ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইরান যুদ্ধে নিহত ১৮ মার্কিন সেনা
কেউ ছিলেন সদ্য হাইস্কুল পাস, কেউ দুই সন্তানের বাবা; ইরান যুদ্ধে নিহত ১৮ মার্কিন সেনার গল্প

যুদ্ধের হিসাব সাধারণত লেখা হয় নিহতের সংখ্যা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কিংবা সামরিক সাফল্যের ভাষায়। কিন্তু প্রতিটি সংখ্যার পেছনে থাকে একটি পরিবার, কিছু অপূর্ণ স্বপ্ন এবং এমন মানুষ, যাদের জন্য বাড়িতে অপেক্ষা করছিল প্রিয়জন। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সদ্য হাইস্কুল পাস করা এক তরুণী, দুই সন্তানের বাবা, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা একজন কর্মকর্তা এবং সহকর্মীদের কাছে নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠা আরও অনেক সৈনিক।    সর্বশেষ নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন টেক্সাসের ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। মাত্র কিছুদিন আগেই তিনি হাইস্কুলের পড়াশোনা শেষ করে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরিবার ও বন্ধুদের ভাষায়, তাঁর সামনে ছিল সম্ভাবনাময় একটি জীবন। কিন্তু জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় সেই স্বপ্ন থেমে যায়। মৃত্যুর পর তাঁকে মরণোত্তর পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।    ৩০ বছর বয়সী সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইন্টন ছিলেন দুই সন্তানের বাবা। উত্তর ক্যারোলাইনার এই সেনাসদস্য ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিষ্ক্রিয় করার সময় প্রাণ হারান। সহকর্মীরা তাঁকে একজন সাহসী সৈনিক হিসেবে স্মরণ করছেন, আর পরিবারের কাছে তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ স্বামী ও বাবা।    ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহ্যান ছিলেন হাওয়াইয়ের বাসিন্দা। সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং এমবিএ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছিলেন। জর্ডানে একই হামলায় তাঁর জীবনও শেষ হয়ে যায়।    ২৮ বছর বয়সী সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল র‍্যাম্পারসাদ নিউইয়র্কের ওজোন পার্ক এলাকার বাসিন্দা। প্রতিবেশীরা তাঁকে শান্ত, বিনয়ী ও অন্যের পাশে দাঁড়ানো একজন মানুষ হিসেবে মনে রেখেছেন। তিনিও জর্ডানে ইরানি হামলায় নিহত হন।    এই চারজনের গল্প সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এলেও, তাঁদের মতো আরও ১৪ জন মার্কিন সেনাসদস্য গত কয়েক মাসে বিভিন্ন অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন। কেউ কুয়েতে ড্রোন হামলায়, কেউ ইরাকে বিমান দুর্ঘটনায়, কেউ সৌদি আরব ও জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এবং কেউ সামরিক অভিযান চলাকালে নিহত হন। প্রত্যেকের মৃত্যু একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় শোক বয়ে এনেছে।    মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং ৪৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের সম্মানে ডেলাওয়ারের ডোভার এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মরদেহ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।    যুদ্ধের কৌশল, অস্ত্র কিংবা ভূরাজনীতির আলোচনা যতই হোক, শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মূল্য চোকায় মানুষ। ইরান যুদ্ধে নিহত এই ১৮ মার্কিন সেনার গল্প আবারও মনে করিয়ে দেয়, প্রতিটি সামরিক সংঘাতের পেছনে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য অসমাপ্ত স্বপ্ন, ভেঙে পড়া পরিবার এবং এমন শূন্যতা, যা কোনো পদক বা সামরিক সাফল্য দিয়ে পূরণ করা যায় না।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে জর্ডান ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি করলেও দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া চারটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ভূপাতিত করা হয়েছে। জর্ডানের সরকারি বার্তাসংস্থা পেট্রা জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশের পরই সেগুলো ধ্বংস করা হয়।   ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, জর্ডানের ওই বিমানঘাঁটিতে ‘আমেরিকান শত্রুর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এই ঘাঁটি ব্যবহার করেই ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক হামলা পরিচালনা করা হয়েছিল। সে কারণেই পাল্টা জবাব হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।   এদিকে কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, ওই হামলায় যোগাযোগ কেন্দ্র, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যদিও এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।   তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, সোমবার রাতজুড়ে ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা অব্যাহত ছিল। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন শহর ও দ্বীপাঞ্চল। মঙ্গলবার ভোরে আবু মুসা, কেশম এবং কিশ দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র বন্দর আব্বাসসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনারাক ও চাবাহারেও ধারাবাহিকভাবে বিস্ফোরণের খবর এসেছে। এছাড়া জ্বালানি অবকাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বুশেহর ও খুজেস্তান প্রদেশেও বিস্ফোরণ ঘটে। ওমিদিয়েহ, জাম ও কানগান এলাকায়ও হামলার খবর পাওয়া গেছে।   এই প্রেক্ষাপটে ইরান আরও জানায়, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সামরিক ঘাঁটিতেও প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।   বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে, যা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক মহলের কূটনৈতিক উদ্যোগ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার পর কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট উপসাগরীয় দেশগুলো জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে সক্রিয় রয়েছে।   আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি ও শেখ ইসা বিমানঘাঁটি ছিল হামলার লক্ষ্যবস্তু। একই সঙ্গে কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তায় সম্ভাব্য হুমকি কমাতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর বাহরাইনজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানায়।   কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কাজ করেছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের যে শব্দ শোনা গেছে, তার বেশিরভাগই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার ফল। এদিকে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিরাপত্তা সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে চলাচল থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।   ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, ইরানি বাহিনীর হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।   তবে সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের তথ্য এখনো যাচাই-বাছাই চলছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকেও সব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ওমান উপকূলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ওমানের পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাঙ্কারে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, হামলার পর জাহাজটি নিরাপদে তার গন্তব্যের দিকে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে এবং এতে কোনো ক্রু সদস্য আহত হননি।   যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানায়, ওমান উপকূলের পোর্ট বো এলাকার কাছ থেকে প্রায় ছয় নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থানকালে ট্যাঙ্কারটিকে লক্ষ্য করে একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এটি জাহাজটির সামনের অংশে আঘাত হানে।   যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় জানায়, হামলার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং জাহাজের সকল নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। একই সঙ্গে তারা নিশ্চিত করে যে, হামলার কারণে সমুদ্রে কোনো তেল বা রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশগত ক্ষতি হয়নি।   প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ট্যাঙ্কারটি তার নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ঘটনার পর আন্তর্জাতিক নৌ কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি ওই সমুদ্রপথ দিয়ে চলাচলকারী অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো তৎপরতা দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

Unknown জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
তিন দিক থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি; লণ্ডভণ্ড ইসরায়েল, কাঁপছে তেল আবিব!

ইরান, ইয়েমেন এবং লেবানন—এই তিন দিক থেকে ধেয়ে আসা ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকা। বৃহস্পতিবার রাতে দেশটির রাজধানী তেল আবিব, জেরুজালেম এবং মৃত সাগর (ডেড সি) সংলগ্ন অঞ্চলে তিন দফায় এই সমন্বিত হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’ জানিয়েছে, ইরানের একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবের নিকটবর্তী পেতাহ তিকভা শহরে সরাসরি আঘাত হেনেছে, যাতে ওই এলাকার আবাসন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।   ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি জানিয়েছে, তারা ইরানের সাথে সমন্বয় করে তেল আবিবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। অন্যদিকে, লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন বসতি ও সামরিক যান লক্ষ্য করে অন্তত ৫৫টি হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন সেনাসদস্য রয়েছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য ও নিহতের সংখ্যা নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   হামলার সময় তেল আবিব ও জেরুজালেমসহ প্রধান শহরগুলোতে বিপৎসংকেত বা সাইরেন বেজে উঠলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, তিন দিক থেকে চালানো এই অভূতপূর্ব সমন্বিত আক্রমণ ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (আয়রন ডোম) ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের এই নতুন মোড় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলেছে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ইরান ও হিজবুল্লাহর সমন্বয়ে সামরিক অভিযান

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইয়েমেনের ভূখণ্ড থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় তাত্ক্ষণিক কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   হুথি গ্রুপ তাদের সংযুক্ত মিডিয়া আল মাসিরাহ-এর মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানায়, তারা গুরুত্বপূর্ণ ইসরায়েলি স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বয় ছিল। হুথিরা দাবি করেছে, তাদের উদ্দেশ্য সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।   বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী যুদ্ধের ক্ষেত্রে সামরিক হস্তক্ষেপ ধাপে ধাপে করা হচ্ছে। বর্তমান স্তরে থেমে থাকবেন না, ভবিষ্যতের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।” আল জাজিরা সূত্রে জানা গেছে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বিষয়টি নজরদারিতে রাখছেন।

Unknown এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি - সংগৃহিত
'ইরানের শক্তি শেষ' - ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক মিনিট পরেই ইসরায়েলে বড় হামলা

  ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি শেষ হয়ে গেছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাম্ভিক ঘোষণার মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় ইসরায়েলে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। পুরো অঞ্চলে এখন যুদ্ধের সাইরেন বাজছে।   ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্প যখন হোয়াইট হাউসে বসে ইরানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন, ঠিক তখনই তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হাইফা বন্দরে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।   এর আগে টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের ড্রোন ছোঁড়ার ক্ষমতাও মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি আমেরিকানদের আশ্বস্ত করেন।   ট্রাম্প আরও বলেছিলেন যে এই যুদ্ধ আর মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তার মতে, ইরানের সামরিক শক্তি এখন ধ্বংসের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে এবং সংঘাত চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যাচ্ছে।   তবে যুদ্ধের ময়দানের বাস্তব চিত্র ট্রাম্পের বক্তব্যের ঠিক উল্টো। হাইফা ও উত্তর ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র রোখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ আকাশ অভিযানে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে।   ইরান এর প্রতিশোধ নিতে কেবল ইসরায়েল নয়, বরং জর্ডান ও ইরাকে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল ও জ্বালানি বাজার বিপর্যস্ত।   সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ট্রাম্পের অনুমান ভুল প্রমাণিত করে ইরান তাদের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন এক শক্তি প্রদর্শন শুরু করেছে আজ।    

Unknown এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কাতারে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, তেল ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে কাতারে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় একটি তেল ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটি লক্ষ্যভেদ করে ট্যাঙ্কারটিতে আঘাত হানে।   মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে দুটি সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে তৃতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি কাতারএনার্জি-এর ইজারা নেওয়া একটি তেলবাহী জাহাজে আঘাত করে।   হামলার পর ট্যাঙ্কারটির ২১ জন ক্রু সদস্যকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   এর আগে যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানায়, জাহাজটির বাম পাশে আঘাত লাগে। তবে জাহাজে থাকা সকল নাবিক নিরাপদে আছেন। সংস্থাটি আরও জানায়, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং এতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবেশগত ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   এই হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Unknown মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি: এএফপি
ইরানের হামলার সক্ষমতা এখনো আছে, তবে ‘অস্তিত্বের হুমকি নয়’—নেতানিয়াহু

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরান এখনো ইসরায়েল-এর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা রাখে। তবে তিনি দাবি করেছেন, এই সক্ষমতা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি নয়। ধারণকৃত এক বার্তায় দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের শক্তিও আগের মতো নেই এবং তারা এখন আর ইসরায়েলের জন্য অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে বিবেচিত নয়।   তিনি আরও বলেন, চলমান সংঘাত ইসরায়েলের জন্য কৌশলগতভাবে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে এই পরিস্থিতিতে অঞ্চলের কিছু দেশের সঙ্গে নতুন ধরনের মিত্রতা গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   যদিও সম্ভাব্য এসব মিত্র দেশের নাম প্রকাশ করেননি, তবে শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নেতানিয়াহু। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য একদিকে যেমন ইরানের সামরিক সক্ষমতা স্বীকার করছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে—এমন বার্তা দেওয়ার কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

Unknown মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের বিরসেবায় শিল্পাঞ্চলে আগুন। ইসরায়েল, ২৯ মার্চ। ছবি: টাইমস অব ইসরায়েল
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েল বলছে, কারখানায় কোনো বিপজ্জনক পদার্থ ছড়ায়নি

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কারখানা থেকে কোনো বিপজ্জনক পদার্থ ছড়িয়ে পড়েনি বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। রোববার তেহরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকে ইসরায়েলের বিরশেবা এলাকায় নিওত হোভাব শিল্পাঞ্চল।   ইসরায়েলের পরিবেশ সুরক্ষামন্ত্রী ইদিত সিলমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ভালোভাবে পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে কোনো রাসায়নিক বিপদ বা মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কোনো পদার্থ পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, সড়কগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে এবং শিল্পাঞ্চলে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।   হামলার আগে আশঙ্কা করা হয়েছিল, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের কারণে বিপজ্জনক রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় ১১ জন আহত হয়েছেন।

Unknown মার্চ ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরাইলের শিল্পাঞ্চলে ভয়াবহ আগুন, রাসায়নিক বিপর্যয়ের শঙ্কা

ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলার মুখে আবারও কেঁপে উঠেছে ইসরাইল। হাইফার পর এবার অবৈধ ভূখণ্ডটির ‘নিওত হোভভ’ শিল্পাঞ্চলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার (২৯ মার্চ) বিকালে ইসরাইলের পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলার ফলে ওই শিল্পাঞ্চল থেকে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ চুইয়ে পড়ার (Leakage) আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণে সৃষ্ট শকওয়েভে একজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় পুলিশ ঘটনাস্থল সংলগ্ন ৪০ নম্বর হাইওয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া রামাত নেগেভ আঞ্চলিক কাউন্সিল নাগরিকদের বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। ইসরাইলি হোম ফ্রন্ট কমান্ড ওই এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে, জানালা বন্ধ রাখতে এবং এয়ার কন্ডিশনার বন্ধ রাখার জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে।   ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর তার ধ্বংসাবশেষ বা শার্পনেলের আঘাতেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তবে নেগেভ মরুভূমির ওই শিল্পাঞ্চল থেকে আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে ওঠার দৃশ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরাইলি বাহিনী জানিয়েছে, রোববার ইরান থেকে অন্তত পাঁচ দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শনাক্ত করা হয়েছে, যা মোকাবিলায় তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।   সূত্র: মিডল ইস্ট আই ও জেরুসালেম পোস্ট

তাবাস্সুম মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মধ্য ইসরায়েলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বহু ভবন ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলীয় বেইত শেমেশ এলাকায় শনিবার কয়েকটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। হামলার কারণে ঘটনাস্থলে বিশাল একটি গর্ত তৈরি হয়েছে, এবং স্থানীয় কয়েকটি ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে স্থানীয় জরুরি পরিষেবা সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবীরা।   ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, জেরুজালেমের কাছে জুদিয়ান হিলস এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার ও চিকিৎসা কাজ এখনো চলমান।   দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি কেন ভূপাতিত করা যায়নি, তা ইসরায়েলি বিমানবাহিনী খতিয়ে দেখবে।   অন্যদিকে, ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহ সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪২ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলে মোট আহতের সংখ্যা বর্তমানে ৫,৬৮৯। আহতদের মধ্যে ১৩২ জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং একজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

Unknown মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলের একটি বিশেষ পুলিশ ইউনিট | ছবি: সংগৃহীত
লেবাননের হামলায় দুই কর্মকর্তাসহ ৯ ইসরায়েলি সেনা আহত

দক্ষিণ লেবানন থেকে চালানো পৃথক দুটি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই কর্মকর্তাসহ অন্তত ৯ জন ইসরায়েলি সৈন্য আহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ মার্চ) ইসরায়েলি আর্মি রেডিও এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন সেনা ও কর্মকর্তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথ এক সামরিক মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবানন থেকে ছোড়া একটি ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একজন কর্মকর্তা গুরুতর এবং অন্য একজন মাঝারিভাবে আহত হয়েছেন। এছাড়া পৃথক এক রকেট হামলায় আরও একজন কর্মকর্তা এবং ছয়জন সৈন্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।   উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহর হামলার পর থেকেই লেবাননে তীব্র বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,১৪২ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩,৩১৫ জনেরও বেশি মানুষ।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তাবাস্সুম মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতের দুই বন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

কুয়েতের শুয়াইখ ও মুবারক আল-কাবির—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।   শুক্রবার (২৭ মার্চ) কুয়েতের সরকারি সূত্র জানায়, বুবিয়ান দ্বীপে অবস্থিত মুবারক আল-কাবির বন্দরে ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। এতে বন্দরের কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।   এর আগে একই দিনের সকালে কুয়েত সিটির নিকটবর্তী শুয়াইখ বন্দরে আলাদা আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানেও স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।   এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কুয়েতের এই দুই বন্দরে হামলার পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইসরায়েলের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলবর্তী হাদেরায় অবস্থিত একটি প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর কেন্দ্রটি থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।   বিবিসি কর্তৃক যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কুলিং টাওয়ারের পাশ থেকে ধূসর ধোঁয়া আকাশে উঠছে। স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ভিডিওটি সাম্প্রতিক এবং ঘটনাস্থলটি হাদেরার ওই কেন্দ্রেরই।   এই কেন্দ্রটি ২০২২ সালে কয়লাচালিত থেকে গ্যাসচালিত স্থাপনায় রূপান্তরিত হয়েছে এবং ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামোর অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। বিবিসি সূত্র জানিয়েছে, ভিডিওটি আজই প্রথম অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে।   হামলার প্রেক্ষিতে ইসরায়েল ইলেকট্রিক করপোরেশনের বরাত দিয়ে ‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’ জানিয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত সত্ত্বেও কেন্দ্রটির মূল অবকাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। এদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে হামলার কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা বিবৃতি এখনও পাওয়া যায়নি। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই হামলাকে ইরানের সক্ষমতা প্রদর্শন এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেখছেন।

Unknown মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০
আরাদ শহর পরিদর্শনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
নেতানিয়াহু: ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেউ নিহত না হওয়া 'অলৌকিক', আত্মতুষ্টিতে না ভোগার আহ্বান

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাস্থল আরাদ পরিদর্শন করেছেন এবং এই হামলায় কেউ নিহত না হওয়াকে ‘মিরাকল’ বা অলৌকিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   শনিবার আরাদ শহরে ইরানের হামলায় ৮০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। যদিও কেউ নিহত হননি, মি. নেতানিয়াহু ইসরায়েলিদের সতর্ক করেছেন আত্মতুষ্টিতে না ভোগার জন্য। তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্ক সংকেত পাওয়ার পর অবিলম্বে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে হবে।   প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “সতর্কবার্তা পাওয়ার পর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার আগ পর্যন্ত ছিল মাত্র দশ মিনিট। যদি সবাই ওই কয়েক মিনিটের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেত, তাহলে কেউই আহত হতো না।” নেতানিয়াহুর এই আহ্বান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে জনসাধারণকে সচেতন রাখার উদ্দেশ্যে এসেছে।

Unknown মার্চ ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান আবারো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইসরায়েলের দিকে

ইরান থেকে ইসরায়েল-এর দিকে পুনরায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, এমন তথ্য দিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আইডিএফ জানিয়েছে, তারা এই হুমকি প্রতিহত করার জন্য কাজ করছে এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়েছে।   এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রবিবার ইরান থেকে ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৫টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। সামাজিক মাধ্যমে তারা আরও জানিয়েছে, এ পর্যন্ত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোট ৩৪৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১,৭৭৩টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক তেলবাজারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

Unknown মার্চ ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েল থেকে ২৭০০ জনকে সরিয়ে নেওয়া

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে দক্ষিণ ইসরায়েল থেকে প্রায় ২৭০০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটির জনকল্যাণ ও সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।   সরিয়ে নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আরদ ও দিমোনা শহরের প্রায় এক হাজার বাসিন্দা রয়েছেন। শনিবার রাতে এই দুই শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।   ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন। দিমোনা শহর থেকে ৬০ জন এবং আরদ শহর থেকে ১১৫ জনেরও বেশি মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশু রয়েছে। কিছু ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক।   এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবাদল তৎপর রয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

Unknown মার্চ ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলে ৪০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ৪০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটির মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে ধারাবাহিকভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে ইসরায়েল। তিনি দাবি করেন, তাদের প্রতিরোধের সফলতার হার প্রায় ৯২ শতাংশ। তবে সব হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। শনিবার দক্ষিণ ইসরায়েল-এর দুটি শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্তত ১৮০ জনের চিকিৎসা সহায়তার প্রয়োজন হয়।   এই পরিস্থিতির মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি যুদ্ধে সরাসরি সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ইরান কেবল ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র-এর জন্য নয়, বরং ইউরোপসহ বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করছে।   রোববার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও দেশকে এই অভিযানে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন।   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ অভিযান শুরু করার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

Unknown মার্চ ২১, ২০২৬ ১৪:০
ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি থেকে ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করছেন ইসরায়েলের সেনারা। উত্তর ইসরায়েলের মা’লোত-তারশিহা এলাকায়, ২১ মার্চ ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ভবন ধস, আহত অন্তত ২০

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলের ডিমোনা শহরে একটি ভবন ধসে পড়েছে এবং এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সংঘটিত এই হামলার পর উদ্ধার কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো।   প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আকাশ থেকে দ্রুতগতিতে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নেমে এসে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এরপরই একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে ভবনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান জরুরি চিকিৎসা সেবা বিভাগের বরাতে জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে একজন ১০ বছর বয়সী শিশুও রয়েছে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   এদিকে, একই দিনে উত্তর ইসরায়েলের মা’লোত-তারশিহা এলাকাতেও রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, এ হামলায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।   অন্যদিকে, দ্য টাইমস অব ইসরায়েল–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ উত্তরাঞ্চলীয় এই এলাকায় একাধিক রকেট নিক্ষেপ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই হামলাগুলো নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

Unknown মার্চ ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, পাল্টা ড্রোন হামলার দাবি

ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান—এমনটাই জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানের আকাশসীমায় তাদের বিমানবাহিনীর একটি অভিযান চলাকালে এই ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়। তবে ঠিক কখন এ ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম টেলিগ্রাম-এ প্রকাশিত বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ক্রু সদস্যরা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। এতে কোনো বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান সম্পন্ন হয়।   অন্যদিকে তেহরান দাবি করেছে, তারা তেল আবিব-এর কাছে অবস্থিত বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় জ্বালানি ট্যাংক ও একটি রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।   ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, এ হামলায় ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং কিছু সেনা সদস্যকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যৌথভাবে এই হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   উল্লেখ্য, তেল আবিবের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা, যেখানে যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি সরবরাহের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।

Unknown মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০