আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে হাসপাতালের টয়লেটে গোপনে নারীদের ভিডিও ধারণ, ভারতীয় চিকিৎসকের কারাদণ্ড

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ২০:৪৪
আদালতের রায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১৫ বছর যৌন অপরাধীর তালিকায় থাকার নির্দেশ পান অদ্বৈত দেশমুখ। ছবি: সংগৃহীত
আদালতের রায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১৫ বছর যৌন অপরাধীর তালিকায় থাকার নির্দেশ পান অদ্বৈত দেশমুখ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি হাসপাতালে সহকর্মী নারীদের ব্যবহৃত টয়লেটে গোপনে ক্যামেরা স্থাপন করে ভিডিও ও ছবি ধারণের অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক চিকিৎসককে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১৫ বছরের জন্য যৌন অপরাধীর তালিকাভুক্ত (Sex Offender Registry) থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত চিকিৎসকের নাম অদ্বৈত দেশমুখ। তিনি ওহাইওর টোলেডো শহরের একটি হাসপাতালের এন্ডোউরোলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের রেসিডেন্ট চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গত জুনে লুকাস কাউন্টি কমন প্লিজ কোর্টের বিচারক মাইকেল গোল্ডিং এ রায় দেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, অদ্বৈত দেশমুখের বিরুদ্ধে নজরদারির উদ্দেশ্যে গোপনে ভিডিও ধারণ (ভয়রিজম) এবং প্রমাণ নষ্ট বা লোপাটের চেষ্টাসহ মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল।

 

আদালতে তিনি অভিযোগ স্বীকার করলে বিচারক তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড, তিন বছরের প্রবেশন এবং যৌন আচরণ সংশোধনমূলক সহায়তা কর্মসূচি সেক্সাহোলিকস অ্যানোনিমাস-এর সেশনে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া ভবিষ্যতে তিনি অন্য কাউন্টিতে বসবাস করলেও আদালতের আরোপিত শর্ত ও চিকিৎসা কার্যক্রম বহাল থাকবে।

রায় ঘোষণার আগে আদালতে দাঁড়িয়ে অদ্বৈত দেশমুখ নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য বিচারক ও ভুক্তভোগীদের কাছে ক্ষমা চান। তার আইনজীবী কারাদণ্ডের পরিবর্তে কেবল প্রবেশনে রাখার আবেদন জানালেও আদালত তা গ্রহণ করেননি।

 

মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনাটির সূত্রপাত ২০২৫ সালের জুনে। টোলেডো হাসপাতালের রেনেসাঁ টাওয়ারের একটি কমন টয়লেটে একটি বাক্সের ভেতরে লুকিয়ে রাখা ডিজিটাল ক্যামেরা দেখতে পান এক কর্মী। তিনি সেটি সরানোর চেষ্টা করলে অদ্বৈত দেশমুখ ক্যামেরাটি নিয়ে নেন এবং সেটি নিজের বলে দাবি করেন। এই ঘটনাই পরবর্তীতে তদন্তের সূচনা করে।

 

পরবর্তীতে প্রোমেডিকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও টোলেডো পুলিশের যৌথ তদন্তে চিকিৎসকের মোবাইল ফোন থেকে ৮২টি গোপনে ধারণ করা ছবি উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিগুলো ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে হাসপাতালের টয়লেটে গোপনে ধারণ করা হয়েছিল।

তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করে। পরে আদালতে তিনি অপরাধ স্বীকার করলে বিচারক কারাদণ্ডের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও নিবন্ধনের নির্দেশ দেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং সম্মতি ছাড়া গোপনে ছবি বা ভিডিও ধারণের মতো অপরাধকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কর্মক্ষেত্রের মতো সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
আমেরিকায় জীবন সহজ করবে যে ৫ ফ্রি রিসোর্স
আমেরিকায় জীবন সহজ করবে যে ৫ ফ্রি রিসোর্স, অনেকেই জানেন না

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করার পর প্রথম তিন মাস সাধারণত বাসা, চাকরি, পরিবহন, ভাষা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সামলাতেই কেটে যায়। অথচ এই সময়েই আশপাশে থাকা কয়েকটি বিনামূল্যের বা স্বল্প খরচের কমিউনিটি সেবা কাজে লাগালে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া অনেক সহজ হতে পারে।   ‘প্রথম ৯০ দিন’ কোনো সরকারি সময়সীমা নয়। তবে নতুন অভিবাসীদের পরিকল্পনা গুছিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক সময়। এসব সেবা সরাসরি নগদ সহায়তা নয়; বরং চাকরি খোঁজা, ইংরেজি শেখা, ডিজিটাল সুবিধা ব্যবহার, স্থানীয় সহায়তার সন্ধান এবং ছোট ব্যবসা শুরু করার মতো বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়।   ১. পাবলিক লাইব্রেরি: বইয়ের বাইরেও নানা সুবিধা   যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক লাইব্রেরিগুলো শুধু বই পড়া বা ধার নেওয়ার জায়গা নয়। বেশিরভাগ পাবলিক লাইব্রেরিতে ইন্টারনেট ও কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। অনেক শাখায় প্রিন্টিং, স্ক্যানিং, চাকরির আবেদন, জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা এবং শিশুদের পড়াশোনায় সহায়তার মতো সেবাও দেওয়া হয়।   ইনস্টিটিউট অব মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি সার্ভিসেসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৯৯ শতাংশের বেশি পাবলিক লাইব্রেরিতে ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে। বিভিন্ন এলাকার লাইব্রেরিতে ইংরেজি কথোপকথন, নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতি, চাকরি অনুসন্ধান এবং ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচিও চালু থাকে। তবে সব শাখায় একই ধরনের সেবা পাওয়া যায় না।    অনেক লাইব্রেরির সদস্যরা লিবির মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ই-বুক ও অডিওবুক ধার নিতে পারেন। লাইব্রেরি কার্ড করার নিয়ম শহর ও কাউন্টিভেদে আলাদা। সাধারণত পরিচয়পত্র ও স্থানীয় ঠিকানার প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। কোথাও অস্থায়ী বাসিন্দা বা এলাকার বাইরের মানুষের জন্য আলাদা কার্ডের ব্যবস্থাও থাকে।   ২. আমেরিকান জব সেন্টার: চাকরি খোঁজার সরকারি সহায়তা   ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের সমন্বয়ে পরিচালিত আমেরিকান জব সেন্টারগুলো চাকরিপ্রার্থীদের বিনামূল্যে বিভিন্ন সহায়তা দেয়। দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০টি জব সেন্টার রয়েছে। তবে প্রতিটি কাউন্টিতে একটি করে সেন্টার আছে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কাছের কেন্দ্রটি শহর, অঙ্গরাজ্য বা জিপ কোড দিয়ে খুঁজে নিতে হয়।   এসব কেন্দ্রে চাকরির তালিকা দেখা, কম্পিউটার ব্যবহার, জীবনবৃত্তান্ত তৈরি বা পর্যালোচনা, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, স্থানীয় শ্রমবাজার সম্পর্কে ধারণা এবং পেশাগত প্রশিক্ষণের তথ্য পাওয়া যায়। অনেক সেন্টারে ক্যারিয়ার কাউন্সেলর চাকরিপ্রার্থীর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে উপযুক্ত কাজ বা প্রশিক্ষণের পথ দেখান।    তবে ওশা, ফর্কলিফট বা অন্য কোনো পেশাগত প্রশিক্ষণ সব জব সেন্টারে সরাসরি ও বিনামূল্যে দেওয়া হয় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেন্টার শুধু অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তথ্য দেয়। প্রশিক্ষণের খরচ বহনের সহায়তা পাওয়া যাবে কি না, তা আবেদনকারীর যোগ্যতা, স্থানীয় কর্মসূচি ও তহবিলের ওপর নির্ভর করে।   ৩. অ্যাডাল্ট এডুকেশন: ইংরেজি ও সমমানের সনদের প্রস্তুতি   নতুন অভিবাসীদের জন্য কমিউনিটি কলেজ, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট, লাইব্রেরি এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের অ্যাডাল্ট এডুকেশন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হতে পারে। এসব কর্মসূচিতে ইংরেজি ভাষা, পড়া-লেখা, গণিত, কম্পিউটার দক্ষতা এবং হাইস্কুল সমমানের পরীক্ষার প্রস্তুতি দেওয়া হয়।   ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন জানিয়েছে, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অ্যাডাল্ট এডুকেশন কর্মসূচি প্রাপ্তবয়স্কদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, মৌলিক শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে। স্থানীয় কমিউনিটি কলেজ, লাইব্রেরি বা মানবসেবা দপ্তর থেকে এসব কর্মসূচির তথ্য পাওয়া যেতে পারে।   হাইস্কুল সমমানের পরীক্ষাকে সব জায়গায় শুধু জিইডি বলা ঠিক নয়। অঙ্গরাজ্যভেদে জিইডি, হাইসেট বা অন্য কোনো অনুমোদিত পরীক্ষা থাকতে পারে। ক্লাস বিনামূল্যে হবে নাকি স্বল্প ফি দিতে হবে, সেটিও প্রতিষ্ঠান ও কর্মসূচিভেদে ভিন্ন। কিছু প্রতিষ্ঠানে সন্ধ্যা, সপ্তাহান্ত বা অনলাইন ক্লাস থাকলেও তা সর্বত্র নিশ্চিত নয়।   ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের অনলাইন ব্যবস্থায় জিপ কোড দিয়ে স্থানীয় ইংরেজি ও নাগরিকত্ব প্রস্তুতি ক্লাস খোঁজার সুযোগ রয়েছে।    ৪. ২১১ হেল্পলাইন: স্থানীয় সহায়তার তথ্য এক জায়গায়   বাসস্থান, খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, ইউটিলিটি বিল, পরিবহন বা শিশুদের কর্মসূচি নিয়ে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে বুঝতে না পারলে ২১১ নম্বরটি কাজে আসতে পারে। ফোনে ২১১ ডায়াল করলে সাধারণত স্থানীয় প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা যায়। অনলাইনেও ঠিকানা বা জিপ কোড দিয়ে এলাকার সেবা খোঁজা যায়।   ইউনাইটেড ওয়ে পরিচালিত ২১১ নেটওয়ার্ক যুক্তরাষ্ট্রের ৯৯ শতাংশ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়। এই সেবা স্থানীয় ফুড প্যান্ট্রি, আবাসন সহায়তা, কম খরচের চিকিৎসা, পরিবহন, ইউটিলিটি সহায়তা এবং অন্যান্য কমিউনিটি কর্মসূচির তথ্য দিতে পারে। কল সাধারণত গোপনীয় রাখা হয় এবং পরিচয় না জানিয়েও সহায়তা চাওয়া যেতে পারে।    তবে ২১১ কোনো সুবিধা অনুমোদনকারী সরকারি সংস্থা নয়। তারা মূলত আবেদনকারীকে সম্ভাব্য স্থানীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত করে। সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে সহায়তা পাওয়া যাবে কি না, তা আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বসবাসের এলাকা, বয়স এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত যোগ্যতাসহ বিভিন্ন শর্তের ওপর নির্ভর করতে পারে।   ৫. স্কোর মেন্টরশিপ: ছোট ব্যবসার জন্য বিনামূল্যের পরামর্শ   ছোট ব্যবসা, অনলাইন স্টোর বা সেবাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান শুরু করার পরিকল্পনা থাকলে স্কোরের স্বেচ্ছাসেবী ব্যবসা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে বিনামূল্যে পরামর্শ পাওয়া যায়। স্কোর ইউএস স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের একটি রিসোর্স পার্টনার।   স্কোরের মেন্টররা ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, অর্থায়ন, বিপণন, মানবসম্পদ, পরিচালনা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের মতো বিষয়ে পরামর্শ দেন। সরাসরি সাক্ষাৎ ছাড়াও ফোন, ই-মেইল ও ভিডিও কলের মাধ্যমে মেন্টরশিপ নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। মেন্টররা শুধু অবসরপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী নন; তারা বিভিন্ন খাতের অভিজ্ঞ স্বেচ্ছাসেবী বিশেষজ্ঞ।    স্কোরের ব্যক্তিগত মেন্টরশিপ বিনামূল্যের হলেও সব কর্মশালা বা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান বিনামূল্যে হবে—এমন নয়। কোনো অনুষ্ঠানে নিবন্ধন ফি থাকতে পারে। তাই নাম লেখানোর আগে আয়োজনটির খরচ ও শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন।   প্রথম ৯০ দিনে যে তিনটি কাজ করবেন   প্রথমত, পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণ, ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত কাগজ, শিক্ষাগত সনদ এবং চাকরির নথির কপি একটি আলাদা ফোল্ডারে রাখুন। ডিজিটাল কপিগুলো নিরাপদ ক্লাউড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।   দ্বিতীয়ত, কোনো কর্মসূচির তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখে চূড়ান্ত ধরে নেবেন না। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, লাইব্রেরি, কলেজ বা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং ফোন নম্বর দিয়ে নিয়ম, ফি ও যোগ্যতা যাচাই করুন।   তৃতীয়ত, কোনো সরকারি বা চাকরির ফর্ম বুঝতে সমস্যা হলে আন্দাজ করে তথ্য দেবেন না। লাইব্রেরি, আমেরিকান জব সেন্টার বা অনুমোদিত সহায়তা প্রতিষ্ঠানে ব্যাখ্যা চাইতে পারেন। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের সাধারণ কর্মীকে আইনজীবী ধরে নিয়ে অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।   এই সেবাগুলোর অনেকটাই সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হলেও সব সুবিধা সবার জন্য বিনামূল্যে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাপ্য নয়। সেবার ধরন, নিবন্ধনের নিয়ম এবং যোগ্যতা অঙ্গরাজ্য, কাউন্টি ও প্রতিষ্ঠানভেদে বদলে যেতে পারে।   আপনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম কোন সালে এসেছেন? কমেন্টে শুধু সালটি লিখতে পারেন—যেমন ২০১৮, ২০২২ বা ২০২৪। কোন সময়ের অভিবাসীরা বেশি সাড়া দেন, তার ভিত্তিতে তাদের সাধারণ সমস্যা ও করণীয় নিয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন তৈরি করা যেতে পারে।   দাবিত্যাগ: এই প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্য ও কমিউনিটি সচেতনতার জন্য তৈরি। এটি কোনো আইনি, অভিবাসন বা আর্থিক পরামর্শ নয়। কোনো কর্মসূচিতে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ নিয়ম ও যোগ্যতার শর্ত যাচাই করুন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৬, ২০২৬ ৪:১৮
স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ভয়ে প্রতি ৪ জনে ১ মার্কিন নাগরিক বাধ্য হয়ে অপছন্দের চাকরি করছেন

স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ভয়ে প্রতি ৪ জনে ১ মার্কিন নাগরিক বাধ্য হয়ে অপছন্দের চাকরি করছেন

জন্মদিনের হাসি বদলে গেল শোকে

জন্মদিনের হাসি বদলে গেল শোকে, গুলিতে প্রাণ গেল ২২ বছরের তরুণের

২৫ বছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামে ৫.৯ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি

২৫ বছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামে ৫.৯ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি! কী বিশেষ আছে টেক্সাসের এই বাড়িতে?

নিউইয়র্কে প্রকাশ্য রাস্তায় বন্দুক হামলায় ১২ বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা
নিউইয়র্কে প্রকাশ্য রাস্তায় বন্দুক হামলায় ১২ বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা, আহত ২

নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে প্রকাশ্য রাস্তায় বন্দুক হামলায় ১২ বছর বয়সী এক ছেলে নিহত হয়েছে। একই ঘটনায় আরও দুই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার বিকেলে মাউন্ট ইডেন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি এবং তদন্ত চলছে।    নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের  তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার কিছু আগে ওয়ালটন অ্যাভিনিউ ও এলিয়ট প্লেসের কাছে গুলির ঘটনা ঘটে। ১২ বছর বয়সী শিশুটি কাঁধে গুলিবিদ্ধ হলে তাকে দ্রুত লিংকন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত শিশুর পরিচয় পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।    এ ঘটনায় আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের মধ্যে ২৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিতম্বে এবং ৩৪ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। দুজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ।    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে গুলি ছোড়া হয়। তবে নিহত ১২ বছর বয়সী শিশুটি ওই সংঘর্ষে জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।    এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্তে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার হয়নি এবং সন্দেহভাজনদের সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২৬, ২০২৬ ০:৫৮
বিমানবন্দরেই আইসিইর হাতে গ্রেপ্তার এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট

বিমানবন্দরেই আইসিইর হাতে গ্রেপ্তার এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট, বিমানবন্দরে চাঞ্চল্য

ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের জন্য ২৯২ মিলিয়ন ডলারের আবাসন চুক্তি

ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের জন্য ২৯২ মিলিয়ন ডলারের আবাসন চুক্তি, দীর্ঘমেয়াদির ইঙ্গিত

আমেরিকান ব্যাতিত ইন-স্টেট টিউশন সুবিধা অসাংবিধানিক

আমেরিকান ব্যাতিত ইন-স্টেট টিউশন সুবিধা অসাংবিধানিক, আইন বাতিল করলেন বিচারক

সামরিক ভেটেরানদের ট্রাকচালক হিসেবে নিয়োগে ‘ফ্রিডম হলার্স’ কর্মসূচি চালু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসী চালকদের তাদের দেশে ফিরিয়ে দিয়ে রিটায়ার্ড সেনাদেরকে ট্রাক চালাতে বলল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির কড়াকড়ির কারণে বাণিজ্যিক ট্রাকচালকদের লাইসেন্স হারানো বা কর্মক্ষেত্র ছাড়তে বাধ্য হওয়া চালকদের বিকল্প হিসেবে সামরিক ভেটেরানদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা বিবেচনা করছে হোয়াইট হাউস। প্রশাসনের লক্ষ্য, ট্রাকচালকের ঘাটতি কমিয়ে পণ্য পরিবহন খাত সচল রাখা।    অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে যাতে বাণিজ্যিক গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা বা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ থাকা সামরিক ভেটেরানদের ট্রাকচালক হিসেবে নিয়োগে উৎসাহিত করা যায়। পরিকল্পনাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো নীতি ঘোষণা করা হয়নি।    সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাকচালকদের জন্য ইংরেজি ভাষাজ্ঞান ও অন্যান্য ফেডারেল বিধি কঠোরভাবে প্রয়োগের ফলে কিছু অভিবাসী চালকের বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পরিবহন খাতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট মহলের একটি অংশ।    হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সামরিক বাহিনীতে ভারী যানবাহন পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা অনেক ভেটেরান এই খাতে দক্ষ জনবল হিসেবে কাজ করতে পারবেন। তবে পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক অভিজ্ঞতা থাকলেও বেসামরিক ট্রাক পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হবে।    এদিকে, ট্রাকিং শিল্পের কিছু প্রতিনিধি ও শ্রমসংগঠন বলছে, শুধু নতুন চালক নিয়োগ নয়, বরং বিদ্যমান চালকদের ধরে রাখা, কর্মপরিবেশ উন্নত করা এবং প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থা, পরিবহন শিল্প এবং কংগ্রেসের সঙ্গে আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ২৩:৪৮
স্টিভেন ফিলিপসের ক্ষতিপূরণের অর্থে সাবেক স্ত্রীর দাবি খারিজ করে দিয়েছে আদালত। ছবি: সংগৃহীত

২৪ বছর অন্যায় কারাভোগের পর পেলেন ৬ মিলিয়ন ডলার! ভাগ চেয়ে আদালতে সাবেক স্ত্রী

ঘটনাস্থলে তদন্ত চালাচ্ছেন অটোয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ও মিশিগান স্টেট পুলিশের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

মিশিগানে বাড়িতে আগুনের পর একই পরিবারের ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার, নিহতদের মধ্যে ৬ শিশু

মেইল-ইন ভোট সংক্রান্ত ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ২৩টি অঙ্গরাজ্যে আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। ছবি: সংগৃহীত

২৩ অঙ্গরাজ্যে আটকে গেল ট্রাম্পের মেইল-ইন ভোট সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ

0 Comments