কানাডা

মুখের ওপর বাদুড় বসার পর জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
কানাডায় মুখের ওপর বাদুড় বসায় জলাতঙ্কে ১১ বছরের শিশুর করুণ মৃত্যু

কানাডার ওন্টারিওতে মুখের ওপর সামান্য সময়ের জন্য একটি বাদুড় এসে বসার পর জলাতঙ্কে (রেবিস) আক্রান্ত হয়ে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। অতি সম্প্রতি ‘কানাডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নাল’ (CMAJ)-এ এই দুঃখজনক ঘটনার বিস্তারিত কেস স্টাডি প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরে আসে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শরীরে কোনো কামড় বা আঁচড়ের দৃশ্যমান চিহ্ন না থাকলেও বাদুড়ের সংস্পর্শে আসার সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা না নেওয়ায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।   মেডিকেল জার্নালটির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বিগত ২০২৪ সালের হলেও সম্প্রতি এর গবেষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। ওন্টারিওর উত্তর অঞ্চলের একটি কটেজে পরিবারের সাথে বেড়াতে গিয়েছিল সম্পূর্ণ সুস্থ ওই শিশুটি। এক রাতে ঘুমানোর সময় হঠাৎ সে জেগে দেখে, একটি বাদুড় তার নাক ও মুখের ওপর বসে আছে। সকালে উঠে শরীরে বা মুখে কোনো ধরনের কামড় কিংবা আঁচড়ের দাগ না পাওয়ায় পরিবারটি তখন বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি এবং কোনো চিকিৎসকের কাছে যায়নি।   এই ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর শিশুটির মুখ অবশ হয়ে যাওয়া, খাবার গিলতে অসুবিধা হওয়া এবং বিভিন্ন স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে থাকে। প্রথমে চিকিৎসকেরা তাকে ‘বেলস পালসি’ এবং পরবর্তীতে ‘হারপিস’ রোগে আক্রান্ত মনে করে চিকিৎসা শুরু করেন। তবে শেষ পর্যায়ে এসে চিকিৎসকেরা বুঝতে পারেন যে শিশুটি মূলত জলাতঙ্কে আক্রান্ত। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তির ১৭ দিন পর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।   গবেষকেরা জানিয়েছেন, ওন্টারিওতে ১৯৬৭ সালের পর এটিই স্থানীয়ভাবে বাদুড় থেকে মানুষের জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার প্রথম ঘটনা। কানাডায় মানুষের জলাতঙ্ক হওয়া অত্যন্ত বিরল, ১৯২৪ সালের পর দেশটিতে মাত্র ২৮ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেছেন, উত্তর আমেরিকায় মানুষের জলাতঙ্ক ছড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ হলো বাদুড়। বাদুড়ের কামড় বা আঁচড় এত সূক্ষ্ম ও ছোট হয় যে তা খালি চোখে দেখা যায় না এবং মানুষ বুঝতেও পারে না।   চিকিৎসকেরা এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষকে কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেছেন, বাদুড়ের সাথে যে কোনো ধরনের সরাসরি শারীরিক সংস্পর্শ বা টাচ হওয়ার সাথে সাথেই অবিলম্বে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে এবং ‘পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফিল্যাক্সিস’ (PEP) বা জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকা নিতে হবে। লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগে এই টিকা নিলে ১০০ ভাগ ক্ষেত্রে মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। তবে একবার লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে গেলে এই রোগে মৃত্যুর হার প্রায় শতভাগ।

তাবাস্সুম জুলাই ২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কানাডায় থাকার সুযোগ হারাতে পারেন ২৯ লাখ অস্থায়ী বাসিন্দা

কানাডায় চলতি বছরে অভিবাসন ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশটির স্থায়ী বাসিন্দা বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট গ্রহণের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিদেশি কর্মী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় প্রায় ২৯ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ তালিকায় কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও রয়েছেন।   অভিবাসনসংক্রান্ত সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, চলতি বছরে কানাডা মাত্র তিন লাখ ৮০ হাজার নতুন স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অথচ দেশটিতে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক অস্থায়ী বাসিন্দা স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। ফলে চলতি বছরে ১০ লাখের বেশি মানুষের কানাডায় বৈধভাবে অবস্থানের পথ সংকুচিত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটধারীরা। তাঁদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরাও এই পরিস্থিতির প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন। এদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কানাডার স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও খাদ্যশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করে দেশটির অর্থনীতিতে অবদান রেখে আসছেন।   তথ্য অনুযায়ী, কানাডার মোট অস্থায়ী বাসিন্দাদের প্রায় অর্ধেকই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত। ফলে এই সংকটের প্রভাব দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে পড়তে পারে। বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া শিক্ষার্থী এবং কর্মীরাও এর বাইরে নন।   এদিকে ওয়ার্ক পারমিটধারীদের জন্য স্টাডি পারমিট ছাড়া পড়াশোনার যে বিশেষ সুযোগ চালু ছিল, তা আগামী ২৭ জুন শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে অনেকেই তাঁদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ এবং ভবিষ্যৎ অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।   কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনীতি ও উন্নয়নকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে অভিবাসন নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে অস্থায়ী বাসিন্দাদের অনেকের ভবিষ্যৎ।   অভিবাসনবিষয়ক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সরকারের বর্তমান নীতির লক্ষ্য অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমিয়ে আনা। তাঁদের ধারণা, এ নীতির ফলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক টেম্পোরারি রেসিডেন্টকে কানাডা ছাড়তে হতে পারে।

Unknown জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ছুটির ভুয়া ইমেইল পাঠিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে প্রতারণা, কানাডায় তীব্র ক্ষোভ

কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের হাজার হাজার কর্মী দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং মানসিক ক্লান্তিতে ভুগছিলেন। ঠিক এমন সময়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে "জুন হলিডে" শিরোনামে আসা একটি ইমেইল তাদের সাময়িক স্বস্তি ও আনন্দ দিয়েছিল। ইমেইলটিতে নতুন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর পেছনে স্বাস্থ্যকর্মীদের কঠোর পরিশ্রম ও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করে তাদের একদিনের জন্য 'সবেতন ছুটি' বা পেইড লিভের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, এটি মূলত একটি ভুয়া ইমেইল এবং কর্তৃপক্ষের তৈরি করা সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষা বা 'ফিশিং টেস্ট'।   কর্তৃপক্ষের এই অসংবেদনশীল রসিকতা ও প্রতারণার শিকার হয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন প্রদেশের স্বাস্থ্যকর্মীরা। ইমেইলে বলা হয়েছিল, ছুটির সুবিধাটি পেতে হলে কর্মীদের একটি লিংকে ক্লিক করতে হবে। কিন্তু লিংকে ক্লিক করার পরদিনই তাদের জানানো হয় যে এটি কোনো আসল ছুটি ছিল না, বরং কর্মীদের সাইবার সচেতনতা যাচাই করার জন্য একটি কৃত্রিম পরীক্ষা ছিল। ছুটির এমন নিষ্ঠুর মিথ্যা আশ্বাস পেয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে এবং ইতিমধ্যে অন্তত একজন কর্মী ক্ষোভে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।   স্থানীয় পাবলিক অ্যান্ড প্রাইভেট এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জেরি আর্ল এই ঘটনাটিকে একটি ‘নিষ্ঠুর প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমাদের কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করার পর ছুটির লোভ দেখিয়ে এমন তামাশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা এর চেয়ে অনেক ভালো আচরণ পাওয়ার যোগ্য।" অন্যদিকে রেজিস্টার্ড নার্সেস ইউনিয়নের সভাপতি ইভেট কফি এই পরীক্ষাকে চরম 'অসংবেদনশীল এবং অসম্মানজনক' বলে অভিহিত করেছেন এবং এর জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।   হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো প্রায়শই হ্যাকারদের সাইবার হামলার শিকার হয়ে থাকে, তাই এই ধরনের সচেতনতামূলক পরীক্ষা নেওয়া জরুরি বলে মনে করে প্রশাসন। তবে এই বিশেষ ইমেইলটির স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে স্বাস্থ্য বোর্ডের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রন জনসন ইতিমধ্যে কর্মীদের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে এই পরীক্ষাটি তাদের কর্মীদের মূল্যায়ন করার সঠিক পদ্ধতি ছিল না এবং কীভাবে এই ইমেইলটি পাঠানো হলো তা খতিয়ে দেখতে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলি নাগরিক মাইকেল মোশে মিজরাহি | ছবি: সংগৃহীত
কানাডার মন্ট্রিয়েলে বন্দুকধারীর গুলিতে ইসরায়েলি নাগরিক নিহত

কানাডার মন্ট্রিয়েল শহরে সোমবার ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী বন্দুকহামলায় নিহতদের মধ্যে অন্যতম ভুক্তভোগী হিসেবে মাইকেল মোশে মিজরাহি নামের এক ইসরায়েলি নাগরিককে শনাক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। এই আকস্মিক ও নৃশংস হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য এবং তীব্র নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে গভীর তদন্ত শুরু করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।   মন্ট্রিয়েলের এই ভয়াবহ সশস্ত্র হামলার ঘটনায় ইসরায়েলি নাগরিক মিজরাহি এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছাড়াও খোদ মূল সন্দেহভাজন বন্দুকধারী ব্যক্তি নিহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার সময় সেখানে তীব্র গোলাগুলি শুরু হলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় থাকা আরও একজন পুলিশ কর্মকর্তা এই হামলায় মারাত্মকভাবে গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।   কানাডার স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এই ভয়াবহ হামলার পেছনের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু ঘোষণা করেনি। বন্দুকধারী কেন বা কী কারণে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে, তা এখনও পুরোপুরি ধোঁয়াশায় ঢাকা রয়েছে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত ও তথ্য সংগ্রহ করে অপরাধীর প্রকৃত উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত কর্মকর্তারা বর্তমানে এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছেন। এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত বা নির্দিষ্ট কাউকে লক্ষ্য করে চালানো সুনির্দিষ্ট হামলা ছিল নাকি কোনো বড় ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনার অংশ হিসেবে এই সহিংসতা চালানো হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে গোয়েন্দারা গভীর ও ব্যাপক অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছেন।

তাবাস্সুম জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
গাছেরও আইনি অধিকার স্বীকৃতি
গাছেরও আইনি অধিকার স্বীকৃতি, কানাডার ছোট শহরের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত

গাছ যে কেবল প্রকৃতির অংশ নয়, বরং একটি জীবন্ত সত্তা—এই ধারণাকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে কানাডার একটি ছোট পৌরসভা। দেশটির কুইবেক প্রদেশে মন্ট্রিল থেকে প্রায় ৪০ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত তেরাস-ভদ্রেয়ঁ শহর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, গাছেরও জীবনধারণ, স্বাভাবিক বৃদ্ধি, অখণ্ডতা ও বংশবৃদ্ধির অধিকার রয়েছে।   কানাডীয় সংবাদমাধ্যম সিবিসি’র প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রায় দুই হাজার বাসিন্দার এই শহরে গত ৯ জুন সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব পাস হয়, যার মাধ্যমে গাছকে আইনি মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শহরের মেয়র মিশেল বুর্দো জানান, পৌর কাউন্সিলের সব সদস্য একমত হয়েই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।   নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পৌরসভার বিদ্যমান সব নিয়মকানুন ও উপবিধি পুনর্বিবেচনা করা হবে। গাছ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা, অপ্রয়োজনে গাছ কাটা বন্ধ করা এবং কোনো গাছ কাটা হলে তার পরিবর্তে নতুন গাছ লাগানোর বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   স্থানীয় প্রশাসনের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক জলবায়ু সংকটের অভিজ্ঞতা। গত কয়েক বছরে তেরাস-ভদ্রেয়ঁ তিনবার বড় ধরনের বন্যার মুখোমুখি হয়েছে। মেয়র বুর্দোর ভাষায়, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গাছই ‘আমাদের সবচেয়ে বড় বন্ধু’। তিনি বলেন, গাছ এক ধরনের প্রাকৃতিক বা সবুজ অবকাঠামো হিসেবে কাজ করে—যা শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বায়ুর মান উন্নয়ন, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   এই উদ্যোগের পেছনে একটি সাংস্কৃতিক প্রভাবও কাজ করেছে। কুইবেকের চলচ্চিত্র নির্মাতা অঁদ্রে দেসরোশের নির্মিত ‘দেস আর্ব্রেস এ দেস আর্তস’ নামের একটি চলচ্চিত্র স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে সচেতনতা তৈরি করে। ছবিটি দেখার পর অনেকেই উপলব্ধি করেন, গাছ কেবল স্থির বস্তু নয়; তারা শ্বাস নেয়, পরিবেশের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে এবং শিকড়ের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে।   মেয়র বুর্দো বলেন, “গাছ মানুষের মতোই একটি জীবন্ত সত্তা। তারা পানি গ্রহণ করে, বেঁচে থাকে এবং আমাদের নানা বিপদ থেকে রক্ষা করে।”   পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অব দ্য রাইটস অব দ্য ট্রি’-তে প্রথম পৌরসভা হিসেবে স্বাক্ষর করেছে তেরাস-ভদ্রেয়ঁ। ইন্টারন্যাশনাল অবজারভেটরি অব নেচার রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘোষণাপত্রের মূল তিনটি নীতি হলো—পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্ব গাছের ওপর নির্ভরশীল, গাছের সঙ্গে মানুষের ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি বজায় রাখা জরুরি এবং গাছ একটি জীবন্ত সত্তা, যা মানবজাতির জন্য সামগ্রিকভাবে উপকারী।   সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ইয়েনি ভেগা কার্দেনাস সিবিসিকে বলেন, গাছের নিজস্ব মর্যাদা ও উপলব্ধি রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এটি আবেগের বিষয় নয়, বরং একটি বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা—গাছের প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা আছে।   বিশ্বজুড়ে প্রকৃতি ও পরিবেশকে আইনি অধিকার দেওয়ার যে প্রবণতা বাড়ছে, এই সিদ্ধান্ত তারই একটি অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর আগে ২০২১ সালে কানাডার কুইবেকেই ম্যাগপাই নদীকে ‘আইনগত ব্যক্তি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল, যা পরিবেশ সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, তেরাস-ভদ্রেয়ঁর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য শহর ও দেশগুলোর জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে, যেখানে পরিবেশ রক্ষাকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আরও শক্তিশালীভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পথ তৈরি হবে।

নীলুফা নিশাত জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কানাডার মন্ট্রিয়লে বন্দুক হামলায় পুলিশ কর্মকর্তা নিহত, পাল্টা গুলিতে হামলাকারীর মৃত্যু

কানাডার মন্ট্রিয়ল শহরে এক বন্দুকধারীর হামলায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা, একজন বেসামরিক নাগরিক এবং হামলাকারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে চিকিৎসাধীন ওই কর্মকর্তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মন্ট্রিয়লের একটি ভবন থেকে গুলির শব্দ শোনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান শুরু করেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারী একজন পুরুষ এবং তিনি একাই এই হামলা চালিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের একপর্যায়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় নিহত বেসামরিক ব্যক্তি স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায়ের একজন সদস্য ছিলেন। তবে ঘটনাটি ধর্মীয় বিদ্বেষ, জাতিগত উদ্দেশ্য অথবা অন্য কোনো কারণ থেকে ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করেনি পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে তারা।   এদিকে কানাডার ফরাসি ভাষার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও কানাডার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারী নারীবিদ্বেষী অনলাইন গোষ্ঠীভিত্তিক ‘ইনসেল’ মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেনি। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হামলাকারীর অতীত কর্মকাণ্ড, অনলাইন কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছেন। তার সঙ্গে কোনো উগ্র মতাদর্শ বা চরমপন্থী গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।   ঘটনার পরপরই মন্ট্রিয়লের সংশ্লিষ্ট এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা ধরে অভিযান ও পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর বিকেল ৩টার দিকে সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।   কানাডায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জননিরাপত্তা এবং বন্দুক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও দেশটিতে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন তুলনামূলক কঠোর, তারপরও বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মন্ট্রিয়লের সর্বশেষ ঘটনাটিও সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এদিকে নিহতদের পরিচয় এবং হামলার পূর্ণাঙ্গ উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কানাডায় ইউসিএমএএস ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

কানাডায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা ইউসিএমএএসে ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী কুশল সাহা। কানাডার ছয়টি প্রদেশের অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে এই সাফল্য পেয়েছে সে।   কুশল সাহার এই অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের পাশাপাশি তার স্বজনদের মধ্যেও আনন্দের জোয়ার বইছে। ক্ষুদে এই মেধাবীর শিকড় বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায়। তিনি সাংবাদিক সুভাষ সাহার দৌহিত্র এবং সুস্মিতা সাহা ও কমল কৃষ্ণ সাহা দম্পতির একমাত্র সন্তান।   জানা গেছে, সম্প্রতি কানাডায় অনুষ্ঠিত ইউনিভার্সাল কনসেপ্ট অব মেন্টাল অ্যারিথমেটিক সিস্টেম (ইউসিএমএএস) প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। শিশুদের মানসিক গণনার দক্ষতা, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং মস্তিষ্কের সার্বিক বিকাশ মূল্যায়নের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত এই কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে।   প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীদের মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যে ২০০টি গণিতভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। দ্রুততা ও নির্ভুলতার ভিত্তিতে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়। এবারের প্রতিযোগিতায় কুশল সাহা সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ খেতাব জিতে নেয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বছর এই সম্মান অর্জন করেছিল একজন চীনা শিক্ষার্থী। এবার সেই জায়গায় বাংলাদেশের সন্তান কুশল সাহার নাম যুক্ত হওয়ায় গর্বিত তার পরিবার এবং পরিচিতজনরা।   কুশলের বাবা কমল কৃষ্ণ সাহা উচ্চশিক্ষিত একজন পেশাজীবী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার্টার্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট (সিএফএ) এবং চার্টার্ড মার্কেট টেকনিশিয়ান (সিএমটি) ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে কানাডার কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।   অন্যদিকে কুশলের মা সুস্মিতা সাহা বাংলাদেশে দন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষে বর্তমানে কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মরত আছেন। কুশলের দাদা সাংবাদিক সুভাষ সাহা জানান, ইউসিএমএএস কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং শিশুদের মানসিক বিকাশের একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শিক্ষাপদ্ধতি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শিশুদের দ্রুত হিসাব করার দক্ষতা, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তি উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।   তিনি বলেন, “কানাডার ছয়টি প্রদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় কুশল সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে। এটি শুধু আমাদের পরিবারের জন্য নয়, বাংলাদেশের জন্যও গর্বের বিষয়।” কুশলের এই সাফল্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসিত হচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।   শিশু বয়সেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন কৃতিত্ব অর্জনের মাধ্যমে কুশল সাহা প্রমাণ করেছে, সঠিক সুযোগ ও পরিচর্যা পেলে বাংলাদেশি শিশুরা বিশ্বের যেকোনো মঞ্চে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম। পরিবারের পক্ষ থেকে কুশলের জন্য সবার দোয়া ও শুভকামনা কামনা করা হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কানাডার অভিবাসন নীতির কারণে ফেরত পাঠানো হচ্ছে আশ্রয়প্রার্থীদের, চরম সমালোচনায় সরকার

কানাডার বর্তমান সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে সে দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থনাকারীদের জোরপূর্বক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, যার ফলে সেখানে গিয়ে তারা চূড়ান্তভাবে নিজ দেশে ডিপোর্টেশন বা বহিষ্কারের মুখোমুখি হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী, বিভিন্ন আইনজীবী এবং শরণার্থী অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো কানাডা সরকারের এই বিতর্কিত পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। রোববার (২১ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডা এবং আমেরিকার মধ্যে সম্পাদিত ‘নিরাপদ তৃতীয় দেশ চুক্তি’ বা সেফ থার্ড কান্ট্রি অ্যাগ্রিমেন্ট (এসটিসিএ) মূলত অসহায় অভিবাসীদের একটি অনিরাপদ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করছে।   মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য কোনোভাবেই নিরাপদ দেশ হতে পারে না। সেখানে শরণার্থীদের দীর্ঘমেয়াদী আটক রাখা এবং এমন সব দেশে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর রেকর্ড রয়েছে যেখানে গেলে তাদের জীবননাশের সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা থাকে। এই বাস্তবতায় কানাডিয়ান কাউন্সিল ফর রিফিউজিস এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কানাডা যৌথভাবে একটি আইনি চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে কানাডা সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তাদের দাবি, কানাডার সীমান্ত কর্মকর্তারা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত মানবিক সুরক্ষাকবচগুলো তোয়াক্কা না করেই আশ্রয়প্রার্থীদের মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই (ICE)-এর হাতে তুলে দিচ্ছেন।   হন্ডুরাসের এক দম্পতি কার্লোস ও আন্তোনিয়ার বাস্তব জীবনের এক মর্মান্তিক ঘটনা এই আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ২০২১ সালে হন্ডুরাসের একটি অপরাধী চক্রের প্রাণনাশের হুমকি থেকে বাঁচতে নিজেদের ছোট সন্তানকে নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। কিন্তু তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অভিযানের কারণে সেখানে তারা আশ্রয় দাবি করতে ব্যর্থ হন। যেহেতু কার্লোসের কিছু আত্মীয় কানাডায় বসবাস করেন, তাই তারা প্রাণ বাঁচাতে আরও উত্তরে কানাডার ফোর্ট ইরি সীমান্ত ক্রসিংয়ে পৌঁছান। তবে কানাডা সীমান্ত কর্মকর্তা তাদের সাফ জানিয়ে দেন যে, শুধু কার্লোস ও তার সন্তান কানাডায় ঢুকতে পারবে, কিন্তু আন্তোনিয়ার কোনো আত্মীয় না থাকায় তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হবে।   সন্তান ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয়ে এই পরিবারটি একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেয় এবং কানাডা সীমান্ত কর্তৃপক্ষ তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে তাদের সরাসরি নিজ দেশ হন্ডুরাসে ডিপোর্ট বা বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে ৬ বছর বয়সী সন্তানসহ ওই পরিবারটি অপরাধী চক্রের প্রতিশোধের ভয়ে হন্ডুরাসে সম্পূর্ণ আত্মগোপনে জীবন কাটাচ্ছে। আইনজীবীদের অভিযোগ, কানাডা সীমান্ত কর্তৃপক্ষ আশ্রয়প্রার্থীদের কোনো ধরণের আইনি সহায়তা বা মানবিক ছাড় পাওয়ার সুযোগ না দিয়ে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে অত্যন্ত দ্রুত ও জীবন ধ্বংসকারী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে, যা সম্পূর্ণ অমানবিক।   বিগত ২০০৪ সাল পর্যন্ত কানাডার যেকোনো আইনি সীমান্ত পয়েন্টে গিয়ে সরাসরি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার নিয়ম ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কানাডা সরকারের বিশেষ লবিংয়ের মাধ্যমে কার্যকর হওয়া সেফ থার্ড কান্ট্রি অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী, একজন অভিবাসী প্রথম যে দেশে পৌঁছাবেন, তাকে সেখানেই আশ্রয়ের আবেদন করতে হবে। ২০২৩ সালে কানাডার সর্বোচ্চ আদালত এই চুক্তিটিকে সাংবিধানিক বলে রায় দিলেও স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, মানবিক দিক বিবেচনা করে সীমান্ত কর্মকর্তাদের বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সুযোগ বা 'সেফটি ভালভ' রাখতে হবে। তবে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, বাস্তবে এই মানবিক ছাড়ের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং শরণার্থীদের আকুতি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হচ্ছে।   একই সময়ে কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকার নিজেদের শরণার্থী ব্যবস্থাকে আরও সংকুচিত ও কঠোর করতে নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। এই নতুন আইনের ফলে শরণার্থী হিসেবে আবেদনের যোগ্যতা অর্জনের নিয়মাবলী আরও কঠিন হয়ে পড়েছে, যাকে সমালোচকেরা ট্রাম্পের স্টাইলের অভিবাসন নীতির সাথে তুলনা করছেন। যদিও কানাডার ফেডারেল সরকার এই নীতির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি নিরাপদ দেশ এবং চুক্তি অনুযায়ী সকল আইনি শর্ত পূরণ করেই এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে মামলাটি আদালতে ওঠার পর একজন বিচারক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন যে এই আইনি চ্যালেঞ্জটি পরবর্তী শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে কি না।

তাবাস্সুম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কানাডায় মসজিদের বাইরে ইমামের ওপর হামলা, চরম শঙ্কায় মুসলিমরা

কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের ভিক্টোরিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি মসজিদের বাইরে এক ইমামের ওপর ভয়াবহ ও ঘৃণ্য শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী ওই মুসলিম ধর্মীয় নেতার নাম শেখ ইব্রাহিম। দেশের মাটিতে একজন সম্মানিত ধর্মীয় নেতার ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার পর দেশটির অন্যতম প্রধান মুসলিম অধিকার বিষয়ক সংগঠন 'ন্যাশনাল কাউন্সিল অব কানাডিয়ান মুসলিমস' শনিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে মসজিদের বাইরে ঘটা এই নজিরবিহীন ও হিংসাত্মক হামলার ঘটনাটি পুরো কানাডাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও নিন্দার ঝড় তুলেছে।   প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার এশার নামাজ শেষ করে শেখ ইব্রাহিম যখন ভিক্টোরিয়ার বিসিএমএ মসজিদের বাইরে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ির ভেতর একা বসেছিলেন, ঠিক তখনই এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি জোরপূর্বক তার গাড়ির লক করা দরজা খুলে ফেলে। গাড়ির দরজা খোলার সাথে সাথেই ওই হিংস্র ব্যক্তি ইমামের ওপর অতর্কিত ও মারাত্মক শারীরিক আক্রমণ শুরু করে। হামলার পাশাপাশি ওই ব্যক্তি ইসলামভীতি বা ইসলামোফোবিক বিভিন্ন চরম আপত্তিকর গালিগালাজ করতে থাকে এবং ইমামকে লক্ষ্য করে চিৎকার করে বলতে থাকে, "তুমি অবিলম্বে তোমার নিজের দেশে ফিরে যাও।"   হৃদয়বিদারক এই নেতিবাচক ঘটনার পর গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে কানাডার ওই শীর্ষস্থানীয় মুসলিম সংগঠনটি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং উচ্চপদস্থ আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারা এই বর্বরোচিত হামলার পেছনে জড়িত মূল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে তার কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের মুসলিম কমিউনিটির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে। তবে হামলার শিকার ইমাম শেখ ইব্রাহিমের বর্তমান শারীরিক অবস্থা কেমন বা এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে নির্দিষ্টভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।   ন্যাশনাল কাউন্সিল অব কানাডিয়ান মুসলিমস তাদের প্রকাশিত বিবৃতিতে আরও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছে, আমাদের সমাজের একজন অত্যন্ত সজ্জন ও সম্মানিত ধর্মীয় নেতাকে এভাবে টার্গেট করে আক্রমণ করা কোনো সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই অমানবিক ঘটনাটি আমাদের আবার নতুন করে মনে করিয়ে দেয় যে, কানাডায় দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকা চরম ইসলামভীতি আমাদের সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য প্রতিদিন কতটা বড় ধরণের সামাজিক হুমকি ও জীবনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এমন একটি জঘন্য ঘটনার পর আমরা কোনোভাবেই চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না।   সংগঠনটি কানাডার সব স্তরের রাজনৈতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের প্রতি এই মুসলিম বিরোধী ঘৃণ্য সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানানোর এবং সমাজে দিন দিন বাড়তে থাকা ধর্মীয় বিদ্বেষ চিরতরে দূর করতে দ্রুত দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। এর পাশাপাশি তারা স্থানীয় প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এই বর্বরোচিত হামলার পেছনে ধর্মীয় বা জাতিগত বিদ্বেষের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গভীরভাবে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর ভিক্টোরিয়া এলাকার স্থানীয় সাধারণ মুসলিম বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।   সূত্র: আনাদোলু 

তাবাস্সুম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কানাডায় মে মাসে বাড়ি বিক্রি বেড়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ, দাম কিছুটা কম

চলতি বছরের মে মাসে কানাডায় বাড়ি বিক্রির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত বসন্তকালে দেশটির আবাসন খাতে যে চাঙ্গা ভাব দেখা যায়, এবার শুরুর দিকে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও মে মাসে তা অনেকটাই পুষিয়ে নিয়েছে। তবে বিক্রি বাড়লেও বাড়ির দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) কানাডিয়ান রিয়েল এস্টেট অ্যাসোসিয়েশনের (সিআরইএ) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।   সিআরইএ-এর উপাত্ত অনুযায়ী, গত মে মাসে বাড়ি বিক্রির হার এপ্রিল মাসের তুলনায় ৫.৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে মৌসুমী সমন্বয় ছাড়া বার্ষিকভিত্তিতে হিসাব করলে দেখা যায়, গত বছরের মে মাসের তুলনায় এবার বাড়ি বিক্রি ৫.১ শতাংশ কম হয়েছে।   এদিকে মূল্যসূচকের দিকে তাকালে দেখা যায়, অ্যাসোসিয়েশনের 'হোম প্রাইস ইনডেক্স' বা বাড়ির মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় মাত্র ০.১ শতাংশ কমেছে। তবে বার্ষিকভিত্তিতে এই দাম কমার হার বেশ দৃশ্যমান, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.১ শতাংশ কম।   সিআরইএ-এর চেয়ারম্যান গ্যারি ভাওরা এক বিবৃতিতে জানান, "চলতি বছর কানাডার বহু অঞ্চলের আবহাওয়ার মতোই দেশটির আবাসন খাতের বসন্তকালীন বাজারও যেন প্রায় এক মাস পিছিয়ে শুরু হয়েছে। তবে মে মাসের এই ইতিবাচক পরিসংখ্যান পরিষ্কারভাবে জানান দিচ্ছে যে, বাজারে এখন পুরোদমে গতি ফিরছে।"   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মে মাসে বাজারে নতুন তালিকাভুক্ত হওয়া বাড়ির (নিউ লিস্টিং) পরিমাণ এপ্রিলের তুলনায় ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। নতুন তালিকাভুক্ত বাড়ির বিপরীতে বিক্রির অনুপাত (সেলস-টু-নিউ লিস্টিং রেশিও) এপ্রিলের ৪৬.২ শতাংশ থেকে বেড়ে মে মাসে ৪৯.২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অবশ্য এই হার দেশটির দীর্ঘমেয়াদী গড় অনুপাত ৫৪.৮ শতাংশের চেয়ে এখনো কিছুটা নিচেই রয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো | ছবি: সংগৃহীত
কানাডার ম্যাচ রেখে প্রেমিকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ দেখায় সমালোচনায় জাস্টিন ট্রুডো

কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো নিজ দেশের প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত না থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ দেখতে যাওয়ায় নিজ দেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। মূলত সেখানে প্রেমিকা ও জনপ্রিয় পপ তারকা কেটি পেরির লাইভ পারফরম্যান্স উপভোগ করতে এবং তাঁর প্রতি সমর্থন জানাতেই ট্রুডো যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচে হাজির হন। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর এমন আচরণে কানাডিয়ান নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।   গত রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে ট্রুডো লেখেন, কখনো কখনো সাপোর্টিভ বয়ফ্রেন্ড বা সহায়ক প্রেমিকের দায়িত্বও তো পালন করতে হয়। তবে আপনারা সবাই ভালো করেই জানেন যে, বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের জন্য আমি আসলে কোন দলকে সমর্থন করছি। নিজের লেখার শেষ অংশে তিনি কানাডার জাতীয় পতাকার একটি ইমোজিও যুক্ত করে দেন।   একই দিনে টরন্টো এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রায় একই সময়ে দুটি উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ট্রুডো টরন্টোতে অনুষ্ঠিত কানাডা বনাম বসনিয়ার ম্যাচটি বর্জন করে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ের ম্যাচটি উপভোগ করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের সেই ভেন্যুতে কেটি পেরি মঞ্চে পারফর্ম করার পর দৌড়ে এসে ট্রুডোকে চুমু খেয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।   পরবর্তীতে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে দুজনকে একসাথে বিয়ার খেতে, আলিঙ্গন করতে এবং প্রেমে মগ্ন অবস্থায় দেখা যায়। তাদের এই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে কানাডিয়ানদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। দেশের ফুটবলপ্রেমী অনেক নাগরিক ট্রুডোর এই সিদ্ধান্তকে দেশের মুখে চড় মারার শামিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অনেকে তাঁকে 'প্রতারক' বলে আখ্যা দিয়েছেন।   টরন্টোর সেই উদ্বোধনী ম্যাচে কানাডা ফুটবল দল বসনিয়া-হার্জেগোভিনার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে। অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসের ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র দল প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুভসূচনা করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেটি পেরি তাঁর ২০২৪ সালের অ্যালবাম থেকে তুলনামূলক কম পরিচিত 'ওয়ান্ডার' গানটি পরিবেশন করেন।   সাবেক প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো ও কেটি পেরির প্রেমের সম্পর্কটি গত বছরের জুলাই মাস থেকে ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরবর্তীতে ডিসেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার মাধ্যমে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। উল্লেখ্য, ট্রুডোর আগের স্ত্রী সোফি গ্রেগোয়ারের সঙ্গে দীর্ঘ ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে ২০২৩ সালে, যেখানে তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও ১০০ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা ঘোষণা কানাডার

কানাডা ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন করে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মানবিক সহায়তা ঘোষণা করেছে। গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে চলমান মানবিক সংকট মোকাবিলায় এই অর্থ ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।   শুক্রবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত ‘প্যারিস কল ফর দ্য টু-স্টেট সল্যুশন’ সম্মেলনে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী Anita Anand এ ঘোষণা দেন। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এবং ভবিষ্যতে দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে অংশ নেন।   কানাডার বৈশ্বিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন এই সহায়তা জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলন এবং মাঠপর্যায়ে কাজ করা বেসরকারি মানবিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।   এই অর্থের মাধ্যমে গাজা ও পশ্চিম তীরের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবা, খাদ্য, পুষ্টি সহায়তা, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, আশ্রয় এবং সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে এসব অঞ্চলে মানবিক চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে আসছে।   নতুন এ বরাদ্দের ফলে ফিলিস্তিনিদের জন্য কানাডার মোট সহায়তার পরিমাণ ৫০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজায় মানবিক পরিস্থিতির অবনতি এবং পশ্চিম তীরে নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার সংকট বাড়তে থাকায় কানাডা ধারাবাহিকভাবে সহায়তা বাড়িয়ে আসছে।   এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ জোরদার করার চেষ্টা করছে। এর এক দিন আগে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা যৌথভাবে একটি নতুন আন্তর্জাতিক শান্তি তহবিল গঠনের ঘোষণা দেয়।   ‘ইন্টারন্যাশনাল পিস ফান্ড’ নামে এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাকে সহায়তা দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডা আগামী তিন বছরে প্রত্যেকে ১০ লাখ পাউন্ড করে অর্থায়ন করবে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরও এই তহবিলে অবদান রাখার সুযোগ থাকবে।   বিশ্লেষকদের মতে, গাজা ও পশ্চিম তীরে চলমান মানবিক সংকটের পাশাপাশি রাজনৈতিক সমাধানের প্রশ্নও এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। একদিকে জরুরি ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগও গুরুত্ব পাচ্ছে।   কানাডার নতুন সহায়তা ঘোষণা সেই দুই দিককেই সমর্থন করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটানো, অন্যদিকে ভবিষ্যতে একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তাও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।   প্যারিস সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতারা ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে আলোচনাভিত্তিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তাদের মতে, মানবিক সহায়তার পাশাপাশি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: বিবিসি বাংলা
বিশ্বকাপের মঞ্চে তিন প্রতিবেশী, ফুটবলের উৎসবের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকোর টানাপোড়েন

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ উত্তর আমেরিকার জন্য এক ঐতিহাসিক আয়োজন। প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের আয়োজন করছে। তবে এই আয়োজন কেবল ক্রীড়াঙ্গনের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং তিন প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।   ১৬টি শহর ও তিনটি দেশের বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক পরিসরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ এমন এক সময়ে আয়োজন করা হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।   গত ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে তিন দেশের নেতাদের হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতি সহযোগিতার একটি ইতিবাচক বার্তা দিলেও ৩৯ দিনের দীর্ঘ টুর্নামেন্ট পরিচালনা এবং লাখো দর্শনার্থীর যাতায়াত নিশ্চিত করা বাস্তবে আরও জটিল চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর আমেরিকার প্রধান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার প্রশাসনের বাণিজ্যনীতি, অভিবাসন নীতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত অবস্থান তিন দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলেছে।   মেক্সিকো ও কানাডা, উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। তবে ট্রাম্পের শুল্কনীতি প্রথম ধাক্কা দেয় এই দুই দেশকেই। কানাডা বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছিল ট্রাম্পের সেই মন্তব্যে, যেখানে তিনি দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় কানাডার বিভিন্ন প্রদেশ দোকান থেকে মার্কিন অ্যালকোহল পণ্য সরিয়ে নেয়। একই সঙ্গে কানাডীয় নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।   ক্যালগারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক নীতি পরিচালক কার্লো ডেডের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ কানাডা ও মেক্সিকোর পারস্পরিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকায় চীনা বিনিয়োগের প্রবেশপথ হিসেবে মেক্সিকোকে অভিযুক্ত করার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল।   এই প্রেক্ষাপটে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে একদিকে মেক্সিকোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বাণিজ্য বহুমুখীকরণের পথও খুঁজতে হচ্ছে। এর আগে কখনো বিশ্বকাপ একসঙ্গে তিনটি দেশে অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে ২০২৬ সালের এই আয়োজনকে ঘিরে নিরাপত্তা, পরিবহন, অভিবাসন ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।   বিশ্বকাপ চলাকালে লাখো সমর্থককে তিন দেশের মধ্যে যাতায়াত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে সম্ভাব্য জটিলতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি নিরাপত্তা সতর্কতাও নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।   নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল স্পোর্টের ক্লিনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর লিন্ডসে সারাহ ক্র্যাসনফ বলেন, কোনো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসর যৌথভাবে আয়োজন করা মানেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে আদর্শ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকবে, এমনটি ধরে নেওয়া যায় না।   তিনি ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপ এবং ২০০২ সালের জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ বিশ্বকাপের উদাহরণ টেনে বলেন, বড় ক্রীড়া আয়োজন কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে পারে, তবে সব সময় রাজনৈতিক সম্পর্কের মৌলিক পরিবর্তন ঘটায় না।   এদিকে মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। দেশটির রাজধানীতে বিমানবন্দর অবকাঠামো, যানজটপূর্ণ গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং সংস্কারাধীন অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।   এর পাশাপাশি দেশটিতে চলমান শিক্ষক আন্দোলন ও ধর্মঘট পরিস্থিতিও বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আন্দোলনকারীরা ইতোমধ্যে সতর্ক করেছেন, দাবি পূরণ না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে পারেন। তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবম বিশ্বকাপকে দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও সক্ষমতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন।   মেক্সিকান ক্রীড়া সাংবাদিক রাফায়েল পুয়েন্তে বলেন, বিশ্বকাপের আগে দেশটির যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো আড়াল করার চেষ্টা করা উচিত হবে না। তার মতে, দর্শনার্থীদেরও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। বিশ্বকাপের বাইরেও তিন দেশের সামনে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয় রয়েছে। বর্তমানে উত্তর আমেরিকার দীর্ঘদিনের মুক্ত বাণিজ্য কাঠামো পর্যালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় চলছে। এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার দিক নির্ধারণ করতে পারে।   মেক্সিকো ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে। অন্যদিকে কানাডা নতুন বাণিজ্য অংশীদার খুঁজে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পথ অনুসন্ধান করছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করতে পারলে তা তিন দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। একই সঙ্গে এই আয়োজন কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন, আঞ্চলিক সমন্বয় এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।   তবে ফুটবলের মতোই এই আয়োজনের পরিণতিও এখনো অনিশ্চিত। আগামী এক মাসে মাঠের খেলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উত্তর আমেরিকাজুড়ে।

Unknown জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
শাকিরার রেকর্ড ছাপিয়ে কানাডায় পারফর্ম করতে যাচ্ছেন নোরা ফাতেহি

কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী আসরে বলিউড তারকা নোরা ফাতেহির পারফরম্যান্স ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। শুক্রবার (১২ জুন) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১১টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আয়োজনে মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন তিনি।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কানাডার স্বাগতিক ম্যাচের আগে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার অংশ হিসেবে মঞ্চে উঠবেন নোরা ফাতেহি। তার সঙ্গে থাকবেন ফরাসি গায়ক ভেজিড্রিম এবং ক্যালিফোর্নিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি-আমেরিকান মিউজিক প্রডিউসার ও ডিজে সঞ্জয়।   নোরার নতুন ফিফা অফিশিয়াল গান ‘সির সির’ মুক্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউটিউবে ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ভিউ অতিক্রম করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই সাফল্যের মাধ্যমে তিনি ফিফার পূর্ববর্তী কিছু থিম সংয়ের ভিউ রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন বলেও জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, এই গানের ভিউয়ের তুলনায় শাকিরার এবারের বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান ‘ডাই ডাই’ প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৮.২ মিলিয়ন ভিউ পেয়েছিল। সেই হিসেবে ‘সির সির’ উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।   এই অর্জন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নোরা ফাতেহি। তিনি বলেন, এটি তার জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত। তিনি আরও বলেন, এই প্রজেক্টের মাধ্যমে তিনি মরক্কান ও কানাডিয়ান শিকড়ের পাশাপাশি ভারত, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের ভালোবাসাকে একত্রিত করতে পেরেছেন। তার ভাষায়, এটি সংগীতের মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিমকে যুক্ত করার একটি প্রয়াস।   টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কানাডার বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। আয়োজন ঘিরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিল্পীর অংশগ্রহণ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরকে আরও বর্ণিল করবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন।

Unknown জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
নতুন আইনের ফলে কানাডার নাগরিকত্ব পেতে যাচ্ছেন লাখ লাখ আমেরিকান

যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ নাগরিকের জন্য খুলে গেল কানাডার নাগরিকত্ব পাওয়ার এক অভাবনীয় সুযোগ। কানাডার নাগরিকত্ব আইনে বড় ধরনের এক সংশোধনী আনার ফলে এখন থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যারা যুক্তরাষ্ট্রের বসবাস করছেন, তাদের অনেকেই আইনিভাবে কানাডীয় হিসেবে গণ্য হবেন। মূল ঘটনা কী? ২০০৯ সাল থেকে কানাডায় একটি নিয়ম প্রচলিত ছিল যে, দেশের বাইরে জন্ম নেওয়া কোনো কানাডীয় নাগরিকের সন্তান যদি দেশের বাইরেই জন্ম নেয়, তবে সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পেত না। একে বলা হতো 'ফার্স্ট জেনারেশন লিমিট'। কিন্তু গত বছর ওন্টারিও সুপিরিয়র কোর্ট এই নিয়মটিকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এই নিয়মটি বৈষম্যমূলক। এরই প্রেক্ষিতে কানাডা সরকার 'বিল সি-৩' পাস করে, যা গত ডিসেম্বরে কার্যকর হতে শুরু করেছে। এই নতুন আইনের আওতায় যারা জন্মসূত্রে কানাডীয় কিন্তু দেশের বাইরে থাকার কারণে নাগরিকত্ব পাননি (যাদের 'লস্ট কানাডিয়ান্স' বলা হয়), তারা এবং তাদের উত্তরসূরিরা এখন নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। কেন এই আইন গুরুত্বপূর্ণ? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা। কয়েক প্রজন্ম আগে যাদের পূর্বপুরুষরা কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হয়েছিলেন, তারা এখন সহজেই কানাডীয় পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেক আমেরিকান একটি 'প্ল্যান বি' বা বিকল্প নাগরিকত্ব হিসেবে কানাডার দিকে ঝুঁকছেন। আবেদন প্রক্রিয়া: ইতিমধ্যেই এই নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য নথিপত্র সংগ্রহের হিড়িক পড়ে গেছে। আবেদনকারীদের প্রমাণ করতে হবে যে তাদের বাবা-মা, দাদা-দাদি বা তার আগের কোনো প্রজন্মের সরাসরি রক্তসম্পর্কিত কেউ কানাডার নাগরিক ছিলেন। তবে এক্ষেত্রে আবেদনকারীর কানাডার সাথে একটি 'সুদৃঢ় সংযোগ' (Substantial Connection) থাকতে হবে, যার অর্থ হলো আবেদনকারীর অভিভাবককে কানাডায় নির্দিষ্ট সময় (প্রায় ৩ বছর) বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হতে পারে। ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টরা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে মার্কিন নাগরিকদের কাছ থেকে আসা আবেদনের হার আগের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে। অনেকে কেবল পারিবারিক শেকড়ের টানে নয়, বরং ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই কানাডীয় নাগরিকত্ব পেতে আগ্রহী হচ্ছেন।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
পাসপোর্টের র‍্যাঙ্কিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলল কানাডা; নাগরিকত্বের সুযোগ পাচ্ছেন লাখো আমেরিকান

বর্তমান বিশ্বে পাসপোর্টের শক্তিমত্তার বিচারে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হলো উত্তর আমেরিকা। দীর্ঘ কয়েক দশকের আধিপত্য ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নীল পাসপোর্টকে পেছনে ফেলে দিয়েছে কানাডিয়ান পাসপোর্ট। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের সর্বশেষ ‘হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স’ (Henley Passport Index) অনুযায়ী, বৈশ্বিক ভ্রমণের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে কানাডা এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে। র‍্যাঙ্কিংয়ের চিত্র: সর্বশেষ তথ্যমতে, কানাডিয়ান পাসপোর্ট বর্তমানে বিশ্বের সপ্তম শক্তিশালী পাসপোর্ট হিসেবে অবস্থান করছে। এই পাসপোর্টের অধিকারীরা বিশ্বের ১৮২টি গন্তব্যে কোনো পূর্ব ভিসা ছাড়াই (ভিসা-মুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসা) ভ্রমণ করতে পারছেন। অন্যদিকে, এক সময়ের শীর্ষস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট এখন দশম স্থানে নেমে এসেছে, যার মাধ্যমে ১৭৯টি গন্তব্যে ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার মিলছে। কেন এই পরিবর্তন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কানাডার সফল কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বিভিন্ন দেশের সাথে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি এই উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে চীনের পক্ষ থেকে কানাডিয়ানদের জন্য ৩০ দিনের ভিসা-মুক্ত সুবিধা প্রদান কানাডাকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে, যা এখনো অনেক মার্কিন নাগরিকের জন্য অধরা। আমেরিকানদের জন্য সুখবর: এই র‍্যাঙ্কিং পরিবর্তনের পাশাপাশি একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বর্তমানে লাখ লাখ আমেরিকান নাগরিক চাইলেই শক্তিশালী কানাডিয়ান পাসপোর্টের মালিক হতে পারেন। কানাডার নতুন নাগরিকত্ব আইন (Bill C-3) অনুযায়ী, বংশসূত্রে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে পূর্বের ‘প্রথম প্রজন্ম’ বা ফার্স্ট জেনারেশন সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যেসব আমেরিকান নাগরিকের বাবা-মা, দাদা-দাদি বা পূর্বপুরুষ কানাডিয়ান ছিলেন, তারা খুব সহজেই কানাডার নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ার জন্য কোনো পরীক্ষা বা কানাডায় বসবাসের বাধ্যবাধকতা নেই। শুধুমাত্র বংশগত প্রমাণপত্রের মাধ্যমেই তারা এই শক্তিশালী পাসপোর্টটি পেতে পারেন। অতিরিক্ত সুবিধা: কানাডিয়ান পাসপোর্টধারী হলে কেবল ভ্রমণ সুবিধাই নয়, বরং 'ইন্টারন্যাশনাল এক্সপেরিয়েন্স কানাডা' (IEC) প্রোগ্রামের আওতায় তরুণরা বিশ্বের ৩৬টি দেশে কাজ করার সুযোগ পাবেন। যেখানে মার্কিন পাসপোর্টধারীরা মাত্র ৬টি দেশে এই ধরণের সুবিধা পান।বিশ্বজুড়ে সীমান্ত নীতি যখন কঠোর হচ্ছে, তখন কানাডার এই অগ্রগতি দেশটির বৈশ্বিক মর্যাদা ও এর নাগরিকদের অবাধ চলাচলের সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করল।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০