আমেরিকা

টেক্সাসের হোটেল কক্ষে দুই শিশুকে গুলি করে হত্যার পর আত্মহত্যা মায়ের, তদন্তে হিউস্টন পুলিশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ১৯:৪৩
দুই শিশুকে গুলি করে হত্যার পর আত্মহত্যা মায়ের I ছবি: সংগৃহীত
দুই শিশুকে গুলি করে হত্যার পর আত্মহত্যা মায়ের I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি মলমূত্র পূর্ণ ও চরম অপরিচ্ছন্ন বাড়ি থেকে ১৬ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের সময় অবহেলিত এই শিশুদের অবস্থা অনেকটা বন্য প্রাণীর মতো দেখাচ্ছিল বলে জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির শীর্ষ প্রসিকিউটর। ১ থেকে ১৮ বছর বয়সী এই শিশুদের গত চার বছর ধরে মূলত ১২ বাই ১২ ফুটের একটি ছোট ঘরে বন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছিল, যা মানববর্জ্যে পরিপূর্ণ ছিল। এই ভয়াবহ ঘটনাটিকে ওহাইওর অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যালান উইলসন ‘খাঁটি অশুভ’ বা ‘পিওর ইভিল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

 

নতুন প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, বাড়িটির ভেতরে এতটাই দুর্গন্ধ ও আবর্জনা ছিল যে তদন্তকারীদের মাস্ক পরে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছিল। এমনকি ময়লার স্তূপের কারণে তারা বাড়িটির অনেক অংশে পৌঁছাতেই পারেননি। ভিনটন কাউন্টির সম্পত্তির রেকর্ড অনুযায়ী, মাত্র ১ হাজার ৩৩৬ বর্গফুটের ওই বাড়িতে পাঁচটি কক্ষ এবং একটিমাত্র বাথরুম ছিল, যেখানে পরিবারের মোট ২০ জন সদস্য বসবাস করতেন। বাড়ির বাইরে এবং উঠোনে পুরোনো টায়ার, ভাঙা খেলনা, হাই চেয়ারসহ ময়লার বিশাল স্তূপ জমে থাকতে দেখা গেছে।

 

এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিশুদের দাদা-দাদি গ্যারি সাইডার্স সিনিয়র (৭৩) ও ক্রিস্টিনা সাইডার্স (৬৭) এবং বাবা-মা গ্যারি সাইডার্স জুনিয়র (৩৬) ও এলিজাবেথ সাইডার্সকে (৩৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আদালতে তাঁরা সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন অন্য একটি ঘটনার তদন্তে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে ঘটনাক্রমে এই শিশুদের সন্ধান পায়।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবারটি গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে ওহাইওর দক্ষিণাঞ্চলে বারবার স্থান পরিবর্তন করেছে, যাতে তাদের কোনো আইনি রেকর্ড না থাকে। উদ্ধার হওয়া শিশুদের কাউকেই কখনো স্কুলে ভর্তি করা হয়নি। এমনকি তাদের মধ্যে কয়েকজন ঠিকমতো কথা বলতে পারে না এবং সবচেয়ে বড় ১৮ বছর বয়সী তরুণীটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হওয়ায় নিজের নাম পর্যন্ত লিখতে অক্ষম।

 

এমন অমানবিক ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দারা রীতিমতো হতবাক হয়ে গেছেন। প্রতিবেশী এমিলি কলিন্স বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ঘটনাটি তাদের চোখের সামনেই ঘটছিল, অথচ কেউ আগে এই শিশুদের সাহায্য করতে পারেনি। অন্যদিকে, শিশুদের মা এলিজাবেথের আইনজীবী থমাস স্টোলি দাবি করেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের দাবি অনুযায়ী তাঁর মক্কেলের মধ্যে তিনি কোনো 'অশুভ' বা বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব দেখেননি। তিনি জানান, মাত্র ১৫ বছর বয়সে এলিজাবেথের বিয়ে হয়েছিল এবং জেলে দেখা করার পর এলিজাবেথ প্রথমেই নিজের সন্তানদের খোঁজখবর জানতে চেয়েছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
মিশিগানের মলে গুলির ঘটনা, তদন্তে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানের শপিং মলে পরিচিত দুই পক্ষের বিরোধ মুহূর্তেই রূপ নেয় প্রাণঘাতী গোলাগুলিতে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিয়ারবর্ন শহরের একটি জনপ্রিয় শপিং মলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ গুলিবর্ষণে রূপ নিলে দুইজন নিহত এবং আরও একজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেলে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় আতঙ্কে ক্রেতা ও কর্মচারীরা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে মল থেকে বেরিয়ে যান।   ডিয়ারবর্ন পুলিশ জানিয়েছে, শহরের ফেয়ারলেন টাউন সেন্টার শপিং মলে পরিচিত দুই পক্ষের একদল তরুণের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। পরে সেটি মারামারিতে রূপ নেয় এবং একপর্যায়ে উভয় পক্ষ থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়।   ডিয়ারবর্ন পুলিশের প্রধান ইসা শাহিন সাংবাদিকদের বলেন, এটি কোনো এলোমেলো বা উদ্দেশ্যহীন হামলা ছিল না। সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিরা একে অপরের পরিচিত ছিলেন। মলে দেখা হওয়ার পর তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত গুলিবর্ষণে গড়ায়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সংঘর্ষে জড়িত উভয় পক্ষের কাছেই হ্যান্ডগান ছিল।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ দুইজনের একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপরজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত তৃতীয় ব্যক্তির পরিচয় বা শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   গুলির শব্দ ছড়িয়ে পড়তেই পুরো শপিং মলে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। শত শত মানুষ দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় মল থেকে বের হওয়ার সময় একজন পথচারী একটি গাড়ির ধাক্কায় আহত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তিনি গুলিবিদ্ধ ছিলেন না।   ঘটনার পরপরই ফেয়ারলেন টাউন সেন্টার খালি করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মলটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডিয়ারবর্ন পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে গুলির শব্দ শোনার পর মানুষকে দৌড়ে শপিং মল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। যদিও এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   মিশিগান অঙ্গরাজ্য পুলিশের স্পেশালিস্ট লেফটেন্যান্ট টাইরান হাওয়ার্ড জানান, রাজ্য পুলিশ তদন্তে ডিয়ারবর্ন পুলিশকে সহায়তা করছে। ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে তিনি স্থানীয় পুলিশের বক্তব্যের দিকেই ইঙ্গিত করেন। ফেয়ারলেন টাউন সেন্টার ডেট্রয়েটের পশ্চিমে অবস্থিত ডিয়ারবর্ন শহরের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র। মলটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এখানে ১২৫টিরও বেশি দোকান ও রেস্তোরাঁ রয়েছে এবং প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে কেনাকাটা করতে আসেন।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সময় প্রতিবছরই বন্দুক-সহিংসতার ঘটনা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে ৫০০টিরও বেশি গুলির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। এমন প্রেক্ষাপটে এবারের ঘটনাও নতুন করে জননিরাপত্তা ও অস্ত্র সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ২০:৩৫
দুই শিশুকে গুলি করে হত্যার পর আত্মহত্যা মায়ের I ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসের হোটেল কক্ষে দুই শিশুকে গুলি করে হত্যার পর আত্মহত্যা মায়ের, তদন্তে হিউস্টন পুলিশ

মেক্সিকোর নাগরিক আইরিস রিয়াল-বেসেরা I ছবি: সংগৃহীত

জেল থেকে বেরিয়েই ফের আটক, ফেন্টানিল পাচারে দণ্ডিত নারীকে হেফাজতে নিল আইস

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে এক ঘরে বন্দি ১৬ শিশু, দেখে শিউরে উঠলেন তদন্তকারীরা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
সান্তা ক্লারিটায় এশীয় প্রতিবেশীর প্রতি ভয়ংকর বর্ণবাদী গালিগালাজ, ভিডিও ভাইরাল

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান্তা ক্লারিটায় রাস্তায় গাড়ি চালানোকে কেন্দ্র করে এক এশীয় বংশোদ্ভূত প্রতিবেশীর ওপর জঘন্য বর্ণবাদী মন্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক বয়স্ক নারী অপর গাড়ির চালককে উদ্দেশ্য করে চরম বর্ণবাদী গালিগালাজ করছেন এবং তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে এশিয়ায় ফিরে যাওয়ার কথা বলছেন। ইন্টারনেটে ক্ষিপ্ত নেটিজেনরা ওই নারীকে অহংকারী ও বর্ণবাদী আচরণের জন্য 'ক্যারেন' (Karen) আখ্যা দিয়েছেন।   অনলাইনে এলেইন লাফোর্জ নামে শনাক্ত হওয়া ওই নারী ভিডিওতে চিৎকার করে বলছিলেন, "তুমি এশিয়ায় ফিরে যাচ্ছো না কেন? এশিয়ায় ফিরে যাও এবং গিয়ে রিকশা চালাও।" ভুক্তভোগী নারী, যিনি ভিডিওটি ধারণ করছিলেন, তাঁকে ক্যামেরায় দেখা যায়নি। তবে তিনি জানান, বাড়ি ফেরার পথে লাফোর্জ দ্রুতগতিতে তাঁর গাড়িটি অতিক্রম করেন এবং এরপরই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।   এমনকি রেকর্ডিং শুরুর আগে ওই নারী আঙুল দিয়ে 'এশীয় চোখ' ভেংচি কাটছিলেন বলেও ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন। ভিডিওতে ভুক্তভোগী নারীকে বলতে শোনা যায়, তিনিও একই শেফিল্ড এবং অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আশপাশের এলাকায় থাকেন এবং তিনি অভিযুক্তের গাড়ির লাইসেন্স প্লেটের ছবি তুলে রেখেছেন।   ভুক্তভোগী নারী পরবর্তীতে ২ মিলিয়নের বেশি ফলোয়ার থাকা ইনস্টাগ্রাম ক্রিয়েটর মাইকেল ম্যাকহোর্টারের কাছে ভিডিওটি শেয়ার করেন। ম্যাকহোর্টার নিয়মিত এ ধরনের সামাজিক সংঘাতের ভিডিও প্রকাশ করে থাকেন। ভুক্তভোগী তাঁকে জানান, প্রথমে অভিযুক্ত নারী তাঁর পেছনে থাকলেও পরে সামনে এসে পাগলের মতো আচরণ শুরু করেন এবং রাস্তার মাঝে বারবার ব্রেক কষতে থাকেন।   নিজের বাড়ির ঠিকানা গোপন রাখতে তিনি ওই সময় বাড়ির সামনে দিয়ে না থেমে গাড়ি চালিয়ে চলে যান। এদিকে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সান্তা ক্লারিটার স্থানীয় বাসিন্দা ও নেটিজেনরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ম্যাকহোর্টার নিজেও এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, এ ধরনের ঘৃণ্য ও বর্ণবাদী আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ১৮:৩৬
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

স্ন্যাপচ্যাটে শিক্ষার্থীদের কাছে অশালীন ছবি-ভিডিও পাঠানোর অভিযোগে স্কুল কাউন্সিলর গ্রেপ্তার

বার্নি স্যান্ডার্স  ও ড. আবদুল এল-সায়েদক I ছবি: সংগৃহীত

মিশিগান সিনেট নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীর পাশে বার্নি স্যান্ডার্স, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোটি ডলার ব্যয়ের অভিযোগ

অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে ১৫ বছরের শিক্ষার্থীর শোবার ঘর পরিদর্শন I ছবি: সংগৃহীত

অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে ১৫ বছরের শিক্ষার্থীর শোবার ঘর পরিদর্শন; টেক্সাসে স্কুলপ্রধানকে ঘিরে বিতর্ক

ছবি: চিকিৎসক দম্পতি ডা. টেসফায়ে টেলিলা ও ডা. অবসিনেট মেরিড। (সংগৃহীত)
নিজ দেশের হাজারো হৃদরোগীর জীবন বাঁচাতে ২৬ লাখ ডলারের চিকিৎসা সামগ্রী পাঠালেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী দুই চিকিৎসক

নিজেদের জন্মভূমির হাজারো হৃদরোগীর জীবন বাঁচাতে ২৬ লাখ ডলার মূল্যের আধুনিক চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী দুই চিকিৎসক। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে কর্মরত এই চিকিৎসক দম্পতি তাদের অলাভজনক সংস্থা Heart Attack Ethiopia-এর মাধ্যমে ইথিওপিয়ায় জীবনরক্ষাকারী হৃদরোগ চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠাচ্ছেন।   এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পিডমন্ট হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. টেসফায়ে টেলিলা এবং মোরহাউস স্কুল অব মেডিসিনের শিক্ষক ডা. অবসিনেট মেরিড। দুজনই ইথিওপিয়ায় জন্মগ্রহণ করলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য, নিজ দেশের মানুষকে উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়া। তাদের এই মিশনে প্রায় ২৬ লাখ ডলার মূল্যের কার্ডিয়াক ক্যাথেটার, অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম ইথিওপিয়ায় নেওয়া হচ্ছে।   চিকিৎসক দম্পতির প্রতিষ্ঠিত সংস্থা Heart Attack Ethiopia জানিয়েছে, এটি তাদের পঞ্চম মানবিক চিকিৎসা মিশন। এবার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী এতে অংশ নিচ্ছেন। তারা ইথিওপিয়ায় গিয়ে প্রায় ২০০ জন রোগীর হৃদরোগের জটিল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা দেবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় চিকিৎসকদের উন্নত প্রশিক্ষণও প্রদান করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে দেশটি নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে।   ডা. টেসফায়ে টেলিলা জানান, ইথিওপিয়ায় পর্যাপ্ত হৃদরোগ চিকিৎসা না পাওয়ায় তার এক নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই তাকে এই উদ্যোগ নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যে চিকিৎসা সহজলভ্য, ইথিওপিয়ায় এখনো তা অনেক মানুষের নাগালের বাইরে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথিওপিয়ায় এটি কোনো যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত সংকট নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, কার্ডিয়াক সার্জন এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। ফলে হাজারো রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকেন এবং অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে প্রাণ হারান।   চিকিৎসক দম্পতি আশা প্রকাশ করেছেন, এই মানবিক উদ্যোগ শুধু তাৎক্ষণিকভাবে শত শত রোগীর জীবন বাঁচাতেই নয়, বরং ভবিষ্যতে ইথিওপিয়ার হৃদরোগ চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ১৩:৫৯
রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল I ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে ১৬টি গুরুতর অভিযোগ

ছবি: অভিযুক্ত সৎমা মেলিসা গুডম্যান (সংগ্রহীত)

যুক্তরাষ্ট্রে সৎমায়ের নির্যাতনে ১৪ বছরের কিশোরীর ওজন নেমে আসে ১৬ কেজিতে, কিশোরীর বক্তব্যে কেঁদে ওঠে আদালত

ছবি: তিন ডেপুটির গুলির বডিক্যাম ভিডিও (সংগৃহীত)

ফ্লোরিডায় এক নারীকে লক্ষ্য করে তিন ডেপুটির গুলি,সমালোচনার মুখে এক মাস পর প্রকাশ্যে বডিক্যাম ভিডিও

0 Comments