জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি তেহরানের
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ লাইটনিং-২ স্টেলথ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, এই হামলায় আরও তিনটি যুদ্ধবিমান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীও নিহত হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি এবং স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও এর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে আল-আজরাক ঘাঁটির বিমান পার্কিং এলাকা ও রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গারে এই হামলা চালানো হয়। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল যে, জর্ডানে তাদের ঘাঁটিতে ইরানের হামলার জবাবে তারা আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট কয়েক ডজন স্থাপনায় ব্যাপক বিমান অভিযান চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, তাদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলায় তিনজন নিহত ও দুজন আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
চলমান এই সংঘাতের রেশ ইরান ও জর্ডানের সীমানা ছাড়িয়ে অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। জর্ডান জানিয়েছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরানের ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করেছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে, কুয়েত জানিয়েছে যে ইরানের হামলায় সেখানে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ওই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী নিহত হয়েছেন। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই তিনটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়ে থাকে, তবে কনফিগারেশন অনুযায়ী কেবল বিমানগুলোর আর্থিক ক্ষতিই ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
বর্তমান বৈশ্বিক সামরিক প্রেক্ষাপটে এফ-৩৫ লাইটনিং-২ বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও শক্তিশালী বহুমুখী স্টেলথ যুদ্ধবিমান। রাডার ফাঁকি দেওয়ার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত সেন্সর ফিউশন এবং নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতার কারণে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মাক ১.৬ গতিতে উড়তে সক্ষম এই যুদ্ধবিমান শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করতে এবং পরবর্তী বিমান অভিযানের পথ সুগম করতে বিশেষভাবে কার্যকর।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreঅস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে নিলামে বাড়ি কেনার তীব্র প্রতিযোগিতা ও মানসিক চাপ এড়িয়ে নিজেদের নির্ধারিত বাজেটের চেয়ে ৮০ হাজার ডলার কমে নতুন বাড়ির চাবি বুঝে নিয়েছে একটি পরিবার। জেয়াকরন কারণান এবং শ্রী হরিণী বিনোদকুমার নামের ওই দম্পতি নিজেদের প্রথম বাড়ির জন্য প্রাথমিকভাবে আট লাখ ডলার বাজেট নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু নিলামে অন্যান্য ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামাকে 'বাড়ির জন্য দৌড় প্রতিযোগিতা' আখ্যা দিয়ে তারা মেলবোর্নের ক্লাইড নর্থ এলাকায় সাত লাখ ২০ হাজার ডলার ব্যয়ে একটি 'হাউস-অ্যান্ড-ল্যান্ড' প্যাকেজ বেছে নেন। শ্রী হরিণী জানান, নিলামের ওই প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার জন্য তারা মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। তাই তারা ওড়ানা এস্টেটে নিজেদের বাড়ি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে তাদের ১৮ মাস বয়সী ছেলে ইয়ালান অন্যান্য তরুণ পরিবারের শিশুদের সঙ্গে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে। এই এলাকাটি বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ ছিল এখানকার পার্ক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহজলভ্যতা, বিশেষ করে স্থানীয় সরকারি স্কুলের পাশাপাশি মানসম্মত খ্রিষ্টান শিক্ষার সুযোগ। এছাড়া বাড়ির পেছনে পুরো অর্থ ব্যয় না করে ছেলের ভবিষ্যতের জন্য কিছু সঞ্চয় ধরে রাখাকেও তারা সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে এই দম্পতি অস্ট্রেলিয়ার আলবানিজ সরকারের ৫ শতাংশ ডিপোজিট স্কিম ব্যবহার করেছেন। এর ফলে তাদেরকে প্রচলিত ২০ শতাংশ বা এক লাখ ৪৪ হাজার ডলার ডাউনপেমেন্ট দেওয়ার বদলে মাত্র ৩৬ হাজার ডলার জমা দিতে হয়েছে। যদিও ছোট ডিপোজিট দেওয়ার অর্থ হলো বড় অঙ্কের মর্টগেজ বা ঋণ নেওয়া, তবে এর ফলে পরিবারের অপ্রত্যাশিত খরচের জন্য তাদের হাতে একটি বড় অঙ্কের সঞ্চয় থেকে গেছে। অবশ্য বাড়ি কেনার এই স্বপ্ন পূরণে তাদের বেশ কিছু ত্যাগও স্বীকার করতে হয়েছে; ছুটির দিনের ভ্রমণ স্থগিত করার পাশাপাশি দৈনন্দিন খরচ কমাতেও তারা অনেক বেশি হিসেবি হয়েছেন। নিলামের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর বাড়ি নির্মাণের এই প্রক্রিয়াটি তাদের জন্য ছিল বেশ আনন্দদায়ক এক চমক। জেয়াকরন জানান, পুরো প্রক্রিয়াটি এত দ্রুত শেষ হবে তা তারা ভাবতেই পারেননি। কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়াই মাত্র চার মাসে নির্মাণকাজ শেষ হয় এবং চুক্তিতে স্বাক্ষরের প্রায় ১০ মাসের মাথায় তারা কাঙ্ক্ষিত বাড়ির চাবি হাতে পান। নিজেদের প্রথম বাড়ি কেনা অনেক বড় একটি পদক্ষেপ ছিল বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এই দম্পতি। উল্লেখ্য, তাদের এই বাড়িটি ছিল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হোমবায়ার্স সেন্টারের মূল কোম্পানি 'এবিএন গ্রুপ'-এর সম্পন্ন করা এক লাখতম বাড়ি।
ইনস্টাগ্রামের মতো রঙিন নয় প্রবাসী জীবন, বিদেশে স্থায়ী হওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের ৭ পরামর্শ
পার্কিং নিয়ে বিরোধে ২২ সেকেন্ডে পাঁচ গুলি, একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা
রুমমেটকে হ ত্যার পর ম রদেহ টুকরো টুকরো করার অভিযোগ, সুইজারল্যান্ডে গ্রেপ্তার ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের পুনে শহরের একটি যৌনপল্লি থেকে ছয় বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার পর যৌনপল্লিতে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মানবপাচার ও জোরপূর্বক যৌনকাজে বাধ্য করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে পুনের বুধওয়ার পেঠ এলাকার একাধিক যৌনপল্লিতে অভিযান চালিয়ে ওই নারীদের উদ্ধার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে পুনে পুলিশের তিনটি থানার সদস্যরা অংশ নেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও মিরর নাউয়ের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার মাস আগে ওই ছয় নারীকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মুম্বাইসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে ভালো বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় তাঁদের। কিন্তু সীমান্ত পার হওয়ার পর প্রতিশ্রুত চাকরির পরিবর্তে তাঁদের পুনেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যৌনপল্লির পরিচালনাকারীদের কাছে তাঁদের বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পুনে পুলিশের ডেপুটি কমিশনার কৃষিকেশ রাওয়ালের নির্দেশে ফারাসখানা, বিশ্রামবাগ ও খড়ক থানার পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। দলটি বুধওয়ার পেঠ এলাকার কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে অভিযান চালায়। উদ্ধার হওয়া নারীদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নারীরা জানিয়েছেন, দালালদের মাধ্যমে তাঁরা বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। তাঁদের বিশ্বাস করানো হয়েছিল, ভারতে পৌঁছানোর পর ভালো চাকরি ও আয়ের সুযোগ পাবেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের যৌনপল্লিতে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক যৌনকাজে নিয়োজিত করা হয়। এ ঘটনায় ফারাসখানা থানায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য দুই অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হলেও তাঁরা পলাতক রয়েছেন। তাঁদের খুঁজে বের করতে তদন্ত ও অভিযান চলছে। পাচারের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। বুধওয়ার পেঠ পুনে শহরের পরিচিত যৌনপল্লি এলাকা। এর আগেও সেখানে বাংলাদেশি নারীদের পাচার ও জোরপূর্বক যৌনকাজে নিয়োজিত করার অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাটি ওই এলাকায় নারী পাচার ও শোষণের অভিযোগকে নতুন করে সামনে এনেছে। চলতি বছরের মার্চ মাসেও একই এলাকার একটি যৌনপল্লি থেকে চার বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করেছিল পুনে সিটি পুলিশ। সে সময়ও তাঁদের ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌনকাজে বাধ্য করা হয়েছিল বলে তদন্তে জানা যায়। মার্চের ওই অভিযানে পুলিশ মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। তদন্তে উঠে আসে, বিউটি পার্লার ও সেলাইয়ের কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নারীদের ভারতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত চাকরির পরিবর্তে তাঁদের যৌনপল্লিতে আটকে রেখে শোষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতেও বুধওয়ার পেঠ এলাকায় বড় ধরনের অভিযান চালায় পুনে পুলিশ। ওই সময় বিভিন্ন যৌনপল্লি থেকে ১১ বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে জোরপূর্বক যৌনকাজে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া যায়। সেই অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট যৌনপল্লিগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। ভারতে মানবপাচার ও জোরপূর্বক যৌনকাজে বাধ্য করার মতো অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষ আইন রয়েছে। দেশটির ইমমোরাল ট্রাফিক প্রিভেনশন অ্যাক্টের আওতায় মানবপাচার ও যৌন শোষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতাতেও মানবপাচারসংক্রান্ত অপরাধের শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির কাছে বৈধ ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র না থাকা এবং মানবপাচারের শিকার হওয়া দুটি পৃথক বিষয়। পাচারের শিকার নারীদের ক্ষেত্রে তাঁদের কীভাবে সীমান্ত পার করানো হয়েছে, কারা প্রতারণা করেছে এবং কীভাবে শোষণের শিকার হয়েছেন, সেসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ। সর্বশেষ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ছয় নারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাঁদের বয়স, বাংলাদেশের কোন এলাকার বাসিন্দা এবং দেশে ফেরানোর বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য সামনে আসেনি। পুনের এই ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ভারতে নারীদের নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় কারা জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখার বিষয়টি সামনে এসেছে। উদ্ধার হওয়া নারীদের বক্তব্য ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাচারচক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
১৬ বছর বেতনসহ অসুস্থতার ছুটিতে শিক্ষিকা, অবশেষে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে ধরা
‘মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ডাকাতি’! বাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি ডলার চুরি উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারের
কানাডায় বাড়িতে ঢুকে সিইও ও দুই মেয়েকে গুলি, স্ত্রীকে হাতুড়িপেটা
ভিয়েতনামে স্ত্রীর মৃ ত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি এক ব্যক্তি। প্রায় ৩০ বছরের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গীকে হারানোর পর তাঁর অনুপস্থিতি মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে স্ত্রীর কবরের পাশে রাত কাটাতে শুরু করেন তিনি। পরে ২০০৪ সালে কবর থেকে স্ত্রীর দেহাবশেষ বাড়িতে নিয়ে এসে প্লাস্টার ও মাটির মতো উপকরণ দিয়ে তৈরি করেন তাঁর জীবনাকৃতির একটি অবয়ব। এরপর বছরের পর বছর সেটিকেই স্ত্রীর স্মৃতি হিসেবে নিজের কাছে আগলে রেখেছেন। ওই ব্যক্তির নাম লে ভ্যান। ১৯৭০-এর দশকে ফাম থি সাংকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় সাত সন্তান। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক তাঁরা একসঙ্গে সংসার করেছেন। কিন্তু ২০০৩ সালের শুরুর দিকে স্ত্রীর মৃ ত্যু হলে ভ্যানের জীবনে নেমে আসে গভীর শোক। স্ত্রীকে হারানোর পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছিলেন না তিনি। তাঁর অনুপস্থিতি এতটাই কষ্ট দিত যে রাতে বাড়িতে থাকতে পারতেন না। একপর্যায়ে স্ত্রীর কবরের কাছেই রাত কাটানো শুরু করেন। দিনের পর দিন এভাবে চলতে থাকায় তাঁর সন্তানদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাবাকে এই পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে তাঁরা নানা চেষ্টা করেন। কিন্তু স্ত্রীর বিচ্ছেদ মেনে নেওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না। ২০০৪ সালে ভ্যান স্ত্রীর দেহাবশেষ বাড়িতে নিয়ে আসেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর প্লাস্টার, মাটি ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে স্ত্রীর আদলে তৈরি করেন একটি পূর্ণাঙ্গ অবয়ব। সেটিকে নিজের কাছেই রাখতেন তিনি। তাঁর কাছে এটি ছিল একসঙ্গে কাটানো জীবনের স্মৃতি ধরে রাখার একটি উপায়। পরবর্তী বছরগুলোতে অবয়বটির প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন ভ্যান। স্ত্রীর মতো করে পোশাক পরাতেন, মুখে মেকআপ লাগাতেন। এমনকি সেটির সঙ্গে কথাও বলতেন। এভাবেই স্ত্রীর স্মৃতিকে প্রতিদিনের জীবনের অংশ করে রেখেছিলেন তিনি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভ্যানের শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটে। নানা স্বাস্থ্যগত সমস্যার মুখোমুখি হলেও অবয়বটির যত্ন নেওয়া বন্ধ করেননি তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে এই অস্বাভাবিক অভ্যাস বজায় রাখেন। ভ্যানের ঘটনাটি বিভিন্ন সময়ে মানুষের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে স্ত্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের অসহনীয় কষ্টের প্রকাশ হিসেবে দেখেছেন। আবার কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, প্রিয়জনকে হারানোর শোক তাঁর জীবনে কতটা গভীর প্রভাব ফেলেছিল তা নিয়ে। প্রিয়জনের মৃ ত্যুর পর শোক কাটিয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। কারও পক্ষে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব হয়, আবার কারও জন্য সেই শূন্যতা দীর্ঘদিন থেকে যায়। ভ্যানের ঘটনা সেই গভীর শোকেরই এক ব্যতিক্রমী ও আলোচিত উদাহরণ। তবে ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত বিবরণে সব তথ্যের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায় না। তাই তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি বা মানসিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
সৌদি আরবে ন্যূনতম বেতনের নতুন ঘোষণা, সর্বোচ্চ ৬ হাজার রিয়াল
'গরু আমাদের মা' ভারতে গরু জবাইয়ের দায়ে ৩ মুসলমানের যাবজ্জীবন, রায়ে ধর্মগ্রন্থের উল্লেখ বিচারকের