এক দশক অপহৃত ছিলেন, পালিয়ে বেঁচে ফেরা আমান্ডার সহায়তায় নিখোঁজ ৭৯ শিশু উদ্ধার
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে এক মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানে নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা ৭৯ শিশুকে উদ্ধার করেছে ইউএস মার্শালস সার্ভিস। ‘অপারেশন মেরিডিয়ান’ নামে আগস্টজুড়ে চলা এই অভিযানকে কর্তৃপক্ষ ওহাইওর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে। উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স ৬ থেকে ১৭ বছর।
এই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষভাবে সহায়তা করেছেন আমান্ডা বেরি। ২০০৩ সালে ক্লিভল্যান্ডে অপহৃত হওয়ার পর প্রায় এক দশক বন্দি ছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে বন্দিদশা থেকে পালিয়ে বেরিয়ে আসেন এবং মুক্ত হন। এবার নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের অভিযানে যুক্ত হয়ে তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিটি শিশুকে নিজেদের সন্তানের মতো বিবেচনা করে উদ্ধারের আহ্বান জানান।
ইউএস মার্শালস জানিয়েছে, আগস্টজুড়ে চলা ‘অপারেশন মেরিডিয়ান’-এ ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করে। নিখোঁজ শিশুদের সন্ধানে তদন্তকারীরা ওহাইওর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও অন্য অঙ্গরাজ্য পর্যন্ত অনুসন্ধান চালান। কিছু শিশুর সন্ধান জর্জিয়া পর্যন্ত পাওয়া যায়।
উদ্ধার হওয়া শিশুদের অনেকেই বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ছিল। এসব মামলার মধ্যে মানবপাচারের আশঙ্কা, যৌন পাচার, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, অবহেলা এবং বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ছিল। শিশুদের উদ্ধারের পর তাদের চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও সামাজিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
অভিযানের সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনাগুলোর একটি ছিল ১৩ ও ১৬ বছর বয়সী দুই বোনকে উদ্ধার। ১৩ বছর বয়সী মেয়েটি ২০২৪ সালের জুলাই থেকে এবং ১৬ বছর বয়সী মেয়েটি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিল। তদন্তের পর ১৩ বছর বয়সী মেয়েটিকে লকবোর্নের একটি বাড়ির বেডরুমের আলমারির মেঝের নিচের গোপন জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে একই দিন কলম্বাসের একটি রেস্তোরাঁ থেকে ১৬ বছর বয়সী বোনকেও উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় দুই মেয়ের মাকে একটি পুরোনো প্রবেশন লঙ্ঘনের পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করা হয়। তবে শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে তদন্তও চলমান রয়েছে।
আরেক ঘটনায়, ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে টোলিডোতে উদ্ধার করা হয়। ওই কিশোরীকে আগে মানবপাচারের সম্ভাব্য শিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তদন্তের সূত্র ধরে তাকে এক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সঙ্গে খুঁজে পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা ও মূল্যায়ন করা হয়, আর ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সম্ভাব্য অপরাধ নিয়ে স্থানীয় তদন্ত চলছে।
ইউএস মার্শালসের কর্মকর্তারা বলছেন, নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ছিল অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ফেডারেল সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ, অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা এবং শিশু ও পরিবারসেবা বিভাগের কর্মকর্তারাও অভিযানে যুক্ত ছিলেন।
ইউএস মার্শাল পিট এলিয়ট বলেন, আমান্ডা বেরির সঙ্গে কাজ করতে পারা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বেরি অভিযানের আগে কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, প্রতিটি নিখোঁজ শিশুকে নিজেদের সন্তানের মতো বিবেচনা করতে।
আমান্ডা বেরির নিজের অভিজ্ঞতাই এই অভিযানের মানবিক দিকটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। দীর্ঘ বন্দিত্বের পর নিজে মুক্ত হয়ে এখন নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করছেন তিনি।
ইউএস মার্শালস জানিয়েছে, শিশুদের খুঁজে বের করা অভিযানের প্রথম ধাপ। উদ্ধার হওয়ার পর তাদের নিরাপদ পুনর্বাসন, মানসিক চিকিৎসা, পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে খাবারের সংকটে থাকা মানুষের জন্য বিনামূল্যে খাবার ও গ্রোসারি পাওয়ার বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। নিম্নআয়ের পরিবার, অভিবাসী, চাকরি হারানো ব্যক্তি কিংবা খাবারের প্রয়োজন থাকা অন্যরাও এসব খাদ্য সহায়তা কেন্দ্র থেকে সহায়তা নিতে পারেন। নিউইয়র্ক শহরের পাঁচটি বরোতেই রয়েছে ফুড প্যান্ট্রি, স্যুপ কিচেন ও মোবাইল ফুড প্যান্ট্রি। এসব জায়গায় চাল, পাস্তা, ক্যানজাত খাবার, সিরিয়াল, ফল, সবজি, হিমায়িত খাবারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়। কিছু কেন্দ্রে আবার বিনামূল্যে রান্না করা খাবারও পাওয়া যায়। নিজের এলাকার কাছাকাছি ফুড প্যান্ট্রি খুঁজতে নিউইয়র্ক শহরের ‘ফুড হেল্প এনওয়াইসি’ সেবা ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া ৩১১ নম্বরে ফোন করে ‘ফুড প্যান্ট্রিজ’ বললেও কাছাকাছি খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রের তথ্য পাওয়া যায়। নিউইয়র্ক শহরের পাঁচটি বরোতে সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত ‘নিয়ন নিউট্রিশন কিচেন’-এর পাঁচটি কেন্দ্র বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে সংরক্ষণযোগ্য খাবার দেওয়া হয়। শুধু প্রবেশনের আওতায় থাকা ব্যক্তিরাই নন, সরকারি তথ্য অনুযায়ী কমিউনিটির যে কেউ এসব কেন্দ্রে খাদ্য সহায়তা চাইতে পারেন। ব্রঙ্কন: নিয়ন নিউট্রিশন কিচেন ঠিকানা: ১৯৮ ইস্ট ১৬১স্ট স্ট্রিট, ব্রঙ্কন, নিউইয়র্ক ১০৪৫১ সময়: মঙ্গলবার, বুধবার ও শুক্রবার, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা। সেবা: বিনামূল্যে সংরক্ষণযোগ্য খাদ্যসামগ্রী। ব্রুকলিন: নিয়ন নিউট্রিশন কিচেন ঠিকানা: ৩৪৫ অ্যাডামস স্ট্রিট, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক ১১২০১ সময়: সোমবার, বুধবার ও শুক্রবার, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা। সেবা: বিনামূল্যে গ্রোসারি ও খাদ্যসামগ্রী। ম্যানহাটন: নিয়ন নিউট্রিশন কিচেন ঠিকানা: ১২৭ ওয়েস্ট ১২৭থ স্ট্রিট, নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক ১০০২৭ সময়: বুধবার ও শুক্রবার, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা। সেবা: বিনামূল্যে সংরক্ষণযোগ্য খাবার। কুইন্স: নিয়ন নিউট্রিশন কিচেন ঠিকানা: ১৬২-২৪ জামাইকা অ্যাভিনিউ, জামাইকা, নিউইয়র্ক ১১৪৩২ সময়: মঙ্গলবার, বুধবার ও শুক্রবার, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা। সেবা: বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তা। স্ট্যাটেন আইল্যান্ড: নিয়ন নিউট্রিশন কিচেন ঠিকানা: ৩৪০ বে স্ট্রিট, স্ট্যাটেন আইল্যান্ড, নিউইয়র্ক ১০৩০১ সময়: সোমবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা। সেবা: বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী। তবে নিউইয়র্কে বিনামূল্যে খাবার পাওয়ার সুযোগ শুধু এই পাঁচটি কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ নয়। ফুড ব্যাংক ফর নিউইয়র্ক সিটি-এর বর্তমান ডিরেক্টরি অনুযায়ী, শহরে প্রায় ৮০০টি স্থানে বিনামূল্যে গ্রোসারি, রান্না করা খাবার ও এসএনএপি-সংক্রান্ত সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। প্রতিটি কেন্দ্রের নিয়ম, সময়সূচি ও খাবারের ধরন এক নয়। কোনো কোনো জায়গায় খাবার শেষ হয়ে গেলে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিতরণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ম্যানহাটন: নিউইয়র্ক কমন প্যান্ট্রি ঠিকানা: ৮ ইস্ট ১০৯থ স্ট্রিট, নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক ১০০২৯ সেবা: খাদ্য সহায়তা ও গ্রোসারি। ম্যানহাটন: ওয়েস্ট সাইড ক্যাম্পেইন এগেইনস্ট হাঙ্গার ঠিকানা: ২৬৩ ওয়েস্ট ৮৬থ স্ট্রিট, নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক ১০০২৪ সেবা: খাদ্য সহায়তা। ম্যানহাটন: ট্রিনিটি’স সার্ভিসেস অ্যান্ড ফুড ফর দ্য হোমলেস ঠিকানা: ৬০২ ইস্ট ৯থ স্ট্রিট, নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক ১০০০৯ সেবা: রান্না করা খাবারসহ খাদ্য সহায়তা। ব্রুকলিন: রিচিং আউট কমিউনিটি সার্ভিসেস ঠিকানা: ৬৪১৭ ১৮থ অ্যাভিনিউ, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক ১১২০৪ সেবা: খাদ্য সহায়তা ও গ্রোসারি। স্থায়ী ফুড প্যান্ট্রি কাছে না থাকলে মোবাইল ফুড প্যান্ট্রিও হতে পারে বিকল্প। ফুড ব্যাংক ফর নিউইয়র্ক সিটির মোবাইল প্যান্ট্রিগুলোতে মৌসুমি তাজা ফল ও সবজি, প্রয়োজনীয় সংরক্ষণযোগ্য খাবার এবং হিমায়িত প্রোটিনজাত খাবার বিতরণ করা হয়। এসব কার্যক্রম নির্দিষ্ট দিন ও নির্দিষ্ট স্থানে অনুষ্ঠিত হয়। ব্রঙ্কন: মোবাইল ফুড প্যান্ট্রি ঠিকানা: ১০২৫ মরিসন অ্যাভিনিউ এবং ১৩০ ওয়েস্ট কিংসব্রিজ রোড। সেবা: তাজা ফল-সবজি, সংরক্ষণযোগ্য খাবার ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী। সময়সূচি: সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রকাশিত সূচিতে এসব স্থানে বিতরণের সময় উল্লেখ রয়েছে। কুইন্স: মোবাইল ফুড প্যান্ট্রি ঠিকানা: ৩৩-৩৪ ৭৭থ স্ট্রিট, কুইন্স। সেবা: বিভিন্ন ধরনের বিনামূল্যের খাদ্যসামগ্রী। তবে মোবাইল প্যান্ট্রির ঠিকানা ও সময়সূচি নিয়মিত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাওয়ার আগে সর্বশেষ ক্যালেন্ডার দেখে নেওয়া জরুরি। ব্রঙ্কন: কমিউনিটি প্যান্ট্রি ও ফ্রিজ ঠিকানা: ৫৭১ ইস্ট ১৪১স্ট স্ট্রিট, ব্রঙ্কন, নিউইয়র্ক ১০৪৫৪। সেবা: স্থানীয়ভাবে পাওয়া খাবার প্রয়োজন অনুযায়ী নেওয়ার সুযোগ। নিউইয়র্কের কিছু এলাকায় কমিউনিটি রেফ্রিজারেটর ও কমিউনিটি প্যান্ট্রিও রয়েছে। তবে এসব জায়গায় খাবারের সরবরাহ, ব্যবহারের নিয়ম ও কার্যক্রম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই অনলাইন তালিকা দেখে যাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়া ভালো। এসএনএপি ব্যবহারকারীদের জন্য: ‘গেট দ্য গুড স্টাফ’ নিউইয়র্কে এসএনএপি বা ইবিটি সুবিধাভোগীদের জন্য ‘গেট দ্য গুড স্টাফ’ নামে আলাদা একটি কর্মসূচিও রয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট সুপারমার্কেটে এসএনএপি বা ইবিটি দিয়ে যোগ্য ফল, সবজি ও বিনস কিনলে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত অতিরিক্ত সমপরিমাণ সুবিধা পাওয়া যায়। এই সুবিধার আওতায় তাজা ফল ও সবজির পাশাপাশি কিছু হিমায়িত ও ক্যানজাত পণ্য এবং বিনস রয়েছে। তবে এটি ফুড প্যান্ট্রি থেকে সরাসরি বিনামূল্যে খাবার পাওয়ার ব্যবস্থা নয়। এসএনএপি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট খাবার কেনার পর অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়ার একটি কর্মসূচি। খাবারের সহায়তা কোথায় খুঁজবেন? নিউইয়র্কে খাবারের প্রয়োজন হলে নিজের এলাকার সবচেয়ে কাছের ফুড প্যান্ট্রি বা স্যুপ কিচেন খুঁজতে ‘ফুড হেল্প এনওয়াইসি’ ব্যবহার করা যায়। ৩১১ নম্বরে ফোন করেও খাদ্য সহায়তার তথ্য নেওয়া যায়। এ ছাড়া ফুড ব্যাংক ফর নিউইয়র্ক সিটির ‘ফাইন্ড ফুড’ ডিরেক্টরিতে বরো ও এলাকার ভিত্তিতে ফুড প্যান্ট্রি, রান্না করা খাবার এবং মোবাইল প্যান্ট্রির তথ্য পাওয়া যায়। তাদের ডিরেক্টরিতে বর্তমানে প্রায় ৮০০টি স্থানের তথ্য রয়েছে। তবে কোনো কেন্দ্রে যাওয়ার আগে সময়সূচি, খাবারের ধরন, যোগ্যতার শর্ত এবং বিতরণের নিয়ম জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে মোবাইল প্যান্ট্রিতে খাবার সরবরাহ শেষ হয়ে গেলে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিতরণ বন্ধ হতে পারে। কিছু কেন্দ্রে নাম নিবন্ধন করতে হতে পারে এবং কোথাও পরিচয় বা স্থানীয় ঠিকানার তথ্য চাওয়া হতে পারে। আবার কিছু কমিউনিটি প্যান্ট্রি সবার জন্য উন্মুক্ত। তাই নিউইয়র্কে বিনামূল্যে খাবার বা গ্রোসারি নিতে চাইলে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
‘এআই মানুষকে শেষ করে দিতে পারে’, আশঙ্কায় অ্যানথ্রপিক গবেষকের পদত্যাগ
‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’! বিদেশির চেয়ে দেশের উগ্রপন্থীদের বেশি ভয় মার্কিনদের
এক দশক অপহৃত ছিলেন, পালিয়ে বেঁচে ফেরা আমান্ডার সহায়তায় নিখোঁজ ৭৯ শিশু উদ্ধার
‘চাঁদ আমাদের’—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে চাঁদের ছবি ও মার্কিন পতাকার সঙ্গে একটি পোস্ট শেয়ার করেন ট্রাম্প। সেখানে ‘দ্য মুন ইজ আওয়ার্স’ বা ‘চাঁদ আমাদের’ লেখা ছিল। ট্রাম্পের এই পোস্ট সামনে আসার পরই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সম্প্রতি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে বেশ কয়েকটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি পোস্ট প্রকাশ করেছেন। চাঁদের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী নিয়েও আমেরিকার মালিকানার ইঙ্গিত দেওয়া পোস্ট করেছেন তিনি। তবে চাঁদ কোনো দেশের মালিকানাধীন নয়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইন অনুযায়ী, কোনো দেশ চাঁদ বা অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তুর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করতে পারে না। ফলে ট্রাম্পের ‘চাঁদ আমাদের’ মন্তব্যটি বাস্তব মালিকানার দাবি নাকি রাজনৈতিক বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট—তা নিয়েই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের এমন মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন স্থান ও ভৌগোলিক নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছে। এর আগে মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নেয় ট্রাম্প প্রশাসন। কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যেই লেক ওন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এবার সেই বিতর্কের সঙ্গে যেন নতুন করে যুক্ত হলো চাঁদ। একই সময়ে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম বদলে ‘নিউ আমেরিকা’ করার প্রস্তাবও দেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, অনেকেই নাকি এমন নাম পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেন নিউ মেক্সিকোর গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশাম। তিনি বলেন, অঙ্গরাজ্যটির নাম নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। এমনকি ‘নিউ মেক্সিকো’ নামটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্বেরও আগের। ট্রাম্পের ধারাবাহিক নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নিউ মেক্সিকোর গভর্নরের মতে, এ ধরনের প্রস্তাবের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সমস্যা থেকে নজর সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির মতো বিষয়ও রয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালীর নাম বদলে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে অবশ্য তিনি এ বিষয়ে কতটা সিরিয়াস ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সব মিলিয়ে ‘চাঁদ আমাদের’ পোস্টটি এখন শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্য, তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক অবস্থান—সব মিলিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে চাঁদ নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য।
অবসরের জন্য সেরা ছোট শহরের তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়া নেই, এগিয়ে পেনসিলভানিয়া
নিরাপত্তার জন্য গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির বেশি দাম দিতেও রাজি অর্ধেক আমেরিকানরা
আইসিই এজেন্টদের হাতে আসছে ‘শক গ্লাভস’! নিষিদ্ধ করতে কংগ্রেসে নতুন বিল
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারী ন্যাটালি হার্পকে ৪৫ হাজার ডলার নগদ উপহার দিয়েছেন। বার্ষিক আর্থিক বিবরণীতে হার্প এই অর্থকে ছুটির উপহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই পরিমাণ অর্থ ট্রাম্পের যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা মার্গো মার্টিন ও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা চেম্বারলেইন হ্যারিসও পেয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের সরকারি বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এছাড়া ওভাল অফিস পরিচালনা বিভাগের পরিচালক ওয়াল্ট নাউটাকে ২০ হাজার ডলার উপহার দিয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস বলেছে, ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অভ্যাস অনুযায়ী তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের ক্রিসমাস উপহার দেওয়ার অংশ হিসেবেই এসব অর্থ দেওয়া হয়েছে। উপহারগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সরকারি দায়িত্বের কোনো সম্পর্ক নেই এবং প্রযোজ্য আইন ও নৈতিকতার মানদণ্ড অনুযায়ী এগুলো সম্পূর্ণ বৈধ বলেও দাবি করেছে প্রশাসন। তবে বিষয়টি নিয়ে নৈতিকতা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক হোয়াইট হাউস এথিকস আইনজীবী রিচার্ড পেইন্টার বলেছেন, সরকারি কর্মীদের বেতন বাইরের কোনো উৎস থেকে বাড়তি অর্থ দিয়ে সম্পূরক করার ওপর ফেডারেল আইনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাঁর মতে, এই অর্থ সেই আইনের আওতায় পড়তে পারে। অন্যদিকে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সরকারি নৈতিকতা দপ্তরের পরিচালক ডন ফক্স বলেছেন, পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে এত বড় অঙ্কের উপহার কর্মীদের প্রেসিডেন্টের প্রতি দায়বদ্ধ বা ঋণী করে তুলতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে হার্প সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ নজরে রয়েছেন। তিনি প্রায়ই ট্রাম্পের পাশে থাকেন এবং প্রেসিডেন্টের জন্য সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট প্রিন্ট করে দেওয়ার কারণে হোয়াইট হাউসে হিউম্যান প্রিন্টার নামেও পরিচিত।
ডিএনএ তথ্য কারচুপির দায়ে সাবেক ফরেনসিক বিশ্লেষকের ১০ বছরের জেল
বেশি ছুটি নেওয়ায় গর্ভবতী কর্মীদের চাকরিচ্যুত করল অ্যামাজন, দেয়নি বাথরুমের বিরতিও