গারের মৃত্যুর ঘটনায় ‘অ্যাগ্রাভেটেড মার্ডার’ বা গুরুতর হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। মামলার বিচার ২৭ জুলাই জুরি বোর্ডের মাধ্যমে শুরু হওয়ার কথা ছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ এবং শ্বাসরোধের অভিযোগও আনা হয়েছিল। তবে আদালতের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার অংশ হিসেবে তিনি গুরুতর হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ মার্চ রোজানা কিনসিঙ্গারের মৃত্যু হয়। তদন্তে উঠে আসে, তার সম্মতি ছাড়া যৌন নির্যাতনের সময় এমনভাবে তাকে চেপে ধরা হয়েছিল যে শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। কোর্ট টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার দিন হকস্টেটলার ও কিনসিঙ্গার অন্য কয়েকজনের সঙ্গে একটি গ্রিনহাউস নির্মাণকাজে অংশ নিয়েছিলেন। তদন্তে জানা যায়, হকস্টেটলার আগে কয়েকবার কিনসিঙ্গারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি তাতে আগ্রহ দেখাননি। প্রসিকিউটর জেমস স্ট্যানলি আদালতে জানান, তদন্তে পাওয়া প্রমাণে দেখা গেছে, যৌন সহিংসতার সময় অভিযুক্ত ভুক্তভোগীর মুখ চেপে ধরেন। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু ঘটে। পরদিন ১৩ মার্চ রোজানা কিনসিঙ্গারের মরদেহ তার ট্রেলারবাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। কর্মস্থলে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় পরিচিতজনেরা খোঁজ নিতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। মামলার সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি ছিল ঘটনার পর অভিযুক্তের আচরণ। প্রসিকিউটরদের দাবি, রোজানার মৃত্যুর খবর তিনিই প্রথম তার বাবাকে জানান। শুধু তাই নয়, পরিবারের সদস্যদের শেষকৃত্যের প্রস্তুতিতে সহায়তার প্রস্তাবও দেন। প্রসিকিউটর জেমস স্ট্যানলি আদালতে বলেন, রোজানার বাবা-মা ও ভাইবোন জানতেই পারেননি যে যাকে তারা ঘরে স্বাগত জানিয়েছিলেন এবং শোকের মুহূর্তে পাশে পেয়েছিলেন, তিনিই তাদের স্বজন হত্যার জন্য দায়ী। রায়ের পর আদালত স্যামুয়েল হকস্টেটলারকে ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাকে সহিংস অপরাধী এবং তৃতীয় স্তরের যৌন অপরাধী হিসেবে সরকারি নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার আগে আদালতে অভিযুক্ত নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চান। তার আইনজীবী দাবি করেছিলেন, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং এটি একটি দুর্ঘটনা। এছাড়া মামলার শুরুতে আদালত তার দেওয়া স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য নয় বলে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, সেটিই পরবর্তীতে সমঝোতার ভিত্তিতে দোষ স্বীকারের পথ তৈরি করে। আদালতে হকস্টেটলার বলেন, "আমি যা করেছি, তার জন্য আমি দুঃখিত। যদি অতীতে ফিরে গিয়ে অন্যভাবে জীবন গড়তে পারতাম। আমি কতটা অনুতপ্ত, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।"
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি হাসপাতালে সহকর্মী নারীদের ব্যবহৃত টয়লেটে গোপনে ক্যামেরা স্থাপন করে ভিডিও ও ছবি ধারণের অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক চিকিৎসককে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১৫ বছরের জন্য যৌন অপরাধীর তালিকাভুক্ত (Sex Offender Registry) থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত চিকিৎসকের নাম অদ্বৈত দেশমুখ। তিনি ওহাইওর টোলেডো শহরের একটি হাসপাতালের এন্ডোউরোলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের রেসিডেন্ট চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত জুনে লুকাস কাউন্টি কমন প্লিজ কোর্টের বিচারক মাইকেল গোল্ডিং এ রায় দেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, অদ্বৈত দেশমুখের বিরুদ্ধে নজরদারির উদ্দেশ্যে গোপনে ভিডিও ধারণ (ভয়রিজম) এবং প্রমাণ নষ্ট বা লোপাটের চেষ্টাসহ মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। আদালতে তিনি অভিযোগ স্বীকার করলে বিচারক তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড, তিন বছরের প্রবেশন এবং যৌন আচরণ সংশোধনমূলক সহায়তা কর্মসূচি সেক্সাহোলিকস অ্যানোনিমাস-এর সেশনে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া ভবিষ্যতে তিনি অন্য কাউন্টিতে বসবাস করলেও আদালতের আরোপিত শর্ত ও চিকিৎসা কার্যক্রম বহাল থাকবে। রায় ঘোষণার আগে আদালতে দাঁড়িয়ে অদ্বৈত দেশমুখ নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য বিচারক ও ভুক্তভোগীদের কাছে ক্ষমা চান। তার আইনজীবী কারাদণ্ডের পরিবর্তে কেবল প্রবেশনে রাখার আবেদন জানালেও আদালত তা গ্রহণ করেননি। মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনাটির সূত্রপাত ২০২৫ সালের জুনে। টোলেডো হাসপাতালের রেনেসাঁ টাওয়ারের একটি কমন টয়লেটে একটি বাক্সের ভেতরে লুকিয়ে রাখা ডিজিটাল ক্যামেরা দেখতে পান এক কর্মী। তিনি সেটি সরানোর চেষ্টা করলে অদ্বৈত দেশমুখ ক্যামেরাটি নিয়ে নেন এবং সেটি নিজের বলে দাবি করেন। এই ঘটনাই পরবর্তীতে তদন্তের সূচনা করে। পরবর্তীতে প্রোমেডিকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও টোলেডো পুলিশের যৌথ তদন্তে চিকিৎসকের মোবাইল ফোন থেকে ৮২টি গোপনে ধারণ করা ছবি উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিগুলো ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে হাসপাতালের টয়লেটে গোপনে ধারণ করা হয়েছিল। তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করে। পরে আদালতে তিনি অপরাধ স্বীকার করলে বিচারক কারাদণ্ডের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও নিবন্ধনের নির্দেশ দেন। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং সম্মতি ছাড়া গোপনে ছবি বা ভিডিও ধারণের মতো অপরাধকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কর্মক্ষেত্রের মতো সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
অন্যের বিপদে এগিয়ে যাওয়াই ছিল তার দায়িত্ব, আর সেই মানবিক দায়িত্ব পালন করতেই নিজের জীবন হারাতে হলো তাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে মধ্যরাতে রাস্তার পাশে বিকল হয়ে পড়া একটি গাড়ির চালককে সাহায্য করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ২৯ বছর বয়সী অফ-ডিউটিতে থাকা ফায়ারফাইটার ও প্যারামেডিক ক্যামেরন ডুভ্যাল। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও এক নারী। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পেপার পাইক পুলিশ জানায়, শনিবার ১৮ জুলাই রাত প্রায় ৩টার দিকে ফেয়ারমাউন্ট বুলেভার্ডে একটি গাড়ির টায়ার পাংচার হয়ে যায়। চালক রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ঠিক সেই সময় অফ-ডিউটিতে থাকা ক্যামেরন ডুভ্যাল ও তার সঙ্গে থাকা এক নারী সেখানে পৌঁছে টায়ার পরিবর্তনে সাহায্য করতে শুরু করেন। তারা গাড়ির পেছনে কাজ করার সময় আরেকটি গাড়ি এসে তাদের এবং বিকল গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ক্যামেরন ডুভ্যালের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত নারীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। ঘটনার পর অভিযুক্ত চালক জোসেফ সিমন্সকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অ্যাগ্রাভেটেড ভেহিকুলার হোমিসাইড, অ্যাগ্রাভেটেড ভেহিকুলার অ্যাসল্ট, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত তার জামিন ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার নির্ধারণ করেছেন। মামলাটি এখন কুইয়াহোগা কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরির বিবেচনায় রয়েছে। ২০২২ সালে নর্থ র্যান্ডাল ফায়ার ডিপার্টমেন্টে যোগ দেন ক্যামেরন ডুভ্যাল। বিভাগটির কর্মকর্তারা বলেন, তিনি অল্প সময়েই সহকর্মীদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। জনসেবার প্রতি তার নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তাকে সবার কাছে অনুকরণীয় করে তুলেছিল। সহকর্মীদের ভাষায়, ক্যামেরন শুধু একজন দমকলকর্মী ছিলেন না, তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের নিরাপত্তার আগে অন্যের জীবন ও বিপদকে গুরুত্ব দিতেন। পরিবারের কাছে তিনি ছিলেন আদরের সন্তান, ভাই, বন্ধু ও চাচা। কর্মজীবনের বাইরে ভ্রমণ, মাছ ধরা, গলফ, স্নোবোর্ডিং, মোটরসাইকেল চালানো এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসতেন তিনি। কিন্তু মানুষের বিপদে ছুটে যাওয়াই ছিল তার সবচেয়ে বড় পরিচয়। নর্থ র্যান্ডাল ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আগামী ২৫ জুলাই পূর্ণ দমকল বিভাগের আনুষ্ঠানিক মর্যাদায় ক্যামেরন ডুভ্যালকে শেষ বিদায় জানানো হবে। তার মৃত্যুতে ওহাইওর ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ডুবন্ত এক সাঁতারুকে উদ্ধার করতে গিয়ে পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) ডেলাওয়্যার কাউন্টির সিওটো (Scioto) নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুজন নারী ও তিনজন পুরুষ রয়েছেন। এ ঘটনায় ১০ বছরের কম বয়সী দুই শিশু তাদের অভিভাবকদের হারিয়ে বর্তমানে পারিবারিক সেবা সংস্থার তত্ত্বাবধানে রয়েছে। ডেলাওয়্যার কাউন্টির শেরিফ জেফরি বালজার সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ছুটির দিন উপলক্ষে কলম্বাস শহরের উপশহর পাওয়েলের কাছে সিওটো নদীর তীরে একটি দল সময় কাটাতে জড়ো হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন নদীতে সাঁতার কাটতে নামার পর প্রবল স্রোতে বিপদে পড়েন। তাকে উদ্ধার করতে দলের অন্য সদস্যরা একে একে নদীতে ঝাঁপ দেন। কিন্তু উদ্ধার করতে গিয়ে তারাও পানির স্রোতে আটকা পড়েন এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঘটনার সময় সঙ্গে থাকা একটি ছোট শিশু আতঙ্কিত হয়ে কাছের সড়কের দিকে দৌড়ে গিয়ে সাহায্য চাইতে থাকে। ওই পথ দিয়ে যাওয়া এক গাড়িচালক শিশুটিকে উদ্বিগ্ন অবস্থায় দেখে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। উদ্ধারকারী সদস্যরা রোববার রাতেই নদী থেকে দুই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকরা সেখানে তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এরপর সোমবার সারাদিনের অনুসন্ধান শেষে নদী থেকে আরও তিনজন পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানান ডেলাওয়্যার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের মুখপাত্র ট্রেসি হোয়াইটড। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে থাকা ১০ বছরের কম বয়সী দুই শিশুকে বর্তমানে পারিবারিক সেবা সংস্থার নিরাপদ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের কাজও চলছিল। কিছু ভাষাগত জটিলতার কারণে পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্তকারীদের অতিরিক্ত সময় লাগছে বলেও জানানো হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার সময় নদীর পানির স্রোত স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (USGS) তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে ওই এলাকায় নদীর পানিপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, যা সাঁতার কাটাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছিল। ঘটনার পর শেরিফ জেফরি বালজার সবাইকে নদী বা হ্রদে নামার আগে নিজের সাঁতারের সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পানিতে নামার আগে স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, প্রয়োজনে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, এই দুর্ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে দক্ষিণ ইউটাহ অঙ্গরাজ্যে আকস্মিক বন্যায় হাইকিং করতে গিয়ে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার শোক কাটতে না কাটতেই ওহাইওর এই ট্র্যাজেডি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন করে শোকের আবহ তৈরি করেছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), দ্য গার্ডিয়ান।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুলগুলোতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন একটি পাঠ্যবিষয় চালু হচ্ছে। নতুন আইনের আওতায় শিক্ষার্থীদের শেখানো হবে, উচ্চবিদ্যালয় শেষ করা, পূর্ণকালীন চাকরি পাওয়া এবং সন্তান নেওয়ার আগে বিয়ে করা এই তিনটি ধাপ অনুসরণ করলে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে দারিদ্র্যে পড়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। গভর্নর মাইক ডিওয়াইন সম্প্রতি সিনেট বিল ২৭৬–এ স্বাক্ষর করায় এটি আইনে পরিণত হয়েছে। সিনেট বিল ২৭৬ মূলত স্কুল মনোবিজ্ঞানীদের আন্তঃরাজ্য লাইসেন্সিং সহজ করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। তবে আইনসভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে এতে শিক্ষা-সংক্রান্ত একাধিক নতুন ধারা যুক্ত করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল ‘সাকসেস সিকোয়েন্স’ বা সাফল্যের ধারাবাহিকতা নামে পরিচিত এই পাঠ্যসূচি। বিলটি দুই কক্ষেই পাস হওয়ার পর গভর্নরের স্বাক্ষরে আইনে পরিণত হয়েছে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এটি কার্যকর হবে। নতুন পাঠ্যসূচিতে শিক্ষার্থীদের জানানো হবে, যারা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষা সম্পন্ন করেন, পূর্ণকালীন কর্মসংস্থানে যুক্ত হন এবং সন্তান নেওয়ার আগে বিয়ে করেন, তাদের দারিদ্র্যের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে। আইনটির সমর্থকদের দাবি, এটি কোনো ব্যক্তিগত মতামত নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক গবেষণায় পাওয়া পরিসংখ্যানভিত্তিক একটি ধারণা, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে। সমর্থকদের মতে, স্কুলে যেহেতু আর্থিক সচেতনতা, পেশা পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ শিক্ষা নিয়ে পাঠদান করা হয়, তাই পরিবার গঠন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সম্পর্ক নিয়েও তথ্যভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া যৌক্তিক। তাদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো জীবনধারা চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, এই পাঠ্যসূচি সফল জীবনের একটি নির্দিষ্ট মডেলকে গুরুত্ব দিচ্ছে, যা সব পরিবারের বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। তাদের মতে, একক অভিভাবক, দাদা-দাদী বা নানা-নানীর কাছে বড় হওয়া শিশু, দত্তক পরিবার কিংবা অন্যান্য পারিবারিক কাঠামো থেকে আসা শিক্ষার্থীরা এতে নিজেদের বিচ্ছিন্ন মনে করতে পারে। এছাড়া দারিদ্র্যের পেছনে বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, মজুরি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের মতো বহু জটিল কারণ কাজ করে বলে তারা উল্লেখ করেছেন। এই আইন শুধু ‘সাকসেস সিকোয়েন্স’ চালুই করেনি, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগও বাড়ানো হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো স্কুলে নির্দিষ্ট খেলাধুলা বা সহশিক্ষা কার্যক্রম না থাকলে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পাশের স্কুল জেলার সেই কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আবেদন করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট দুই জেলার সুপারিনটেনডেন্টের অনুমোদন সাপেক্ষে এ সুযোগ দেওয়া হবে। ওহাইওর এই আইন ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শিক্ষা, পরিবার, দারিদ্র্য এবং স্কুলের পাঠ্যক্রম নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমর্থকদের কাছে এটি বাস্তবমুখী জীবনশিক্ষা হলেও, বিরোধীদের মতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত জীবনধারা নিয়ে রাষ্ট্রের এমন নির্দেশনামূলক অবস্থান বিতর্কিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টলেডো শহরে একটি পার্কিং লটে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি থেকে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে গাড়িতে থাকা পাঁচজন অচেতন হয়ে পড়েন এবং তাঁদের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টার কিছু পরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। টলেডোর ফায়ার চিফ অ্যালিসন আর্মস্ট্রং জানান, ফোর্ড এক্সপ্লোরার মডেলের গাড়িটির চাকা ফেটে যাওয়ার পর সেটি একটি পার্কিং লটে থামানো হয়েছিল। পরবর্তীতে সেখান থেকে অচেতন অবস্থায় ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করা হয়। টলেডো শহরের মুখপাত্র র্যাচেল হার্ট জানিয়েছেন, হতাহতদের মধ্যে এক দাদি এবং তাঁর নাতি-নাতনিরা রয়েছেন। চাকা ফেটে যাওয়ার পর ওই নারীর ছেলে তাঁদের সাহায্য করতে এসে গাড়ির ভেতরে তাঁদের অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। টলেডোর মেয়র ওয়েড ক্যাপসুকেভিচ জানিয়েছেন, এই ঘটনায় কোনো ধরনের অপরাধমূলক তৎপরতার সূত্র মেলেনি। বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অপর ২ শিশুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে কীভাবে গাড়িটির ভেতরে এত বেশি মাত্রায় কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস জমে গেল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে গাড়িটির দরজা বন্ধ করে স্টার্ট দেওয়ার পর ভেতরে থাকা গ্যাস পরিমাপক যন্ত্রে অত্যন্ত উচ্চমাত্রার কার্বন মনোক্সাইডের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। ফায়ার চিফ আর্মস্ট্রং জানান, কয়েক বছর আগে অনুরূপ একটি ঘটনা ঘটেছিল যেখানে গাড়ির নিচের পাটাতনের ছিদ্র দিয়ে ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস প্রবেশ করেছিল। এর আগে ২০১১ থেকে ২০১৭ মডেলের প্রায় ১৫ লাখ ফোর্ড এক্সপ্লোরার গাড়ির ভেতরের অংশে ধোঁয়ার গন্ধ পাওয়ার অভিযোগে মার্কিন সরকারের একটি সংস্থা দীর্ঘ ছয় বছর ধরে তদন্ত চালিয়েছিল। তবে ২০২৩ সালে দেশটির ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানায় যে, এসব এসইউভি-তে বিপজ্জনক মাত্রার কার্বন মনোক্সাইড পাওয়া যায়নি এবং গাড়িগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহার করার প্রয়োজন নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে একটি বাড়ি থেকে অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিক পরিবেশে বসবাসরত ১৬ শিশুকে উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গিয়ে তারা এই ঘটনার সন্ধান পান। পরে শিশুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার গুরুতর অভিযোগে একই পরিবারের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওহাইওর অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যান্ডি উইলসন ঘটনাস্থলকে "প্রায় বর্ণনাতীত" এবং "চরম অমানবিক" বলে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, দীর্ঘ কর্মজীবনে শিশুদের জন্য এত খারাপ পরিবেশ খুব কমই দেখেছেন তিনি। আদালতের নথি অনুযায়ী, ৩৬ বছর বয়সী গ্যারি সাইডার্স দ্বিতীয়ের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের একটি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, মে মাসে তিনটি পৃথক ঘটনায় তিনি বাড়ির বাইরে পরিবারের বাইরের লোকজনের সামনে অশোভন আচরণ করেন। সেই পরোয়ানা কার্যকর করতে ৩০ জুন ভিনটন কাউন্টির হ্যামডেন এলাকার বাড়িটিতে যান শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যরা। বাড়িতে প্রবেশের পর পুলিশ দেখতে পায়, সেখানে মোট ১৬ শিশু বসবাস করছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুদের অনেকেই স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছিল না। ১৮ বছর বয়সী বড় মেয়েটির বিকাশজনিত সমস্যা রয়েছে এবং তিনি নিজের নামও লিখতে পারেন না বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ভিনটন কাউন্টির শেরিফ রায়ান কেইন বলেন, অভিযানে যাওয়ার আগে তারা জানতেনই না যে ওই বাড়িতে ১৬টি শিশু রয়েছে। ঘটনাস্থলের পরিবেশ এতটাই নোংরা ছিল যে, অনেক খামারের পশুও এর চেয়ে ভালো পরিবেশে রাখা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তদন্তকারীদের দাবি, শিশুদের একটি প্রায় ১২ ফুট × ১২ ফুট আকারের ছোট কক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে রাখা হতো। কক্ষটিতে মানববর্জ্যের উপস্থিতি ছিল এবং পুরো বাড়িটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গত প্রায় চার বছর ধরে শিশুদের অধিকাংশ সময় ওই সংকীর্ণ জায়গায় থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তকারীরা আরও জানান, বাড়ির বিভিন্ন স্থানে খাবারের উচ্ছিষ্ট, পুরোনো আসবাব, টায়ার, কীটনাশকসহ নানা ধরনের জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। বাড়ির বাইরে শিশুদের খেলনা ও অন্যান্য সামগ্রীও অযত্নে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনার পর পুলিশ গ্যারি সাইডার্স দ্বিতীয়, তার স্ত্রী এলিজাবেথ সাইডার্স (৩৩), গ্যারি সাইডার্স সিনিয়র (৭১) এবং ক্রিস্টিনা সাইডার্স (৬৬)-কে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে জানা গেছে, এলিজাবেথই ১৬ শিশুর মা। তার আইনজীবী জানিয়েছেন, ২০০৮ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি গ্যারি সাইডার্স দ্বিতীয়কে বিয়ে করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, দম্পতির প্রথম সন্তানের জন্ম হয় বিয়ের প্রায় দুই মাস পর। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া শিশুদের কেউই স্কুলে ভর্তি ছিল না। তদন্তকারীদের ধারণা, পরিবারটি বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করলেও সম্প্রতি হ্যামডেনে আসে। তাদের জীবনযাপন সম্পর্কে বাইরের মানুষের খুব কমই ধারণা ছিল। পরিবারটির কয়েকজন দূরসম্পর্কের আত্মীয় স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা এই পরিস্থিতির বিষয়ে কিছুই জানতেন না। সংবাদে ঘটনাটি জানার পর তারা বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৬টি করে দ্বিতীয় ডিগ্রির শিশু নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার (ফেলনি চাইল্ড এন্ডেঞ্জারমেন্ট) অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে তারা সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। প্রত্যেকের জন্য ৩ লাখ ডলার করে জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে, গ্যারি সাইডার্স দ্বিতীয়ের বিরুদ্ধে থাকা পৃথক অশোভন আচরণের মামলারও বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া শিশুদের চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সব দিক নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) নিয়ে বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টের রায় দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের একটি বিল আবারও কংগ্রেসে উত্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন ওহাইও অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনো। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি৪ (WCMH)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাতিল করে। ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনই ওই আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার অবৈধভাবে অবস্থানকারী বা অস্থায়ী ভিসাধারী অভিবাসীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর বুধবার সিনেটর বার্নি মোরেনো একই উদ্দেশ্যে একটি বিল পুনরায় উত্থাপনের ঘোষণা দেন। মোরেনো যে বিলটি পুনরায় উত্থাপন করেছেন, সেটি প্রথম ১৯৯৩ সালে প্রস্তাব করেছিলেন তৎকালীন ডেমোক্র্যাট সিনেটর হ্যারি রিড। বিলটির উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ধারা ব্যাখ্যা করে অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ সীমিত করা। নতুন করে উত্থাপিত বিলে শুধু জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়ই নয়, অবৈধ অভিবাসনের জন্য আরও কঠোর শাস্তি, প্রতি বছর অভিবাসী গ্রহণের সংখ্যা কমানো এবং আশ্রয়প্রার্থীদের সুযোগ সীমিত করারও প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বার্নি মোরেনো বলেন, তিনি হ্যারি রিডের প্রস্তাবিত "ঠিক একই বিল" আবারও কংগ্রেসে আনছেন। তার ভাষায়, "ডেমোক্র্যাট পার্টিতে চরমপন্থীদের প্রভাব বাড়ার আগে তাদের নেতা হ্যারি রিড জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অবসান, অবৈধ অভিবাসীদের ভোটাধিকার রোধ এবং অবৈধ শ্রম ব্যবহারকারী নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি চমৎকার বিল এনেছিলেন। আমি চাই, এবার এই বিলের ওপর ভোট হোক।" তবে এই বিলের ইতিহাস ভিন্ন। ১৯৯০-এর দশকে বিলটি কমিটিতেই আটকে যায়। পরে ২০০৬ সালে হ্যারি রিড নিজেই এ ধরনের বিল আনার জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি একসময় এটিকে নিজের রাজনৈতিক জীবনের "সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি" বলে উল্লেখ করেছিলেন। পরে সাংবাদিকদের বলেন, "আমি বিষয়টি ঠিকভাবে বুঝতে পারিনি। এমন প্রস্তাব দেওয়ায় আমি বিব্রত।" উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বার্নি মোরেনো নিজেও একজন অভিবাসী। তিনি কলম্বিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮ বছর বয়সে মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় নিজের কলম্বিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি কংগ্রেসের আরও ২৭ সদস্যের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টকে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সর্বশেষ রায়ের পরও তিনি দাবি করেন, আদালত ১৪তম সংশোধনীর সঠিক ব্যাখ্যা দেয়নি এবং এ বিষয়ে এখন কংগ্রেসের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা রায়ে বলেন, দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব লাভ করেন। যদিও বিচারপতি ব্রেট কাভানাফ সাংবিধানিক ব্যাখ্যার বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করলেও তিনি ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিপক্ষেই ভোট দেন। তার মতে, আদেশটি বিদ্যমান ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। রায়ের পর সামাজিক মাধ্যমে বার্নি মোরেনো ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে বলেন, বর্তমান নীতি তথাকথিত 'বার্থ ট্যুরিজম' বা সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতাকে উৎসাহিত করছে। সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ-এর হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর পর্যটক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা নারীদের প্রায় ৩৩ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করে, যা দেশটিতে মোট জন্মের প্রায় ০.৯ শতাংশ। মোরেনো জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনে ফিরে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বিলটি আবারও কংগ্রেসে উপস্থাপন করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি মলমূত্র পূর্ণ ও চরম অপরিচ্ছন্ন বাড়ি থেকে ১৬ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের সময় অবহেলিত এই শিশুদের অবস্থা অনেকটা বন্য প্রাণীর মতো দেখাচ্ছিল বলে জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির শীর্ষ প্রসিকিউটর। ১ থেকে ১৮ বছর বয়সী এই শিশুদের গত চার বছর ধরে মূলত ১২ বাই ১২ ফুটের একটি ছোট ঘরে বন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছিল, যা মানববর্জ্যে পরিপূর্ণ ছিল। এই ভয়াবহ ঘটনাটিকে ওহাইওর অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যালান উইলসন ‘খাঁটি অশুভ’ বা ‘পিওর ইভিল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। নতুন প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, বাড়িটির ভেতরে এতটাই দুর্গন্ধ ও আবর্জনা ছিল যে তদন্তকারীদের মাস্ক পরে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছিল। এমনকি ময়লার স্তূপের কারণে তারা বাড়িটির অনেক অংশে পৌঁছাতেই পারেননি। ভিনটন কাউন্টির সম্পত্তির রেকর্ড অনুযায়ী, মাত্র ১ হাজার ৩৩৬ বর্গফুটের ওই বাড়িতে পাঁচটি কক্ষ এবং একটিমাত্র বাথরুম ছিল, যেখানে পরিবারের মোট ২০ জন সদস্য বসবাস করতেন। বাড়ির বাইরে এবং উঠোনে পুরোনো টায়ার, ভাঙা খেলনা, হাই চেয়ারসহ ময়লার বিশাল স্তূপ জমে থাকতে দেখা গেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিশুদের দাদা-দাদি গ্যারি সাইডার্স সিনিয়র (৭৩) ও ক্রিস্টিনা সাইডার্স (৬৭) এবং বাবা-মা গ্যারি সাইডার্স জুনিয়র (৩৬) ও এলিজাবেথ সাইডার্সকে (৩৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আদালতে তাঁরা সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন অন্য একটি ঘটনার তদন্তে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে ঘটনাক্রমে এই শিশুদের সন্ধান পায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবারটি গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে ওহাইওর দক্ষিণাঞ্চলে বারবার স্থান পরিবর্তন করেছে, যাতে তাদের কোনো আইনি রেকর্ড না থাকে। উদ্ধার হওয়া শিশুদের কাউকেই কখনো স্কুলে ভর্তি করা হয়নি। এমনকি তাদের মধ্যে কয়েকজন ঠিকমতো কথা বলতে পারে না এবং সবচেয়ে বড় ১৮ বছর বয়সী তরুণীটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হওয়ায় নিজের নাম পর্যন্ত লিখতে অক্ষম। এমন অমানবিক ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দারা রীতিমতো হতবাক হয়ে গেছেন। প্রতিবেশী এমিলি কলিন্স বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ঘটনাটি তাদের চোখের সামনেই ঘটছিল, অথচ কেউ আগে এই শিশুদের সাহায্য করতে পারেনি। অন্যদিকে, শিশুদের মা এলিজাবেথের আইনজীবী থমাস স্টোলি দাবি করেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের দাবি অনুযায়ী তাঁর মক্কেলের মধ্যে তিনি কোনো 'অশুভ' বা বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব দেখেননি। তিনি জানান, মাত্র ১৫ বছর বয়সে এলিজাবেথের বিয়ে হয়েছিল এবং জেলে দেখা করার পর এলিজাবেথ প্রথমেই নিজের সন্তানদের খোঁজখবর জানতে চেয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি মলমূত্র পূর্ণ ও চরম অপরিচ্ছন্ন বাড়ি থেকে ১৬ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের সময় অবহেলিত এই শিশুদের অবস্থা অনেকটা বন্য প্রাণীর মতো দেখাচ্ছিল বলে জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির শীর্ষ প্রসিকিউটর। ১ থেকে ১৮ বছর বয়সী এই শিশুদের গত চার বছর ধরে মূলত ১২ বাই ১২ ফুটের একটি ছোট ঘরে বন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছিল, যা মানববর্জ্যে পরিপূর্ণ ছিল। এই ভয়াবহ ঘটনাটিকে ওহাইওর অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যালান উইলসন ‘খাঁটি অশুভ’ বা ‘পিওর ইভিল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। নতুন প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, বাড়িটির ভেতরে এতটাই দুর্গন্ধ ও আবর্জনা ছিল যে তদন্তকারীদের মাস্ক পরে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছিল। এমনকি ময়লার স্তূপের কারণে তারা বাড়িটির অনেক অংশে পৌঁছাতেই পারেননি। ভিনটন কাউন্টির সম্পত্তির রেকর্ড অনুযায়ী, মাত্র ১ হাজার ৩৩৬ বর্গফুটের ওই বাড়িতে পাঁচটি কক্ষ এবং একটিমাত্র বাথরুম ছিল, যেখানে পরিবারের মোট ২০ জন সদস্য বসবাস করতেন। বাড়ির বাইরে এবং উঠোনে পুরোনো টায়ার, ভাঙা খেলনা, হাই চেয়ারসহ ময়লার বিশাল স্তূপ জমে থাকতে দেখা গেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিশুদের দাদা-দাদি গ্যারি সাইডার্স সিনিয়র (৭৩) ও ক্রিস্টিনা সাইডার্স (৬৭) এবং বাবা-মা গ্যারি সাইডার্স জুনিয়র (৩৬) ও এলিজাবেথ সাইডার্সকে (৩৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আদালতে তাঁরা সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন অন্য একটি ঘটনার তদন্তে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে ঘটনাক্রমে এই শিশুদের সন্ধান পায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবারটি গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে ওহাইওর দক্ষিণাঞ্চলে বারবার স্থান পরিবর্তন করেছে, যাতে তাদের কোনো আইনি রেকর্ড না থাকে। উদ্ধার হওয়া শিশুদের কাউকেই কখনো স্কুলে ভর্তি করা হয়নি। এমনকি তাদের মধ্যে কয়েকজন ঠিকমতো কথা বলতে পারে না এবং সবচেয়ে বড় ১৮ বছর বয়সী তরুণীটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হওয়ায় নিজের নাম পর্যন্ত লিখতে অক্ষম। এমন অমানবিক ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দারা রীতিমতো হতবাক হয়ে গেছেন। প্রতিবেশী এমিলি কলিন্স বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ঘটনাটি তাদের চোখের সামনেই ঘটছিল, অথচ কেউ আগে এই শিশুদের সাহায্য করতে পারেনি। অন্যদিকে, শিশুদের মা এলিজাবেথের আইনজীবী থমাস স্টোলি দাবি করেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের দাবি অনুযায়ী তাঁর মক্কেলের মধ্যে তিনি কোনো 'অশুভ' বা বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব দেখেননি। তিনি জানান, মাত্র ১৫ বছর বয়সে এলিজাবেথের বিয়ে হয়েছিল এবং জেলে দেখা করার পর এলিজাবেথ প্রথমেই নিজের সন্তানদের খোঁজখবর জানতে চেয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।